জীবনে বহু ক'বর খুঁড়েছি। কিন্তু গত জুমাবার রাতের সেই অদ্ভুত অভিজ্ঞতা আজও আমার বুক কাঁপিয়ে দেয়। ঘটনাটা কাউকে বিশ্বাস করাতে পারব কি না জানি না, কিন্তু আমার নিজের চোখের সামনে ঘটা দৃশ্য তো আর আমি অস্বীকার করতে পারি না!
সেদিন সারাদিন প্রচণ্ড বৃষ্টি। গো'রস্তানের মাটি একেবারে থিকথিকে কাদা হয়ে আছে। এশার নামাজের পর ফোন এলো,
- ‘ভাই, একটা লা'শ আসছে হাসপাতাল থেকে। বেওয়ারিশ লা'শ। কেউ নেই। তাড়াতাড়ি একটা কবরের ব্যবস্থা করেন।’
বৃষ্টির মধ্যে এমন কাদা-মাটিতে ক'বর খোঁড়া যে কত বড় কষ্টের কাজ, তা শুধু একজন গোরখোদকই জানে। আমি আর আমার সহকারী রফিক কোদাল নিয়ে নামলাম। বিরক্ত লাগছিল খুব। ভাবছিলাম, এমন দুর্যোগের রাতে কার লা'শ এলো রে ভাই!
কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার শুরু হলো কোদাল মাটিতে পড়ার পর থেকেই।
সাধারণত বৃষ্টির পর এই গো'রস্তানের মাটি আঠালো হয়ে যায়, কোদাল চালানো যায় না। কিন্তু সেদিন...সুবহানআল্লাহ! মাটি যেন তুলোর মতো নরম হয়ে আসছিল। রফিক অবাক হয়ে বলল, "উস্তাদ, ব্যাপার কী? মাটি এত ঝুরঝুরে লাগতেছে কেন? মনে হইতেছে কেউ আগে থাইকাই আমাদের জন্য মাটি খুঁইড়া রাখছে!"
আমি ধমক দিয়ে তাকে কাজ করতে বললাম। কিন্তু আমার নিজের বুকেও তখন বিস্ময়। সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা খেলাম ক'বর খোঁড়া শেষ হওয়ার পর। গো'রস্তানের এই কোণায় ময়লা-আবর্জনার গন্ধ থাকে সবসময়। কিন্তু হঠাৎ করেই চারপাশটা একটা অদ্ভুত, স্নিগ্ধ সুবাসে ভরে গেল। কোনো আতরের গন্ধ নয়, মনে হলো যেন এক সাথে হাজারটা হাসনাহেনা আর গোলাপ ফুল ফুটেছে! বৃষ্টির সোঁদা গন্ধের সাথে সেই সুবাস মিলে এমন এক পরিবেশ তৈরি হলো, আমার মনে হলো আমি দুনিয়ার কোনো বাগানে নেই।
এর কিছুক্ষণ পরই অ্যাম্বুলেন্স এলো। মাত্র তিনজন মানুষ লা'শের সাথে। হাসপাতালের একজন স্টাফ, আর দুজন অপরিচিত লোক। আমি জিজ্ঞেস করলাম, "ভাই, মৃত ব্যক্তি কে? উনার কোনো আত্মীয়স্বজন নেই?"
হাসপাতালের স্টাফ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, "না ভাই। উনি শহরের ওই বড় সিগন্যালটার পাশে বসে জুতো সেলাই করতেন। মুচি ছিলেন। আজ বিকেলে হঠাৎ স্ট্রোক করে মা'রা গেছেন। কেউ নেই উনার।"
আমি অবাক হয়ে লা'শের দিকে তাকালাম। সাধারণ সস্তা কা'ফনের কাপড়ে মোড়ানো একটা জীর্ণ শরীর। যখন তাকে ক'বরে নামানো হচ্ছিল, তখনো সেই মিষ্টি সুবাসটা যেন আরও তীব্র হলো। এত প্রশান্ত একটা চেহারা আমি জীবনে কোনো লা'শের দেখিনি। মনে হচ্ছিল, সারা জীবনের ক্লান্তি শেষে মানুষটা পরম শান্তিতে ঘুমিয়ে পড়েছে। তার ঠোঁটের কোণে যেন একটা হালকা হাসির রেখা।
দা'ফন শেষ করে আমি আর রফিক যখন ফিরে আসছি, তখন দেখলাম লা'শের সাথে আসা ওই দুজন অপরিচিত লোক অঝোরে কাঁদছেন। তাদের চেহারা দেখে মনে হচ্ছিল তারা বেশ অবস্থাসম্পন্ন।
আমি আর কৌতূহল ধরে রাখতে পারলাম না। এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, "ভাই, আপনারা কি উনার আত্মীয়?"
তাদের মধ্যে একজন চোখ মুছে বললেন, "না ভাই। আমরা উনাকে চিনতামও না সেভাবে। কিন্তু আজ বিকেলে উনি যখন রাস্তায় পড়ে যান, আমরাই উনাকে হাসপাতালে নিই। ডাক্তার মৃত ঘোষণার পর উনার ছেঁড়া থলে থেকে একটা পুরোনো ডায়েরি পাই। সেটা পড়েই আমরা চমকে গেছি।"
তিনি ডায়েরিটা বের করলেন। "জানেন ভাই? এই লোকটা সারা দিন জুতো সেলাই করে যা পেতেন, তার নিজের জন্য রাখতেন মাত্র কয়েকটা টাকা। বাকি সব টাকা উনি গোপনে একটা এতিমখানায় দিয়ে আসতেন। গত দশ বছর ধরে একটা পঙ্গু মেয়ের চিকিৎসার পুরো খরচ এই মুচি লোকটা দিয়ে আসছিল, অথচ মেয়েটা নিজেও জানে না টাকাটা কে দেয়! ডায়েরিতে শুধু হিসাব লেখাঃ 'আজ এতিমখানার জন্য ২০০ টাকা', 'আজ ফাতেমার ওষুধের জন্য ১৫০ টাকা'।"
লোকটার কথা শুনে আমার পুরো শরীর অবশ হয়ে এলো। চোখের পানি আর আটকে রাখতে পারলাম না। আমি ফিরে তাকালাম সেই নতুন কবরটার দিকে। বুঝতে পারলাম, কেন রাতের অন্ধকারে এই কর্দমাক্ত মাটি তুলোর মতো নরম হয়ে গিয়েছিল। কেন চারপাশটা জান্নাতি সুবাসে ভরে উঠেছিল।
দুনিয়ার চোখে তিনি ছিলেন রাস্তার ধারের এক সাধারণ মুচি। কেউ তাকে দাম দিত না। কিন্তু আল্লাহর চোখে তিনি ছিলেন কতটা সম্মানিত, তা বিদায় বেলায় প্রকৃতি নিজেই সাক্ষ্য দিয়ে গেল।
গোপন আমল আল্লাহ কতটা পছন্দ করেন, সেদিন এই ঘটনা না দেখলে হয়তো কোনোদিনও বুঝতাম না!... - সংগ্রহীত
ইউরোপের উন্নত জীবনের আশায় উত্তাল সাগরে নৌকা ভাসিয়েছিল একদল বাংলাদেশি যুবক। কিন্তু সেই অলীক স্বপ্নের কাছে পৌঁছানো হয়নি তাদের।
তার আগেই নিভে গেছে ২২ টি জীবন। তাদের লাশ ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে সাগরে।
এই ঘটনা এবারই প্রথম নয়। কিছুদিন পরপরই এমন লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে আর আমরা স্তম্ভিত হই।
ইউরোপের অলীক স্বপ্নে বিভোর হয়ে, জীবন হাতে নিয়ে এমন দুঃসাহসী অভিযানে যারা পা বাড়ায়, তারা কেউই সম্ভবত নিঃস্ব নয়।
দালালের হাতে যে টাকার বান্ডিল গুঁজে দিয়ে তারা উত্তাল সাগরে জীবন ভাসায়, চাইলে ওই টাকা দিয়ে তারা দেশেই সম্মানজনক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে।
কিন্তু ওই ছোট পেশায় যে আমরা সন্তুষ্ট নই। আমরা যে উচ্চাভিলাষী। আমাদের স্বপ্ন যে সাধ্যের চেয়েও অনেক বড়। ইউরোপের চোখ ধাঁধানো আলোর মাঝেই যে আমরা খুঁজে ফিরি সুখের মঞ্জিল!
কিন্তু আমরা এমন স্বপ্ন কেন দেখি, যে স্বপ্ন ছুঁতে গেলে হায়াতের সীমানা পাড়ি দিতে হয়! যে স্বপ্ন ছুঁতে গিয়ে নিজের লাশটাও দেশের মাটি থেকে বঞ্চিত হয়!
জীবনকে চূড়ান্ত হুমকির মাঝে ফেলে উপার্জনের জন্য পা বাড়ানো ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এটি বরং প্রকারান্তরে আত্মহত্যার শামিল। মহান আল্লাহ বলেছেন, আর তোমরা নিজেদেরকে ধ্বংসের দিকে দিকে ঠেলে দিও না (বাকারা ১৯৫)।
এইসব ঘটনা বারবার আমাদেরকে সতর্ক করে যায়। কিন্তু আমরা সতর্ক হই না। হাই না, কারণ, উচ্চাভিলাষের রঙিন পর্দায় আমাদের চোখ অন্ধ হয়ে গেছে!
ভোগবাদী সভ্যতা আমাদেরকে প্রতিনিয়ত এভাবেই এক অবাস্তব উচ্চাকাঙ্ক্ষার দিকে তাড়া করে ফিরছে। যাতে আমরা খেই হারিয়ে ফেলছি। আমরা হারিয়ে ফেলছি জীবনের মানে।
কিন্তু এটা মুমিনের চরিত্র নয়। মুমিন নিশ্চিত মৃত্যুর ঝুঁকি নিতে পারে না। মুমিনের স্বপ্ন থাকবে, কিন্তু সে উচ্চাভিলাষী হবে না।
যারা এখনো এই বিপদসংকুল পথে পা বাড়ানোর চিন্তা করছেন, ফিরে আসুন। কারণ, অবৈধ পথে ইউরোপের কথিত রঙিন জীবনের চেয়ে দেশের মাটিতে বাবা-মার স্নেহছায়ায় ঘাম ঝরানো ডালভাত অনেক তৃপ্তিদায়ক।
অসম্ভবকে সম্ভব করার এক কুরআনে বর্ণিত দোয়া! শত শত মানুষের দোয়া কবুল হয়েছে এই এক তাসবীহে। আপনার কি এমন কোনো দোয়া আছে যা অনেক চেষ্টা করেও কবুল হচ্ছে না? তবে এই তাসবীহটি আপনার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে!
আমরা অনেক সময় এমন কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ি যেখান থেকে বের হওয়ার কোনো দৃশ্যমান পথ থাকে না। কিন্তু মনে রাখবেন, যেখানে মানুষের পথ শেষ হয়, সেখান থেকেই আল্লাহর কুদরতের পথ শুরু হয়। উলামায়ে কেরাম এবং অভিজ্ঞ বুজুর্গদের মতে, "দোয়া ইউনুস" এমন একটি আমল, যা দিয়ে আরশের মালিকের কাছে চাইলে তিনি অসম্ভবকেও সম্ভব করে দেন। বিপদে মাছের পেট থেকে নবী ইউনুস (আ.)-কে এই তাসবীহ যেভাবে রক্ষা করেছিল, আজ আপনার কঠিন হাজতও এই আমল ইনশাআল্লাহ পূর্ণ করবে।
আমলটি করার সঠিক নিয়ম (সওয়াতুশ শিকল): ১. নিরালায় বসা: গভীর রাতে বা তাহাজ্জুদের সময় অথবা মাগরিবের পর নিরিবিলি পরিবেশে বসুন। ২. পবিত্রতা: ওযু করে কিবলামুখী হয়ে বসে প্রথমে ৩ বার দরূদ শরীফ পড়ুন। ৩. মূল তাসবীহ: পূর্ণ বিশ্বাস নিয়ে ১২৫১ বার (অথবা সামর্থ্য অনুযায়ী বেজোড় সংখ্যায়) এই দোয়াটি পড়ুন
৪. কান্নাভেজা মুনাজাত: তাসবীহ শেষে আবারও ৩ বার দরূদ শরীফ পড়ে দুহাত তুলে আল্লাহর কাছে নিজের হাজতের কথা বলুন। নিজের গুনাহের জন্য ক্ষমা চান এবং অঝোরে কাঁদুন।
কেন এই আমলটি এত শক্তিশালী? কুরআন মাজীদে আল্লাহ তায়ালা নবী ইউনুস (আ.)-এর ঘটনা বর্ণনার পর বলেছেন— "আমি তো এভাবেই মুমিনদের মুক্তি দিয়ে থাকি।" (সূরা আম্বিয়া: ৮৮)। অর্থাৎ, কিয়ামত পর্যন্ত যেকোনো মুমিন যদি এই তাসবীহ পড়ে আল্লাহকে ডাকে, আল্লাহ তাকে উদ্ধার করবেনই। বড় বড় উলামায়ে কেরাম কোনো বড় মুসিবতে পড়লে বা কোনো কঠিন হাজত থাকলে এক মজলিসে সওয়া লাখ বার এই খতম পড়ার পরামর্শ দেন, যা অভাবনীয়ভাবে দ্রুত ফল দেয়।
আপনার কাজ: আপনার মনের সেই বিশেষ আরজিটি নিয়ে আজ রাত থেকেই এই আমল শুরু করুন। আল্লাহ নিশ্চয়ই আপনার অন্তরের হাহাকার শুনবেন। আপনার পরিচিত কাউকে যদি এই আমলটি জানান এবং তিনি যদি আমল করেন, তবে তার সওয়াবের একটি অংশ আপনার আমলনামাতেও যুক্ত হবে। শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন।
দোয়া দ্রুত কবুল হওয়ার আমল। নিয়মিত সাতদিন করুন.!! • দুরুদ শরীফ ১১ বার • ইয়া হাইয়্যু ইয়া ক্বাইয়্যুম বিরাহমাতিকা আসতাগীছ ১০০ বার, (ইসমে আজম) • দুরুদ শরীফ ১১ বার • এরপর কিছুক্ষণ হাত তুলে দোয়া'য় বসুন।
আমলটি যেকোনও সময়ে করতে পারবেন। বিশেষ সময় তাহাজ্জুদ বা আজানের পর। তাহলে দোয়া কবুলের সম্ভাবনা শতগুণে বেড়ে যাবে ইনশা আল্লাহ.!'🤍
আলহামদুলিল্লাহ রমাদান আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল…....
আমি পুরো রমাদানটা দিন-রাত ইবাদতে কাটানোর চেষ্টা করেছি। আমার মনে হয়, আল্লাহ আমাকে কদরের রাতের বরকত দান করেছিলেন। কারণ, যে দু'আটা ছিল আমার ১০ বছরের—যেটা একসময় একদম অসম্ভব মনে হতো সেটাই আল্লাহ কবুল করে নিয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ।
আমার আমল ছিল— প্রতিদিন ১০,০০০ বার ইস্তিগফার, দরুদে ইব্রাহিম অন্তত ১০০ বার (কখনো আরও বেশি), ছোট দরুদ ১,০০০ বারেরও বেশি। প্রতিদিন তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করতাম। রমাদানের শেষ ১০ রাত পুরোটা জেগে ইবাদত ও দু'আ করেছি। আকাশের দিকে তাকিয়ে কেঁদে কেঁদে দু'আ করতাম। মনে হতো, দু'আ যেন তাসবিহের মতো হয়ে গেছে—সবসময় মুখে লেগে থাকত। আমি ঠিকভাবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেছি। হাজাতের নামাজ পড়েছি, জাওয়ালের নামাজ পড়েছি। প্রতিদিন কুরআন তিলাওয়াত করেছি। আযানের সময় বিশেষভাবে দু'আ করতাম। আর আল্লাহ আমার সেই অসম্ভব দু'আ কবুল করেছেন। আলহা'মদুলিল্লাহি রব্বিল আ'লামীন। আল্ল-হুম্মা লাকাল হা'মদু ওয়া লাকাশ্ শুক্-র।
Fahmida Akther
জীবনে বহু ক'বর খুঁড়েছি। কিন্তু গত জুমাবার রাতের সেই অদ্ভুত অভিজ্ঞতা আজও আমার বুক কাঁপিয়ে দেয়। ঘটনাটা কাউকে বিশ্বাস করাতে পারব কি না জানি না, কিন্তু আমার নিজের চোখের সামনে ঘটা দৃশ্য তো আর আমি অস্বীকার করতে পারি না!
সেদিন সারাদিন প্রচণ্ড বৃষ্টি। গো'রস্তানের মাটি একেবারে থিকথিকে কাদা হয়ে আছে। এশার নামাজের পর ফোন এলো,
- ‘ভাই, একটা লা'শ আসছে হাসপাতাল থেকে। বেওয়ারিশ লা'শ। কেউ নেই। তাড়াতাড়ি একটা কবরের ব্যবস্থা করেন।’
বৃষ্টির মধ্যে এমন কাদা-মাটিতে ক'বর খোঁড়া যে কত বড় কষ্টের কাজ, তা শুধু একজন গোরখোদকই জানে। আমি আর আমার সহকারী রফিক কোদাল নিয়ে নামলাম। বিরক্ত লাগছিল খুব। ভাবছিলাম, এমন দুর্যোগের রাতে কার লা'শ এলো রে ভাই!
কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার শুরু হলো কোদাল মাটিতে পড়ার পর থেকেই।
সাধারণত বৃষ্টির পর এই গো'রস্তানের মাটি আঠালো হয়ে যায়, কোদাল চালানো যায় না। কিন্তু সেদিন...সুবহানআল্লাহ! মাটি যেন তুলোর মতো নরম হয়ে আসছিল। রফিক অবাক হয়ে বলল, "উস্তাদ, ব্যাপার কী? মাটি এত ঝুরঝুরে লাগতেছে কেন? মনে হইতেছে কেউ আগে থাইকাই আমাদের জন্য মাটি খুঁইড়া রাখছে!"
আমি ধমক দিয়ে তাকে কাজ করতে বললাম। কিন্তু আমার নিজের বুকেও তখন বিস্ময়। সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা খেলাম ক'বর খোঁড়া শেষ হওয়ার পর। গো'রস্তানের এই কোণায় ময়লা-আবর্জনার গন্ধ থাকে সবসময়। কিন্তু হঠাৎ করেই চারপাশটা একটা অদ্ভুত, স্নিগ্ধ সুবাসে ভরে গেল। কোনো আতরের গন্ধ নয়, মনে হলো যেন এক সাথে হাজারটা হাসনাহেনা আর গোলাপ ফুল ফুটেছে! বৃষ্টির সোঁদা গন্ধের সাথে সেই সুবাস মিলে এমন এক পরিবেশ তৈরি হলো, আমার মনে হলো আমি দুনিয়ার কোনো বাগানে নেই।
এর কিছুক্ষণ পরই অ্যাম্বুলেন্স এলো। মাত্র তিনজন মানুষ লা'শের সাথে। হাসপাতালের একজন স্টাফ, আর দুজন অপরিচিত লোক। আমি জিজ্ঞেস করলাম, "ভাই, মৃত ব্যক্তি কে? উনার কোনো আত্মীয়স্বজন নেই?"
হাসপাতালের স্টাফ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, "না ভাই। উনি শহরের ওই বড় সিগন্যালটার পাশে বসে জুতো সেলাই করতেন। মুচি ছিলেন। আজ বিকেলে হঠাৎ স্ট্রোক করে মা'রা গেছেন। কেউ নেই উনার।"
আমি অবাক হয়ে লা'শের দিকে তাকালাম। সাধারণ সস্তা কা'ফনের কাপড়ে মোড়ানো একটা জীর্ণ শরীর। যখন তাকে ক'বরে নামানো হচ্ছিল, তখনো সেই মিষ্টি সুবাসটা যেন আরও তীব্র হলো। এত প্রশান্ত একটা চেহারা আমি জীবনে কোনো লা'শের দেখিনি। মনে হচ্ছিল, সারা জীবনের ক্লান্তি শেষে মানুষটা পরম শান্তিতে ঘুমিয়ে পড়েছে। তার ঠোঁটের কোণে যেন একটা হালকা হাসির রেখা।
দা'ফন শেষ করে আমি আর রফিক যখন ফিরে আসছি, তখন দেখলাম লা'শের সাথে আসা ওই দুজন অপরিচিত লোক অঝোরে কাঁদছেন। তাদের চেহারা দেখে মনে হচ্ছিল তারা বেশ অবস্থাসম্পন্ন।
আমি আর কৌতূহল ধরে রাখতে পারলাম না। এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, "ভাই, আপনারা কি উনার আত্মীয়?"
তাদের মধ্যে একজন চোখ মুছে বললেন, "না ভাই। আমরা উনাকে চিনতামও না সেভাবে। কিন্তু আজ বিকেলে উনি যখন রাস্তায় পড়ে যান, আমরাই উনাকে হাসপাতালে নিই। ডাক্তার মৃত ঘোষণার পর উনার ছেঁড়া থলে থেকে একটা পুরোনো ডায়েরি পাই। সেটা পড়েই আমরা চমকে গেছি।"
তিনি ডায়েরিটা বের করলেন। "জানেন ভাই? এই লোকটা সারা দিন জুতো সেলাই করে যা পেতেন, তার নিজের জন্য রাখতেন মাত্র কয়েকটা টাকা। বাকি সব টাকা উনি গোপনে একটা এতিমখানায় দিয়ে আসতেন। গত দশ বছর ধরে একটা পঙ্গু মেয়ের চিকিৎসার পুরো খরচ এই মুচি লোকটা দিয়ে আসছিল, অথচ মেয়েটা নিজেও জানে না টাকাটা কে দেয়! ডায়েরিতে শুধু হিসাব লেখাঃ 'আজ এতিমখানার জন্য ২০০ টাকা', 'আজ ফাতেমার ওষুধের জন্য ১৫০ টাকা'।"
লোকটার কথা শুনে আমার পুরো শরীর অবশ হয়ে এলো। চোখের পানি আর আটকে রাখতে পারলাম না। আমি ফিরে তাকালাম সেই নতুন কবরটার দিকে। বুঝতে পারলাম, কেন রাতের অন্ধকারে এই কর্দমাক্ত মাটি তুলোর মতো নরম হয়ে গিয়েছিল। কেন চারপাশটা জান্নাতি সুবাসে ভরে উঠেছিল।
দুনিয়ার চোখে তিনি ছিলেন রাস্তার ধারের এক সাধারণ মুচি। কেউ তাকে দাম দিত না। কিন্তু আল্লাহর চোখে তিনি ছিলেন কতটা সম্মানিত, তা বিদায় বেলায় প্রকৃতি নিজেই সাক্ষ্য দিয়ে গেল।
গোপন আমল আল্লাহ কতটা পছন্দ করেন, সেদিন এই ঘটনা না দেখলে হয়তো কোনোদিনও বুঝতাম না!...
- সংগ্রহীত
#Viral
3 days ago | [YT] | 248
View 18 replies
Fahmida Akther
বছরের প্রথম আম😋🥭
4 days ago | [YT] | 266
View 3 replies
Fahmida Akther
ইউরোপের উন্নত জীবনের আশায় উত্তাল সাগরে নৌকা ভাসিয়েছিল একদল বাংলাদেশি যুবক। কিন্তু সেই অলীক স্বপ্নের কাছে পৌঁছানো হয়নি তাদের।
তার আগেই নিভে গেছে ২২ টি জীবন। তাদের লাশ ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে সাগরে।
এই ঘটনা এবারই প্রথম নয়। কিছুদিন পরপরই এমন লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে আর আমরা স্তম্ভিত হই।
ইউরোপের অলীক স্বপ্নে বিভোর হয়ে, জীবন হাতে নিয়ে এমন দুঃসাহসী অভিযানে যারা পা বাড়ায়, তারা কেউই সম্ভবত নিঃস্ব নয়।
দালালের হাতে যে টাকার বান্ডিল গুঁজে দিয়ে তারা উত্তাল সাগরে জীবন ভাসায়, চাইলে ওই টাকা দিয়ে তারা দেশেই সম্মানজনক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে।
কিন্তু ওই ছোট পেশায় যে আমরা সন্তুষ্ট নই। আমরা যে উচ্চাভিলাষী। আমাদের স্বপ্ন যে সাধ্যের চেয়েও অনেক বড়। ইউরোপের চোখ ধাঁধানো আলোর মাঝেই যে আমরা খুঁজে ফিরি সুখের মঞ্জিল!
কিন্তু আমরা এমন স্বপ্ন কেন দেখি, যে স্বপ্ন ছুঁতে গেলে হায়াতের সীমানা পাড়ি দিতে হয়! যে স্বপ্ন ছুঁতে গিয়ে নিজের লাশটাও দেশের মাটি থেকে বঞ্চিত হয়!
জীবনকে চূড়ান্ত হুমকির মাঝে ফেলে উপার্জনের জন্য পা বাড়ানো ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এটি বরং প্রকারান্তরে আত্মহত্যার শামিল। মহান আল্লাহ বলেছেন, আর তোমরা নিজেদেরকে ধ্বংসের দিকে দিকে ঠেলে দিও না (বাকারা ১৯৫)।
এইসব ঘটনা বারবার আমাদেরকে সতর্ক করে যায়। কিন্তু আমরা সতর্ক হই না। হাই না, কারণ, উচ্চাভিলাষের রঙিন পর্দায় আমাদের চোখ অন্ধ হয়ে গেছে!
ভোগবাদী সভ্যতা আমাদেরকে প্রতিনিয়ত এভাবেই এক অবাস্তব উচ্চাকাঙ্ক্ষার দিকে তাড়া করে ফিরছে। যাতে আমরা খেই হারিয়ে ফেলছি। আমরা হারিয়ে ফেলছি জীবনের মানে।
কিন্তু এটা মুমিনের চরিত্র নয়। মুমিন নিশ্চিত মৃত্যুর ঝুঁকি নিতে পারে না। মুমিনের স্বপ্ন থাকবে, কিন্তু সে উচ্চাভিলাষী হবে না।
যারা এখনো এই বিপদসংকুল পথে পা বাড়ানোর চিন্তা করছেন, ফিরে আসুন। কারণ, অবৈধ পথে ইউরোপের কথিত রঙিন জীবনের চেয়ে দেশের মাটিতে বাবা-মার স্নেহছায়ায় ঘাম ঝরানো ডালভাত অনেক তৃপ্তিদায়ক।
সংগৃহীত
5 days ago | [YT] | 22
View 0 replies
Fahmida Akther
স্বার্থপর দুনিয়ায় মানুষের জন্য যতই করেন না কেন দিনশেষে আপনিই দোষী হবেন🥺
2 weeks ago | [YT] | 41
View 0 replies
Fahmida Akther
_প্রিয় রমাদান;বিদায়ের আগে গুছিয়ে বলতে না পারা প্রতিটি দোয়া কবুল করে নিয়ো!🤲
2 weeks ago | [YT] | 51
View 4 replies
Fahmida Akther
যার বিয়ে দেরিতে হয়, তাঁর কপালে সাধারণ গল্প লেখা থাকে না। আল্লাহ তাকে দেন বিশেষ পরিকল্পনা। ইনশা আল্লাহ, আপনার'টার শেষ হবে সুন্দর..!'❤️🤲
2 weeks ago | [YT] | 117
View 2 replies
Fahmida Akther
যার বিয়ে দেরিতে হয়, তাঁর কপালে সাধারণ গল্প লেখা থাকে না। আল্লাহ তাকে দেন বিশেষ পরিকল্পনা। ইনশা আল্লাহ, আপনার'টার শেষ হবে সুন্দর..!'❤️ 🤲
2 weeks ago | [YT] | 37
View 2 replies
Fahmida Akther
অসম্ভবকে সম্ভব করার এক কুরআনে বর্ণিত দোয়া! শত শত মানুষের দোয়া কবুল হয়েছে এই এক তাসবীহে।
আপনার কি এমন কোনো দোয়া আছে যা অনেক চেষ্টা করেও কবুল হচ্ছে না? তবে এই তাসবীহটি আপনার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে!
আমরা অনেক সময় এমন কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ি যেখান থেকে বের হওয়ার কোনো দৃশ্যমান পথ থাকে না। কিন্তু মনে রাখবেন, যেখানে মানুষের পথ শেষ হয়, সেখান থেকেই আল্লাহর কুদরতের পথ শুরু হয়।
উলামায়ে কেরাম এবং অভিজ্ঞ বুজুর্গদের মতে, "দোয়া ইউনুস" এমন একটি আমল, যা দিয়ে আরশের মালিকের কাছে চাইলে তিনি অসম্ভবকেও সম্ভব করে দেন। বিপদে মাছের পেট থেকে নবী ইউনুস (আ.)-কে এই তাসবীহ যেভাবে রক্ষা করেছিল, আজ আপনার কঠিন হাজতও এই আমল ইনশাআল্লাহ পূর্ণ করবে।
আমলটি করার সঠিক নিয়ম (সওয়াতুশ শিকল):
১. নিরালায় বসা: গভীর রাতে বা তাহাজ্জুদের সময় অথবা মাগরিবের পর নিরিবিলি পরিবেশে বসুন।
২. পবিত্রতা: ওযু করে কিবলামুখী হয়ে বসে প্রথমে ৩ বার দরূদ শরীফ পড়ুন।
৩. মূল তাসবীহ: পূর্ণ বিশ্বাস নিয়ে ১২৫১ বার (অথবা সামর্থ্য অনুযায়ী বেজোড় সংখ্যায়) এই দোয়াটি পড়ুন
"লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নী কুনতু মিনায যালিমীন।"
(অর্থ: আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আপনি পবিত্র। নিশ্চয়ই আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত।)
৪. কান্নাভেজা মুনাজাত: তাসবীহ শেষে আবারও ৩ বার দরূদ শরীফ পড়ে দুহাত তুলে আল্লাহর কাছে নিজের হাজতের কথা বলুন। নিজের গুনাহের জন্য ক্ষমা চান এবং অঝোরে কাঁদুন।
কেন এই আমলটি এত শক্তিশালী?
কুরআন মাজীদে আল্লাহ তায়ালা নবী ইউনুস (আ.)-এর ঘটনা বর্ণনার পর বলেছেন— "আমি তো এভাবেই মুমিনদের মুক্তি দিয়ে থাকি।" (সূরা আম্বিয়া: ৮৮)।
অর্থাৎ, কিয়ামত পর্যন্ত যেকোনো মুমিন যদি এই তাসবীহ পড়ে আল্লাহকে ডাকে, আল্লাহ তাকে উদ্ধার করবেনই। বড় বড় উলামায়ে কেরাম কোনো বড় মুসিবতে পড়লে বা কোনো কঠিন হাজত থাকলে এক মজলিসে সওয়া লাখ বার এই খতম পড়ার পরামর্শ দেন, যা অভাবনীয়ভাবে দ্রুত ফল দেয়।
আপনার কাজ: আপনার মনের সেই বিশেষ আরজিটি নিয়ে আজ রাত থেকেই এই আমল শুরু করুন। আল্লাহ নিশ্চয়ই আপনার অন্তরের হাহাকার শুনবেন।
আপনার পরিচিত কাউকে যদি এই আমলটি জানান এবং তিনি যদি আমল করেন, তবে তার সওয়াবের একটি অংশ আপনার আমলনামাতেও যুক্ত হবে। শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন।
সংগৃহীত
1 month ago | [YT] | 127
View 1 reply
Fahmida Akther
দোয়া দ্রুত কবুল হওয়ার আমল। নিয়মিত সাতদিন করুন.!!
• দুরুদ শরীফ ১১ বার
• ইয়া হাইয়্যু ইয়া ক্বাইয়্যুম বিরাহমাতিকা আসতাগীছ ১০০ বার, (ইসমে আজম)
• দুরুদ শরীফ ১১ বার
• এরপর কিছুক্ষণ হাত তুলে দোয়া'য় বসুন।
আমলটি যেকোনও সময়ে করতে পারবেন। বিশেষ সময় তাহাজ্জুদ বা আজানের পর।
তাহলে দোয়া কবুলের সম্ভাবনা শতগুণে বেড়ে যাবে ইনশা আল্লাহ.!'🤍
1 month ago | [YT] | 112
View 3 replies
Fahmida Akther
আলহামদুলিল্লাহ রমাদান আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল…....
আমি পুরো রমাদানটা দিন-রাত ইবাদতে কাটানোর চেষ্টা করেছি। আমার মনে হয়, আল্লাহ আমাকে কদরের রাতের বরকত দান করেছিলেন। কারণ, যে দু'আটা ছিল আমার ১০ বছরের—যেটা একসময় একদম অসম্ভব মনে হতো সেটাই আল্লাহ কবুল করে নিয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ।
আমার আমল ছিল—
প্রতিদিন ১০,০০০ বার ইস্তিগফার,
দরুদে ইব্রাহিম অন্তত ১০০ বার (কখনো আরও বেশি),
ছোট দরুদ ১,০০০ বারেরও বেশি।
প্রতিদিন তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করতাম।
রমাদানের শেষ ১০ রাত পুরোটা জেগে ইবাদত ও দু'আ করেছি।
আকাশের দিকে তাকিয়ে কেঁদে কেঁদে দু'আ করতাম। মনে হতো, দু'আ যেন তাসবিহের মতো হয়ে গেছে—সবসময় মুখে লেগে থাকত।
আমি ঠিকভাবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেছি।
হাজাতের নামাজ পড়েছি, জাওয়ালের নামাজ পড়েছি।
প্রতিদিন কুরআন তিলাওয়াত করেছি।
আযানের সময় বিশেষভাবে দু'আ করতাম।
আর আল্লাহ আমার সেই অসম্ভব দু'আ কবুল করেছেন।
আলহা'মদুলিল্লাহি রব্বিল আ'লামীন। আল্ল-হুম্মা লাকাল হা'মদু ওয়া লাকাশ্ শুক্-র।
✍️Liju Islam
ইনবক্সে এক বোনের দু'আ কবুলের গল্প
1 month ago | [YT] | 118
View 6 replies
Load more