In this channel all types of political, social & economic news and information of West Bengal and India are posted. এই চ্যানেলে আমরা পশ্চিমবঙ্গ ভারত তথা বিশ্বের সমগ্র জায়গার রাজনৈতিক সামাজিক অর্থনৈতিক সহ সমস্ত ধরনের খবর পরিবেশন করি।
২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেট শুধু সংখ্যার হিসাব নয়। এই বাজেট দেখায় যে সরকার ভবিষ্যতে কেমন ভারত গড়তে চায়।
এই বাজেটের মূল ফোকাস তিনটি স্তম্ভের উপর ভিত্তি করে তৈরি—
সাধারণ মানুষের জন্য এতে কী আছে?
কিছু পণ্যের আমদানি শুল্ক ২০% থেকে কমিয়ে ১০% করা হয়েছে
আয়করের স্তরে কোনো পরিবর্তন নেই
২০২৬ সালের বাজেট মানে—
উন্নত রাস্তা এবং রেলপথ
আধুনিক কারখানা
প্রযুক্তি-নির্ভর কৃষি
এমন একটি উন্নয়নের নীলনকশা যা কৃষক, শিল্প এবং শহরগুলোকে সংযুক্ত করে। এই বাজেট আগামী কয়েক দশকের জন্য ভারতের পথনির্দেশ করছে।
ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA): অর্থনীতির নতুন দিগন্ত
দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে ২৭ জানুয়ারি ২০২৬-এ ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) মধ্যে ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা Free Trade Agreement (FTA) চূড়ান্ত হয়েছে। এই চুক্তিটিকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম বা "Mother of All Deals" হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।
ভারত ও ইইউ একে-অপরের সঙ্গে শুল্ক হ্রাস বা প্রায় অধিকাংশ পণ্যের উপর শুল্ক মুছবে, যাতে পণ্য-পরিষেবা সহজে দু’দিকের বাজারে প্রবেশ করতে পারে।
এই চুক্তির ফলে দুই দেশের আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যে যে বিশাল পরিবর্তনের আশা করা হচ্ছে,:
এই চুক্তির সবচেয়ে বড় সুফল পাবে ভারতের শ্রম-নির্ভর শিল্পগুলো। ইউরোপের বাজারে ভারতের প্রায় ৯৯.৫% পণ্য এখন শুল্কমুক্ত (Duty-Free) প্রবেশের সুবিধা পাবে। এর ফলে রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে
ভারতে আমদানি বৃদ্ধি ও সস্তা পণ্য (Imports & Cheaper Goods)
ইউরোপ থেকে আসা উচ্চমানের পণ্যগুলোর ওপর ভারত তাদের চড়া আমদানি শুল্ক কমাবে। এর ফলে ভারতীয় বাজারে ইউরোপীয় পণ্য সস্তা হবে এবং আমদানি বাড়বে:
চাকরির সুযোগ: এই চুক্তির ফলে ইউরোপে ভারতীয়দের জন্য চাকরি ও পেশাদার পরিষেবার সুযোগ বাড়বে।
এই চুক্তিটি ভারত ও ইউরোপ মিলিয়ে প্রায় ২০০ কোটি মানুষের একটি বিশাল বাজার তৈরি করবে। একদিকে যেমন ভারতের রপ্তানি ও কর্মসংস্থান বাড়বে, অন্যদিকে ভারতীয় ভোক্তারা কম দামে উন্নত ইউরোপীয় পণ্য ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।
“যতই কর হামলা, আবার জিতবে বাংলা”
“বাংলা জিতবে” — কিন্তু কার বিরুদ্ধে?
নির্বাচন একটি রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, কোনো বহির্শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ নয়। পশ্চিমবঙ্গে ভোটের লড়াই হচ্ছে—
তৃণমূল কংগ্রেস বনাম বিজেপি
অথবা তৃণমূল বনাম অন্যান্য বিরোধী শক্তি
এখানে “বাংলা” কোনো পক্ষ নয়, পক্ষ হলো রাজনৈতিক দল।
তাই “বাংলা জিতবে” বলাটা একটি অস্পষ্ট, বিভ্রান্তিকর ও আবেগপ্রবণ স্লোগান, যার মাধ্যমে মূল প্রশ্নটি এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে—
তৃণমূল জিতবে কি না?
যদি দলটির নিজের জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাস থাকত, তাহলে সরাসরি বলা যেত—
“তৃণমূল আবার জিতবে”
কিন্তু সেটা না বলে “বাংলা জিতবে” বলা মানেই রাজনৈতিক দ্বিধা ও আত্মবিশ্বাসের অভাব।
পশ্চিমবঙ্গ কেন এতো পিছিয়ে? মহারাষ্ট্রের সঙ্গে রপ্তানি তুলনা কী বলছে?
এক সময় পশ্চিমবঙ্গ ছিল ভারতের শিল্প ও বাণিজ্যের অন্যতম চালিকাশক্তি। কলকাতা ছিল দেশের শিল্প-রাজধানী, হাওড়া–দুর্গাপুর ছিল ইস্পাত ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রাণকেন্দ্র। কিন্তু আজ সেই পশ্চিমবঙ্গই রপ্তানির নিরিখে ভারতের রাজ্যগুলোর তালিকায় দ্বাদশ স্থানে।
প্রশ্ন উঠছে— পশ্চিমবঙ্গ কি স্বাভাবিকভাবেই পিছিয়ে পড়েছে, নাকি নীতিগত ব্যর্থতার কারণেই আজ এই অবস্থান?
📊 পশ্চিমবঙ্গের রপ্তানির বর্তমান চিত্র
২০২৩–২৪ অর্থবর্ষে পশ্চিমবঙ্গের মোট পণ্য রপ্তানির পরিমাণ প্রায় ৯৭,০০০ কোটি টাকা।
রাজ্যের প্রধান রপ্তানি পণ্যগুলির মধ্যে রয়েছে—
রত্ন ও গয়না
চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য
পাটজাত দ্রব্য
বস্ত্র
চা
লোহা ও ইস্পাত
এই তালিকা দেখলেই বোঝা যায়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পশ্চিমবঙ্গ এখনও পুরনো শিল্প কাঠামোর ওপর নির্ভরশীল। নতুন যুগের হাই-ভ্যালু ম্যানুফ্যাকচারিং বা প্রযুক্তিনির্ভর রপ্তানি এখানে খুবই সীমিত।
📈 মহারাষ্ট্রের সঙ্গে তুলনা: বাস্তবতার আয়না
এবার নজর দেওয়া যাক মহারাষ্ট্রের দিকে। একই সময়ে মহারাষ্ট্র রপ্তানি করেছে প্রায় ৫.৫ লক্ষ কোটি টাকার পণ্য।
অর্থাৎ— পশ্চিমবঙ্গের তুলনায় মহারাষ্ট্রের রপ্তানি প্রায় পাঁচ গুণেরও বেশি।
এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন— একই দেশ, একই কেন্দ্রীয় নীতি, একই বৈদেশিক বাজার থাকা সত্ত্বেও এই বিশাল ব্যবধান কেন?
🏭 শিল্পনীতি বনাম বাস্তবতা
রাজ্য সরকার বারবার দাবি করে যে পশ্চিমবঙ্গ শিল্পবান্ধব। কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা।
বড় শিল্প বিনিয়োগ রাজ্যে আসতে অনীহা দেখায়
নতুন ম্যানুফ্যাকচারিং ক্লাস্টার গড়ে ওঠে না
নীতির ধারাবাহিকতা ও প্রশাসনিক নিশ্চয়তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়
শিল্প সম্মেলন হয়, চুক্তির ঘোষণা হয়, কিন্তু বাস্তবে স্থায়ী শিল্প ও কর্মসংস্থান কতটা তৈরি হচ্ছে— সেই প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট নয়।
🚢 বন্দর ও ভৌগোলিক সুবিধা থাকা সত্ত্বেও কেন ব্যর্থতা?
কলকাতা ও হলদিয়া বন্দর— এই দুই বন্দর চাইলে পূর্ব ভারতের সবচেয়ে বড় রপ্তানি হাব হতে পারত।
বাংলাদেশ, উত্তর-পূর্ব ভারত, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত কৌশলগত।
তবুও প্রশ্ন থেকেই যায়— এই প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক সুবিধা কাজে লাগাতে রাজ্য কেন পারছে না?
👨🎓 শিল্প না থাকলে যুবসমাজ কোথায় যাবে?
শিল্প না থাকলে চাকরি থাকে না। আর চাকরি না থাকলে রাজ্যের যুবসমাজ পাড়ি দেয় ভিনরাজ্যে।
আজ বাংলার হাজার হাজার শিক্ষিত যুবক কাজ খুঁজছেন— মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা কিংবা গুজরাটে।
এই ‘ব্রেন ড্রেন’ কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি দীর্ঘদিনের শিল্প ও কর্মসংস্থান সংকটেরই ফল।
🔍 পিছিয়ে পড়া না কি পিছিয়ে দেওয়া?
পশ্চিমবঙ্গের এই অবস্থান কি শুধুই পরিস্থিতির ফল? নাকি দীর্ঘদিনের নীতিগত সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের প্রতিফলন?
শিল্প, রপ্তানি ও কর্মসংস্থান— এই তিনটি একে অপরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত।
একটি দুর্বল হলে, অন্য দুটিও দুর্বল হবেই।
রপ্তানির পরিসংখ্যান শুধু সংখ্যা নয়— এটা একটি রাজ্যের অর্থনৈতিক স্বাস্থ্য, ভবিষ্যৎ এবং যুবসমাজের সম্ভাবনার প্রতিচ্ছবি।
আজ প্রশ্ন একটাই— পশ্চিমবঙ্গ কি এই বাস্তবতা স্বীকার করে শিল্প ও রপ্তানির পথে নতুন করে হাঁটবে, নাকি অতীতের গৌরব নিয়েই সন্তুষ্ট থাকবে?
👉 আপনার মতামত কী? কমেন্টে লিখুন। এই লেখা শেয়ার করুন। আর এমন বিশ্লেষণধর্মী রাজনৈতিক খবরের জন্য সঙ্গে থাকুন Desher Khobor–এর।
বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিতিশীলতা পশ্চিমবঙ্গের আগামী বিধানসভা নির্বাচনের উপর কিছু প্রভাব ফেলতে পারে, তবে সেটা সরাসরি না, বরং রাজনৈতিক পরিবেশ, ভাবাবেগ ও ইস্যু হিসেবে। নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
. সীমান্ত জেলা ও ভোট-ব্যাঙ্ক প্রভাব
বাংলাদেশের অরাজকতা পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলা — যেমন ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ — এই অঞ্চলের মানুষের মনোবল ও ভোটের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। কারণ: সীমান্তবর্তী এলাকায় বাস্তব বা অনুমানভিত্তিক নিরাপত্তা-ভয় তৈরি হতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলো এই ব্যাপারটিকে ভোট ইস্যু হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করবে, বিশেষ করে নিরাপত্তা ও অভিবাসন বিষয়ে। এটি রাজনৈতিক ডিবেটকে আরও তীব্র করতে পারে।
অভিবাসন ও রিভার্স মাইগ্রেশন ইস্যু
সম্প্রতি দেখা গেছে, পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তে কিছু বাংলাদেশি নাগরিক ভারত থেকে ফিরে যাচ্ছে, যার মধ্যে বহু ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি পরিচয়ে বেআইনি ভাবে ছিলেন। এটি রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারযোগ্য ইস্যু হয়ে উঠেছে:
সেরকম কিছু লোক রিভার্স মাইগ্রেশনের ঘটনা ভোটের আগে যদি বড় আলোচিত হয়, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা অনুভূতি ও ভোটের মনোবৃত্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী আসনগুলিতে রাজনৈতিক দলগুলো এই ইস্যুতে মনোযোগ দিতে পারে।
অভিবাসন-ভিত্তিক রাজনীতির সম্ভাব্য ব্যবহার
রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে এটি ভোট ধরানোর জন্য ইস্যু হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে: নিরাপত্তা ও সীমান্ত ইস্যু নিয়ে ক্ষমতাবিরোধী দলগুলো শক্তি বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারে। অন্যদিকে শাসকদলও নিরাপত্তা-চিন্তা বৃদ্ধি পেলে সেটিকে প্রতিহত করার কৌশল নিতে পারে। এতে ভোটে নৈতিক ও রাজনৈতিক ভাবনায় পার্থক্য গড়ে উঠতে পারে।
সরাসরি নয়, কিন্তু অনুভূতিতে পার্শ্ব-প্রভাব
বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হিংসা বা রাজনৈতিক অস্থিরতা পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের নৈতিক ভাবনা, নিরাপত্তা অনুভূতি ও রাজনৈতিক আখ্যানকে ছুঁতে পারে। কিন্তু: সরাসরি ভোটের পরিমাণ বা গণনা-ফল সম্পূর্ণভাবে এতে নির্ভর করবে না। বরং এটি রাজনৈতিক আড্ডা, প্রচার ভাষা, মতামত মন্থন এবং নির্বাচনী ইস্যু হিসেবে ব্যবহার হবে। এই প্রভাব সীমান্তবর্তী জেলা, বাঙালি অভিবাসীভাবনা, নিরাপত্তা-চিন্তা ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতির মধ্যে ঘুরবে।
বাংলাদেশ কোন পথে? অরাজকতা, গণতন্ত্র ও ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের বাস্তব চিত্র
বাংলাদেশ আজ এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা, সংখ্যালঘু নির্যাতন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের বর্তমান শাসনব্যবস্থা, আসন্ন নির্বাচন, এবং প্রতিবেশী ভারতকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিদ্বেষমূলক রাজনীতির বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
অনেকের মতে, মোহাম্মদ ইউনুস বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে পারছেন না। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অরাজকতা বেড়েই চলেছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর হামলা, তাদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ক্রমাগত ঘটছে।
শুধু সংখ্যালঘুরাই নন—ধর্মনিরপেক্ষ মুক্তচিন্তক, সাংস্কৃতিক কর্মী, সাংবাদিক এবং আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরাও সমানভাবে নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। সংবাদপত্রের দপ্তর ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ভাঙচুরের ঘটনাগুলো স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে ব্যক্তি স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আজ মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে।
ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না দেওয়া হয়, তাহলে সেই নির্বাচন কতটা গণতান্ত্রিক হবে?
গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো জনগণের ভোটাধিকার। যদি জনগণ আওয়ামী লীগকে পছন্দ না করে, তারা স্বাভাবিকভাবেই ভোট দেবে না। কিন্তু একটি দলকে আগেই নির্বাচনের বাইরে সরিয়ে দেওয়া মানে জনগণের মতামতকে অগ্রাহ্য করা।
অনেকের মতে, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিলে জনগণের বড় অংশ তাদেরই ভোট দিতে পারে। সেই ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামী বা ছাত্র রাজনীতির কিছু প্রার্থীর জামানত পর্যন্ত বাজেয়াপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ভয় থেকেই কি আওয়ামী লীগকে নির্বাচনের বাইরে রাখার চেষ্টা?
দীর্ঘদিন লন্ডনে থাকার পর খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান বাংলাদেশে ফিরে এসে বিএনপির নেতৃত্বে সক্রিয় হচ্ছেন। একই সঙ্গে, যারা ছাত্র আন্দোলনের নামে হাসিনাকে দেশত্যাগে বাধ্য করেছিল, তাদের মধ্যে প্রবল ভারতবিদ্বেষ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এই গোষ্ঠীর সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য জোট গঠনের আলোচনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। ফলে বাংলাদেশে এক ধরনের “ভারতবিদ্বেষের প্রতিযোগিতা” শুরু হয়েছে।
বাস্তবতা হলো—বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ ভারতবিদ্বেষী নন। তারা ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেই চলতে চান। একইভাবে, ভারতের জনগণও বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ পোষণ করে না।
দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় থাকলেই অর্থনৈতিক উন্নতি, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণ সম্ভব। অথচ কিছু স্বার্থান্বেষী ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তি রাজনৈতিক লাভের আশায় ভারতবিদ্বেষকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন।
এক ছাত্রনেতা হাদী হত্যার পর বাংলাদেশের একটি অংশ দাবি করছে যে হত্যাকারী ভারতে পালিয়ে গেছে। কিন্তু এই দাবির পেছনে বাস্তব প্রমাণ কতটা আছে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়ে যায়।
ভারত বরাবরই বাংলাদেশ সম্পর্কে সংযত ও দায়িত্বশীল অবস্থান নিয়েছে। কখনো উসকানিমূলক বক্তব্য দেয়নি। বরং কিছু মানুষ “সেভেন সিস্টার আলাদা করে দেওয়া”র মতো চরম বক্তব্য দিয়ে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে।
প্রকৃত প্রশ্ন হওয়া উচিত—কে এই হত্যাকাণ্ড ঘটাল এবং এতে কারা লাভবান হচ্ছে? কারণ রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের পর সাধারণ মানুষের আবেগকে পুঁজি করেই অনেক সময় ভোটব্যাংক তৈরির চেষ্টা করা হয়।
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে—নদী, জঙ্গল ও দুর্গম এলাকায় ঘেরা। সমাজবিরোধী অপরাধীরা প্রায়ই এই সীমান্ত অঞ্চল ব্যবহার করে এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাতায়াত করে থাকে। অতীতেও এমন ঘটনা ঘটেছে যেখানে অপরাধ করে তারা আবার গা ঢাকা দিয়েছে।
তাই সব দোষ একতরফাভাবে ভারতের ওপর চাপানো সহজ হলেও, সত্য উদঘাটনের জন্য নিরপেক্ষ ও গভীর তদন্ত অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশের পুলিশের উচিত দলের ভেতরের অন্তর্দ্বন্দ্বসহ সব দিক খতিয়ে দেখা।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শান্তি, গণতন্ত্র ও মানবিক মূল্যবোধের ওপর নির্ভরশীল। সব রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া, মানুষের মতামতকে সম্মান করা এবং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখাই একমাত্র সঠিক পথ।
বিদ্বেষ নয়, বন্ধুত্বই উন্নতির চাবিকাঠি—এই সত্য যত দ্রুত বাংলাদেশ ও এই অঞ্চলের রাজনীতি বুঝবে, তত দ্রুতই স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক: ঐতিহাসিক মৈত্রী বনাম বর্তমানের অকৃতজ্ঞতা ও মৌলবাদের আস্ফালন
ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক কেবল দুটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের কূটনৈতিক সমীকরণ নয়—এই সম্পর্ক রক্ত, আত্মত্যাগ, ইতিহাস এবং পারস্পরিক নির্ভরতার ওপর গড়ে উঠেছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত যেভাবে বন্ধুর মতো নয়, নিজের ভাইয়ের মতো পাশে দাঁড়িয়েছিল, তা বিশ্ব ইতিহাসে বিরল। লক্ষ লক্ষ শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়া থেকে শুরু করে ভারতীয় সেনাবাহিনীর রক্তদান—সবই ছিল এক স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ দেখার লক্ষ্যে। যুদ্ধজয়ের পর ভারত সেখানে নিজের সেনা মোতায়েন রাখেনি, বরং সসম্মানে ফিরিয়ে এনে প্রমাণ করেছিল যে ভারতের লক্ষ্য ‘দখল’ নয়, ছিল ‘মুক্তি’।
অথচ আজ সেই ইতিহাসের পাতায় কালিমালিপ্ত করার এক ঘৃণ্য প্রচেষ্টা আমরা লক্ষ্য করছি।
ভারতের উদারতা বনাম বর্তমান বাস্তবতা অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক—উভয় ক্ষেত্রেই ভারত সবসময় ‘বড় ভাই’-এর মতো উদারতা দেখিয়েছে। ছিটমহল বিনিময় চুক্তির মাধ্যমে ভারত নিজের জমির মায়া ত্যাগ করে দীর্ঘমেয়াদী শান্তির স্বার্থে মানবিকতার নজির গড়েছে। বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যের সুবিধার্থে নিজের বন্দর ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে, যা তাদের অর্থনীতিকে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সাহায্য করেছে। এমনকি বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তার চাবিকাঠিও অনেকাংশে ভারতের হাতে। ভারত থেকে খাদ্যদ্রব্য সরবরাহ বন্ধ হলে বাংলাদেশে মুদ্রাস্ফীতি যে পর্যায়ে পৌঁছাবে, তা সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তোলার জন্য যথেষ্ট।
অরাজকতা এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতা কিন্তু বর্তমান বাংলাদেশের চিত্রটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সম্প্রতি হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যে অরাজকতা সৃষ্টি হয়েছে, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও সংবাদমাধ্যমের অফিসে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে—তা এক ভয়াবহ ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে একজন সংখ্যালঘু হিন্দু যুবককে পিটিয়ে মেরে গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা যে পৈশাচিক মানসিকতার পরিচয় দেয়, তা সভ্য সমাজে অকল্পনীয়।
এই পরিস্থিতির জন্য বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ব্যর্থতাও কম দায়ী নয়। প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার অভাব এবং দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার ফলে দেশের মাটির সঙ্গে সংযোগহীনতা প্রকট হয়ে উঠছে। তিনি নির্বাচিত নন এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া অকারণে বিলম্বিত করে চলেছেন। একটি গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় থাকলে হয়তো পরিস্থিতির মোকাবিলা অনেক বেশি দায়িত্বশীলভাবে করা সম্ভব হতো। কিন্তু বর্তমান শাসনে মৌলবাদীরা যে প্রশ্রয় পাচ্ছে, তা স্পষ্ট।
সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত ও ভারত-বিদ্বেষ সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো, কোনো প্রমাণ বা তদন্ত ছাড়াই ঢালাওভাবে ভারতকে দোষারোপ করার এক অন্ধ সংস্কৃতি তৈরি করা হয়েছে। ভারতীয় হাইকমিশনের দিকে মিছিল এবং হামলার চেষ্টা সেই বিদ্বেষেরই বহিঃপ্রকাশ।
সম্প্রতি এই বিদ্বেষ এক বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। ভারতের ইতিহাসে যাকে ‘দখলদার’ বলা হয়, সেই বাবরের নাম করে ঢাকায় স্লোগান উঠছে। ছাত্র শিবিরের কিছু নেতা স্লোগান দিয়েছেন—‘বাবরের পথ’ ধরে ভারতের সেভেন সিস্টার্স বা উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিকে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে। এটি আর কেবল অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা নয়, এটি ভারতের নিরাপত্তার প্রতি হুমকি।
উপসংহার ভারত সবসময়ই চেয়েছে বাংলাদেশ একটি স্থিতিশীল, সন্ত্রাসমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র হোক। কারণ একটি অশান্ত বাংলাদেশ ভারতের পূর্ব সীমান্তের নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি। কিন্তু মনে রাখা প্রয়োজন, ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক একপাক্ষিক হতে পারে না। ইতিহাস সাক্ষী—সহযোগিতা দুই দেশকেই এগিয়ে নিয়ে যায়, আর অবিশ্বাস ও অকৃতজ্ঞতা ধ্বংস ডেকে আনে।
ভারত এখনো আশা করে বাংলাদেশে শুভবুদ্ধির উদয় হবে, তারা তাদের ভুল বুঝতে পারবে এবং হিংসার পথ ছেড়ে শান্তি ও উন্নয়নের পথে ফিরবে। কিন্তু ভারতের সার্বভৌমত্বের দিকে আঙুল তুললে বা ইতিহাস বিস্মৃত হলে তার ফল যে ভালো হবে না, এই বার্তাটিও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
ড্রাফ্ট ভোটার তালিকা প্রকাশ – গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এক নজরে
পশ্চিমবঙ্গে সদ্য প্রকাশিত ড্রাফ্ট ভোটার তালিকা অনুযায়ী, লক্ষ লক্ষ ভোটারের ক্ষেত্রে যাচাই ও শুনানির প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে। সাধারণ ভোটারদের জন্য জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি কিছু বিষয় নিচে সহজভাবে তুলে ধরা হল
❌ বাদ পড়তে পারে প্রায় ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৮ জন ভোটারের নাম
এই তালিকায় রয়েছেন —
অনুপস্থিত ভোটার
ঠিকানা পরিবর্তন করা ভোটার
মৃত ভোটার
ডুপ্লিকেট (একাধিক জায়গায় নাম থাকা) ভোটার
👉 যাচাই শেষে এদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে।
⚠️ প্রায় ৩০ লক্ষ ৫৯ হাজার ভোটারের ম্যাপিং হয়নি
এই ভোটারদের শুনানিতে ডাকা হবে
শুনানির মাধ্যমে যাচাই করা হবে তারা যোগ্য ভোটার কি না
🔍 আরও প্রায় ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারের পুনরায় যাচাই চলছে
এই তালিকার ভোটারদের মধ্য থেকেও
অনেকেই শুনানির নোটিশ পেতে পারেন
📩 শুনানির নোটিশ কীভাবে পাবেন?
SMS-এর মাধ্যমে, অথবা
BLO এর মাধ্যমে
📅 নির্ধারিত দিনে যেতে না পারলে?
নির্দিষ্ট তারিখে হাজির হতে অসুবিধা থাকলে
আপনাকে বিকল্প তারিখ দেওয়া হবে
তাই আতঙ্কের কোনও কারণ নেই
শুনানিতে কী নথি লাগবে?
👉 নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিত নথি নিয়ে যেতে হবে
📝 দাবি–আপত্তি জানানোর সময়সীমা
📆 ১৬ ডিসেম্বর থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত
দাবি আপত্তি অভিযোগ জানানো যাবে
🆕 কোন ফর্ম কখন ব্যবহার করবেন?
নতুন ভোটার → ফর্ম ৬
নাম বাদ দিতে চাইলে → ফর্ম ৭
ভুল সংশোধনের জন্য → ফর্ম ৮
📌 চূড়ান্ত ভোটার তালিকা কবে?
🗓️ ১৪ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬
➡️ এই দিন প্রকাশিত হবে Final Voter List
🔔 ভোটারদের জন্য জরুরি পরামর্শ
✔️ নিজের নাম ড্রাফ্ট ভোটার তালিকায় আছে কিনা চেক করুন
✔️ SMS বা BLO-র নোটিশ অবহেলা করবেন না
👉 ভোটাধিকার রক্ষা করতে সচেতন থাকুন।
বিজেপির ভৌগোলিক বিস্তার: 'গো বলয়'-এর ধারণা কি তবে ভুল প্রমাণিত?
ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) নিয়ে দীর্ঘদিনের একটি ধারণা প্রচলিত ছিল—এটি মূলত 'গো বলয়' (Hindi Heartland) এবং পশ্চিম ভারতের একটি দল, যার ভিত্তি হলো হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শ ও মারওয়াড়ি সম্প্রদায়ের সমর্থন। একসময় মনে করা হত, উত্তর ও পশ্চিম ভারতের বাইরে বিশেষত পূর্ব ও দক্ষিণ ভারতে তাদের বিস্তার প্রায় অসম্ভব।
কিন্তু গত কয়েক বছরে চিত্রটা সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে।
পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের জয়যাত্রা
অল্প সময়ের মধ্যেই বিজেপি পূর্ব ভারতে প্রায় সম্পূর্ণভাবে নিজেদের ঘাঁটি মজবুত করেছে। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের অধিকাংশ রাজ্যেই এখন বিজেপি ক্ষমতায়। পশ্চিমবঙ্গেও তারা বর্তমানে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে উঠে এসেছে। এই পরিবর্তন প্রমাণ করে যে পূর্ব ভারতের রাজনীতিতে বিজেপি এখন এক অনস্বীকার্য শক্তি।
দক্ষিণ ভারতে প্রভাব বৃদ্ধি:
এর পরের যুক্তি ছিল—দক্ষিণ ভারত তুলনামূলকভাবে বেশি শিক্ষিত ও সচেতন, তাই সেখানে হিন্দুত্ববাদী দলের প্রভাব খাটবে না। কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, এমনকি বিজেপির জন্য সবচেয়ে কঠিন দুই রাজ্য—তামিলনাড়ু ও কেরালা—এই অঞ্চলগুলিতেও তাদের জায়গা নেই।
তবে এই ধারণাও ধীরে ধীরে ভুল প্রমাণিত হচ্ছে।
কর্ণাটকে বিজেপি বহু আগেই অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।
তেলেঙ্গানা ও অন্ধ্রপ্রদেশেও তাদের ভোটের হার ও প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে।
সবচেয়ে বড় চমকটি এসেছে কেরালা থেকে, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে কেবল কংগ্রেস ও সিপিএম-এর মধ্যেই ক্ষমতা বদল হয়েছে। সম্প্রতি কেরালার রাজধানী তিরুঅনন্তপুরমের পৌরসভা নির্বাচনে বিজেপি একটি বৃহৎ দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এই ঘটনা স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে, উচ্চ সাক্ষরতার হার আর বিজেপির বিস্তারের পথে বড় বাধা নয়।
নতুন উপসংহার
বিজেপির এই ক্রমাগত ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বিস্তার একথাই প্রমাণ করে যে, তাদের ক্ষমতাকে কেবল একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের বা একটি বিশেষ সামাজিক স্তরের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখার দিন শেষ। ভারতীয় রাজনীতিতে বিজেপি এখন এমন এক দল, যার প্রভাব দেশের প্রায় প্রতিটি কোণায় অনুভূত হচ্ছে। তাদের কৌশল, সংগঠন এবং সর্বভারতীয় গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।
Desher Khobor
২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেট শুধু সংখ্যার হিসাব নয়। এই বাজেট দেখায় যে সরকার ভবিষ্যতে কেমন ভারত গড়তে চায়।
এই বাজেটের মূল ফোকাস তিনটি স্তম্ভের উপর ভিত্তি করে তৈরি—
সাধারণ মানুষের জন্য এতে কী আছে?
কিছু পণ্যের আমদানি শুল্ক ২০% থেকে কমিয়ে ১০% করা হয়েছে
আয়করের স্তরে কোনো পরিবর্তন নেই
২০২৬ সালের বাজেট মানে—
উন্নত রাস্তা এবং রেলপথ
আধুনিক কারখানা
প্রযুক্তি-নির্ভর কৃষি
এমন একটি উন্নয়নের নীলনকশা যা কৃষক, শিল্প এবং শহরগুলোকে সংযুক্ত করে। এই বাজেট আগামী কয়েক দশকের জন্য ভারতের পথনির্দেশ করছে।
আপনি কি একমত?
5 days ago | [YT] | 0
View 0 replies
Desher Khobor
ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA): অর্থনীতির নতুন দিগন্ত
দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে ২৭ জানুয়ারি ২০২৬-এ ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) মধ্যে ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা Free Trade Agreement (FTA) চূড়ান্ত হয়েছে। এই চুক্তিটিকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম বা "Mother of All Deals" হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।
ভারত ও ইইউ একে-অপরের সঙ্গে শুল্ক হ্রাস বা প্রায় অধিকাংশ পণ্যের উপর শুল্ক মুছবে, যাতে পণ্য-পরিষেবা সহজে দু’দিকের বাজারে প্রবেশ করতে পারে।
এই চুক্তির ফলে দুই দেশের আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যে যে বিশাল পরিবর্তনের আশা করা হচ্ছে,:
এই চুক্তির সবচেয়ে বড় সুফল পাবে ভারতের শ্রম-নির্ভর শিল্পগুলো। ইউরোপের বাজারে ভারতের প্রায় ৯৯.৫% পণ্য এখন শুল্কমুক্ত (Duty-Free) প্রবেশের সুবিধা পাবে। এর ফলে রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে
ভারতে আমদানি বৃদ্ধি ও সস্তা পণ্য (Imports & Cheaper Goods)
ইউরোপ থেকে আসা উচ্চমানের পণ্যগুলোর ওপর ভারত তাদের চড়া আমদানি শুল্ক কমাবে। এর ফলে ভারতীয় বাজারে ইউরোপীয় পণ্য সস্তা হবে এবং আমদানি বাড়বে:
চাকরির সুযোগ: এই চুক্তির ফলে ইউরোপে ভারতীয়দের জন্য চাকরি ও পেশাদার পরিষেবার সুযোগ বাড়বে।
এই চুক্তিটি ভারত ও ইউরোপ মিলিয়ে প্রায় ২০০ কোটি মানুষের একটি বিশাল বাজার তৈরি করবে। একদিকে যেমন ভারতের রপ্তানি ও কর্মসংস্থান বাড়বে, অন্যদিকে ভারতীয় ভোক্তারা কম দামে উন্নত ইউরোপীয় পণ্য ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।
1 week ago (edited) | [YT] | 0
View 0 replies
Desher Khobor
“যতই কর হামলা, আবার জিতবে বাংলা”
“বাংলা জিতবে” — কিন্তু কার বিরুদ্ধে?
নির্বাচন একটি রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, কোনো বহির্শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ নয়। পশ্চিমবঙ্গে ভোটের লড়াই হচ্ছে—
তৃণমূল কংগ্রেস বনাম বিজেপি
অথবা তৃণমূল বনাম অন্যান্য বিরোধী শক্তি
এখানে “বাংলা” কোনো পক্ষ নয়, পক্ষ হলো রাজনৈতিক দল।
তাই “বাংলা জিতবে” বলাটা একটি অস্পষ্ট, বিভ্রান্তিকর ও আবেগপ্রবণ স্লোগান, যার মাধ্যমে মূল প্রশ্নটি এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে—
তৃণমূল জিতবে কি না?
যদি দলটির নিজের জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাস থাকত, তাহলে সরাসরি বলা যেত—
“তৃণমূল আবার জিতবে”
কিন্তু সেটা না বলে “বাংলা জিতবে” বলা মানেই রাজনৈতিক দ্বিধা ও আত্মবিশ্বাসের অভাব।
1 week ago | [YT] | 0
View 0 replies
Desher Khobor
পশ্চিমবঙ্গ কেন এতো পিছিয়ে?
মহারাষ্ট্রের সঙ্গে রপ্তানি তুলনা কী বলছে?
এক সময় পশ্চিমবঙ্গ ছিল ভারতের শিল্প ও বাণিজ্যের অন্যতম চালিকাশক্তি।
কলকাতা ছিল দেশের শিল্প-রাজধানী, হাওড়া–দুর্গাপুর ছিল ইস্পাত ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রাণকেন্দ্র।
কিন্তু আজ সেই পশ্চিমবঙ্গই রপ্তানির নিরিখে ভারতের রাজ্যগুলোর তালিকায় দ্বাদশ স্থানে।
প্রশ্ন উঠছে—
পশ্চিমবঙ্গ কি স্বাভাবিকভাবেই পিছিয়ে পড়েছে,
নাকি নীতিগত ব্যর্থতার কারণেই আজ এই অবস্থান?
📊 পশ্চিমবঙ্গের রপ্তানির বর্তমান চিত্র
২০২৩–২৪ অর্থবর্ষে পশ্চিমবঙ্গের মোট পণ্য রপ্তানির পরিমাণ প্রায়
৯৭,০০০ কোটি টাকা।
রাজ্যের প্রধান রপ্তানি পণ্যগুলির মধ্যে রয়েছে—
রত্ন ও গয়না
চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য
পাটজাত দ্রব্য
বস্ত্র
চা
লোহা ও ইস্পাত
এই তালিকা দেখলেই বোঝা যায়,
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পশ্চিমবঙ্গ এখনও পুরনো শিল্প কাঠামোর ওপর নির্ভরশীল।
নতুন যুগের হাই-ভ্যালু ম্যানুফ্যাকচারিং বা প্রযুক্তিনির্ভর রপ্তানি এখানে খুবই সীমিত।
📈 মহারাষ্ট্রের সঙ্গে তুলনা: বাস্তবতার আয়না
এবার নজর দেওয়া যাক মহারাষ্ট্রের দিকে।
একই সময়ে মহারাষ্ট্র রপ্তানি করেছে প্রায়
৫.৫ লক্ষ কোটি টাকার পণ্য।
অর্থাৎ—
পশ্চিমবঙ্গের তুলনায় মহারাষ্ট্রের রপ্তানি প্রায় পাঁচ গুণেরও বেশি।
এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—
একই দেশ, একই কেন্দ্রীয় নীতি, একই বৈদেশিক বাজার থাকা সত্ত্বেও
এই বিশাল ব্যবধান কেন?
🏭 শিল্পনীতি বনাম বাস্তবতা
রাজ্য সরকার বারবার দাবি করে যে পশ্চিমবঙ্গ শিল্পবান্ধব।
কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা।
বড় শিল্প বিনিয়োগ রাজ্যে আসতে অনীহা দেখায়
নতুন ম্যানুফ্যাকচারিং ক্লাস্টার গড়ে ওঠে না
নীতির ধারাবাহিকতা ও প্রশাসনিক নিশ্চয়তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়
শিল্প সম্মেলন হয়,
চুক্তির ঘোষণা হয়,
কিন্তু বাস্তবে স্থায়ী শিল্প ও কর্মসংস্থান কতটা তৈরি হচ্ছে—
সেই প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট নয়।
🚢 বন্দর ও ভৌগোলিক সুবিধা থাকা সত্ত্বেও কেন ব্যর্থতা?
কলকাতা ও হলদিয়া বন্দর—
এই দুই বন্দর চাইলে পূর্ব ভারতের সবচেয়ে বড় রপ্তানি হাব হতে পারত।
বাংলাদেশ, উত্তর-পূর্ব ভারত, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে
পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত কৌশলগত।
তবুও প্রশ্ন থেকেই যায়—
এই প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক সুবিধা কাজে লাগাতে রাজ্য কেন পারছে না?
👨🎓 শিল্প না থাকলে যুবসমাজ কোথায় যাবে?
শিল্প না থাকলে চাকরি থাকে না।
আর চাকরি না থাকলে রাজ্যের যুবসমাজ পাড়ি দেয় ভিনরাজ্যে।
আজ বাংলার হাজার হাজার শিক্ষিত যুবক কাজ খুঁজছেন—
মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা কিংবা গুজরাটে।
এই ‘ব্রেন ড্রেন’ কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়,
এটি দীর্ঘদিনের শিল্প ও কর্মসংস্থান সংকটেরই ফল।
🔍 পিছিয়ে পড়া না কি পিছিয়ে দেওয়া?
পশ্চিমবঙ্গের এই অবস্থান কি শুধুই পরিস্থিতির ফল?
নাকি দীর্ঘদিনের নীতিগত সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের প্রতিফলন?
শিল্প, রপ্তানি ও কর্মসংস্থান—
এই তিনটি একে অপরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত।
একটি দুর্বল হলে,
অন্য দুটিও দুর্বল হবেই।
রপ্তানির পরিসংখ্যান শুধু সংখ্যা নয়—
এটা একটি রাজ্যের অর্থনৈতিক স্বাস্থ্য, ভবিষ্যৎ এবং যুবসমাজের সম্ভাবনার প্রতিচ্ছবি।
আজ প্রশ্ন একটাই—
পশ্চিমবঙ্গ কি এই বাস্তবতা স্বীকার করে
শিল্প ও রপ্তানির পথে নতুন করে হাঁটবে,
নাকি অতীতের গৌরব নিয়েই সন্তুষ্ট থাকবে?
👉 আপনার মতামত কী?
কমেন্টে লিখুন।
এই লেখা শেয়ার করুন।
আর এমন বিশ্লেষণধর্মী রাজনৈতিক খবরের জন্য সঙ্গে থাকুন Desher Khobor–এর।
1 week ago | [YT] | 0
View 0 replies
Desher Khobor
বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিতিশীলতা পশ্চিমবঙ্গের আগামী বিধানসভা নির্বাচনের উপর কিছু প্রভাব ফেলতে পারে, তবে সেটা সরাসরি না, বরং রাজনৈতিক পরিবেশ, ভাবাবেগ ও ইস্যু হিসেবে। নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
. সীমান্ত জেলা ও ভোট-ব্যাঙ্ক প্রভাব
বাংলাদেশের অরাজকতা পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলা — যেমন ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ — এই অঞ্চলের মানুষের মনোবল ও ভোটের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। কারণ:
সীমান্তবর্তী এলাকায় বাস্তব বা অনুমানভিত্তিক নিরাপত্তা-ভয় তৈরি হতে পারে।
রাজনৈতিক দলগুলো এই ব্যাপারটিকে ভোট ইস্যু হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করবে, বিশেষ করে নিরাপত্তা ও অভিবাসন বিষয়ে।
এটি রাজনৈতিক ডিবেটকে আরও তীব্র করতে পারে।
অভিবাসন ও রিভার্স মাইগ্রেশন ইস্যু
সম্প্রতি দেখা গেছে, পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তে কিছু বাংলাদেশি নাগরিক ভারত থেকে ফিরে যাচ্ছে, যার মধ্যে বহু ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি পরিচয়ে বেআইনি ভাবে ছিলেন। এটি রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারযোগ্য ইস্যু হয়ে উঠেছে:
সেরকম কিছু লোক রিভার্স মাইগ্রেশনের ঘটনা ভোটের আগে যদি বড় আলোচিত হয়, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা অনুভূতি ও ভোটের মনোবৃত্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষ করে সীমান্তবর্তী আসনগুলিতে রাজনৈতিক দলগুলো এই ইস্যুতে মনোযোগ দিতে পারে।
অভিবাসন-ভিত্তিক রাজনীতির সম্ভাব্য ব্যবহার
রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে এটি ভোট ধরানোর জন্য ইস্যু হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে:
নিরাপত্তা ও সীমান্ত ইস্যু নিয়ে ক্ষমতাবিরোধী দলগুলো শক্তি বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারে।
অন্যদিকে শাসকদলও নিরাপত্তা-চিন্তা বৃদ্ধি পেলে সেটিকে প্রতিহত করার কৌশল নিতে পারে।
এতে ভোটে নৈতিক ও রাজনৈতিক ভাবনায় পার্থক্য গড়ে উঠতে পারে।
সরাসরি নয়, কিন্তু অনুভূতিতে পার্শ্ব-প্রভাব
বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হিংসা বা রাজনৈতিক অস্থিরতা পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের নৈতিক ভাবনা, নিরাপত্তা অনুভূতি ও রাজনৈতিক আখ্যানকে ছুঁতে পারে। কিন্তু:
সরাসরি ভোটের পরিমাণ বা গণনা-ফল সম্পূর্ণভাবে এতে নির্ভর করবে না।
বরং এটি রাজনৈতিক আড্ডা, প্রচার ভাষা, মতামত মন্থন এবং নির্বাচনী ইস্যু হিসেবে ব্যবহার হবে।
এই প্রভাব সীমান্তবর্তী জেলা, বাঙালি অভিবাসীভাবনা, নিরাপত্তা-চিন্তা ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতির মধ্যে ঘুরবে।
1 month ago | [YT] | 1
View 0 replies
Desher Khobor
বাংলাদেশ কোন পথে? অরাজকতা, গণতন্ত্র ও ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের বাস্তব চিত্র
বাংলাদেশ আজ এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা, সংখ্যালঘু নির্যাতন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের বর্তমান শাসনব্যবস্থা, আসন্ন নির্বাচন, এবং প্রতিবেশী ভারতকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিদ্বেষমূলক রাজনীতির বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
অনেকের মতে, মোহাম্মদ ইউনুস বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে পারছেন না। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অরাজকতা বেড়েই চলেছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর হামলা, তাদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ক্রমাগত ঘটছে।
শুধু সংখ্যালঘুরাই নন—ধর্মনিরপেক্ষ মুক্তচিন্তক, সাংস্কৃতিক কর্মী, সাংবাদিক এবং আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরাও সমানভাবে নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। সংবাদপত্রের দপ্তর ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ভাঙচুরের ঘটনাগুলো স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে ব্যক্তি স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আজ মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে।
ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না দেওয়া হয়, তাহলে সেই নির্বাচন কতটা গণতান্ত্রিক হবে?
গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো জনগণের ভোটাধিকার। যদি জনগণ আওয়ামী লীগকে পছন্দ না করে, তারা স্বাভাবিকভাবেই ভোট দেবে না। কিন্তু একটি দলকে আগেই নির্বাচনের বাইরে সরিয়ে দেওয়া মানে জনগণের মতামতকে অগ্রাহ্য করা।
অনেকের মতে, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিলে জনগণের বড় অংশ তাদেরই ভোট দিতে পারে। সেই ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামী বা ছাত্র রাজনীতির কিছু প্রার্থীর জামানত পর্যন্ত বাজেয়াপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ভয় থেকেই কি আওয়ামী লীগকে নির্বাচনের বাইরে রাখার চেষ্টা?
দীর্ঘদিন লন্ডনে থাকার পর খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান বাংলাদেশে ফিরে এসে বিএনপির নেতৃত্বে সক্রিয় হচ্ছেন। একই সঙ্গে, যারা ছাত্র আন্দোলনের নামে হাসিনাকে দেশত্যাগে বাধ্য করেছিল, তাদের মধ্যে প্রবল ভারতবিদ্বেষ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এই গোষ্ঠীর সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য জোট গঠনের আলোচনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। ফলে বাংলাদেশে এক ধরনের “ভারতবিদ্বেষের প্রতিযোগিতা” শুরু হয়েছে।
বাস্তবতা হলো—বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ ভারতবিদ্বেষী নন। তারা ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেই চলতে চান। একইভাবে, ভারতের জনগণও বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ পোষণ করে না।
দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় থাকলেই অর্থনৈতিক উন্নতি, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণ সম্ভব। অথচ কিছু স্বার্থান্বেষী ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তি রাজনৈতিক লাভের আশায় ভারতবিদ্বেষকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন।
এক ছাত্রনেতা হাদী হত্যার পর বাংলাদেশের একটি অংশ দাবি করছে যে হত্যাকারী ভারতে পালিয়ে গেছে। কিন্তু এই দাবির পেছনে বাস্তব প্রমাণ কতটা আছে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়ে যায়।
ভারত বরাবরই বাংলাদেশ সম্পর্কে সংযত ও দায়িত্বশীল অবস্থান নিয়েছে। কখনো উসকানিমূলক বক্তব্য দেয়নি। বরং কিছু মানুষ “সেভেন সিস্টার আলাদা করে দেওয়া”র মতো চরম বক্তব্য দিয়ে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে।
প্রকৃত প্রশ্ন হওয়া উচিত—কে এই হত্যাকাণ্ড ঘটাল এবং এতে কারা লাভবান হচ্ছে? কারণ রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের পর সাধারণ মানুষের আবেগকে পুঁজি করেই অনেক সময় ভোটব্যাংক তৈরির চেষ্টা করা হয়।
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে—নদী, জঙ্গল ও দুর্গম এলাকায় ঘেরা। সমাজবিরোধী অপরাধীরা প্রায়ই এই সীমান্ত অঞ্চল ব্যবহার করে এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাতায়াত করে থাকে। অতীতেও এমন ঘটনা ঘটেছে যেখানে অপরাধ করে তারা আবার গা ঢাকা দিয়েছে।
তাই সব দোষ একতরফাভাবে ভারতের ওপর চাপানো সহজ হলেও, সত্য উদঘাটনের জন্য নিরপেক্ষ ও গভীর তদন্ত অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশের পুলিশের উচিত দলের ভেতরের অন্তর্দ্বন্দ্বসহ সব দিক খতিয়ে দেখা।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শান্তি, গণতন্ত্র ও মানবিক মূল্যবোধের ওপর নির্ভরশীল। সব রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া, মানুষের মতামতকে সম্মান করা এবং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখাই একমাত্র সঠিক পথ।
বিদ্বেষ নয়, বন্ধুত্বই উন্নতির চাবিকাঠি—এই সত্য যত দ্রুত বাংলাদেশ ও এই অঞ্চলের রাজনীতি বুঝবে, তত দ্রুতই স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।
1 month ago | [YT] | 0
View 0 replies
Desher Khobor
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক: ঐতিহাসিক মৈত্রী বনাম বর্তমানের অকৃতজ্ঞতা ও মৌলবাদের আস্ফালন
ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক কেবল দুটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের কূটনৈতিক সমীকরণ নয়—এই সম্পর্ক রক্ত, আত্মত্যাগ, ইতিহাস এবং পারস্পরিক নির্ভরতার ওপর গড়ে উঠেছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত যেভাবে বন্ধুর মতো নয়, নিজের ভাইয়ের মতো পাশে দাঁড়িয়েছিল, তা বিশ্ব ইতিহাসে বিরল। লক্ষ লক্ষ শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়া থেকে শুরু করে ভারতীয় সেনাবাহিনীর রক্তদান—সবই ছিল এক স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ দেখার লক্ষ্যে। যুদ্ধজয়ের পর ভারত সেখানে নিজের সেনা মোতায়েন রাখেনি, বরং সসম্মানে ফিরিয়ে এনে প্রমাণ করেছিল যে ভারতের লক্ষ্য ‘দখল’ নয়, ছিল ‘মুক্তি’।
অথচ আজ সেই ইতিহাসের পাতায় কালিমালিপ্ত করার এক ঘৃণ্য প্রচেষ্টা আমরা লক্ষ্য করছি।
ভারতের উদারতা বনাম বর্তমান বাস্তবতা অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক—উভয় ক্ষেত্রেই ভারত সবসময় ‘বড় ভাই’-এর মতো উদারতা দেখিয়েছে। ছিটমহল বিনিময় চুক্তির মাধ্যমে ভারত নিজের জমির মায়া ত্যাগ করে দীর্ঘমেয়াদী শান্তির স্বার্থে মানবিকতার নজির গড়েছে। বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যের সুবিধার্থে নিজের বন্দর ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে, যা তাদের অর্থনীতিকে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সাহায্য করেছে। এমনকি বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তার চাবিকাঠিও অনেকাংশে ভারতের হাতে। ভারত থেকে খাদ্যদ্রব্য সরবরাহ বন্ধ হলে বাংলাদেশে মুদ্রাস্ফীতি যে পর্যায়ে পৌঁছাবে, তা সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তোলার জন্য যথেষ্ট।
অরাজকতা এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতা কিন্তু বর্তমান বাংলাদেশের চিত্রটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সম্প্রতি হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যে অরাজকতা সৃষ্টি হয়েছে, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও সংবাদমাধ্যমের অফিসে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে—তা এক ভয়াবহ ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে একজন সংখ্যালঘু হিন্দু যুবককে পিটিয়ে মেরে গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা যে পৈশাচিক মানসিকতার পরিচয় দেয়, তা সভ্য সমাজে অকল্পনীয়।
এই পরিস্থিতির জন্য বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ব্যর্থতাও কম দায়ী নয়। প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার অভাব এবং দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার ফলে দেশের মাটির সঙ্গে সংযোগহীনতা প্রকট হয়ে উঠছে। তিনি নির্বাচিত নন এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া অকারণে বিলম্বিত করে চলেছেন। একটি গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় থাকলে হয়তো পরিস্থিতির মোকাবিলা অনেক বেশি দায়িত্বশীলভাবে করা সম্ভব হতো। কিন্তু বর্তমান শাসনে মৌলবাদীরা যে প্রশ্রয় পাচ্ছে, তা স্পষ্ট।
সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত ও ভারত-বিদ্বেষ সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো, কোনো প্রমাণ বা তদন্ত ছাড়াই ঢালাওভাবে ভারতকে দোষারোপ করার এক অন্ধ সংস্কৃতি তৈরি করা হয়েছে। ভারতীয় হাইকমিশনের দিকে মিছিল এবং হামলার চেষ্টা সেই বিদ্বেষেরই বহিঃপ্রকাশ।
সম্প্রতি এই বিদ্বেষ এক বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। ভারতের ইতিহাসে যাকে ‘দখলদার’ বলা হয়, সেই বাবরের নাম করে ঢাকায় স্লোগান উঠছে। ছাত্র শিবিরের কিছু নেতা স্লোগান দিয়েছেন—‘বাবরের পথ’ ধরে ভারতের সেভেন সিস্টার্স বা উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিকে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে। এটি আর কেবল অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা নয়, এটি ভারতের নিরাপত্তার প্রতি হুমকি।
উপসংহার ভারত সবসময়ই চেয়েছে বাংলাদেশ একটি স্থিতিশীল, সন্ত্রাসমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র হোক। কারণ একটি অশান্ত বাংলাদেশ ভারতের পূর্ব সীমান্তের নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি। কিন্তু মনে রাখা প্রয়োজন, ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক একপাক্ষিক হতে পারে না। ইতিহাস সাক্ষী—সহযোগিতা দুই দেশকেই এগিয়ে নিয়ে যায়, আর অবিশ্বাস ও অকৃতজ্ঞতা ধ্বংস ডেকে আনে।
ভারত এখনো আশা করে বাংলাদেশে শুভবুদ্ধির উদয় হবে, তারা তাদের ভুল বুঝতে পারবে এবং হিংসার পথ ছেড়ে শান্তি ও উন্নয়নের পথে ফিরবে। কিন্তু ভারতের সার্বভৌমত্বের দিকে আঙুল তুললে বা ইতিহাস বিস্মৃত হলে তার ফল যে ভালো হবে না, এই বার্তাটিও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
1 month ago | [YT] | 0
View 0 replies
Desher Khobor
ড্রাফ্ট ভোটার তালিকা প্রকাশ – গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এক নজরে
পশ্চিমবঙ্গে সদ্য প্রকাশিত ড্রাফ্ট ভোটার তালিকা অনুযায়ী, লক্ষ লক্ষ ভোটারের ক্ষেত্রে যাচাই ও শুনানির প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে। সাধারণ ভোটারদের জন্য জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি কিছু বিষয় নিচে সহজভাবে তুলে ধরা হল
❌ বাদ পড়তে পারে প্রায় ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৮ জন ভোটারের নাম
এই তালিকায় রয়েছেন —
অনুপস্থিত ভোটার
ঠিকানা পরিবর্তন করা ভোটার
মৃত ভোটার
ডুপ্লিকেট (একাধিক জায়গায় নাম থাকা) ভোটার
👉 যাচাই শেষে এদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে।
⚠️ প্রায় ৩০ লক্ষ ৫৯ হাজার ভোটারের ম্যাপিং হয়নি
এই ভোটারদের শুনানিতে ডাকা হবে
শুনানির মাধ্যমে যাচাই করা হবে তারা যোগ্য ভোটার কি না
🔍 আরও প্রায় ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারের পুনরায় যাচাই চলছে
এই তালিকার ভোটারদের মধ্য থেকেও
অনেকেই শুনানির নোটিশ পেতে পারেন
📩 শুনানির নোটিশ কীভাবে পাবেন?
SMS-এর মাধ্যমে, অথবা
BLO এর মাধ্যমে
📅 নির্ধারিত দিনে যেতে না পারলে?
নির্দিষ্ট তারিখে হাজির হতে অসুবিধা থাকলে
আপনাকে বিকল্প তারিখ দেওয়া হবে
তাই আতঙ্কের কোনও কারণ নেই
শুনানিতে কী নথি লাগবে?
👉 নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিত নথি নিয়ে যেতে হবে
📝 দাবি–আপত্তি জানানোর সময়সীমা
📆 ১৬ ডিসেম্বর থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত
দাবি আপত্তি অভিযোগ জানানো যাবে
🆕 কোন ফর্ম কখন ব্যবহার করবেন?
নতুন ভোটার → ফর্ম ৬
নাম বাদ দিতে চাইলে → ফর্ম ৭
ভুল সংশোধনের জন্য → ফর্ম ৮
📌 চূড়ান্ত ভোটার তালিকা কবে?
🗓️ ১৪ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬
➡️ এই দিন প্রকাশিত হবে Final Voter List
🔔 ভোটারদের জন্য জরুরি পরামর্শ
✔️ নিজের নাম ড্রাফ্ট ভোটার তালিকায় আছে কিনা চেক করুন
✔️ SMS বা BLO-র নোটিশ অবহেলা করবেন না
👉 ভোটাধিকার রক্ষা করতে সচেতন থাকুন।
1 month ago | [YT] | 0
View 0 replies
Desher Khobor
বিজেপির ভৌগোলিক বিস্তার: 'গো বলয়'-এর ধারণা কি তবে ভুল প্রমাণিত?
ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) নিয়ে দীর্ঘদিনের একটি ধারণা প্রচলিত ছিল—এটি মূলত 'গো বলয়' (Hindi Heartland) এবং পশ্চিম ভারতের একটি দল, যার ভিত্তি হলো হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শ ও মারওয়াড়ি সম্প্রদায়ের সমর্থন। একসময় মনে করা হত, উত্তর ও পশ্চিম ভারতের বাইরে বিশেষত পূর্ব ও দক্ষিণ ভারতে তাদের বিস্তার প্রায় অসম্ভব।
কিন্তু গত কয়েক বছরে চিত্রটা সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে।
পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের জয়যাত্রা
অল্প সময়ের মধ্যেই বিজেপি পূর্ব ভারতে প্রায় সম্পূর্ণভাবে নিজেদের ঘাঁটি মজবুত করেছে। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের অধিকাংশ রাজ্যেই এখন বিজেপি ক্ষমতায়। পশ্চিমবঙ্গেও তারা বর্তমানে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে উঠে এসেছে। এই পরিবর্তন প্রমাণ করে যে পূর্ব ভারতের রাজনীতিতে বিজেপি এখন এক অনস্বীকার্য শক্তি।
দক্ষিণ ভারতে প্রভাব বৃদ্ধি:
এর পরের যুক্তি ছিল—দক্ষিণ ভারত তুলনামূলকভাবে বেশি শিক্ষিত ও সচেতন, তাই সেখানে হিন্দুত্ববাদী দলের প্রভাব খাটবে না। কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, এমনকি বিজেপির জন্য সবচেয়ে কঠিন দুই রাজ্য—তামিলনাড়ু ও কেরালা—এই অঞ্চলগুলিতেও তাদের জায়গা নেই।
তবে এই ধারণাও ধীরে ধীরে ভুল প্রমাণিত হচ্ছে।
কর্ণাটকে বিজেপি বহু আগেই অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।
তেলেঙ্গানা ও অন্ধ্রপ্রদেশেও তাদের ভোটের হার ও প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে।
সবচেয়ে বড় চমকটি এসেছে কেরালা থেকে, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে কেবল কংগ্রেস ও সিপিএম-এর মধ্যেই ক্ষমতা বদল হয়েছে। সম্প্রতি কেরালার রাজধানী তিরুঅনন্তপুরমের পৌরসভা নির্বাচনে বিজেপি একটি বৃহৎ দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এই ঘটনা স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে, উচ্চ সাক্ষরতার হার আর বিজেপির বিস্তারের পথে বড় বাধা নয়।
নতুন উপসংহার
বিজেপির এই ক্রমাগত ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বিস্তার একথাই প্রমাণ করে যে, তাদের ক্ষমতাকে কেবল একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের বা একটি বিশেষ সামাজিক স্তরের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখার দিন শেষ। ভারতীয় রাজনীতিতে বিজেপি এখন এমন এক দল, যার প্রভাব দেশের প্রায় প্রতিটি কোণায় অনুভূত হচ্ছে। তাদের কৌশল, সংগঠন এবং সর্বভারতীয় গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।
1 month ago | [YT] | 0
View 0 replies
Desher Khobor
1 month ago | [YT] | 0
View 0 replies
Load more