আমার এই ছোট্ট ইউটিউব চ্যানেলটিতে তোমাদের সকলকে স্বাগতম।
আমার ভাঙা সাইকেলটাই আমার সঙ্গী, সেটা নিয়েই এদিক ওদিক ঘুরি। হারানো দিনের টান, ভাঙা রাজবাড়ির গল্প, গ্রাম বাংলার ঘ্রাণ আর নস্টালজিক স্মৃতির আলোয় ভরা আমার এই যাত্রাপথে তোমাদের সক্কলকে আমন্ত্রণ রইলো। আমার যাত্রাপথের সঙ্গী হলে, তোমাকেও নিয়ে যেতে পারি তোমার শৈশবে। 🥰
BONGO VLOGGER CHIRANJIT
ঝাড়গ্রামের সাবিত্রী মন্দির শুধু একটি ধর্মস্থান নয়, এই অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে থাকা লোকবিশ্বাস ও কিংবদন্তির এক জীবন্ত স্মারক। আজ থেকে প্রায় চারশো বছর আগে, যখন চারদিকে ছিল ঘন অরণ্য আর মানুষের বসতি ছিল হাতে গোনা, তখন থেকেই এই মন্দিরে দুর্গাপুজোর সূচনা। সেই পুজো আজও চলে আসছে প্রায় একই রীতিতে।
লোকমুখে প্রচলিত আছে, যে -
রাজস্থান থেকে শিকারের উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিলেন রাজা মান সিং। শিকার করতে করতে অচেনা পথে এগিয়ে এসে তিনি পৌঁছে যান এই গভীর জঙ্গলঘেরা অঞ্চলে। হঠাৎই তাঁর চোখে পড়ে এক অপরূপ সুন্দরী রমণী, যিনি একা দাঁড়িয়ে আছেন অরণ্যের মাঝে।
রমণীর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে রাজা মুহূর্তের মধ্যেই তাঁকে বিবাহের প্রস্তাব দেন। রমণী তাতে সম্মত হলেও একটি কঠিন শর্ত জুড়ে দেন। তিনি বলেন, রাজা সামনে চলবেন, পথ দেখাবেন, আর তিনি পিছনে পিছনে আসবেন। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই রাজা যেন পিছনে ফিরে না তাকান। তাকালেই অনিবার্য বিপদ।
শর্ত মেনে যাত্রা শুরু হয়। অনেকটা পথ অতিক্রম করার পর রাজার মনে হটাৎ সন্দেহ জাগে -
“সে কি সত্যিই আমার পিছনে আসছে? কোনো শব্দ তো পাচ্ছি না!”
এই সংশয় থেকেই তিনি হঠাৎ পিছনে তাকান। আর সেই মুহূর্তেই ঘটে অলৌকিক ঘটনা। রাজা দেখেন, সেই রমণী ধীরে ধীরে মাটির নিচে তলিয়ে যাচ্ছেন। আতঙ্কিত হয়ে রাজা তাঁকে টেনে ধরার চেষ্টা করেন, কিন্তু ব্যর্থ হন। তাঁর হাতে থেকে যায় শুধুমাত্র একগোছা চুল।
এই ঘটনার পর রাজা বুঝে যান - তিনি কোনো সাধারণ নারীর মুখোমুখি হননি। এর মধ্যে রয়েছে এক অলৌকিক শক্তির ইঙ্গিত।
সেই রাতেই রাজা স্বপ্নাদেশ পান। স্বপ্নে দেবী নিজেই দর্শন দিয়ে জানান—তিনি মা সাবিত্রী। যে স্থানে এই ঘটনা ঘটেছে, ঠিক সেখানেই তাঁর মন্দির নির্মাণ করে নিয়মিত পূজার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন তিনি।
এরপর থেকেই এই স্থানে প্রতিষ্ঠিত হয় সাবিত্রী মন্দির। আজও এখানে মায়ের প্রতিমা নেই, পূজিত হয় মায়ের চুল, এবং দর্শনের জন্য শুধু মুখমণ্ডলের অংশটুকুই প্রতীকীভাবে উপস্থিত আছে।
এই মন্দিরের পুজোয় রয়েছে বলিপ্রথাও। দুর্গাপুজোর সন্ধিপূজায় বলি দেওয়া হয়। দশমীর দিন একটি কলাগাছ স্থাপন করে তাতে তির নিক্ষেপ করা হয়, যার অর্থ - অশুভ শক্তির বিনাশ করে পুজোর সমাপ্তি করা হয়।
মা সাবিত্রী দেবী যেহেতু মা দুর্গারই আর এক রূপ, তাই দুর্গাপুজোর দিনগুলোতে এখানে উৎসব হয় ধুমধাম করে। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম রয়েছে—এখানে দুর্গামূর্তি পূজিত হয় না। এখানে মা সাবিত্রীদেবী পটের মধ্যেই পূজিত হন।
এই কারণেই অনেকের কাছে এই পুজো পরিচিত রয়েছে “পটেশ্বরীর পুজো” নামে।
©চিরঞ্জিত
#jhargramtour #JhargramTourism #Belpahari #familytrip #Jhargram #sabitrimandir
4 weeks ago | [YT] | 1
View 0 replies
BONGO VLOGGER CHIRANJIT
পরীক্ষা শেষ হলেই ছেলেবেলায় আমরা দু চোখে যেন স্বর্গ দেখতাম। বাড়ীর উঠোনে বা কোনো গাছের তলায় এইরকম কলা পাতা, খেজুর পাতা আবার কখনো কখনো মায়ের শাড়ি দিয়ে ঘর বানিয়ে সেই ছাউনির নিচে শুয়ে কতো স্বপ্নও দেখতাম,
ঘুমের মধ্যে আমরা কখনো সাঁতার কেটে নদী পেরোতাম, সারামাঠ জুড়ে ছুটে বেড়াতাম আবার কখনো নিজের রাজ্যের রাজাও হতাম।
নাহ, এ ঘরে ইট নেই, সিমেন্টও নেই -
কিন্তু আছে মাটির গন্ধ, পাতার শীতলতা,
আর এমন এক নিশ্চিন্ততা যার দাম কোনো শহুরে হিসেবেই মেলে না। এখানে দুপুর মানে শুধু সময় নয়, এখানে দুপুর মানে একটু থেমে থাকা, জীবনকে আলতো করে স্পর্শ করা আর বুকে জড়িয়ে ধরা।
শৈশব আসলে এমনই - পাতায় মোড়া, রোদে পোড়া, বৃষ্টিতে ভেজা, যা আজও স্মৃতির পাতায় চিরসবুজ হয়ে আছে। ☺️🥰
©চিরঞ্জিত
🔹এমন পাতার বা মায়ের শাড়ি দিয়ে বানানো ঘরে শুয়েছো কখনো..??? "🥰☺️
#nostalgia #childhood #childhoodmemories #nostalgic #childhoodgames #throwback
1 month ago | [YT] | 5
View 0 replies
BONGO VLOGGER CHIRANJIT
বাংলায় পিঠে-পুলির সংস্কৃতিটা আসলে এলো কোথা থেকে..???
🔸আমাদের এই সংস্কৃতির শিকড় খুব গভীরে, একেবারে কৃষিভিত্তিক বাংলার জন্মকথা।
সংক্ষেপে বললে - ধান, ঋতুচক্র আর লোকাচার সংস্কৃতির মিলন থেকেই প্রচলিত হয় বাংলায় এই পিঠে-পুলি।
ধানকেন্দ্রিক কৃষি সমাজ থেকেই এর শুরু,
বাংলা চিরকালই ধানপ্রধান অঞ্চল। নতুন ধান ঘরে ওঠার পর - চাল ভাঙা হতো, চাল গুঁড়ো করা হতো আর সেই চাল দিয়েই তৈরি হতো নানান রকম উপদেও খাবার।
“নতুন ফসল ঘরে তোলার আনন্দ” থেকেই জন্ম নেয় এই পিঠে পুলির উৎসব ।
পৌষ সংক্রান্তি ও ঋতু পরিবর্তন
শীতকাল, বিশেষ করে পৌষ মাস, বাংলার কৃষিজ জীবনে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এই সময়ে মাঠের কাজ কিছুটা কম থাকে, নতুন চাল আর খেজুর গুড় সহজলভ্যতা, এই সবের কারণ থেকেই পিঠে-পুলি ঋতুভিত্তিক উৎসবের খাবার হয়ে ওঠে।
প্রাচীন বাংলায়-
গ্রাম্য দেবদেবীর পূজা
নবান্ন উৎসব
গৃহদেবতার অর্চনা
এসব ক্ষেত্রে পিঠে ছিল নৈবেদ্য।
পিঠে তাই শুধু খাওয়ার জিনিস নয়, ছিল শুভতার প্রতীক।
এটা ছিল নারীদের হাতেরই পরম্পরা,
পিঠে-পুলি মূলত মুখে মুখে শেখা শিল্প - মা থেকে মেয়ে, শাশুড়ি থেকে বউমা, অথবা প্রতিবেশীর কাছ থেকে শেখা, আজকের মত সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখে শেখা নয়,
“হাতের আন্দাজ”ই ছিল আসল মাপ।
আমাদের বাংলার ভৌগোলিক বৈচিত্র্য একেক জায়গায় একেক রকম, তাই একেক জায়গায় একেক ধরনের পিঠে পুলির আয়োজন করা হয়।
আমাদের এই অঞ্চল নদীঘেরা - তাই এখানে চাল, দুধ, ঘি, খেজুরের গুড় সহজলভ্যতার কারণে এই এলাকায় দুধ পুলি, পাটিসাপটা, চুসি আরও অনেক পিঠে পুলি তৈরীর প্রচলন দেখা যায়।
আজকের দিনে এই "পিঠে পুলি" মানে নস্টালজিয়া
আজ শহরে পিঠে মেলা হয়, ক্যাফেতে পিঠে পাওয়া যায় ঠিকই কিন্তু পিঠে-পুলির আসল জন্ম হয় গ্রামবাংলার উঠোনে, শীতের কুয়াশার ভেতর, এটা অস্বীকার করার কোন জায়গা নেই।
একটা কথা খুব সুন্দরভাবে বলা যায় যে -
"পিঠে-পুলি" হলো বাংলার এমন একটা ইতিহাস, যা এক প্রজন্ম থেকে আর এক প্রজন্মের মুখের স্বাদ হয়ে বেঁচে আছে।☺️🥰
©চিরঞ্জিত
#nostalgia #childhood #childhoodmemories #nostalgic #pithepuli #PithePuliUtsav #throwback
1 month ago | [YT] | 4
View 0 replies
BONGO VLOGGER CHIRANJIT
বইমেলা, মিলন মেলা থেকে শুরু করে ফুলের মেলা, খাদ্য মেলা - এই মেলাগুলোর নাম আমরা অহরহ শুনেই থাকি, বলা ভালো এই হরেক রকম মেলার সম্ভার রয়েছে আমাদের বাংলায়। কিন্তু '‘আলুর দমের মেলা’'...!!! এমন মেলার কথা কী কেউ কোথাও শুনেছো..???
আজগুবি মনে হলেও, এটা কিন্তু সত্যি। হুগলি জেলার রাজবলহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের জান্দা গ্রামে পৌষ সংক্রান্তির দিন, গঙ্গা পূজা উপলক্ষে প্রতি বছর জমে ওঠে এই "জান্দা মেলা বা আলুর দমের মেলা'’।
আনুমানিক প্রায় আড়াইশো বছরের পুরনো এই মেলাটি।
জান্দা গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে দামোদর নদী। মকর সংক্রান্তির দিন বহু দূর-দুরান্ত থেকে মানুষ এসে দামোদরে পূণ্যস্নান সেরে এই মেলায় যোগ দেন।
স্নান সারার পর দিনের প্রথম খাবার হিসাবে তারা খান, মাঠ থেকে সদ্য তোলা নতুন আলু দিয়ে তৈরি আলুর দম এবং মুড়ি। আর সেই কারণেই এই মেলা সকলের কাছে পরিচিতি পেয়েছে ‘'আলুর দমের মেলা'’ নামে।
মকর সংক্রান্তির দিন নতুন আলু দিয়ে তৈরি বিভিন্ন ধরনের আলুর দম তৈরি করে মেলা প্রাঙ্গণে বিক্রি করেন স্থানীয় মানুষ ও ব্যবসায়ীরা। হ্যা, নতুন আলুর দমই কিন্তু, পুরনো আলুর দম একদমই নয়। এ ছাড়াও মেলা উপলক্ষে বিভিন্ন ধরনের দোকানও বসে ওই মেলায়। আলুর দমের পাশাপাশি থাকে অন্যান্য খাবারের দোকানও।
লোকমুখে প্রচলিত আছে যে, এই মেলা যখন শুরু হয়, তখন কয়েক জন মাত্র দামোদরে স্নান করে এখানে আসতেন। খাবার হিসাবে আলুর দম এবং মুড়ি খেতেন। আস্তে আস্তে বড় হতে হতে আজ এই মেলা এত বড় হয়ে আকার নিয়েছে।
©চিরঞ্জিত
#jandafair #jandarmela #rajbalhat #alurdomermela #alurdom #Hooghly #gangapuja
1 month ago | [YT] | 10
View 0 replies
BONGO VLOGGER CHIRANJIT
আনুমানিক ২০০ বছর ধরে মা দুর্গা পূজিত হয়ে আসছেন হুগলীয় জেলার সোমরা বাজারের ব্যানার্জী বাড়িতে। তারা ষষ্ঠ পুরুষ, যারা এই দুর্গা পূজাটিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
5 months ago | [YT] | 1
View 0 replies
BONGO VLOGGER CHIRANJIT
এই চ্যানেলটি তৈরী করার পর থেকে এই প্রথমবারের DP চেঞ্জ করলাম।
5 months ago | [YT] | 8
View 0 replies
BONGO VLOGGER CHIRANJIT
২০২১ সাল থেকে ইউটিউবে এতো পরিশ্রম করে ভিডিও বানিয়েছি, ইদানিং বছরখানেক ধরে ভিডিও নিয়মিত দিচ্ছিনা, এর কারণ - শুধুমাত্র হতাশা। এতো কষ্টকরে ভিডিও বানিয়েও ইউটিউবে সহজে ভিউজ পাওয়া যায়না কিন্তু এই একই ভিডিও যখন ফেসবুকে আপলোড করছি, সেখানে দিব্যি ভালো ভিউজ পাচ্ছি। তাহলে ইউটিউবে কি আমার মতো ছোটো ক্রিয়েটররা সত্যি সত্যি ভিউজ পায় না..??? 😔😔😔🥹🥹
6 months ago | [YT] | 9
View 0 replies
BONGO VLOGGER CHIRANJIT
🥰☺️
6 months ago | [YT] | 4
View 2 replies
BONGO VLOGGER CHIRANJIT
অবশেষে তোমাদের ভালোবাসায় ১০০০ জনের পরিবার তৈরী করতে পারলাম। আগামী দিনেও তোমরা আমাকে এইভাবেই ভালোবাসা দিয়ে যেও।
অনেক অনেক ধন্যবাদ তোমাদের। তোমরা আছো তাই আমারও অস্তিত্ব আছে, তোমরা না থাকলে আমার অস্তিত্বও থাকতো না। 🥰☺️🙏❤️অনেক ভালোবাসা তোমাদের। 😘😘
8 months ago | [YT] | 8
View 0 replies
BONGO VLOGGER CHIRANJIT
হুগলি জেলা তথা পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় প্রাচীনতম রথযাত্রা উৎসব "গুপ্তিপাড়া রথযাত্রা", যা ২৮৫ বছরের ঐতিহ্য।
"জয় জগন্নাথ"❤️🙏❤️
8 months ago (edited) | [YT] | 4
View 0 replies
Load more