A research platform dedicated to exploring the socio-economic and cultural identity of Muslims in the Bengal Delta, with the aim of reclaiming the region’s place in global history through scholarly events and publications.
রবীন্দ্রনাথের কবিত্ব নিয়ে উর্দু ভাষায় প্রবন্ধ লিখেছেন খালেদ বাঙালি (১৮৯১-১৯৪৪)। লেখাটি ১৯২৪ সালের। রবীন্দ্রনাথসহ বাংলা সাহিত্যের তাবৎ বড় কবিরা তখন জীবিত। অর্থাৎ বাংলার সমান্তরালে একটা সমান্তরাল উর্দু পাবলিক স্ফিয়ার খোদ বাংলাতেই ছিলো। ব-দ্বীপের বহুভাষিক চরিত্র এবং ভাষাগুলোর মধ্যকার সংযোগ কেমন ছিলো, তার অনন্য নজির এই প্রবন্ধ।
প্রাক্-আধুনিক বাংলার ইতিহাসে চট্টগ্রাম শুধু একটি বন্দর নয়, বরং বাণিজ্য ও মুদ্রাব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। এই প্রবন্ধে সেই প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। লেখক মূলত দেখাতে চেয়েছেন, চট্টগ্রাম কীভাবে বাংলাকে ভারত মহাসাগরীয় বাণিজ্যজগতের সঙ্গে যুক্ত করেছিল এবং সেই বাণিজ্যের সঙ্গে মুদ্রা, বিশেষ করে রুপার টঙ্কা তৈরি ও প্রচলনের কী সম্পর্ক ছিল। মুদ্রা, শিলালিপি ও ঐতিহাসিক সূত্রের ভিত্তিতে তিনি দেখিয়েছেন, চট্টগ্রাম সব সময় সক্রিয় টাকশাল ছিল না। তবে রুপার বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ, স্থানীয় মুদ্রা তৈরির কেন্দ্র এবং বাংলা, ত্রিপুরা ও আরাকানের মধ্যকার বাণিজ্যিক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে চট্টগ্রামের বিশেষ ভূমিকা ছিল।
প্রবন্ধটি জন এস. ডেয়েলের ইমেরিটাস অধ্যাপক আবদুল করিম স্মারক বক্তৃতার সংশোধিত রূপ। তিনি ৩০ অক্টোবর ২০১৪ তারিখে চট্টগ্রাম ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটিতে Chittagong Centre for Advanced Studies-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই বক্তৃতা দেন।[1] এতে প্রাক্-আধুনিক বাংলার বাণিজ্য ও মুদ্রাব্যবস্থায় চট্টগ্রামের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। বিষয়টির ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রবন্ধটি বাংলায় অনুবাদ করেছে সেন্টার ফর ইসলামিকেট বেঙ্গল।
মধ্যযুগের বাংলা কাব্যের লোকপ্রিয় রেওয়াজ নবী-বন্দনা। কাব্যের শুরুতে হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর উদ্দেশ্যে নিবেদিত স্তুতি-বাক্য সাহিত্যের অনন্য মুক্তা হিসেবে পরিগনিত। সেই মুক্তা ছড়িয়ে রয়েছে মুহম্মদ সগীর থেকে শুরু করে সৈয়দ সুলতান, হাজী মুহম্মদ, শেখ ফয়জুল্লাহ, দৌলত কাজী, আলাওল, শেখ চান্দ ও হেয়াত মাহমুদের মতো অসংখ্য কবিদের রচনায়। নবীজির জীবন, চরিত্র আর মহিমা বর্ণনায় কবিরা যে আবেগপূর্ণ শব্দ ও অলঙ্কার ব্যবহার করেছেন, তা বাংলায় মুসলমানদের স্বতন্ত্র কাব্যভাষাই নির্মাণ করেনি কেবল; তৈরি করেছে তাদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক গতিপথ । আজ শত শত বছর পরে তার কিছু অংশ হাজির করা হলো ইসলামিকেট বেঙ্গলের পাঠকদের সামনে।
এই প্রবন্ধে ভারত মহাসাগরীয় দুনিয়ায় বঙ্গোপসাগরের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। লেখকের যুক্তি হলো, আনুমানিক ১০০০ খ্রিস্টাব্দের ‘বাণিজ্যিক বিপ্লব’ ঘটার আগে বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে বঙ্গোপসাগরের যোগাযোগ ছিল অস্পষ্ট ও অনিয়মিত—এই ধারণা ঠিক নয়। একইভাবে, ভারত মহাসাগরীয় দুনিয়ায় বঙ্গোপসাগর দেরিতে যুক্ত হয়েছিল, এই ধারণাটিও তিনি সঠিক মনে করেন না। বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের নানা উদাহরণ বরং দেখায় যে, প্রাচীনকাল থেকেই বঙ্গোপসাগর ভারত মহাসাগরীয় দুনিয়ার একটি সক্রিয় অংশীদার ছিল। তাই বঙ্গোপসাগর দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় ছিল, এমন ধারণাও ঠিক নয়।]
[ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ইতিহাস ও সংযোগ নিয়ে সমকালীন বিশ্বে যারা কাজ করছেন; তাদের মধ্যে অগ্রগণ্য রিলা মুখার্জি। বর্তমানে তিনি Indian Ocean World Centre এর সাথে সংযুক্ত। পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছেন Asian Review of World Histories-এর প্রধান সম্পাদক হিসেবে। তার প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে India in the Indian Ocean World: From the Earliest Times to 1800 CE এবং Strange Riches: Bengal in the Mercantile Map of South Asia বিশেষভাবে সমাদৃত। বর্তমান গবেষণাপত্রটি ২০১৭ সালে ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ম্যারিটাইম হিস্ট্রির ২৯ খণ্ড, ১ম ইস্যুতে প্রকাশিত। বিষয়বস্তুর প্রাসঙ্গিকতা ও গুরুত্ব বিবেচনা করে অনুবাদ করেছে সেন্টার ফর ইসলামিকেট বেঙ্গল।]
প্রচলিত ইতিহাসচর্চায় ঐতিহাসিক উৎস হিসেবে স্বীকৃত হয় সরকারি নথি, শিলালিপি, ভ্রমণকাহিনি, সংবাদপত্র, আদালতের দলিল, ব্যক্তিগত চিঠি। চমকপ্রদভাবে, উৎসগুলোর সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো এগুলো প্রাতিষ্ঠানিক। রাষ্ট্রীয় কিংবা অভিজাত শ্রেণির কণ্ঠস্বর থেকে উৎসারিত। সীমাবদ্ধ নথিভুক্ত কাঠামোর মধ্যে। উৎসগুলো রাজনৈতিক ইতিহাস এবং আংশিকভাবে সাংস্কৃতিক ইতিহাস পুনর্গঠনে কার্যকর। কিন্তু এই সব উৎস জনসাধারণের অনুভূতি, বিশ্বাস, চর্চা কিংবা দৈনন্দিন জীবনের অভ্যন্তরীণ বুনন সম্পর্কে প্রায় নীরব থাকে। পুথি ঠিক এই শূন্যস্থানেই একটি ভিন্ন ধরনের ঐতিহাসিক উপাদান হাজির করে।
পুথিতে প্রায়ই সামাজিক আচার ও লোকবিশ্বাস নিবিড়ভাবে বিধৃত থাকে। থাকে বিয়ে, মৃত্যু, দুর্যোগ, পাপ-পুণ্য সংক্রান্ত ধারণা। যেহেতু প্রাতিষ্ঠানিক সূত্রগুলো এই বিষয়ের দিকে নজর দেয় না; ফলে সমাজের বিশ্বাস-কাঠামো বোঝার সহজলভ্য পথ হয়ে ওঠে পুথি। তাছাড়া, পুথির রচনাকাল ও প্রকাশনার ধারাবাহিকতা বলে দেয়, কীভাবে একটি স্মৃতি বছরের পর বছর ধরে পুনরুৎপাদিত ও পুনর্ব্যাখ্যাত হয়েছে।
পুথিকে নিছক সাহিত্যকর্ম হিসেবে সীমাবদ্ধ রাখলে এর ঐতিহাসিক মূল্য অনেকাংশে অগোচরে থেকে যায়। বরং এটিকে একধরনের vernacular historiography হিসেবে পড়া দরকার, যেখানে ঘটনা, অনুভূতি, ব্যাখ্যা ও সামাজিক স্মৃতি একসঙ্গে বিন্যস্ত থাকে। এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে পুথি হয়ে ওঠে এক ধরনের history from below। প্রাতিষ্ঠানিক আর্কাইভের পরিপূরক হিসেবে নয়, বরং এটি সমান্তরাল ও প্রায়শই অগোচরে-থাকা উৎস হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।
ফ্রান্সিস রবিনসনের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধে দেখানো হয়েছে, উসমানি, সাফাভি ও মুঘল সাম্রাজ্য কেবল রাজনৈতিকভাবে নয়, বরং মাদ্রাসা-শিক্ষা, যুক্তিবিদ্যা, সুফিবাদ, হজ, আলেম-ও-সুফিদের যাতায়াত এবং জ্ঞান-বিনিময়ের বিস্তৃত যোগাযোগব্যবস্থার মাধ্যমে একটি অভিন্ন ইসলামি-বৌদ্ধিক-পরিসরে সংযুক্ত ছিল। প্রবন্ধটি বিশেষভাবে দারসে নিজামিয়া, ইবন আরাবির প্রভাব এবং আন্তঃআঞ্চলিক পাণ্ডিত্যচর্চার আলোকে এই সংযোগব্যবস্থার একটি সুসংহত ব্যাখ্যা উপস্থাপন করে। তবে আজকের দৃষ্টিতে এর কিছু বিশ্লেষণ তুলনামূলকভাবে সরলীকৃত বলে মনে হতে পারে; কারণ পরবর্তীকালে এই আন্তঃআঞ্চলিক সংযোগ, বৌদ্ধিক বিনিময় এবং সামাজিক-ধর্মীয় যোগাযোগব্যবস্থার প্রকৃতি আরও বহুমাত্রিক, গতিশীল ও জটিল বলে প্রতিভাত হয়েছে। তবুও ইসলামি বিশ্বের সংযুক্ত বৌদ্ধিক ইতিহাস (Connected Intellectual History) বোঝার ক্ষেত্রে এই প্রবন্ধটি এখনো একটি মৌলিক ও পথপ্রদর্শক রচনা।
[প্রফেসর ফ্রান্সিস রবিনসন একজন মশহুর ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ। তিনি রয়্যাল হলোওয়ে, ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনে দক্ষিণ এশীয় ইতিহাসের ইমেরিটাস অধ্যাপক। ইসলামি সভ্যতা নিয়ে গবেষণায় তিনি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিশেষজ্ঞ। তাঁর গবেষণার প্রধান বিষয় হলো ধর্মীয় পরিবর্তন, উলামাদের এলমি সিলসিলা এবং আধুনিক যুগের শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত মুসলিম বিশ্বের জ্ঞান ও চিন্তার যোগাযোগ। প্রাক্-আধুনিক মুসলিম সাম্রাজ্যগুলোর মধ্যে জ্ঞান ও চিন্তার যে পারস্পরিক যোগাযোগ ছিল, সে বিষয়ে তিনি বিস্তর গবেষণা করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে Separatism Among Indian Muslims (১৯৭৪), Atlas of the Islamic World Since 1500 (১৯৮২), The ‘Ulama of Farangi Mahall and Islamic Culture in South Asia (২০০১), Islam, South Asia, and the West (২০০৮) এবং Jamal Mian: The Life of Maulana Jamaluddin Abdul Wahab of Farangi Mahall, 1919–2012 (২০১৮)]
বাংলায় ইসলাম বিস্তারের ইতিহাস ব্যাখ্যায় প্রফেসর রিচার্ড ম্যাক্সওয়েল ইটনের Frontier Theory বা সীমান্ত তত্ত্ব দীর্ঘদিন ধরে ইতিহাসচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। তবে এই তত্ত্ব যতটা প্রভাবশালী, ততটাই বিস্তৃত এর বিতর্কের আওতাগুলো। এই লেখায় তাঁর ব্যবহৃত কালপরিসর (timeframe) এবং তাত্ত্বিক বিশ্লেষণী কাঠামো (lens) হিসেবে সীমান্ত ধারণার ধারণাগত যথার্থতা নিয়ে কয়েকটি প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়েছে।
আব্দেসসেলাম শেদ্দাদি এই প্রবন্ধে মার্শাল জি. এইচ. হজসনের মৌলিক অবদানের একটি গভীর ও সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ হাজির করেছেন। এতে কেন্দ্রীয় আলাপ হল : ইসলামের ইতিহাস ও বিশ্ব-ইতিহাস পরস্পর বিচ্ছিন্ন নয়। বরং দেখা যায়, একটির বিশ্লেষণ অপরটির আলাপকে সন্দেহাতীতভাবে সমৃদ্ধ করে চলেছে।
শেদ্দাদি দেখিয়েছেন, হজসন প্রচলিত প্রাচ্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি অতিক্রম করে ইসলামি সভ্যতাকে মানবসভ্যতার সামগ্রিক বিকাশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি ইসলামের ইতিহাসের আলাপকে কেবল আরব বা মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক পরিসরে সীমাবদ্ধ রাখেন নি; আফ্রো-ইউরেশিয় বিশ্বের বিস্তৃত সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও বৌদ্ধিক আদান-প্রদানের পরিসরে এর আলাপকে বিস্তৃত করেছেন। একই সাথে ইসলামের ইতিহাসে প্রচলিত সময়-বিভাজনকে পুনর্বিবেচনা করে তথাকথিত পতন নির্দেশক মধ্যপর্বকে ইসলামি সভ্যতার বিশ্বজনীন বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সৃজনশীল যুগ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
এই প্রবন্ধের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান হল আধুনিকতা সম্পর্কে হজসনের পুনর্বিবেচনাকে সংক্ষিপ্তভাবে হাজির করা। আধুনিকতা কোন ইউরোপীয় অর্জন নয়; বরং সমগ্র আফ্রো-ইউরেশিয় বিশ্বের দীর্ঘমেয়াদি পারস্পরিক সংযোগ ও বিনিময়ের ফল। এই দৃষ্টিকোণ বিশ্ব-ইতিহাসের ইউরোকেন্দ্রিক প্রগতিশীল বিবর্তনের ধারণা ও এই অনুমানকে সাথে নিয়ে চর্চিত ইতিহাস-লিখন বিদ্যার ধারাগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং এটি একই সাথে বিশ্ব-ইতিহাসকে আরও অন্তর্ভুক্ত-মূলক ও আন্ত:সংযুক্ত-রূপে চর্চার প্রবণতাকে উস্কে দেয়।
ফরাসি ভাষায় রচিত শেদ্দাদির এই প্রবন্ধটি আরেংজি ভাষায় তর্জমা করেছেন আমেরিকান ইতিহাসবিদ এডমুণ্ড বার্ক তৃতীয়। তাঁর আংরেজি তর্জমাটি বাংলায় প্রকাশ করেছে সেন্টার ফর ইসলামিকেট বেঙ্গল। আশা করা যায়, এ তর্জমা ইতিহাস, ইসলাম অধ্যয়ন ও বিশ্ব-ইতিহাসে আগ্রহী বাংলা ভাষাভাষী পাঠকের জন্য সামান্য হলেও ফয়েজ ও বরকতের হবে।
এ লেখায় ড. মুঈনুদ্দীন আহমদ খান’র Origin and Development of Experimental Science : Encounter with Modern West এর পাঠ প্রসঙ্গে তিনটি ভাবনা হাজির করা হয়েছে।
প্রথম ভাবনায় দেখানো হয়েছে, স্যার আইজাক নিউটন কেন্দ্রীক “সায়েন্টেফিক রেভ্যুলেশন”র বয়ান বিভিন্ন ঐতিহাসিক তথ্যের আলোকে ও পদ্ধতিগত বিবেচনায় সমস্যাজনক।
দ্বিতীয় ভাবনায়, বিজ্ঞানের ইতিহাস ও বিজ্ঞান দর্শন’র মতো শাস্ত্রীয় শৃঙ্খলাগুলোর পশ্চিমা একাডেমিতে বিকাশের পটভূমি ও প্যাটার্নে মনযোগ দেয়া হয়েছে। এতে বিশেষভাবে উঠে এসেছে, বিজ্ঞান দর্শনের প্রাথমিক বাহাস-মুবাহিসার দিকগুলো, যার ভিত্তিতে এখনকার বিজ্ঞান দর্শন দাঁড়িয়ে আছে।
তৃতীয় ভাবনায়, ড. খানের উলুম আত্-তাজরিবিয়ার বিশ্লেষণের সাথে ড. নসর ও নকীব আত্তাসের বিজ্ঞান দর্শনের বয়ান উপস্থাপন করা হয়েছে।
এই দ্বিতীয় কিস্তিতে তৃতীয় ভাবনার শেষ অংশ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ।
দর্শন কী, দর্শনের ইতিহাস নিয়ে কাজ করার তাৎপর্য কী, এবং কোনো ভাষায় দার্শনিক চর্চা গড়ে ওঠার জন্য কোন ধরনের বৌদ্ধিক ও ভাষাগত শর্ত প্রয়োজন— এই প্রশ্নগুলো বাঙলা ভাষায় দর্শনচর্চার ক্ষেত্রে অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত যখন আমরা বাঙলা ভাষায় ইসলাম ও ধ্রুপদী দার্শনিক ঐতিহ্যের সঙ্গে একটি পদ্ধতিগত সংলাপ প্রতিষ্ঠা করতে চাই। এই বুদ্ধিবৃত্তিক আদান-প্রদান বা সংলাপের তাগিদেই শুরুতেই এসকল প্রশ্ন মীমাংসা করা একান্ত প্রয়োজন।
প্রথম মাকালায় লেখক এরিস্টটলের মেটাফিজিক্স পাঠকে কেন্দ্র করে দর্শনের আদি তলব, জানার স্বভাবজাত আকাঙ্ক্ষা এবং একজন তালিবুল ইলমের বুদ্ধিবৃত্তিক সফরের অর্থ অনুসন্ধান করেছি। এই আলোচনায় গ্রিক দর্শনের সূচনাবিন্দু, ইসলামি জ্ঞান-ঐতিহ্যে ‘তলব’-এর ধারণা, ঈমান ও বুদ্ধির সম্পর্ক, ধর্মতত্ত্ব ও পরাবিদ্যার পারস্পরিক প্রয়োজনীয়তা, এবং দার্শনিক প্রশিক্ষণের ভাষাগত ও কারিগরি গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে যে, দর্শন কোনো নিরপেক্ষ ও সর্বজনীন বুদ্ধির একক আধিপত্যের এলাকা নয়; বরং প্রতিটি সভ্যতা নিজস্ব ভাষা, অভিজ্ঞতা ও ঐতিহ্যের মধ্য দিয়ে সত্যকে ধারণ করে। মানুষের মধ্যে সত্যের প্রতি যে নিরন্তর আকর্ষণ, তার মধ্য দিয়েই বুদ্ধি, রুহ, ভাষা ও জীবন পরস্পরের সঙ্গে সংলাপে প্রবেশ করে। এই প্রেক্ষাপটে গ্রিক, আরবি ও বাংলা ভাষার ঐতিহাসিক সম্পর্ক বিবেচনায় নিয়ে একটি সৃজনশীল ‘তর্জমা’ বা ভাব-রূপান্তরের পদ্ধতির প্রস্তাব করা হয়েছে। যার লক্ষ্য হলো আক্ষরিক অনুবাদের সীমা অতিক্রম করে বাংলার ভেতর থেকেই একটি জীবন্ত ও স্বকীয় দার্শনিক ভাষা ও বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যের পুনর্গঠন।
Center for Islamicate Bengal
রবীন্দ্রনাথের কবিত্ব নিয়ে উর্দু ভাষায় প্রবন্ধ লিখেছেন খালেদ বাঙালি (১৮৯১-১৯৪৪)। লেখাটি ১৯২৪ সালের। রবীন্দ্রনাথসহ বাংলা সাহিত্যের তাবৎ বড় কবিরা তখন জীবিত। অর্থাৎ বাংলার সমান্তরালে একটা সমান্তরাল উর্দু পাবলিক স্ফিয়ার খোদ বাংলাতেই ছিলো। ব-দ্বীপের বহুভাষিক চরিত্র এবং ভাষাগুলোর মধ্যকার সংযোগ কেমন ছিলো, তার অনন্য নজির এই প্রবন্ধ।
1 month ago | [YT] | 5
View 1 reply
Center for Islamicate Bengal
প্রাক্-আধুনিক বাংলার ইতিহাসে চট্টগ্রাম শুধু একটি বন্দর নয়, বরং বাণিজ্য ও মুদ্রাব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। এই প্রবন্ধে সেই প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। লেখক মূলত দেখাতে চেয়েছেন, চট্টগ্রাম কীভাবে বাংলাকে ভারত মহাসাগরীয় বাণিজ্যজগতের সঙ্গে যুক্ত করেছিল এবং সেই বাণিজ্যের সঙ্গে মুদ্রা, বিশেষ করে রুপার টঙ্কা তৈরি ও প্রচলনের কী সম্পর্ক ছিল। মুদ্রা, শিলালিপি ও ঐতিহাসিক সূত্রের ভিত্তিতে তিনি দেখিয়েছেন, চট্টগ্রাম সব সময় সক্রিয় টাকশাল ছিল না। তবে রুপার বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ, স্থানীয় মুদ্রা তৈরির কেন্দ্র এবং বাংলা, ত্রিপুরা ও আরাকানের মধ্যকার বাণিজ্যিক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে চট্টগ্রামের বিশেষ ভূমিকা ছিল।
প্রবন্ধটি জন এস. ডেয়েলের ইমেরিটাস অধ্যাপক আবদুল করিম স্মারক বক্তৃতার সংশোধিত রূপ। তিনি ৩০ অক্টোবর ২০১৪ তারিখে চট্টগ্রাম ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটিতে Chittagong Centre for Advanced Studies-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই বক্তৃতা দেন।[1] এতে প্রাক্-আধুনিক বাংলার বাণিজ্য ও মুদ্রাব্যবস্থায় চট্টগ্রামের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। বিষয়টির ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রবন্ধটি বাংলায় অনুবাদ করেছে সেন্টার ফর ইসলামিকেট বেঙ্গল।
🔗 islamicatebengal.org/history/5835/
1 month ago | [YT] | 8
View 1 reply
Center for Islamicate Bengal
মধ্যযুগের বাংলা কাব্যের লোকপ্রিয় রেওয়াজ নবী-বন্দনা। কাব্যের শুরুতে হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর উদ্দেশ্যে নিবেদিত স্তুতি-বাক্য সাহিত্যের অনন্য মুক্তা হিসেবে পরিগনিত। সেই মুক্তা ছড়িয়ে রয়েছে মুহম্মদ সগীর থেকে শুরু করে সৈয়দ সুলতান, হাজী মুহম্মদ, শেখ ফয়জুল্লাহ, দৌলত কাজী, আলাওল, শেখ চান্দ ও হেয়াত মাহমুদের মতো অসংখ্য কবিদের রচনায়। নবীজির জীবন, চরিত্র আর মহিমা বর্ণনায় কবিরা যে আবেগপূর্ণ শব্দ ও অলঙ্কার ব্যবহার করেছেন, তা বাংলায় মুসলমানদের স্বতন্ত্র কাব্যভাষাই নির্মাণ করেনি কেবল; তৈরি করেছে তাদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক গতিপথ । আজ শত শত বছর পরে তার কিছু অংশ হাজির করা হলো ইসলামিকেট বেঙ্গলের পাঠকদের সামনে।
1 month ago | [YT] | 7
View 2 replies
Center for Islamicate Bengal
এই প্রবন্ধে ভারত মহাসাগরীয় দুনিয়ায় বঙ্গোপসাগরের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। লেখকের যুক্তি হলো, আনুমানিক ১০০০ খ্রিস্টাব্দের ‘বাণিজ্যিক বিপ্লব’ ঘটার আগে বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে বঙ্গোপসাগরের যোগাযোগ ছিল অস্পষ্ট ও অনিয়মিত—এই ধারণা ঠিক নয়। একইভাবে, ভারত মহাসাগরীয় দুনিয়ায় বঙ্গোপসাগর দেরিতে যুক্ত হয়েছিল, এই ধারণাটিও তিনি সঠিক মনে করেন না। বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের নানা উদাহরণ বরং দেখায় যে, প্রাচীনকাল থেকেই বঙ্গোপসাগর ভারত মহাসাগরীয় দুনিয়ার একটি সক্রিয় অংশীদার ছিল। তাই বঙ্গোপসাগর দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় ছিল, এমন ধারণাও ঠিক নয়।]
[ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ইতিহাস ও সংযোগ নিয়ে সমকালীন বিশ্বে যারা কাজ করছেন; তাদের মধ্যে অগ্রগণ্য রিলা মুখার্জি। বর্তমানে তিনি Indian Ocean World Centre এর সাথে সংযুক্ত। পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছেন Asian Review of World Histories-এর প্রধান সম্পাদক হিসেবে। তার প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে India in the Indian Ocean World: From the Earliest Times to 1800 CE এবং Strange Riches: Bengal in the Mercantile Map of South Asia বিশেষভাবে সমাদৃত। বর্তমান গবেষণাপত্রটি ২০১৭ সালে ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ম্যারিটাইম হিস্ট্রির ২৯ খণ্ড, ১ম ইস্যুতে প্রকাশিত। বিষয়বস্তুর প্রাসঙ্গিকতা ও গুরুত্ব বিবেচনা করে অনুবাদ করেছে সেন্টার ফর ইসলামিকেট বেঙ্গল।]
1 month ago | [YT] | 6
View 0 replies
Center for Islamicate Bengal
প্রচলিত ইতিহাসচর্চায় ঐতিহাসিক উৎস হিসেবে স্বীকৃত হয় সরকারি নথি, শিলালিপি, ভ্রমণকাহিনি, সংবাদপত্র, আদালতের দলিল, ব্যক্তিগত চিঠি। চমকপ্রদভাবে, উৎসগুলোর সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো এগুলো প্রাতিষ্ঠানিক। রাষ্ট্রীয় কিংবা অভিজাত শ্রেণির কণ্ঠস্বর থেকে উৎসারিত। সীমাবদ্ধ নথিভুক্ত কাঠামোর মধ্যে। উৎসগুলো রাজনৈতিক ইতিহাস এবং আংশিকভাবে সাংস্কৃতিক ইতিহাস পুনর্গঠনে কার্যকর। কিন্তু এই সব উৎস জনসাধারণের অনুভূতি, বিশ্বাস, চর্চা কিংবা দৈনন্দিন জীবনের অভ্যন্তরীণ বুনন সম্পর্কে প্রায় নীরব থাকে। পুথি ঠিক এই শূন্যস্থানেই একটি ভিন্ন ধরনের ঐতিহাসিক উপাদান হাজির করে।
পুথিতে প্রায়ই সামাজিক আচার ও লোকবিশ্বাস নিবিড়ভাবে বিধৃত থাকে। থাকে বিয়ে, মৃত্যু, দুর্যোগ, পাপ-পুণ্য সংক্রান্ত ধারণা। যেহেতু প্রাতিষ্ঠানিক সূত্রগুলো এই বিষয়ের দিকে নজর দেয় না; ফলে সমাজের বিশ্বাস-কাঠামো বোঝার সহজলভ্য পথ হয়ে ওঠে পুথি। তাছাড়া, পুথির রচনাকাল ও প্রকাশনার ধারাবাহিকতা বলে দেয়, কীভাবে একটি স্মৃতি বছরের পর বছর ধরে পুনরুৎপাদিত ও পুনর্ব্যাখ্যাত হয়েছে।
পুথিকে নিছক সাহিত্যকর্ম হিসেবে সীমাবদ্ধ রাখলে এর ঐতিহাসিক মূল্য অনেকাংশে অগোচরে থেকে যায়। বরং এটিকে একধরনের vernacular historiography হিসেবে পড়া দরকার, যেখানে ঘটনা, অনুভূতি, ব্যাখ্যা ও সামাজিক স্মৃতি একসঙ্গে বিন্যস্ত থাকে। এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে পুথি হয়ে ওঠে এক ধরনের history from below। প্রাতিষ্ঠানিক আর্কাইভের পরিপূরক হিসেবে নয়, বরং এটি সমান্তরাল ও প্রায়শই অগোচরে-থাকা উৎস হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।
1 month ago | [YT] | 9
View 1 reply
Center for Islamicate Bengal
ফ্রান্সিস রবিনসনের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধে দেখানো হয়েছে, উসমানি, সাফাভি ও মুঘল সাম্রাজ্য কেবল রাজনৈতিকভাবে নয়, বরং মাদ্রাসা-শিক্ষা, যুক্তিবিদ্যা, সুফিবাদ, হজ, আলেম-ও-সুফিদের যাতায়াত এবং জ্ঞান-বিনিময়ের বিস্তৃত যোগাযোগব্যবস্থার মাধ্যমে একটি অভিন্ন ইসলামি-বৌদ্ধিক-পরিসরে সংযুক্ত ছিল। প্রবন্ধটি বিশেষভাবে দারসে নিজামিয়া, ইবন আরাবির প্রভাব এবং আন্তঃআঞ্চলিক পাণ্ডিত্যচর্চার আলোকে এই সংযোগব্যবস্থার একটি সুসংহত ব্যাখ্যা উপস্থাপন করে। তবে আজকের দৃষ্টিতে এর কিছু বিশ্লেষণ তুলনামূলকভাবে সরলীকৃত বলে মনে হতে পারে; কারণ পরবর্তীকালে এই আন্তঃআঞ্চলিক সংযোগ, বৌদ্ধিক বিনিময় এবং সামাজিক-ধর্মীয় যোগাযোগব্যবস্থার প্রকৃতি আরও বহুমাত্রিক, গতিশীল ও জটিল বলে প্রতিভাত হয়েছে। তবুও ইসলামি বিশ্বের সংযুক্ত বৌদ্ধিক ইতিহাস (Connected Intellectual History) বোঝার ক্ষেত্রে এই প্রবন্ধটি এখনো একটি মৌলিক ও পথপ্রদর্শক রচনা।
[প্রফেসর ফ্রান্সিস রবিনসন একজন মশহুর ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ। তিনি রয়্যাল হলোওয়ে, ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনে দক্ষিণ এশীয় ইতিহাসের ইমেরিটাস অধ্যাপক। ইসলামি সভ্যতা নিয়ে গবেষণায় তিনি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিশেষজ্ঞ। তাঁর গবেষণার প্রধান বিষয় হলো ধর্মীয় পরিবর্তন, উলামাদের এলমি সিলসিলা এবং আধুনিক যুগের শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত মুসলিম বিশ্বের জ্ঞান ও চিন্তার যোগাযোগ। প্রাক্-আধুনিক মুসলিম সাম্রাজ্যগুলোর মধ্যে জ্ঞান ও চিন্তার যে পারস্পরিক যোগাযোগ ছিল, সে বিষয়ে তিনি বিস্তর গবেষণা করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে Separatism Among Indian Muslims (১৯৭৪), Atlas of the Islamic World Since 1500 (১৯৮২), The ‘Ulama of Farangi Mahall and Islamic Culture in South Asia (২০০১), Islam, South Asia, and the West (২০০৮) এবং Jamal Mian: The Life of Maulana Jamaluddin Abdul Wahab of Farangi Mahall, 1919–2012 (২০১৮)]
1 month ago | [YT] | 10
View 1 reply
Center for Islamicate Bengal
বাংলায় ইসলাম বিস্তারের ইতিহাস ব্যাখ্যায় প্রফেসর রিচার্ড ম্যাক্সওয়েল ইটনের Frontier Theory বা সীমান্ত তত্ত্ব দীর্ঘদিন ধরে ইতিহাসচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। তবে এই তত্ত্ব যতটা প্রভাবশালী, ততটাই বিস্তৃত এর বিতর্কের আওতাগুলো। এই লেখায় তাঁর ব্যবহৃত কালপরিসর (timeframe) এবং তাত্ত্বিক বিশ্লেষণী কাঠামো (lens) হিসেবে সীমান্ত ধারণার ধারণাগত যথার্থতা নিয়ে কয়েকটি প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়েছে।
2 months ago | [YT] | 9
View 1 reply
Center for Islamicate Bengal
আব্দেসসেলাম শেদ্দাদি এই প্রবন্ধে মার্শাল জি. এইচ. হজসনের মৌলিক অবদানের একটি গভীর ও সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ হাজির করেছেন। এতে কেন্দ্রীয় আলাপ হল : ইসলামের ইতিহাস ও বিশ্ব-ইতিহাস পরস্পর বিচ্ছিন্ন নয়। বরং দেখা যায়, একটির বিশ্লেষণ অপরটির আলাপকে সন্দেহাতীতভাবে সমৃদ্ধ করে চলেছে।
শেদ্দাদি দেখিয়েছেন, হজসন প্রচলিত প্রাচ্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি অতিক্রম করে ইসলামি সভ্যতাকে মানবসভ্যতার সামগ্রিক বিকাশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি ইসলামের ইতিহাসের আলাপকে কেবল আরব বা মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক পরিসরে সীমাবদ্ধ রাখেন নি; আফ্রো-ইউরেশিয় বিশ্বের বিস্তৃত সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও বৌদ্ধিক আদান-প্রদানের পরিসরে এর আলাপকে বিস্তৃত করেছেন। একই সাথে ইসলামের ইতিহাসে প্রচলিত সময়-বিভাজনকে পুনর্বিবেচনা করে তথাকথিত পতন নির্দেশক মধ্যপর্বকে ইসলামি সভ্যতার বিশ্বজনীন বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সৃজনশীল যুগ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
এই প্রবন্ধের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান হল আধুনিকতা সম্পর্কে হজসনের পুনর্বিবেচনাকে সংক্ষিপ্তভাবে হাজির করা। আধুনিকতা কোন ইউরোপীয় অর্জন নয়; বরং সমগ্র আফ্রো-ইউরেশিয় বিশ্বের দীর্ঘমেয়াদি পারস্পরিক সংযোগ ও বিনিময়ের ফল। এই দৃষ্টিকোণ বিশ্ব-ইতিহাসের ইউরোকেন্দ্রিক প্রগতিশীল বিবর্তনের ধারণা ও এই অনুমানকে সাথে নিয়ে চর্চিত ইতিহাস-লিখন বিদ্যার ধারাগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং এটি একই সাথে বিশ্ব-ইতিহাসকে আরও অন্তর্ভুক্ত-মূলক ও আন্ত:সংযুক্ত-রূপে চর্চার প্রবণতাকে উস্কে দেয়।
ফরাসি ভাষায় রচিত শেদ্দাদির এই প্রবন্ধটি আরেংজি ভাষায় তর্জমা করেছেন আমেরিকান ইতিহাসবিদ এডমুণ্ড বার্ক তৃতীয়। তাঁর আংরেজি তর্জমাটি বাংলায় প্রকাশ করেছে সেন্টার ফর ইসলামিকেট বেঙ্গল। আশা করা যায়, এ তর্জমা ইতিহাস, ইসলাম অধ্যয়ন ও বিশ্ব-ইতিহাসে আগ্রহী বাংলা ভাষাভাষী পাঠকের জন্য সামান্য হলেও ফয়েজ ও বরকতের হবে।
2 months ago | [YT] | 7
View 1 reply
Center for Islamicate Bengal
এ লেখায় ড. মুঈনুদ্দীন আহমদ খান’র Origin and Development of Experimental Science : Encounter with Modern West এর পাঠ প্রসঙ্গে তিনটি ভাবনা হাজির করা হয়েছে।
প্রথম ভাবনায় দেখানো হয়েছে, স্যার আইজাক নিউটন কেন্দ্রীক “সায়েন্টেফিক রেভ্যুলেশন”র বয়ান বিভিন্ন ঐতিহাসিক তথ্যের আলোকে ও পদ্ধতিগত বিবেচনায় সমস্যাজনক।
দ্বিতীয় ভাবনায়, বিজ্ঞানের ইতিহাস ও বিজ্ঞান দর্শন’র মতো শাস্ত্রীয় শৃঙ্খলাগুলোর পশ্চিমা একাডেমিতে বিকাশের পটভূমি ও প্যাটার্নে মনযোগ দেয়া হয়েছে। এতে বিশেষভাবে উঠে এসেছে, বিজ্ঞান দর্শনের প্রাথমিক বাহাস-মুবাহিসার দিকগুলো, যার ভিত্তিতে এখনকার বিজ্ঞান দর্শন দাঁড়িয়ে আছে।
তৃতীয় ভাবনায়, ড. খানের উলুম আত্-তাজরিবিয়ার বিশ্লেষণের সাথে ড. নসর ও নকীব আত্তাসের বিজ্ঞান দর্শনের বয়ান উপস্থাপন করা হয়েছে।
এই দ্বিতীয় কিস্তিতে তৃতীয় ভাবনার শেষ অংশ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ।
3 months ago | [YT] | 3
View 1 reply
Center for Islamicate Bengal
দর্শন কী, দর্শনের ইতিহাস নিয়ে কাজ করার তাৎপর্য কী, এবং কোনো ভাষায় দার্শনিক চর্চা গড়ে ওঠার জন্য কোন ধরনের বৌদ্ধিক ও ভাষাগত শর্ত প্রয়োজন— এই প্রশ্নগুলো বাঙলা ভাষায় দর্শনচর্চার ক্ষেত্রে অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত যখন আমরা বাঙলা ভাষায় ইসলাম ও ধ্রুপদী দার্শনিক ঐতিহ্যের সঙ্গে একটি পদ্ধতিগত সংলাপ প্রতিষ্ঠা করতে চাই। এই বুদ্ধিবৃত্তিক আদান-প্রদান বা সংলাপের তাগিদেই শুরুতেই এসকল প্রশ্ন মীমাংসা করা একান্ত প্রয়োজন।
প্রথম মাকালায় লেখক এরিস্টটলের মেটাফিজিক্স পাঠকে কেন্দ্র করে দর্শনের আদি তলব, জানার স্বভাবজাত আকাঙ্ক্ষা এবং একজন তালিবুল ইলমের বুদ্ধিবৃত্তিক সফরের অর্থ অনুসন্ধান করেছি। এই আলোচনায় গ্রিক দর্শনের সূচনাবিন্দু, ইসলামি জ্ঞান-ঐতিহ্যে ‘তলব’-এর ধারণা, ঈমান ও বুদ্ধির সম্পর্ক, ধর্মতত্ত্ব ও পরাবিদ্যার পারস্পরিক প্রয়োজনীয়তা, এবং দার্শনিক প্রশিক্ষণের ভাষাগত ও কারিগরি গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে যে, দর্শন কোনো নিরপেক্ষ ও সর্বজনীন বুদ্ধির একক আধিপত্যের এলাকা নয়; বরং প্রতিটি সভ্যতা নিজস্ব ভাষা, অভিজ্ঞতা ও ঐতিহ্যের মধ্য দিয়ে সত্যকে ধারণ করে। মানুষের মধ্যে সত্যের প্রতি যে নিরন্তর আকর্ষণ, তার মধ্য দিয়েই বুদ্ধি, রুহ, ভাষা ও জীবন পরস্পরের সঙ্গে সংলাপে প্রবেশ করে। এই প্রেক্ষাপটে গ্রিক, আরবি ও বাংলা ভাষার ঐতিহাসিক সম্পর্ক বিবেচনায় নিয়ে একটি সৃজনশীল ‘তর্জমা’ বা ভাব-রূপান্তরের পদ্ধতির প্রস্তাব করা হয়েছে। যার লক্ষ্য হলো আক্ষরিক অনুবাদের সীমা অতিক্রম করে বাংলার ভেতর থেকেই একটি জীবন্ত ও স্বকীয় দার্শনিক ভাষা ও বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যের পুনর্গঠন।
3 months ago | [YT] | 6
View 1 reply
Load more