আজকে একটি মেয়ে আমাকে মেসেঞ্জারে মেসেজ করেছে তার প্রশ্নটা হচ্ছে স্যার "তন্ত্র করে যদি কেউ বিয়ে করে সেটা কি লং লাস্টিং হয়? মানে বশীকরণ।"
এই প্রশ্নটা বহু মানুষেরই থাকে আজ এটার Psychic Astro Philosophy তে আসুন এর উত্তরটা আজকে দিই ... 💁
আজকাল বাজারে সবকিছুরই একটা চটজলদি ‘কাস্টমাইজড’ সলিউশন পাওয়া যায়। নুডলসের মতো। তিন মিনিটে খিদে মেটানো যাবে। তা, একদল মহৎ প্রাণ হঠাৎ আবিষ্কার করলেন যে, মানুষের মন এবং বৈবাহিক জীবনটাও নাকি ওই তিন মিনিটের নুডলস! সেখানে একটু তন্ত্রের সস ঢেলে দাও, সামান্য বশীকরণের মশলা ছিটিয়ে দাও—ব্যাস, আজীবন স্থায়িত্বের গ্যারান্টি! আমাকে একজন জিজ্ঞেস করলেন, "আচ্ছা, তন্ত্র-টন্ত্র বা বশীকরণ করে যদি কেউ কাউকে বিয়ে করে, সেটা কি লং-লাস্টিং হয়?"
প্রশ্নটা শুনে আমার মনে দুটো অনুভূতি একসঙ্গে কাজ করল—একটু মায়া আর প্রচুর বিস্ময়। ভাবুন একবার, আপনি একজনকে ভালোবাসেন, অথবা বাসতে চান, কিন্তু আপনার নিজস্ব ব্যক্তিত্ব, রূপ, গুণ বা বুদ্ধির ওপর আপনার ভরসা এতটাই কম যে, আপনাকে মধ্যরাত্রে শ্মশানে গিয়ে বা কোনো গোপন ডেরায় বসে জড়িবুটি পুড়িয়ে মন্ত্র পড়ে সেই মানুষটাকে 'কন্ট্রোল' করতে হচ্ছে! এর চেয়ে বড় দেউলিয়া মানসিকতা আর কী হতে পারে? একটু ঠান্ডা মাথায় দর্শনটা বুঝুন। ভালোবাসা বা বিয়ে কীসের ওপর দাঁড়ায়? দুটো মানুষের স্বাধীন ইচ্ছা বা ‘Free Will’-এর ওপর। আপনি যখন বশীকরণ করছেন, তার মানে আপনি সামনের মানুষটার সেই স্বাধীন ইচ্ছাকে খুন করতে চাইছেন। আপনি একটা জ্যান্ত মানুষকে ভালোবাসছেন না, আপনি একটা রোবট বা একটা হিপনোটাইজড পুতুল চাইছেন—যে আপনার ইশারায় হাত-পা নাড়বে। বিজ্ঞান আর মনস্তত্ত্ব বলে, মস্তিষ্কের ওপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া কোনো ঘোর বা ‘ইলুশন’ কখনো চিরস্থায়ী হতে পারে না। একটা সময় পর সেই মোহাচ্ছন্নতা কাটবেই। আর যেদিন কাটবে, সেদিন সেই মানুষটা যখন বুঝতে পারবে যে তাকে কোনো অদৃশ্য দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল, সেদিন যে তীব্র ঘৃণা আর বিদ্রোহ জন্মাবে—তাকে আটকানোর মতো কোনো তন্ত্র আজ পর্যন্ত পৃথিবীতে তৈরি হয়নি। জোড়াতালি দিয়ে সংসার চলতে পারে, কিন্তু তাকে জীবনসঙ্গী বলা যায় না, বড়জোর 'বন্দী' বলা যেতে পারে।
❤️🩹💫The Astrological Angle✨💔 এবার আসি তাদের প্রিয় বিষয়ে, যাঁরা এই সবকিছুর পেছনে গ্রহের দোহাই দেন। জ্যোতিষ শাস্ত্র তো কোনো সস্তা ম্যাজিক শো নয় যে আপনি একটা মাদুলি ঝোলালেন আর রাহু-কেতু আপনার দাস হয়ে গেল! জ্যোতিষের একটা অমোঘ নিয়ম আছে—‘কূর্ম পুরাণ’ বা উচ্চস্তরের কর্মতত্ত্ব। আপনি যদি প্রকৃতির নিয়মের বিরুদ্ধে গিয়ে, কারোর স্বাধীন ইচ্ছাকে হরণ করে নিজের স্বার্থসিদ্ধি করতে চান, তবে আপনি জ্যোতিষের ভাষায় একটা চরম 'নেতিবাচক কর্ম' (Negative Karma) তৈরি করছেন। জ্যোতিষ মতে, সপ্তম ভাব (7th House) হলো বিয়ের ঘর। আর শুক্র (Venus) হলো প্রেমের কারক। শুক্রের ধর্ম কী? শুক্র হলো সৌন্দর্য, আর্ট, আর পারস্পরিক সম্মান। যখনই আপনি তন্ত্র বা বশীকরণের মতো অন্ধকার পথ বা ‘অভিচার কর্ম’ বেছে নিচ্ছেন, আপনি অজান্তেই আপনার কুন্ডলীর রাহু (Rahu) এবং শনির (Saturn) নিকৃষ্টতম রূপকে জাগ্রত করছেন। রাহু আপনাকে সাময়িক একটা অন্ধ মোহ দিতে পারে, একটা তীব্র অবশেসন দিতে পারে—যা দেখতে ঠিক ভালোবাসার মতোই লাগবে। কিন্তু মনে রাখবেন, রাহু হলো ধোঁয়া। ধোঁয়া যেমন একসময় মিলিয়ে যায়, এই বশীকরণের স্থায়িত্বও ঠিক ততটুকুই। শনি যখন তার হিসাব নিতে বসবে, তখন এই জোর করে চাপিয়ে দেওয়া সম্পর্কের বাঁধন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে। কারণ, প্রকৃতির আইনকে ফাঁকি দেওয়ার ক্ষমতা কোনো তান্ত্রিকের নেই। 💁 কিংকর্তব্য:- তাই, বশীকরণ করে বিয়ে টিকিয়ে রাখার এই যে উদ্ভট কল্পনা—এটা আসলে এক ধরনের মানসিক পঙ্গুত্ব। আপনি যদি কারোর জীবনে জায়গা করে নিতে চান, তবে নিজের যোগ্যতা দিয়ে নিন, নিজের ব্যক্তিত্ব দিয়ে নিন। সপ্তম ভাবের অধিপতি গ্রহ যতই শক্তিশালী হোক না কেন, আপনার নিজের মেরুদণ্ডটা যদি সোজা না থাকে, তবে কোনো গ্রহই আপনাকে সুখী করতে পারবে না। তন্ত্র দিয়ে বড়জোর একটা শরীরকে ঘরে আটকে রাখা যায়, একটা মানুষকে নয়। আর একটা ঘুমন্ত বা অসাড় মানুষের পাশে সারাজীবন কাটিয়ে দেওয়াটা কোনো মহীময় ব্যাপার নয়, ওটা আসলে একটা জীবন্ত ট্র্যাজেডি।
👉যাইহোক, এতক্ষণ তো কথা বললাম যারা সাধারণত বশীকরণের পেছনে দৌড়ান তাদের জন্য। এইবার মূল পয়েন্টে আসি...👇👇 🔹সেদিন যে মেয়েটি আমাকে মেসেজ করেছিল, তার সাথে পরবর্তীতে ফোনে কথা বলে জানতে পারলাম—মেয়েটির বয়ফ্রেন্ড তার সাথে দীর্ঘ পাঁচ বছর চুটিয়ে রিলেশন রেখে, সমস্ত রকম মেলামেশার পর, তাকে কিচ্ছু না জানিয়ে গোপনে অন্য একটা মেয়েকে বিয়ে করে ফেলেছে! (ভাবুন একবার, কী লেভেলের ডেল্টা ফোর্স মার্কা সিক্রেট অপারেশন!) এরপর যথারীতি যা হয়—হৃদয় ভাঙা মেয়েটি বিভিন্ন তান্ত্রিক আর জ্যোতিষীদের দরজায় ছুটল। আর আমাদের সেইসব দূরদর্শী গুনীনরা প্রত্যেকেই মেয়েটিকে একটাই চরম বৈজ্ঞানিক থিওরি দিল! তারা বলল—"আহা বাছা, ছেলেটার কোনো দোষ নেই! ওই নতুন মেয়েটা ছেলেটিকে টুকটাক করে, বশীকরণ করে নিজের দিকে টেনে নিয়েছে!" বাহ! আমাদের কিছু ভন্ড তান্ত্রিক জ্যোতিষীগুলোর এই এক বাঁধা গৎ। ভাবুন, দুনিয়াতে রিলেশন ভাঙা আর বিয়ে করা কত সহজ ব্যাপার! সকালবেলা বাজার থেকে দুটো লেবু কিনলাম, একটু 'টুকটাক' ফুঁ দিয়ে বশীকরণ করে নিলাম, আর ওমনি পাঁচ বছরের রিলেশন ভুলে একটা আস্ত ছেলে পকেটে ঢুকে গেল! কোনো খাটুনিই নেই! ছেলেরা যে বেইমানি বা স্বার্থপরতা করতে পারে—এই সহজ সত্যটা মেনে নেওয়ার চেয়ে, লেবু-লঙ্কার অলৌকিক থিওরি গিলিয়ে দেওয়া কত সোজা, তাই না? 🔻চলুন, এইবার আসল ‘পোস্টমর্টেম’ টেবিলে আসা যাক। ফেসবুকের জ্ঞান তো হলো, এবার একটু সাইন্টিফিক অ্যাস্ট্রোলজির চশমাটা চোখে পরে দেখা যাক—ঠিক কী ধরনের গ্রহের কারসাজি থাকলে একটা মেয়েকে এইভাবে ঠকতে হয়, আর ছেলের জন্মছকেই বা এমন কী ‘মহাজাগতিক বেইমানি’-র যোগ থাকে, যার জন্য সে পাঁচ বছরের সম্পর্ককে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অন্য কাউকে ‘টুক’ করে বিয়ে করে নিতে পারে! প্রথমে ধরি আমাদের সেই পরম শ্রদ্ধেয় ‘চিটার’ বয়ফ্রেন্ডকে। একটা ছেলে বিয়ের নাম করে পাঁচ বছর রিলেশন রাখল, অথচ গোপনে অন্য একজনকে বিয়ে করে কেটে পড়ল—তার ছকে কী কানেকশন থাকতে পারে?
🔸খুব সোজা লজিক।😀💁👇👇 ~~~~~~~~~~~~~~~~~~ 🔴🚹১. ছেলেদের ছকে ‘মহাজাগতিক বেইমানি’-র কানেকশন: 🔻রাহু এবং শুক্রের কু-সংযোগ (Rahu-Venus Affliction): শুক্র হলো প্রেম আর রাহু হলো মায়া, ধোঁয়াশা এবং ছলাকলা। কোনো ছেলের ছকে যদি শুক্রের ওপর রাহুর অশুভ দৃষ্টি থাকে বা রাহু-শুক্রের যূতি থাকে, তবে সেই ছেলে প্রেমের ক্ষেত্রে চরম সুবিধাবাদী হয়। এরা মুখে স্বর্গের চাঁদ এনে দেওয়ার কথা বলবে, কিন্তু ভেতরে ভেতরে নিজের আখের গোছাবে। এরা হলো খাঁটি ‘ইলিউশনিস্ট’। 🔻মঙ্গল-রাহুর ডেয়ারিং যোগ (Mars-Rahu Connection): ছেলেদের ছকে এই কম্বিনেশনটা থাকা মানেই চরম ডেঞ্জারাস! মঙ্গল হলো সাহস আর রাহু হলো নিয়ম ভাঙার ওস্তাদ। এই দুই গ্রহ হাত মেলালে ছেলের ভেতরে আইনি বা সামাজিক রীতিনীতিকে বুড়ো আঙুল দেখানোর একটা অদ্ভুত ‘ডেয়ারিং’ ক্ষমতা চলে আসে। কোনো রকম অপরাধবোধ (Guilt) ছাড়াই এরা একদিকে আপনার সাথে প্রেমের নাটক করতে পারে, আর অন্যদিকে লুকিয়ে অন্য মেয়ের সাথে বিয়ের পিঁড়িতে বসে যেতে পারে! 🔻দ্বিমুখী রাশির সপ্তম বা একাদশ ভাব (Dual Signs in 7th/11th House): যদি কারোর বিয়ের ঘর (৭ম ভাব) বা ইচ্ছাপূরণের ঘর (১১শ ভাব) মিথুন, কন্যা, ধনু বা মীনের মতো দ্বিমুখী রাশিতে পড়ে এবং সেখানে পাপগ্রহ বসে থাকে, তবে সেই মানুষের জীবনে সমান্তরাল সম্পর্ক বা 'ডাবল স্ট্যান্ডার্ড' বজায় রাখার একটা সহজাত প্রবণতা তৈরি হয়। এক জায়গায় কমিটমেন্ট দিয়ে অন্য জায়গায় সেটিং করা এদের বাঁ হাতের খেল। 🔻বুধের পঙ্গুত্ব বা শঠতা: বুধ হলো বুদ্ধি আর বিবেক। বুধ যদি রাহু বা মঙ্গলের দ্বারা পীড়িত হয়ে জাতকের লগ্নে বা চতুর্থে বসে থাকে, তবে সেই মানুষের নৈতিকতা বলে কিছু থাকে না। সে অবলীলায় মুখে একটা এবং কাজে অন্যটা করতে পারে, একদম জলভাত মনে করে। 🔴🚺২. মেয়েটির ছকে কোন যোগ বা গোচর (Transit) এই আঘাত এনেছে? এবার আসি মূল প্রশ্নে—মেয়েটি কেন এই চরম আঘাতের শিকার হলো? তার ছকে তখন কী চলছিল? জ্যোতিষ বলে, যখন কোনো বড় ধাক্কা আসে, তখন গোচর বা ট্রানজিট সেখানে কিন্তু অনুঘটকের কাজ করে: 🔻নাড়ী জ্যোতিষের পতি-কারক মঙ্গলের ট্র্যাপ (Mars-Rahu/Ketu Connection): নাড়ী জ্যোতিষ অনুসারে মেয়েদের ছকে মঙ্গল হলো ‘হাজব্যান্ড কারক’ বা স্বামীর প্রতীক। এই মঙ্গলের সাথে যখন কোনোভাবে জন্মছকের পঞ্চম (প্রেম) বা সপ্তম (বিয়ে) ভাবের কানেকশন থাকে, এবং গোচরে বা জন্মছকে তার ওপর রাহু বা কেতুর কুদৃষ্টি বা ছোঁয়া লাগে—তখনই সেই সম্পর্ক তাসের ঘরের মতো ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে! রাহু বা কেতু এসে ওই ‘পতি-কারক’ মঙ্গলকে গ্রাস করে সম্পর্কটার অপমৃত্যু ঘটায়, যা ঠিক এই মেয়েটির ক্ষেত্রে ঘটেছে। 🔻রাহু-কেতুর অক্ষ (Rahu-Ketu Axis on 1st/7th or 5th/11th Houses): গোচরে রাহু বা কেতু যখন মেয়েটির জন্মকালীন চন্দ্র, লগ্ন বা পঞ্চম ভাবের (প্রেমের ঘর) ওপর দিয়ে যায়, তখন জীবনে একটা চরম অন্ধ দশা তৈরি হয়। রাহু মানুষকে ভুল মানুষকে বিশ্বাস করায়, চোখে মোহরঞ্জনী ঠুলি পরিয়ে দেয়। আর ট্রানজিট শেষ হওয়ার মুখে বা কেতুর ছোঁয়ায় সেই ঠুলিটা যখন হঠাৎ খোলে, তখন সামনে শুধু এক টুকরো নিষ্ঠুর সত্য পড়ে থাকে। 🔻শনির সাড়ে সাতি বা কন্টক শনি (Saturn's Transit): শনি যখন জন্মছকের পঞ্চম (প্রেম) বা সপ্তম (বিয়ে) ভাবকে গোচরে দৃষ্টি দেয় বা স্পর্শ করে, তখন সে জীবনের সমস্ত ‘ভুল এবং কাঁচা’ সম্পর্কগুলোকে এক ঝটকায় ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। শনি হলো রূঢ় বাস্তব। সে এসে মেয়েটিকে থাপ্পড় মেরে বোঝায়—যাকে তুমি অমৃত ভাবছিলে, সে আসলে বিষ। শনি যখন আসে, তখন সমস্ত লুকিয়ে থাকা সত্য সামনে চলে আসে, তা সে যতই বেদনাদায়ক হোক না কেন।
🎯শেষ কথা তাই, ওই মেয়েটিকে আমার একটাই অনুরোধ—তন্ত্র-মন্ত্রের রূপকথা সাজিয়ে ওই বিশ্বাসঘাতক ছেলেটাকে নিজের চোখে ‘নিষ্পাপ’ বানানোর এই আত্মঘাতী চেষ্টাটা এবার বন্ধ করুন। সে কোনো জাদুটোনার শিকার হয়নি, সে সজ্ঞানে, সুস্থ মস্তিষ্কে নিজের সুবিধামতো একটা ভবিষ্যৎ বেছে নিয়েছে, যেখানে আপনার কোনো জায়গা ছিল না। জ্যোতিষের গোচর আপনাকে এটাই শেখাতে এসেছে যে, কারোর অন্ধমোহে নিজের জীবন নষ্ট করার নাম প্রেম নয়। রাহু যে মায়াটা তৈরি করেছিল, শনি এসে আজ সেটা ভেঙে দিয়েছে। এটাকে অভিশাপ না ভেবে একটা ‘অ্যাওয়েকেনিং’ বা জেগে ওঠা হিসেবে দেখুন। যে মানুষটা বিয়ের আগেই লুকিয়ে অন্য কোথাও বিয়ে করতে পারে, সে কোনো তান্ত্রিকের বশ নয়—সে আসলে নিজের স্বার্থের দাস। তার জন্য চোখের জল ফেলা মানে নিজের আত্মসম্মানকে আরও একবার সস্তায় বিক্রি করে দেওয়া। মেরুদণ্ডটা সোজা করুন, বাস্তবটাকে মেনে নিন। কারণ গ্রহের চেয়ে বড় সত্য আর এই ব্রহ্মাণ্ডে কিছু নেই। আপনার বা আপনার চেনা কারোর জীবনেও কি এমন অন্ধমোহ আর প্রতারণার খেলা চলছে? কুসংস্কারের ধোঁয়াশা কাটিয়ে নিজের গ্রহ-নক্ষত্রের আসল সত্য এবং সঠিক ভবিষ্যৎ জানতে আর সময় নষ্ট করবেন না।
আমি আর আমার লয়াল বান্ধবীরা মিলে আলোচনা করি অমুক এমন কেন !ঘরে বউ আছে ,বর আছে তারপরও , কিছুদিন আগে আমারই সাথে ফ্লার্ট করতে চাওয়া তাদের এলাকার এক বিগ ব্রাদারকে আমার বান্ধবি প্রশ্ন করলো ভাইয়া ঘরে তো বউ আছে ছেলে আছে তাও লিফ্ট দিতে চান কেন!সময় আছে ভালো হয়ে যান!
এখন বিগ ব্রাদার বললো কি হবে ভালো হয়ে !!!!!
আমারও আজ কাল মনে হয় সত্যই তো ,আসলে ভালো হয়ে কি হয়! যারা ভালো হয় তাদের কপালে শুধু কষ্টই থাকে !
যে হাতটা আপনাকে একটু আগে নরক যন্ত্রণা দিল, সেই হাতটাই যখন এসে আপনার চোখের জল মুছিয়ে দেয়—ওটা ভালোবাসা নয়, ওটা একটা মানসিক স্লো-পয়জন! ডার্ক সাইকোলজির সবচেয়ে ভয়ংকর এবং আসক্তি তৈরি করা খেলাটার নাম হলো 'Trauma Bonding' বা 'অত্যাচারের চক্র'।
আপনার জীবনের সেই অদ্ভুত এবং বুক কাঁপানো মুহূর্তটার কথা একটু মনে করে দেখুন তো—আপনার পার্টনার বা খুব কাছের মানুষটা আপনাকে চরমভাবে অপমান করল, আপনার চরিত্র নিয়ে নোংরা কথা বলল, কিংবা আপনাকে মানসিকভাবে এতটা নির্যাতন করল যে আপনি ঘরের কোণায় বসে ডুকরে ডুকরে কাঁদছেন। আপনি ভাবছেন এই নরক থেকে আপনি আজই বের হয়ে যাবেন।
আর ঠিক তখনই, সে হুট করে তার রূপ বদলে ফেলল। সে খুব নরম পায়ে আপনার কাছে আসলো, আপনাকে শক্ত করে বুকে জড়িয়ে ধরল, নিজের হাত দিয়ে আপনার চোখের জল মুছে দিয়ে বলল— "আমি আসলে তোমাকে অনেক ভালোবাসি তো, তাই রাগ সামলাতে পারিনি। আই অ্যাম সরি।"
সে এক সেকেন্ডে আবার সেই পৃথিবীর সবচেয়ে কেয়ারিং মানুষটা হয়ে গেল। আর আপনার বোকা মগজ ওই ক্ষণিকের স্বস্তি আর আদরের মোহে পড়ে তার পেছনের সমস্ত নোংরা অত্যাচার এক নিমেষে ভুলে গেল!
মগজের রাসায়নিক আসক্তি: বিজ্ঞান বলে, যখন কেউ আপনাকে তীব্র ভয়ের পর হুট করে একটা মস্ত বড় সুরক্ষার অনুভূতি দেয়, তখন আপনার মগজে ডোপামিন আর অক্সিটোসিনের এমন এক জোয়ার বয়ে যায়, যা ড্রাগের চেয়েও মারাত্মক আসক্তি তৈরি করে। আপনি তখন ওই ত্যাগের পর পাওয়া একটুখানি আদরের জন্য ছটফট করতে থাকেন।
খাঁচায় বন্দি করার মেকানিজম: সে যদি সারাক্ষণ আপনার সাথে খারাপ ব্যবহার করত, আপনি এক সপ্তাহের মধ্যে তাকে ছেড়ে চলে যেতেন। ম্যানিপুলেটররা খুব ভালো করে জানে যে, আপনাকে আজীবন গোলাম বানিয়ে রাখতে হলে মাঝেমধ্যে একটুখানি ‘কৃত্রিম ভালোবাসার টুকরো’ ছুড়ে দিতে হবে।
ফলাফল: আপনি আজ একটা খাঁচায় বন্দি পাখি। আপনি তাকে ভালোবেসে তার পাশে নেই, আপনি আসলে তার দেওয়া ওই অত্যাচার আর ক্ষণিকের আদরের এক কুৎসিত চক্রের গোলকধাঁধায় নিজের পুরো অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলেছেন।
আপনার জীবনেও কি এমন কোনো মানুষ এসেছে যে প্রতিবার আপনাকে কাঁদিয়ে পরক্ষণেই আবার পরম মায়ায় বুকে টেনে নেয়? কমেন্ট বক্সে এসে নিজের সেই গোপন ট্রমা আর তিতা অভিজ্ঞতাটা শেয়ার করুন। দেখি এই কুৎসিত ট্রমা বন্ডের শেকলে বন্দি হয়ে আজ কত হাজার মানুষ আমাদের পেজে নিজের আত্মসম্মান পুড়িয়ে ছাই করছেন!
Mrittika's Heaven⬆️
আজকে একটি মেয়ে আমাকে মেসেঞ্জারে মেসেজ করেছে তার প্রশ্নটা হচ্ছে স্যার "তন্ত্র করে যদি কেউ বিয়ে করে সেটা কি লং লাস্টিং হয়? মানে বশীকরণ।"
এই প্রশ্নটা বহু মানুষেরই থাকে আজ এটার Psychic Astro Philosophy তে আসুন এর উত্তরটা আজকে দিই ... 💁
আজকাল বাজারে সবকিছুরই একটা চটজলদি ‘কাস্টমাইজড’ সলিউশন পাওয়া যায়। নুডলসের মতো। তিন মিনিটে খিদে মেটানো যাবে। তা, একদল মহৎ প্রাণ হঠাৎ আবিষ্কার করলেন যে, মানুষের মন এবং বৈবাহিক জীবনটাও নাকি ওই তিন মিনিটের নুডলস! সেখানে একটু তন্ত্রের সস ঢেলে দাও, সামান্য বশীকরণের মশলা ছিটিয়ে দাও—ব্যাস, আজীবন স্থায়িত্বের গ্যারান্টি!
আমাকে একজন জিজ্ঞেস করলেন, "আচ্ছা, তন্ত্র-টন্ত্র বা বশীকরণ করে যদি কেউ কাউকে বিয়ে করে, সেটা কি লং-লাস্টিং হয়?"
প্রশ্নটা শুনে আমার মনে দুটো অনুভূতি একসঙ্গে কাজ করল—একটু মায়া আর প্রচুর বিস্ময়। ভাবুন একবার, আপনি একজনকে ভালোবাসেন, অথবা বাসতে চান, কিন্তু আপনার নিজস্ব ব্যক্তিত্ব, রূপ, গুণ বা বুদ্ধির ওপর আপনার ভরসা এতটাই কম যে, আপনাকে মধ্যরাত্রে শ্মশানে গিয়ে বা কোনো গোপন ডেরায় বসে জড়িবুটি পুড়িয়ে মন্ত্র পড়ে সেই মানুষটাকে 'কন্ট্রোল' করতে হচ্ছে! এর চেয়ে বড় দেউলিয়া মানসিকতা আর কী হতে পারে?
একটু ঠান্ডা মাথায় দর্শনটা বুঝুন। ভালোবাসা বা বিয়ে কীসের ওপর দাঁড়ায়? দুটো মানুষের স্বাধীন ইচ্ছা বা ‘Free Will’-এর ওপর। আপনি যখন বশীকরণ করছেন, তার মানে আপনি সামনের মানুষটার সেই স্বাধীন ইচ্ছাকে খুন করতে চাইছেন। আপনি একটা জ্যান্ত মানুষকে ভালোবাসছেন না, আপনি একটা রোবট বা একটা হিপনোটাইজড পুতুল চাইছেন—যে আপনার ইশারায় হাত-পা নাড়বে।
বিজ্ঞান আর মনস্তত্ত্ব বলে, মস্তিষ্কের ওপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া কোনো ঘোর বা ‘ইলুশন’ কখনো চিরস্থায়ী হতে পারে না। একটা সময় পর সেই মোহাচ্ছন্নতা কাটবেই। আর যেদিন কাটবে, সেদিন সেই মানুষটা যখন বুঝতে পারবে যে তাকে কোনো অদৃশ্য দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল, সেদিন যে তীব্র ঘৃণা আর বিদ্রোহ জন্মাবে—তাকে আটকানোর মতো কোনো তন্ত্র আজ পর্যন্ত পৃথিবীতে তৈরি হয়নি। জোড়াতালি দিয়ে সংসার চলতে পারে, কিন্তু তাকে জীবনসঙ্গী বলা যায় না, বড়জোর 'বন্দী' বলা যেতে পারে।
❤️🩹💫The Astrological Angle✨💔
এবার আসি তাদের প্রিয় বিষয়ে, যাঁরা এই সবকিছুর পেছনে গ্রহের দোহাই দেন। জ্যোতিষ শাস্ত্র তো কোনো সস্তা ম্যাজিক শো নয় যে আপনি একটা মাদুলি ঝোলালেন আর রাহু-কেতু আপনার দাস হয়ে গেল!
জ্যোতিষের একটা অমোঘ নিয়ম আছে—‘কূর্ম পুরাণ’ বা উচ্চস্তরের কর্মতত্ত্ব। আপনি যদি প্রকৃতির নিয়মের বিরুদ্ধে গিয়ে, কারোর স্বাধীন ইচ্ছাকে হরণ করে নিজের স্বার্থসিদ্ধি করতে চান, তবে আপনি জ্যোতিষের ভাষায় একটা চরম 'নেতিবাচক কর্ম' (Negative Karma) তৈরি করছেন।
জ্যোতিষ মতে, সপ্তম ভাব (7th House) হলো বিয়ের ঘর। আর শুক্র (Venus) হলো প্রেমের কারক। শুক্রের ধর্ম কী? শুক্র হলো সৌন্দর্য, আর্ট, আর পারস্পরিক সম্মান। যখনই আপনি তন্ত্র বা বশীকরণের মতো অন্ধকার পথ বা ‘অভিচার কর্ম’ বেছে নিচ্ছেন, আপনি অজান্তেই আপনার কুন্ডলীর রাহু (Rahu) এবং শনির (Saturn) নিকৃষ্টতম রূপকে জাগ্রত করছেন।
রাহু আপনাকে সাময়িক একটা অন্ধ মোহ দিতে পারে, একটা তীব্র অবশেসন দিতে পারে—যা দেখতে ঠিক ভালোবাসার মতোই লাগবে। কিন্তু মনে রাখবেন, রাহু হলো ধোঁয়া। ধোঁয়া যেমন একসময় মিলিয়ে যায়, এই বশীকরণের স্থায়িত্বও ঠিক ততটুকুই। শনি যখন তার হিসাব নিতে বসবে, তখন এই জোর করে চাপিয়ে দেওয়া সম্পর্কের বাঁধন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে। কারণ, প্রকৃতির আইনকে ফাঁকি দেওয়ার ক্ষমতা কোনো তান্ত্রিকের নেই।
💁 কিংকর্তব্য:- তাই, বশীকরণ করে বিয়ে টিকিয়ে রাখার এই যে উদ্ভট কল্পনা—এটা আসলে এক ধরনের মানসিক পঙ্গুত্ব। আপনি যদি কারোর জীবনে জায়গা করে নিতে চান, তবে নিজের যোগ্যতা দিয়ে নিন, নিজের ব্যক্তিত্ব দিয়ে নিন।
সপ্তম ভাবের অধিপতি গ্রহ যতই শক্তিশালী হোক না কেন, আপনার নিজের মেরুদণ্ডটা যদি সোজা না থাকে, তবে কোনো গ্রহই আপনাকে সুখী করতে পারবে না। তন্ত্র দিয়ে বড়জোর একটা শরীরকে ঘরে আটকে রাখা যায়, একটা মানুষকে নয়। আর একটা ঘুমন্ত বা অসাড় মানুষের পাশে সারাজীবন কাটিয়ে দেওয়াটা কোনো মহীময় ব্যাপার নয়, ওটা আসলে একটা জীবন্ত ট্র্যাজেডি।
👉যাইহোক, এতক্ষণ তো কথা বললাম যারা সাধারণত বশীকরণের পেছনে দৌড়ান তাদের জন্য। এইবার মূল পয়েন্টে আসি...👇👇
🔹সেদিন যে মেয়েটি আমাকে মেসেজ করেছিল, তার সাথে পরবর্তীতে ফোনে কথা বলে জানতে পারলাম—মেয়েটির বয়ফ্রেন্ড তার সাথে দীর্ঘ পাঁচ বছর চুটিয়ে রিলেশন রেখে, সমস্ত রকম মেলামেশার পর, তাকে কিচ্ছু না জানিয়ে গোপনে অন্য একটা মেয়েকে বিয়ে করে ফেলেছে! (ভাবুন একবার, কী লেভেলের ডেল্টা ফোর্স মার্কা সিক্রেট অপারেশন!)
এরপর যথারীতি যা হয়—হৃদয় ভাঙা মেয়েটি বিভিন্ন তান্ত্রিক আর জ্যোতিষীদের দরজায় ছুটল। আর আমাদের সেইসব দূরদর্শী গুনীনরা প্রত্যেকেই মেয়েটিকে একটাই চরম বৈজ্ঞানিক থিওরি দিল! তারা বলল—"আহা বাছা, ছেলেটার কোনো দোষ নেই! ওই নতুন মেয়েটা ছেলেটিকে টুকটাক করে, বশীকরণ করে নিজের দিকে টেনে নিয়েছে!"
বাহ! আমাদের কিছু ভন্ড তান্ত্রিক জ্যোতিষীগুলোর এই এক বাঁধা গৎ। ভাবুন, দুনিয়াতে রিলেশন ভাঙা আর বিয়ে করা কত সহজ ব্যাপার! সকালবেলা বাজার থেকে দুটো লেবু কিনলাম, একটু 'টুকটাক' ফুঁ দিয়ে বশীকরণ করে নিলাম, আর ওমনি পাঁচ বছরের রিলেশন ভুলে একটা আস্ত ছেলে পকেটে ঢুকে গেল! কোনো খাটুনিই নেই!
ছেলেরা যে বেইমানি বা স্বার্থপরতা করতে পারে—এই সহজ সত্যটা মেনে নেওয়ার চেয়ে, লেবু-লঙ্কার অলৌকিক থিওরি গিলিয়ে দেওয়া কত সোজা, তাই না?
🔻চলুন, এইবার আসল ‘পোস্টমর্টেম’ টেবিলে আসা যাক। ফেসবুকের জ্ঞান তো হলো, এবার একটু সাইন্টিফিক অ্যাস্ট্রোলজির চশমাটা চোখে পরে দেখা যাক—ঠিক কী ধরনের গ্রহের কারসাজি থাকলে একটা মেয়েকে এইভাবে ঠকতে হয়, আর ছেলের জন্মছকেই বা এমন কী ‘মহাজাগতিক বেইমানি’-র যোগ থাকে, যার জন্য সে পাঁচ বছরের সম্পর্ককে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অন্য কাউকে ‘টুক’ করে বিয়ে করে নিতে পারে!
প্রথমে ধরি আমাদের সেই পরম শ্রদ্ধেয় ‘চিটার’ বয়ফ্রেন্ডকে। একটা ছেলে বিয়ের নাম করে পাঁচ বছর রিলেশন রাখল, অথচ গোপনে অন্য একজনকে বিয়ে করে কেটে পড়ল—তার ছকে কী কানেকশন থাকতে পারে?
🔸খুব সোজা লজিক।😀💁👇👇
~~~~~~~~~~~~~~~~~~
🔴🚹১. ছেলেদের ছকে ‘মহাজাগতিক বেইমানি’-র কানেকশন:
🔻রাহু এবং শুক্রের কু-সংযোগ (Rahu-Venus Affliction): শুক্র হলো প্রেম আর রাহু হলো মায়া, ধোঁয়াশা এবং ছলাকলা। কোনো ছেলের ছকে যদি শুক্রের ওপর রাহুর অশুভ দৃষ্টি থাকে বা রাহু-শুক্রের যূতি থাকে, তবে সেই ছেলে প্রেমের ক্ষেত্রে চরম সুবিধাবাদী হয়। এরা মুখে স্বর্গের চাঁদ এনে দেওয়ার কথা বলবে, কিন্তু ভেতরে ভেতরে নিজের আখের গোছাবে। এরা হলো খাঁটি ‘ইলিউশনিস্ট’।
🔻মঙ্গল-রাহুর ডেয়ারিং যোগ (Mars-Rahu Connection): ছেলেদের ছকে এই কম্বিনেশনটা থাকা মানেই চরম ডেঞ্জারাস! মঙ্গল হলো সাহস আর রাহু হলো নিয়ম ভাঙার ওস্তাদ। এই দুই গ্রহ হাত মেলালে ছেলের ভেতরে আইনি বা সামাজিক রীতিনীতিকে বুড়ো আঙুল দেখানোর একটা অদ্ভুত ‘ডেয়ারিং’ ক্ষমতা চলে আসে। কোনো রকম অপরাধবোধ (Guilt) ছাড়াই এরা একদিকে আপনার সাথে প্রেমের নাটক করতে পারে, আর অন্যদিকে লুকিয়ে অন্য মেয়ের সাথে বিয়ের পিঁড়িতে বসে যেতে পারে!
🔻দ্বিমুখী রাশির সপ্তম বা একাদশ ভাব (Dual Signs in 7th/11th House): যদি কারোর বিয়ের ঘর (৭ম ভাব) বা ইচ্ছাপূরণের ঘর (১১শ ভাব) মিথুন, কন্যা, ধনু বা মীনের মতো দ্বিমুখী রাশিতে পড়ে এবং সেখানে পাপগ্রহ বসে থাকে, তবে সেই মানুষের জীবনে সমান্তরাল সম্পর্ক বা 'ডাবল স্ট্যান্ডার্ড' বজায় রাখার একটা সহজাত প্রবণতা তৈরি হয়। এক জায়গায় কমিটমেন্ট দিয়ে অন্য জায়গায় সেটিং করা এদের বাঁ হাতের খেল।
🔻বুধের পঙ্গুত্ব বা শঠতা: বুধ হলো বুদ্ধি আর বিবেক। বুধ যদি রাহু বা মঙ্গলের দ্বারা পীড়িত হয়ে জাতকের লগ্নে বা চতুর্থে বসে থাকে, তবে সেই মানুষের নৈতিকতা বলে কিছু থাকে না। সে অবলীলায় মুখে একটা এবং কাজে অন্যটা করতে পারে, একদম জলভাত মনে করে।
🔴🚺২. মেয়েটির ছকে কোন যোগ বা গোচর (Transit) এই আঘাত এনেছে?
এবার আসি মূল প্রশ্নে—মেয়েটি কেন এই চরম আঘাতের শিকার হলো? তার ছকে তখন কী চলছিল? জ্যোতিষ বলে, যখন কোনো বড় ধাক্কা আসে, তখন গোচর বা ট্রানজিট সেখানে কিন্তু অনুঘটকের কাজ করে:
🔻নাড়ী জ্যোতিষের পতি-কারক মঙ্গলের ট্র্যাপ (Mars-Rahu/Ketu Connection): নাড়ী জ্যোতিষ অনুসারে মেয়েদের ছকে মঙ্গল হলো ‘হাজব্যান্ড কারক’ বা স্বামীর প্রতীক। এই মঙ্গলের সাথে যখন কোনোভাবে জন্মছকের পঞ্চম (প্রেম) বা সপ্তম (বিয়ে) ভাবের কানেকশন থাকে, এবং গোচরে বা জন্মছকে তার ওপর রাহু বা কেতুর কুদৃষ্টি বা ছোঁয়া লাগে—তখনই সেই সম্পর্ক তাসের ঘরের মতো ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে! রাহু বা কেতু এসে ওই ‘পতি-কারক’ মঙ্গলকে গ্রাস করে সম্পর্কটার অপমৃত্যু ঘটায়, যা ঠিক এই মেয়েটির ক্ষেত্রে ঘটেছে।
🔻রাহু-কেতুর অক্ষ (Rahu-Ketu Axis on 1st/7th or 5th/11th Houses): গোচরে রাহু বা কেতু যখন মেয়েটির জন্মকালীন চন্দ্র, লগ্ন বা পঞ্চম ভাবের (প্রেমের ঘর) ওপর দিয়ে যায়, তখন জীবনে একটা চরম অন্ধ দশা তৈরি হয়। রাহু মানুষকে ভুল মানুষকে বিশ্বাস করায়, চোখে মোহরঞ্জনী ঠুলি পরিয়ে দেয়। আর ট্রানজিট শেষ হওয়ার মুখে বা কেতুর ছোঁয়ায় সেই ঠুলিটা যখন হঠাৎ খোলে, তখন সামনে শুধু এক টুকরো নিষ্ঠুর সত্য পড়ে থাকে।
🔻শনির সাড়ে সাতি বা কন্টক শনি (Saturn's Transit): শনি যখন জন্মছকের পঞ্চম (প্রেম) বা সপ্তম (বিয়ে) ভাবকে গোচরে দৃষ্টি দেয় বা স্পর্শ করে, তখন সে জীবনের সমস্ত ‘ভুল এবং কাঁচা’ সম্পর্কগুলোকে এক ঝটকায় ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। শনি হলো রূঢ় বাস্তব। সে এসে মেয়েটিকে থাপ্পড় মেরে বোঝায়—যাকে তুমি অমৃত ভাবছিলে, সে আসলে বিষ। শনি যখন আসে, তখন সমস্ত লুকিয়ে থাকা সত্য সামনে চলে আসে, তা সে যতই বেদনাদায়ক হোক না কেন।
🎯শেষ কথা
তাই, ওই মেয়েটিকে আমার একটাই অনুরোধ—তন্ত্র-মন্ত্রের রূপকথা সাজিয়ে ওই বিশ্বাসঘাতক ছেলেটাকে নিজের চোখে ‘নিষ্পাপ’ বানানোর এই আত্মঘাতী চেষ্টাটা এবার বন্ধ করুন। সে কোনো জাদুটোনার শিকার হয়নি, সে সজ্ঞানে, সুস্থ মস্তিষ্কে নিজের সুবিধামতো একটা ভবিষ্যৎ বেছে নিয়েছে, যেখানে আপনার কোনো জায়গা ছিল না।
জ্যোতিষের গোচর আপনাকে এটাই শেখাতে এসেছে যে, কারোর অন্ধমোহে নিজের জীবন নষ্ট করার নাম প্রেম নয়। রাহু যে মায়াটা তৈরি করেছিল, শনি এসে আজ সেটা ভেঙে দিয়েছে। এটাকে অভিশাপ না ভেবে একটা ‘অ্যাওয়েকেনিং’ বা জেগে ওঠা হিসেবে দেখুন। যে মানুষটা বিয়ের আগেই লুকিয়ে অন্য কোথাও বিয়ে করতে পারে, সে কোনো তান্ত্রিকের বশ নয়—সে আসলে নিজের স্বার্থের দাস। তার জন্য চোখের জল ফেলা মানে নিজের আত্মসম্মানকে আরও একবার সস্তায় বিক্রি করে দেওয়া।
মেরুদণ্ডটা সোজা করুন, বাস্তবটাকে মেনে নিন। কারণ গ্রহের চেয়ে বড় সত্য আর এই ব্রহ্মাণ্ডে কিছু নেই।
আপনার বা আপনার চেনা কারোর জীবনেও কি এমন অন্ধমোহ আর প্রতারণার খেলা চলছে? কুসংস্কারের ধোঁয়াশা কাটিয়ে নিজের গ্রহ-নক্ষত্রের আসল সত্য এবং সঠিক ভবিষ্যৎ জানতে আর সময় নষ্ট করবেন না।
2 days ago | [YT] | 8
View 1 reply
Mrittika's Heaven⬆️
Yeah blv it❤️
6 days ago | [YT] | 9
View 2 replies
Mrittika's Heaven⬆️
Bangladesh…..
দেশকে ভালোবাসি কিন্তু দেশের মানুষকে না!
6 days ago | [YT] | 3
View 3 replies
Mrittika's Heaven⬆️
You always cheated on me🤣🤣
1 week ago | [YT] | 4
View 0 replies
Mrittika's Heaven⬆️
🤪
1 week ago | [YT] | 2
View 2 replies
Mrittika's Heaven⬆️
আমি আর আমার লয়াল বান্ধবীরা মিলে আলোচনা করি অমুক এমন কেন !ঘরে বউ আছে ,বর আছে তারপরও ,
কিছুদিন আগে আমারই সাথে ফ্লার্ট করতে চাওয়া তাদের এলাকার এক বিগ ব্রাদারকে আমার বান্ধবি প্রশ্ন করলো ভাইয়া ঘরে তো বউ আছে ছেলে আছে তাও লিফ্ট দিতে চান কেন!সময় আছে ভালো হয়ে যান!
এখন বিগ ব্রাদার বললো কি হবে ভালো হয়ে !!!!!
আমারও আজ কাল মনে হয় সত্যই তো ,আসলে ভালো হয়ে কি হয়! যারা ভালো হয় তাদের কপালে শুধু কষ্টই থাকে !
1 week ago | [YT] | 4
View 2 replies
Mrittika's Heaven⬆️
❤️
1 week ago | [YT] | 8
View 2 replies
Mrittika's Heaven⬆️
Dont know why miss u guys badly 😞
1 week ago | [YT] | 7
View 1 reply
Mrittika's Heaven⬆️
😂😂
1 week ago | [YT] | 3
View 2 replies
Mrittika's Heaven⬆️
যে হাতটা আপনাকে একটু আগে নরক যন্ত্রণা দিল, সেই হাতটাই যখন এসে আপনার চোখের জল মুছিয়ে দেয়—ওটা ভালোবাসা নয়, ওটা একটা মানসিক স্লো-পয়জন!
ডার্ক সাইকোলজির সবচেয়ে ভয়ংকর এবং আসক্তি তৈরি করা খেলাটার নাম হলো 'Trauma Bonding' বা 'অত্যাচারের চক্র'।
আপনার জীবনের সেই অদ্ভুত এবং বুক কাঁপানো মুহূর্তটার কথা একটু মনে করে দেখুন তো—আপনার পার্টনার বা খুব কাছের মানুষটা আপনাকে চরমভাবে অপমান করল, আপনার চরিত্র নিয়ে নোংরা কথা বলল, কিংবা আপনাকে মানসিকভাবে এতটা নির্যাতন করল যে আপনি ঘরের কোণায় বসে ডুকরে ডুকরে কাঁদছেন। আপনি ভাবছেন এই নরক থেকে আপনি আজই বের হয়ে যাবেন।
আর ঠিক তখনই, সে হুট করে তার রূপ বদলে ফেলল। সে খুব নরম পায়ে আপনার কাছে আসলো, আপনাকে শক্ত করে বুকে জড়িয়ে ধরল, নিজের হাত দিয়ে আপনার চোখের জল মুছে দিয়ে বলল— "আমি আসলে তোমাকে অনেক ভালোবাসি তো, তাই রাগ সামলাতে পারিনি। আই অ্যাম সরি।"
সে এক সেকেন্ডে আবার সেই পৃথিবীর সবচেয়ে কেয়ারিং মানুষটা হয়ে গেল। আর আপনার বোকা মগজ ওই ক্ষণিকের স্বস্তি আর আদরের মোহে পড়ে তার পেছনের সমস্ত নোংরা অত্যাচার এক নিমেষে ভুলে গেল!
মগজের রাসায়নিক আসক্তি: বিজ্ঞান বলে, যখন কেউ আপনাকে তীব্র ভয়ের পর হুট করে একটা মস্ত বড় সুরক্ষার অনুভূতি দেয়, তখন আপনার মগজে ডোপামিন আর অক্সিটোসিনের এমন এক জোয়ার বয়ে যায়, যা ড্রাগের চেয়েও মারাত্মক আসক্তি তৈরি করে। আপনি তখন ওই ত্যাগের পর পাওয়া একটুখানি আদরের জন্য ছটফট করতে থাকেন।
খাঁচায় বন্দি করার মেকানিজম: সে যদি সারাক্ষণ আপনার সাথে খারাপ ব্যবহার করত, আপনি এক সপ্তাহের মধ্যে তাকে ছেড়ে চলে যেতেন। ম্যানিপুলেটররা খুব ভালো করে জানে যে, আপনাকে আজীবন গোলাম বানিয়ে রাখতে হলে মাঝেমধ্যে একটুখানি ‘কৃত্রিম ভালোবাসার টুকরো’ ছুড়ে দিতে হবে।
ফলাফল: আপনি আজ একটা খাঁচায় বন্দি পাখি। আপনি তাকে ভালোবেসে তার পাশে নেই, আপনি আসলে তার দেওয়া ওই অত্যাচার আর ক্ষণিকের আদরের এক কুৎসিত চক্রের গোলকধাঁধায় নিজের পুরো অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলেছেন।
আপনার জীবনেও কি এমন কোনো মানুষ এসেছে যে প্রতিবার আপনাকে কাঁদিয়ে পরক্ষণেই আবার পরম মায়ায় বুকে টেনে নেয়? কমেন্ট বক্সে এসে নিজের সেই গোপন ট্রমা আর তিতা অভিজ্ঞতাটা শেয়ার করুন। দেখি এই কুৎসিত ট্রমা বন্ডের শেকলে বন্দি হয়ে আজ কত হাজার মানুষ আমাদের পেজে নিজের আত্মসম্মান পুড়িয়ে ছাই করছেন!
#DarkPsychology #TraumaBonding #CycleOfAbuse #Manipulation #usa
1 week ago | [YT] | 5
View 2 replies
Load more