Love to learn and help others to learn efficiently


Md Faiz Ullah

আজ এক এলাকার নতুন মসজিদে গেলাম জুম্মায়। ভিন্নরকম ইমাম। দেখলাম প্রচুর মুসল্লি। খুৎবা চলছে। কিন্তু হুজুরের কণ্ঠে তেমন মায়া নেই। চিকন কণ্ঠ। সুরও নেই বলা যায়।
আচ্ছা এই হুজুরের কথার মধ্যে তো তেমন সুর নেই বা বাচনভঙ্গি আকর্ষণীয় নয়। না আছে তেমন স্টাইল। তেলাওয়াতও খুব একটা মধুর নয়। নামাজ শুরুর আগে দান চাইলেন খুবই সংক্ষিপ্ত আকারে। যেন অনিচ্ছা নিয়ে বলছেন।
অন্যান্য মসজিদে জুম্মার নামাজ শেষে এভারেজ ৩০/৪০ হাজার টাকা দান উঠে বা ইমাম সাহেবরা উঠান তাদের কথার মাধ্যমে। কোনোটায় লাখের উপর উঠে। খুৎবা কম। দানের প্রসঙ্গই বেশি তাদের।

কিন্তু এই হুজুর বললেন, গত জুম্মায় মাত্র ৬ হাজার টাকা উঠেছে।

কীভাবে কী? তাহলে এই হুজুরের উপর কমিটিরতো রাগ হওয়ার কথা। মুসল্লিতো কমও আসেনি।

তাহলে এই হুজুরের কি এমন বিশেষ গুণ আছে এখানে চাকরি করার ?

খেয়াল করলাম হুজুর দান উঠানোর সময় বললেন-
আপনারা যদি পারেন মসজিদের নির্মাণ কাজের জন্য কিছু দান করেন। যদি না পারেন দোয়া করবেন- আল্লাহ্ যেন ব্যবস্থা করে দেন। উনি তো সবই পারেন।
কেউ মনে কষ্ট নিয়ে বা সম্মান বাঁচবে এই চিন্তায় পেরেশান হয়ে দান করবেন না। খাস দিলে যেটুকো দিলে অসুবিধা হবে না আপনাদের সেটুকই দেবেন। তবে দান চালু রাখবেন। এতে বরকত আছে।
কথাগুলো শুনে খুবই ভালো লাগলো।
কে কত টাকা দান করেছে সে লিস্টও তিনি সময় নষ্ট করে শুনালেন না।
পাড়া মহল্লায় আমরা যেন ময়লা আবর্জনা ফেলে পরিবেশ নষ্ট না করি সে বিষয়ে অনুরোধ করলেন। বিশেষ করে অনুরোধ করলেন অনেকেই বিল্ডিং এর উপর থেকে থুথু ফেলে, ময়লা ফেলে। সে বিষয়ে খুব করে বললেন।

শুধু তাই নয় বর্তমান দ্রব্যমূল্যের জন্য মানুষের কী কষ্ট হচ্ছে সে বিষয় নিয়েও বললেন, যেন সবাই সবার পাশে একটু দাঁড়াই। কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে বিপক্ষে বললেন না তবে বললেন, এক দল আরেক দলের বিরুদ্ধে লেগে দেশের ক্ষতি যেন না করি আমরা। এই দেশ আমাদের।

এমন আরও কিছু বিষয় নিয়ে কথা বললেন যা সচরাচর অন্যেরা চিন্তা করেনা বা বলে না।

সে সঙ্গে মসজিদ কমিটিকে নিজেও অনুরোধ করলেন, যেন মসজিদের নির্মাণ কাজে সহায়তা চাইতে গিয়ে অন্যকে বিব্রত করা না হয় সেই বিষয়েও। মসজিদের সাজ সজ্জা কমিয়ে দীর্ঘ সময় খোলা রাখার কথা বললেন। যাতে কেউ নামাজ পড়তে এসে গেট বন্ধ পেয়ে ফিরে না যায়।

আশপাশের দোকানিদের উদ্দেশ্যে বললেন, আজান শুরু হলে আপনারা দোকান বন্ধ করে চলে আসুন নামাজে। দেখুন অন্তত দুই জুম্মা নামাজের টাইমে দোকান বন্ধ করে আপনার কী লাভ হয়েছে আর খোলা রেখে কী লাভ হয়েছিল। রিজিকের মালিক আল্লাহ্ আপনাদের হতাশ করবেন না। বিশ্বাস রেখে দেখুন... নামাজে দ্রুত আসতে গিয়ে আবার ক্রেতার সঙ্গে খারাপ আচরণ করবেন না দয়া করে।
আহা কী সুন্দর কথা!
যুবকদের উদ্দেশ্যে বললেন, প্রেম নিয়ে। ভালোবাসা নিয়ে। অবৈধ সম্পর্ক নিয়ে।
অন্য ধর্মের মানুষের প্রতি যেন মুসলিমদের ঘৃণা প্রকাশ না পায় সেটা নিয়ে বললেন। অন্য ধর্মের মানুষদেরও বললেন, মুসলিমদের তুচ্ছ তাচ্ছিল্য না করতে। বললেন, দয়া করে প্রতিবেশীর কথা ভুলে যেয়েন না। মাকেও ভালোবাসুন। স্ত্রীকেও ভালোবাসুন। সবার হক আদায় করুন। আরও কত কী যে বললেন! অন্যের কাছে ঋণ করতে নিরুৎসাহিত করলেন। অল্পে তুষ্ট থাকতে বললেন বারবার।

অতপর বুঝলাম এই ইমাম সাহেব আসলেই একটু আলাদা।
এ কারণেই হয়তো তাকে মানুষ পছন্দ করেন এত বেশি।
আর অল্প একটু জায়গায় তাই আজ এত মুসল্লির আগমন।
(২০২৩, মিরপুর ২)

(ছবি লেখার সাথে মিল রেখে নয়, অন্য মসজিদের ছবি এটা। আগের তোলা)

সংগৃহীত
#জুমা #মসজিদ #হুজুর #নামাজ

1 day ago | [YT] | 31

Md Faiz Ullah

Alhamdulillah 💖

4 days ago | [YT] | 49

Md Faiz Ullah

কুয়েতি লেখক আব্দুল্লাহ আল-জার ইন্তেকাল করেছেন….

আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতুল ফিরদাউস নসীব করুন

তার একটি ঈমান জাগানিয়া লেখার বাংলা রূপ কিছুটা এরকম:

“আমার মৃত্যুর পর আমি আর চিন্তা করব না…
আমার জীর্ণ দেহের প্রতিও আর আগ্রহ থাকবে না…
কারণ আমার মুসলিম ভাইয়েরা প্রয়োজনীয় সবকিছুই করে দেবে, যেমন—

তারা আমাকে আমার পোশাক থেকে খুলে দেবে
আমাকে গোসল করাবে
আমাকে কাফনে জড়াবে
আমাকে আমার ঘর থেকে বের করবে
আমাকে আমার নতুন ঠিকানায় নিয়ে যাবে (কবর)
অনেক মানুষ আমার জানাজায় অংশ নেবে
এমনকি তাদের অনেকেই আমাকে দাফন করার জন্য নিজেদের কাজ ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করবে

অথচ তাদের অনেকেই হয়তো কখনো আমার উপদেশ নিয়ে ভাবেনি…

আমার জিনিসপত্র সব ফেলে দেওয়া হবে—
আমার চাবি
আমার বই
আমার ব্যাগ
আমার জুতা
আমার কাপড়—ইত্যাদি

আর যদি আমার পরিবার সৌভাগ্যবান হয়, তবে তারা সেগুলো সদকা করে দেবে, যাতে তা আমার উপকারে আসে।

নিশ্চিত জেনে রেখো, দুনিয়া আমার জন্য শোক করবে না—

পৃথিবীর গতি থেমে যাবে না
অর্থনীতি চলতেই থাকবে
আমার চাকরিতে অন্য কেউ চলে আসবে
আমার সম্পদ হালালভাবে উত্তরাধিকারীদের কাছে চলে যাবে

অথচ আমি নিজেই এর সব কিছুর হিসাব দেব!

অল্প ও বেশি—এক বিন্দু ও এক কণারও হিসাব!

আর মৃত্যুর সাথে সাথেই আমার থেকে যে জিনিসটি প্রথম ঝরে যাবে তা হলো—আমার নাম!

তাই আমি মারা গেলে তারা বলবে:
“লাশটা কোথায়?”
আমার নাম ধরে ডাকবে না!

আর যখন আমার জানাজা পড়াতে চাইবে, তখন বলবে:
“জানাজা নিয়ে এসো!”
আমার নাম বলবে না!

আর যখন আমাকে দাফন করবে, তখন বলবে:
“মৃতকে কাছে আনো!”
আমার নাম উচ্চারণ করবে না!

সুতরাং আমাকে আমার বংশ, গোত্র, পদমর্যাদা কিংবা খ্যাতি কিছুই বিভ্রান্ত করবে না!

এই দুনিয়া কতই না তুচ্ছ,
আর আমরা যার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি তা কতই না মহান!

হে যে এখনো জীবিত—জেনে রাখো, তোমার জন্য শোক হবে তিন প্রকার—

যারা তোমাকে উপরিভাগে চেনে, তারা বলবে: “বেচারা।”

তোমার বন্ধুরা শোক করবে—কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিন—তারপর আবার নিজেদের কথাবার্তা ও হাসিতে ফিরে যাবে।

গভীর শোক থাকবে ঘরের ভেতর—তোমার পরিবার এক সপ্তাহ, দুই সপ্তাহ, এক মাস, দুই মাস, এমনকি এক বছরও শোক করবে—
তারপর তারা তোমাকে স্মৃতির আর্কাইভে রেখে দেবে!

মানুষের মাঝে তোমার গল্প শেষ হয়ে যাবে…
আর শুরু হবে তোমার আসল গল্প…

তোমার থেকে বিদায় নেবে—
সৌন্দর্য
সম্পদ
স্বাস্থ্য
সন্তান

তুমি ছেড়ে যাবে ঘরবাড়ি ও প্রাসাদ,
এমনকি জীবনসঙ্গীকেও…

তোমার সঙ্গে থাকবে কেবল তোমার আমল (কর্ম)…
আর শুরু হবে প্রকৃত জীবন!

প্রশ্ন হলো—
আজ থেকেই তুমি তোমার কবর ও আখিরাতের জন্য কী প্রস্তুত করছ?

এ এক বাস্তবতা, যা গভীর চিন্তার দাবি রাখে…

অতএব যত্নবান হও—
ফরজ ইবাদতে
নফল ইবাদতে
গোপন সদকায়
সৎকাজে
রাতের নামাজে

হয়তো তুমি মুক্তি পাবে…

তুমি যদি জীবিত অবস্থায় এই লেখাটি মানুষকে স্মরণ করিয়ে দিতে সাহায্য করো,
তবে কিয়ামতের দিন আল্লাহর ইচ্ছায় এর প্রতিদান তোমার আমলনামায় পাবে…

“স্মরণ করিয়ে দাও, কারণ স্মরণ করানো মুমিনদের উপকার করে।”

আর কেন মৃত ব্যক্তি দুনিয়ায় ফিরে এলে সদকা করতে চাইবে—যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন:

“হে আমার রব! কেন তুমি আমাকে অল্প সময়ের জন্য অবকাশ দিলে না, যাতে আমি সদকা করতে পারতাম?”
(সূরা মুনাফিকুন: ১০)

সে বলেনি—আমি উমরা করতাম…
বা আমি নামাজ পড়তাম…

1 week ago | [YT] | 33

Md Faiz Ullah

জনাব Tarique Rahman,

এক রকম বাধ্য হয়েই এই খোলা চিঠি লিখতে হচ্ছে। আমার পরিচিত খুব কাছের এক ছোট ভাই গতকাল ফোন করে কাঁদতে কাঁদতে বলেছে

- ওরা আমার জমির প্রায় এক মণ ধান কেটে নিয়ে গেছে।

জিজ্ঞস করলাম

- কেন কেটে নিয়ে গেছে?
- প্রচারণার জন্য।
- তোমাকে টাকা দিয়েছে কিংবা অনুমতি নিয়েছে?
- না কিছুই করে নাই। জোর করে নিয়ে গেছে।

এই কৃষক ছেলেটাকে আমি অনেক দিন ধরে চিনি। তিন বাচ্চার বাবা। নিজের তেমন কোন জমি নাই। বড় ভাইর একটা জমি আছে। সে চাষাবাদ করে। এই ছেলের পুরো পরিবার বিএনপির পাড় সমর্থক। অথচ ওর সাথেই কিনা এমন ঘটনা ঘটেছে!

আপনার দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা প্রচারণার জন্য ওর জমির প্রায় এক মণ ধান কেটে নিয়ে গেছে। ছেলেটা কষ্টের সাথে আমাকে বলেছে

- আপনি তো দলের অনেককেই চেনেন। আপনার কাছে আমি বিচার দিলাম।

এখন আপনিই বলেন- আমি কার কাছে বিচার দেব? ধানের শীষ কি কৃত্তিম ভাবে বানিয়ে প্রচারণা চালানো যায় না? কিংবা এই ছেলেটার কাছ থেকে যদি নিতেই হতো। জোর করে কেন? ওকে তো সঠিক মূল্যও দেয়া যেত? এটা তো রীতিমত জুলুম। এই ছেলে এবং ওর পরিবার কি এরপর আর ধানের শীষে ভোট দেবে?

আমি জীবন ভর কৃষক-শ্রমিক এবং এই শ্রেণীর মানুষের জন্য লিখে চলেছি। আমরা যখন বিগত আমলে প্রতিবাদ করতাম, সেটা কোন দলের বিরুদ্ধে ছিল না। আমরা ওই সিস্টেমের বিরুদ্ধে লিখতাম। যেন এই দেশে একটা বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করা যায়।

গতকাল দেখলাম একটা শোকসভা হয়েছে। শহরের কিছু এলিটরা সেখানে বক্তব্য দিয়েছে চকচকে জামা-কাপড় পরে। আপনিও সেখানে ছিলেন। এরা জুলাই-আগস্টে কোথায় ছিল এই প্রশ্ন আমি করবো না। আপনি তো ১৭ বছর ইংল্যান্ডে ছিলেন। আমিও সেখান থেকে পিএইচডি করেছি।

আপনার কি মনে হয়- উত্তর ইউরোপের কল্যাণমূলক যে দেশগুলো আছে। সেই দেশগুলোর একজন ক্লিনার তাঁর রাষ্ট্র থেকে যে সুযোগ সুবিধা পায়। যে অধিকারগুলো পায়। বাংলাদেশের কোন মন্ত্রী-এমপিরও কি সেটা পাবার সুযোগ আছে?

তাহলে কেন আমার মত মানুষগুলো বিদেশের ওই রঙিন জীবন উপেক্ষা করে জুলাই-আগস্টে দেশে থেকে প্রতিবাদ করেছি? নিজেদের জন্য? মোটেই না। শুধু কি আগের বুর্জোয়া দলটার পতনের জন্য? মোটেই না। আমরা যারা কোন দল করি না। আমরা চেয়েছিলাম এই দেশটা যেন সবার হয়। এখন দেখছি আপনার দলের মানুষ একজন কৃষকের জমি থেকে জোর জবরদস্তি করে ধান কেটে নিচ্ছে স্রেফ প্রচারণা চালানোর জন্য। এক মণ ধান কি তেমন কোন কিছু? এর কি কোন দরকার ছিল?

এখন তো আপনি অনেক ব্যস্ত। আমাদের কথা শুনার সময় আপনার নাই। আপনার দলের অনেক বড় নেতা, নীতি-নির্ধারককে আমি চিনি। কিন্তু দিন শেষে তো সব সিদ্ধান্ত ওই এক জায়গা থেকেই আসে। যদিও আমরা এই সিস্টেমেরও পরিবর্তন চেয়েছিলাম। তাই উনাদের কাউকে না বলে আপনাকে এই খোলা চিঠি লিখছি।

আমি ওই কৃষকের পরিচয় কোন মিডিয়াকে দেব না। আপনার দলের কোন নেতাকেও বলবো না। যাবেন আপনি আমার সাথে ওই কৃষকের সাথে দেখা করতে? গিয়ে তাঁর কাছে আপনার দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাইবেন। আর ওই স্থানীয় নেতা-কর্মীদের বহিষ্কার করে দৃষ্টান্ত কি স্থাপন করবেন? যাবেন আমার সাথে?

আমি আপনাকে যতটুকু জানি, আশা করছি- ১৭ বছর ইউরোপে থেকে এতটুকু মানবিক আপনি হয়েছেন। আমার তো গতকাল রাতে ঘুম হয়নি। বোধকরি আপনার ঘুমের কোন সমস্যা হয়নি। কারন এইসব খবর কেউ আপনাকে দেয় না। দেবেও না। এটাই বাংলাদেশ আর বাংলাদেশি সিস্টেম। ক্ষমতায় থেকে আমরা আর নিচের দিকে তাকাতে পারি না।

বাংলায় একটা প্রবাদ আছে- বেড়ালের গলায় ঘণ্টা প্রথম দিনই পড়াতে হয়। তাই প্রচারণা শুরুর আগে অন্তত এই কৃষক ছেলেটার সাথে চলুন গিয়ে দেখা করি। অপেক্ষায় থাকলাম উত্তরের।

মনে রাখবেন- এই রাষ্ট্র শুধু এলিটদের না। যাদের সাথে আপনি গতকাল বিকেলেও সময় কাটিয়েছেন। এই রাষ্ট্র ওই কৃষক-শ্রমিক এবং আমাদের মত সাধারণ মানুষদেরও। সাধারণের সাথে কথা বলুন। তাহলে বুঝতে পারবেন- পুরো বাংলাদেশ এবং দেশের তরুণ সমাজ এক অর্থে একটা মাইন হয়ে আছে। এরা কিছু বলতে পারছে না। স্রেফ একটা সময় বিস্ফোরণ ঘটবে।

আপনারা ক্ষমতায় গেলেও বেশি দিন থাকতে পারবেন না। যদি এইসব চলতে থাকে। আর গতকাল যে অনুষ্ঠান করেছেন। এমন অনুষ্ঠান যত কম করা যায়, ততই মঙ্গল। যত বেশি এমন অনুষ্ঠান করবেন। তত বেশি মানুষ আপনার দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। যারা দাওয়াত পাবে না, যারা সামনে গিয়ে কথা বলতে পারবে না। তাঁদের অভিযোগ বাড়তে থাকবে। এটাও বাংলাদেশি সিস্টেম। সবাই মুখ দেখাতে চায়!! কারন মুখ দেখালেই ফায়দা!

দিন শেষে দেশটা যেন শুধু বিএনপির না, সবার হয়।

@Aminul Islam

1 week ago | [YT] | 38

Md Faiz Ullah

হাদির অফিসে যখন রওয়ানা হই, তখন একটু গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি ছিলো।

অফিসে ঢোকার পর বৃষ্টি থেমে গেলো।

হাদি বললো, ভাই, সিঙারা আনাই।

আমি কঠিনভাবে নিষেধ করলাম। বললাম, দেশে এসে খাওয়ার উপর আছি। কোনো ঝামেলা কইরেন না।

হাদি খুব সম্ভবত ভালো গল্প বলতে পারতো। সে জানালো, এই সিঙারারা কিছু বিশেষত্ব আছে, ভাই। একবার খাইলে আর ভুলতে পারবেন না। ফ্যান হইয়া যাইবেন।

এরপর আর কথা চলে না। এক প্লেট ভর্তি সিঙারা এলো। এবং আমি অলমোস্ট পুরো প্লেট সিঙারা খেয়ে খুবই লজ্জার মধ্যে পড়ে গেলাম।

খুবই ঝানু গল্পকারের মতো হাদি বললো, এইবার একটা চা খান। দেখবেন ভালো লাগবেন। তারপর সে দুধ চায়ের অর্ডার।

একবার ভাবলাম বলি, আমি দুধ চা খাই না। চায়ে চিনিও খাই না।

কেন জানি, কিছু বললাম না। দুধ চা এলো। চিনিসহ।

খুব তৃপ্তি নিয়ে চা খেলাম।

হাদি হাসতে হাসতে বললো, ভাইয়ের তো এখন একটা সিগারেট লাগবে। বুঝতে পারতেছি।
তারপর সে আমাকে নিয়ে গেলো বারান্দায়। আমি সিগারেট ধরালাম।

এর ফাঁকে হাদি আমার দুই সহকর্মী লাবিব আর শাকিরকে নিয়ে বসে গেলো। ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতি নিতে।

আমি সিগারেট শেষ করে ঘরের ভেতর ঢুকলাম। লাবিবরে বললাম, তুমি একটা মোবাইলে রেকর্ড করো, আমি আমার মোবাইল দিয়ে রেকর্ড করি।

হাদি বললো, হাতে মোবাইল নিয়া কতক্ষণ বসে থাকবেন। আপনারা ট্রাইপড আনেন নাই।

আমরা জানালাম, আমাদের ট্রাইপড নাই।

হাদি জানালো, তাদের একটা ট্রাইপড আছে।

তারপর সে নিজেই ট্রাইপড খুঁজতে লাগলো। ওটা আর পাওয়া গেলো না।

যাই হোক। আমি একটা মোবাইল ধরলাম। লাবিব আরেকটা। ইন্টারভিউ শুরু হলো।

ইন্টারভিউ পর্ব শেষ হলো।

আবার আমরা আড্ডায় ঢুকলাম। হাদি বললো, ভাই, দুপুরে আমাগো এইখানে খাইবেন কিন্তু।

আমরা বললাম, দুপুরে কিছু খাবো না। পারলে আবার সিঙারা আনান।

সিঙারা আনতে পাঠানো হলো। জানা গেলো, ততক্ষণে সিঙারার আওয়ার শেষ হয়ে গেছে।

তারপর কিছুক্ষণ আড্ডা। মিডিয়া নিয়ে অনেক কথা হলো। মিডিয়ার ব্যাপারে তার দেখলাম বেশ টনটনে জ্ঞান আছে।

হাদি বললো, আমার স্পেশাল ইন্টারভিউ করলেন, দ্যাখেন চালাইতে পারেন কিনা।

ইন্টারভিউ আমরা চালালাম। ( বাকি কথা আর না বলি। )

হাদি জানতো। সে মিস ফিট।

হাদি জানতো, তাকে সুশীল সমাজ মেনে নেবে না।

হাদি জানতো, রিস্ক আছে।

হাদি জানতো, তাকে ফেলে দেয়া হতে পারে।

হাদি এও জানতো, সে চলে গেলে, এক সময় সবাই তাকে ভূলে যাবে।

হাদি সবই জানতো।

এবং সে ঠিক জানতো।

সংগৃহীত

#JusticeForHadi

2 weeks ago | [YT] | 55

Md Faiz Ullah

শহিদ ওসমান হাদি বারবার আপনাদেরকে বলতেন যে কোনো একটা বিষয়ে তুমুল দক্ষ হতে। এক্সপার্ট হতে।

ঐ দক্ষতায় ওয়ার্ল্ডের টপ টেনের মধ্যে যেন আপনার নাম থাকে সেই পরিমাণ প্র‍্যাক্টিস করে যেতে।

জুলাই বিপ্লব বলতে হাদি শুধু রেজিম চেঞ্জ না বরং মানুষের অর্থনৈতিকমুক্তি, সামাজিক মূল্যবোধ, রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক চেঞ্জটাই জুলাই বিপ্লব। এইটা স্পষ্ট তার বক্তব্যে বোঝাতেন।

আমরা যারা বলি, আমরা সবাই হাদি হবো। যদি কেউ জিজ্ঞেস করে কিভাবে? আপনি তখন 'হা' করে থাকবেন। উত্তর দিতে পারবেন না।

হাদি হতে হলে তাদের প্রথম এবং প্রধান কাজ শহিদ ওসমান হাদির ফিলোসফিকে ধারণ করা। নিজেকে কোনো এক বিশেষ দক্ষতায় পারদর্শী করা।

সিনেম্যাটোগ্রাফার হইলে ওয়ার্ল্ডের সেরা সিনেম্যাটোগ্রাফার, সাংবাদিক হইলে ওয়ার্ল্ডের বেস্ট সাংবাদিক হতে চর্চা চালিয়ে যাওয়া। ''আমরা সবাই হাদি হবো'', এই লাইনটা বললে আমার মাথায় সবার আগে এই কথাগুলোই আসে।

আপনারা উদ্যোক্তা হন। আমাদের দেশের প্রচুর উদ্যোক্তা দরকার। আমরা শুধু চাকরি করতে চাই কিন্তু আমাদেরকে চাকরি দেওয়ার জন্য প্রচুর পরিমাণ চাকরিদাতাও প্রয়োজন।
নিজস্ব চাকরিদাতা, নিজের দেশের সৎ ইনসাফ প্রতিষ্ঠাকারী চাকরিদাতা।

যারা ব্যবসা করতে চান তারা শুরু করেন৷ জামা, কাপড়,গ্যাজেট, এক্সেসোরিজ, অর্গানিক ফুড, কসমেটিক্স,, মানুষের প্রয়োজনীয় ডিফ্রেন্ট প্রোডাক্টস। যেইটাতে আপনার প্যাশন আছে। একটা মিল খোলেন, কারখানা খোলেন। প্রোডাকশন হাউজ বানান।

যেইটাতে আপনার স্কিল। পারলে স্কিল বেচেন। সার্ভিস দেন। বাইক সারায়ে দেন, ফ্রিজ সারায়ে দেন, ফোন সারায়ে দেন। আরো বেটার কিছু করেন।

অল্প পুঁজি দিয়েই শুরুটা করেন। কোয়ালিটি প্রোডাক্টস এনশিওর করেন। মার্কেটিং নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে আমাদেরকেও বলেন। আমরা আপনাদেরকে সহযোগিতা করবো। হাদি ভাইয়ের জন্য আমরাই আপনাদের ব্র‍্যান্ড এম্বাসেডর হবো।

হাদি ভাইয়ের কর্ম, কথা, দর্শন যদি বাঁচায়ে রাখতে হয় তাহলে ব্র‍্যান্ড খোলেন। ভারতীয় পেয়াজ হাদি ভাইকে বাঁচায়ে রাখবে না। হিমালয়া, ভাটিকা, কুরকুরে এরা হাদি ভাইকে মুছে ফেলার জন্য তাদের ব্র‍্যান্ড এম্বাসেডর শাহরুখ, ঐশ্বরিয়া, ভিরাট কোহলিকে বানায়ে মানুষকে ভোলাতে চাইবে ওসমান হাদি কে ছিলো।

হাদি ভাইকে বাঁচায়ে রাখতে হলে আজকেই সিদ্ধান্ত নেন। ব্র‍্যান্ড খোলেন। আপনার হাতে খোলা আমাদের ব্র‍্যান্ড। আমাদের পথ প্রদর্শক হাদি ভাই। হাদি ভাইকে বেঁচেন। বেঁচতে বেঁচতে হাদি ভাইয়ের দাম বিশ্বব্যাপী বাড়ায়ে দেন। আপনার সব কনজিউমার যেন হাদি ভাইকে প্রতিদিন দাম দিয়ে জানে।

তখন দেখবেন হাদি ভাই বেঁচে আছে আপনার, আমার, আমাদের ঘাম, শ্রম, মেধা ও সৃষ্টিশীল মননে।

তারপর আবার শ্লোগান তোলেন,
আমরা সবাই হাদি হবো
যুগে যুগে লড়ে যাবো।

কেউ যদি জিজ্ঞেস করে কিভাবে?
আপনার ব্র‍্যান্ডের প্রোডাক্টটা ওনার হাতে দিয়া বলবেন,'' এভাবে''

সংগৃহীত

2 weeks ago | [YT] | 52

Md Faiz Ullah

হাদি ভাই তার জীবদ্দশায় তার আত্নীয়দেরও ফোন ধরতেন না, যাতে কেউ কোন কাজে তাকে সুপারিশ করার অনুরোধ করতে না পারে। কোটি কোটি টাকার অফার আমাদের সামনে আসতো, হাদি ভাই শুনলেই রেগে যেতেন। একবার এমন একটা সুপারিশের আবেদন নিয়ে ইনকিলাবের সবসময়ের প্রোগ্রামে আসা একজন আসলে ইনকিলাব মঞ্চের গ্রুপ থেকে তাকে বের করে দেয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে।

হাদি ভাইয়ের ইমিডিয়েট বড় ভাই, ওমর ভাই। উনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট ছিলেন। শিক্ষক হওয়া তার স্বপ্ন ছিলো। হাদি ভাই তার আপন ভাইয়ের ব্যাপারেও কোন সুপারিশ করেন নাই কোনদিন।

হাদি ভাই সবসময় একটা কথা বলতেন- বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা খুব ভালো করেই জানে, ওসমান হাদিকে কারা ডোনেট করে,কত টাকা ডোনেট করে, কোন কাজে ডোনেট করে। এক টাকার দূর্নীতিও যদি তারা দেখাইতে পারে আমি ওসমান কোনদিন আপনাদের সামনে আসবো না।

তাহলে হঠাৎ করে এই আলাপ কেনো!

এই আলাপের একমাত্র উদ্দেশ্য হইলো - তারা ওসমান হাদিকে যেই উদ্দেশ্যে খুন করেছে সেইটা হাসিল হয় নাই। উলটো ব্যাকফায়ার করছে। জনগণ ওসমান হাদির এই ইনসাফের লড়াইকে, তার সাংস্কৃতিক লড়াইকে নিজের করে নিয়েছে। পুরো বিশ্বের বিপ্লবীদের মুখপাত্র হয়ে গেছেন গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা, বাংলার মা ও মাটির আজাদির সন্তান ওসমান হাদি৷ এইটা খুনিরা নিতে পারতেছে না।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করতে দুইটা জিনিস খুব কাজে দেয় - মানি এবং হানি। আজকে মানি নিয়ে কথা বলেছে। আগামীকাল হয়তো কোন মেয়ে এসে বলতেও পারে- আমার গর্ভে ওসমান হাদির সন্তান। এইটাতে অবাক হওয়ার কিছু নাই

যদিও এর কোনটাই ওসমান হাদির বেলায় খুব একটা কাজে আসবে না।

আমরা ওসমান হাদির খুনিদের বিচার চেয়েই যাবো। আমাদের আমৃত্যু ইনসাফের এই লড়াই চলবে...

#Saluting_Our_Cultural_Hero
#JusticeForHadi
#WeAreHadi

3 weeks ago | [YT] | 88

Md Faiz Ullah

গতকাল রাতে মিন্টো রোডে গিয়েছিলাম। যেখানে বাংলাদেশের উপদেষ্টা, মন্ত্রী এবং বড় বড় কর্তাদের বাস। নিজেও গিয়েছিলাম এক বড় কর্তার বাসায়। রাত প্রায় ১২টা বেজে গেছে। বাসা থেকে বের হয়ে হাতের ডান দিকের মূল রাস্তা ধরে হাঁটছি। দেখি রাস্তার বাম পাশে কেউ একজন শুয়ে ঘুমাচ্ছে। আরেকটু সামনে যেতেই দেখি একজন বয়স্ক মানুষ, কত হবে বয়স? ৫৫/৬০ হবে হয়ত। লুঙ্গি আর একটা পাতলা জামা গায়ে। তিনি বোধকরি ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। জিজ্ঞেস করলাম

- আপনি কি এই বস্তার ভেতরেই ঘুমাবেন?
- হ্যাঁ।
- আপনার কি আর কোথাও ঘুমানর জায়গা নাই।

ভদ্রলোক মনে হয় ভেবেছেন আমি সরকারি কেউ কিংবা পুলিশ টাইপ কেউ হবো। মনে করেছেন হয়ত উঠিয়ে দেব। বললেন

- বাবা, জায়গা থাকলে কি আর রাস্তায় ঘুমাই। এত রাইতে আর কই যামু?
- এই ছোট বস্তায় কি শীত মানবে?
- না মানলে কী করমু!

ঢাকা শহরের তাপমাত্রা এখন রাতের দিকে ১২/১৪ ডিগ্রীতে নেমে যাচ্ছে। এটা অনেক শীত। আমি একটা শীত প্রধান দেশে থাকি। যেখানে তাপমাত্রা মাইনাস ২০/৩০ পর্যন্ত নেমে যায়। সেখানেও আমাদের বাসা-বাড়ি, অফিস-আদালত, বাস-ট্রাম সকল জায়গায় তাপমাত্রা কঠিন ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। সব সময়ই প্লাস ২০ ডিগ্রী থাকে সকল জায়গায়।

আমাদের বাসা-বাড়িগুলো এয়ার-টাইপ। সামান্য পরিমাণ হাওয়া সেখানে ঢুকতে পারে না। সেন্ট্রাল হিটিং করা। তাই আমার জন্যও ঢাকা শহরে এখন শীত। কম্বল গায়ে দিয়ে ঘুমাতে হচ্ছে। এরপরও শীত লাগছে। কারন এমন শীতে আমি অভ্যস্ত নই। ভদ্রলোককে দেখে আমার ভীষণ খারাপ লেগেছে। ফিরে আসার সময় উনাকে এক হাজার টাকার একটা নোট হাতে ধরিয়ে বলেছি

- এই টাকা দিয়ে শীতের একটা কিছু কিনে নেবেন।

লোকটা মনে হয় অবাক হয়েছে। এই মাঝ রাতে কেউ একজন তাকে এক হাজার টাকা এমনি এমনি দিয়ে দিচ্ছে। এটা মনে হয় তিনি স্বপ্নেও কল্পনা করেন নাই। সাথে থাকা বন্ধু এরপর বলেছে

- তুই এক হাজার টাকা দিয়ে দিলি!
- হ্যাঁ, সমস্যা কোথায়?
- একটু বেশি হয়ে গেল না?

আমি আর কথা বলিনি। ফেরার সময় দেখি ওই রাস্তায় আরও অনেকেই এভাবে ঘুমাচ্ছে। তখন মনে হলো- সত্যিই তো। আমি একা আর কয়জনকে সাহায্য করতে পারবো? এটা তো কোন ব্যক্তি বিশেষের কাজ না। অথচ এর পাশেই আলো ঝলমলে ফাইভ স্টার বাড়িগুলোতে এই রাষ্ট্রের উপদেষ্টা, মন্ত্রী-এমপি, বিচারপতি, সচিবদের বাস। আপনারা কি এইসব মানুষদের দেখেন না? আজ রাতে বের হয়ে একটু কষ্ট করে দেখে নিবেন।

গভীর রাতে যখন ঘুমাতে যাচ্ছি; দেখি এই শহরের তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রীতে নেমে গেছে। আমি তো আরাম করে কম্বল গায়ে দিয়ে ঘুমাবো। ওই মানুষগুলোর কথা ভেবে নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছিলো। আপনাদের মনে হয় না? এদের দেখার কি কেউ নেই? তাহলে আপনারা রাজনীতি করেন কার জন্য? তাহলে রাষ্ট্র থাকার দরকার কী?

এই দেশের বুদ্ধিজীবীরা কি নিজ শ্রেণীর ঊর্ধে উঠে এই মানুষগুলোর কথা আদৌ ভেবেছে? নাকি এদের কাজ স্রেফ দল দাসত্ব করা আর মাঝে রাতের টকশোতে ঝড় তোলা? নাকি আপনারা সবাই এইসবকে স্বাভাবিক ধরে নিয়েছেন? বুর্জোয়াগুলো কি আর মানুষ হবে না?

রাষ্ট্র তুমি মানবিক হও।

@সংগৃহীত

3 weeks ago | [YT] | 88