Pallab Kirtania Songs


Pallab Kirtania

।।বইমেলা শেষ হওয়ার পরের দিন।।
এবারের বইমেলা যাইনি। আমার খান পাঁচেক প্রকাশিত বই আছে । বিক্রি টিক্রি হয় কিছু। প্রকাশক জানতে চেয়েছিলেন কবে যেতে পারি স্টলে। আমি জানাইনি, আর শেষ পর্যন্ত যাইনি একদিনও। ভেতরে একধরণের অনুভূতি কাজ করছিল সেটাকে ঠিক কী বলব জানি না।

আসলে ৪০ টা মানুষের জীবন্ত পুড়ে মরা আমি কিছুতেই নিতে পারছিলাম না। মনে হচ্ছিল কলকাতা কেন গর্জে উঠছে না প্রতিবাদে। ফেটে পড়ছে না, স্তব্ধ হয়ে যাচ্ছে না কেন? কেন জিজ্ঞেস করছে না স্রেফ ১০ লক্ষ টাকা প্রাণের দাম ঘোষণা করে দায় মুক্ত না হয়ে মুখ্যমন্ত্রী কেন ওখানে ছুটে গেলেন না ৪০ টা মানুষ, হ্যাঁ ৪০ টা মানুষের মৃত্যুর পরও? কেন সব জলাজমি বুজিয়ে বেআইনি নির্মাণ করেই চলেছে শাসকের চ্যালাচামুন্ডারা? কেন শ্রমিকদের এভাবে বেআইনি নির্মাণের ভেতর পশুর মত দিনযাপন করতে হয়?

লেখক, পাঠক, প্রকাশক সবাই অজস্র, অসংখ্য পোস্ট করে চলেছিলেন বইমেলার দিনগুলোতে। যেমন হয়। অথচ তাঁদের খুব খুব সামান্য অংশই এই বিষয় নিয়ে কোনো প্রতিবাদের, অন্তত দুঃখ প্রকাশের পোস্ট দিয়েছেন সমাজ মাধ্যমে। তার মানে এই কলকাতাতে ৪০ জন গ্রমিকের জ্যান্ত পুড়ে মরাটাতে অধিকাংশের কিছু এসে যাচ্ছে না? জানি না! এত অসংবেদনশীলতা বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে না।

বইমেলা লক্ষ লক্ষ বইপ্রেমি সংবেদনশীল লেখক, শিল্পী, পাঠকের মিলনমেলা। বোকা বোকা মনে হচ্ছিল বইমেলাতে হয়ত তরুণ কবি-লেখক-ছাত্র বা নাট্যকর্মীরা চিৎকার করবে! বুলেটিন বেরোবে এই ঘটনার ওপর! কিছুই হল না তো! সমাজ মাধ্যম দেখলে বোঝাই যাবে না মাত্র এক সপ্তাহ আগে ৪০ টা মানুষ জ্বলে ছাই হয়ে গেছে এই শহরে! এত বড় একটা জনসমুদ্র কষ্ট পেল না এতটুকু? আমার কি জানি কেন বহু বহু বছর পর বইমেলায় যাওয়ার ইচ্ছে হল না! (এই হত্যাকান্ডে মুখ ফিরিয়ে রাখা বইমেলা শেষ হয়ে যাবার পরদিন, আজ আমার ৫ সন্তান ৫ টি বইয়ের শুকনো মুখের প্রতি মমতায় জানাই আমার বই অভিযান পাবলিসার্সে পাওয়া যায়, ফোন: 7450090655 )।

বন্ধুরা আমাকে ভুল বুঝবেন না। আমি এর মাধ্যমে নিজেকে আগুনখোর বিপ্লবী প্রমাণের চেষ্টা করছি না। আমি একটা সত্যের পথ খুঁজছি মাত্র, তাই এ লেখা। আসলে আমি নিজেও দায়ী। আমিতো উদ্যোগী হয়ে আরো কিছু করার চেষ্টা করতে পারতাম। করিনি তো। আমাদের এই চূড়ান্ত আত্মকেন্দ্রিকতা, স্বার্থপরতা গোটা সমাজটাকে অমানুষ করে তুলেছে! তাই একটা একনায়ক গণ্ডার শাসক দুর্নীতির পর দুর্নীতি করেও টিঁকে যায় বছরের পর বছর। আমরা শুধু শাসকের প্রসাদ কিঞ্চিৎ পাওয়া যাবে কি না কিংবা টুকটাক প্রতিবাদ করলে কতটা আমার ক্ষতি হতে পারে তার হিসেব করি! আরো আরো হিসেব কষে আমাদের সন্তানদেরও স্বার্থপরতা এবং ধান্দাবাজিতে দীক্ষিত করে তুলি আর এতগুলো মৃত্যুর পর একটা মেলা এবং মেলার শহর স্বাভাবিক স্বচ্ছন্দে সেলফি পোষ্টায় হাসিমুখে!
- পল্লব কীর্ত্তনীয়া।

1 week ago | [YT] | 67

Pallab Kirtania

. ।।এখনও যারা মূক আমি তাদের ঘৃণা করি।।

এই শহরে সরকারি খবরে ১৯ জন শ্রমিকের মৃত্যু WOW MOMO কোম্পানির গোডাউনের আগুনে ঝলসে আর নিখোঁজ আরো ২৫ নাকি ৩০ নাকি ৪০ জন জানি না! অথচ কলকাতা কি অসীম নির্বিকার!

কেন আন্তর্জাতিক স্বীকৃত Ramsar site এই পূর্ব কলকাতা জলাভূমি বুজিয়ে একের পর এক বেআইনি নির্মাণ গড়ে ওঠে? কীভাবে কাঞ্চন মূল্যে প্রশাসনকে ঠুঁটো জগন্নাথ করে এইসব কারখানা, গোডাউন ইত্যাদি পরিবেশ দফতরের অনুমতি, দমকল দফতরের অনুমতি, fire safety certificate ইত্যাদি ছাড়াই গড়ে ওঠে আর রমরম করে ব্যবসা চালায়? এতগুলো মৃত্যুর পরও ভয়ংকরভাবে বেআইনি এই সকল কাজের জন্য WOW MOMO কোম্পানির আধিকারিকরা এবং প্রশাসন ও শাসকদলের টু পাইস কামানো কেষ্ট বিষ্টুরা কেন গ্রেফতার হবে না-- এই সকল প্রশ্ন করে গর্জে উঠছে না কলকাতা! এত এত মানুষের পোড়া গন্ধে ভারি বাতাসে অক্লেশে দন্ত কৌমুদী বিকশিত সেলফি পোস্টাচ্ছে, বইমেলা, টি ২০, অরিজিত সিংহ, পোষা বেড়ালের খুনসুটি সব সব গুরুত্বপূর্ণ টপিক নিয়ে কলকাতা চলেছে ঠিক একইভাবে গতকাল, পরশু, তরশু যেভাবে চলছিল। ৩০, ৪০ নাকি ৫০ কত মানুষ ঝলসে গেল কেউ কি জানতে চায়?

এই রাস্কেল, জানোয়ার, পুরু চামড়ার প্রশাসনকে চাবুক মারছে না কেন কলকাতা? এও বড় অপরাধের দায় এড়িয়ে কী করে এখনও কথা বলছে শাসক? কেন মুখ্যমন্ত্রী ছুটে আসবেন না ঘটনাস্থলে? বেআইনি কারবার যেভাবে চালাচ্ছে তাঁর প্রশাসন সেটা মানুষের সামনে আরও ন্যাংটো হয়ে যাবে বলে?

WOW MOMO কোম্পানির একটা বিবৃতি সমাজ মাধ্যামে পেলাম। তারা নাকি তিনজন কর্মীকে হারিয়ে গভীরভাবে শোকাহত। তিনজন???? শুধু তিনজন? এতগুলো খুন হ্যাঁ খুনের পর একথা শুনেও নির্লজ্জ প্রশাসন কেমন নির্বিকার!

এরপরও কলকাতা স্তব্ধ হয়ে যাবে না? কবি ও কেরাণী, গাইয়ে, নর্তকী, ব্যবসায়ী, চিত্রকর বা খেলোয়াড়, সাংবাদিক, নট-নটি, ফিল্মি তারকা, কারিগর বা চিকিৎসক, লেখক কিংবা উকিল সবাই চুপ করে থাকবে? ছাত্র-ছাত্রী-জেন জি তারাও ফেটে পড়বে না অশ্রুতে আর ক্রোধে? সবক শেখাবে না, দায় শেখাবে না শাসক আর নির্লজ্জ মুনাফাভোগীদের? নাকি পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেল যারা তারা এলিট কেউ নয়, স্রেফ গরীব গুর্বো পোকামাকড়ের মত মজুর! তাদের মৃত্যুতে কান্না ও ক্রোধ শাসকের সততার মতই অলীক?

কুড়ি-তিরিশটি মানুষের পোড়া গন্ধভরা আকাশের নীচে এই মূক,বধির, আত্মমগ্ন, ধান্দাবাজ কলকাতা আমার নয় আমার নয়!
- -পল্লব কীর্ত্তনীয়া

2 weeks ago | [YT] | 92

Pallab Kirtania

স্থবির, গলিত তারুণ্যের খেলা হবে!!!

আমেরিকা প্রথমে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে মাদকপাচারকারী বলে তুলে নিয়েছিল। কিন্তু পরদিনই স্পর্ধার সঙ্গে জানিয়ে দেয় তাদের আসল উদ্দেশ্য ভেনেজুয়েলার বিশাল তৈলভাণ্ডারের দখলদারি। প্রয়োজনে আমেরিকার কট্টর বিরোধী কলম্বিয়াকে চরম মূল্য দিতে হতে পারে আর গ্রীনল্যান্ডকেও দখল করে নিতে পারে আমেরিকা। দাদাগিরির মাত্রাটা একবার ভাবুন!

১৯৬৮ সালে ভিয়েতনামে আমেরিকার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রবল ছাত্র আন্দোলনের কারণে আমেরিকার তৎকালীন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রবার্ট ম্যাকনামারার বিমান দমদমে নামানো যায়নি।সারা পৃথিবীতে খবর হয়েছিল কলকাতা! এই কল্লোলিনী তিলোত্তমার সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলনের সে এক জলন্ত্ব ঐতিহাসিক দলিল!

আর আজ? একটা স্থবির, পঙ্গু গলিত ছাত্র-যুব সমাজ! আন্তর্জাতিক স্তরে আগ্রাসনে, অশ্লীল দাদাগিরিতে সামান্য চুলের ডগাটুকুও কেঁপে ওঠে না এখানে তরুণের। উন্মাদ মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্রিয়াকাণ্ডে ‘ঘরের খেয়ে বনের মোষ কেন তাড়াব’ যুক্তির তাও একটা দুর্বল অর্থ দাঁড় করানো যায় কিন্তু সেই উন্মাদ প্রেসিডেন্ট যখন ভারতবর্ষ কোথা থেকে তেল আমদানী করবে তা ঠিক করে দেন, চরম অসম্মানজনক সব শর্ত চাপিয়ে দেন এবং ভারতবর্ষের তাকে খুশি রাখা উচিত বলে হুমকি দিতে থাকেন, দিতেই থাকেন, তখনো এই জেন জেড না কী যেন, পাথরের মত চুপ করে থাকে!

আন্তর্জাতিক ঘটনা প্রবাহে রিঅ্যাক্ট করা ছেড়ে দিন এই যে যুব সমাজের চাকরি চুরি করে বেচে দিল একটা শাসকদল, পথের পাথরে নিষ্ফল মাথাকুটে শেষ হয়ে গেল এই যুবদেরই একটা জেনারেশন, সরকারি শিক্ষাব্যবস্থাকে দুমড়ে মুচড়ে শেষ করে দিল শাসক, কিছু এসে গেল আমাদের ছাত্র-যুবদের?

যে সমাজে শাসকের শ্লোগান হয় ‘খেলা হবে’, কে বেশী উগ্র ধর্মজিগির আর ধর্মঘৃণা ছড়াতে পারে তার প্রতিযোগিতা চলে শাসক আর প্রধান বিরোধী দলের ভেতর সে সমাজে মানবাদর্শের শিরদাঁড়া-সম্পন্ন ছাত্র-যুবদের গর্জন শোনার আশা বোধহয় ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মূর্খামি।

তবু নতুন তরুণের আশায় থাকি, কারণ অন্ধকারের বিপরীতে আলো তো একইরকম সত্য!

1 month ago (edited) | [YT] | 68

Pallab Kirtania

।।সুনালীর রাষ্ট্র।।
মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিক জুয়েল রাণাকে বাংলাদেশী সন্দেহে পিটিয়ে মারা হয়েছে ওড়িশার সম্বলপুরে। এই বাংলার হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিক সারা ভারতবর্ষে ছড়িয়ে গিয়েছেন কাজের জন্য। বাংলাভাষায় কথা বলার জন্য বাংলাদেশী সন্দেহে তাদের ওপর আক্রমণ অব্যাহত বিশেষত বিজেপি শাসিত রাজ্যে। এর কারণ কেন্দ্রিয় সরকারেরই বিদ্বেষী মনোভাব। কেন বলছি একথা, ব্যাখ্যা করছি।

বীরভূমের পাইকরের বাসিন্দা সুনালী বিবির কাহিনী এখন সবার জানা। সুনালীরা পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে দিল্লিতে কাজ করছিলেন। বিগত বছরের ২৪ জুন স্রেফ বাংলায় কথা বলার অপরাধে বাংলাদেশি সন্দেহে কেন্দ্রিয় সরকার অধীনস্থ দিল্লি পুলিশ সুনালী, তার স্বামী দানিস শেখ, আট বছরের পুত্র সাবিরসহ পরিবারের আরও তিনজনকে পুলিশ আটক করে। তাঁরা এদেশের নাগরিকত্বের নানান বৈধ কাগজপত্র পুলিশের কাছে পেশ করেন।

কিন্তু পুলিশ এবং FRRO (Foreigners Regional Registration Office) কর্ণপাত করেনি তাঁদের কথায়। মাত্র ৪৮ ঘন্টার ভেতর ২৬ জুন তাঁদের বাংলাদেশে জোর করে পুশ ব্যাক করা হয়। সুনালী তখন আটমাসের অন্তসত্তা। কোনো মানবিক দিকেরও ধার ধারেনি আমাদের ভারত সরকার। তাঁদের স্থান হয় বাংলাদেশের চাপাইনবাবগঞ্জের জেলে।

সুনালীর বাবা হাইকোর্টে আপীল করেন। হাইকোর্ট তাঁদের কাগজপত্র পরীক্ষা করে এবং deportation। পদ্ধতি ক্ষতিয়ে দেখে বলে
১.সুনালী বিবি ও অন্যদের যে ভাবে সীমান্তে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, তা আইনসম্মত deportation নয়।
২.Foreigners Act, 1946, Citizenship Rules, FRRO-র নির্ধারিত প্রক্রিয়া,কোনোটাই মানা হয়নি।
৩.গর্ভবতী নারী ও শিশুর ক্ষেত্রে মানবাধিকার সম্পূর্ণ লঙ্ঘিত হয়েছে।

হাইকোর্ট ২৬ সেপ্টেম্বর রায় দেয় কেন্দ্রিয় সরকারকে চার সপ্তাহের ভেতর সবাইকে দেশে ফেরৎ আনতে হবে এবং ভবিষ্যতে এরকম push back যেন না হয় সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। অন্যদিকে বাংলাদেশেও একটি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ রায় দেয় যে সুনালী ও তার পরিবারের সদস্যরা আসলে ভারতীয় নাগরিক এবং তাদের ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেয়।

কোনো সরকারের যদি অসাধু উদ্দশ্য না থাকে তাহলে সে এরপর তড়িঘড়ি সমস্ত তথ্য ক্ষতিয়ে দেখে দেশের নাগরিকের ওপর যে ভয়ংকর অন্যায় হয়েছে তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে দ্রুত তার নাগরিকদের দেশে ফেরৎ আনার চেষ্টা করবে কারণ তাঁরা যে কাগজপত্র দিয়েছেন তা বৈধ এবং অকাট্য। অথচ আমাদের কেন্দ্রিয় সরকার সুনালীদের বক্তব্য সঠিক কি না তা নিয়ে ন্যুনতম তদন্তটুকু না করে হাই কোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে চলে গেল সুপ্রিম কোর্টে এই যুক্তি দেখিয়ে যে সুনালীরা বাংলাদেশের অবৈধ অনুপ্রবেশকারী এর বিরুদ্ধে রায় দিয়ে হাইকোর্ট তার সীমা অতিক্রম করেছে কারণ হাই কোর্ট দেশের বৈদেশিক বিষয় (foreign affairrs) নিয়ে কোনো রায় দিতেই পারে না। ব্যাস বিষয়টি চলে গেল আরো আইনি জটিলতার খপ্পরে।

জেলে থাকতে থাকতে সুনালীর বাংলাদেশেই প্রসব হয় এবং সুপ্রিম কোর্ট মানবিকতার ভিত্তিতে সুনালী ও তার শিশুদের এদেশে ফেরানোর রায় দিলেও বাকিরা আজও আইনের বেড়াজালে বাংলাদেশের কারান্তরালে অভিশপ্ত কাল কাটাচ্ছেন দুঃস্বপ্নের মত।

এই ঘটনার বিপদটা একটু ভেবে দেখা যাক। সুনালীরা তাদের নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য যে সকল নথিপত্র দেখিয়েছিল তা হল-
১.আধার কার্ড, ২.প্যান কার্ড, ৩.ভোটার আইডি, ৪.২০০২ সালের ভোটার তালিকায় সুনালীর বাবা মা এবং পরিবারের অন্যান্যদের নাম থাকার প্রমাণ, ৫, পরিবারের বহু পুরোনো জমির দলিল, ৬.এদেশে দীর্ঘদিনের বসবাসের প্রমাণ হিসেবে স্থানীয়দের সাক্ষ্য। এগুলোর কোনোটাই কিংবা সবগুলো একত্রে দেখেও সরকার নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে মানেনি আর এদের একমাত্র অপরাধ ছিল বাংলায় কথা বলা।

এখন কথা হল সরকার যদি কাউকে শুধুমাত্র বাংলায় কথা বলার কারণে তার বৈধ নাগরিকত্বকে অস্বীকার করে গায়ের জোরে তাকে বিদেশের মাটিতে push back করে তাহলে নাগরিক অধিকার এই দেশে বিন্দুমাত্র থাকে কি? এত সব বৈধ কাগজের যদি কোনো মূল্য না থাকে তাহলে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে যে দল তারা তো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য বা প্রতিহিংসা মেটাতে যে কোনো বাংলাভাষী নাগরিককে যে কোনো দিন অবৈধ বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী বলে push back করতে পারে! তারপর তো যাদের ক্ষমতা আছে হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্টে লড়ে ফিরে আসার হয়ত মরিয়া চেষ্টা চালাবে আর যারা তা পারবে পচে মরবে বিদেশের কারাগারে!

একটা নির্বাচিত সরকার তার কোনো বৈধ নাগরিকের প্রতি এতবড় অন্যায় করতে পারে? বাংলাভাষী কোনো নাগরিকের অধিকার সুরক্ষিত নয় এই দেশে? সুনালীর পরিবার যে বিভীষিকার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে তার দায় কে নেবে?

এসবের উত্তর নেই। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই বাংলায় ভোটের প্রচারে আসা শুরু করে দিয়েছেন, কিন্তু দেখবেন এতবড় নির্লজ্জ অন্যায় করার পর এই বিষয়ে তাঁরা সম্পূর্ণ নীরব। এই বাংলার বিজেপি নেতারাও মুখে কুলুপ এঁটেছেন! তাঁরা শীর্ষ নেতৃত্বকে কোনো প্রশ্ন যেমন করেন্ননি তেমনি জবাবদিহি করেননি এই বাংলার মানুষের কাছেও। এর অর্থ এটাকে তাঁরা অন্যায় বলে মনেই করেন না। তাই বিজেপি শাসিত রাজ্যে রাজ্যে বাংলাভাষীদের হেনস্থা এবং মব লিঞ্চিং হয়ত আরো দেখতে হবে আমাদের। আর পাশাপাশি হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুস্তানের স্লোগান আস্তিনের নীচে লুকিয়ে রেখে চলবে এই রাজ্যে বিজেপির ২৬-এর ভোটপ্রচার!
-পল্লব কীর্ত্তনীয়া

1 month ago | [YT] | 27

Pallab Kirtania

।।লগ্নজিতা, এই অধম আর শিল্পীর কণ্ঠরোধ।।
‘জাগো মা’শীর্ষক একটি গান গাইবার পর ভগবানপুরে কোনো মঞ্চে লগ্নজিতাকে সেকুলার গান গাইতে বলে অপমান করে গ্রেফতার হয়েছেন এক ব্যক্তি। এ নিয়ে মিডিয়ায় স্বাভাবিকভাবেই শিল্পীর স্বাধীনতা নিয়ে বিস্তর চর্চা শুরু হয়েছে। এটা যে ঘোরতর অন্যায় তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হওয়াই উচিত। আমার কাছে দুটো টিভি চ্যানেল থেকে প্রতিক্রিয়া চাওয়া হয়েছিল আমি আমার প্রতিবাদ জানিয়েছি, এখানেও তীব্র নিন্দা করছি এবং একজন কণ্ঠশিল্পী হিসেবে লগ্নজিতার পাশে দাঁড়াচ্ছি।

কিন্তু এই প্রসঙ্গে এখানে অন্য একটা ঘটনার কথা না উল্লেখ করে পারছি না। বর্ধমানের ভাতারে একটি বইমেলায় আমাকে শিল্পী হিসেবে নির্বাচিত করেছিলেন উদ্যোক্তারা। ২৫ ডিসেম্বর আমার সেখানে গান গাইবার কথা ছিল। কিন্তু শুনলাম শাসকের প্রবল চাপে শেষ মুহূর্তে আমার অনুষ্ঠান তাঁরা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন।

এ ঘটনা গত দশ বছরে কত অসংখ্যবার যে হয়েছে আমার সঙ্গে তার ইয়ত্তা নেই। এই যে দেখুন গানমেলা শুরু হচ্ছে। কত বছর সেখানে ডাক পাই না! শুধু সেখানে কেন যে কোনো সরকারি বেসরকারি অনুষ্ঠানেই আমি কালো তালিকাভূক্ত। যে কোনো সংগঠন আমাকে নিয়ে অনুষ্ঠান করতে গেলে প্রবল বাধাপ্রাপ্ত হবেন। লগ্নজিতাকে যে ভাষায় অপমান করা হয়েছে তার চেয়ে ঢের ঢের তিন অক্ষর চার অক্ষরের গালাগালি শুনেছি এমনকি এই খোদ কলকাতার রবীন্দ্রসদন মঞ্চে। শারীরিক নিগ্রহের হুমকি ছেড়েই দিলাম।

এ নিয়ে আমি বলি না আর কিছুই কারণ আমি জানি শাসকের বিরুদ্ধে গাইলে শাসক প্রত্যাঘাত করবেই। আর যখন মূল ইন্ডাস্ট্রির শিল্পীকূল থেকে আমি পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন, নেহাতই একা, তাই সইতে হবে একাই! তবে এটুকু বলা ভালো আজ যারা মঞ্চে নিয়মিত অনুষ্ঠানে ডাক পাচ্ছেন তারা শাসকের সুনজরে আছেন বলেই পাচ্ছেন। শিল্পীর স্বাধীনতা আছে কতটুকু সেটা শাসকের সুনজরের বলয়ে থেকে বোঝা অসম্ভব। শাসকের এই সকল চুরি, দুর্নীতি, ফেরেব্বাজি, ধর্মবাজি নিয়ে একটা গান করলে তখন বোঝা যাবে শিল্পীর স্বাধীনতা কতটুকু এ রাজ্যে।

লগ্নজিতার পাশে এসে সঙ্গত কারণে দাঁড়িয়েছেন যে শিল্পীরা তাঁদের আমার পাশে দাঁড়াতে বলার মত দেউলিয়া হয়ে যাইনি এখনো। তবে চুরির সাম্রাজ্য বিস্তার করা এই রাজ্যে সমাজের শিরদাঁড়া শিক্ষাব্যবস্থাকেও ধ্বংস করে দিল একটা নির্বাচিত সরকার! দুর্নীতি করে করে, পকেট ভরে ভরে আস্ত যে একটা প্রজন্মকে শেষ করে দিল, অন্তত তাঁদের জন্য দোহাই একটা গান করুন। নিজের বিবেকের পাশে দাঁড়ান, অন্তত একটিবার!

পল্লব কীর্ত্তনীয়া।

* সঙ্গের ছবিটি আমার বাতিল হওয়া অনুষ্ঠানের পোস্টার।

1 month ago | [YT] | 46

Pallab Kirtania

।।ধর্মখুনী।।
বাংলাদেশে ধর্মোন্মাদগুলো আবার ঝাঁপিয়ে পড়ছে হিন্দুদের ওপর। সঙ্গে রয়েছে তীব্র ভারতবিদ্বেষী শ্লোগান। আসন্ন নির্বাচনে এই উন্মাদদের ক্ষমতায় আসার এটাই একমাত্র রাস্তা বোধহয়।

হিন্দু এক যুবককে যেভাবে পুড়িয়ে মারা হল তার বীভৎস ভিডিও সোস্যাল মিডিয়ায় ঘুরছে। সে দৃশ্য সমস্ত চেতনাকে অসাড় করে দেয়! এই ধর্মখুনীরা কি মানুষ? এর নাম ধর্ম? ছায়ানট, উদীচির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, লালনের ছবি ছিন্নভিন্ন করেছে এরা। বাদ্যযন্ত্র ভেঙে চুরমার করেছে। এরা নিজেদের ঐতিহ্য বোঝে না, গৌরব বোঝে না, সংস্কৃতি বোঝে না, শুধু বোঝে ধর্ম?

আবার এটাকে কাজে লাগাতে নেমে পড়েছে এদেশের ধর্ম ব্যবসায়ীরা। সামনে ভোট আসছে। ফলে মুসলমানরা এদেশটাকেও খুব শিগগির দখল করে নেবে আর হিন্দুদের একই অবস্থা হবে বলে প্রচার উঠছে জোর! হিন্দুভোটের মেরুকরণ চাই! সেটাকে আরো হাওয়া দিচ্ছে ‘বাবরি মসজিদ বানাব, নারায়ে তকদির’ বলে হুমায়ুনের হুহুঙ্কার! আর যে শাসক এতকাল মুসলমান তোষণ করে এসেছে, ভোটের অঙ্কে হিসেব মেলাতে মুর্শিদাবাদে হিন্দু বাড়িতে হামলা ও হত্যার সময় পুলিশকে নিষ্ক্রিয় রেখে তা হতে দিয়েছে বলে অভিযোগ সেই আবার হিন্দু ভোট টানার জন্য সরকারি টাকায় জগন্নাথ দেবের মন্দির বানিয়েছে, আগামীতে আরো বড় বড় নানা মন্দির বানাবে ঘোষণা করেছে। তারাই এই বাংলায় জাতপাতের মেরুকরণ তীব্র করেছে তাদের আকাশচুম্বী চুরি আর দুর্নীতিকে আড়াল করার জন্য এবং অবশ্যই ভোটের হিসেব ব্যালান্স করবার জন্য।

সকল মানবতা, সুস্হ বোধ আজ পিছু হঠছে ক্রমাগত। কেবল ভলকে ভলকে উঠে আসছে ধর্মমোহ আর ধর্মঘৃণা। দেশের দারিদ্র্য, বেকারত্ব, অশিক্ষা, অস্বাস্থ্য, শাসকের প্রতি পদক্ষেপে দুর্নীতি আর রক্তচোখ, গণতান্ত্রিক ব্যবস্হার সংকুচিত হয়ে আসা এসব কোনো বিষয়ই নয় যেন আজ। শুধু ধর্ম ধর্ম আর ধর্ম! মানুষের নিজের তৈরি ধর্ম সেখানে এত বড় যে মানুষের প্রাণও সেখানে খড়কুটো! অন্ধ, অসাড় জনগণ পিল পিল করে জড়ো হয় ধর্মের পতাকার নীচে। মারে আর মরে এবং ক্ষমতার মসনদে আসীন হয় শাসক ভোটের মেরুকরণের অঙ্কে।

তবে আপাতত বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের উন্মাদ ধর্মখুনীদের হাত থেকে বাঁচাতে অনতিবিলম্বে ভারত সরকারের বাংলাদেশের ওপর নরম গরম কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক স্তরে প্রবল চাপ তৈরির ব্যবস্থা করা উচিত। এটা পাল্টা ঘৃণা ছড়ানোর চেয়ে অনেক অনেক জরুরী। এক্ষুনি করা উচিত।

ওদেশের ধর্মোন্মাদদের সংখ্যালঘু নিধনে উৎসাহিত হয়ে হিন্দু মৌলবাদীরা এদেশে ভোটের স্বার্থে যত মুসলমান ঘৃণা ছড়াবেন বা মব লিঞ্চিং ঘটাবেন ততই ওদেশে বিপন্ন হবেন বেচারা হিন্দুরা। যে যেখানে সংখ্যাগুরু সে সেখানে সংখ্যালঘুকে মারবে আর ভোটে জিতে বগল বাজাবে শাসক। রক্তের স্রোত গড়িয়ে যাবে এক শতাব্দী থেকে অন্য শতাব্দীতে। নির্বোধ মানুষের এ থেকে মুক্তি নেই।


https://youtu.be/2IPImNcxHnQ

1 month ago | [YT] | 54

Pallab Kirtania

'ফ্লোটিলা' নৌবহর কি গাজায় ইজরায়েলের অবরোধ ভাঙতে পারবে?

ইহুদিরা তাদের নিজের দেশ ইসরায়েল পেয়ে গিয়েছে বহুদিন। কিন্তু প্যলেস্টাইনে তাদের দাদাগিরি অব্যাহত। বহু বছর ধরেই গাজা একটা মুক্ত কারাগার, যার চারপাশ দখল করে রেখেছে ইজরায়েল। ওখানে ফিলিস্তিনিরা নিজেদের ভূখন্ডে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক। ফলত সেখানে উগ্রপন্থী ইজরায়েল-বিরোধিতা মাথা চাড়া দেবেই। যেমন হামাস, যারা আমেরিকার আনুকুল্যে প্রবল শক্তিধর ইজরায়েলের বিরুদ্ধে সম্মুখ সমরে অক্ষম কিন্তু চোরাগোপ্তা নানান আক্রমণে তাকে ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করে।

গত ৭ অক্টোবর ২০২৩ শে হামাস প্রায় ২৫০ জন ইজরায়েলী ও অন্য দেশের নাগরিকদের অপহরণ ও পণবন্দী করে। হামাস নিধনের নামে ইজরায়েল ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করে দেয়।

এই সুযোগে ইজরায়েল স্রেফ গায়ের জোরে গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের মুছে দিতে চাইছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৬০ হাজার, কোনো কোনো মতে ৮০ হাজার ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে তারা। ২০ হাজারের ওপর শিশু খুন করেছে। রোগীসহ হাসপাতাল গুঁড়িয়ে দিচ্ছে! দেখলে অন্তরাত্মা হু হু করে ওঠে। এরপর মাসের পর মাস গাজাকে অবরুদ্ধ রেখে অবিশ্রান্ত বোমাবর্ষণ করে চলেছে। খাবার, ওষুধ, পানীয় ইত্যাদি নিয়ে আসা আন্তর্জাতিক সাহায্যটুকুও তাঁরা ঢুকতে দিতে নারাজ, যাতে বোমার হাত এড়িয়ে যদি কিছু মানুষ বেঁচেও থাকেন তাঁরা যেন অনাহারে বা বিনা চিকিৎসায় মরে যায়। এই হিটলারীয় গণহত্যাকারীদের রক্ষকের ভূমিকায় আছে আমেরিকা।

আন্তর্জাতিক দুনিয়ায় অধিকাংশ রাষ্ট্রনেতারা ধরি মাছ না ছুঁই পানি অবস্থান নিয়ে দু একটি শান্তি বিবৃতি গোছের বক্তব্য দিয়ে চেপে গেলেও বিভিন্ন দেশের সাধারণ মানুষ পথে নেমেছেন বিপুল পরিমানে। অবশেষে ২২ বছর বয়সী সুইডিশ পরিবেশ কর্মী গ্রেটা থুনবার্গসহ ৪৪ টি দেশের প্রায় ৫০০ জন সমাজকর্মী, এনজিও কর্মী, মানবাধিকারকর্মী ইত্যাদি স্বেচ্ছাসেবকরা ৪০ টি বেসরকারী জাহাজ ও নৌযান নিয়ে ফ্লোটিলা নামে গাজায় মানবতার অভিযান শুরু করছেন। আগস্টের শেষ সপ্তাহে ইতালি, স্পেন, গ্রীস, তিউনিসিয়া ইত্যাদি দেশ থেকে এই ফ্লোটিলার অভিযান শুরু হয়। উদ্দেশ্য ইজরায়েলের অবরোধ ভেঙে দুর্ভিক্ষ পীড়িতদের সাহায্য পৌঁছে দেওয়া। ইজরায়েল ফ্লোটিলাকে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছিল যে কোনো মূল্যে তারা এই অভিযান রুখবে। ফ্লোটিলা অনড় থেকেছে অভিযানে। গাজা উপকূলের কাছাকাছি আসতেই বিগত দুদিন ইজরায়েল হামলা চালিয়ে আটক করেছে অধিকাংশ জাহাজকে। জাহাজের যোগাযোগ ব্যবস্হাকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে এবং দিচ্ছে। মিকেনো নামে একটি জাহাজ ইজরায়েলে অবোরোধ এড়িয়ে গাজার উপকূলে পৌঁছে যাওয়ার দাবি করেছে কিন্তু এই মুহূর্তে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

রাষ্টনেতারা ইজরায়েলকে সবক শেখানোর জন্য কোনো কড়া ব্যবস্থার ঘোষণা করেননি যথারীতি। তবে ইয়োরোপে লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষ, যুবসমাজ ফ্লোটিলার সমর্থনে যেভাবে পথে পথে গর্জে উঠছেন তা অভূতপূর্ব। এই দেশগুলির শাসকের পক্ষে এই গর্জন উপেক্ষা করা খুব সহজ হবে বলে মনে হয় না!

এসব দেখে মনে হয় মমতালাঞ্ছিত এই দুনিয়ায় এখনও ভালো কিছু বেঁচে আছে। এই ধান্দাবাজ, আকণ্ঠ দুর্নীতিগ্রস্থ, স্বার্থপর, হিংস্র ভোটসর্বস্ব রাজনৈতিক দেউলিয়াপনার বিপরীতে মানবতা এখনও বেঁচে আছে। এখনও মানুষ এমন গান বাঁধে যা অগনিত পীড়িত মানুষের আলো হয়।

তবে আমার দেশের মিডিয়া আর রাজনৈতিক যুবসমাজের (কিছু হাতেগোণা ব্যতিক্রমী ছাড়া) এসবে কিছু যায় আসে না। তারা কেবল দাদা দিদি আর বড় জোর পাকিস্তান বাংলাদেশ জানে!

4 months ago | [YT] | 27

Pallab Kirtania

।।হাতকাটা হুব্বার হুমকি উপাচার্যকে।।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পরীক্ষা অগাষ্ট মাসের শেষ সপ্তাহে। প্রায় তিরিশ হাজার পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দেবেন। কিন্তু ২৮ অগাষ্ট তৃণমূল ছাত্র পরিষদের চুরি করা জন্মদিন। (একটা জন্মদিন অবধি চুরি করেছে তারা কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন ছাত্র পরিষদের নিকট হতে)। তাই তারা ওইদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা বন্ধ করতে চায়। ফলত মুখ্যমন্ত্রী উচ্চ শিক্ষা দফতরের বকলমে এই পরীক্ষা বন্ধের নির্দেশ পাঠিয়েছেন উপাচার্যের কাছে।

উপাচার্য শান্তা দত্ত এরকম বেআইনি আবদার সপাটে ফিরিয়ে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের আপৎকালীন সভা ডেকেছিলেন এবং তাঁর নেতৃত্বে সিন্ডিকেটের প্রতিনিধিরা মোটামুটি সর্বসম্মতভাবে ওইদিন পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষাসূচী বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এতে বেজায় চটে শিক্ষামন্ত্রী হাতকাটা না গাঁটকাটা হুব্বার ভঙ্গিতে উপাচার্যকে হুমকি দিয়েছেন। তিনি যা বলেছেন তার সারমর্ম মোটামুটি এরকম, মুখ্যমন্ত্রী কোনো ব্যাপারেই হস্তক্ষেপ করেন না। এই একটা বিষয় একটু চেয়েছিলেন, তার কথাটা রাখা গেল না? এজন্য উপাচার্যের ব্যবস্থা হবে, তবে কী ব্যবস্থা সেটা গণমাধ্যমে বলা যাবে না!

বুঝে দেখুন, শাসকের স্পর্ধা কতদূর ছড়িয়ে পড়েছে!

উপাচার্যর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে শিক্ষামন্ত্রীকে উত্তর দিতে হবে এরকম সম্পূর্ণ বেআইনি, অন্যায় নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী কেন দিতে বলবেন শিক্ষা দফতরকে? কোনো বেআইনি নির্দেশ উপেক্ষা করাই তো উচিত! এখানে উপাচার্যের অন্যায় কোথায়? বরং প্রশাসনের শীর্ষে বসে মুখ্যমন্ত্রী যদি এরকম তাঁর মর্জি অনুযায়ী বেআইনি নির্দেশ দিতে বলেন তাহলে তীব্রভাবে ভর্ৎসিত হওয়া তাঁর প্রাপ্য! যাতে একনায়কের কলেবর আরও ফুলেফেঁপে না ওঠে।

শিক্ষামন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রী কী জানেন না যে উপাচার্য পরীক্ষার দিনক্ষণ ঠিক করেন না, তার জন্য অন্যান্যরা আছেন যাঁরা নানারকম দিন, ক্ষণ দেখে, ছুটি দেখে, ইউনিভার্সিটির নানারকম পাঠক্রমের সময়কে মাথায় রেখে, নানা ধরনের চলতে থাকা পরীক্ষাসূচির অন্তরবর্তি সময় খুঁজে বের করে তারপর নতুন কোনো পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণ করেন যা বেশ জটিল একটা প্রক্রিয়া এবং হঠাৎ করে বদলে ফেলাও যায় না। আর কোনো একটি রাজনৈতিক সংগঠনের জন্মদিন পালনের জন্য সেটা যদি বদলাতে হয় তাহলে এদেশের এক হাজার আটশ সাড়ে তেত্রিশটি রাজনৈতিক সংগঠন তাদের জন্মদিনে যাতে কোনো পরীক্ষা না হয় সেই দাবি তুলবে। তখন উপাচার্য কী করবেন? যুক্তি অনুযায়ী তাকে সবার দাবি মানতে হবে। তাহলে তো বছরে দিনই খুঁজে পাওয়া যাবে না পরীক্ষা নেওয়ার। কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি নয়, উপাচার্য শুধুমাত্র ইউনিভার্সিটি আর ছাত্রছাত্রীদের প্রতি দায়বদ্ধ। কোনো একনায়ক মুখ্যমন্ত্রীর বেআইনি নির্দেশে সে দায়বদ্ধতা যদি ক্ষতিগ্রস্থ হয় তাহলে অবশ্যই তিনি সেটা উপেক্ষা করবেন!

অথচ এই একশ শতাংশ সঠিক কাজটি করার জন্য তাঁকে শাস্তির হুমকি শুনতে হচ্ছে হাতকাটা হুব্বা থুড়ি শিক্ষামন্ত্রীর কাছ থেকে? সাপের পাঁচ পা দেখা এসকল মন্ত্রী-সান্ত্রী, মুখ্য একনায়িকাদের আস্পর্ধা বাড়তে বাড়তে আজ আকাশ স্পর্শ করেছে।

উপাচার্যকে হুমকি দেওয়া হাতকাটা হুব্বা-মন্ত্রীকে পাল্টা স্পর্ধায় পরিষ্কার জানিয়ে দিতে চাই, যে ক্ষমতার জোরে আজ এই হুমকি দিচ্ছেন সেই ক্ষমতায় আপনাদের বসিয়েছি আমরা অর্থাৎ সাধারণ জনগণ যাদের সামনে আপনি ও আপনার মুখ্যমন্ত্রী ভোটের আগে খোলস হইতে প্রস্ফুটিত ভুট্টার ন্যায় দন্তরাজি আকর্ণ বিকশিতপূর্বক, করজোড়ে এসে ভোটভিক্ষা করেন। জনগণের স্বার্থকে উপেক্ষা করে, আপনাদের ছাত্র সংগঠনের জন্মদিন উদযাপন আর দলনেত্রীর তুঘলকি ইচ্ছেকে মান্যতা দেবার জন্য নিয়মকানুন আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখাবার আস্পর্ধা, বুক ফুলিয়ে পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতি করার পর সত্যকে শাস্তি দেবার এই প্রবল আস্ফালন জনগণই ঘুচিয়ে দেবে একদিন। নিশ্চিত জানবেন, ‘সেদিন সুদূর নয় আর।’ মিথ্যের পায়ে লুটিয়ে এই কেন্নো-জীবনে তদ্দিন আরও কিছু ঘটি বাটি গুছিয়ে নিন নাহয়!

-- পল্লব কীর্ত্তনীয়া

6 months ago (edited) | [YT] | 146

Pallab Kirtania

।। কুর্নিশ অজেয়, অন্য নাম শান্তা ।।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫ টি বিভাগের নানা পরীক্ষা আছে অগাস্টের শেষ সপ্তাহে, যা তিন মাস আগে থেকে নির্ধারিত। কিন্তু সেই পরীক্ষাসূচি নিয়ে শাসক মহলে আপত্তি উঠেছে তীব্র।
কারণ ২৮ অগাষ্ট তৃণমূল ছাত্রপরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস (যদিও ওটা আসলে কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন 'ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস', এটাও চুরি!), তাই ওইদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন পরীক্ষা হতেই পারে না। কী অপূর্ব আবদার!

তৃণমূল ছাত্র পরিষদের পক্ষ থেকে অন্তবর্তীকালীন উপাচার্য শ্রীমতি শান্তা দত্তের কাছে ওইদিন পরীক্ষা স্থগিত করার আবেদন করা হয় প্রথমে। কাজ না হওয়ায় তাদের ওপরমহল সক্রিয় হয়েছে যথারীতি। উচ্চ শিক্ষা দফতরের কাছ থেকে চিঠি এসেছে উপাচার্যর কাছে যাতে ওই দিন পরীক্ষা না নেওয়া হয়। আর তৃণমূল ছাত্র নেতারা উপাচার্যের চেয়ারে বসার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে শুরু করেছেন তার বিরুদ্ধে কার্যত হুমকিসুলভ বিষোদগার!

শাসকের আস্পর্ধা ভাবুন একবার। তারা কোনো নিয়ম নীতি, আইনকানুনের তোয়াক্কাই করে না। উপাচার্যের মতে ওইদিন কোনো সরকারি ছুটি নেই, কোনো রাজনৈতিক দলের জন্মদিন উপলক্ষে পরীক্ষা বন্ধ করে দেওয়া হবে কেন। তাহলে তো এখানে যত ছাত্র সংগঠন আছে বা অন্যান্য রাজনৈতিক দল আছে প্রত্যেকেই আবেদন করবে যাতে তাদের প্রতিষ্ঠা দিবসেও বিশ্ববিদ্যালয় কোনো পরীক্ষা না নেয় এবং আজ যদি উচ্চ শিক্ষা দফতরের চিঠির প্রেক্ষিতে ওই দিনের পরীক্ষা বাতিল ঘোষণা করা হয় তাহলে আগামীতে সবার আবেদনকেই মান্যতা দিতে হবে! এভাবে কি পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব না কি সম্ভব বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজ চালানো?

তিনি সংবাদ মাধ্যমে এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যায়ের আপৎকালীন সিন্ডিকেট মিটিং ডাকেন। অবশেষে তাঁর নেতৃত্বে সিন্ডিকেট ২৮ অগাষ্ট পরীক্ষা পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুসারেই হবে বলে জানিয়ে দিয়েছ।

শাসকের সঙ্গে কোনো প্রতিষ্ঠানের আধিকারিক সংঘাতে জড়ান না। বরং সর্বদাই চেষ্টা করেন কী করে শাসকের কৃপা দৃষ্টি তাঁর উপরে বর্ষিত হয়। কিন্তু উপাচার্য শান্তা দত্ত শিরদাঁড়া খাড়া করে অনড় রয়েছেন তাঁর সিদ্ধান্তে। যে ভাবে তিনি শাসকের ভ্রুকুটিকে উপেক্ষা করছেন তা শাসকের পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতি আর অন্যায়ের পায়ে নুয়ে পড়া, কেন্নোর মত হামাগুড়ি দেওয়া, ভীরু, অমেরুদন্ডী জৈবিক মৃত্যুর আগে হাজারবার মরে যাওয়া সকল সরকারি আধিকারিকদের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

কুর্নিশ অজেয়, অন্য নাম শান্তা।
- পল্লব কীর্ত্তনীয়া

6 months ago | [YT] | 305

Pallab Kirtania

ধর্ষ-মুল
‘প্রশ্ন কোরো না’ গানটা প্রায় এক দশক আগে লেখা। আমার তখন ইউটিউবে কোনো চ্যানেল ছিল না। আমার গান দু-একজন বন্ধু তাদের চ্যানেলে মাঝে মধ্যে আপলোড করত। সেভাবেই এই গানটি প্রকাশিত হয়। আমার ফেসবুকে একটা প্রফাইল ছিল, পরবর্তীকালে সেখানে গানটা আপলোড করেছিলাম। এর ভেতর একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটে।

গানটি একটা ইউটিউব চ্যানেলে ‘নচিকেতার নতুন রাজনৈতিক গান’ বলে তাঁর ছবিসহ আপলোড করা হয়। আমার গোচরে আনে কেউ। আমি খুব অবাক হয়ে ফেসবুকে আমার পেজ-এ তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

নচিকেতার গোচরে আসে বিষয়টি। এবিপি আনন্দ (তখন কি স্টার আনন্দ নাম ছিল?) ঘটনাটা কভার করেছিল। নচিকেতা এবং আমার দুজনেরই বক্তব্য সম্প্রচারিত হয়। নচিকেতা বলেছিলেন এসব নিয়ে তিনি কিছু জানেন না। এটা চক্রান্ত। কিন্তু ওপর মহলে তাঁর প্র্ভূত যোগাযোগ থাকা স্বত্ত্বেও তিনি সেই ‘চক্রান্ত’ নিয়ে সে সময় কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করেননি। কেন তা জানি না।

এদিকে সেই চ্যানেলে গানটির ভিউ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে। প্রতিদিন ৫০০০০ থেকে ৮০০০০ ভিউ পেতে থাকে গানটি। নচিকেতার প্রশংসায় উপচে পড়ে কমেন্ট বক্স। ধন্য ধন্য পড়ে যায়। আমাকে উল্টে কমেন্ট শুনতে হয় আমি নাকি ফুটেজ খাওয়ায় জন্য এটা নিজের গান বলে দাবি করছি। ততদিনে আমি লালবাজারের জানিয়েছি। তাঁরা সাইবার ক্রাইম দফতরে কমপ্লেন করতে বললেন, তাই করেছি। কিন্তু তাতে অবস্থার পরিবর্তন হল না। কীভাবে ব্যাপারটা থামবে কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। সাইবার ক্রাইম দফতরে ফোন করলে তাঁরা শুধু বলেন, চেষ্টা করছি। অবশেষে হঠাৎই একদিন সেই চ্যানেলটা বন্ধ হয়ে গেল। কারা এ কাজ করেছিলেন, কীভাবেই বা বন্ধ হল আমি কিছু জানতে পারিনি।

এর কয়েকবছর পর আমার নিজস্ব চ্যানেল হয় ইউটিউবে। আমি গানটা তখন আপলোড করেছি। এত কান্ডের এতদিন পর গানটা চ্যানেলে এলেও লক্ষ লক্ষ মানুষ গানটা দেখেছেন। দশ লক্ষের ওপর ভিউ, এখনও বাড়ছে প্রতিদিন।

সামাজিক কোনো ইস্যু ভিত্তিক গানের আয়ু স্বাভাবিকভাবেই সীমিত। কিন্তু প্রায় এক দশক হয়ে গেলেও এই গানের জনপ্রিয়তা শেষ হয়ে যায়নি কারণ গানে যে সব কথা বলা হয়েছিল তা এখনও সমানভাবেই প্রাসঙ্গিক।

সম্প্রতি কসবা ল-কলেজ নারকীয় কান্ডের প্রেক্ষিতে এই গান থেকে একটা ছোট্ট অংশ তুলে দিলাম। শুনলে বোঝা যাবে গানটি কেন প্রাসঙ্গিকতা আজও হারায়নি। সম্ভবত এই জমানা বদল না হওয়া পর্যন্ত হারাবে না!
শর্ট -এর লিঙ্ক : youtube.com/shorts/7yZ4J_XyiC...

প্রশ্ন কোরো না গানের লিঙ্ক :
https://youtu.be/ruKwSfd87do?si=a82Ct...

7 months ago (edited) | [YT] | 96