Posha Prani Plus

Welcome to the "Posha Prani Plus" channel! Do you want to learn more about your pet or the animal kingdom? If you love animals, at Posha Prani Plus you'll find useful tips, pictures, and videos by our expert team and other members of the community. You'll also be able to post your own questions, tips, pictures of your pets, and many other things so that other users can learn from you. Together, we'll build a better world for all animals. Share, recommend, and above all keep learning!
Beauty tips, training advice, encyclopedic information, veterinary health, pictures, videos... Posha Prani Plus will surprise you with a wide range of accurate information. Our content is checked and validated by experts in the animal world; however, we aren't perfect. If you notice any mistakes, we'll be grateful for your help. Work with us to build the best community for pet owners and animal lovers in the world!

For Any Copyright issues, please get in touch with me: owalid999@gmail.com


Posha Prani Plus

কল্পনা করুন, নির্দোষ একটা বিড়াল বা কুকুর... যার পৃথিবীটা সীমাবদ্ধ খেলা, ভালোবাসা আর খাবারের মধ্যে। হঠাৎ করে তাকে ঠেলে দেওয়া হলো রাজনৈতিক শোরগোল, স্লোগান আর জনসমুদ্রের ভিড়ে। কেমন লাগবে প্রাণীর জন্য?

ভয়, আতঙ্ক আর অস্বস্তি। অথচ আমাদের সমাজে আজও রাজনীতির কাজে প্রাণীদের ব্যবহার করা হয়, যেটা শুধু অনৈতিকই নয়, আইনগতভাবেও প্রশ্নবিদ্ধ। ২০১৮ সালে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী প্রচারণায় লাইভ প্রাণী ব্যবহার নিষিদ্ধ করে। কারণ, রাস্তায় মিছিল, মাইকিং আর জনসমাবেশে প্রাণীরা ভয় পায়, মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয় এমনকি অনেক সময় আঘাতেরও শিকার হয়। প্রাণী অধিকারকর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল যে রাজনৈতিক প্রচারণা মানুষের কাজ, প্রাণীর নয়। কমিশনের সেই সিদ্ধান্ত মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত প্রশংসনীয় ছিল।

বাংলাদেশের মতো ভারতেও একই ধরণের পদক্ষেপ দেখা গেছে। ২০১৯ সালের নির্বাচনে ভারতের নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করে, জীবন্ত প্রাণী রোডশো বা প্রচারণায় ব্যবহার করা যাবে না এমনকি কোনো দলের প্রতীক যদি প্রাণীও হয়, তবুও লাইভ প্রাণীকে টেনে আনা যাবে না। এই সিদ্ধান্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে প্রতীকী ব্যবহার আর বাস্তবে প্রাণীকে ভিড়ে টেনে আনার মধ্যে বিশাল পার্থক্য আছে। প্রাণীর প্রতীক গ্রহণযোগ্য কিন্তু তাদেরকে জনসমাবেশে দাঁড় করানো অমানবিক।

ভারতের কিছু রাজ্য-স্তরে বড় দল যেমন BSP (Bahujan Samaj Party) হাতিকে প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করেছে। এতে প্রতীকী দিকটা শক্তিশালী হলেও হাতিকে বাস্তবে ব্যবহার করার ঘটনাও বিতর্ক তৈরি করেছে। অনেকে বলেছে, এভাবে প্রাণীদের রাজনৈতিক উপকরণ বানানো পরিবেশ ও প্রাণীকল্যাণ দুই দিক থেকেই নেতিবাচক।

রাজনীতি মানুষের বিশ্বাসের খেলা, সেখানে প্রাণীর উপস্থিতি কেবল “শো-অফ” ছাড়া আর কিছু নয়। গবেষণা দেখায়, উচ্চ শব্দ, অচেনা পরিবেশ ও ভিড়ে প্রাণীরা প্রচণ্ড মানসিক চাপে পড়ে। ভেটেরিনারি বিশেষজ্ঞরা বলেন, শব্দ দূষণ ও আতশবাজির মতো পরিস্থিতি প্রাণীদের উদ্বেগ, আতঙ্ক এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকির দিকে ঠেলে দেয়।

American Veterinary Medical Association (AVMA)-এর রিপোর্টও দেখায়, এধরণের পরিস্থিতি প্রাণীদের আচরণে অস্বাভাবিকতা তৈরি করে যা তাদের প্রাকৃতিক জীবনের জন্য ক্ষতিকর। সুতরাং, রাজনৈতিক সমাবেশ প্রাণীদের জন্য সরাসরি হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। পাশাপাশি আরেকটি স্বভাব হলো... রাজনীতিবিদদের পোষ্য ব্যবহার করা। উদাহরণ হিসেবে ইংল্যান্ডের 10 Downing Street-এর “Larry the Cat” বিখ্যাত হয়ে উঠেছে।

অনেকেই বলেন, পোষ্য ব্যবহার করে রাজনীতিবিদরা নিজেদের ইমেজকে নরম দেখাতে চান কিন্তু সমালোচকরা এটিকে বলেন “puppaganda” অর্থাৎ পোষ্যকে প্রচারণার উপকরণে পরিণত করা। এতে মূল রাজনৈতিক বিষয় আড়ালে পড়ে যায় আর দর্শকের মনোযোগ সরানো হয় আবেগে। এটা নিঃসন্দেহে কৌশলী হলেও নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। বাংলাদেশের প্রাণী কল্যাণ আইন ২০১৯ অনুযায়ী, প্রাণীদের প্রতি অমানবিক ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। রাজনৈতিক কাজে প্রাণীকে ব্যবহার করা সরাসরি না হলেও এই আইনের আওতায় পড়ে কারণ এটি তাদের প্রাকৃতিক জীবন ব্যাহত করে এবং অযথা কষ্ট দেয়।

তাহলে সমাধান কী? সহজ। রাজনৈতিক প্রচারণায় প্রাণীর পরিবর্তে ডিজিটাল গ্রাফিক্স, ভিডিও বা আর্টওয়ার্ক ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা এড়ানো যাবে আবার মানুষের কাছে বার্তাও পৌঁছে যাবে আরও সৃজনশীলভাবে। প্রাণীরা মানুষের রাজনীতির খেলোয়াড় নয়। তারা ভালোবাসার, সুরক্ষার, আরেকটা শান্ত পৃথিবীর প্রাপ্য। প্রাণীদের রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করা একদিকে তাদের প্রতি অমানবিক আচরণ, অন্যদিকে সমাজে ভুল বার্তা দেয়। আইন, ধর্ম, নৈতিকতা... সবকিছুই আমাদের শেখায় প্রাণীর প্রতি দয়া করতে। আর তাই বলা জরুরি, "প্রাণীদের রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করবেন না।"

🐾 রেফারেন্সসমূহ 🐾
* বাংলাদেশে নির্বাচনী প্রচারণায় লাইভ প্রাণী ব্যবহার নিষিদ্ধ--- bdnews24.com/bangladesh/bangladesh-bans-use-of-liv…
* ভারত: ২০১৯-নির্বাচন-প্রচারে জীবিত প্রাণী প্রদর্শন এবং রোডশোতে প্রাণীর ব্যবহার বন্ধ করতে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ---
scroll.in/latest/918564/2019-elections-peta-urges-…
www.ndtv.com/india-news/poll-panel-bans-use-of-liv…
timesofindia.indiatimes.com/india/activists-praise…
* প্রাণীরা উচ্চ শব্দে ভয় ও মানসিক অস্থিরতায় পতিত হয়--- pmc.ncbi.nlm.nih.gov/articles/PMC8606548/
www.vetmed.ucdavis.edu/news/common-household-noise…
www.avma.org/javma-news/2017-07-01/dogs-overdrive
* ভারত: ২০১২-তে নির্বাচনী প্রচারণায় প্রাণী ব্যবহার এড়ানোর জন্য নির্বাচন কমিশনের আদেশ---
www.hindustantimes.com/delhi/ban-animal-use-in-pol…

22 hours ago | [YT] | 232

Posha Prani Plus

ফুটপাতের এই দৃশ্যে শহরের নির্দয় বাস্তবতা ধরা পড়ে। চারপাশে মানুষের খাবারের দোকান, ব্যস্ত চলাচল, হাসি আর কথার ভিড়। অথচ ঠিক সেখানেই সারাদিন ঘুরে বেড়িয়েও একটি প্রাণ খালি পেটে থাকে। আবর্জনার স্তূপে মুখ নামিয়ে খাবার খোঁজা কোনো স্বভাব নয়, এটা বাধ্যবাধকতা। ক্ষুধা মানুষকে যেমন ভেঙে দেয় ঠিক তেমনি পশুকেও নিঃশব্দে দুর্বল করে ফেলে।

আমরা অনেক সময় ভাবি, “আমি একা কী-ই বা করতে পারি?” কিন্তু বাস্তবতা হলো, ছোট কাজই এখানে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আনে। আমাদের করণীয় খুব কঠিন কিছু নয়। রেস্টুরেন্ট বা বাসার বেঁচে যাওয়া ভাত, তরকারি বা শুকনো খাবার আলাদা করে রাখা যেতে পারে। প্লাস্টিকের ছোট বাটি বা পুরনো পাত্রে পানি রেখে দিলে কোনো প্রাণের তৃষ্ণা মিটতে পারে। দোকানের সামনে বা বাসার আশেপাশে নিয়মিত একটু খাবার রাখার অভ্যাস গড়ে উঠলেই অনেক প্রাণ সারাদিনের কষ্ট থেকে মুক্তি পায়।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো চিকিৎসা ও সচেতনতা। অসুস্থ, আহত বা দুর্বল কোনো কুকুর দেখলে অবহেলা না করে স্থানীয় ভেট, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বা পরিচিত কোনো পশুপ্রেমীকে জানানো। ভয় না পেয়ে পাশে দাঁড়ানোই এখানে সবচেয়ে বড় মানবিকতা। আমরা যদি ওদের মারধর বা তাড়িয়ে দেওয়ার বদলে একটু সহানুভূতি দেখাই তাহলে শহরটা সবার জন্য নিরাপদ হয়ে উঠতে পারে।

শিশুদেরও শেখানো দরকার, রাস্তার প্রাণীরা বোঝা নয়, তারা আমাদেরই পরিবেশের অংশ। আজ যারা শেখে দয়া করতে, তারাই আগামী দিনে দায়িত্বশীল মানুষ হয়। একটা বিস্কুট, একমুঠো ভাত বা মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়া... এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই ওদের জীবনে বড় আশার আলো হয়ে ওঠে।

এই ছবি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সমস্যা শুধু ক্ষুধার নয়, আমাদের উদাসীনতারও। আমরা চাইলে এই বাস্তবতা বদলাতে পারি। আজ একজন কুকুরকে খাবার দিলে, কাল হয়তো তার চোখে আর ক্লান্তি নয়, থাকবে বেঁচে থাকার একটু ভরসা।

2 days ago | [YT] | 344

Posha Prani Plus

শহরের রাস্তায়, গলির মোড়ে বা কোনো ডাস্টবিনের পাশে যে দৃশ্যগুলো আমরা প্রতিদিন দেখেও দেখছি না, সেগুলোই আমাদের সমাজের সবচেয়ে নীরব সত্যগুলো তুলে ধরে।

আজকের বাস্তবতায় অসংখ্য প্রাণী বেঁচে আছে মানুষের ফেলে দেওয়া বর্জ্যের ওপর নির্ভর করে। খাবারের খোঁজে তারা ঢুকে পড়ে আবর্জনার স্তূপে, যেখানে প্লাস্টিক, কাঁচ, বিষাক্ত বর্জ্য সবকিছু একসাথে মিশে থাকে। এই পরিস্থিতি শুধু অমানবিক নয়, এটি ভয়ংকরও। কারণ এই বর্জ্যই অনেক সময় তাদের জন্য হয়ে ওঠে রোগ, আঘাত কিংবা ধীর মৃত্যুর কারণ।

প্লাস্টিক এখানে সবচেয়ে বড় বিপদ। আমাদের কাছে যা অল্প সময়ের ব্যবহারযোগ্য একটি বস্তু, সেটাই রাস্তার প্রাণীদের জন্য মারাত্মক ফাঁদ। খাবারের গন্ধে প্লাস্টিকের ভেতরে মুখ ঢুকিয়ে অনেক প্রাণী শ্বাসরোধে মারা যায় বা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। এসব ঘটনা নীরবে ঘটে যায়, কোনো হিসাব থাকে না, কোনো জবাবদিহিও নেই।

এই বাস্তবতা আমাদের শহর ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকেও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ ও সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকায় আবর্জনা জমে থাকে খোলা জায়গায়। ফলস্বরূপ রাস্তার কুকুর, বিড়াল ও পাখিরা বাধ্য হয় সেখানেই খাবার খুঁজতে। আমরা উন্নয়ন আর আধুনিকতার কথা বলি কিন্তু সেই উন্নয়ন যদি নিরাপদ ও মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত না করে, তাহলে তার মূল্য কতটা?

এখানে প্রশ্ন শুধু ব্যবস্থার নয়, প্রশ্ন মানসিকতারও। “ওরা তো রাস্তার প্রাণী”... এই একটিমাত্র চিন্তাই আমাদের দায়িত্বহীন করে তোলে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই প্রাণীরাও আমাদেরই সমাজ ও পরিবেশের অংশ। তাদের জীবন সরাসরি নির্ভর করে আমাদের আচরণ, আমাদের ব্যবহার আর আমাদের অবহেলার ওপর।

ভালো খবর হলো, পরিবর্তনের শুরু খুব ছোট হতে পারে। প্লাস্টিক ব্যবহার কমানো, আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা, খাবার ফেললেও প্লাস্টিক আলাদা করা কিংবা আশপাশের প্রাণীদের জন্য নিরাপদভাবে খাবার রাখার মতো সাধারণ কাজগুলোই অনেক প্রাণের জীবন বাঁচাতে পারে। এগুলো কোনো বড় ত্যাগ নয়, শুধু একটু সচেতনতা আর মানবিকতা দরকার।

শেষ পর্যন্ত এই বাস্তবতা আমাদের সামনে একটি স্পষ্ট প্রশ্ন রেখে যায়... আমরা কি শুধু নিজের সুবিধার কথা ভাবব নাকি আমাদের চারপাশের নীরব প্রাণগুলোর প্রতিও দায় নেব? এই প্রশ্নের উত্তর বড় বক্তৃতায় নয়, প্রতিদিনের ছোট ছোট আচরণেই লেখা হয়ে যায়।

4 days ago | [YT] | 219

Posha Prani Plus

ভাবুন তো, নিঃশব্দে চলাফেরা করার এমন এক প্রযুক্তি যদি মানুষের থাকত। কিন্তু প্রকৃতি সেই নিখুঁত ডিজাইনটা দিয়েছে বিড়ালকে।

বিড়ালের পা নরম হওয়ার পেছনে শুধু আদরযোগ্যতা নয়, আছে দারুণ বৈজ্ঞানিক ও প্রাকৃতিক কৌশল। তাদের পায়ের নিচে থাকা নরম প্যাডগুলো এক ধরনের প্রাকৃতিক সাইলেন্সার হিসেবে কাজ করে। এই প্যাডের কারণে বিড়াল হাঁটা বা দৌড়ানোর সময় প্রায় কোনো শব্দই হয় না, যা শিকার ধরার ক্ষেত্রে ভীষণ জরুরি। শিকার টের পাওয়ার আগেই তারা কাছে পৌঁছে যেতে পারে।

এই নরম প্যাডগুলো শক অ্যাবজর্বার হিসেবেও কাজ করে। বিড়াল যখন উঁচু জায়গা থেকে লাফ দেয় তখন মাটিতে নামার সময় চাপটা সরাসরি হাড়ে না পড়ে আগে প্যাডে পড়ে। ফলে পা মচকে যাওয়া বা আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি অনেক কমে যায়। এজন্যই বিড়ালকে এতটা সাবলীলভাবে ছাদ, আলমারি বা পাঁচিল থেকে লাফাতে দেখা যায়।

আরও মজার বিষয় হলো, এই প্যাডগুলো তাপমাত্রার প্রতিও সংবেদনশীল। গরম বা ঠান্ডা মাটির স্পর্শ তারা আগে পায় পায়ের প্যাড দিয়ে, যা পরিবেশ বুঝে চলাফেরা করতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে এটি তাদের পায়ের ত্বককে কাঁটা, পাথর বা রুক্ষ জায়গা থেকে সুরক্ষা দেয়।

সব মিলিয়ে, বিড়ালের নরম পা শুধু মিষ্টি কোনো বৈশিষ্ট্য নয়। এটি তাদের শিকারি স্বভাব, নিঃশব্দ চলাফেরা, দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং নিরাপদ ল্যান্ডিংয়ের এক অনন্য প্রাকৃতিক উদাহরণ। আল্লাহ যেন নিখুঁতভাবে ভেবেই তাদের পায়ের নিচে এই নরম শক্তিটা লুকিয়ে রেখেছে।

1 week ago | [YT] | 301

Posha Prani Plus

প্রায় পাঁচ বছর আগের সেই ছোট্ট ঘটনাই আজ রওশন আরার জীবনের পরিচয় হয়ে উঠেছে। রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার রঘুরামপুর গ্রামে একদিন অসুস্থ, গর্ভবতী একটি কুকুর আশ্রয় খুঁজে ঢুকে পড়ে তার বাড়িতে। অনেকেই হয়তো তাড়িয়ে দিতেন। কিন্তু রওশন আরা পারেননি। খাবার দেন, মাথায় হাত বুলিয়ে দেন, অসুস্থ শরীরটাকে একটু নিরাপত্তা দেন। সেই কুকুরটির নাম হয় দুলি। আর দুলির সাথেই শুরু হয় এক নিঃশব্দ বিপ্লব, যার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল নিঃস্বার্থ মায়া।

দুলি আর তার পিছু ছাড়েনি। ধীরে ধীরে রওশন আরার বাড়ি হয়ে ওঠে প্রাণীদের নিরাপদ আশ্রয়। আজ তার পরিবারে আছে বাঘা, মায়া, পুটুস, টুকি, বল্টুসসহ মোট ৯টি বিড়াল আর ৭টি কুকুর। শুধু নিজের বাড়িতেই নয়, গ্রামের অন্তত পাঁচটি জায়গায় নিয়মিত পথকুকুর ও বিড়ালদের খাবারের ব্যবস্থা করেন তিনি। বৃষ্টি, শীত বা তীব্র গরম... কোনোটাই তাকে থামাতে পারে না।

৪৭ বছর বয়সী রওশন আরা পেশায় একজন হেলথ প্রোভাইডার। মানুষের চিকিৎসার পাশাপাশি প্রাণীদের দেখভাল করাটাও তার কাছে দায়িত্বের অংশ। নিজের টাকায় টিকা, ওষুধ, প্রাথমিক চিকিৎসা করান। তার বাড়িতেই রয়েছে অসুস্থ প্রাণীদের সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা। গ্রামে কোনো গবাদিপশু অসুস্থ হলে ডাক না দিয়েও হাজির হন তিনি। হাঁস-মুরগি, পাখি... কারও দিকেই তার চোখ এড়িয়ে যায় না।

গ্রামের কোনো অনুষ্ঠান বা উৎসব শেষে উচ্ছিষ্ট খাবার সংগ্রহ করে পথের প্রাণীদের খাওয়ান রওশন আরা। এজন্য কম কথা শুনতে হয়নি তাকে। বালতি হাতে দাঁড়িয়ে থাকা এই মানুষটিকে অনেকেই তুচ্ছ করেছেন, কটু কথা বলেছেন। কিন্তু তিনি থামেননি। মানুষের কথার চেয়ে ক্ষুধার্ত প্রাণীর চোখে তাকানো তার কাছে বেশি জরুরি।

একসময় তার কুকুর বল্টুকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় বড় সংকট। বল্টুর ভয়ে এক রিকশাচালক পড়ে যান গর্তে। প্রমাণ ছাড়াই দায় চাপানো হয় কুকুরটির ওপর। গ্রামের লোকজনের বাধায় প্রায় দেড় মাস তিনি পথের প্রাণীদের খাবার দিতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে যান। সোজাসাপ্টা বলেন, “আমার কুকুর যদি গ্রামের একজন মানুষকেও কামড় দেয়, আমি নিজেই আর কুকুরকে খাবার দেব না।” কেউ তা প্রমাণ করতে পারেনি। আবার শুরু হয় তার নিঃশব্দ সেবা।

রওশন আরার জীবনে শুধু প্রাপ্তি নয়, হারানোর গল্পও কম নয়। গত শীতে তার বাড়িতে ১৮টি বিড়াল ছিল। ক্যাট ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় তাদের মধ্যে ৯টি। একেকটা মৃত্যু তাকে ভেতর থেকে ভেঙে দিয়েছে, তবু থামায়নি।

একদিন ঝড়ের রাতে কুড়িয়ে পেয়েছিলেন আহত একটি ঈগল। যত্নে, ধৈর্যে তাকে সুস্থ করে তোলেন। সাত মাস সেই ঈগল তার সাথেই ছিল। ‘সান’ নামে ডাকলে ছুটে আসত কাছে। কিন্তু একদিন অসুস্থ হয়ে সেও চলে যায়। সেই শূন্যতা আজও বয়ে বেড়ান রওশন আরা।

রাস্তায় কোনো মৃত প্রাণী দেখলে অবহেলা করেন না। পরম মমতায় নিজ হাতে দাফন করেন। তার কাছে প্রতিটি প্রাণেরই সম্মান আছে, মরেও তারা একা নয়।

আজকের সময়ে, যখন চারপাশে স্বার্থ, হিংসা আর নিষ্ঠুরতার গল্পই বেশি শোনা যায় তখন রওশন আরা প্রমাণ করেন মানুষ চাইলে কতটা মানবিক হতে পারে। কোনো প্রচার নেই, কোনো লাভ নেই, শুধু নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। নিজের সন্তানের মতো করে গ্রামের প্রাণীদের আগলে রেখেছেন তিনি।

রওশন আরার মতো মানুষরা আমাদের মনে করিয়ে দেন... মানবিকতা এখনো বেঁচে আছে। সবাই যদি সামান্য মায়া, সামান্য দায়িত্ব ভাগ করে নিত প্রাণীদের জন্য তাহলে পৃথিবীটা সত্যিই একটু বেশি সুন্দর হতো।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো

1 week ago | [YT] | 208

Posha Prani Plus

ধরে নিন, আপনি এক শান্ত বনভূমিতে হাঁটছেন। চারপাশে কোনো শব্দ নেই, শুধু পাতার খসখস আর দূরে পাখির কলরব। হঠাৎ আপনি একটি কুকুর দেখলেন। তার চোখে কোনো ভয় নেই, শুধু মনোযোগ। আপনার চোখের দৃষ্টিই তাকে বোঝায়, আপনি শান্ত নাকি সতর্ক। আর যদি একটি বিড়ালও থাকে? সে শুধু আপনার দিকে তাকায় না, আপনার উপস্থিতি অনুভব করে। সে বুঝতে পারে আপনি নিরাপদ নাকি বিপজ্জনক। কোনো শব্দের দরকার নেই, কোনো ব্যাখ্যার দরকার নেই। এক নজর, এক স্পর্শ যথেষ্ট।

প্রকৃতির প্রাণীরা সম্পর্ক বানায় করে গভীর, সরল, নিখুঁত। তারা শব্দের ভিড়ে হারায় না, অপ্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা মনে রাখে না। আমাদের মানব জীবনে কি তাই সম্ভব? আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের অনুভূতি, চিন্তা, পরিকল্পনা সবকিছু শব্দের মধ্যে প্রকাশ করতে চাই। কিন্তু শব্দের এই জটিলতা অনেক সময় বিভ্রান্তি তৈরি করে। বোঝাতে গিয়ে সম্পর্ক দূরে চলে যায় এবং সত্যিকারের বোঝাপড়া লুকিয়ে থাকে শব্দের আড়ালে।

প্রকৃতি আমাদের শেখায়... বোঝাপড়ার জন্য শব্দ নয়, মনোযোগই যথেষ্ট। আমরা যদি কম বলি তবে হয়তো একে অপরকে আরও গভীরভাবে বুঝতে পারব।

এই মানবীয় এবং প্রকৃতিগত পার্থক্যকে সামনে রেখে আমার পরিচিত একজন সম্প্রতি চালু করেছেন “Maximum BD” নামের ডকুমেন্টারি চ্যানেল। তাদের লেটেস্ট ভিডিও “ভারতের ‘বন্ধু’ হয়ে সিকিমের ম*র*ণ: ৯ এপ্রিল ১৯৭৫।” এটি শুধু ইতিহাসের একটি ঘটনা নয়। এটি দেখায় কীভাবে অতীতের একটি ছোট ভুল দেশের জন্য বড় বিপদের সূচনা করতে পারে। ভিডিওটি আমাদের শেখায় সতর্ক থাকা, বিশ্লেষণ করা এবং ঘটনার গভীর অর্থ বোঝার গুরুত্ব।

Maximum BD চ্যানেলে কেবল তথ্য নয়, অনুভূতি, গল্প এবং বাস্তবতার মিল রয়েছে। দেখা যায় মানুষের অতিরিক্ত কথার ভিড়ে অনেক কিছু হারিয়ে যায় আর নীরবতা এবং সচেতন দৃষ্টিভঙ্গি কত বড় শক্তি হয়ে দাঁড়ায়।

যদি আপনি সত্যিই জানতে চান অতীতের ঘটনাগুলি আমাদের কী শিক্ষা দেয় এবং কীভাবে নীরব বোঝাপড়া সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে, Maximum BD চ্যানেলটি একবার দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন, পাশে থাকুন। আপনার ছোট্ট সাপোর্ট ভাইয়ার জন্য বড় অনুপ্রেরণা।

চ্যানেল লিঙ্ক পিন কমেন্টে রয়েছে!

1 week ago | [YT] | 357

Posha Prani Plus

ভোরের শহরে এখন আর একটা শব্দ পাওয়া যায় না, কাকের ডাক। একসময় ঢাকার সকাল মানেই ছিল কাকের কোলাহল, ছাদের কার্নিশে বসে থাকা কালো ছায়াগুলো আর মানুষের বিরক্তি মেশানো অভ্যস্ততা। পাখি দেখা না গেলেও কাক দেখা যেতই। এমনকি মজা করে বলা হতো, এই শহরে কাকের চেয়েও কবির সংখ্যা বেশি। কাক ছিল শহরের নীরব নাগরিক, কারও নজরে না পড়া এক অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী। আজ সেই পরিচিত দৃশ্য আর শব্দ দুটোই প্রায় উধাও। প্রশ্নটা তাই আরও জোরালোভাবে সামনে আসে, কাকেরা গেল কোথায়? নাকি আমরা নিজেরাই তাদের শহরছাড়া করেছি?

কাক প্রকৃতির এক অনন্য পরিষ্কারক। মানুষের ফেলে দেওয়া খাবার আর জৈব বর্জ্য খেয়েই তারা টিকে থাকে। কিন্তু এখন সেই আবর্জনাই আর আগের মতো নেই। খাবারে ফরমালিন, কীটনাশক, রং, কৃত্রিম সংরক্ষক সব মিলিয়ে ময়লার ভাগাড় আজ বিষাক্ত রাসায়নিকের স্তূপ। প্লাস্টিক, পলিথিন, ইলেকট্রনিক বর্জ্য, মেডিকেল ওয়েস্ট সব একসাথেই গিয়ে পড়ে একই জায়গায়। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব বিষাক্ত উপাদান পাখির পরিপাকতন্ত্র, স্নায়ুতন্ত্র এবং প্রজনন ক্ষমতার উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। কাকের মতো স্ক্যাভেঞ্জার পাখির জন্য এই পরিবেশে টিকে থাকা দিন দিন অসম্ভব হয়ে উঠছে।

খাবারের সংকটের পাশাপাশি আছে বাসস্থানের সংকট। কাক গাছে বাসা বানায়, বিশেষ করে বড়, পুরোনো গাছ তাদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ। অথচ শহরের উন্নয়নের নামে একের পর এক গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। অপরিকল্পিত নগরায়ন কংক্রিটের জঙ্গল তৈরি করেছে, যেখানে মানুষের থাকার জায়গা আছে কিন্তু অন্য প্রাণের জন্য নেই। ছাদবাগান বা কৃত্রিম সবুজ কিছুটা চোখ ভোলালেও, তা কাকের বাসা বাঁধার জন্য যথেষ্ট নয়।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি প্রায় অদৃশ্য বিপদ, মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ার ও ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, দীর্ঘমেয়াদি রেডিয়েশন পাখির দিকনির্ণয় ক্ষমতা, ডিমের ভ্রূণ এবং ছানার বেঁচে থাকার হার কমিয়ে দেয়। শহরে টাওয়ার বাড়ার সাথে সাথে কাকসহ অনেক পাখির প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে।

তার উপর আছে তাপমাত্রা ও ভয়াবহ বায়ুদূষণ। ঢাকার মতো শহরে যেখানে মানুষই মাস্ক ছাড়া শ্বাস নিতে হিমশিম খায় সেখানে কাকের মতো পাখির ফুসফুস আর শরীর কতটা চাপের মধ্যে থাকে তা সহজেই অনুমান করা যায়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঋতুচক্রের পরিবর্তনও কাকের জীবনচক্রকে এলোমেলো করে দিয়েছে।

ফলাফল স্পষ্ট। শহরের একসময়কার ‘প্রাকৃতিক ঝাড়ুদার’ নিঃশব্দে চাকরি ছেড়ে দিয়েছে। কোনো বিদায় অনুষ্ঠান হয়নি, কেউ খেয়ালও করেনি। কিন্তু তাদের অনুপস্থিতির প্রভাব ইতিমধ্যেই চোখে পড়তে শুরু করেছে। আবর্জনা দ্রুত পচে যাচ্ছে, ভাগাড়ে মাছি ও মশার বংশবিস্তার বেড়েছে, জীবাণুবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। প্রকৃতির ভারসাম্য যে কত সূক্ষ্ম, কাকের অনুপস্থিতিই তার একটি বড় প্রমাণ।

হয়তো আজ আমরা বিষয়টি আলাদা করে টের পাচ্ছি না। হয়তো গবেষণার পরিসংখ্যানে একদিন সবকিছু প্রমাণিত হবে। কিন্তু প্রশ্নটা তখনও থেকেই যাবে, ততদিনে কি শহরে ফিরিয়ে আনার মতো কোনো কাক আদৌ বেঁচে থাকবে? নাকি কাকের ডাক শুধু স্মৃতি আর লেখার পাতাতেই সীমাবদ্ধ হয়ে যাবে?

1 week ago | [YT] | 164

Posha Prani Plus

একটু থেমে ভাবুন। নদী ছাড়া মাছ বাঁচে না, গাছ ছাড়া পাখির বাসা হয় না... এটা আমরা সবাই জানি। তবু বাস্তবে আমরা ঠিকই নদী ভরাট করি, বন কেটে ফেলি আর তারপর খুব গম্ভীর মুখে “জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ” নিয়ে কথা বলি। এখানেই এই কথাটার সবচেয়ে বড় হুক। প্রকৃতি ধ্বংস করে প্রকৃতি বাঁচানোর কথা বলা আসলে নিজের বিবেককে সান্ত্বনা দেওয়ার একধরনের অভিনয়।

নদী শুধু পানির ধারা নয়, এটি একটি জীবন্ত সিস্টেম। নদী থাকলে মাছ থাকে, মাছ থাকলে জেলে বাঁচে, জেলে বাঁচলে একটি সমাজ টিকে থাকে। নদী মরে গেলে শুধু মাছই মরে না, মরে যায় জীবিকা, সংস্কৃতি আর মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির হাজার বছরের সম্পর্ক। কিন্তু আমরা নদীকে দেখি জমি বানানোর সুযোগ হিসেবে, বর্জ্য ফেলার জায়গা হিসেবে। তারপর প্রশ্ন করি, মাছ কেন কমে যাচ্ছে।

একই কথা বন আর পাখির ক্ষেত্রেও। বন কেটে গাছ লাগানোর কর্মসূচি দিয়ে নিজেকে খুব পরিবেশবান্ধব মনে করা হয়। কিন্তু বাস্তবে একটি বন মানে শুধু গাছের সারি নয়। বন মানে মাটি, পোকা, পাখি, পশু, ছায়া, পানি ধরে রাখার ক্ষমতা আর জলবায়ুর ভারসাম্য। একটি পাখি তার বাসা বানানোর জায়গা হারালে সে আর শুধু উড়ে চলে যায় না, সে হারায় তার নিরাপত্তা, তার ভবিষ্যৎ। আমরা সেটা খুব সহজে ভুলে যাই।

এই কারণেই জে ইনসলির কথাটা এত তীব্র। তিনি আসলে আমাদের ভণ্ডামিটাকেই প্রশ্ন করছেন। আপনি যদি বন ধ্বংস করেন, নদী নষ্ট করেন, প্রাণীদের আবাস কেড়ে নেন তাহলে “জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ আইন” কাগজে থাকলেও বাস্তবে তার কোনো মানে নেই। আইন তখন শুধুই ফাইলের ভেতর বন্দী কিছু শব্দ।

বাংলাদেশের বাস্তবতায় এই কথার গুরুত্ব আরও বেশি। এখানে নদী আছে কিন্তু নদীর জন্য জায়গা নেই। বন আছে কিন্তু বন রক্ষার সিদ্ধান্তে শক্তি কম। আমরা উন্নয়নের নামে প্রকৃতিকে সরিয়ে দিই তারপর বন্যা, তাপদাহ, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আবার প্রকৃতিকেই দোষ দিই। এটা আসলে নিজের করা ভুলের ফল নিজেই ভোগ করার গল্প।

শেষ কথা একটাই... প্রকৃতিকে বাঁচানো মানে আলাদা কোনো প্রকল্প নয়। এটা আমাদের জীবন বাঁচানোরই আরেক নাম। নদী ছাড়া মাছের জীবন যেমন অর্থহীন তেমনি প্রকৃতি ছাড়া মানুষের উন্নয়নও ফাঁকা। সত্যিকারের সংরক্ষণ শুরু হয় তখনই যখন ধ্বংস থামানো হয়। শুধু পোস্টার, আইন আর স্লোগান দিয়ে নয়... বাস্তব সিদ্ধান্ত আর সাহসী পরিবর্তন দিয়ে।

2 weeks ago | [YT] | 189

Posha Prani Plus

একটা বিশাল প্রাণী, যার পিঠে পাহাড়সম শক্তি, যেটি জঙ্গলে ভয়ংকর বাঘকেও ভয় পায় না। আজ সেই হাতি মানুষের হাতে অসহায় হয়ে পড়ে। গত ১৭ জানুয়ারি সিলেটের শিববাড়িতে ট্রেনের ধাক্কায় আহত হয় সে। মূলত বিভিন্ন বিয়ে, মেলা ও অনুষ্ঠানে ভাড়া দেওয়া হতো তাকে আর তার জীবন পুরোটা ছিল মানুষের বিনোদন ও লাভের জন্য। কিন্তু শেষ মুহূর্তে, যখন তার নিজের শরীর ব্যথায় কেঁপে উঠছিল, তখন মাহুতও পাশে ছিল না, মালিকও কোনো খোঁজ নেয়নি। ডোবায় পড়ে থাকা সেই মুহূর্তে শুধু প্রাণীর অজান্তে নির্যাতনের চিত্র দেখা গেল।

পরের দিন বনবিভাগ উদ্ধার অভিযান চালালেও, সারাদিনের প্রচেষ্টার পরও হাতিকে শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি। ১৯ জানুয়ারি দুপুর ১২.৪৫ মিনিটে মারা যায় সে। এই ঘটনাটা শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, এটি আমাদের সভ্যতার, মানবতার পরীক্ষাও বটে। আমরা নিজের স্বার্থে প্রাণীদের ব্যবহার করি, তাদের জীবনকে বিনোদন বা অর্থ উপার্জনের মাধ্যম বানাই। আর যখন সেই সুবিধা চলে যায় তখন দায়িত্ব, যত্ন বা সহমর্মিতা কোনোটিই দেখা যায় না।

বাস্তব জীবনের এই ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, মানুষ কতটা স্বার্থপর হতে পারে। হাতি, এই বিশাল প্রাণী, যে জঙ্গলে স্বাধীন, নিজের শক্তির কাছে অহংকারী, মানুষের হাতে সে অসহায় হয়ে পড়ে। মালিকপক্ষের লাভ আর মানুষের বিনোদনের জন্য তার জীবন কতটা তুচ্ছ হয়ে যায়, এই কষ্টই আমাদের সতর্ক করে। আমরা কি সত্যিই নিজেদের ‘সৃষ্টির সেরা’ বলতে পারি যখন আমাদের তুচ্ছ স্বার্থে অন্য প্রাণীর জীবন এত সহজে ফেলা হয়?

এই ঘটনাটা আমাদের শেখায় যে মানবতার মান নির্ভর করে কেবল আমাদের নিজের স্বার্থে নয় বরং আমাদের চারপাশের জীবদের প্রতি দয়া ও যত্ন দেখাতে পারার ক্ষমতায়। যদি চোখে চোখ রেখে আমরা এমন নির্যাতন উপেক্ষা করি তাহলে আর কোন প্রাণীর প্রতি আমাদের মায়া আশা করা যায়? প্রকৃত সভ্যতা মানে শুধু শক্তি বা বুদ্ধি নয়, মানে সহানুভূতি, দায়িত্ব ও সচেতনতা আর সেই শিক্ষা এই হাতির করুণ মৃত্যু আমাদের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।

3 weeks ago | [YT] | 241

Posha Prani Plus

এক মুহূর্ত কল্পনা করুন, আপনি ভিড়ের মাঝে দাঁড়িয়ে আছেন। সবাই আপনাকে ঘিরে তাকিয়ে আছে, কেউ ছবি তুলছে, কেউ ইশারা করছে, কেউ হাসছে। আপনি অস্বস্তিতে দাঁত কামড়াচ্ছেন, চোয়াল শক্ত করছেন। আর বাইরে থেকে কেউ যদি বলে “দেখো, লোকটা কত হাসিখুশি!” তাহলে কেমন লাগবে? ঠিক এই জায়গাটাতেই মানুষ আর প্রাইমেটদের অনুভূতির ভুল বোঝাবুঝি শুরু হয়।

মানুষের কাছে দাঁত দেখা মানেই হাসি, খুশি, আনন্দ। কিন্তু বানর, শিম্পাঞ্জি, বেবুনদের জগতে দাঁত দেখানো মানে ভয়, বিরক্তি বা মানসিক চাপ। তারা কথা বলতে পারে না তাই শরীরের ভাষায় জানায় “আমাকে ছেড়ে দাও”, “আমি নিরাপদ বোধ করছি না”। এই আচরণটা বিশেষ করে চিড়িয়াখানার প্রাইমেটদের মধ্যে বেশি দেখা যায় কারণ তারা দিনের পর দিন ছোট জায়গায় বন্দি থাকে, স্বাভাবিক পরিবেশ থেকে দূরে।

বাস্তব চিত্রটা আরও কঠিন। চিড়িয়াখানায় ঘুরতে আসা মানুষ খাঁচার সামনে দাঁড়িয়ে হাসে, ছবি তোলে, কখনো আঙুল দেখিয়ে ইশারা করে। প্রাইমেট দাঁত বের করলে মানুষ ধরে নেয়, সে হাসছে বা মজা করছে। অথচ প্রাণীটা তখন চরম স্ট্রেসে থাকে। এই ভুল বোঝাবুঝি তার বিরক্তি আরও বাড়িয়ে দেয়। মানুষ যেখানে বিনোদন খুঁজে পায় সেখানে প্রাণীটা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে।

এটা শুধু জ্ঞান ঘাটতির বিষয় না, এটা আমাদের মানসিকতার প্রতিফলন। আমরা প্রায়ই নিজের অনুভূতিকে সব জীবের অনুভূতির মানদণ্ড বানাই। কিন্তু প্রকৃতি মানুষের মতো কাজ করে না। প্রত্যেক প্রাণীর নিজস্ব ভাষা, নিজস্ব ভয় আর নিজস্ব সীমা আছে। সেটা না বুঝে তাদের কষ্টকেও আমরা হাসির খোরাক বানাই।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা খুব সহজ। আমরা কি সত্যিই সভ্য, যদি অন্য একটি জীবের বন্দিত্বের যন্ত্রণা দেখে আমরা আনন্দ পাই? প্রাণীর মুখে দাঁত যদি আমাদের হাসায় তাহলে হয়তো আমাদেরই ভেতরে কোথাও বোঝার জায়গাটা দুর্বল। প্রকৃত সভ্যতা শুরু হয় তখনই যখন আমরা অন্য প্রাণের অস্বস্তিকেও গুরুত্ব দিতে শিখি।

3 weeks ago | [YT] | 183