Dr. Bashudeb Kumar Saha

Dr. Bashudeb Kumar Saha, MBBS, BCS (Health), MS (ENT).
ENT Specialist & Head Neck Surgeon.
Senior Consultant (Department of ENT), Central Police Hospital, Dhaka.
Chief consultant, Malleus ENT Specialized Hospital Limited,
24/1 (Lift 4), Shan Tower, Shantinagar, Dhaka-1217.
For serial contact this number: 09613 651020, 01324 254498, 01324 254499


Dr. Bashudeb Kumar Saha

একটু সুস্থতার আশায় মানুষ রোগব্যাধি নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যায়, আর চিকিৎসক তাঁর সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যান রোগীর পূর্ণ সুস্থতা ফিরিয়ে দেওয়ার আশায়। যদিও সেটা সব সময় সম্ভব হয়ে ওঠে না; অনেক সময় চিকিৎসকও নিরুপায় হয়ে যান।

যেকোনো রোগ শুরুতেই চিকিৎসা করা গেলে সেই রোগ খুব সহজেই নিরাময় হয়। তবে মানুষ যখন ডাক্তারের কাছে না গিয়ে বছরের পর বছর শরীরে রোগ পুষে রাখেন, তখন বলা যায় একটি জীবন মৃত্যুর দিকে অগ্রসর হয়।

আমি বারবারই চেষ্টা করি মানুষ যেন রোগ সম্পর্কে জানে এবং সচেতন হয়ে ঘরে বসে না থেকে দ্রুত চিকিৎসা নেয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, এখনো অনেকে আছেন যারা ভয় এবং অর্থের অভাবে হাসপাতালে না গিয়ে ঘরে বসেই সময় কাটান।

মায়ের মতো এই মানুষটি যখন তাঁর স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে আমার চেম্বারে এসেছিলেন, আমি তাঁকে দেখে অনেকটাই অবাক হলাম যে, এত বড় টিউমার নিয়ে তিনি কীভাবে জীবন কাটাচ্ছেন। তাঁর পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে খুবই কষ্ট পেলাম।

এই মা থাইরয়েড গ্ল্যান্ডের জটিল এক ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন। পাথরের মতো শক্ত, বিশাল একটি ক্যান্সার টিউমার তাঁর থাইরয়েড গ্ল্যান্ডে বাসা বেঁধেছে। বলা যায়, নিথর কষ্ট নিয়ে বেঁচে আছেন ৬০ বছর বয়সী এই মা জননী।

দুঃখের বিষয় হলেও সত্য, তাঁর এই টিউমারটি অপারেশন করা যাবে না। কেন যাবে না, তা জানতে একটি সচেতনতামূলক ভিডিও দেখবেন আগামীকাল সকাল ১০:০০টায়। সকলে এই মায়ের জন্য দোয়া ও আশীর্বাদ করবেন। ভালো থাকবেন। ধন্যবাদ।

3 days ago | [YT] | 523

Dr. Bashudeb Kumar Saha

সুখে এবং দুঃখে যে মানুষটি হাসে, সৃষ্টিকর্তাও তাকে ভালোবাসেন। দুঃখ ছাড়া মানুষ জীবনে সুখের অনুভূতি করতে পারে না। সুখের পর যেমন দুঃখ আসে, তেমনি দুঃখের পরও সুখ আসে। তবে হতাশ হওয়া যাবে না। সৃষ্টিকর্তার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখতে হবে।

হাসিখুশি এই মানুষটি কখনোই ভাবেননি, তাঁর জীবনে এমন একটি কষ্টের বোঝা বইতে হবে। গলার সামনে ছিল বিশাল বড় একটি ক্যান্সারের টিউমার, তবুও তাঁর মনে কোনো হতাশা ছিল না। নিজের কষ্টগুলো হাসি দিয়ে জয় করেছেন এবং সৃষ্টিকর্তার কাছে সাহায্য চেয়েছেন।

৭৪ বছর বয়সী এই মানুষটি বলা যায়, সুস্থ হওয়ার আশাই ছেড়ে দিয়েছিলেন। অনেক ছোটাছুটির পর আমার একটি ভিডিও দেখে তাঁর মনে আবার সুস্থ হওয়ার স্বপ্ন জেগেছে। আমি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যারা আমাকে ভালোবেসে আমার প্রতি আস্থা রেখেছেন।

অবশেষে ৫ ঘণ্টার চেষ্টায়, সৃষ্টিকর্তার কৃপায় এবং সকলের দোয়ায় যখন তাঁর সফল অপারেশন করতে পারলাম, তখন একজন চিকিৎসক হিসেবে যে শান্তি পেয়েছি, তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তাঁরই একটি ভিডিও আগামীকাল সকাল ১০:০০টায় দেখবেন।

আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ, যারা আমাকে এই অপারেশনটি সফল করতে সহযোগিতা করেছেন। সবাই তাঁর জন্য দোয়া করবেন, সৃষ্টিকর্তা যেন তাঁকে সুন্দর একটি জীবন দান করেন। সকলের সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করি। ধন্যবাদ।

1 week ago | [YT] | 598

Dr. Bashudeb Kumar Saha

ডাক্তার দেখলে রোগব্যাধি বেড়ে যায়, আবার কখনো কখনো কমেও যায়—এটা সহজ-সরল কিছু মানুষের ধারণা। রোগব্যাধি কখনো সঠিক চিকিৎসা, ঔষধ বা অপারেশন ছাড়া দূর করা যায় না। তবে সৃষ্টিকর্তা না চাইলে সেটাও সম্ভব হয় না।

আমি যখন গ্রামে যাই, আশেপাশের মানুষগুলো অপেক্ষায় থাকেন—কখন একটু তাদের শারীরিক কষ্টের কথাগুলো আমাকে জানাবেন। একজন থেকে শুরু করলেও একের পর এক চলতেই থাকে। কখনো কখনো পাশের গ্রাম থেকেও আসে কিছু সহজ-সরল মানুষ।

শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সের নারী-পুরুষ আসেন তাদের কষ্টের কথাগুলো বলতে। তাদের কষ্টের কথাগুলো শুনে আমি চেষ্টা করি সঠিক পরামর্শ দিয়ে রোগ অনুযায়ী নির্দিষ্ট চিকিৎসকের কাছে রেফার করতে।

না বুঝে কখনো কখনো অনেকেই ভুল চিকিৎসকের কাছে যায়। গ্রামের সহজ-সরল মানুষগুলোর আঞ্চলিক কিছু কথা আমার শুনতেও ভালো লাগে। তাই তো তাদের সাথে সময় কাটাই আনন্দের সাথে। তারই একটি ভিডিও দেখবেন আগামীকাল বিকাল ৫:০০ টায়।

আমি চাই মানুষ রোগব্যাধি সম্পর্কে জেনে সঠিক চিকিৎসা নিয়ে ভালো থাকুক। সকলের মঙ্গল ও সুস্বাস্থ্য কামনা করছি। ধন্যবাদ।

2 weeks ago | [YT] | 527

Dr. Bashudeb Kumar Saha

দুঃখে যারা হাসতে জানে, তাদের কোনো কষ্ট নেই—এমনটা ভাবা ভুল। পৃথিবীতে এখনো কিছু মানুষ আছে, যারা অনেক কষ্টে থাকলেও কাউকে বুঝতে দেয় না, কতটা কষ্টে আছেন তারা। এমনই একজন মানুষের দেখা পেলাম আমার চেম্বারে। কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়েও তিনি হাসিখুশি থাকতে পারেন।

মায়ের বয়সী এই মানুষটিকে আমি ‘ঠাম্মা’ বলেই ডেকেছি, কারণ তিনি আমাকে তাঁর নাতিদের মতোই মনে করেন। গলার সামনে বিশাল বড় একটি থাইরয়েড টিউমার নিয়ে যখন তিনি আমার কাছে এলেন, আমি জানলাম—তাঁর গলায় একটি খারাপ ক্যান্সার টিউমার বাসা বেঁধেছে।

থাইরয়েড গ্ল্যান্ডে যত রকম ক্যান্সার টিউমার হয়, তার মধ্যে নডিউলার কারসিনোমা একটি খারাপ ধরনের ক্যান্সার—যেটা তাঁর রিপোর্টে এসেছিল। তবে তাঁর অন্যান্য রিপোর্ট দেখে যখন আমার মনে সন্দেহ হলো, আমি পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখলাম—আসলে তাঁর প্যাপিলারি কারসিনোমা হয়েছে।

এ ধরনের ক্যান্সারের অপারেশন আমরা প্রতিনিয়তই করছি, এবং সৃষ্টিকর্তার কৃপায় অনেকেই এই ক্যান্সার থেকে মুক্তি পেয়ে সুন্দরভাবে জীবনযাপন করছেন। আমি যখন তাঁদের সবকিছু বুঝিয়ে বললাম, তাঁরা খুব খুশি হলেন এবং আমাকে অপারেশনের সম্মতি দিলেন।

আমি এবং আমার টিম অনেক সময় নিয়ে এই মানুষটির সফল অপারেশন সম্পন্ন করেছি, কারণ তাঁর রক্তের গ্রুপ ছিল ও-নেগেটিভ, যা খুবই বিরল। তাই সর্বোচ্চ সতর্কতায় তাঁর রক্তনালীগুলো সংরক্ষণ করেছি। সৃষ্টিকর্তার কৃপায় এবং আপনাদের দোয়ায় তিনি এখন সুস্থ আছেন।

জনস্বার্থে রোগ ও চিকিৎসা সম্পর্কে জানাতে তাঁর সঙ্গে একটি ভিডিও ধারণ করেছি। দেখবেন আগামীকাল সকাল ১০:০০ টায়। সবার সুস্বাস্থ্য কামনা করছি। ধন্যবাদ।

2 weeks ago | [YT] | 561

Dr. Bashudeb Kumar Saha

ভালোবাসা কখনো দেখা যায় না, ছোঁয়া যায় না, কিন্তু সেটা অনুভব করা যায়—কে কতটা ভালোবাসে। বলা যায়, ভালোবাসা অদৃশ্য। এক থেকে এক মিলিয়ন মানুষের অদৃশ্য ভালোবাসা আমি পেয়েছি। আমি এই মানুষগুলোর সকলের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
Facebook page: www.facebook.com/dr.bashudebkumar


মাঝে মাঝে আমি একলা মনে ভাবি, যদি অলৌকিক কোনো শক্তি পেতাম, তাহলে পৃথিবীর সব অসুস্থ মানুষগুলোকে সুস্থ করে ফেলতাম। যদিও সেটা কখনোই সম্ভব নয়, সেটা শুধুই কল্পনা।

ছোটবেলা থেকেই আমি খুব সাধারণ এবং আশাবাদী একজন মানুষ। আমার ছোট্ট জীবনে সুখে এবং দুঃখে সবসময় সহনশীল থাকতে চাই। ফেসবুক এবং ইউটিউবে যখন আমি প্রথম স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত ভিডিও বানাই, তখন ভাবতাম—রসকষহীন এই ভিডিওগুলো কে-ই বা দেখবে?

তারপরও থেমে থাকিনি, কারণ এটা ছিল আমার একটা ভালো লাগা, যা ধীরে ধীরে আপনাদের সঙ্গে ভালোবাসায় পরিণত হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, আমাকে ভালোবাসেন বলেই আমার ভিডিওগুলো আপনারা দেখেন। তাই আমি আবারও কৃতজ্ঞ আপনাদের প্রতি।

রোগব্যাধি নিয়ে আমি যে ভিডিওগুলো তৈরি করছি, তার একটাই উদ্দেশ্য—মানুষকে সচেতন করা। বিশেষ করে নাক, কান, গলার অনেক রোগ সম্পর্কে অনেকেই হয়তো জানেন না। আমি চাই সেটা আপনাদের জানাতে। তাই আপনাদের ভালোবাসাই আমার একান্ত অনুপ্রেরণা।

আপনারা নিজেরা সচেতন হবেন এবং অন্যদের সচেতন করবেন। আর সঠিক সময়ে আপনার নিকটস্থ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন। তবেই হবে আমার ভিডিও করার সার্থকতা। সকলের মঙ্গল ও সুস্বাস্থ্য কামনা করছি। পাশে ছিলেন, থাকবেন—এটাই আমার ক্ষুদ্র চাওয়া। সবার জন্য রইল অনেক অনেক ভালোবাসা।

3 weeks ago | [YT] | 1,872

Dr. Bashudeb Kumar Saha

বাবার পরিচয়েই সন্তানরা অন্যের কাছে পরিচিতি পায়। যখন কোনো সন্তান প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন ওই বাবার সম্মানও বেড়ে যায়। সন্তানের কারণেই সমাজে ‘গর্বিত পিতা’ বলে নামডাক ছড়ায়। তাই বাবা হিসেবে আমাদের সন্তানদের সঠিক পথ দেখানো আমাদেরই দায়িত্ব। কারণ তাদের সম্মানেই আমরা সম্মানিত।

আজ জানাবো একজন গর্বিত পিতার কষ্টের কথা। ৩০ বছর আগের একটি ঘটনার বর্ণনা করলেন এই মানুষটি। কানে কম শোনা ছিল তার জীবনের কষ্টের মূল কারণ। শিক্ষকতা পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করেছেন এবং মেয়েকে সুশিক্ষিত করে গড়ে তুলেছেন। বাবা হিসেবে এর চেয়ে বেশি আর কী প্রয়োজন আছে?

তারপরও যেন একটি ব্যর্থতা তাকে নীরবে কষ্ট দেয়। শুধু কানে কম শোনার কারণেই জীবনের অনেক বড় একটি সুযোগ তার হাতছাড়া হয়ে গেছে। সারা বাংলাদেশের শিক্ষকদের একটি ট্রেনিং সেশনে অংশগ্রহণ করে সফল হলেও কানে কম শোনার কারণেই চূড়ান্ত লক্ষ্যে যেতে পারেননি এই মানুষটি।

তার মুখে এমন ঘটনা শুনে সত্যিই খুব খারাপ লেগেছিল। আমার কাছে যখন তিনি তার পুরো পরিবার নিয়ে এসেছিলেন, আমি জানলাম তার মেয়েও মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা করছে। তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখলাম, তার দুই কানের পর্দাই ছিদ্র রয়েছে। আমি তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বললাম, “আপনার চিকিৎসার দায়িত্ব আমি নিলাম।”

তার কানের পর্দার ছিদ্র হওয়া এবং তার জীবনের কষ্টের পুরো ঘটনাটি জানতে পারবেন আগামীকাল সকাল ১০:০০টায়। ভিডিওটি দেখে এই মানুষটির জন্য সবাই আশীর্বাদ করবেন। আর রোগব্যাধি সম্পর্কে সবাই সচেতন থাকবেন। সচেতনতাই পারে আমাদের মুক্তি দিতে। ধন্যবাদ।

1 month ago | [YT] | 405

Dr. Bashudeb Kumar Saha

আপনি যদি সচেতন হন, তাহলে অনেক কিছুই জানতে পারবেন, বুঝতে পারবেন। আর যদি আপনি অসচেতন হন, তাহলে আপনার জীবনটা প্রায় অসচেতন হয়েই যাবে। তাই আমাদের সচেতন হতে হবে, বিশেষ করে রোগব্যাধি নিয়ে।

কান পাকা রোগ সর্বশ্রেণির মানুষের কাছে একটি সুপরিচিত নাম। মেডিকেলের ভাষায় আমরা যেটিকে বলি ক্রনিক অটাইটিস মিডিয়া। শহরের তুলনায় গ্রামের মানুষের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়। এই রোগে আক্রান্ত হলে এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা না নিলে একজন মানুষের জীবনে কতটা কষ্ট পেতে হয়, সেটা আমি বহুবার আমার ভিডিওগুলোতে বলেছি। চিকিৎসা নিতে দেরি হলে কী ক্ষতি হতে পারে, অনেকেই তা জানে না।

আমার একজন সম্মানিত রোগী যখন আমার চেম্বারে আসেন, আমি দেখলাম তাঁর মুখটা বেঁকে গেছে। হিস্ট্রি নিয়ে জানলাম, প্রায় ২১ বছর ধরে তাঁর কান পাকা সমস্যা রয়েছে। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা নিয়ে রোগ সারাতে না পারায় তাঁর এমন ক্ষতি হয়েছে। বলা যায়, তিনি এই রোগের ক্ষতি সম্পর্কে জানতেন না বলেই তিনি অনেকটা বিপাকে পড়ে গিয়েছেন।

তাঁর একটি ভিডিও ধারণ করেছি এবং তাঁকে জানিয়েছি, কান পাকা সমস্যার কারণে আরও কী হতে পারত। তাঁর এমন অবস্থায় তাঁকে বুঝিয়ে এবং সাহস দিয়ে একটি অপারেশনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ভিডিওটি দেখবেন আগামীকাল বিকাল ৫:০০ টায়। আশা করি, ভিডিওটি দেখে নিজে সচেতন হবেন, অন্যকেও সচেতন করবেন। ধন্যবাদ সবাইকে।

1 month ago | [YT] | 281

Dr. Bashudeb Kumar Saha

বাবা-মায়ের চেয়ে একটি সন্তানের জীবনে আপন আর কে হতে পারে? সন্তান যেমনই হোক না কেন, সেটাই তাদের অমূল্য ধন। তারা বুকে ধরে যত্ন করে লালন-পালন করে বড় করে তোলে। তাদের জীবন সুন্দর করাই মা-বাবার মূল লক্ষ্য। তাদের সুখই যেন বাবা-মায়ের সুখ।

জন্মের পরই যখন একটি সন্তান রোগে আক্রান্ত হয় বা কোনো রোগ নিয়ে জন্ম নেয়, তখন বাবা-মায়ের দুশ্চিন্তার যেন শেষ থাকে না। কতক্ষণে তার সন্তানকে সুস্থ করতে পারবে, কোথায় গেলে তার সন্তান রোগমুক্ত হবে—এই ভাবনায় যেন কাটে তাদের দিন-রাত।

আমার একজন সম্মানিত রোগী, মোসাঃ মুত্তাকিন আক্তার। তার জন্মের পর থেকেই তার জীবনটা শুরু হয় কষ্ট দিয়ে। জটিল একটি রোগে আক্রান্ত ছিল এই বাবুটি। বাবা-মায়ের আপ্রাণ চেষ্টা এবং চিকিৎসকের সহযোগিতায় তার কষ্ট দূর হলেও, অন্য একটি রোগ তাকে নতুনভাবে কষ্ট দেয়।

বাবা-মা তাকে সুস্থ করতে কত কিছুই না করেছিলেন! কিন্তু কোথাও কোনো সমাধান পাননি। ঝুঁকি নিয়ে কেউ অপারেশন করতে চাননি। আমার ভিডিও দেখার পর যখন তারা আমার কাছে আসেন, আমি তাদের অবস্থা দেখে এবং শিশুটির কথা ভেবে তাকে ফিরিয়ে দিতে পারলাম না।

আমি আমার টিমের এনেস্থেসিওলজিস্ট ডাঃ এস. এম. এ. আলিম ভাইয়ের সহযোগিতা নিয়ে, সৃষ্টিকর্তার কৃপায় তার অপারেশনটি সফলভাবে সম্পন্ন করি। ফলো-আপে আসার পর জানলাম, এখন আর তার কোনো কষ্ট নেই। সকলের দোয়ায় সে এখন ভালো আছে।

আমরা তার কী অপারেশন করেছিলাম? কেন তার অপারেশনটি অনেক ঝুঁকিপূর্ণ ছিল? জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অপারেশন করে কী ফলাফল পেলাম? বাবা-মা কতটা খুশি হলো? সে এখন কেমন আছে?—সবকিছু মিলিয়ে জনস্বার্থে তাদের একটি ভিডিও ধারণ করেছি।

দেখবেন আগামীকাল বিকাল ৫:০০টায়। বিশেষ এই শিশুটির জন্য সবাই দোয়া করবেন। সৃষ্টিকর্তা যেন তার বাকি দিনগুলোতে তাকে ভালো রাখেন।

1 month ago | [YT] | 442

Dr. Bashudeb Kumar Saha

ব্যস্ত জীবনে পরিবার নিয়ে বেড়াতে কে না চায়! প্রতিদিন রোগী দেখা, অপারেশন করা, রোগীদের দুঃখ-কষ্ট শোনা—এ যেন আমার নিত্যদিনের কাজ। আর এই কাজের ফাঁকে সুযোগ পেলেই শুক্রবার আমি আমার পরিবার নিয়ে যাই রোগীর বাড়িতে।

“পেশেন্ট ফলোআপ ইন হাউস” আমার একটি ভালোবাসার আয়োজন। রোগীদের আমন্ত্রণেই আমি তাদের বাড়িতে যাই। রোগীর পরিবারের সঙ্গে সময় কাটে আমার পরিবারের সদস্যদের। এটা আমার খুব ভালো লাগে, আর এই ভালোবাসা বিনিময়ের মধ্য দিয়েই হয়ে যায় রোগীর ফলোআপ।

প্রতিটি রোগীর রোগ শনাক্ত করার উদ্দেশ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। তবে পরীক্ষার রিপোর্টে যখন ক্যান্সারের কথা বলা হয়, তখন সেটা শুনে অনেকেই বেঁচে থাকার আশাই ছেড়ে দেয়। কেউ আবার তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে সুস্থ হওয়ার জন্য লড়ে যায়।

থাইরয়েড গ্রন্থির একটি সাধারণ ক্যান্সারের নাম হলো Papillary carcinoma of thyroid। আমার একজন দুবাই-প্রবাসী রোগী যখন গলার সামনে একটি টিউমার নিয়ে আসেন, তখন রস পরীক্ষা (FNAC) করে দেখা গেল তার Papillary carcinoma of thyroid হয়েছে।

ক্যান্সারের কথা শুনে ভাইটি দ্রুত অপারেশন করার সিদ্ধান্ত নেন। সবচেয়ে অবাক করার বিষয় ছিল—অপারেশনের পর যখন তার টিউমারের মাংস পরীক্ষা (Histopathology) করা হয়, সেখানে কোনো ক্যান্সার পাওয়া যায়নি। বলা যায়, সৃষ্টিকর্তা তাকে একটি ক্যান্সারমুক্ত জীবন দিয়েছেন।

“Patient Follow-up in House” উপলক্ষে আমি আমার পরিবার নিয়ে তার বাড়িতে যাই। আমাদের জন্য তিনি আন্তরিকভাবে আয়োজন করেন, এবং আমি তার ফলোআপ করি। সুস্থ হওয়ার আগের ও পরের পুরো ঘটনাটি একটি ভিডিও ধারণ করেছি। দেখবেন আগামীকাল সকাল ১০:০০টায়।

সবার সুস্বাস্থ্য কামনা করি। ধন্যবাদ সবাইকে।

1 month ago | [YT] | 1,048

Dr. Bashudeb Kumar Saha

ভালোবাসা দিলে ভালোবাসা মেলে। জানি না আমি আমার রোগীদের কতটা ভালোবাসা দিতে পেরেছি, তবে পেয়েছি অগণিত মানুষের অফুরন্ত ভালোবাসা। সত্যিই এই ভালোবাসার জন্য আমি ঐসব মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

মিষ্টি এই মেয়েটি ও তার বাবা-মা এসেছেন সুদূর ইতালি থেকে, তার নাকের সমস্যা নিয়ে। বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই, তার নাকের ভেতরে কী কষ্ট হচ্ছে। সিটি স্ক্যান করে দেখতে পেলাম, তার নাকের হাড় বাঁকা এবং দুই পাশের টারবিনেটগুলো ফুলে গেছে।

নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, নাক দিয়ে পানি পড়া, হাঁচি এবং মাথাব্যথা ছিল তার নিত্যদিনের সঙ্গী। গত ৩ বছর যাবৎ ইতালিতে ডাক্তার দেখিয়েছেন। অপারেশন করার সিদ্ধান্ত দিলেও, তিনি এবং তার পরিবারের আস্থা আসেনি। তাই তার কষ্টগুলো দূর করতে পারেননি।

অবশেষে তারা যখন আমার ভিডিও দেখেন, তখন সিদ্ধান্ত নিলেন নিজ মাতৃভূমির চিকিৎসক দিয়ে অপারেশন করাবেন। সত্যিই আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ যে তারা নিজ দেশের চিকিৎসকদের প্রতি আস্থা রেখে উন্নত একটি দেশ থেকে ছুটে এসেছেন।

অপারেশনের আগে জানতে পারলাম, সে একজন নার্স হওয়ার উদ্দেশ্যে ইতালিতে লেখাপড়া করছেন। মেয়ের অপারেশন নিয়ে ভয় না থাকলেও, অপারেশনের বিভিন্ন বিষয় জানার আগ্রহ ছিল তার মায়ের। এটিকে আমি সাধুবাদ জানাই, কারণ আমি রোগব্যাধি সম্পর্কে মানুষকে জানাতে চাই।

তাদের পুরো পরিবারের সঙ্গে জনস্বার্থে একটি ভিডিও ধারণ করেছিলাম। দেখবেন আগামীকাল বিকেল ৫:০০টায়। জানতে পারবেন, ইতালিতে বিনা খরচে অপারেশনের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন এলেন নিজের দেশে চিকিৎসা নিতে। এই বোনটির জন্য সবাই দোয়া করবেন, তার মনের আশা যেন পূর্ণ হয়।

সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করছি। ধন্যবাদ সবাইকে।

1 month ago | [YT] | 519