রোজ রোজ মানুষগুলা মরতে দেখি, পাতাগুলা ঝরতে দেখি-কিন্তু মন বুঝে না কেন ? পাপের শাস্তি দেখি, পূণ্যের পুরস্কার দেখি, কিন্তু মন বুঝে না কেন ? সর্ব্বদা অধ্যবসায়ের পরমপ্রতিভাপূর্ণ দিগন্তব্যাপী মাহাত্ম্য দেখি, শ্রমের সফলতা দেখি, কর্ম্মের পূর্ণতা দেখি- কিন্তু মন বুঝে না কেন ?
আজ গালভরা হাসি, কাল চোখভরা কান্না, বুকভরা হা-হুতাশ, আজ হয়ত সাপটিয়ে ব্রহ্মাণ্ড ভেঙ্গে ফেলতে চায়, কাল হয়তঃ শয্যার উপর পাশ ফিরিতে পারে না, –কিন্তু মন বুঝে না কেন ? যুবতীর যৌবন, জোয়ারের জল, যুবকের যৌবন, পূর্ণিমার চাঁদ, এই নদীভরা, খালভরা, বিলভরা জল, ছল্ ছল্ ছল্ ভরা ভরা চাহনি, এই আকাশভরা হাসি, এই আর থাকে না। সৰ্ব্বদা দেখি জোয়ারের ভাটা আছে, হাসির কান্না আছে, সুখের দুঃখ আছে, শান্তির অশান্তি আছে, জন্মের মৃত্যু আছে, কিন্তু মন বুঝে না কেন ?
সমুদ্রের বালু গ’ণে দিতে পারি, আকাশের তারা গণে দিতে পারি, পৃথিবীটা মাপ করে দিতে পারি, – কিন্তু, অত বড় পরিবর্তনগুলা মন দেখে না - কেন ?
এই বাতাসে ধুলা উড়িল, পাতা পড়িল, আবার ঝাঁ করিয়া সব কোথায় উড়িয়া গেল, একটু হাওয়া পাব বলে নদীর তটে গাছের তলায় হা ক'রে তাকা'য়ে থাকতে হল। এই প্রবল তরঙ্গে ফেনরাশি উদ্গীরণ করিয়া নাচিয়া তরঙ্গিণী কি জানি কোথা ছুটিয়াছে, আবার এ নীরব,-বলি মন বুঝে না কেন ?
এই বিবাহ বাসরের এত আয়োজন, দু'টা কথায় রাত পোহায়ে যায়, কথাটী ফুরাতে দেয় না ; অমনি আবার অত সাধভরা বুক, আশাভরা প্রাণ কি জানি কি ভাবতে ভাবতে সকল আমোদ জলাঞ্জলি দিয়ে উদাসী হ'তে চায়, -বলি, মন বুঝে না কেন ?
এই শৈশবের সুন্দর হাসি, এই কৈশোরের ধামাল খেলা, এই যৌবনের জোর জব্বর, এই প্রৌঢ়ের হর্ষবিষাদ, এই বৃদ্ধের অসার গল্প, হায় ! হায় ! হায় ! এত দেখে, কিন্তু মন বুঝে না কেন ?
এই তার জমিদারী গেল, তার রাজত্ব গেল, ধনী নির্ধন হ'ল, কাঙ্গাল রাজা হ'ল, হাট ভেঙ্গে মাঠ হ'ল, জঙ্গল ভেঙ্গে মঙ্গল হ'ল, –কিন্তু মন বুঝে না কেন?
এই একটী চুম্বন, একটা আদর সম্ভাষণ, একটী প্রণয়ালিঙ্গন, দু'টী মিছে কথা, একটু শঠতা, দু’টী তর্ক, একটা দীর্ঘশ্বাস, তার পর সব মাটী, -আমারও মাটী, তোমারও মাটী, তারও মাটী,- কিন্তু মন বুঝে না কেন ?
সীমানা নিয়ে দুই ভাইয়ে বড় ঝগড়া, দু'চারঅঙ্গুলী পরিমিত স্থানের জন্য, এত ভালবাসা, আদর স্নেহ, সব জলাঞ্জলি দিয়ে একে আরে চোখে চাহিতে ঘৃণা করিতেছে। বলি হ্যারে পামর মন, এই মাটী কার ? এই অত বড় প্রকাণ্ড ব্রহ্মাণ্ডটা কার ? এখানে সীমানা, ওখানে সীমানা, কত হাজার হাজার এমন ক'রে সীমানা গা'ড়ে, সীমানা অসীমানাতে মিশায়ে মিশিয়ে গিয়েছে-এগুলি কি ? কেবল মানবীয় একটী স্বভাব বই ত নয় ? দূরে যাক্ ছাই স্বভাব, মানুষের দল মানুষ নিয়ে থাকুক, আর অই পাগলটা ঝোঁপে ঝোঁপে কোণে বনে, একথা ওকথা বকাবকি ক'রে গেয়ে যাক্ ।
ইহা করব, উহা করব, এমত হব, হ'তে দেব না, করতে দেব না, কত কথা উঠাপড়া করে, কত ভাঙ্গে, কত গড়ে, কার কয়টা মনগড়া কথা পূর্ণ হ'তে কে দেখিয়াছে ? তবে কেন ? ইহা আর উহা, সঙ্কল্প আর বিকল্প, যা হ’বার তাই হবে, হ'তেছে, হয় হউক, বলি মন বুঝে না কেন ?
এইটা কোন্ তালে নাচে, কোন্ রাগিণীতে গায়, এই তালের সম্ কই, এই রাগিণীর মূর্ছনা কই, বে-লয়, ছাড়া, খাপছাড়া, কেবল কতকগুলা হিজিবিজি সব মানুষগুলা, –কতকগুলা নাড়ি ভুঁড়ি আর কতকগুলা হিজিবিজি, বিশৃঙ্খল ভাবের তাড়নায় উন্মনস্ক-আর কিছু নয়, কেবল এইটা, ঐটা, –ইহা, উহা ভাবতে ভাবতে দিন যায়, রাত যায়, বাতি নিবে যায়, মাস যায়, বৎসর যায়,
যে'তে ঐ ফুল গাছটা মরে, ফল গাছটা মরে, কোকিলটা চেঁচাইয়া উড়ে যায়; - আবার কেবল থাকে ঝিঁ ঝিঁ-পোকার ঝিঁ ঝিঁ, নিস্তব্ধ নীরব প্রকৃতি মাতাইয়া ঐ একটা ঝিঁ ঝিঁ-সংগ্রামের আদিতে একটা ঝিঁ ঝিঁ, পশ্চাতে একটা ঝিঁ ঝিঁ !- হায় ! হায় ! মন বুঝে না কেন ? কেন বুঝে না- কে বুঝিবে, কে বলিবে, কে জানে ?
ঐ শুন পাগল গায় :
কৰ্ম্মসূত্র, – মানব পুতুলী বাঁধা তায়, - কত নাট্ট হয় অভিনীত, -তুমি আছ নেপথ্যে, সে জানিতে না পায়, সেই ভাবে পুতুলী ক্রিয়ান্বিত।
হযরত শাহ খাজা শরফুদ্দিন চিশতী (রহঃ)-এর জন্ম ৬২৮ হিজরী (প্রায় ১২৩০ খ্রিস্টাব্দ) সালে ভারতের আজমীর শরীফে হয়। তিনি ছিলেন সুলতান-উল-হিন্দ হযরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী (রহঃ) এর দ্বিতীয় পুত্র এবং হযরত বিবি ইসমতের গর্ভজাত। তাঁর পিতা ছিলেন চিশতিয়া তরিকার প্রতিষ্ঠাতা খাজা আবু ইসহাক শামির বংশধর এবং আজমীরের বিখ্যাত দরগার মালিক। তাঁর জেষ্ঠ ভাই ছিলেন হযরত খাজা ফখর উদ্দিন আবুল খাইর চিশতী (রহঃ), কনিষ্ঠ ভাই হযরত খাজা গিয়াস উদ্দিন আবু সাইয়েদ চিশতী (রহঃ), এবং একমাত্র বোন হযরত বিবি হাফেজা জামাল (রহঃ)।
হযরত শাহ খাজা শরফুদ্দিন চিশতী (রহঃ) বাংলায় ইসলামের প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ১৩০৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি হযরত শাহ জালালের সাথে সিলেটে পৌঁছান এবং ইসলাম প্রচারে সহায়তা করেন। পরবর্তীতে, ১৩০৫ খ্রিস্টাব্দে শাহ জালালের নির্দেশে তিনি দক্ষিণ বাংলার দিকে যান এবং সোনারগাঁওয়ে অবস্থান করেন। এখান থেকে তিনি রমনা নামক গ্রামে (বর্তমান ঢাকার শাহবাগ এলাকা) আস্তানা গড়ে তোলেন। রমনার ‘নক্কাস’ (দাস বাজার) এলাকায় বসবাস করে তিনি কালী মন্দিরের পাশে নির্যাতিত জনগণের মধ্যে ইসলাম প্রচার শুরু করেন। তাঁর মাধুর্যময় চরিত্র এবং কারামাতে আকৃষ্ট হয়ে হিন্দু জনগণ ইসলাম গ্রহণ করতে থাকেন। তান্ত্রিকদের প্রভাব কমিয়ে তিনি এই এলাকাকে মুসলিম লোকালয়ে পরিণত করেন, যা পরে “চিশতীয়া মহল্লা” নামে পরিচিত হয়। দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে তিনি এখানে ইসলাম প্রচারে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি কখনো বিবাহিত হননি, কিন্তু তাঁর অনুসারীরা এই এলাকাকে বাসস্থানে পরিণত করেন। তাঁর অবদানের ফলে তিনি “বাবা ওলি-এ-বাংলা” (বাংলার বন্ধু) উপাধি লাভ করেন।
অথচ আজ এমন সাধকের মাজার এই জায়গা থেকে স্থানান্তর করতে চায় কিছু ইসলামের খেদমত করতে চাওয়া জামাত আর ওহাবী চক্র। এই বেয়াদবির জবাব তারা অচিরেই পাবে।
"নতুন সংবিধান প্রণয়ন না ও পুরোনো সংবিধানের সংশোধন—এই তর্ক একাডেমিক। ১৯৭২ সালের সংবিধান লেখা হয়েছিল ভারতের সংবিধানটাকে আদর্শ ধরে। আমাদের নতুন (সংশোধিত বা লিখিত) সংবিধান হবে সরল। প্রথম ভাগটা হবে মৌলিক অধিকার বিষয়ক, দ্বিতীয় ভাগে থাকবে সরকারের গঠনতন্ত্র।
সংবিধানে সর্বক্ষমতা যেতে হবে জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত আইনসভার ওপর। বর্তমান সংবিধান আইনসভাকে রেখেছে পঞ্চম ভাগে। চতুর্থ ভাগে রেখেছে নির্বাহী বিভাগকে। এভাবে অনেকটা অজ্ঞানেই আমাদের গঠনতন্ত্র নির্বাহী বিভাগকেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের শুরুতেই রয়েছে কংগ্রেস বা আইনসভা, তারপর নির্বাহী বিভাগ, পরে বিচার বিভাগ। সেখানে রাষ্ট্রপতির চেয়েও বড় আইনসভা (সিনেট ও হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভ)। আমাদের এখানে আইনসভার এ গুরুত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
সবার আগে আইনসভার কর্তৃত্ব তৈরি করতে হবে। আর তা করতে হলে আইনসভার সদস্যদের সত্যি সত্যি নির্বাচিত হতে হবে। কোনো সদস্য যদি গুরুতর অসদাচরণ করেন, তাহলে বিচারপতিদের অপসারণের যেমন বিধি আছে, তেমনি তাঁদেরও অপসারণের বিধান থাকতে হবে।
সরকারের তিন বিভাগের মধ্যে আইনসভাকে সবার ওপরে স্থান দিতে হবে। এর অধীনে অর্থাৎ আইনসভার যাঁরা সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা, তিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন। বিচার বিভাগের সদস্য বা বিচারকদেরও আইনসভার অনুমোদন ছাড়া নিয়োগ বৈধ হবে না। যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসের অনুমোদন লাভ না করলে কেউ উচ্চ আদালতের বিচারপতি নিযুক্ত হতে পারেন না। যুক্তরাষ্ট্রে ধনতন্ত্রের সর্বোচ্চ বিকাশ হয়েছে। আমরা তাদের সমান নই, কিংবা তাদের অনুকরণ করার সময়ও হয়তো আসেনি। কিন্তু ছায়া হিসেবে বাস্তবে সব ক্ষেত্রেই আমরা তো তাদের অনুসরণ করেই থাকি। তাহলে এক্ষেত্রে করব না কেন?
অনেকে বলেন, এক কক্ষের জায়গায় দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ হলে বেহতর হবে। অনেকে মনে করেন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য বিধান করলে ভালো হবে। অনেকে মনে করেন, দেশকে আট-নয়টি প্রদেশে বিভক্ত করলেই হয়তো ভালো হবে। এগুলোর কোনোটাই মৌলিক সংস্কার নয়। এগুলো ঘায়ের ওপর প্রলেপ দেওয়া। আসল কথা, নির্বাচন হতে হবে নির্বাচনের মতো। জনগণের অধিকার অলঙ্ঘনীয় রাখতে হবে। যারা মিথ্যা মামলা রুজু করবেন, তাঁদেরও শাস্তির বিধান থাকতে হবে।"
* সলিমুল্লাহ খান। বিশেষ সাক্ষাৎকার, প্রথম আলো। ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৪।
ASHIQUR RAHMAN- আশিকুর রহমান
রোজ রোজ মানুষগুলা মরতে দেখি, পাতাগুলা ঝরতে দেখি-কিন্তু মন বুঝে না কেন ? পাপের শাস্তি দেখি, পূণ্যের পুরস্কার দেখি, কিন্তু মন বুঝে না কেন ? সর্ব্বদা অধ্যবসায়ের পরমপ্রতিভাপূর্ণ দিগন্তব্যাপী মাহাত্ম্য দেখি, শ্রমের সফলতা দেখি, কর্ম্মের পূর্ণতা দেখি- কিন্তু মন বুঝে না কেন ?
আজ গালভরা হাসি, কাল চোখভরা কান্না, বুকভরা হা-হুতাশ, আজ হয়ত সাপটিয়ে ব্রহ্মাণ্ড ভেঙ্গে ফেলতে চায়, কাল হয়তঃ শয্যার উপর পাশ ফিরিতে পারে না, –কিন্তু মন বুঝে না কেন ? যুবতীর যৌবন, জোয়ারের জল, যুবকের যৌবন, পূর্ণিমার চাঁদ, এই নদীভরা, খালভরা, বিলভরা জল, ছল্ ছল্ ছল্ ভরা ভরা চাহনি, এই আকাশভরা হাসি, এই আর থাকে না। সৰ্ব্বদা দেখি জোয়ারের ভাটা আছে, হাসির কান্না আছে, সুখের দুঃখ আছে, শান্তির অশান্তি আছে, জন্মের মৃত্যু আছে, কিন্তু মন বুঝে না কেন ?
সমুদ্রের বালু গ’ণে দিতে পারি, আকাশের তারা গণে দিতে পারি, পৃথিবীটা মাপ করে দিতে পারি, – কিন্তু, অত বড় পরিবর্তনগুলা মন দেখে না - কেন ?
এই বাতাসে ধুলা উড়িল, পাতা পড়িল, আবার ঝাঁ করিয়া সব কোথায় উড়িয়া গেল, একটু হাওয়া পাব বলে নদীর তটে গাছের তলায় হা ক'রে তাকা'য়ে থাকতে হল। এই প্রবল তরঙ্গে ফেনরাশি উদ্গীরণ করিয়া নাচিয়া তরঙ্গিণী কি জানি কোথা ছুটিয়াছে, আবার এ নীরব,-বলি মন বুঝে না কেন ?
এই বিবাহ বাসরের এত আয়োজন, দু'টা কথায় রাত পোহায়ে যায়, কথাটী ফুরাতে দেয় না ; অমনি আবার অত সাধভরা বুক, আশাভরা প্রাণ কি জানি কি ভাবতে ভাবতে সকল আমোদ জলাঞ্জলি দিয়ে উদাসী হ'তে চায়, -বলি, মন বুঝে না কেন ?
এই শৈশবের সুন্দর হাসি, এই কৈশোরের ধামাল খেলা, এই যৌবনের জোর জব্বর, এই প্রৌঢ়ের হর্ষবিষাদ, এই বৃদ্ধের অসার গল্প, হায় ! হায় ! হায় ! এত দেখে, কিন্তু মন বুঝে না কেন ?
এই তার জমিদারী গেল, তার রাজত্ব গেল, ধনী নির্ধন হ'ল, কাঙ্গাল রাজা হ'ল, হাট ভেঙ্গে মাঠ হ'ল, জঙ্গল ভেঙ্গে মঙ্গল হ'ল, –কিন্তু মন বুঝে না কেন?
এই একটী চুম্বন, একটা আদর সম্ভাষণ, একটী প্রণয়ালিঙ্গন, দু'টী মিছে কথা, একটু শঠতা, দু’টী তর্ক, একটা দীর্ঘশ্বাস, তার পর সব মাটী, -আমারও মাটী, তোমারও মাটী, তারও মাটী,- কিন্তু মন বুঝে না কেন ?
সীমানা নিয়ে দুই ভাইয়ে বড় ঝগড়া, দু'চারঅঙ্গুলী পরিমিত স্থানের জন্য, এত ভালবাসা, আদর স্নেহ, সব জলাঞ্জলি দিয়ে একে আরে চোখে চাহিতে ঘৃণা করিতেছে। বলি হ্যারে পামর মন, এই মাটী কার ? এই অত বড় প্রকাণ্ড ব্রহ্মাণ্ডটা কার ? এখানে সীমানা, ওখানে সীমানা, কত হাজার হাজার এমন ক'রে সীমানা গা'ড়ে, সীমানা অসীমানাতে মিশায়ে মিশিয়ে গিয়েছে-এগুলি কি ? কেবল মানবীয় একটী স্বভাব বই ত নয় ? দূরে যাক্ ছাই স্বভাব, মানুষের দল মানুষ নিয়ে থাকুক, আর অই পাগলটা ঝোঁপে ঝোঁপে কোণে বনে, একথা ওকথা বকাবকি ক'রে গেয়ে যাক্ ।
ইহা করব, উহা করব, এমত হব, হ'তে দেব না, করতে দেব না, কত কথা উঠাপড়া করে, কত ভাঙ্গে, কত গড়ে, কার কয়টা মনগড়া কথা পূর্ণ হ'তে কে দেখিয়াছে ? তবে কেন ? ইহা আর উহা, সঙ্কল্প আর বিকল্প, যা হ’বার তাই হবে, হ'তেছে, হয় হউক, বলি মন বুঝে না কেন ?
এইটা কোন্ তালে নাচে, কোন্ রাগিণীতে গায়, এই তালের সম্ কই,
এই রাগিণীর মূর্ছনা কই, বে-লয়, ছাড়া, খাপছাড়া, কেবল কতকগুলা হিজিবিজি
সব মানুষগুলা, –কতকগুলা নাড়ি ভুঁড়ি আর কতকগুলা হিজিবিজি, বিশৃঙ্খল
ভাবের তাড়নায় উন্মনস্ক-আর কিছু নয়, কেবল এইটা, ঐটা, –ইহা, উহা
ভাবতে ভাবতে দিন যায়, রাত যায়, বাতি নিবে যায়, মাস যায়, বৎসর যায়,
যে'তে ঐ ফুল গাছটা মরে, ফল গাছটা মরে, কোকিলটা চেঁচাইয়া উড়ে যায়;
- আবার কেবল থাকে ঝিঁ ঝিঁ-পোকার ঝিঁ ঝিঁ, নিস্তব্ধ নীরব প্রকৃতি মাতাইয়া
ঐ একটা ঝিঁ ঝিঁ-সংগ্রামের আদিতে একটা ঝিঁ ঝিঁ, পশ্চাতে একটা ঝিঁ ঝিঁ !-
হায় ! হায় ! মন বুঝে না কেন ? কেন বুঝে না- কে বুঝিবে, কে বলিবে, কে
জানে ?
ঐ শুন পাগল গায় :
কৰ্ম্মসূত্র,
– মানব পুতুলী বাঁধা তায়, - কত নাট্ট হয় অভিনীত,
-তুমি আছ নেপথ্যে, সে জানিতে না পায়, সেই ভাবে পুতুলী ক্রিয়ান্বিত।
~ মহর্ষি মনোমোহন দত্ত
1 month ago | [YT] | 4
View 0 replies
ASHIQUR RAHMAN- আশিকুর রহমান
হযরত শাহ খাজা শরফুদ্দিন চিশতী (রহঃ)-এর জন্ম ৬২৮ হিজরী (প্রায় ১২৩০ খ্রিস্টাব্দ) সালে ভারতের আজমীর শরীফে হয়। তিনি ছিলেন সুলতান-উল-হিন্দ হযরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী (রহঃ) এর দ্বিতীয় পুত্র এবং হযরত বিবি ইসমতের গর্ভজাত। তাঁর পিতা ছিলেন চিশতিয়া তরিকার প্রতিষ্ঠাতা খাজা আবু ইসহাক শামির বংশধর এবং আজমীরের বিখ্যাত দরগার মালিক। তাঁর জেষ্ঠ ভাই ছিলেন হযরত খাজা ফখর উদ্দিন আবুল খাইর চিশতী (রহঃ), কনিষ্ঠ ভাই হযরত খাজা গিয়াস উদ্দিন আবু সাইয়েদ চিশতী (রহঃ), এবং একমাত্র বোন হযরত বিবি হাফেজা জামাল (রহঃ)।
হযরত শাহ খাজা শরফুদ্দিন চিশতী (রহঃ) বাংলায় ইসলামের প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ১৩০৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি হযরত শাহ জালালের সাথে সিলেটে পৌঁছান এবং ইসলাম প্রচারে সহায়তা করেন। পরবর্তীতে, ১৩০৫ খ্রিস্টাব্দে শাহ জালালের নির্দেশে তিনি দক্ষিণ বাংলার দিকে যান এবং সোনারগাঁওয়ে অবস্থান করেন। এখান থেকে তিনি রমনা নামক গ্রামে (বর্তমান ঢাকার শাহবাগ এলাকা) আস্তানা গড়ে তোলেন। রমনার ‘নক্কাস’ (দাস বাজার) এলাকায় বসবাস করে তিনি কালী মন্দিরের পাশে নির্যাতিত জনগণের মধ্যে ইসলাম প্রচার শুরু করেন। তাঁর মাধুর্যময় চরিত্র এবং কারামাতে আকৃষ্ট হয়ে হিন্দু জনগণ ইসলাম গ্রহণ করতে থাকেন। তান্ত্রিকদের প্রভাব কমিয়ে তিনি এই এলাকাকে মুসলিম লোকালয়ে পরিণত করেন, যা পরে “চিশতীয়া মহল্লা” নামে পরিচিত হয়। দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে তিনি এখানে ইসলাম প্রচারে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি কখনো বিবাহিত হননি, কিন্তু তাঁর অনুসারীরা এই এলাকাকে বাসস্থানে পরিণত করেন। তাঁর অবদানের ফলে তিনি “বাবা ওলি-এ-বাংলা” (বাংলার বন্ধু) উপাধি লাভ করেন।
অথচ আজ এমন সাধকের মাজার এই জায়গা থেকে স্থানান্তর করতে চায় কিছু ইসলামের খেদমত করতে চাওয়া জামাত আর ওহাবী চক্র। এই বেয়াদবির জবাব তারা অচিরেই পাবে।
4 months ago | [YT] | 0
View 0 replies
ASHIQUR RAHMAN- আশিকুর রহমান
আমরা আমাদের বিপ্লব ব্যর্থ হতে দিবো না।
ইনকিলাব জিন্দাবাদ। 🚩
11 months ago | [YT] | 0
View 0 replies
ASHIQUR RAHMAN- আশিকুর রহমান
পাগলপাড়া, জিন্দাপীর, বটগ্রাম।
11 months ago | [YT] | 0
View 0 replies
ASHIQUR RAHMAN- আশিকুর রহমান
Allah is great.
1 year ago | [YT] | 0
View 0 replies
ASHIQUR RAHMAN- আশিকুর রহমান
ওগো মা, তোমার কোলে জনম আমার
মরণ তোমার বুকে
1 year ago (edited) | [YT] | 0
View 0 replies
ASHIQUR RAHMAN- আশিকুর রহমান
শুনো আজব এক দেশের কাহিনি
রাজা করে ভিক্ষা সেথায়, রানী করে চাকরানী।।
1 year ago | [YT] | 0
View 0 replies
ASHIQUR RAHMAN- আশিকুর রহমান
What is the ultimate reality of earth?
1 year ago | [YT] | 0
View 0 replies
ASHIQUR RAHMAN- আশিকুর রহমান
"নতুন সংবিধান প্রণয়ন না ও পুরোনো সংবিধানের সংশোধন—এই তর্ক একাডেমিক। ১৯৭২ সালের সংবিধান লেখা হয়েছিল ভারতের সংবিধানটাকে আদর্শ ধরে। আমাদের নতুন (সংশোধিত বা লিখিত) সংবিধান হবে সরল। প্রথম ভাগটা হবে মৌলিক অধিকার বিষয়ক, দ্বিতীয় ভাগে থাকবে সরকারের গঠনতন্ত্র।
সংবিধানে সর্বক্ষমতা যেতে হবে জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত আইনসভার ওপর। বর্তমান সংবিধান আইনসভাকে রেখেছে পঞ্চম ভাগে। চতুর্থ ভাগে রেখেছে নির্বাহী বিভাগকে। এভাবে অনেকটা অজ্ঞানেই আমাদের গঠনতন্ত্র নির্বাহী বিভাগকেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের শুরুতেই রয়েছে কংগ্রেস বা আইনসভা, তারপর নির্বাহী বিভাগ, পরে বিচার বিভাগ। সেখানে রাষ্ট্রপতির চেয়েও বড় আইনসভা (সিনেট ও হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভ)। আমাদের এখানে আইনসভার এ গুরুত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
সবার আগে আইনসভার কর্তৃত্ব তৈরি করতে হবে। আর তা করতে হলে আইনসভার সদস্যদের সত্যি সত্যি নির্বাচিত হতে হবে। কোনো সদস্য যদি গুরুতর অসদাচরণ করেন, তাহলে বিচারপতিদের অপসারণের যেমন বিধি আছে, তেমনি তাঁদেরও অপসারণের বিধান থাকতে হবে।
সরকারের তিন বিভাগের মধ্যে আইনসভাকে সবার ওপরে স্থান দিতে হবে। এর অধীনে অর্থাৎ আইনসভার যাঁরা সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা, তিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন। বিচার বিভাগের সদস্য বা বিচারকদেরও আইনসভার অনুমোদন ছাড়া নিয়োগ বৈধ হবে না। যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসের অনুমোদন লাভ না করলে কেউ উচ্চ আদালতের বিচারপতি নিযুক্ত হতে পারেন না। যুক্তরাষ্ট্রে ধনতন্ত্রের সর্বোচ্চ বিকাশ হয়েছে। আমরা তাদের সমান নই, কিংবা তাদের অনুকরণ করার সময়ও হয়তো আসেনি। কিন্তু ছায়া হিসেবে বাস্তবে সব ক্ষেত্রেই আমরা তো তাদের অনুসরণ করেই থাকি। তাহলে এক্ষেত্রে করব না কেন?
অনেকে বলেন, এক কক্ষের জায়গায় দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ হলে বেহতর হবে। অনেকে মনে করেন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য বিধান করলে ভালো হবে। অনেকে মনে করেন, দেশকে আট-নয়টি প্রদেশে বিভক্ত করলেই হয়তো ভালো হবে। এগুলোর কোনোটাই মৌলিক সংস্কার নয়। এগুলো ঘায়ের ওপর প্রলেপ দেওয়া। আসল কথা, নির্বাচন হতে হবে নির্বাচনের মতো। জনগণের অধিকার অলঙ্ঘনীয় রাখতে হবে। যারা মিথ্যা মামলা রুজু করবেন, তাঁদেরও শাস্তির বিধান থাকতে হবে।"
*
সলিমুল্লাহ খান। বিশেষ সাক্ষাৎকার, প্রথম আলো। ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৪।
1 year ago | [YT] | 0
View 1 reply
ASHIQUR RAHMAN- আশিকুর রহমান
1 year ago | [YT] | 0
View 0 replies
Load more