মানুষের প্রাণে অনেক কথা আছে। সকলেই বলতে চায়। কাউকে না কাউকে সে বলে। একটা ছোট্ট শিশু একা একা তার পুতুলের সাথে কথা বলে! আমরা বলি অসংলগ্ন কথা। ওর কাছে ঐ কথা খুবই অর্থবহ। সে বলতে চায়। কোন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ কোন শিশুকে যেন কখনো না বলে “চুপ করো!” মানুষ বলতে চায়। সব বয়সের মানুষ। কেউ ঈশ্বরকে বলে। সে খুবই ব্যক্তিগত স্বভাবের মানুষ। কোন মানুষকে তার প্রাণের কথা সে বলতে পারে না। অতটা আপন তার কেউ হতে পারেনি । কিন্তু তাই সে তার বিশ্বকর্মার কাছে কথা বলে হাল্কা হয়। বিশ্বকর্মা দিনের পর দিন শব্দে কথা বলে না, তা ঠিক। কিন্তু জীবনে কিছু একটা ঘটে, সেটা দেখে তার মনে হয়, বিশ্বকর্মা জবাব দিলেন। তার এই মনে হওয়াটাও তার ব্যক্তিগত এবং অর্থপূর্ণ। জগতের কারোর সেখানে কিচ্ছুটি বলার নেই। যে মানুষগুলো এগিয়ে গিয়ে গায়ে পড়ে বলতে বসে, “এটা কাকতালীয় ব্যাপার,আল্লাহ বলে কোথাও কিছু নেই, এগুলো মন গড়া ব্যাপার”... এই কথাগুলো আমাকে বিরক্ত করে, যুক্তিবানের বুদ্ধির, বিচক্ষণতার এবং সংবেদনশীলতার স্তর সম্পর্কে হতাশও করে। কারণ যে মানুষটা নিভৃতে আল্লাহর সাথে কথা বলে এবং তার সাড়া পায়, সেই ব্যক্তিগত প্রক্রিয়াতে অংশ নেবার জন্য সে কোন যুক্তিবাদীকে ডেকে আনেনি! যুক্তিবান তাকে সেই আশ্রয় দিতে পারেনি বলেই সে আল্লাহর আশ্রয় নিয়েছে, এবং সেটা তার সিদ্ধান্ত,যার ব্যাপারে কারোর নাক গলানো উচিৎ নয়। এই ব্যক্তিগত প্রক্রিয়াটির প্রতি সম্মানশীল না থেকে গায়ে পড়ে যেচে গিয়ে কোন মানুষের এই প্রক্রিয়াকে আঘাত করতে চাওয়াটা অতৃপ্ত মানুষের লক্ষণ। এখানেই স্থির বিশ্বাসী, অস্থির যুক্তিবাদীর চেয়ে এগিয়ে,যতক্ষণ সে নিভৃতচারীতায় তৃপ্ত এবং কাউকে বিরক্ত না করে তার ঈশ্বরের সঙ্গে যুক্ত। নিভৃতচারীর এই নিজস্ব শান্তিটুকুকে বোকার এবং নির্বোধের শান্তি বলে প্রমাণ করার জন্য যে যুক্তিবান মরীয়া হয়ে ওঠে, নিজের যুক্তি-তর্কের ভারসাম্যকেই শুধু সে সামনে নিয়ে এসে তার দারিদ্র্যকে ঘোষণা করে মাত্র। যে যুক্তিবান ঈশ্বরবিহীন দিব্যি বাঁচতে জানে, সেটা তো তার শক্তি, তাকে তার মত করে থাকতে দেয়াই তো শ্রেয়। যতক্ষণ সে তার আপন মতে, কারোর ঈশ্বর-সংযুক্তির যুক্তিহীনতায় অস্থির হয়ে নিজের শান্তির উপর নিয়ন্ত্রণ না হারায়। আবার যে ব্যক্তি বিধাতাকে দেখেছে, তার সাড়া পেয়েছে , এবং তাই নিয়ে জীবনে শান্ত, তাকেও তো তার মত করে থাকতে দেয়া ভালো,যতক্ষণ সে ঈশ্বরহীন মানুষদের সদা-সুখী শক্তিমান স্বনির্ভর অস্তিত্বের তথাকথিত "অর্থহীনতায়” আক্রান্ত হয়ে তাদের সুখকে, চরিত্রকে, আনন্দকে, স্বনির্ভরতাকে আক্রমণ করে না বসে! যতক্ষণ মানুষ যে যার নিজের মত আছে, সে বিশ্বাসী হোক কিংবা অবিশ্বাসী, ততক্ষণ পৃথিবীতে অশান্তি অসম্ভব। কিন্তু আমরা নিজের চাইতে অন্যের ভেতরে, অন্যের মতে, অন্যের দ্বারা অনেক বেশী বেঁচে থাকি বলেই,অশান্তিই নিয়ম, আর শান্তিই অসম্ভব হয়ে গেল।
Rafique Natabar
মানুষের প্রাণে অনেক কথা আছে। সকলেই বলতে চায়। কাউকে না কাউকে সে বলে। একটা ছোট্ট শিশু একা একা তার পুতুলের সাথে কথা বলে! আমরা বলি অসংলগ্ন কথা। ওর কাছে ঐ কথা খুবই অর্থবহ। সে বলতে চায়। কোন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ কোন শিশুকে যেন কখনো না বলে “চুপ করো!” মানুষ বলতে চায়। সব বয়সের মানুষ। কেউ ঈশ্বরকে বলে। সে খুবই ব্যক্তিগত স্বভাবের মানুষ। কোন মানুষকে তার প্রাণের কথা সে বলতে পারে না। অতটা আপন তার কেউ হতে পারেনি । কিন্তু তাই সে তার বিশ্বকর্মার কাছে কথা বলে হাল্কা হয়। বিশ্বকর্মা দিনের পর দিন শব্দে কথা বলে না, তা ঠিক। কিন্তু জীবনে কিছু একটা ঘটে, সেটা দেখে তার মনে হয়, বিশ্বকর্মা জবাব দিলেন। তার এই মনে হওয়াটাও তার ব্যক্তিগত এবং অর্থপূর্ণ। জগতের কারোর সেখানে কিচ্ছুটি বলার নেই। যে মানুষগুলো এগিয়ে গিয়ে গায়ে পড়ে বলতে বসে, “এটা কাকতালীয় ব্যাপার,আল্লাহ বলে কোথাও কিছু নেই, এগুলো মন গড়া ব্যাপার”... এই কথাগুলো আমাকে বিরক্ত করে, যুক্তিবানের বুদ্ধির, বিচক্ষণতার এবং সংবেদনশীলতার স্তর সম্পর্কে হতাশও করে। কারণ যে মানুষটা নিভৃতে আল্লাহর সাথে কথা বলে এবং তার সাড়া পায়, সেই ব্যক্তিগত প্রক্রিয়াতে অংশ নেবার জন্য সে কোন যুক্তিবাদীকে ডেকে আনেনি! যুক্তিবান তাকে সেই আশ্রয় দিতে পারেনি বলেই সে আল্লাহর আশ্রয় নিয়েছে, এবং সেটা তার সিদ্ধান্ত,যার ব্যাপারে কারোর নাক গলানো উচিৎ নয়। এই ব্যক্তিগত প্রক্রিয়াটির প্রতি সম্মানশীল না থেকে গায়ে পড়ে যেচে গিয়ে কোন মানুষের এই প্রক্রিয়াকে আঘাত করতে চাওয়াটা অতৃপ্ত মানুষের লক্ষণ। এখানেই স্থির বিশ্বাসী, অস্থির যুক্তিবাদীর চেয়ে এগিয়ে,যতক্ষণ সে নিভৃতচারীতায় তৃপ্ত এবং কাউকে বিরক্ত না করে তার ঈশ্বরের সঙ্গে যুক্ত। নিভৃতচারীর এই নিজস্ব শান্তিটুকুকে বোকার এবং নির্বোধের শান্তি বলে প্রমাণ করার জন্য যে যুক্তিবান মরীয়া হয়ে ওঠে, নিজের যুক্তি-তর্কের ভারসাম্যকেই শুধু সে সামনে নিয়ে এসে তার দারিদ্র্যকে ঘোষণা করে মাত্র। যে যুক্তিবান ঈশ্বরবিহীন দিব্যি বাঁচতে জানে, সেটা তো তার শক্তি, তাকে তার মত করে থাকতে দেয়াই তো শ্রেয়। যতক্ষণ সে তার আপন মতে, কারোর ঈশ্বর-সংযুক্তির যুক্তিহীনতায় অস্থির হয়ে নিজের শান্তির উপর নিয়ন্ত্রণ না হারায়। আবার যে ব্যক্তি বিধাতাকে দেখেছে, তার সাড়া পেয়েছে , এবং তাই নিয়ে জীবনে শান্ত, তাকেও তো তার মত করে থাকতে দেয়া ভালো,যতক্ষণ সে ঈশ্বরহীন মানুষদের সদা-সুখী শক্তিমান স্বনির্ভর অস্তিত্বের তথাকথিত "অর্থহীনতায়” আক্রান্ত হয়ে তাদের সুখকে, চরিত্রকে, আনন্দকে, স্বনির্ভরতাকে আক্রমণ করে না বসে! যতক্ষণ মানুষ যে যার নিজের মত আছে, সে বিশ্বাসী হোক কিংবা অবিশ্বাসী, ততক্ষণ পৃথিবীতে অশান্তি অসম্ভব। কিন্তু আমরা নিজের চাইতে অন্যের ভেতরে, অন্যের মতে, অন্যের দ্বারা অনেক বেশী বেঁচে থাকি বলেই,অশান্তিই নিয়ম, আর শান্তিই অসম্ভব হয়ে গেল।
2 years ago | [YT] | 1