ভবিষ্যত নিয়ে পরিকল্পনা করে লাভ নেই। আল্লাহর পরিকল্পনাই বাস্তবায়িত হবে। মিশরের রাজপুত্র কি ভেড়া চরানোর পরিকল্পনা করেছে কোনদিন। অথচ আল্লাহ মূসা আ. কে মেষপালকই বানিয়ে দিলেন। দরিদ্র মেষপালক হিসেবে সুন্দর সংসার করছিলেন - হয়তো ভবিষ্যত পরিকল্পনা বলতে পরিবার ও মেষদের নিয়েই চিন্তা করতেন। এমন সময় আল্লাহ একদিন ডেকে বললেন ফেরাউনের কাছে গিয়ে বল দাসদের মুক্ত করে দিতে। চিন্তিত হয়ে পড়লেন। পরিকল্পনার একেবারে চুড়ান্ত বাহিরের সমীকরণ। কিন্তু আল্লাহর নির্দেশ। খুব বেশি চিন্তিত হয়ে পড়লেন যে কেমনে কি।
আল্লাহ বললেন চিন্তা না করতে। আল্লাহ সাথে আছেন। তারপর থেকে তিনি আর চিন্তা করেন নি।
যেদিন আল্লাহ তাঁকে বললেন রাতের অন্ধকারে দাসদের নিয়ে পালিয়ে যাও। সেই কথা অনুযায়ী পালানোর পরদিন ভোর হতে তিনি দেখলেন সামনে সাগর। পিছে ফেরাউন চলে এসেছে। সম্পূর্ণ অস্ত্র সজ্জিত বাহিনী নিয়ে। পালাবার কোন রাস্তা নেই। আজ মৃত্যু নিশ্চিত। সবাই মুসা আ. কেই দোষ দিতে লাগলো! নবীর অবস্থা তখন চিন্তা করেন।
এই কঠিন পরিস্থিতিতেও তিনি শান্ত থাকলেন। হতাশ হয়ে বললেন না "আল্লাহ আপনি রক্ষা করার কথা বলে এ কেমন বিপদে ফেললেন। আপনি তো উদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এখন কেন আমরা বন্দী।" অস্থির জাতির স্থির প্রতিনিধিকে তখন আল্লাহ বললেন - লাঠি দিয়ে সমুদ্রে আঘাত কর। সাগর দুই ভাগ হয়ে গেল। এবার ভাবুনতো, একজন নিষ্পাপ নবীকে যদি আল্লাহ এত পরীক্ষা করতে পারেন। এত উত্থান পতনের মধ্যে দিয়ে পার করাতে পারেন, আপনাকে আমাকে কেন করবে না? একজন নবী তো নিষ্পাপ ছিল। আপনার আমার জীবনের কষ্ট গুলোও তাই পাপের ফল না। দ্বিতীয়ত সাগরকে ভাগ করতে লাঠি দিয়ে বাড়ি দিতে বলল কেন? লাঠি তো গুরুত্বপূর্ণ কিছু না। আর বাড়ি না দিলেও তো হতো। অর্থাৎ, আপনি যখন চেষ্টা করবেন তখন আল্লাহর সাহায্য আসবে। একই বাস্তবতা আমরা দেখি মরিয়ম এর জীবনে। তিনি সন্তান জন্ম দিয়ে দুর্বল অবস্থায় খেজুর গাছের নিচে যখন ছিলেন তখন ওনাকে বলা হয়েছে গাছ নাড়া দাও। খেজুর পড়বে। যেখানে ফেরেশতা হাজির হয়ে গেছে সেখানে এই দুর্বল মহিলাকে কি এমনিতে খেজুর দেওয়া যেত না? তারপরেও চেষ্টা করতে হবে। কাজ করে যেতে হবে জীবন যতক্ষণ আছে।
তাই জীবন নিয়ে সব দুশ্চিন্তা বা পেরেশানি ছেড়ে দিন। আপনার কাজ চেষ্টা করা আর মেনে নেওয়া। পরিকল্পনা করার জন্য উপরের উনি যথেষ্ট।
টাকা আছে, বাড়ি আছে, গাড়ি আছে, শহরের সবচেয়ে অভিজাত এলাকায় ফ্ল্যাট আছে। অথচ মৃত্যুর পর নিজের জন্য কয়েক হাত মাটির জায়গাটুকু নিশ্চিত করাও কঠিন।
ঢাকার বনানী কবরস্থানের দিকে তাকালে জীবনের এই নির্মম সত্যটা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
বনানীতে প্রায় ২ হাজার বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট কিনতে যেখানে প্রায় ৫ কোটি টাকা লাগে, সেখানে মাত্র ২০ বর্গফুটের মতো একটি কবর ২৫ বছরের জন্য সংরক্ষণ করতে গুনতে হচ্ছে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা। ১৫ বছরের জন্যও খরচ প্রায় ৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ জীবিত মানুষের থাকার জায়গা আর মৃত মানুষের শেষ ঠিকানার দামের মধ্যে যেন খুব একটা পার্থক্য নেই।
কিন্তু সবচেয়ে কষ্টের জায়গাটা টাকা নয়।
জায়গা নেই।
বনানী কবরস্থানে নতুন করে জায়গা বাড়ানোর সুযোগ প্রায় নেই। তাই পুরনো কবরের জায়গাই আবার ব্যবহার করতে হচ্ছে। কোথাও একটি কবরের ওপর দুই বছর পর নতুন কবর হচ্ছে। অর্থাৎ মানুষ চলে যাচ্ছে, কবরও যেন এই ব্যস্ত শহরের কাছে স্থায়ী জায়গা হয়ে উঠতে পারছে না।
প্রতিদিন কেউ না কেউ কবরের জায়গা খুঁজছেন। কেউ বাবা-মায়ের জন্য, কেউ স্বজনের জন্য, আবার কেউ নিজের জন্য।
ভাবুন তো, একজন মানুষ মৃত্যুর আগে নিজের শেষ ঠিকানাটা নিশ্চিত করতে চাইছেন। তাঁর সামর্থ্য আছে। ৪-৫ কোটি টাকা দিতেও তিনি প্রস্তুত। কিন্তু তারপরও সাড়ে তিন হাত মাটির একটা জায়গা নিশ্চিত করতে পারছেন না।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমাদের প্রয়োজন হয় মাত্র কয়েক হাত মাটি।
সেখানে কোনো ড্রয়িংরুম লাগে না। কোনো দামি আসবাব লাগে না। এসি লাগে না। নিরাপত্তারক্ষী লাগে না। ব্যাংকের টাকা লাগে না।
একটু মাটি।
একটু জায়গা।
আর একটি নামফলক।
তবুও সেই জায়গাটুকুও আজ এই শহরে এত দুষ্প্রাপ্য।
আর জীবনের সবচেয়ে বড় বিদ্রূপ হলো, যে মানুষটি জীবিত অবস্থায় কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক, মৃত্যুর পর তার শরীরটুকুও কয়েক হাত মাটির বেশি জায়গা দাবি করে না।
বনানীর কবরস্থান যেন আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এক বিশাল আয়না।
এই আয়নায় তাকালে বোঝা যায়, মানুষ আসলে কতটা ক্ষণস্থায়ী।
আজ যে মানুষটি কোটি টাকার ফ্ল্যাটে বসে ভবিষ্যতের হিসাব করছেন, তিনি জানেন না তাঁর নিজের ভবিষ্যৎ আসলে কোথায় লেখা আছে।
আজ যার চারপাশে মানুষের ভিড়, কাল হয়তো তার কবরের পাশে দাঁড়ানোর মতো মানুষও কমে যাবে।
আজ যে সম্পদকে নিজের বলে মনে হচ্ছে, কাল সেই সম্পদের কাগজে অন্য কারও নাম উঠবে।
আজ যে চেয়ারে বসে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, কাল সেই চেয়ার অন্য কেউ দখল করবে।
আজ যে বাড়িটাকে নিজের রাজ্য মনে হচ্ছে, কাল সেই বাড়ির মানুষগুলোই হয়তো তাঁর ছবির সামনে দাঁড়িয়ে বলবে, ‘মানুষটা আর নেই।’
শুধু মাটির নিচে পড়ে থাকবে তাঁর শরীর।
আর অপেক্ষা করবে সেই চূড়ান্ত হিসাবের।
মৃত্যু খুব অদ্ভুত জিনিস।
এখানে ধনী-গরিবের আলাদা দরজা নেই।
ক্ষমতাবানদের জন্য আলাদা কবর নেই।
কোনো ভিআইপি মৃত্যু নেই।
কেউ কোটি টাকা নিয়ে মরুক, কেউ খালি হাতে মরুক, শেষ পর্যন্ত সবাইকে একই মাটির নিচে যেতে হবে।
কবর কাউকে মাফ করে না।
মৃত্যুও কাউকে মাফ করে না।
আপনার টাকা হয়তো আপনাকে সুন্দর একটি বাড়ি দিতে পারে। আপনার ক্ষমতা হয়তো আপনাকে মানুষের সামনে সম্মানিত করতে পারে। আপনার পরিচয় হয়তো হাজার মানুষকে আপনার কাছে এনে দিতে পারে।
কিন্তু মৃত্যুর দিন এগুলোর কোনোটাই আপনাকে এক মুহূর্তের জন্যও আটকে রাখতে পারবে না।
একদিন সবাইকে যেতে হবে।
আমাকেও।
আপনাকেও।
যে মানুষটির আজ কোটি টাকা আছে, তাকেও।
আর শেষ পর্যন্ত আমাদের সবার ঠিকানা হবে সেই কয়েক হাত মাটি।
তাই পৃথিবীতে যত কিছুই অর্জন করি না কেন, মানুষ হয়ে বেঁচে থাকার হিসাবটা যেন ভুলে না যাই।
কারণ শেষ ঠিকানাটা খুব ছোট।
কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর আর ফিরে আসার কোনো পথ নেই।
মৃত্যুর কাছে কারও টাকা মাফ নেই। কারও ক্ষমতা মাফ নেই। কারও পরিচয় মাফ নেই।
ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ ভাই বললেন, 'আমি বাংলাদেশের খুব বেশি মসজিদের খতিবের আলোচনায় মুগ্ধ হই নাই, লোম শিউরে ওঠে নাই আমার। গতানুগতিক গৎবাঁধা কথাবার্তা সবখানে। সমাজে মুসলিম তরুণদের দায়িত্ব কি, ইতিহাসে আলেমদের ভূমিকা কেমন ছিল; এ সম্পর্কে কোনো খতিবকে আলোচনা করতে শুনি নাই কখনও।'
ফুয়াদ ভাই একটা চমৎকার বিষয় সামনে এনেছেন। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে উপমহাদেশের আলেমসমাজের কী সাংঘাতিক ভূমিকা ছিল, কোনো খতিবকে আপনি এ সংক্রান্ত আলোচনা করতে শুনবেন না কোনোদিন। পাকিস্তান আন্দোলনে তাঁদের ভূমিকা নিয়ে কেউ কথা বলেন না। এমনকি চব্বিশে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের, হুজুরদের, হাফেজ-আলেমদের অবদান নিয়ে কোনো খতিবের আলোচনা আজ পর্যন্ত চোখে পড়ে নাই।
জুমার দিন জাতি হিসেবে মুসলমানদের জন্য একটা ব্লেসিংস। এটি এমন একটি দিন, যেদিন একটা কমিউনিটির প্রায় সিংহভাগ মুসলিম সেজেগুজে, শরীরে পারফিউম লাগিয়ে মসজিদে এসে বসে একজন মানুষের আলোচনা শোনার জন্য। কিন্তু খতিব সাহেবের কোনো প্রস্তুতি নাই, আলোচনার টপিক নির্ধারণের সেন্স নাই। জমিনের ওপরের আলাপ নাই, প্রায় সব আলাপ ঈমান-আমল পর্যন্ত কেন্দ্রীভূত।
অথচ খতিব সাহেব একটা বিরাট প্রজন্মকে তাদের অতীত গৌরবের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিতে পারেন, তরুণদের দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কে আলোকপাত করতে পারেন, ইতিহাসের সেরা বীরদের জীবনের গল্প বলে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন জনতাকে। সাইয়েদ বেরলভী শহীদ, মাওলানা জাফর থানেশ্বরী, হাবিলদার রজব আলীদের মতো ক্যারেক্টর আমাদের আছে। অথচ তরুণদের সাথে তাঁদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মতো কোনো খতিব নেই। আফসোস!
এতদিনে মনের মত একটা পোস্ট পেলাম। লেখা দীর্ঘ হলেও পড়ে দেখুন 👇🙏
যে প্রতিষ্ঠানে যোগ্যতার চেয়ে আনুগত্যের মূল্য বেশি, সেখানে মেধাবীরা কাজ করে—আর সুবিধাবাদীরা এগিয়ে যায়। কারণ সেখানে আপনার দক্ষতা, সততা, পরিশ্রম কিংবা সৃজনশীলতার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে আপনি কার কতটা কাছের, কার কথায় কতটা সায় দেন এবং প্রয়োজনের সময় কার পক্ষে দাঁড়ান। একজন মেধাবী মানুষ নিজের কাজ দিয়ে প্রতিষ্ঠানের জন্য মূল্য তৈরি করতে চায়, ভুল দেখলে তা তুলে ধরতে চায়, নতুন কিছু করার চেষ্টা করে এবং নিজের যোগ্যতার মাধ্যমে এগিয়ে যেতে চায়। কিন্তু যে পরিবেশে সত্য কথা বলা অপরাধ, প্রশ্ন করা অবাধ্যতা এবং ভিন্নমত প্রকাশ করা হুমকি হিসেবে দেখা হয়, সেখানে ধীরে ধীরে মেধাবীরা নীরব হয়ে যায়। তারা কাজ করে, দায়িত্ব পালন করে, ফলাফল দেয়—কিন্তু স্বীকৃতি পায় না।
অন্যদিকে, সুবিধাবাদীরা খুব দ্রুত বুঝে যায় প্রতিষ্ঠানের আসল নিয়ম কোথায়। তারা কাজের চেয়ে সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয়, যোগ্যতার চেয়ে প্রশংসা করতে শেখে, ভুল দেখেও চুপ থাকে এবং প্রয়োজনে সত্যের চেয়ে ক্ষমতাবান ব্যক্তির মন জয় করাকেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। ফলে একসময় এমন একটি সংস্কৃতি তৈরি হয়, যেখানে দক্ষ মানুষরা হতাশ হয় আর তোষামোদকারীরা পুরস্কৃত হয়। তখন পদোন্নতি আর পারফরম্যান্সের ফল থাকে না; হয়ে ওঠে আনুগত্যের পুরস্কার। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, এই ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি শুরু হলেও তাৎক্ষণিকভাবে বোঝা যায় না। কারণ মেধাবীরা হয়তো চুপচাপ কাজ করে যাচ্ছে, কিন্তু তাদের ভেতরের আগ্রহ, উদ্যম এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি বিশ্বাস ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।
একটি সুস্থ প্রতিষ্ঠানে আনুগত্য অবশ্যই মূল্যবান, কিন্তু সেই আনুগত্য হতে হবে প্রতিষ্ঠানের মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও কাজের প্রতি—কোনো ব্যক্তি বিশেষের প্রতি অন্ধ আনুগত্য নয়। একজন কর্মীর মূল্যায়ন হওয়া উচিত তার দক্ষতা, সততা, ফলাফল, নেতৃত্ব, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা এবং শেখার মানসিকতার ভিত্তিতে। কারণ দীর্ঘমেয়াদে কোনো প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিয়ে যায় না তোষামোদকারী মানুষ; এগিয়ে নিয়ে যায় সেই মানুষগুলো, যারা কঠিন সময়ে সত্য কথা বলতে পারে, ভুল স্বীকার করতে পারে, নতুন ধারণা দিতে পারে এবং নিজের কাজের মাধ্যমে পরিবর্তন তৈরি করতে পারে।
তাই কোনো প্রতিষ্ঠানে যদি দেখেন যোগ্যতার চেয়ে আনুগত্যের দাম বেশি, তাহলে বুঝতে হবে সেখানে সমস্যা শুধু কিছু মানুষের নয়—সমস্যাটা পুরো সংস্কৃতির। এমন পরিবেশে মেধাবীরা হয় নিজেকে গুটিয়ে নেয়, নয়তো একসময় অন্য কোথাও নিজের যোগ্যতার মূল্য খুঁজতে চলে যায়। আর যখন একটি প্রতিষ্ঠান একের পর এক মেধাবী মানুষ হারায়, তখন তার জায়গা পূরণ করে এমন মানুষ, যারা প্রতিষ্ঠানের উন্নতির চেয়ে নিজের অবস্থান নিরাপদ রাখতেই বেশি ব্যস্ত। শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি বাইরে থেকে হয়তো টিকে থাকে, কিন্তু ভেতর থেকে তার শক্তি, উদ্ভাবন এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যায়।
মনে রাখা দরকার—একজন কর্মীর আনুগত্য প্রতিষ্ঠানকে কিছুদিন টিকিয়ে রাখতে পারে, কিন্তু যোগ্যতা, সততা ও মেধার সমন্বয়ই একটি প্রতিষ্ঠানকে দীর্ঘদিন এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। যে প্রতিষ্ঠান মেধাবীদের মূল্য দেয়, সেখানে মানুষ কাজকে ভালোবাসে; আর যে প্রতিষ্ঠান শুধু আনুগত্যের পুরস্কার দেয়, সেখানে মানুষ কাজের চেয়ে ক্ষমতার কাছাকাছি থাকাকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করতে শেখে। আর সেখানেই শুরু হয় একটি প্রতিষ্ঠানের পতনের সবচেয়ে নীরব অধ্যায়।
সূরা আল-ওয়াকিয়া মাগরিবের পর পড়লে আয়-রোজগার বাড়ে—এমন কোনো সহিহ হাদিস নেই।
অনেকের মুখে শোনা যায়, "যে ব্যক্তি প্রতি রাতে সূরা আল-ওয়াকিয়া পড়বে, সে কখনো দারিদ্র্যে আক্রান্ত হবে না।" তবে এ বর্ণনাটি অধিকাংশ হাদিস বিশারদের মতে দুর্বল (যঈফ)।
তাই মাগরিবের পর বিশেষভাবে সূরা আল-ওয়াকিয়া পড়লে আয় বৃদ্ধি হবে—এ কথা রাসূল ﷺ-এর নামে বলা বা প্রচার করা ঠিক নয়।
তবে কুরআন তিলাওয়াত সব সময়ই অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ইবাদত। আর রিজিক বৃদ্ধির জন্য সহিহ দলিলে প্রমাণিত আমলগুলো হলো—
- বেশি বেশি ইস্তিগফার করা, - তাকওয়া অবলম্বন করা, - আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা, - সদকা করা, - আল্লাহর কাছে দোয়া করা এবং হালাল উপার্জনের জন্য চেষ্টা করা।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে হালাল, বরকতময় রিজিক দান করুন। আমীন।
২০২৪ সালে অনেক বলেকয়ে শাইখ আহমাদুল্লাহকে রাজি করালাম আমাদের (বাইতুশ শফীক, গাজীপুর) একটি দ্বীনি হালাকাহ (আলোচনা অনুষ্ঠানে)র জন্য। সময় নিয়ে এলেন, মুসল্লিদের সঙ্গে আলাদাও কথা বললেন, ২ ঘন্টা আলোচনা করলেন। মুসল্লিরা তৃপ্ত হয়ে প্রাণভরে আলোচনা শুনল। খাবারের জন্য রিকোয়েস্ট করলাম। তিনি খাবেন না। খাবেন না তো না-ই। এক ভাই অনেক রিকোয়েস্ট করলেন। হলো না। শেষতক তার অনুরোধের প্রেক্ষিতে আমিও জোর রিকোয়েস্ট করলাম। অল্প কয়টা খেলেন। কিছু সামান্য হাদিয়া দিতে চাইলাম। অনেক চেষ্টা করেও তাকে দিতে পারলাম না। কিছুতেই না। তখন বললেন, আপনাকে না আগেই বলা হয়েছে, নিজ খরচে আসাযাওয়া করব, কোনো হাদিয়া দিতে পারবেন না!
আরেকদিন তিনি হঠাৎ এলেন। সাথে আব্দুল হাই সাইফুল্লাহ ভাই। কোনো ফর্মালিটি নেই, বিশেষ ব্যবস্থা নেই, আপ্যায়ন নেই। অজু করলের, নামাজ পড়লেন। একটু কথা বলেই চলে গেলেন৷ ময়মনসিংহের দিকে যাচ্ছিলেন। একদম সাদাসিধেভাবে এলেন-গেলেন। এটা অবশ্য অনেকদিন আগের।
অন্যদিকে যারা তাকে নিয়ে উল্টাপাল্টা মন্তব্য করতে চান, তাদের কারো কারো একঘন্টার বক্তব্যের ফি ১ লাখ, হেলিকপ্টারের খরচ আলাদা, টিফিন ক্যারিয়ার ভরে খাবার দিয়ে দিতে হয়। এভাবে দিনে ৩টি, রাতে ৩টি মাহফিল। এসব গলাবাজদের যখন আলোচনায় থাকার আর কোনো টপিক থাকে না তখন শাইখ আহমাদুল্লাহকে নিয়ে একটু বলাবলি করে আলোচনায় থাকার চেষ্টামাত্র।
❖ দ্বীন মানতে গিয়ে আপনাকে একটু চালাক হতে হবে। উচু নিচু ক্লাস তো শুধু দুনিয়াতে নয়, জান্নাতেও আছে।আর এই চালাকি আল্লাহ পাক পছন্দও করবেন। জান্নাতে এতে আপনার মর্যাদাও বাড়বে। চালাকিটা কোথায় দেখাবেন বলি-- ◉১. ইশা ও ফজরের নামাজ জামাতের সাথে পড়ুন। (প্রতি ওয়াক্তই জামাতের সাথে পড়বেন। কিন্তু এই দুই ওয়াক্ত যেন কোন ভাবেই মিস না হয়)এক হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি ইশা ও ফজর জামাতের সঙ্গে পড়ল, সে যেন সারা রাত দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ল।’ (মুসলিম, হাদিস : ৬৫৬) অর্থাৎ ঘুমিয়ে থেকে সারারাত ইবাদতের নেকি পেলেন।
◉২. কোন ভাবেই কোন ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসী পড়া মিস দিবেন না।হাদিস শরিফে এসেছে, রাসূল (সা.) বলেন-"যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসী পড়বে তার জান্নাতে প্রবেশের মধ্যে কেবল মৃত্যুই একমাত্র বাঁধা।" (সুনানে নাসায়ী, হাদিস: ৯৯২৮) অর্থাৎ দুনিয়া ও জান্নাতের মধ্যে দূরত্ব শুধুই মৃত্যুর।
◉৩. রাতে ঘুমানোর আগে সুরা মুলক একবার পড়ে নেন।এক হাদিসে এসেছে, ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত,"যে ব্যক্তি প্রতি রাতে তাবারাকাল্লায়ী বিয়াদিহিল মুলক পড়বে, আল্লাহ তাআলা তাকে এই সূরার মাধ্যমে কবরের আযাব থেকে বাঁচিয়ে রাখবেন।’ (সহিহুত তারগিব ২/২৫৩, হাদিস: ১৫৮৯)
◉৪. তাহাজ্জুদের নিয়তে ঘুমাতে যান।এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, আবু দারদা (রা.) বলেন, "রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করার নিয়তে বিছানায় আসে, কিন্তু তার চোখগুলো নিদ্রা প্রবল হয়ে যাওয়ায় ভোর পর্যন্ত সে ঘুমিয়ে থাকে, তার জন্য তার নিয়ত অনুসারে সওয়াব লেখা হবে, আর আল্লাহর পক্ষ থেকে তার নিদ্রা তার জন্য সদকাস্বরূপ হয়ে যাবে। (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ১৭৮৭)নিয়ত ঠিক করে ঘুমাতেন যান, আর কি।
◉৫. সন্তানকে কুরআনের হাফেজ/হাফিজা বানান। এটা মুস্তাহাব আমল। কিন্তু কাল আখিরাতে একজন হাফেজের বাবা হিসেবে আপনার মর্যাদা অনেক বাড়িয়ে দিবে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি কুরআন পড়বে এবং তার ওপর আমল করবে, তার পিতা-মাতাকে কিয়ামতের দিন একটি মুকুট পরানো হবে, যার আলো সূর্যের আলো অপেক্ষা বেশি হবে। যদি সেই সূর্য তোমাদের ঘরে হয়! সুতরাং যে ব্যক্তি নিজে কুরআনের উপর আমল করে তার সম্পর্কে তোমাদের কি ধারণা?!’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৪৫৩)
◉৬. প্রতিদিন দিনে অন্তত ১০০ বার ইস্তেগফার করুন।মুমিন তো গোনাহ নিয়ে বসে থাকতে পারে না।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা আমাদের সবাইকে আমল করার তাওফিক দান করুন।
দুনিয়াতে কেউ আপন হয় না। যে বউ আপন, দু ঘন্টা আপন থাকে তো চার ঘণ্টা ঝগড়া করে। আছে না নেই? যে ছেলে আপন, সে দু ঘণ্টা কথা শোনে তো চার ঘণ্টা কথা শোনেনা। ঠিক না বেঠিক ? যে ভাই আপন, সে ভাই দুই ঘণ্টা আপন আর দুই ঘণ্টা পর।
যে বাবা আপন, যে সবচেয়ে আপন!! মা আপন, সেও দেখা যাচ্ছে আরেক ভাইয়ের কথা শুনে পর হয়ে যায়। হয় না হয়না??
হাজেরীন! দুনিয়াতে কেউ ষোলো আনা আপন হয়না। আমাদের এই জীবনটা পরকে আপন করার, মানুষকে খুশি করার জন্য একটা সংগ্রাম। ছোটবেলায় বাবা-মাকে খুশি করার চেষ্টা করেছি, পারিনি। কত মারছে! ঠিক না বেঠিক?
বড় হয়ে বান্ধবীদের/বন্ধুদের খুশী করার চেষ্টা করেছি, থাকেনি। ঠিক না বেঠিক?? বিয়ে করে বউকে/স্বামীকে খুশী করার চেষ্টা করেছি ষোলো আনা কখনই হয়নি। ঠিক না বেঠিক?
কর্মক্ষেত্রে, জীবনে, সব জাগায় আমরা বারো আনা ব্যর্থ, যদি চার আনা সফল হইও। ঠিক না বেঠিক?? একজনই আছেন, যাকে আপন করলে তিনি কখনো পর হননা। তিনি কে? আল্লাহ্!!!!!
আল্লাহকে আপন করতে পারলে সবসময় আল্লাহকে সাথে পাবেন। যদি আল্লাহকে আপন করে নিতে পারেন, আপনার বিপদে-আপদে, কষ্টে-দুঃখে সবসময় মনে হবে আল্লাহ্ আপনার সাথেই রয়েছে।
যে বেদনা কারোর কাছে বলা যায় না, বউয়ের কাছে বলা যায়না, মায়ের কাছে বলা যায়না, যে আনন্দে কাউকে শরীক করা যায়না, যদি আল্লাহকে আপন করতে পারেন, সেই আনন্দে আল্লাহকে শরীক করতে পারবেন, সেই বেদনার কথা আল্লাহর কাছে বলে বুকটাকে হালকা করতে পারবেন। কথা কি বুঝতে পেরেছেন?
কাজেই ভাইয়েরা, আসেন না সবাই নিয়ত করি যে এত সহজ কাজ, আমরা নিয়ত করলাম, আল্লাহ্ আমার বাকী জীবন যতটুকু আছে, একদিন হোক আর একশো বছর হোক, আমি তোমার ওলি হওয়ার চেষ্টা করবো। আল্লাহ্ তাআলা সকলের নিয়ত কবুল করে নিন। আমিন!
ভেনেজুয়েলার স্মরণকালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রায় এক লক্ষ মানুষের হতাহতের আশংকা! ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সমবেদনা।
মহান আল্লাহর বিশাল সৃষ্টি ও মহাশক্তির সামনে আমরা কত ক্ষুদ্র ও অসহায়! কিয়ামতে এভাবেই আমাদের তিল তিল করে গড়ে তোলা স্থাপনা, সম্পদ ও আয়োজন মুহূর্তেই ধূলিসাৎ হয়ে যাবে—এ যেন তারই একটি নমুনা।
এসব ঘটনা আমাদের জন্য সতর্কবার্তা। বাংলাদেশে অনেক দিন ধরেই ছোট ছোট ভূমিকম্প হচ্ছে। জনবহুল ও অপরিকল্পিত নগরায়নের এই শহরে যদি অমন ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়, তাহলে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা আল্লাহই ভালো জানেন।
আসুন, আমরা আল্লাহর দিকে ফিরে আসি, নির্মাণ ও নিরাপত্তাবিধি মেনে চলি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দুর্যোগ থেকে বাঁচার আগাম ও যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করার অনুরোধ জানাই।
Md Faiz Ullah
ভবিষ্যত নিয়ে পরিকল্পনা করে লাভ নেই। আল্লাহর পরিকল্পনাই বাস্তবায়িত হবে। মিশরের রাজপুত্র কি ভেড়া চরানোর পরিকল্পনা করেছে কোনদিন। অথচ আল্লাহ মূসা আ. কে মেষপালকই বানিয়ে দিলেন। দরিদ্র মেষপালক হিসেবে সুন্দর সংসার করছিলেন - হয়তো ভবিষ্যত পরিকল্পনা বলতে পরিবার ও মেষদের নিয়েই চিন্তা করতেন। এমন সময় আল্লাহ একদিন ডেকে বললেন ফেরাউনের কাছে গিয়ে বল দাসদের মুক্ত করে দিতে। চিন্তিত হয়ে পড়লেন।
পরিকল্পনার একেবারে চুড়ান্ত বাহিরের সমীকরণ।
কিন্তু আল্লাহর নির্দেশ।
খুব বেশি চিন্তিত হয়ে পড়লেন যে কেমনে কি।
আল্লাহ বললেন চিন্তা না করতে। আল্লাহ সাথে আছেন।
তারপর থেকে তিনি আর চিন্তা করেন নি।
যেদিন আল্লাহ তাঁকে বললেন রাতের অন্ধকারে দাসদের নিয়ে পালিয়ে যাও। সেই কথা অনুযায়ী পালানোর পরদিন ভোর হতে তিনি দেখলেন সামনে সাগর। পিছে ফেরাউন চলে এসেছে। সম্পূর্ণ অস্ত্র সজ্জিত বাহিনী নিয়ে।
পালাবার কোন রাস্তা নেই।
আজ মৃত্যু নিশ্চিত।
সবাই মুসা আ. কেই দোষ দিতে লাগলো! নবীর অবস্থা তখন চিন্তা করেন।
এই কঠিন পরিস্থিতিতেও তিনি শান্ত থাকলেন। হতাশ হয়ে বললেন না "আল্লাহ আপনি রক্ষা করার কথা বলে এ কেমন বিপদে ফেললেন। আপনি তো উদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এখন কেন আমরা বন্দী।"
অস্থির জাতির স্থির প্রতিনিধিকে তখন আল্লাহ বললেন - লাঠি দিয়ে সমুদ্রে আঘাত কর। সাগর দুই ভাগ হয়ে গেল। এবার ভাবুনতো, একজন নিষ্পাপ নবীকে যদি আল্লাহ এত পরীক্ষা করতে পারেন। এত উত্থান পতনের মধ্যে দিয়ে পার করাতে পারেন, আপনাকে আমাকে কেন করবে না? একজন নবী তো নিষ্পাপ ছিল। আপনার আমার জীবনের কষ্ট গুলোও তাই পাপের ফল না। দ্বিতীয়ত সাগরকে ভাগ করতে লাঠি দিয়ে বাড়ি দিতে বলল কেন? লাঠি তো গুরুত্বপূর্ণ কিছু না। আর বাড়ি না দিলেও তো হতো। অর্থাৎ, আপনি যখন চেষ্টা করবেন তখন আল্লাহর সাহায্য আসবে। একই বাস্তবতা আমরা দেখি মরিয়ম এর জীবনে। তিনি সন্তান জন্ম দিয়ে দুর্বল অবস্থায় খেজুর গাছের নিচে যখন ছিলেন তখন ওনাকে বলা হয়েছে গাছ নাড়া দাও। খেজুর পড়বে। যেখানে ফেরেশতা হাজির হয়ে গেছে সেখানে এই দুর্বল মহিলাকে কি এমনিতে খেজুর দেওয়া যেত না? তারপরেও চেষ্টা করতে হবে। কাজ করে যেতে হবে জীবন যতক্ষণ আছে।
তাই জীবন নিয়ে সব দুশ্চিন্তা বা পেরেশানি ছেড়ে দিন। আপনার কাজ চেষ্টা করা আর মেনে নেওয়া। পরিকল্পনা করার জন্য উপরের উনি যথেষ্ট।
মোহাইমিন পাটোয়ারী
3 weeks ago | [YT] | 27
View 1 reply
Md Faiz Ullah
টাকা আছে, বাড়ি আছে, গাড়ি আছে, শহরের সবচেয়ে অভিজাত এলাকায় ফ্ল্যাট আছে। অথচ মৃত্যুর পর নিজের জন্য কয়েক হাত মাটির জায়গাটুকু নিশ্চিত করাও কঠিন।
ঢাকার বনানী কবরস্থানের দিকে তাকালে জীবনের এই নির্মম সত্যটা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
বনানীতে প্রায় ২ হাজার বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট কিনতে যেখানে প্রায় ৫ কোটি টাকা লাগে, সেখানে মাত্র ২০ বর্গফুটের মতো একটি কবর ২৫ বছরের জন্য সংরক্ষণ করতে গুনতে হচ্ছে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা। ১৫ বছরের জন্যও খরচ প্রায় ৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ জীবিত মানুষের থাকার জায়গা আর মৃত মানুষের শেষ ঠিকানার দামের মধ্যে যেন খুব একটা পার্থক্য নেই।
কিন্তু সবচেয়ে কষ্টের জায়গাটা টাকা নয়।
জায়গা নেই।
বনানী কবরস্থানে নতুন করে জায়গা বাড়ানোর সুযোগ প্রায় নেই। তাই পুরনো কবরের জায়গাই আবার ব্যবহার করতে হচ্ছে। কোথাও একটি কবরের ওপর দুই বছর পর নতুন কবর হচ্ছে। অর্থাৎ মানুষ চলে যাচ্ছে, কবরও যেন এই ব্যস্ত শহরের কাছে স্থায়ী জায়গা হয়ে উঠতে পারছে না।
প্রতিদিন কেউ না কেউ কবরের জায়গা খুঁজছেন। কেউ বাবা-মায়ের জন্য, কেউ স্বজনের জন্য, আবার কেউ নিজের জন্য।
ভাবুন তো, একজন মানুষ মৃত্যুর আগে নিজের শেষ ঠিকানাটা নিশ্চিত করতে চাইছেন। তাঁর সামর্থ্য আছে। ৪-৫ কোটি টাকা দিতেও তিনি প্রস্তুত। কিন্তু তারপরও সাড়ে তিন হাত মাটির একটা জায়গা নিশ্চিত করতে পারছেন না।
কী অদ্ভুত এই জীবন!
আমরা জীবনে কত কিছু কিনি।
ফ্ল্যাট কিনি। জমি কিনি। গাড়ি কিনি। দোকান কিনি। ব্যবসা করি। ব্যাংকে টাকা জমাই। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিকল্পনা করি।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমাদের প্রয়োজন হয় মাত্র কয়েক হাত মাটি।
সেখানে কোনো ড্রয়িংরুম লাগে না। কোনো দামি আসবাব লাগে না। এসি লাগে না। নিরাপত্তারক্ষী লাগে না। ব্যাংকের টাকা লাগে না।
একটু মাটি।
একটু জায়গা।
আর একটি নামফলক।
তবুও সেই জায়গাটুকুও আজ এই শহরে এত দুষ্প্রাপ্য।
আর জীবনের সবচেয়ে বড় বিদ্রূপ হলো, যে মানুষটি জীবিত অবস্থায় কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক, মৃত্যুর পর তার শরীরটুকুও কয়েক হাত মাটির বেশি জায়গা দাবি করে না।
বনানীর কবরস্থান যেন আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এক বিশাল আয়না।
এই আয়নায় তাকালে বোঝা যায়, মানুষ আসলে কতটা ক্ষণস্থায়ী।
আজ যে মানুষটি কোটি টাকার ফ্ল্যাটে বসে ভবিষ্যতের হিসাব করছেন, তিনি জানেন না তাঁর নিজের ভবিষ্যৎ আসলে কোথায় লেখা আছে।
আজ যার চারপাশে মানুষের ভিড়, কাল হয়তো তার কবরের পাশে দাঁড়ানোর মতো মানুষও কমে যাবে।
আজ যে সম্পদকে নিজের বলে মনে হচ্ছে, কাল সেই সম্পদের কাগজে অন্য কারও নাম উঠবে।
আজ যে চেয়ারে বসে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, কাল সেই চেয়ার অন্য কেউ দখল করবে।
আজ যে বাড়িটাকে নিজের রাজ্য মনে হচ্ছে, কাল সেই বাড়ির মানুষগুলোই হয়তো তাঁর ছবির সামনে দাঁড়িয়ে বলবে, ‘মানুষটা আর নেই।’
শুধু মাটির নিচে পড়ে থাকবে তাঁর শরীর।
আর অপেক্ষা করবে সেই চূড়ান্ত হিসাবের।
মৃত্যু খুব অদ্ভুত জিনিস।
এখানে ধনী-গরিবের আলাদা দরজা নেই।
ক্ষমতাবানদের জন্য আলাদা কবর নেই।
কোনো ভিআইপি মৃত্যু নেই।
কেউ কোটি টাকা নিয়ে মরুক, কেউ খালি হাতে মরুক, শেষ পর্যন্ত সবাইকে একই মাটির নিচে যেতে হবে।
কবর কাউকে মাফ করে না।
মৃত্যুও কাউকে মাফ করে না।
আপনার টাকা হয়তো আপনাকে সুন্দর একটি বাড়ি দিতে পারে। আপনার ক্ষমতা হয়তো আপনাকে মানুষের সামনে সম্মানিত করতে পারে। আপনার পরিচয় হয়তো হাজার মানুষকে আপনার কাছে এনে দিতে পারে।
কিন্তু মৃত্যুর দিন এগুলোর কোনোটাই আপনাকে এক মুহূর্তের জন্যও আটকে রাখতে পারবে না।
একদিন সবাইকে যেতে হবে।
আমাকেও।
আপনাকেও।
যে মানুষটির আজ কোটি টাকা আছে, তাকেও।
আর শেষ পর্যন্ত আমাদের সবার ঠিকানা হবে সেই কয়েক হাত মাটি।
তাই পৃথিবীতে যত কিছুই অর্জন করি না কেন, মানুষ হয়ে বেঁচে থাকার হিসাবটা যেন ভুলে না যাই।
কারণ শেষ ঠিকানাটা খুব ছোট।
কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর আর ফিরে আসার কোনো পথ নেই।
মৃত্যুর কাছে কারও টাকা মাফ নেই।
কারও ক্ষমতা মাফ নেই।
কারও পরিচয় মাফ নেই।
শেষ পর্যন্ত সবাইকে সেই কবরে যেতেই হবে।
#truestory #lifelessons #analysis
3 weeks ago | [YT] | 11
View 1 reply
Md Faiz Ullah
#Friday
1 month ago | [YT] | 18
View 0 replies
Md Faiz Ullah
ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ ভাই বললেন, 'আমি বাংলাদেশের খুব বেশি মসজিদের খতিবের আলোচনায় মুগ্ধ হই নাই, লোম শিউরে ওঠে নাই আমার। গতানুগতিক গৎবাঁধা কথাবার্তা সবখানে। সমাজে মুসলিম তরুণদের দায়িত্ব কি, ইতিহাসে আলেমদের ভূমিকা কেমন ছিল; এ সম্পর্কে কোনো খতিবকে আলোচনা করতে শুনি নাই কখনও।'
ফুয়াদ ভাই একটা চমৎকার বিষয় সামনে এনেছেন। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে উপমহাদেশের আলেমসমাজের কী সাংঘাতিক ভূমিকা ছিল, কোনো খতিবকে আপনি এ সংক্রান্ত আলোচনা করতে শুনবেন না কোনোদিন। পাকিস্তান আন্দোলনে তাঁদের ভূমিকা নিয়ে কেউ কথা বলেন না। এমনকি চব্বিশে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের, হুজুরদের, হাফেজ-আলেমদের অবদান নিয়ে কোনো খতিবের আলোচনা আজ পর্যন্ত চোখে পড়ে নাই।
জুমার দিন জাতি হিসেবে মুসলমানদের জন্য একটা ব্লেসিংস। এটি এমন একটি দিন, যেদিন একটা কমিউনিটির প্রায় সিংহভাগ মুসলিম সেজেগুজে, শরীরে পারফিউম লাগিয়ে মসজিদে এসে বসে একজন মানুষের আলোচনা শোনার জন্য। কিন্তু খতিব সাহেবের কোনো প্রস্তুতি নাই, আলোচনার টপিক নির্ধারণের সেন্স নাই। জমিনের ওপরের আলাপ নাই, প্রায় সব আলাপ ঈমান-আমল পর্যন্ত কেন্দ্রীভূত।
অথচ খতিব সাহেব একটা বিরাট প্রজন্মকে তাদের অতীত গৌরবের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিতে পারেন, তরুণদের দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কে আলোকপাত করতে পারেন, ইতিহাসের সেরা বীরদের জীবনের গল্প বলে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন জনতাকে। সাইয়েদ বেরলভী শহীদ, মাওলানা জাফর থানেশ্বরী, হাবিলদার রজব আলীদের মতো ক্যারেক্টর আমাদের আছে। অথচ তরুণদের সাথে তাঁদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মতো কোনো খতিব নেই। আফসোস!
'যেমন ইমাম চাই'/ লাবিব আহসান
1 month ago | [YT] | 17
View 2 replies
Md Faiz Ullah
এতদিনে মনের মত একটা পোস্ট পেলাম। লেখা দীর্ঘ হলেও পড়ে দেখুন 👇🙏
যে প্রতিষ্ঠানে যোগ্যতার চেয়ে আনুগত্যের মূল্য বেশি, সেখানে মেধাবীরা কাজ করে—আর সুবিধাবাদীরা এগিয়ে যায়। কারণ সেখানে আপনার দক্ষতা, সততা, পরিশ্রম কিংবা সৃজনশীলতার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে আপনি কার কতটা কাছের, কার কথায় কতটা সায় দেন এবং প্রয়োজনের সময় কার পক্ষে দাঁড়ান। একজন মেধাবী মানুষ নিজের কাজ দিয়ে প্রতিষ্ঠানের জন্য মূল্য তৈরি করতে চায়, ভুল দেখলে তা তুলে ধরতে চায়, নতুন কিছু করার চেষ্টা করে এবং নিজের যোগ্যতার মাধ্যমে এগিয়ে যেতে চায়। কিন্তু যে পরিবেশে সত্য কথা বলা অপরাধ, প্রশ্ন করা অবাধ্যতা এবং ভিন্নমত প্রকাশ করা হুমকি হিসেবে দেখা হয়, সেখানে ধীরে ধীরে মেধাবীরা নীরব হয়ে যায়। তারা কাজ করে, দায়িত্ব পালন করে, ফলাফল দেয়—কিন্তু স্বীকৃতি পায় না।
অন্যদিকে, সুবিধাবাদীরা খুব দ্রুত বুঝে যায় প্রতিষ্ঠানের আসল নিয়ম কোথায়। তারা কাজের চেয়ে সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয়, যোগ্যতার চেয়ে প্রশংসা করতে শেখে, ভুল দেখেও চুপ থাকে এবং প্রয়োজনে সত্যের চেয়ে ক্ষমতাবান ব্যক্তির মন জয় করাকেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। ফলে একসময় এমন একটি সংস্কৃতি তৈরি হয়, যেখানে দক্ষ মানুষরা হতাশ হয় আর তোষামোদকারীরা পুরস্কৃত হয়। তখন পদোন্নতি আর পারফরম্যান্সের ফল থাকে না; হয়ে ওঠে আনুগত্যের পুরস্কার। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, এই ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি শুরু হলেও তাৎক্ষণিকভাবে বোঝা যায় না। কারণ মেধাবীরা হয়তো চুপচাপ কাজ করে যাচ্ছে, কিন্তু তাদের ভেতরের আগ্রহ, উদ্যম এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি বিশ্বাস ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।
একটি সুস্থ প্রতিষ্ঠানে আনুগত্য অবশ্যই মূল্যবান, কিন্তু সেই আনুগত্য হতে হবে প্রতিষ্ঠানের মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও কাজের প্রতি—কোনো ব্যক্তি বিশেষের প্রতি অন্ধ আনুগত্য নয়। একজন কর্মীর মূল্যায়ন হওয়া উচিত তার দক্ষতা, সততা, ফলাফল, নেতৃত্ব, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা এবং শেখার মানসিকতার ভিত্তিতে। কারণ দীর্ঘমেয়াদে কোনো প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিয়ে যায় না তোষামোদকারী মানুষ; এগিয়ে নিয়ে যায় সেই মানুষগুলো, যারা কঠিন সময়ে সত্য কথা বলতে পারে, ভুল স্বীকার করতে পারে, নতুন ধারণা দিতে পারে এবং নিজের কাজের মাধ্যমে পরিবর্তন তৈরি করতে পারে।
তাই কোনো প্রতিষ্ঠানে যদি দেখেন যোগ্যতার চেয়ে আনুগত্যের দাম বেশি, তাহলে বুঝতে হবে সেখানে সমস্যা শুধু কিছু মানুষের নয়—সমস্যাটা পুরো সংস্কৃতির। এমন পরিবেশে মেধাবীরা হয় নিজেকে গুটিয়ে নেয়, নয়তো একসময় অন্য কোথাও নিজের যোগ্যতার মূল্য খুঁজতে চলে যায়। আর যখন একটি প্রতিষ্ঠান একের পর এক মেধাবী মানুষ হারায়, তখন তার জায়গা পূরণ করে এমন মানুষ, যারা প্রতিষ্ঠানের উন্নতির চেয়ে নিজের অবস্থান নিরাপদ রাখতেই বেশি ব্যস্ত। শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি বাইরে থেকে হয়তো টিকে থাকে, কিন্তু ভেতর থেকে তার শক্তি, উদ্ভাবন এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যায়।
মনে রাখা দরকার—একজন কর্মীর আনুগত্য প্রতিষ্ঠানকে কিছুদিন টিকিয়ে রাখতে পারে, কিন্তু যোগ্যতা, সততা ও মেধার সমন্বয়ই একটি প্রতিষ্ঠানকে দীর্ঘদিন এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। যে প্রতিষ্ঠান মেধাবীদের মূল্য দেয়, সেখানে মানুষ কাজকে ভালোবাসে; আর যে প্রতিষ্ঠান শুধু আনুগত্যের পুরস্কার দেয়, সেখানে মানুষ কাজের চেয়ে ক্ষমতার কাছাকাছি থাকাকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করতে শেখে। আর সেখানেই শুরু হয় একটি প্রতিষ্ঠানের পতনের সবচেয়ে নীরব অধ্যায়।
লেখা: সংগৃহীত
1 month ago | [YT] | 14
View 0 replies
Md Faiz Ullah
সূরা আল-ওয়াকিয়া মাগরিবের পর পড়লে আয়-রোজগার বাড়ে—এমন কোনো সহিহ হাদিস নেই।
অনেকের মুখে শোনা যায়, "যে ব্যক্তি প্রতি রাতে সূরা আল-ওয়াকিয়া পড়বে, সে কখনো দারিদ্র্যে আক্রান্ত হবে না।" তবে এ বর্ণনাটি অধিকাংশ হাদিস বিশারদের মতে দুর্বল (যঈফ)।
তাই মাগরিবের পর বিশেষভাবে সূরা আল-ওয়াকিয়া পড়লে আয় বৃদ্ধি হবে—এ কথা রাসূল ﷺ-এর নামে বলা বা প্রচার করা ঠিক নয়।
তবে কুরআন তিলাওয়াত সব সময়ই অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ইবাদত। আর রিজিক বৃদ্ধির জন্য সহিহ দলিলে প্রমাণিত আমলগুলো হলো—
- বেশি বেশি ইস্তিগফার করা,
- তাকওয়া অবলম্বন করা,
- আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা,
- সদকা করা,
- আল্লাহর কাছে দোয়া করা এবং হালাল উপার্জনের জন্য চেষ্টা করা।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে হালাল, বরকতময় রিজিক দান করুন। আমীন।
1 month ago | [YT] | 11
View 0 replies
Md Faiz Ullah
শাইখ আহমাদুল্লাহ
২০২৪ সালে অনেক বলেকয়ে শাইখ আহমাদুল্লাহকে রাজি করালাম আমাদের (বাইতুশ শফীক, গাজীপুর) একটি দ্বীনি হালাকাহ (আলোচনা অনুষ্ঠানে)র জন্য। সময় নিয়ে এলেন, মুসল্লিদের সঙ্গে আলাদাও কথা বললেন, ২ ঘন্টা আলোচনা করলেন। মুসল্লিরা তৃপ্ত হয়ে প্রাণভরে আলোচনা শুনল। খাবারের জন্য রিকোয়েস্ট করলাম। তিনি খাবেন না। খাবেন না তো না-ই। এক ভাই অনেক রিকোয়েস্ট করলেন। হলো না। শেষতক তার অনুরোধের প্রেক্ষিতে আমিও জোর রিকোয়েস্ট করলাম। অল্প কয়টা খেলেন।
কিছু সামান্য হাদিয়া দিতে চাইলাম। অনেক চেষ্টা করেও তাকে দিতে পারলাম না। কিছুতেই না। তখন বললেন, আপনাকে না আগেই বলা হয়েছে, নিজ খরচে আসাযাওয়া করব, কোনো হাদিয়া দিতে পারবেন না!
আরেকদিন তিনি হঠাৎ এলেন। সাথে আব্দুল হাই সাইফুল্লাহ ভাই। কোনো ফর্মালিটি নেই, বিশেষ ব্যবস্থা নেই, আপ্যায়ন নেই। অজু করলের, নামাজ পড়লেন। একটু কথা বলেই চলে গেলেন৷ ময়মনসিংহের দিকে যাচ্ছিলেন। একদম সাদাসিধেভাবে এলেন-গেলেন। এটা অবশ্য অনেকদিন আগের।
অন্যদিকে যারা তাকে নিয়ে উল্টাপাল্টা মন্তব্য করতে চান, তাদের কারো কারো একঘন্টার বক্তব্যের ফি ১ লাখ, হেলিকপ্টারের খরচ আলাদা, টিফিন ক্যারিয়ার ভরে খাবার দিয়ে দিতে হয়। এভাবে দিনে ৩টি, রাতে ৩টি মাহফিল। এসব গলাবাজদের যখন আলোচনায় থাকার আর কোনো টপিক থাকে না তখন শাইখ আহমাদুল্লাহকে নিয়ে একটু বলাবলি করে আলোচনায় থাকার চেষ্টামাত্র।
সংগৃহীত
2 months ago | [YT] | 22
View 0 replies
Md Faiz Ullah
❖ দ্বীন মানতে গিয়ে আপনাকে একটু চালাক হতে হবে। উচু নিচু ক্লাস তো শুধু দুনিয়াতে নয়, জান্নাতেও আছে।আর এই চালাকি আল্লাহ পাক পছন্দও করবেন। জান্নাতে এতে আপনার মর্যাদাও বাড়বে। চালাকিটা কোথায় দেখাবেন বলি--
◉১. ইশা ও ফজরের নামাজ জামাতের সাথে পড়ুন। (প্রতি ওয়াক্তই জামাতের সাথে পড়বেন। কিন্তু এই দুই ওয়াক্ত যেন কোন ভাবেই মিস না হয়)এক হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি ইশা ও ফজর জামাতের সঙ্গে পড়ল, সে যেন সারা রাত দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ল।’ (মুসলিম, হাদিস : ৬৫৬)
অর্থাৎ ঘুমিয়ে থেকে সারারাত ইবাদতের নেকি পেলেন।
◉২. কোন ভাবেই কোন ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসী পড়া মিস দিবেন না।হাদিস শরিফে এসেছে, রাসূল (সা.) বলেন-"যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসী পড়বে তার জান্নাতে প্রবেশের মধ্যে কেবল মৃত্যুই একমাত্র বাঁধা।" (সুনানে নাসায়ী, হাদিস: ৯৯২৮)
অর্থাৎ দুনিয়া ও জান্নাতের মধ্যে দূরত্ব শুধুই মৃত্যুর।
◉৩. রাতে ঘুমানোর আগে সুরা মুলক একবার পড়ে নেন।এক হাদিসে এসেছে, ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত,"যে ব্যক্তি প্রতি রাতে তাবারাকাল্লায়ী বিয়াদিহিল মুলক পড়বে, আল্লাহ তাআলা তাকে এই সূরার মাধ্যমে কবরের আযাব থেকে বাঁচিয়ে রাখবেন।’ (সহিহুত তারগিব ২/২৫৩, হাদিস: ১৫৮৯)
◉৪. তাহাজ্জুদের নিয়তে ঘুমাতে যান।এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, আবু দারদা (রা.) বলেন, "রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করার নিয়তে বিছানায় আসে, কিন্তু তার চোখগুলো নিদ্রা প্রবল হয়ে যাওয়ায় ভোর পর্যন্ত সে ঘুমিয়ে থাকে, তার জন্য তার নিয়ত অনুসারে সওয়াব লেখা হবে, আর আল্লাহর পক্ষ থেকে তার নিদ্রা তার জন্য সদকাস্বরূপ হয়ে যাবে। (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ১৭৮৭)নিয়ত ঠিক করে ঘুমাতেন যান, আর কি।
◉৫. সন্তানকে কুরআনের হাফেজ/হাফিজা বানান। এটা মুস্তাহাব আমল। কিন্তু কাল আখিরাতে একজন হাফেজের বাবা হিসেবে আপনার মর্যাদা অনেক বাড়িয়ে দিবে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি কুরআন পড়বে এবং তার ওপর আমল করবে, তার পিতা-মাতাকে কিয়ামতের দিন একটি মুকুট পরানো হবে, যার আলো সূর্যের আলো অপেক্ষা বেশি হবে। যদি সেই সূর্য তোমাদের ঘরে হয়! সুতরাং যে ব্যক্তি নিজে কুরআনের উপর আমল করে তার সম্পর্কে তোমাদের কি ধারণা?!’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৪৫৩)
◉৬. প্রতিদিন দিনে অন্তত ১০০ বার ইস্তেগফার করুন।মুমিন তো গোনাহ নিয়ে বসে থাকতে পারে না।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা আমাদের সবাইকে আমল করার তাওফিক দান করুন।
সংগৃহিত
2 months ago | [YT] | 27
View 0 replies
Md Faiz Ullah
দুনিয়াতে কেউ আপন হয় না। যে বউ আপন, দু ঘন্টা আপন থাকে তো চার ঘণ্টা ঝগড়া করে। আছে না নেই?
যে ছেলে আপন, সে দু ঘণ্টা কথা শোনে তো চার ঘণ্টা কথা শোনেনা। ঠিক না বেঠিক ? যে ভাই আপন, সে ভাই দুই ঘণ্টা আপন আর দুই ঘণ্টা পর।
যে বাবা আপন, যে সবচেয়ে আপন!! মা আপন, সেও দেখা যাচ্ছে আরেক ভাইয়ের কথা শুনে পর হয়ে যায়। হয় না হয়না??
হাজেরীন! দুনিয়াতে কেউ ষোলো আনা আপন হয়না। আমাদের এই জীবনটা পরকে আপন করার, মানুষকে খুশি করার জন্য একটা সংগ্রাম। ছোটবেলায় বাবা-মাকে খুশি করার চেষ্টা করেছি, পারিনি। কত মারছে! ঠিক না বেঠিক?
বড় হয়ে বান্ধবীদের/বন্ধুদের খুশী করার চেষ্টা করেছি, থাকেনি। ঠিক না বেঠিক?? বিয়ে করে বউকে/স্বামীকে খুশী করার চেষ্টা করেছি ষোলো আনা কখনই হয়নি। ঠিক না বেঠিক?
কর্মক্ষেত্রে, জীবনে, সব জাগায় আমরা বারো আনা ব্যর্থ, যদি চার আনা সফল হইও। ঠিক না বেঠিক??
একজনই আছেন, যাকে আপন করলে তিনি কখনো পর হননা। তিনি কে? আল্লাহ্!!!!!
আল্লাহকে আপন করতে পারলে সবসময় আল্লাহকে সাথে পাবেন। যদি আল্লাহকে আপন করে নিতে পারেন, আপনার বিপদে-আপদে, কষ্টে-দুঃখে সবসময় মনে হবে আল্লাহ্ আপনার সাথেই রয়েছে।
যে বেদনা কারোর কাছে বলা যায় না, বউয়ের কাছে বলা যায়না, মায়ের কাছে বলা যায়না, যে আনন্দে কাউকে শরীক করা যায়না, যদি আল্লাহকে আপন করতে পারেন, সেই আনন্দে আল্লাহকে শরীক করতে পারবেন, সেই বেদনার কথা আল্লাহর কাছে বলে বুকটাকে হালকা করতে পারবেন। কথা কি বুঝতে পেরেছেন?
কাজেই ভাইয়েরা, আসেন না সবাই নিয়ত করি যে এত সহজ কাজ, আমরা নিয়ত করলাম, আল্লাহ্ আমার বাকী জীবন যতটুকু আছে, একদিন হোক আর একশো বছর হোক, আমি তোমার ওলি হওয়ার চেষ্টা করবো। আল্লাহ্ তাআলা সকলের নিয়ত কবুল করে নিন। আমিন!
♥️ ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ্ জাহাঙ্গীর (রাহিমাহুল্লাহ)
3 months ago | [YT] | 34
View 0 replies
Md Faiz Ullah
ভেনেজুয়েলার স্মরণকালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রায় এক লক্ষ মানুষের হতাহতের আশংকা! ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সমবেদনা।
মহান আল্লাহর বিশাল সৃষ্টি ও মহাশক্তির সামনে আমরা কত ক্ষুদ্র ও অসহায়! কিয়ামতে এভাবেই আমাদের তিল তিল করে গড়ে তোলা স্থাপনা, সম্পদ ও আয়োজন মুহূর্তেই ধূলিসাৎ হয়ে যাবে—এ যেন তারই একটি নমুনা।
এসব ঘটনা আমাদের জন্য সতর্কবার্তা। বাংলাদেশে অনেক দিন ধরেই ছোট ছোট ভূমিকম্প হচ্ছে। জনবহুল ও অপরিকল্পিত নগরায়নের এই শহরে যদি অমন ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়, তাহলে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা আল্লাহই ভালো জানেন।
আসুন, আমরা আল্লাহর দিকে ফিরে আসি, নির্মাণ ও নিরাপত্তাবিধি মেনে চলি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দুর্যোগ থেকে বাঁচার আগাম ও যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করার অনুরোধ জানাই।
শায়েখ আহমাদুল্লাহ হাফিজাহুল্লাহ
#earthquake
#venezuela
3 months ago | [YT] | 7
View 0 replies
Load more