তোর ঠাকুরই নাই”
এক ভদ্রলোক ঠাকুরের কাছে গেছেন। আপনারা সবাই জানেন পার্লারে যখন ঠাকুর বসে থাকেন বিভিন্ন ভক্তদের নানা রকম প্রশ্নের সম্মুখীন তাকে হতে হয় এবং তিনি হাত জোড় করে প্রত্যেকটি মানুষের প্রত্যেকটি সমস্যার সমাধান নির্বিকারে সাবলীভাবে দিয়ে যেতেন। ভাবতে অবাক লাগে তারই হাত জোড় করে সকলের কথা শোনা—
এই অনুকূল শব্দের আরদক্ষর দিয়ে যাই শব্দগুলো দিয়ে ঠাকুর সত্যি সারা জীবন এইভাবেই আমাদের জন্য নিজেকে দিয়ে দিয়ে গেছেন।
সেই ভক্ত ঠাকুরের কাছে গিয়ে তার প্রশ্ন ছিল তার জীবনে উন্নতি হচ্ছে না। ঠাকুরকে তিনি বলে বসলেন—
ঠাকুর আমি তো যজন যজন নিষ্ঠিবীতি সস্তনি সদাচার আপনার এই নিয়মনীতিগুলো নিষ্ঠা সহকার পালন করছি কিন্তু জীবনে আমার উন্নতি হচ্ছে না। আমি তো উন্নয়নের মুখ দেখতে পেলাম না।
এ হানো কথা ঠাকুরের কাছে কি অবস্থা তৈরি করতে পারে আপনারা সকলের মধাপন করতে পারেন। কারণ ঠাকুর কখনো নেগেটিভ ভাবনা পছন্দ করতেন না। ঠাকুর শুনে খাওয়া হয়ে গেলেন এবং বললেন—
তোর ঘরে কে কে আছে?
তখন সেই ভদ্রলোক বললেন—
আগে ঠাকুর আমি আছি, আমার স্ত্রী আছে এবং আমার দুই ছেলেমেয়ে।
দেন দেন আরেকটি ভক্ত আবার আরেকটি প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন। ঠাকুর আবার তার দিকে লক্ষ রেখে তার কথাগুলো শুনলেন। এই ভদ্রলোক হাঁটু গেড়ে হাত জোড় করে বসে আছে আর ঠাকুর একটার পর একটা আরেকজনকে বলে যাচ্ছেন। তিনি বিচলিত হলেন যে ঠাকুর কিছু বললেন না।
তিনি অনিমা হঠাৎ বলে—
আগে ঠাকুর আমাকে যে কিছু বললেন না।
ঠাকুর আবার তাকে তার দিকে তাকালেন—
ও তোকে যেন কি বলছিলাম তোর ঘরে কে কে আছে?
আবার সেই ভদ্রলোক বললেন—
আমি, আমার স্ত্রী, আমার দুই ছেলে মেয়ে।
আবার আরেকটি ভক্তের প্রশ্ন। এইভাবে তিন তিনবার যখন এ ধরনের ঘটনা ঘটছে—দেখুন এই যে আমরা নাম ধ্যান করছি ঠাকুর কেন একই প্রশ্ন তাকে জিজ্ঞাসা করছেন তখনও তার কমন সেন্স গ্রো করলো না। কিসের নাম দেন তাহলে আপনারা বলুন।
আবার যখন ঠাকুর লাস্টলি বলল—
তোর ঘরে কে কে আছে?
তখন আবার যখন সে ভদ্রলোক বলছে যে আমি, আমার স্ত্রী, আমার দুই ছেলে মেয়ে—
তখন ঠাকুর রেগে গিয়ে তাকে বললেন—
দূর শালা তোর ঠাকুরই নাই তোর কোথায় উন্নতি হবে।
এটা হচ্ছে অনুধাবনের বিষয়। তোর ঠাকুরই নাই অর্থাৎ যন্ত্রপথ পড়ে গেলে হয়। অনুরাগ মুখর নাম—অনুরাগের সাথে তাকে ভালোবাসা। আগে ঠাকুর আপনি তো আমার মাথার উপরে আছেনই, তারপরে আমার স্ত্রী, আমার দুই ছেলেমেয়ে আছে—ঠাকুর খুশি হতেন।
আমরা ঠাকুর ঠাকুর যতই করি না কেন আমরা ঠাকুরকে আনতেই পারি না, প্রথমে তাকে আমরা মূলদান দিতেই পারি না, তাকে প্রথমেই অগ্রাধিকার দিতে পারি না—এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় খাঁতি, সবচেয়ে বড় দুর্বলতা।
ঠাকুর কি বলেছেন—
বাইরে গেলে যেমন মা-বাপ, পুত্র, বাড়ির লোককে ভাবতে গেলে তার মুখও যেন মনে পড়ে।
joy guru
ইষ্টপ্রসঙ্গ -sutapendra nath ray
write-Priyanka Ganguly
ঠাকুর দেহ রাখার পর পিতৃদেব কীভাবে দেওঘর আশ্রম গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন , তার কয়েকটা উদাহরণ এখানে দেওয়া হলো।
বুধবার, ১৬ই পৌষ, ১৩৮১ (ইং ১।১।৭৫)
পৌষের অপরাহ্ন। সৎসঙ্গের ১৪৭তম সর্বভারতীয় ঋত্বিক অধিবেশনে সম্মিলিত শত-শত কর্মী 'ঠাকুর বাংলাস্থ বড় নাটমণ্ডপ ও তার চারদিক বেষ্টন ক'রে প্রতীক্ষারত, – শ্রীশ্রীপিতৃদেব এলেই কর্মী-বৈঠক শুরু হবে।
ঠাকুর বাংলার গেটে ঢংঢং..
শব্দে চারটের ঘণ্টা পড়ল; শ্রীশ্রীপিতৃদেব শুভাগমন করলেন। দেওঘরের শীত, প্রকোপ প্রচণ্ড। সকলেই উপযুক্ত শীতের পোষাক পরে এসেছে। কিন্তু তাঁর দিব্যকান্তি দেহ শুধু একটা গেঞ্জি ও খন্দরের চাদরে আবৃত। শীত হার মেনেছে ঐখানে।
নেশা করা উচিত নয়। নেশাটেশা, খাওয়াদাওয়া সব একেবারে ইষ্টানুগ ক'রে নিতে হয়। ইষ্ট-বিষয়েও অনেকের আবার adjustment and manipula-tion-এর tendency আছে। এর মানে কী? ঠাকুরের একটা ছড়া আছে-
"পিতামাতা গুরুজনে শ্রদ্ধাভক্তি যাই রাখ না। ইন্টানুগ না হ'লে তা' আনবে নাকো সম্বর্ধনা।"
ঐ জিনিসটা সবার মধ্যেই প্রবল থাকা ভাল। যদি শ্রদ্ধা-ভক্তি ইষ্টানুগ না হয়, তা'হলে তার সঙ্গে কোন খাতিরই রাখতে হয় না, কর্ম ইষ্টানুগ না হ'লে তার সঙ্গে কোন সম্পর্কই রাখতে নেই। কারণ, যেমন - দুধ ও চোনা। এক মন দুধের মধ্যে এক ফোঁটা চোনা দিলে সব নষ্ট হয়ে যায়। সেইজন্য সব সময় ইষ্টস্বার্থপ্রতিষ্ঠামূলক গল্প, আলোচনা, কথাবার্তা বলা উচিত। আর তাদেরই সঙ্গ করা উচিত যারা ইষ্টানুগ চলতে চলে। এতেই মঙ্গল। এ-সবে যুক্তি নয়, ভত্তিই ভাল।
এ-প্রসঙ্গে তিনি বললেন, কে যেন আমায় একটা গল্প বলেছিল, (ননীদার দিকে তাকিয়ে) বোধ হয় আপনি বলেছিলেন। একজনের স্ত্রী রামায়ণ পড়ছে। রামচন্দ্র ও হনুমানের কথা, পাশে তার স্বামী বসেছিল। হঠাৎ সে হেসে উঠল। বৌ জিজ্ঞেস করল, তুমি হাসলে কেন? স্বামী বলল, 'আমি এসব বিশ্বাস করি না।' অমনি স্ত্রী কাঁদতে লাগল,-বলল তুমি হাসলে! তুমি বিশ্বাস করলে না......!' অমনি স্ত্রীর ঐ-ভাব দেখে স্বামী বলল, না, না, আমি বিশ্বাস করি। এরকম না?
ননীদা (চক্রবর্তী) আজে, হ্যাঁ, এই রকমই।
শ্রীশ্রীপিতৃদেব আপনি কত সুন্দর বলেছিলেন। আমি ঠিক বলতে পারলাম না। 'যুক্তি নয়, ভক্তিই ভাল। ঠাকুরের বিষয়েও আমাদের ঐ রকম হওয়া দরকার। যুক্তি কখনও ঠাকুরের কাছে পৌঁছে দিতে পারে না। একমাত্র ভক্তি-বিশ্বাসই পারে। আমাদের মধ্যে অনেক গুরুভাই আছে, কর্মী আছে যারা যুক্তি খোঁজে। সেজন্য এ-বিষয়ে আমাদের সজাগ হওয়া দরকার। যারা নাম-ধ্যান, সাধন-ভজন করে অকপটভাবে, অনুরাগের সাথে তারা সহজেই বুঝতে। পারবে এমন কতকগুলি জায়গা রয়েছে, যেখানে যুক্তি পৌঁছে দিতে পারে না। শুধুমাত্র ভক্তি-বিশ্বাসই তা' পারে। সেখানেই মীমাংসা হয় যেখানে সার্বজনীন মঙ্গল মূর্ত হ'য়ে ওঠে। তা' কিন্তু সহজ ব্যাপার নয়। আমি general talk ব'লে বলছি না। এটা তো কর্মী-বৈঠক.. তাই সাধন-ভজনের point থেকেই এ-সব বলছি।)
এরপর শ্রীশ্রীপিতৃদেব-কথিত point-গুলি ননীদা কর্মীদের উদ্দেশ্যে পুনরায় উল্লেখ করলেন।
প্রথমতঃ, কর্মীরা প্রত্যেকে তাদের নিজেদের পাসপোর্ট সাইজের স্পষ্ট ফটো এবং তার সাথে কবে দীক্ষা নিয়েছে এবং কবে 'পাঞ্জা' পেয়েছে এ-সম্পর্কে একটা ছোট নোট পাঠাবে।
দ্বিতীয়তঃ, সাধন-ভজন নিয়মিত করা দরকার। রোজ ভোরে ওঠা, নাম-ধ্যান করা, ঠাকুরের বাণী পাঠ করা। যা' শুনি বা পাঠ করে তা' চরিত্রগত করা। এটা সাধন-ভজনেরই একটা অঙ্গ।
তৃতীয়তঃ, আমরা কর্মীরা কর্মক্ষেত্রে যেখানেই যাই, সেখানকার লোকেরা যেন বুঝতে পারে যে, তাদের যত অশান্তি, যত অবসাদ, যত দুঃখ, যত মলিনতা সব দূর হ'ল। অশান্তি মানুষের সংসারে থাকেই। আমি যেন গিয়ে আরও অশান্তি না বাড়াই
সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হয়। আমরাও যেন গিয়ে তাদের নতুন আরেকটা অশান্তি সৃষ্টি না করি।
চতুর্থতঃ, নেশাটেশা একেবারে বাদ দেওয়া। 'সৎসঙ্গে' বসেই হয়তো কেউ চা খাচ্ছে, নস্যি নিচ্ছে বা পান খাচ্ছে- এ-সব মোটেই উচিত নয়। এক কাপ চা খেতে-খেতেই হয়তো যাজন করছি। ওতে ভাব নষ্ট হ'য়ে যায়। ওসব একদম বাদ দিতে হয়।
মনের মধ্যে পাপ আসতেই দিতে হয় না। খুৰ সেজেগুজে থাকলাম, অথচ মনের মধ্যে পাপ চিন্তা করলাম। পাপ কাকে ইষ্টস্বার্থপ্রতিষ্ঠাই আমাদের জীবন-বৃদ্ধির মূল সূত্র। ইষ্টস্বার্থপ্রতিষ্ঠার অন্তরায় যা'-যা' expansion (প্রসারণ)-এর বাধা সৃষ্টি করে, তাই পাপ। সেজনা মনে পাপ রাখতেই হয় না, মনকে সাফ রাখতে হয়।
যারা পাপ করে, অথচ লুকিয়ে রাখে, পোষণ করে তার চেয়ে যারা পাপ কাজ ক'রে গোপন করে না তারা ঢের ভাল। কেউ যেন জানতে না পারে, এভাবে যারা পাপ লুকিয়ে রাখে, তারা পরমপিতার আশীর্বাদ কখনোই পায় না। এজন্মে আবার তারাই প্রারন্ধের সৃষ্টি ক'রে চলে। পরজন্মে আবার তাদের লাঙ্গল টানতে হয়, আর পাঁচজনের বাড়ি খেতে হয়। পরমপিতা সকলের জনাই পথ রেখেছেন। তাঁর অনুশাসনবাদ ঠিক-ঠিক মেনে চলতে হয়।
শ্রীশ্রীপিতৃদেব ঠাকুরের প্রতি যদি আমাদের টান থাকে, তবে তাঁর জন্য নিজেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখবই। সবসময় সৈনিকের মত নিজেকে প্রস্তুত
রাখবই। আরেকটা বিষয়ে লক্ষন রাখা দরকার আমি নিজে যা' করি, তাই বলছি
ঠাকুরকে কিছু নিবেদন ক'রে না খেলে বিষ্ঠা খাওয়া হয়। যা-ই খাই-না কেন, সবসময় তাঁকে নিবেদন করে খেতে হয়। মন্ত্রটন্দ্র জানা না থাকলেও তাঁর উদ্দেশ্যে নিবেদন ক'রে অন্তত মনে মনে বলতে হয়,
দয়াল, আমি তোমার প্রসাদ খাচ্ছি।' আমি আমার ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনীদেরও তাই শেখাই। তখন ঠিক তাঁর পছন্দ মতন খাদ্য পানীয়ই গ্রহণ করতে মন চায়। আমাদের ভারতীয় বৈশিষ্ট্যই তাই, নিবেদন ক'রে ঠাকুরের প্রসাদ খাওয়া। তাহলে যারা মাছটাছ খায়, তাদের উপায়?
প্রফুল্লদা উপায় হচ্ছে, মাছটাছ না খাওয়া।
শ্রীশ্রীপিতৃদের একটু স্মিত হেসে বললেন এটা লোক দেখানোর ব্যাপার নয়। নাম ধ্যানের ব্যাপারেও তাই। পরমহংসদেব বলতেন, 'নাম করতে হয় মনে, বনে, কোণে। ঠাকুরও বলেছেন 'ঊষানিশায় মন্ত্র সাধন ঠাকুর একদিন কোন এক ক্যাপারে আমাকে বলেছিলেন
"ঢাকে ঢোলে করলে পজা
অহংকার হয় মনে-মনে,
চুপিসারে করবি পূজা
জানবে নাকো জগৎজনে।'
(ইষ্টপ্রসঙ্গে, ২য় ভাগ থেকে মুদ্রিত)
পরমদয়াল শ্রীশ্রীঠাকুরের সৎমন্ত্রে দীক্ষাগ্রহণ নামজপ ও নিষ্ঠার সঙ্গে ইষ্টভৃতি পরিপালনের মধ্যে দিয়ে দুরারোগ্য, মুমূর্ষু রোগীও নতুন জীবন লাভ করছে। এরূপ একটি দিব্য করুণার ঘটনা ব্যক্ত করলেন পূজনীয় বাবাইবাবু।
কিছুদিন পূর্বে কাটিহার উৎসবে গিয়েছিলাম। একটি কম বয়সের মুসলমান মেয়ে এসে জানাল সে ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত। তাকে বললাম ঠিকমত চিকিৎসা হলে আরোগ্য হয়ে যেতে পারে। মেয়েটি মনে বল ও ভরসা পেয়ে শ্রীশ্রীঠাকুরের মন্ত্র নিয়ে ইষ্টভৃতি শুরু করে দিল। চিকিৎসা চলতে থাকল। চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হল। সেই হাসপাতালে রোগীর হাতে পয়সাকড়ি বা কোন সামগ্রী দেবার নিয়ম নেই। দীক্ষা নেওয়া বা ইষ্টভৃতি করার ক্ষেত্রে তার বাড়ির লোকদের আদৌ মত ছিল না। একদিন মেয়েটি হাসপাতালে থাকাকালে উপায় না পেয়ে জলের ঘটি ধরে ইষ্টভৃতি নিবেদন করে। ঐ হাসপাতালে থাকতে থাকতেই তার অবস্থা সঙ্গীন হয়ে ওঠে। মৃত্যু ঘটল মেয়েটির। সাধ্যমত অর্থ ব্যয় করেও রক্ষা করা গেল না দেখে বাড়ির লোকদের রাগ এসে পড়ল চিকিৎসকদের উপর। তাদের সাথে বাগবিতণ্ডা ও বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়ল। মারা যাবার তিন ঘন্টা পর দেখা গেল রোগীর আবার শ্বাসক্রিয়া শুরু হয়েছে। রোগী আবার বেঁচে উঠল। ঠাকুরের দয়ায় পুনর্জীবন পেল। আমার বন্ধু রাজেশ (প্রসাদ)-এর কাছে বাকি অংশটি শোনা। রাজেশের ভাগ্নে ডাক্তার, পাটনায় থাকে। মেয়েটির বাড়ীও পাটনায়। রাজেশ তার ভাগ্নের কাছে মেয়েটির খবর শুনে আমায় জানিয়েছে।
ঋত্বিক সন্মেলনে পূজনীয় বাবাইবাবু . তাং ১২. ৭. ২০১৫
স্থানঃ আনন্দবাজার ভবনের ৪র্থ তলা
আলোচনা * শ্রাবণ * ১৪২২
মহাষষ্ঠীর শুভক্ষণে সবাইকে জানাই শারদীয়ার শুভেচ্ছা 🙏 🙏 🙏
প্রশ্ন ----- দেব - দেবী পূজার তাৎপর্য্য কী? দেব - দেবীরা বাস্তবিকই আছেন ? আবার , মহানির্ব্বান - তন্ত্রে আছে ---- সাধকানাং হিতার্থায় ব্রহ্মণো রূপ - কল্পনম্ ---- তাই কি?
শ্রীশ্রীঠাকুর ------ ব্রহ্মের রূপ আবার কল্পনা করতে হবে কেন? অন্ততঃ যেগুলি আমরা আমাদের ইন্দ্রিয়জ্ঞান দিয়ে ঠাওর পাই , সেগুলি সবই তো ব্রাহ্মেরই রুপ ------ তা ' যে কত রকমের , কত ধাঁচের , কত ভাবের , তার আর ইয়ত্তা নেই | ঐ শালার সাপও ব্রহ্মের রুপ , বাঘও ব্রহ্মের রুপ | গন্ডারও ব্রহ্মের রুপ , আমাদের পূর্ব্ব - পুরুষদের প্রত্যেকে , ঋষিদের প্রত্যেকে ----- সীজার , নেপোলিয়ান , আলেকজেন্ডার ----- যাদের কথা শুনেছি , প্রত্যেক যা ' - কিছু , প্রত্যেক মানুষটি মানুষের ভেতর প্রত্যেক বড় - বড় যারা ------ রাজাকে আর্য্যেরা নারায়নের প্রতীক ব'লে মেনে থাকেন ; এ সবই তো ব্রহ্মের রুপ | *
তবে যে - যে স্থলে মানুষের অস্তি ও বৃদ্ধির অনুকূল সেবা , সহানুভূতি ও সাহচর্য্যের সহিত করা ও জানার ভেতর - দিয়ে যত বেশী প্রত্যেকের জীবন ও বৃদ্ধির উদ্দীপনা সঞ্চার ক 'রে তাদের স্বার্থকেন্দ্র হ 'য়ে পড়েছেন , আর্য্যদের ব্রহ্মের প্রকট বা প্রকাশ তারা সেখানে তত বেশী ব ' লে মনে ক 'রে থাকে |
আর , এমনতর যাঁরা প্রত্যেকের অন্তরে করা ও জানার আলোক - সঞ্চরণে প্রত্যেকের অন্তরে দীপ্ত হ 'য়ে একটা উদ্বর্দ্ধনশীল চেতনায় জাগরুক থাকেন , তা ' দিগকেই আর্য্যেরা দেবতা আখ্যা দিয়েছেন | তিনিই দেবতা , যিনি অমনতর - ভাবে জীবের অন্তরে দীপ্তি পান | আর , আর্য্যদের ভেতরে যে প্রতিমা - পূজার বিধি আছে , সে - বিধির কারনই হচ্ছে এই , ------ যে - দেবতা জ্যান্ত - শরীরী হ 'য়ে মানুষের সন্মুখে এখন বা তখন আর প্রতিভাত নন , তাঁদের এমনতর একটা প্রতীক তৈরী ক 'রে তা ' তে ধারনা বা মননে , প্রান - প্রতিষ্ঠা ক 'রে স্তব ও পূজার ভেতর - দিয়ে শ্রদ্ধাবনত হৃদয়ে , সে - গুলিকে স্মরনে এনে , মানুষের জীবন ও বৃদ্ধিকে উদ্দীপ্ত ও জ্বল - জ্বলে ক 'রে তুলে , কর্ম্মের ভেতর - দিয়ে স্বভাব ও জীবনে সিদ্ধ ক 'রে তোলা ---- এই হচ্ছে আর্য্যদের প্রতিমা - পূজার উদ্দেশ্য | *
প্রতিমাকে আর্য্যেরা কখনই স্রষ্টা ব ' লে অভিহিত করেন নাই | এই বিধিগুলি শুধুই অনমনীয় সংস্কার - পরায়ন মানুষের জন্যেই ; একটা বাস্তব কিছু খাড়া ক 'রে কতকগুলি ক্রিয়া - কান্ডের ভেতর - দিয়ে হাতে - কলমে তাদের চেতনা - চিন্তার উদ্বোধন পরিকল্পনাতেই এই স্থুল প্রচেষ্টা | *
যাঁরা একটু বিশেষভাবে কিঞ্চিমাত্রও চিন্তা - দর্শনের ভেতর - দিয়ে সংস্কার - গুলিকে বিন্যস্ত ও নিয়ন্ত্রন করতে পেরেছেন , তাঁরা স্বতঃই আর ঐ রকম ব্যাপারে আটক হ 'য়ে সাধারনতঃ থাকেন না | শাস্ত্রেও এ বিষয়ে বহু - বহুভাবে বিবৃত ও আলোচিত হ'য়ে আছে ! ঐ যে আপনি বললেন , ও - কথাও অমনতর গোছেরই --সাধকানং হিতার্থায় ব্রহ্মণো রুপকল্পনম্ |
অনেক দেবদেবী একদিন জ্যান্ত শরীরী হ ' য়েই ছিলেন , আর এখনও যেমন ক 'রে বললাম , সেই হিসাবেই আছেন | আবার , ঐ দেব - দেবী যাঁরা একদিন ছিলেন বা এখনও যাঁরা আমাদের স্মরনের ভেতর অমনতর হ ' য়েই জাগরুক আছেন , তাঁদের বিশেষ - বিশেষ অবস্থার দিশেষ - বিশেষ ভাবের প্রতীকও তাঁদেরই একটা বিশেষ - বিশেষ ভাব - নির্দ্দেশক নামে প্রতিমা ক 'রে পূজার ব্যবস্থা অনেকই দেখা যায় | *
যাই থাক আর যেমনই থাক , এর ভেতরকার উদ্দেশ্যই হচ্ছে আগে যা ' বলেছি তাই | যদি উপযুক্ত আদর্শ , ইষ্ট বা গুরু না থাকেন , এই প্রতিমা - পূজা অনেক স্থলে বিপদও সৃষ্টি ক 'রে থাকে | এতে সংস্কারগুলি আরও কঠিনতর হ ' তে পারে | তাই , শাস্ত্রে যাদের গুরুকরণ হয় নাই , তাদের এই প্রতিমা - পূজা করা নিষিদ্ধ ব ' লে বিশেষ রকমে বলা হয়েছে |
আবার , যেমন প্রতিমার প্রান - প্রতিষ্ঠা বা প্রান - পরিকল্পনার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ আছে , তেমনি যখন যেখানে যেমনতর পূজাই হোক না কেন , গুরুকে পূজা করার বিধি অত্যন্ত কঠোর - নির্দ্দেশেই দেওয়া আছে |
গুরুপূজার বেলায় কিন্তু প্রান - প্রতিষ্ঠার কোন ক্রিয়া প্রচলন নাই | তার মানেই তো , গুরু তো প্রতিষ্ঠ - প্রান জ্যান্ত জ্বলজ্বলে মানুষ দেবতা |
শুধু তাই নয় , তারপর আবার গনেশের পূজা | গনেশ হচ্ছেন জনগনের ঈশ্বর ----- অর্থাৎ জনগনের অধিনায়ক দেবতা | তাহ'লেই বুঝুন ---- যেমন প্রতিমা - পূজার বিধি দেওয়া আছে , তেমনি তা ' - থেকে যে বিপদের সম্ভাবনা , তা 'নিরাকরণের জন্যেও বিধিমত ব্যবস্থার কোন ত্রুটি হয় নি | কিন্তু বিধিকে অনুসরন করবে কে? মানুষ তো ? তারা যদি বৃত্তি - বিধিকে অনুসরন করে , বৃত্তিভেদক শাস্ত্র যা ' ----- তাকে অবহেলা ক 'রে ছেঁড়া কাগজের ঝুড়িতেই রেখে দেয় , ------ এর গতি রোধ করবে কে? সে একজন পারে ----- তাকে বলে শাস্তি ও সর্ব্বনাশ !
তথ্যসূত্র - কথাপ্রসঙ্গে - পৃঃ ৫৪ , ৫৫ , ৫৬ , ৫৭ , ৫৮ , ৫৯ )
ধরাধামে মানুষ মায়ের মাধ্যমে জন্ম নেয় ও সর্ব্বপ্রথম মায়ের কোলেই আশ্রিত হয়। মা-ই শিশুকে পিতা ও অন্যান্যদের চিনিয়ে দেন। তাই জীবনের ঊষালগ্ন থেকেই শিশুর মাতৃপূজার অনুশাসন শুরু হয়---- 'মাতৃদেবো ভব' তাই তো শুনি----- মাতৃভক্তি একান্ত দরকার। ঐটে হ'লো মূল' (আ.প্র. ৬ষ্ঠ খণ্ড, ১৬.১২.১৯৪৫)।
মাতৃভক্তি, মাতৃপূজা, মাতৃবন্দনা---- যেভাবেই বলা হোক----- মাতৃকেদ্রিক জীবনচর্য্যা সর্ব্বত্রই। বিশেষ ক'রে ভারতভূমিতে অতিবিশিষ্ট স্থান লাভ ক'রে আছে। শ্রবণ কুমারের পিতৃমাতৃভক্তি, শ্রীরামচন্দ্রের পিতৃসত্যপালন, চাণক্যের মাতৃভক্তি, ভগবান শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণদেবের মাতৃসাধনা, সাধক রামপ্রসাদ, কমলাকান্তের ভক্তি-নিংড়ানো মাতৃপূজা ---- এ সবই সর্ব্বজনবিদিত।
মাতৃগৌরবের কথা অনন্ত। যজুর্বেদে মাতাকে পাবায়িত্রী, শোধিকা বলা হ'য়েছে----- 'আপো অস্মান্ মাতরঃ শুনঘয়ন্তু' (৪/২)। মাতার গৌরবগাথায় তো সহস্র পিতার থেকেও অধিকতরা বলা হ'য়েছে মনুসংহিতায়----- 'সহস্রং তু পিতৃন মাতা গৌরবেনাতিরিচ্যতে' (২/১৪৫)। ব্যাসদেবকৃত মাতৃস্তোত্র এ প্রসঙ্গে বিশেষভাবে স্মরণীয়--- 'মাতা ধরিত্রী জননী দয়া ব্রহ্মময়ী সতী। দেবী তু রমণী শ্রেষ্ঠা নির্দ্দোষা সর্ব্বদুঃখহা। আরাধ্য পরমা ময়া তুষ্টিঃ শান্তিঃ ক্ষমা গতিঃ। স্বহা স্বধা চ গৌরী মা-পদ্ম চ বিজয়াজয়া॥'
এই মা-ই তো ছিলেন পরমপ্রেমময় শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের জীবনসর্ব্বস্ব। মাতৃকেদ্রিক, মাতৃগতপ্রাণ শ্রীশ্রীঠাকুরের সমগ্র জীবনে ব্যাপ্ত হ'য়ে আছেন এই মাতৃসত্তা। এত বৃহৎ ধর্ম্মীয় সংগঠন, এত মানুষ, এই বিরাট কর্ম্মযজ্ঞ----- এই সব কিছুর মূলে মায়ের তৃপ্তিসাধন, মায়ের নিদেশ-অনুশাসন পালন, মায়ের উপভোগের জন্য উৎসর্গীকৃত-সঙ্কল্প ------ এ কথা শ্রীশ্রীঠাকুর আজীবন বার বার কথাপ্রসঙ্গে ব'লেছেন। মাতা শ্রীশ্রীমনোমোহিনী দেবী তাঁর সমস্ত কর্ম্মপ্রেরণার মূল। মা তাঁর কাছে কী ছিলেন তা' তাঁর শ্রীমুখেই শোনা যাক্------- সরকার সাহেবই আমার গুরু। মায়ের গুরু হুজুর মহারাজকেও ছোটবেলা অবধি খুবই ভক্তিশ্রদ্ধা করি। তাঁদের কাউকে আমি কখনও দেখি নাই, এই জন্য মনে কখনও কখনও খুবই কষ্ট হয়, তখনই মায়ের দিকে তাকিয়ে শান্তি পাই। আমার মা-ই যেন সরকার সাহেব, হুজুর মহারাজ ও অন্যান্য মহাপুরুষের প্রতীক----- মা-ই আমার আদর্শ।
পুরুষোত্তমজননী শ্রীশ্রীমনোমোহিনীঃ
ব্রজগোপাল দত্তরায়
শ্রীশ্রীঠাকুর বলতেন, সৎসঙ্গ হল মানুষ তৈরীর কারখানা। শ্রীশ্রীপিতৃদেব হলেন সেই কারখানার প্রথম ও প্রধান দক্ষ কর্মী এবং প্রধান শিক্ষক। পশ্চিমবঙ্গে নকশাল আন্দোলনের সময় কত শত শত গৃহ ও সমাজ থেকে বিতাড়িত হতাশাগ্রস্ত যুবক তাঁর স্নেহস্পর্শে উজ্জীবিত হয়ে নতুন জীবনের সন্ধান পেয়েছে তার কোনও ইয়াত্তা নেই। তিনি পিতার মত স্নেহ ও ভালবাসা দিয়ে প্রত্যেকের বৈশিষ্ট্য ও ঝোঁক মত শিক্ষা-দীক্ষা ও কর্মের সংস্থান করে দিয়ে এক নতুন জীবনের পথ দেখিয়ে দিলেন। তারা এখন প্রায় প্রত্যেকেই সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত, শিক্ষিত, দক্ষ এবং সৎসঙ্গের নিয়ত সেবক। তাই তারই সেদিন সমস্বরে, স্বতঃস্ফূর্তভাবে শ্রীশ্রীপিতৃদেব বলে তাঁকে সম্বোধন করেছিলেন। তিনি ছিলেন চলার পথের প্রতীক এবং দিশারী। সামনের দিকে এগিয়ে যাও। নিজে বাঁচ আর অন্যকে বাঁচাও, এই ছিল তাঁর জীবনের ব্রত।
ষোড়শীভবনের পূর্বের নাম ছিল 'নড়ালবাংলো' যশোহরের নড়াল রাজাদের। ওটা কিনে নেবার পর নামকরণ হ'লো ষোড়শীভবন। এরই একটি কক্ষে শ্রীশ্রীপিতৃদেব দক্ষিণমুখ করে বসতেন। সামনে বিশাল দরজা, তারপর গোলবারান্দা। কাঠের দরজার ভিতর ও বাইরে প্রচুর পিতলের অলঙ্কার লাগানো ছিল। ওগুলো দীর্ঘদিন অযত্নে কালো বিবর্ণ হয়ে আছে। একদিন পিতৃদেব আমাকে বললেন, ওগুলো পরিষ্কার করার কোনো উপায় তোর জানা আছে ? আমি বললাম, আজ্ঞে আছে। আমাকে কালকেই ওগুলো পরিষ্কার করে দিতে বললেন।
আমি বাজার থেকে অ্যসিড ও ব্রাশ আনিয়ে পিতৃদেবের স্নানের সময় ওগুলো পরিষ্কার করে প্রায় নতুনের মত চকচকে করে দিলাম।
তিনি দেখে খুশী হলেন। বললেন, কাল আমার বাথরুমের পিতলের কলগুলোও পরিষ্কার করে দিস। পরের দিন দুপুরে পিতৃদেবের বাথরুমে ঢুকলাম কলগুলো পরিষ্কার করার জন্য। ঢুকেই বিস্ময়ে অবাক হ'য়ে গেলাম। একটা সাধারণ মানের বাথরুম। কলগুলো পিতলের, সব থেকে দৃষ্টি আকর্ষণ করলো একটি প্লাস্টিকের মগ। ঐ সময়ে বাজার দর ১ টাকা ২৫ পয়সা হবে। যখনকার কেনা তখন ৫০ পয়সার বেশী হবে না। নীল রঙের মগ কিন্তু রঙ বোঝার উপায় নেই, বিবর্ণ হয়ে গেছে, তবে পরিষ্কার। ভেঙ্গে বা ফুটো হ'য়ে যায়নি।
মগটি তাঁর বাথরুমে একদম বেমানান। ভাবছি তাঁকে শুধুমাত্র একটু দর্শন করার জন্য লক্ষ লক্ষ লোক ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে, তাঁর শ্রীচরণে কত প্রণামী জমা পড়ে নিমেষের মধ্যে, তিনি এত সাধারণ বাথরুম ও আসবাবপত্র ব্যবহার করেন, না দেখলে বিশ্বাস করতে পারতাম না। তিনি বলতেন, 'আমি ঠাকুরের কুকুর, তাঁর সেবক মাত্র, এই টাকাপয়সা, বাড়ী-গাড়ী সব ঠাকুরের, এর এতটুকু অপচয় আমি সহ্য করতে পারি না।' প্রয়োজনের অতিরিক্ত কিছু করলে তিনি বলতেন, ফুটুনি করা হচ্ছে। কলগুলো সুন্দরভাবে পরিষ্কার হ'য়ে গেলো। কিন্তু মগটা ? আমি ঠিক করলাম ওটা পালটিয়ে একটা নতুন মগ এনে দেব। রোহিতোষদাকে বলতে তিনি বললেন---- 'আমি ওটা পাল্টাবার চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু ওটা যতদিন ব্যবহারের অনুপযুক্ত না হবে, বাবা ততদিন পাল্টাতে দেবেন না। আমি এ কথা কর্ণপাত না করে বাছারে গিয়ে একটা নতুন মগ এনে বাথরুমে রেখে দিয়ে পুরাতনটা রোহিতোষদার কাছে দিলাম।
বিকালে পিতৃদেব বাথরুমে গিয়ে তাঁর পুরাতন মগ দেখতে না পেয়ে রোহিতোষদাকে রাগতকণ্ঠে জিজ্ঞাসা করলেন------- "আমার মগ কে পাল্টালো ?" রোহিতোষদা আমার নাম করাতে তিনি তাঁর পুরাতন মগটা চেয়ে নিয়ে বললেন---- "বলে দিস, আমার মগ আমাকে জিজ্ঞাসা না করে পাল্টানো ঠিক হয়নি।" বিকালে প্রার্থনার নর পিতৃদেবের ঘরে গেলে রোহিতোষদা বাবার রাগের কথা বলাতে আমি ভয়ে ভয়ে তাঁর সামনে গিয়ে প্রণাম করে বসলাম। তিনি গম্ভীর চোখে আমার দিকে একবার তাকিয়ে অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে নিলেন। ঐ দিন কোনো কথাই আমার সঙ্গে বললেন না। আমি নিজেকে খুব অপরাধী মনে করলাম তাঁর অস্বস্তির কারণ হওয়াতে। ভাবলাম ফাঁকমতো ক্ষমা চেয়ে নেব।
পরের দিন বাথরুমের বাকি কাজ করতে গিয়ে মগটা দেখে আবার মন খারাপ হয়ে গেলো। ভাবলাম এটাও তো অ্যাসিড দিয়ে পরিষ্কার করা যায়। মগটা নিয়ে বাইরে এসে সুন্দর করে পরিষ্কার করে ফেললাম। প্রায় নতুন-এর মত করে আবার যথাস্থানে রেখে এলাম।
বিকালে বাথরুমে গিয়ে পিতৃদেব মগটি দেখে খুব খুশী হ'য়ে রোহিতোষদাকে জিজ্ঞাসা করলেন------ "মগটা পরিষ্কার করল কে ?" রোহিতোষদা আমার নাম বলতে বাবা খুব খুশী হয়ে বললেন------ "এ কাজটা তো গতকালই করতে পারতো ? ফুটুনি করে নতুন মগ কিনে নিয়ে এল।"
বিকালে প্রার্থনার পর প্রণাম করতে গেলে তিনি বললেন----- 'মগটা সুন্দর পরিষ্কার হয়েছে, ওরকম সাশ্রয়ী হয়ে কাজ করতে হয়। ঠাকুরের পয়সা অযথা ব্যয় করতে নেই। মগটা তো ব্যবহারের অনুপযুক্ত হয়ে যায়নি। একটু বিবর্ণ হয়ে গেছে বলেই পাল্টাবি ? ওর এত দিনের সেবা দেবার কোন দাম-ই নেই ? আর যাঁর জিনিস তাঁকে না বলে পাল্টাবি কেন ? আমি অবাক বিস্ময়ে তাঁর দিকে তাকিয়ে সাধারণের মধ্যে অসাধারণ মহাপুরুষকে প্রণাম করে বাইরে এলাম আর একটা শিক্ষা নিয়ে যে------ "ওরাও সেবা দেয়।" জামাকাপড়, জুতো, মগ, বালতি ইত্যাদি নিত্য ব্যবহার্য জিনিসগুলো যে আমাদের সেবা দেয় এ কথা কি আমরা একবারও ভেবে দেখি!
তিনি প্রচণ্ড আশাবাদী ছিলেন, অতি সাধারণ ব্যক্তিকে মর্যদা দিতেন। তৃণাদপি সুনীচেন তরোরিব সহিষ্ণুণা, অমানিনা মানদেন কীর্ত্তনীয়ঃ সদাহরিঃ তাঁর চরিত্রগত।
. তুমি আছো হৃদয় জুড়ে
. সমীরকুমার পর্বত
আলোচনা * পৌষ * ১৪১৯
দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার অন্তর্গত জয়নগর- মজিলপুরে শ্রীশ্রীঠাকুর বিরাজকৃষ্ণ ভট্টাচার্য্যের বাড়াতে শুভ পদার্পণ করেন ১৯৭৭ খৃষ্টাব্দের ২২ ডিসেম্বর। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জননী মনোমোহিনী দেবী, শ্রীশ্রীবড়দা।ও কীর্ত্তনে পারর্দশী বেশ কয়েকজন পার্ষদ।
এই বাড়িতে অবস্থানকালে বহু মানুষ শ্রীশ্রীঠাকুর দর্শন করতে আসতেন। আলপ-আলোচনা ও কীর্ত্তনে বাড়িখানা সবসময় মুখরিত হয়ে থাকত। কয়েকজন বিশিষ্ট মানুষের আমন্ত্রণে শ্রীশ্রীঠাকুর তাঁদের বাড়িতে গেছেন। তার মধ্যে আছেন প্রখ্যাত জমিদার যতীন্দ্রনাথ বসু ও জানকীনাথ ভট্টাচার্য্য।
একদিন শ্রীশ্রীঠাকুর শুনলেন যে, গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু নীলাচলে যাওয়ার পথে যে 'চক্রতীর্থ' নামক স্থানে কিছু সময়ের জন্য অবস্থান করেছিলেন, সেই স্থান মাত্র এখান থেকে #সাত মাইল দূরে অবস্থিত। এছাড়া চক্রতীর্থের খ্যাতি ছিল পৌরাণিক কাহিনীতেও। মা গঙ্গা ভগীরথের পিছন পিছন আসার সময় এক সময় অন্তঃসলীলা হয়ে যান। এই স্থানে তিনি তাঁর হাতের চক্র দেখিয়ে ভগীরথকে আশ্বস্ত করেন। সেই কাহিনী থেকেই নাম হয়েছে চক্রতীর্থ। পরশুরাম মাতৃ-হত্যার পরে হাতের কুঠার মোচন করেন এই স্থানে স্নান করে।
এইসব শুনে বিশেষ করে মহাপ্রভুর স্মৃতি- বিজড়িত চক্রতীর্থ দর্শনের জন্য শ্রীশ্রীঠাকুর ভীষণভাবে ইচ্ছা প্রকাশ করেন। ২৮ ডিসেম্বর সাকলে কীর্ত্তনদল-সহ কীর্ত্তন করতে করতে রওনা দেন। কীর্ত্তনদলকে পিছনে ফেলে অতি দ্রুত শ্রীশ্রীঠাকুর চক্রতীর্থ উপনীত হন। কীর্ত্তন শেষে তাঁর মহা ভাব-সমাধি হয়। ভাবাবস্থায় তিনি বলেন------ "তুমি এস। দেখ, তোমার কত বল্লেম, শুনলে না ? তুমি আলো ক'রে এস, তোমার সন্তানকে কোলে নিতে এস। দ্যাখ, জগৎ কাঁদে, পরমাণু কাঁদে, তাই তুমিও কাঁদ। তুমি এস, আলো নিয়ে জ্যোতিঃ নিয়ে এস। ,,,,,,,, " এই দিনের ভাববাণী পূণ্য-পুঁথি গ্রন্থের চতুঃষষ্টিতম দিবসের বাণী রূপে লিপিবদ্ধ আছে।
কিছুসময় পরে আবার কীর্ত্তন করতে করতে শ্রীশ্রীঠাকুর জয়নগর মজিলপুরে ফিরে আসেন। পরদিন সেখান থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তাঁকে একবার দর্শনের জন্য নৌকাঘাটে অগণিত মানুষের সমাগম হয়েছিল। পরবর্তী কালে শ্রীশ্রীঠাকুর নিজেই বলেছেন সে কথা ----- "একবার জয়নগর- মজিলপুর গেলাম। ওরে, লোক আর লোক। লোকের মাথা ছাড়া আর কিছুই দেখার জো নেই। কুম্ভমেলা বা কুরুক্ষেত্রের মেলার মত লোকের ভিড়।" (আলোচনা-প্রসঙ্গে ২২ খণ্ড)
চক্রতীর্থে যে পূর্ণ্যভূমিতে শ্রীশ্রীঠাকুর ভাবসমাধিস্থ হয়েছিলেন সেই স্থানটি শ্রীশ্রীবড়দার নির্দেশে চিহ্নিত করা হয় ও একটি মন্দির নির্মাণ করে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। পরবর্তীকালে তার পাশেই শ্রীমন্দির নির্মিত হয়। ১৯১৬ খৃষ্টাব্দে ২২ডিসেম্বর জয়নগর মজিলপুর ঠাকুরবাড়ীতে ও ২৮ ডিসেম্বর চক্রতীর্থে শ্রীশ্রীঠাকুরের শুভাগমন শতবর্ষ পালিত হয়।
পুণ্য পদরজঃ ধন্য
সুদীপ্ত শেখর পাল
আলোচনা * ভাদ্র *১৪৩
কেওনঝাড় থেকে এসেছেন এক দাদা। তার ছেলে চাকরির জন্য চেষ্টা করছেন। পরিবারের আয় খুব সামান্য। নানান পারিবারিক সমস্যা ও বাধার মধ্য দিয়ে তাদের জীবন কাটছে। তিনি সুস্থির জীবন উত্তীর্ণ হতে পারার জন্য আশীর্বাদ প্রার্থনা করলেন।
শ্রীশ্রীআচার্য্যদেব বলতে থাকেন----- আমি অনেককেই এই কথাটা বারবার বলি যে, সঠিক আবেগপূর্ণ ইষ্টভৃতি কী করতে পারে ! আমি বলছি না, এটা science বলছে। বিজ্ঞানের research paper-গুলো পড়ে দেখবে। যখনই তোমার জীবনের সুযোগের দরজাগুলো খুলছে না, তখনই বুঝবে ইষ্টভৃতি ঠিক করে করা হচ্ছে না। সেটা হচ্ছে তোমার যান্ত্রিকতার একটা আচার মাত্র।
সত্যিকারের আকুতি নিয়ে একবার করে দেখ। অন্তরের আবেগটাকে একবার সেই তীব্রতার জায়গায় নিয়ে যাও। হবেই হবে। হাজারবার করলে হাজারবার হবে। আমি এটা বারবার পরীক্ষা করেছি। বহুবার প্রত্যক্ষ করেছি, যার চাকরি হওয়ার নয় তার চাকরি হয়েছে। যার বাচ্চা হবার নয় তার বাচ্চা হয়েছে, হবেই।
তিনি পরমপিতা, তিনি বলেছেন, এটা ধ্রুব সত্য। বিজ্ঞানও আজ তা প্রমাণ করছে। আমরা এটা কর, ওটা কর বলে মিথ্যা ভাওতা দিতে পারি, তিনি পারেন না। তাই তিনি এমনি এমনি কিছু বলে যাননি। তোমার মনের হারিয়ে যাওয়া বিশ্বাসটাকে আগে জোরাল কর। ইষ্টভৃতি শুরু কর।
শর্তের মধ্যে প্রথম শর্তে যদি আমরা 'তাঁকে' নিয়ে আসতে পারি, তবেই তাঁকে উপলব্ধি করতে পারব। তারজন্য তাঁর মনের মতন আগে আমাকে হয়ে উঠতে হবে। আমি আমার মতন হয়ে, আমার ধান্দা নিয়ে চলি, খাওয়া-দাওয়া, ভাবনা-চিন্তা কোন কিছুরই ঠিক নেই। জীবনের চলার ঠিক নেই, বলার ঠিক নেই, ভাবনা-চিন্তা ঠিক নেই, অথচ আমি ভাববো যে তুমি আমার কথা শুনবে! তা কোনদিন সম্ভব নয়। কারণ, তিনি এলোমেলো নন, তিনি স্থির। আমি এলোমেলো হয়ে চলব, তিনি আমার কাছে এলোমেলো হয়েই থাকবেন। আগে তুমি স্থির হও, ইষ্টে মগ্ন হও। 'তাঁকে' বিশ্বাস করতে শেখ। তোমার জীবনে তাঁকেই বাঙময় করে তোলার চেষ্টা কর। দেখবে যে তুমি তাঁকে সব অবস্থার মধ্যে পাবে।
ঠাকুরের জগতে কোন ফাঁকিবাজি নেই। আমি কী পোশাক পরলাম, কী সাজগোজ করলাম, মানুষের সাথে সাজিয়ে গুছিয়ে কী কথা বললাম, সেটা আমার পরিচয় নয়। ঠাকুরের সাথে প্রেম করি কিনা, সেটাই আমার আসল পরিচয়। একবার যদি সেই অন্তরের একান্ত জায়গাটাতে তাঁর প্রতি প্রেম আনা যায়, তাহলে প্রত্যেকটা মানুষ মহাপুরুষ হয়ে যাবে। একদম হবেই। আমি এটাই চেয়ে আসছি যে, সব ঘরে ঘরে মহামানব জেগে উঠুক।
"আজি হাম কি পেখলুঁ "
সম্রাট দাস
আলোচনা * জৈষ্ঠ্য * ১৪৩২
|| সমাজ ||
যখনই কতকগুলি মানুষ
এক আদর্শে অনুপ্রাণিত হইয়া
দলবদ্ধ হইয়া
তাঁহাকেই সার্থক করিতে চলে,-
তখনই সেই সম্বন্ধ জমমণ্ডলীকেই
সমাজ বলা যায়।
শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূল চন্দ্র
তথ্যসূত্র:চলার সাথী
“মানুষ, গরু, পোকা-মাকড়—এমনকি একটি পিঁপড়েও বাঁচতে চায়; মরতে চায় না কেউ। আমিও না। কিন্তু মানুষের শরীর চিরকাল থাকে না—এও সত্য। তাই আমি বাঁচতে চাই আপনাদের মধ্যে। আপনারাই আমাকে যুগ যুগ ধরে বয়ে নিয়ে বেড়াবেন।
আমাকে এইভাবে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব আপনাদেরই নিতে হবে। নইলে আমার কথাগুলো প্রাণ পাবে না; সেগুলো শূন্যে হাহাকার করে ফিরবে।”
sundorom248
তোর ঠাকুরই নাই”
এক ভদ্রলোক ঠাকুরের কাছে গেছেন। আপনারা সবাই জানেন পার্লারে যখন ঠাকুর বসে থাকেন বিভিন্ন ভক্তদের নানা রকম প্রশ্নের সম্মুখীন তাকে হতে হয় এবং তিনি হাত জোড় করে প্রত্যেকটি মানুষের প্রত্যেকটি সমস্যার সমাধান নির্বিকারে সাবলীভাবে দিয়ে যেতেন। ভাবতে অবাক লাগে তারই হাত জোড় করে সকলের কথা শোনা—
এই অনুকূল শব্দের আরদক্ষর দিয়ে যাই শব্দগুলো দিয়ে ঠাকুর সত্যি সারা জীবন এইভাবেই আমাদের জন্য নিজেকে দিয়ে দিয়ে গেছেন।
সেই ভক্ত ঠাকুরের কাছে গিয়ে তার প্রশ্ন ছিল তার জীবনে উন্নতি হচ্ছে না। ঠাকুরকে তিনি বলে বসলেন—
ঠাকুর আমি তো যজন যজন নিষ্ঠিবীতি সস্তনি সদাচার আপনার এই নিয়মনীতিগুলো নিষ্ঠা সহকার পালন করছি কিন্তু জীবনে আমার উন্নতি হচ্ছে না। আমি তো উন্নয়নের মুখ দেখতে পেলাম না।
এ হানো কথা ঠাকুরের কাছে কি অবস্থা তৈরি করতে পারে আপনারা সকলের মধাপন করতে পারেন। কারণ ঠাকুর কখনো নেগেটিভ ভাবনা পছন্দ করতেন না। ঠাকুর শুনে খাওয়া হয়ে গেলেন এবং বললেন—
তোর ঘরে কে কে আছে?
তখন সেই ভদ্রলোক বললেন—
আগে ঠাকুর আমি আছি, আমার স্ত্রী আছে এবং আমার দুই ছেলেমেয়ে।
দেন দেন আরেকটি ভক্ত আবার আরেকটি প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন। ঠাকুর আবার তার দিকে লক্ষ রেখে তার কথাগুলো শুনলেন। এই ভদ্রলোক হাঁটু গেড়ে হাত জোড় করে বসে আছে আর ঠাকুর একটার পর একটা আরেকজনকে বলে যাচ্ছেন। তিনি বিচলিত হলেন যে ঠাকুর কিছু বললেন না।
তিনি অনিমা হঠাৎ বলে—
আগে ঠাকুর আমাকে যে কিছু বললেন না।
ঠাকুর আবার তাকে তার দিকে তাকালেন—
ও তোকে যেন কি বলছিলাম তোর ঘরে কে কে আছে?
আবার সেই ভদ্রলোক বললেন—
আমি, আমার স্ত্রী, আমার দুই ছেলে মেয়ে।
আবার আরেকটি ভক্তের প্রশ্ন। এইভাবে তিন তিনবার যখন এ ধরনের ঘটনা ঘটছে—দেখুন এই যে আমরা নাম ধ্যান করছি ঠাকুর কেন একই প্রশ্ন তাকে জিজ্ঞাসা করছেন তখনও তার কমন সেন্স গ্রো করলো না। কিসের নাম দেন তাহলে আপনারা বলুন।
আবার যখন ঠাকুর লাস্টলি বলল—
তোর ঘরে কে কে আছে?
তখন আবার যখন সে ভদ্রলোক বলছে যে আমি, আমার স্ত্রী, আমার দুই ছেলে মেয়ে—
তখন ঠাকুর রেগে গিয়ে তাকে বললেন—
দূর শালা তোর ঠাকুরই নাই তোর কোথায় উন্নতি হবে।
এটা হচ্ছে অনুধাবনের বিষয়। তোর ঠাকুরই নাই অর্থাৎ যন্ত্রপথ পড়ে গেলে হয়। অনুরাগ মুখর নাম—অনুরাগের সাথে তাকে ভালোবাসা। আগে ঠাকুর আপনি তো আমার মাথার উপরে আছেনই, তারপরে আমার স্ত্রী, আমার দুই ছেলেমেয়ে আছে—ঠাকুর খুশি হতেন।
আমরা ঠাকুর ঠাকুর যতই করি না কেন আমরা ঠাকুরকে আনতেই পারি না, প্রথমে তাকে আমরা মূলদান দিতেই পারি না, তাকে প্রথমেই অগ্রাধিকার দিতে পারি না—এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় খাঁতি, সবচেয়ে বড় দুর্বলতা।
ঠাকুর কি বলেছেন—
বাইরে গেলে যেমন মা-বাপ, পুত্র, বাড়ির লোককে ভাবতে গেলে তার মুখও যেন মনে পড়ে।
joy guru
ইষ্টপ্রসঙ্গ -sutapendra nath ray
write-Priyanka Ganguly
1 month ago | [YT] | 9
View 1 reply
sundorom248
ঠাকুর দেহ রাখার পর পিতৃদেব কীভাবে দেওঘর আশ্রম গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন , তার কয়েকটা উদাহরণ এখানে দেওয়া হলো।
বুধবার, ১৬ই পৌষ, ১৩৮১ (ইং ১।১।৭৫)
পৌষের অপরাহ্ন। সৎসঙ্গের ১৪৭তম সর্বভারতীয় ঋত্বিক অধিবেশনে সম্মিলিত শত-শত কর্মী 'ঠাকুর বাংলাস্থ বড় নাটমণ্ডপ ও তার চারদিক বেষ্টন ক'রে প্রতীক্ষারত, – শ্রীশ্রীপিতৃদেব এলেই কর্মী-বৈঠক শুরু হবে।
ঠাকুর বাংলার গেটে ঢংঢং..
শব্দে চারটের ঘণ্টা পড়ল; শ্রীশ্রীপিতৃদেব শুভাগমন করলেন। দেওঘরের শীত, প্রকোপ প্রচণ্ড। সকলেই উপযুক্ত শীতের পোষাক পরে এসেছে। কিন্তু তাঁর দিব্যকান্তি দেহ শুধু একটা গেঞ্জি ও খন্দরের চাদরে আবৃত। শীত হার মেনেছে ঐখানে।
নেশা করা উচিত নয়। নেশাটেশা, খাওয়াদাওয়া সব একেবারে ইষ্টানুগ ক'রে নিতে হয়। ইষ্ট-বিষয়েও অনেকের আবার adjustment and manipula-tion-এর tendency আছে। এর মানে কী? ঠাকুরের একটা ছড়া আছে-
"পিতামাতা গুরুজনে শ্রদ্ধাভক্তি যাই রাখ না। ইন্টানুগ না হ'লে তা' আনবে নাকো সম্বর্ধনা।"
ঐ জিনিসটা সবার মধ্যেই প্রবল থাকা ভাল। যদি শ্রদ্ধা-ভক্তি ইষ্টানুগ না হয়, তা'হলে তার সঙ্গে কোন খাতিরই রাখতে হয় না, কর্ম ইষ্টানুগ না হ'লে তার সঙ্গে কোন সম্পর্কই রাখতে নেই। কারণ, যেমন - দুধ ও চোনা। এক মন দুধের মধ্যে এক ফোঁটা চোনা দিলে সব নষ্ট হয়ে যায়। সেইজন্য সব সময় ইষ্টস্বার্থপ্রতিষ্ঠামূলক গল্প, আলোচনা, কথাবার্তা বলা উচিত। আর তাদেরই সঙ্গ করা উচিত যারা ইষ্টানুগ চলতে চলে। এতেই মঙ্গল। এ-সবে যুক্তি নয়, ভত্তিই ভাল।
এ-প্রসঙ্গে তিনি বললেন, কে যেন আমায় একটা গল্প বলেছিল, (ননীদার দিকে তাকিয়ে) বোধ হয় আপনি বলেছিলেন। একজনের স্ত্রী রামায়ণ পড়ছে। রামচন্দ্র ও হনুমানের কথা, পাশে তার স্বামী বসেছিল। হঠাৎ সে হেসে উঠল। বৌ জিজ্ঞেস করল, তুমি হাসলে কেন? স্বামী বলল, 'আমি এসব বিশ্বাস করি না।' অমনি স্ত্রী কাঁদতে লাগল,-বলল তুমি হাসলে! তুমি বিশ্বাস করলে না......!' অমনি স্ত্রীর ঐ-ভাব দেখে স্বামী বলল, না, না, আমি বিশ্বাস করি। এরকম না?
ননীদা (চক্রবর্তী) আজে, হ্যাঁ, এই রকমই।
শ্রীশ্রীপিতৃদেব আপনি কত সুন্দর বলেছিলেন। আমি ঠিক বলতে পারলাম না। 'যুক্তি নয়, ভক্তিই ভাল। ঠাকুরের বিষয়েও আমাদের ঐ রকম হওয়া দরকার। যুক্তি কখনও ঠাকুরের কাছে পৌঁছে দিতে পারে না। একমাত্র ভক্তি-বিশ্বাসই পারে। আমাদের মধ্যে অনেক গুরুভাই আছে, কর্মী আছে যারা যুক্তি খোঁজে। সেজন্য এ-বিষয়ে আমাদের সজাগ হওয়া দরকার। যারা নাম-ধ্যান, সাধন-ভজন করে অকপটভাবে, অনুরাগের সাথে তারা সহজেই বুঝতে। পারবে এমন কতকগুলি জায়গা রয়েছে, যেখানে যুক্তি পৌঁছে দিতে পারে না। শুধুমাত্র ভক্তি-বিশ্বাসই তা' পারে। সেখানেই মীমাংসা হয় যেখানে সার্বজনীন মঙ্গল মূর্ত হ'য়ে ওঠে। তা' কিন্তু সহজ ব্যাপার নয়। আমি general talk ব'লে বলছি না। এটা তো কর্মী-বৈঠক.. তাই সাধন-ভজনের point থেকেই এ-সব বলছি।)
এরপর শ্রীশ্রীপিতৃদেব-কথিত point-গুলি ননীদা কর্মীদের উদ্দেশ্যে পুনরায় উল্লেখ করলেন।
প্রথমতঃ, কর্মীরা প্রত্যেকে তাদের নিজেদের পাসপোর্ট সাইজের স্পষ্ট ফটো এবং তার সাথে কবে দীক্ষা নিয়েছে এবং কবে 'পাঞ্জা' পেয়েছে এ-সম্পর্কে একটা ছোট নোট পাঠাবে।
দ্বিতীয়তঃ, সাধন-ভজন নিয়মিত করা দরকার। রোজ ভোরে ওঠা, নাম-ধ্যান করা, ঠাকুরের বাণী পাঠ করা। যা' শুনি বা পাঠ করে তা' চরিত্রগত করা। এটা সাধন-ভজনেরই একটা অঙ্গ।
তৃতীয়তঃ, আমরা কর্মীরা কর্মক্ষেত্রে যেখানেই যাই, সেখানকার লোকেরা যেন বুঝতে পারে যে, তাদের যত অশান্তি, যত অবসাদ, যত দুঃখ, যত মলিনতা সব দূর হ'ল। অশান্তি মানুষের সংসারে থাকেই। আমি যেন গিয়ে আরও অশান্তি না বাড়াই
সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হয়। আমরাও যেন গিয়ে তাদের নতুন আরেকটা অশান্তি সৃষ্টি না করি।
চতুর্থতঃ, নেশাটেশা একেবারে বাদ দেওয়া। 'সৎসঙ্গে' বসেই হয়তো কেউ চা খাচ্ছে, নস্যি নিচ্ছে বা পান খাচ্ছে- এ-সব মোটেই উচিত নয়। এক কাপ চা খেতে-খেতেই হয়তো যাজন করছি। ওতে ভাব নষ্ট হ'য়ে যায়। ওসব একদম বাদ দিতে হয়।
মনের মধ্যে পাপ আসতেই দিতে হয় না। খুৰ সেজেগুজে থাকলাম, অথচ মনের মধ্যে পাপ চিন্তা করলাম। পাপ কাকে ইষ্টস্বার্থপ্রতিষ্ঠাই আমাদের জীবন-বৃদ্ধির মূল সূত্র। ইষ্টস্বার্থপ্রতিষ্ঠার অন্তরায় যা'-যা' expansion (প্রসারণ)-এর বাধা সৃষ্টি করে, তাই পাপ। সেজনা মনে পাপ রাখতেই হয় না, মনকে সাফ রাখতে হয়।
যারা পাপ করে, অথচ লুকিয়ে রাখে, পোষণ করে তার চেয়ে যারা পাপ কাজ ক'রে গোপন করে না তারা ঢের ভাল। কেউ যেন জানতে না পারে, এভাবে যারা পাপ লুকিয়ে রাখে, তারা পরমপিতার আশীর্বাদ কখনোই পায় না। এজন্মে আবার তারাই প্রারন্ধের সৃষ্টি ক'রে চলে। পরজন্মে আবার তাদের লাঙ্গল টানতে হয়, আর পাঁচজনের বাড়ি খেতে হয়। পরমপিতা সকলের জনাই পথ রেখেছেন। তাঁর অনুশাসনবাদ ঠিক-ঠিক মেনে চলতে হয়।
শ্রীশ্রীপিতৃদেব ঠাকুরের প্রতি যদি আমাদের টান থাকে, তবে তাঁর জন্য নিজেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখবই। সবসময় সৈনিকের মত নিজেকে প্রস্তুত
রাখবই। আরেকটা বিষয়ে লক্ষন রাখা দরকার আমি নিজে যা' করি, তাই বলছি
ঠাকুরকে কিছু নিবেদন ক'রে না খেলে বিষ্ঠা খাওয়া হয়। যা-ই খাই-না কেন, সবসময় তাঁকে নিবেদন করে খেতে হয়। মন্ত্রটন্দ্র জানা না থাকলেও তাঁর উদ্দেশ্যে নিবেদন ক'রে অন্তত মনে মনে বলতে হয়,
দয়াল, আমি তোমার প্রসাদ খাচ্ছি।' আমি আমার ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনীদেরও তাই শেখাই। তখন ঠিক তাঁর পছন্দ মতন খাদ্য পানীয়ই গ্রহণ করতে মন চায়। আমাদের ভারতীয় বৈশিষ্ট্যই তাই, নিবেদন ক'রে ঠাকুরের প্রসাদ খাওয়া। তাহলে যারা মাছটাছ খায়, তাদের উপায়?
প্রফুল্লদা উপায় হচ্ছে, মাছটাছ না খাওয়া।
শ্রীশ্রীপিতৃদের একটু স্মিত হেসে বললেন এটা লোক দেখানোর ব্যাপার নয়। নাম ধ্যানের ব্যাপারেও তাই। পরমহংসদেব বলতেন, 'নাম করতে হয় মনে, বনে, কোণে। ঠাকুরও বলেছেন 'ঊষানিশায় মন্ত্র সাধন ঠাকুর একদিন কোন এক ক্যাপারে আমাকে বলেছিলেন
"ঢাকে ঢোলে করলে পজা
অহংকার হয় মনে-মনে,
চুপিসারে করবি পূজা
জানবে নাকো জগৎজনে।'
(ইষ্টপ্রসঙ্গে, ২য় ভাগ থেকে মুদ্রিত)
4 months ago | [YT] | 657
View 10 replies
sundorom248
পরমদয়াল শ্রীশ্রীঠাকুরের সৎমন্ত্রে দীক্ষাগ্রহণ নামজপ ও নিষ্ঠার সঙ্গে ইষ্টভৃতি পরিপালনের মধ্যে দিয়ে দুরারোগ্য, মুমূর্ষু রোগীও নতুন জীবন লাভ করছে। এরূপ একটি দিব্য করুণার ঘটনা ব্যক্ত করলেন পূজনীয় বাবাইবাবু।
কিছুদিন পূর্বে কাটিহার উৎসবে গিয়েছিলাম। একটি কম বয়সের মুসলমান মেয়ে এসে জানাল সে ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত। তাকে বললাম ঠিকমত চিকিৎসা হলে আরোগ্য হয়ে যেতে পারে। মেয়েটি মনে বল ও ভরসা পেয়ে শ্রীশ্রীঠাকুরের মন্ত্র নিয়ে ইষ্টভৃতি শুরু করে দিল। চিকিৎসা চলতে থাকল। চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হল। সেই হাসপাতালে রোগীর হাতে পয়সাকড়ি বা কোন সামগ্রী দেবার নিয়ম নেই। দীক্ষা নেওয়া বা ইষ্টভৃতি করার ক্ষেত্রে তার বাড়ির লোকদের আদৌ মত ছিল না। একদিন মেয়েটি হাসপাতালে থাকাকালে উপায় না পেয়ে জলের ঘটি ধরে ইষ্টভৃতি নিবেদন করে। ঐ হাসপাতালে থাকতে থাকতেই তার অবস্থা সঙ্গীন হয়ে ওঠে। মৃত্যু ঘটল মেয়েটির। সাধ্যমত অর্থ ব্যয় করেও রক্ষা করা গেল না দেখে বাড়ির লোকদের রাগ এসে পড়ল চিকিৎসকদের উপর। তাদের সাথে বাগবিতণ্ডা ও বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়ল। মারা যাবার তিন ঘন্টা পর দেখা গেল রোগীর আবার শ্বাসক্রিয়া শুরু হয়েছে। রোগী আবার বেঁচে উঠল। ঠাকুরের দয়ায় পুনর্জীবন পেল। আমার বন্ধু রাজেশ (প্রসাদ)-এর কাছে বাকি অংশটি শোনা। রাজেশের ভাগ্নে ডাক্তার, পাটনায় থাকে। মেয়েটির বাড়ীও পাটনায়। রাজেশ তার ভাগ্নের কাছে মেয়েটির খবর শুনে আমায় জানিয়েছে।
ঋত্বিক সন্মেলনে পূজনীয় বাবাইবাবু . তাং ১২. ৭. ২০১৫
স্থানঃ আনন্দবাজার ভবনের ৪র্থ তলা
আলোচনা * শ্রাবণ * ১৪২২
6 months ago | [YT] | 798
View 26 replies
sundorom248
মহাষষ্ঠীর শুভক্ষণে সবাইকে জানাই শারদীয়ার শুভেচ্ছা 🙏 🙏 🙏
প্রশ্ন ----- দেব - দেবী পূজার তাৎপর্য্য কী? দেব - দেবীরা বাস্তবিকই আছেন ? আবার , মহানির্ব্বান - তন্ত্রে আছে ---- সাধকানাং হিতার্থায় ব্রহ্মণো রূপ - কল্পনম্ ---- তাই কি?
শ্রীশ্রীঠাকুর ------ ব্রহ্মের রূপ আবার কল্পনা করতে হবে কেন? অন্ততঃ যেগুলি আমরা আমাদের ইন্দ্রিয়জ্ঞান দিয়ে ঠাওর পাই , সেগুলি সবই তো ব্রাহ্মেরই রুপ ------ তা ' যে কত রকমের , কত ধাঁচের , কত ভাবের , তার আর ইয়ত্তা নেই | ঐ শালার সাপও ব্রহ্মের রুপ , বাঘও ব্রহ্মের রুপ | গন্ডারও ব্রহ্মের রুপ , আমাদের পূর্ব্ব - পুরুষদের প্রত্যেকে , ঋষিদের প্রত্যেকে ----- সীজার , নেপোলিয়ান , আলেকজেন্ডার ----- যাদের কথা শুনেছি , প্রত্যেক যা ' - কিছু , প্রত্যেক মানুষটি মানুষের ভেতর প্রত্যেক বড় - বড় যারা ------ রাজাকে আর্য্যেরা নারায়নের প্রতীক ব'লে মেনে থাকেন ; এ সবই তো ব্রহ্মের রুপ | *
তবে যে - যে স্থলে মানুষের অস্তি ও বৃদ্ধির অনুকূল সেবা , সহানুভূতি ও সাহচর্য্যের সহিত করা ও জানার ভেতর - দিয়ে যত বেশী প্রত্যেকের জীবন ও বৃদ্ধির উদ্দীপনা সঞ্চার ক 'রে তাদের স্বার্থকেন্দ্র হ 'য়ে পড়েছেন , আর্য্যদের ব্রহ্মের প্রকট বা প্রকাশ তারা সেখানে তত বেশী ব ' লে মনে ক 'রে থাকে |
আর , এমনতর যাঁরা প্রত্যেকের অন্তরে করা ও জানার আলোক - সঞ্চরণে প্রত্যেকের অন্তরে দীপ্ত হ 'য়ে একটা উদ্বর্দ্ধনশীল চেতনায় জাগরুক থাকেন , তা ' দিগকেই আর্য্যেরা দেবতা আখ্যা দিয়েছেন | তিনিই দেবতা , যিনি অমনতর - ভাবে জীবের অন্তরে দীপ্তি পান | আর , আর্য্যদের ভেতরে যে প্রতিমা - পূজার বিধি আছে , সে - বিধির কারনই হচ্ছে এই , ------ যে - দেবতা জ্যান্ত - শরীরী হ 'য়ে মানুষের সন্মুখে এখন বা তখন আর প্রতিভাত নন , তাঁদের এমনতর একটা প্রতীক তৈরী ক 'রে তা ' তে ধারনা বা মননে , প্রান - প্রতিষ্ঠা ক 'রে স্তব ও পূজার ভেতর - দিয়ে শ্রদ্ধাবনত হৃদয়ে , সে - গুলিকে স্মরনে এনে , মানুষের জীবন ও বৃদ্ধিকে উদ্দীপ্ত ও জ্বল - জ্বলে ক 'রে তুলে , কর্ম্মের ভেতর - দিয়ে স্বভাব ও জীবনে সিদ্ধ ক 'রে তোলা ---- এই হচ্ছে আর্য্যদের প্রতিমা - পূজার উদ্দেশ্য | *
প্রতিমাকে আর্য্যেরা কখনই স্রষ্টা ব ' লে অভিহিত করেন নাই | এই বিধিগুলি শুধুই অনমনীয় সংস্কার - পরায়ন মানুষের জন্যেই ; একটা বাস্তব কিছু খাড়া ক 'রে কতকগুলি ক্রিয়া - কান্ডের ভেতর - দিয়ে হাতে - কলমে তাদের চেতনা - চিন্তার উদ্বোধন পরিকল্পনাতেই এই স্থুল প্রচেষ্টা | *
যাঁরা একটু বিশেষভাবে কিঞ্চিমাত্রও চিন্তা - দর্শনের ভেতর - দিয়ে সংস্কার - গুলিকে বিন্যস্ত ও নিয়ন্ত্রন করতে পেরেছেন , তাঁরা স্বতঃই আর ঐ রকম ব্যাপারে আটক হ 'য়ে সাধারনতঃ থাকেন না | শাস্ত্রেও এ বিষয়ে বহু - বহুভাবে বিবৃত ও আলোচিত হ'য়ে আছে ! ঐ যে আপনি বললেন , ও - কথাও অমনতর গোছেরই --সাধকানং হিতার্থায় ব্রহ্মণো রুপকল্পনম্ |
অনেক দেবদেবী একদিন জ্যান্ত শরীরী হ ' য়েই ছিলেন , আর এখনও যেমন ক 'রে বললাম , সেই হিসাবেই আছেন | আবার , ঐ দেব - দেবী যাঁরা একদিন ছিলেন বা এখনও যাঁরা আমাদের স্মরনের ভেতর অমনতর হ ' য়েই জাগরুক আছেন , তাঁদের বিশেষ - বিশেষ অবস্থার দিশেষ - বিশেষ ভাবের প্রতীকও তাঁদেরই একটা বিশেষ - বিশেষ ভাব - নির্দ্দেশক নামে প্রতিমা ক 'রে পূজার ব্যবস্থা অনেকই দেখা যায় | *
যাই থাক আর যেমনই থাক , এর ভেতরকার উদ্দেশ্যই হচ্ছে আগে যা ' বলেছি তাই | যদি উপযুক্ত আদর্শ , ইষ্ট বা গুরু না থাকেন , এই প্রতিমা - পূজা অনেক স্থলে বিপদও সৃষ্টি ক 'রে থাকে | এতে সংস্কারগুলি আরও কঠিনতর হ ' তে পারে | তাই , শাস্ত্রে যাদের গুরুকরণ হয় নাই , তাদের এই প্রতিমা - পূজা করা নিষিদ্ধ ব ' লে বিশেষ রকমে বলা হয়েছে |
আবার , যেমন প্রতিমার প্রান - প্রতিষ্ঠা বা প্রান - পরিকল্পনার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ আছে , তেমনি যখন যেখানে যেমনতর পূজাই হোক না কেন , গুরুকে পূজা করার বিধি অত্যন্ত কঠোর - নির্দ্দেশেই দেওয়া আছে |
গুরুপূজার বেলায় কিন্তু প্রান - প্রতিষ্ঠার কোন ক্রিয়া প্রচলন নাই | তার মানেই তো , গুরু তো প্রতিষ্ঠ - প্রান জ্যান্ত জ্বলজ্বলে মানুষ দেবতা |
শুধু তাই নয় , তারপর আবার গনেশের পূজা | গনেশ হচ্ছেন জনগনের ঈশ্বর ----- অর্থাৎ জনগনের অধিনায়ক দেবতা | তাহ'লেই বুঝুন ---- যেমন প্রতিমা - পূজার বিধি দেওয়া আছে , তেমনি তা ' - থেকে যে বিপদের সম্ভাবনা , তা 'নিরাকরণের জন্যেও বিধিমত ব্যবস্থার কোন ত্রুটি হয় নি | কিন্তু বিধিকে অনুসরন করবে কে? মানুষ তো ? তারা যদি বৃত্তি - বিধিকে অনুসরন করে , বৃত্তিভেদক শাস্ত্র যা ' ----- তাকে অবহেলা ক 'রে ছেঁড়া কাগজের ঝুড়িতেই রেখে দেয় , ------ এর গতি রোধ করবে কে? সে একজন পারে ----- তাকে বলে শাস্তি ও সর্ব্বনাশ !
তথ্যসূত্র - কথাপ্রসঙ্গে - পৃঃ ৫৪ , ৫৫ , ৫৬ , ৫৭ , ৫৮ , ৫৯ )
6 months ago | [YT] | 844
View 20 replies
sundorom248
ধরাধামে মানুষ মায়ের মাধ্যমে জন্ম নেয় ও সর্ব্বপ্রথম মায়ের কোলেই আশ্রিত হয়। মা-ই শিশুকে পিতা ও অন্যান্যদের চিনিয়ে দেন। তাই জীবনের ঊষালগ্ন থেকেই শিশুর মাতৃপূজার অনুশাসন শুরু হয়---- 'মাতৃদেবো ভব' তাই তো শুনি----- মাতৃভক্তি একান্ত দরকার। ঐটে হ'লো মূল' (আ.প্র. ৬ষ্ঠ খণ্ড, ১৬.১২.১৯৪৫)।
মাতৃভক্তি, মাতৃপূজা, মাতৃবন্দনা---- যেভাবেই বলা হোক----- মাতৃকেদ্রিক জীবনচর্য্যা সর্ব্বত্রই। বিশেষ ক'রে ভারতভূমিতে অতিবিশিষ্ট স্থান লাভ ক'রে আছে। শ্রবণ কুমারের পিতৃমাতৃভক্তি, শ্রীরামচন্দ্রের পিতৃসত্যপালন, চাণক্যের মাতৃভক্তি, ভগবান শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণদেবের মাতৃসাধনা, সাধক রামপ্রসাদ, কমলাকান্তের ভক্তি-নিংড়ানো মাতৃপূজা ---- এ সবই সর্ব্বজনবিদিত।
মাতৃগৌরবের কথা অনন্ত। যজুর্বেদে মাতাকে পাবায়িত্রী, শোধিকা বলা হ'য়েছে----- 'আপো অস্মান্ মাতরঃ শুনঘয়ন্তু' (৪/২)। মাতার গৌরবগাথায় তো সহস্র পিতার থেকেও অধিকতরা বলা হ'য়েছে মনুসংহিতায়----- 'সহস্রং তু পিতৃন মাতা গৌরবেনাতিরিচ্যতে' (২/১৪৫)। ব্যাসদেবকৃত মাতৃস্তোত্র এ প্রসঙ্গে বিশেষভাবে স্মরণীয়--- 'মাতা ধরিত্রী জননী দয়া ব্রহ্মময়ী সতী। দেবী তু রমণী শ্রেষ্ঠা নির্দ্দোষা সর্ব্বদুঃখহা। আরাধ্য পরমা ময়া তুষ্টিঃ শান্তিঃ ক্ষমা গতিঃ। স্বহা স্বধা চ গৌরী মা-পদ্ম চ বিজয়াজয়া॥'
এই মা-ই তো ছিলেন পরমপ্রেমময় শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের জীবনসর্ব্বস্ব। মাতৃকেদ্রিক, মাতৃগতপ্রাণ শ্রীশ্রীঠাকুরের সমগ্র জীবনে ব্যাপ্ত হ'য়ে আছেন এই মাতৃসত্তা। এত বৃহৎ ধর্ম্মীয় সংগঠন, এত মানুষ, এই বিরাট কর্ম্মযজ্ঞ----- এই সব কিছুর মূলে মায়ের তৃপ্তিসাধন, মায়ের নিদেশ-অনুশাসন পালন, মায়ের উপভোগের জন্য উৎসর্গীকৃত-সঙ্কল্প ------ এ কথা শ্রীশ্রীঠাকুর আজীবন বার বার কথাপ্রসঙ্গে ব'লেছেন। মাতা শ্রীশ্রীমনোমোহিনী দেবী তাঁর সমস্ত কর্ম্মপ্রেরণার মূল। মা তাঁর কাছে কী ছিলেন তা' তাঁর শ্রীমুখেই শোনা যাক্------- সরকার সাহেবই আমার গুরু। মায়ের গুরু হুজুর মহারাজকেও ছোটবেলা অবধি খুবই ভক্তিশ্রদ্ধা করি। তাঁদের কাউকে আমি কখনও দেখি নাই, এই জন্য মনে কখনও কখনও খুবই কষ্ট হয়, তখনই মায়ের দিকে তাকিয়ে শান্তি পাই। আমার মা-ই যেন সরকার সাহেব, হুজুর মহারাজ ও অন্যান্য মহাপুরুষের প্রতীক----- মা-ই আমার আদর্শ।
পুরুষোত্তমজননী শ্রীশ্রীমনোমোহিনীঃ
ব্রজগোপাল দত্তরায়
6 months ago | [YT] | 229
View 9 replies
sundorom248
শ্রীশ্রীঠাকুর বলতেন, সৎসঙ্গ হল মানুষ তৈরীর কারখানা। শ্রীশ্রীপিতৃদেব হলেন সেই কারখানার প্রথম ও প্রধান দক্ষ কর্মী এবং প্রধান শিক্ষক। পশ্চিমবঙ্গে নকশাল আন্দোলনের সময় কত শত শত গৃহ ও সমাজ থেকে বিতাড়িত হতাশাগ্রস্ত যুবক তাঁর স্নেহস্পর্শে উজ্জীবিত হয়ে নতুন জীবনের সন্ধান পেয়েছে তার কোনও ইয়াত্তা নেই। তিনি পিতার মত স্নেহ ও ভালবাসা দিয়ে প্রত্যেকের বৈশিষ্ট্য ও ঝোঁক মত শিক্ষা-দীক্ষা ও কর্মের সংস্থান করে দিয়ে এক নতুন জীবনের পথ দেখিয়ে দিলেন। তারা এখন প্রায় প্রত্যেকেই সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত, শিক্ষিত, দক্ষ এবং সৎসঙ্গের নিয়ত সেবক। তাই তারই সেদিন সমস্বরে, স্বতঃস্ফূর্তভাবে শ্রীশ্রীপিতৃদেব বলে তাঁকে সম্বোধন করেছিলেন। তিনি ছিলেন চলার পথের প্রতীক এবং দিশারী। সামনের দিকে এগিয়ে যাও। নিজে বাঁচ আর অন্যকে বাঁচাও, এই ছিল তাঁর জীবনের ব্রত।
ষোড়শীভবনের পূর্বের নাম ছিল 'নড়ালবাংলো' যশোহরের নড়াল রাজাদের। ওটা কিনে নেবার পর নামকরণ হ'লো ষোড়শীভবন। এরই একটি কক্ষে শ্রীশ্রীপিতৃদেব দক্ষিণমুখ করে বসতেন। সামনে বিশাল দরজা, তারপর গোলবারান্দা। কাঠের দরজার ভিতর ও বাইরে প্রচুর পিতলের অলঙ্কার লাগানো ছিল। ওগুলো দীর্ঘদিন অযত্নে কালো বিবর্ণ হয়ে আছে। একদিন পিতৃদেব আমাকে বললেন, ওগুলো পরিষ্কার করার কোনো উপায় তোর জানা আছে ? আমি বললাম, আজ্ঞে আছে। আমাকে কালকেই ওগুলো পরিষ্কার করে দিতে বললেন।
আমি বাজার থেকে অ্যসিড ও ব্রাশ আনিয়ে পিতৃদেবের স্নানের সময় ওগুলো পরিষ্কার করে প্রায় নতুনের মত চকচকে করে দিলাম।
তিনি দেখে খুশী হলেন। বললেন, কাল আমার বাথরুমের পিতলের কলগুলোও পরিষ্কার করে দিস। পরের দিন দুপুরে পিতৃদেবের বাথরুমে ঢুকলাম কলগুলো পরিষ্কার করার জন্য। ঢুকেই বিস্ময়ে অবাক হ'য়ে গেলাম। একটা সাধারণ মানের বাথরুম। কলগুলো পিতলের, সব থেকে দৃষ্টি আকর্ষণ করলো একটি প্লাস্টিকের মগ। ঐ সময়ে বাজার দর ১ টাকা ২৫ পয়সা হবে। যখনকার কেনা তখন ৫০ পয়সার বেশী হবে না। নীল রঙের মগ কিন্তু রঙ বোঝার উপায় নেই, বিবর্ণ হয়ে গেছে, তবে পরিষ্কার। ভেঙ্গে বা ফুটো হ'য়ে যায়নি।
মগটি তাঁর বাথরুমে একদম বেমানান। ভাবছি তাঁকে শুধুমাত্র একটু দর্শন করার জন্য লক্ষ লক্ষ লোক ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে, তাঁর শ্রীচরণে কত প্রণামী জমা পড়ে নিমেষের মধ্যে, তিনি এত সাধারণ বাথরুম ও আসবাবপত্র ব্যবহার করেন, না দেখলে বিশ্বাস করতে পারতাম না। তিনি বলতেন, 'আমি ঠাকুরের কুকুর, তাঁর সেবক মাত্র, এই টাকাপয়সা, বাড়ী-গাড়ী সব ঠাকুরের, এর এতটুকু অপচয় আমি সহ্য করতে পারি না।' প্রয়োজনের অতিরিক্ত কিছু করলে তিনি বলতেন, ফুটুনি করা হচ্ছে। কলগুলো সুন্দরভাবে পরিষ্কার হ'য়ে গেলো। কিন্তু মগটা ? আমি ঠিক করলাম ওটা পালটিয়ে একটা নতুন মগ এনে দেব। রোহিতোষদাকে বলতে তিনি বললেন---- 'আমি ওটা পাল্টাবার চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু ওটা যতদিন ব্যবহারের অনুপযুক্ত না হবে, বাবা ততদিন পাল্টাতে দেবেন না। আমি এ কথা কর্ণপাত না করে বাছারে গিয়ে একটা নতুন মগ এনে বাথরুমে রেখে দিয়ে পুরাতনটা রোহিতোষদার কাছে দিলাম।
বিকালে পিতৃদেব বাথরুমে গিয়ে তাঁর পুরাতন মগ দেখতে না পেয়ে রোহিতোষদাকে রাগতকণ্ঠে জিজ্ঞাসা করলেন------- "আমার মগ কে পাল্টালো ?" রোহিতোষদা আমার নাম করাতে তিনি তাঁর পুরাতন মগটা চেয়ে নিয়ে বললেন---- "বলে দিস, আমার মগ আমাকে জিজ্ঞাসা না করে পাল্টানো ঠিক হয়নি।" বিকালে প্রার্থনার নর পিতৃদেবের ঘরে গেলে রোহিতোষদা বাবার রাগের কথা বলাতে আমি ভয়ে ভয়ে তাঁর সামনে গিয়ে প্রণাম করে বসলাম। তিনি গম্ভীর চোখে আমার দিকে একবার তাকিয়ে অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে নিলেন। ঐ দিন কোনো কথাই আমার সঙ্গে বললেন না। আমি নিজেকে খুব অপরাধী মনে করলাম তাঁর অস্বস্তির কারণ হওয়াতে। ভাবলাম ফাঁকমতো ক্ষমা চেয়ে নেব।
পরের দিন বাথরুমের বাকি কাজ করতে গিয়ে মগটা দেখে আবার মন খারাপ হয়ে গেলো। ভাবলাম এটাও তো অ্যাসিড দিয়ে পরিষ্কার করা যায়। মগটা নিয়ে বাইরে এসে সুন্দর করে পরিষ্কার করে ফেললাম। প্রায় নতুন-এর মত করে আবার যথাস্থানে রেখে এলাম।
বিকালে বাথরুমে গিয়ে পিতৃদেব মগটি দেখে খুব খুশী হ'য়ে রোহিতোষদাকে জিজ্ঞাসা করলেন------ "মগটা পরিষ্কার করল কে ?" রোহিতোষদা আমার নাম বলতে বাবা খুব খুশী হয়ে বললেন------ "এ কাজটা তো গতকালই করতে পারতো ? ফুটুনি করে নতুন মগ কিনে নিয়ে এল।"
বিকালে প্রার্থনার পর প্রণাম করতে গেলে তিনি বললেন----- 'মগটা সুন্দর পরিষ্কার হয়েছে, ওরকম সাশ্রয়ী হয়ে কাজ করতে হয়। ঠাকুরের পয়সা অযথা ব্যয় করতে নেই। মগটা তো ব্যবহারের অনুপযুক্ত হয়ে যায়নি। একটু বিবর্ণ হয়ে গেছে বলেই পাল্টাবি ? ওর এত দিনের সেবা দেবার কোন দাম-ই নেই ? আর যাঁর জিনিস তাঁকে না বলে পাল্টাবি কেন ? আমি অবাক বিস্ময়ে তাঁর দিকে তাকিয়ে সাধারণের মধ্যে অসাধারণ মহাপুরুষকে প্রণাম করে বাইরে এলাম আর একটা শিক্ষা নিয়ে যে------ "ওরাও সেবা দেয়।" জামাকাপড়, জুতো, মগ, বালতি ইত্যাদি নিত্য ব্যবহার্য জিনিসগুলো যে আমাদের সেবা দেয় এ কথা কি আমরা একবারও ভেবে দেখি!
তিনি প্রচণ্ড আশাবাদী ছিলেন, অতি সাধারণ ব্যক্তিকে মর্যদা দিতেন। তৃণাদপি সুনীচেন তরোরিব সহিষ্ণুণা, অমানিনা মানদেন কীর্ত্তনীয়ঃ সদাহরিঃ তাঁর চরিত্রগত।
. তুমি আছো হৃদয় জুড়ে
. সমীরকুমার পর্বত
আলোচনা * পৌষ * ১৪১৯
6 months ago | [YT] | 322
View 13 replies
sundorom248
দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার অন্তর্গত জয়নগর- মজিলপুরে শ্রীশ্রীঠাকুর বিরাজকৃষ্ণ ভট্টাচার্য্যের বাড়াতে শুভ পদার্পণ করেন ১৯৭৭ খৃষ্টাব্দের ২২ ডিসেম্বর। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জননী মনোমোহিনী দেবী, শ্রীশ্রীবড়দা।ও কীর্ত্তনে পারর্দশী বেশ কয়েকজন পার্ষদ।
এই বাড়িতে অবস্থানকালে বহু মানুষ শ্রীশ্রীঠাকুর দর্শন করতে আসতেন। আলপ-আলোচনা ও কীর্ত্তনে বাড়িখানা সবসময় মুখরিত হয়ে থাকত। কয়েকজন বিশিষ্ট মানুষের আমন্ত্রণে শ্রীশ্রীঠাকুর তাঁদের বাড়িতে গেছেন। তার মধ্যে আছেন প্রখ্যাত জমিদার যতীন্দ্রনাথ বসু ও জানকীনাথ ভট্টাচার্য্য।
একদিন শ্রীশ্রীঠাকুর শুনলেন যে, গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু নীলাচলে যাওয়ার পথে যে 'চক্রতীর্থ' নামক স্থানে কিছু সময়ের জন্য অবস্থান করেছিলেন, সেই স্থান মাত্র এখান থেকে #সাত মাইল দূরে অবস্থিত। এছাড়া চক্রতীর্থের খ্যাতি ছিল পৌরাণিক কাহিনীতেও। মা গঙ্গা ভগীরথের পিছন পিছন আসার সময় এক সময় অন্তঃসলীলা হয়ে যান। এই স্থানে তিনি তাঁর হাতের চক্র দেখিয়ে ভগীরথকে আশ্বস্ত করেন। সেই কাহিনী থেকেই নাম হয়েছে চক্রতীর্থ। পরশুরাম মাতৃ-হত্যার পরে হাতের কুঠার মোচন করেন এই স্থানে স্নান করে।
এইসব শুনে বিশেষ করে মহাপ্রভুর স্মৃতি- বিজড়িত চক্রতীর্থ দর্শনের জন্য শ্রীশ্রীঠাকুর ভীষণভাবে ইচ্ছা প্রকাশ করেন। ২৮ ডিসেম্বর সাকলে কীর্ত্তনদল-সহ কীর্ত্তন করতে করতে রওনা দেন। কীর্ত্তনদলকে পিছনে ফেলে অতি দ্রুত শ্রীশ্রীঠাকুর চক্রতীর্থ উপনীত হন। কীর্ত্তন শেষে তাঁর মহা ভাব-সমাধি হয়। ভাবাবস্থায় তিনি বলেন------ "তুমি এস। দেখ, তোমার কত বল্লেম, শুনলে না ? তুমি আলো ক'রে এস, তোমার সন্তানকে কোলে নিতে এস। দ্যাখ, জগৎ কাঁদে, পরমাণু কাঁদে, তাই তুমিও কাঁদ। তুমি এস, আলো নিয়ে জ্যোতিঃ নিয়ে এস। ,,,,,,,, " এই দিনের ভাববাণী পূণ্য-পুঁথি গ্রন্থের চতুঃষষ্টিতম দিবসের বাণী রূপে লিপিবদ্ধ আছে।
কিছুসময় পরে আবার কীর্ত্তন করতে করতে শ্রীশ্রীঠাকুর জয়নগর মজিলপুরে ফিরে আসেন। পরদিন সেখান থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তাঁকে একবার দর্শনের জন্য নৌকাঘাটে অগণিত মানুষের সমাগম হয়েছিল। পরবর্তী কালে শ্রীশ্রীঠাকুর নিজেই বলেছেন সে কথা ----- "একবার জয়নগর- মজিলপুর গেলাম। ওরে, লোক আর লোক। লোকের মাথা ছাড়া আর কিছুই দেখার জো নেই। কুম্ভমেলা বা কুরুক্ষেত্রের মেলার মত লোকের ভিড়।" (আলোচনা-প্রসঙ্গে ২২ খণ্ড)
চক্রতীর্থে যে পূর্ণ্যভূমিতে শ্রীশ্রীঠাকুর ভাবসমাধিস্থ হয়েছিলেন সেই স্থানটি শ্রীশ্রীবড়দার নির্দেশে চিহ্নিত করা হয় ও একটি মন্দির নির্মাণ করে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। পরবর্তীকালে তার পাশেই শ্রীমন্দির নির্মিত হয়। ১৯১৬ খৃষ্টাব্দে ২২ডিসেম্বর জয়নগর মজিলপুর ঠাকুরবাড়ীতে ও ২৮ ডিসেম্বর চক্রতীর্থে শ্রীশ্রীঠাকুরের শুভাগমন শতবর্ষ পালিত হয়।
পুণ্য পদরজঃ ধন্য
সুদীপ্ত শেখর পাল
আলোচনা * ভাদ্র *১৪৩
6 months ago | [YT] | 790
View 22 replies
sundorom248
কেওনঝাড় থেকে এসেছেন এক দাদা। তার ছেলে চাকরির জন্য চেষ্টা করছেন। পরিবারের আয় খুব সামান্য। নানান পারিবারিক সমস্যা ও বাধার মধ্য দিয়ে তাদের জীবন কাটছে। তিনি সুস্থির জীবন উত্তীর্ণ হতে পারার জন্য আশীর্বাদ প্রার্থনা করলেন।
শ্রীশ্রীআচার্য্যদেব বলতে থাকেন----- আমি অনেককেই এই কথাটা বারবার বলি যে, সঠিক আবেগপূর্ণ ইষ্টভৃতি কী করতে পারে ! আমি বলছি না, এটা science বলছে। বিজ্ঞানের research paper-গুলো পড়ে দেখবে। যখনই তোমার জীবনের সুযোগের দরজাগুলো খুলছে না, তখনই বুঝবে ইষ্টভৃতি ঠিক করে করা হচ্ছে না। সেটা হচ্ছে তোমার যান্ত্রিকতার একটা আচার মাত্র।
সত্যিকারের আকুতি নিয়ে একবার করে দেখ। অন্তরের আবেগটাকে একবার সেই তীব্রতার জায়গায় নিয়ে যাও। হবেই হবে। হাজারবার করলে হাজারবার হবে। আমি এটা বারবার পরীক্ষা করেছি। বহুবার প্রত্যক্ষ করেছি, যার চাকরি হওয়ার নয় তার চাকরি হয়েছে। যার বাচ্চা হবার নয় তার বাচ্চা হয়েছে, হবেই।
তিনি পরমপিতা, তিনি বলেছেন, এটা ধ্রুব সত্য। বিজ্ঞানও আজ তা প্রমাণ করছে। আমরা এটা কর, ওটা কর বলে মিথ্যা ভাওতা দিতে পারি, তিনি পারেন না। তাই তিনি এমনি এমনি কিছু বলে যাননি। তোমার মনের হারিয়ে যাওয়া বিশ্বাসটাকে আগে জোরাল কর। ইষ্টভৃতি শুরু কর।
শর্তের মধ্যে প্রথম শর্তে যদি আমরা 'তাঁকে' নিয়ে আসতে পারি, তবেই তাঁকে উপলব্ধি করতে পারব। তারজন্য তাঁর মনের মতন আগে আমাকে হয়ে উঠতে হবে। আমি আমার মতন হয়ে, আমার ধান্দা নিয়ে চলি, খাওয়া-দাওয়া, ভাবনা-চিন্তা কোন কিছুরই ঠিক নেই। জীবনের চলার ঠিক নেই, বলার ঠিক নেই, ভাবনা-চিন্তা ঠিক নেই, অথচ আমি ভাববো যে তুমি আমার কথা শুনবে! তা কোনদিন সম্ভব নয়। কারণ, তিনি এলোমেলো নন, তিনি স্থির। আমি এলোমেলো হয়ে চলব, তিনি আমার কাছে এলোমেলো হয়েই থাকবেন। আগে তুমি স্থির হও, ইষ্টে মগ্ন হও। 'তাঁকে' বিশ্বাস করতে শেখ। তোমার জীবনে তাঁকেই বাঙময় করে তোলার চেষ্টা কর। দেখবে যে তুমি তাঁকে সব অবস্থার মধ্যে পাবে।
ঠাকুরের জগতে কোন ফাঁকিবাজি নেই। আমি কী পোশাক পরলাম, কী সাজগোজ করলাম, মানুষের সাথে সাজিয়ে গুছিয়ে কী কথা বললাম, সেটা আমার পরিচয় নয়। ঠাকুরের সাথে প্রেম করি কিনা, সেটাই আমার আসল পরিচয়। একবার যদি সেই অন্তরের একান্ত জায়গাটাতে তাঁর প্রতি প্রেম আনা যায়, তাহলে প্রত্যেকটা মানুষ মহাপুরুষ হয়ে যাবে। একদম হবেই। আমি এটাই চেয়ে আসছি যে, সব ঘরে ঘরে মহামানব জেগে উঠুক।
"আজি হাম কি পেখলুঁ "
সম্রাট দাস
আলোচনা * জৈষ্ঠ্য * ১৪৩২
6 months ago | [YT] | 521
View 19 replies
sundorom248
|| সমাজ ||
যখনই কতকগুলি মানুষ
এক আদর্শে অনুপ্রাণিত হইয়া
দলবদ্ধ হইয়া
তাঁহাকেই সার্থক করিতে চলে,-
তখনই সেই সম্বন্ধ জমমণ্ডলীকেই
সমাজ বলা যায়।
শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূল চন্দ্র
তথ্যসূত্র:চলার সাথী
7 months ago | [YT] | 749
View 27 replies
sundorom248
শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের বাণী
“মানুষ, গরু, পোকা-মাকড়—এমনকি একটি পিঁপড়েও বাঁচতে চায়; মরতে চায় না কেউ। আমিও না।
কিন্তু মানুষের শরীর চিরকাল থাকে না—এও সত্য।
তাই আমি বাঁচতে চাই আপনাদের মধ্যে। আপনারাই আমাকে যুগ যুগ ধরে বয়ে নিয়ে বেড়াবেন।
আমাকে এইভাবে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব আপনাদেরই নিতে হবে। নইলে আমার কথাগুলো প্রাণ পাবে না; সেগুলো শূন্যে হাহাকার করে ফিরবে।”
(আলোচনা-প্রসঙ্গে, খণ্ড ১৮, পৃঃ ২৫০)
7 months ago | [YT] | 673
View 22 replies
Load more