Golpobolisorasori

Welcome to [ youtube.com/@Golpobolisorasori], your go-to destination for captivating Bengali stories! From timeless folk tales to contemporary narratives, I bring the rich tradition of Bengali storytelling to life. Immerse yourself in heartwarming stories, thrilling adventures, and moral lessons passed down through generations. Whether you're a lover of classic literature or just seeking a moment of escape, my channel has something for everyone. Subscribe and join in rediscovering the magic of Bengali storytelling!স্বাগতম [youtube.com/@Golpobolisorasori]-এ, যেখানে আপনি পাবেন মনোমুগ্ধকর বাংলা গল্পের অনন্য সংগ্রহ! চিরকালীন লোককাহিনী থেকে আধুনিক গল্প, আমি জীবন্ত করে তুলে ধরছি বাংলা গল্প বলার সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকে। নিজেকে ডুবিয়ে দিন হৃদয়স্পর্শী গল্প, রোমাঞ্চকর অভিযান এবং নৈতিক শিক্ষায়, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমাদের কাছে পৌঁছেছে। আপনি যদি ক্লাসিক সাহিত্যপ্রেমী হন বা না ও হন, চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন এবং আমার সঙ্গে যোগ দিন!Email: sankhamani.goswami@gmail.com




Golpobolisorasori

বিভিন্ন দুর্ঘটনার খবরে দেখা যায় মৃত্যুর গ্রাসে ঢলে পড়ার মুহূর্তেও মা, তার সন্তানকে কোল ছাড়া করেননি। সাম্প্রতিক দুটি ঘটনায় আবার সেই দৃষ্টান্তের পুনরাবৃত্তি হয়েছে। এক জবলপুরের ক্রুজ ডুবে যাওয়ার ঘটনায় এবং দিল্লির বিবেক বিহারে অগ্নিকান্ডের ঘটনায়। দুটি ক্ষেত্রেই দেখা গেছে ডুবে বা পুড়ে মারা যাওয়ার সময়ও মা ,সন্তানকে জড়িয়ে থেকেছেন। একেই বলে নাড়ির টান। এ কথা নতুন নয়, তবে বারে বারে বিভিন্ন ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে আমাদেরকে নতুন করে মনে করিয়ে দেয়- জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী ।

 দিল্লির ঘটনায় নীতিন জৈনর স্ত্রী শৈলী ও ছেলে সম্যকের দেহ সিঁড়িঘরের দরজার কাছে, একে অপরকে জড়িয়ে ধরা অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে।

  মধ্যপ্রদেশের জবলপুরে বর্গী বাঁধে বিলাসবহুল তরী দুর্ঘটনায়ও পয়লা মে মৃত শিশুসন্তানকে আঁকড়ে থাকা অবস্থায় এক মায়ের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে সংবাদপত্রে।

1 day ago | [YT] | 0

Golpobolisorasori

বিধানসভা নির্বাচনের আবহে সেদিন একটা খবর দেখলাম এবং পড়লামও- হাবড়ায় জনৈক ব্যক্তি অষ্টবক্র প্রতিবন্ধী সেজে ভোট দিয়ে বেরিয়েই সমস্ত প্রতিবন্ধকতা মুক্ত হয়েছেন! অর্থাৎ ভোট দেওয়ার দীর্ঘ লাইনে যাতে না দাঁড়াতে হয়, তাই শারীরিক প্রতিবন্ধী সাজাটা ছিল তার অভিনয়! খবরটা দেখে হাসি পেল,সঙ্গে খুব বিরক্তও লাগলো, সত্যি কথা বলতে কী,  রাগ হল। মনে হল, সামান্য একটা সুযোগ নেওয়ার জন্য মানুষ কত নীচে নামতে পারে!

আচ্ছা,পূর্ণবয়স্কা কোনও মেয়েকে কেউ কোনওদিন অট্টহাসি হাসতে দেখেছেন, যাতে তার দাঁত - জিভ থেকে গলার ভিতরটা অবধি দেখা যায়? বোধহয় দেখেননি, কারণ মেয়েদের হাসি মানেই মুখ টিপে, না হয় মুখে হাত দিয়ে হাসি। কাশির সময় যেমন আপনা থেকেই মুখের সামনে হাত চলে আসে, হো হো করে হাসির সময়ও মেয়েদের মুখের সামনে হাত চলে আসে।

স্কুলে পড়তে আমার একটা বিরাট সমস্যা ছিল- হাসি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা । স্যারদের সামনে বন্ধুরা আমাকে হাসিয়ে ভাল মানুষ সেজে বসে থাকত, আর আমার পেট থেকে ছিপি খোলা সোডার বোতলের মত হাসি বেরিয়ে আসতো। ফলস্বরূপ আমি শাস্তি পেতাম। বন্ধুরা বলত আমার পেটে লাফিং গ্যাস- নাইট্রাস অক্সাইড পোরা আছে! 


শঙ্খমণি গোস্বামী

2 days ago | [YT] | 0

Golpobolisorasori

💀

4 days ago | [YT] | 0

Golpobolisorasori

😱

4 days ago | [YT] | 0

Golpobolisorasori

মারিও পুজোর দ্য গডফাদার — সারসংক্ষেপ

পটভূমি

১৯৬৯ সালে প্রকাশিত এই উপন্যাসটি আমেরিকার ইতালীয় মাফিয়া জগতের এক অন্ধকার, শক্তিশালী এবং পারিবারিক আখ্যান। এটি বিশ শতকের মধ্যভাগে নিউ ইয়র্কে সংঘটিত হয়।

মূল চরিত্র

ডন ভিতো কোরলিওনে — কোরলিওনে পরিবারের প্রধান, "গডফাদার"

মাইকেল কোরলিওনে — ভিতোর ছোট ছেলে, প্রাক্তন সেনাসদস্য

সনি কোরলিওনে — বড় ছেলে, রগচটা ও সহিংস

টম হেগেন — পরিবারের আইনজীবী ও পরামর্শদাতা

ফ্রেডো কোরলিওনে — মেজো ছেলে, দুর্বল চরিত্রের

কাহিনির সারসংক্ষেপ

প্রথম পর্ব — ক্ষমতার রাজনীতি

উপন্যাসের শুরু হয় ডন ভিতো কোরলিওনের দরবারে — তাঁর মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে। তিনি মানুষের আবেদন শোনেন এবং বিচার করেন। তাঁর ক্ষমতা আইনের বাইরে, তবু তিনি নিজস্ব নীতিতে চলেন — পরিবার সবার আগে।

ড্রাগ ব্যবসার নতুন সুযোগ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী মাফিয়া পরিবার সোলোৎজো ডনের সমর্থন চান। ডন তা প্রত্যাখ্যান করেন, কারণ তিনি মাদক ব্যবসায় বিশ্বাসী নন।

দ্বিতীয় পর্ব — আঘাত ও প্রতিশোধ

এই প্রত্যাখ্যানের পর সোলোৎজো ডন ভিতোকে হত্যার চেষ্টা করেন। ডন গুলিবিদ্ধ হন, কিন্তু বেঁচে যান। পরিবারে শুরু হয় উত্তরাধিকারের সংকট।

বড় ছেলে সনি প্রতিশোধের জন্য উদগ্রীব হয়ে ওঠেন। কিন্তু ছোট ছেলে মাইকেল, যে এতদিন পরিবারের অপরাধজগৎ থেকে দূরে ছিল, সে স্বেচ্ছায় সোলোৎজোকে হত্যার দায়িত্ব নেয়। এটিই উপন্যাসের টার্নিং পয়েন্ট — মাইকেলের অপরাধজগতে প্রবেশ।

মাইকেল সোলোৎজো এবং দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ ক্যাপ্টেনকে হত্যা করে সিসিলিতে পালিয়ে যায়।

তৃতীয় পর্ব — পরিবর্তন ও উত্তরাধিকার

সিসিলিতে মাইকেল স্থানীয় এক মেয়েকে বিয়ে করে, কিন্তু সে গাড়ি বোমায় নিহত হয়। এদিকে নিউ ইয়র্কে সনিকে ষড়যন্ত্র করে হত্যা করা হয়।

ডন ভিতো সুস্থ হয়ে ফিরে আসেন এবং বিভিন্ন মাফিয়া পরিবারের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন। মাইকেল আমেরিকায় ফিরে আসে এবং ক্রমে পরিবারের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেয়।

পরিণতি

ডন ভিতো স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। মাইকেল এখন নতুন "গডফাদার"। উপন্যাসের শেষে মাইকেল তার সব শত্রুকে একে একে নির্মূল করে — সম্পূর্ণ ঠান্ডা মাথায়, পরিকল্পিতভাবে। একজন সৎ, আদর্শবাদী যুবক রূপান্তরিত হয় নিষ্ঠুর ক্ষমতার কেন্দ্রে।

মূল বিষয়বস্তু

বিষয়বিবরণপরিবার ও আনুগত্যরক্তের বন্ধনই সর্বোচ্চক্ষমতার মূল্যক্ষমতা পেতে মানবতা বিসর্জনআমেরিকান স্বপ্নঅভিবাসীর সংগ্রাম ও উচ্চাভিলাষনৈতিক অবক্ষয়ভালো মানুষের ধীরে ধীরে পতন

"একজন মানুষ যে তার পরিবারের জন্য সময় দেয় না, সে কখনো প্রকৃত পুরুষ নয়।" — ডন ভিতো কোরলিওনে

এই উপন্যাসটি শুধু অপরাধের গল্প নয় — এটি ক্ষমতা, পরিবার, বিশ্বাসঘাতকতা এবং মানুষের নৈতিক পরিবর্তনের এক গভীর মানবিক দলিল।

1 week ago | [YT] | 0

Golpobolisorasori

অপেক্ষা

নবসুন্দরবাবু বাড়িটা ভাড়া নিয়েই ফেললেন। এত সস্তায় কলকাতা শহরে বাড়ি ভাড়া পাওয়া যায় না। বাড়ির মালিক বলছিল অবশ্য, এ বাড়িতে কেউ কেউ ভুতুড়ে ব্যাপার প্রত্যক্ষ করেছে। পরপর কয়েকজন ভাড়াটে মারাও গেছে কোনও অসুস্থতা ছাড়াই। তবে নববাবু সেসব কথা হেসেই উড়িয়ে দিয়েছেন।
তবে দিন দুয়েক পর থেকে একটা অদ্ভুত অস্বস্তিকর ব্যাপার তিনি লক্ষ্য করলেন। বাথরুমের আয়নায় তার ছায়াটা কয়েক মুহূর্ত পরে নড়ে। হয়ত তিনি দাঁড়ি কামাচ্ছেন, জুলপির কাছ থেকে রেজারটা যখন থুতনির কাছে নামিয়ে এনেছেন, তখন তার প্রতিবিম্ব সবে রেজার দিয়ে জুলপি ছুঁল । অবাক হলেও নববাবু ঘটনাটাকে গুরুত্ব দিলেন না। মনের ভুল ভেবে নিয়ে ভুলে যেতে চেষ্টা করলেন, কিন্তু পারলেন না। একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে লাগল প্রতিদিন।
এবার নববাবু একটু ভয় পেলেন। তবে সে জন্য বাড়ি ছাড়ার পাত্র তিনি নন। তাছাড়া একমাসের ভাড়া অগ্রিম দেওয়া আছে। তাই আরও দু তিন দিন পর নববাবু সাহস করে প্রতিবিম্বকে জিজ্ঞেস করলেন- তুমি কে? কি চাও?
উত্তরে কয়েক সেকেন্ড পরে তার ছায়ার ঠোঁটটা নড়ে উঠল, আর নববাবুর পিছন থেকে কেউ যেন বলে উঠল- আমি তোমার আসার আগে থেকেই এখানে আছি, তোমার জন্য অপেক্ষা করছি।
গলা শুনে নববাবু চমকে পিছনে তাকালেন, দেখলেন কেউ নেই। মুখ ফিরিয়ে আয়নার দিকে তাকাতে গিয়েও পারলেন না, হঠাৎ চোখে অন্ধকার দেখলেন। কেউ দেখল না আয়নায় নববাবুর প্রতিবিম্ব বুক চেপে ধরে মাটিতে লুটিয়ে পড়ছে।
নবসুন্দরবাবু হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। মৃত্যু তার জন্য অপেক্ষা করছিল।

1 week ago | [YT] | 0

Golpobolisorasori

🕯️

শেষ ভাড়াটে

একটি ভৌতিক গল্প

এক — বাড়িটি

শহরের উত্তর প্রান্তে, ভাঙাচোরা রাস্তার শেষ মাথায়, একটা তিনতলা পুরনো বাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। দেওয়ালে শ্যাওলা, জানলার কাঠ পচা, উঠোনে আগাছার জঙ্গল। পাড়ার লোকে বলে — হরিপদ বাবুর বাড়ি। কিন্তু হরিপদ বাবু বহু বছর আগে মারা গেছেন। তাঁর পরে বাড়িতে কেউ থাকেনি। থাকতে পারেনি।

অথচ বাড়িওয়ালা প্রতি মাসে ভাড়া তোলেন। কাগজপত্র ঠিকঠাক, চুক্তিপত্রে সই, অগ্রিম জমা — সব কিছু স্বাভাবিক। কিন্তু প্রতিটি ভাড়াটে সপ্তাহ না ঘুরতেই বাড়ি ছেড়ে পালায়। কেউ কারণ বলে না। শুধু চোখে থাকে একটা গভীর আতঙ্কের ছায়া, যেন ভেতর থেকে কিছু একটা তাদের খুবলে খেয়েছে।

মানুষ জানতে চায়, কিন্তু কেউ বলে না। পাড়ার বুড়ো রতন দা বলেন — "ওই বাড়িতে ভাড়া থাকে না, বাড়িটাই ভাড়া নেয়।" কেউ কথাটার মানে বোঝে না। বুঝতে পারে শুধু যে একবার ঢুকেছে — এবং বেরিয়ে আসতে পেরেছে।

✦ ✦ ✦

দুই — সুমন্ত

সুমন্ত ঘোষ একজন যুক্তিবাদী মানুষ। বয়স একত্রিশ, চাকরি সরকারি অফিসে। ভূতে বিশ্বাস করেন না, কুসংস্কারে নয়। তিনি যখন শহরে বদলি হলেন, তখন সস্তায় ভালো বাড়ি খুঁজছিলেন। হরিপদ বাবুর বাড়ির কথা শুনলেন দালালের কাছে।

"ভাড়া কম কেন?" সুমন্ত জিজ্ঞেস করলেন।

"পুরনো বাড়ি। একটু আধটু বদনাম আছে।" দালাল চোখ সরিয়ে নিল।

"কী ধরনের বদনাম?"

"লোকে বলে ভূত আছে। কিন্তু আপনি তো এসব বিশ্বাস করেন না, তাই না স্যার?"

সুমন্ত হাসলেন। সত্যিই বিশ্বাস করেন না। চুক্তিপত্রে সই করলেন। পরের রোববার মালপত্র নিয়ে উঠে পড়লেন দোতলার ঘরে।

প্রথম রাতে কিছু হলো না। সুমন্ত ভাবলেন — দেখলে, সব কুসংস্কার। দ্বিতীয় রাতেও না। তৃতীয় রাত পর্যন্ত সব ঠিকঠাক।

✦ ✦ ✦

তিন — চতুর্থ রাত

চতুর্থ রাতে ঘড়িতে রাত দুটো বাজতে সুমন্তের ঘুম ভাঙল। ঠিক কেন ভাঙল বলতে পারবেন না। কোনো আওয়াজ ছিল না, কোনো স্বপ্ন না। শুধু মনে হলো — কেউ তাঁকে দেখছে।

ঘরটা অন্ধকার। সুমন্ত শুয়ে শুয়ে সিলিঙের দিকে তাকিয়ে রইলেন। কিছুক্ষণ পর বুঝলেন — অন্ধকারটা স্বাভাবিক না। জানলা দিয়ে রাস্তার আলো আসার কথা, কিন্তু একটুও আসছে না। যেন কেউ জানলার বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। দোতলায়।

সুমন্ত উঠে বসলেন। মোবাইলের টর্চ জ্বাললেন। আলো পড়তেই দেখলেন — ঘরের কোণে একটা চেয়ার। চেয়ারটা সেখানে ছিল না। তিনি নিশ্চিত, কারণ মালপত্র তুলতে গিয়ে ঘরটা পুরো দেখেছিলেন।

চেয়ারে কেউ নেই। কিন্তু চেয়ারের ওপর একটা ভাঁজ করা কাগজ।

সুমন্ত উঠে গেলেন। কাগজটা তুললেন। ভেতরে মাত্র একটা লাইন, পুরনো কালিতে লেখা —

"আপনার আগে সতেরোজন এসেছে। কেউ থাকেনি। আপনিও থাকবেন না।"

সুমন্ত হাসলেন। কেউ মজা করছে। কাগজটা পকেটে রাখলেন। শুতে গেলেন।

কিন্তু ঘুম আর এলো না। কারণ রাত তিনটায় উপরের তলায় পায়চারির শব্দ শুরু হলো। এক পা, দুই পা, তিন পা — থামে, আবার শুরু। এক পা, দুই পা, তিন পা।

সুমন্ত সিলিঙের দিকে তাকিয়ে রইলেন। পা ফেলার ছন্দটা তাঁর নিজের হাঁটার মতো। হুবহু।

✦ ✦ ✦

চার — উপরের তলা

পরের দিন সকালে সুমন্ত তিনতলায় উঠলেন। দরজায় তালা, কিন্তু তালাটা ভেতর থেকে বন্ধ নয়। সুমন্ত ধাক্কা দিলেন — দরজা খুলে গেল।

ঘরের ভেতরে বছরের পর বছরের ধুলো। মাকড়সার জাল। জানলার কাচ ভাঙা, বাইরের বাতাস ঢুকছে। কিন্তু মেঝেতে ধুলোর ওপর পায়ের ছাপ। স্পষ্ট। এত স্পষ্ট যে সুমন্ত বুকে একটা ঠান্ডা টের পেলেন।

পায়ের ছাপ এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় গেছে। কিন্তু শুরু নেই, শেষ নেই। মাঝখান থেকে শুরু হয়ে মাঝখানে মিলিয়ে গেছে। যেন কেউ এসেছিল বাতাস থেকে, হেঁটেছে, আবার বাতাসে মিলিয়ে গেছে।

সুমন্ত ছবি তুললেন মোবাইলে। তারপর মাপলেন। পায়ের ছাপের মাপ তাঁর নিজের জুতোর সাইজের সাথে মিলে গেল।

ছাদের একটা দেওয়ালে কালো কালিতে লেখা একটা তালিকা। নাম। সতেরোটা নাম। শেষ নামের নিচে জায়গা খালি। যেন আরেকটা নামের অপেক্ষা।

সুমন্ত নামগুলো পড়লেন। সব পুরুষের নাম। সব বাঙালি। তারিখ আছে পাশে — সবচেয়ে পুরনোটা ১৯৬৭ সালের, সবচেয়ে নতুনটা মাত্র ছয় মাস আগের।

তিনি ফোন করলেন বাড়িওয়ালাকে।

"এই নামগুলো কাদের?"

ওপাশে দীর্ঘ নীরবতা। তারপর —

"আপনি উপরের তলায় গেছেন?"

"হ্যাঁ।"

"ভুল করেছেন।"

লাইন কেটে গেল।

✦ ✦ ✦

পাঁচ — হরিপদ বাবুর কথা

সুমন্ত অফিস ছুটি নিলেন। পাড়ায় খোঁজ করলেন। রতন দা-র কাছে বসলেন সন্ধ্যাবেলা। বুড়ো মানুষ, কিন্তু মাথা পরিষ্কার।

"হরিপদ বাবু কে ছিলেন?"

"বড় মানুষ। জমিদারের ছেলে। তবে মন্দ ছিলেন।"

"কী করেছিলেন?"

"মানুষ ঠকাতেন। জমি কেড়ে নিতেন। ভাড়াটেদের উচ্ছেদ করতেন শীতকালে, বৃষ্টিতে।" রতন দা চুপ করলেন একটু। তারপর — "একবার একজনকে তিনতলা থেকে ধাক্কা দিয়েছিলেন বলে শোনা যায়।"

"কাকে?"

"এক ভাড়াটেকে। যে ভাড়া দিতে পারেনি।"

সুমন্ত একটু চুপ করে রইলেন।

"হরিপদ বাবু মারা গেলেন কীভাবে?"

"তিনতলা থেকে পড়ে।"

রতন দা আর কথা বললেন না। সুমন্ত বুঝলেন — জিজ্ঞেস করা ঠিক হবে না।

সেই রাতে সুমন্ত গবেষণা করলেন। পুরনো খবরের কাগজের অনলাইন আর্কাইভ। ১৯৬৭ সালে প্রথম খবর — "বাড়িওয়ালার রহস্যমৃত্যু, তদন্ত শুরু।" তদন্ত কখনো শেষ হয়নি।

এরপর থেকে প্রতি কয়েক বছর পরপর খবর — "ভাড়াটে নিখোঁজ," "বাড়ি ছেড়ে মানসিক ভারসাম্য হারালেন ভাড়াটে," "রহস্যজনক অসুস্থতায় হাসপাতালে।" কিন্তু সব খবর এড়িয়ে যাওয়া, সব তদন্ত অসম্পূর্ণ।

সতেরোটা নাম। সতেরোটা ঘটনা।

✦ ✦ ✦

ছয় — সপ্তম রাত

সপ্তম রাতে বাড়িটা বদলে গেল।

সুমন্ত বুঝলেন সন্ধ্যার পর থেকেই। দেওয়ালে ছায়া পড়ছে যেখানে আলোর উৎস নেই। সিঁড়ির গলা থেকে একটা ঠান্ডা বাতাস আসছে, যদিও বাইরে গরম। রান্নাঘরে গেলেন জল খেতে — দেখলেন সিঙ্কের কলটা চলছে, অথচ তিনি খোলেননি।

রাত দশটায় আলো চলে গেল। লোডশেডিং না — বিল্ডিঙের সব আলো হঠাৎ নিভে গেল। টর্চ জ্বাললেন। সিঁড়ি দিয়ে কিছু একটা নামছে। পায়ের আওয়াজ না — একটা টেনে টেনে নামার শব্দ। ধীরে ধীরে।

সুমন্ত দরজা বন্ধ করলেন। কান পেতে রইলেন।

শব্দটা থামল দরজার সামনে।

তারপর তিনটা টোকা।

সুমন্ত দরজা খুললেন না। কিন্তু দরজাটা নিজে নিজে খুলে গেল।

বাইরে কেউ নেই। করিডোর খালি। কিন্তু ফ্লোরে একটা ভেজা দাগ — যেন কেউ ভিজে কাপড়ে দাঁড়িয়ে ছিল। দাগটা সিঁড়ির দিক থেকে এসেছে, দরজার সামনে থেমেছে।

সুমন্ত নিচু হয়ে দেখলেন। জলের দাগ না — লালচে। একটা গন্ধ। মাটির মতো, পুরনো লোহার মতো।

তিনি ওঠার আগেই কানের কাছে একটা ফিসফিস —

"এবার তুমি আঠারো।"

সুমন্ত ঘুরে তাকালেন। করিডোরে কেউ নেই।

✦ ✦ ✦

সাত — যা দেখা গেল না

পরের দিন ভোরে পাড়ার লোক দেখল — বাড়ির দরজা খোলা। ভেতরে কেউ নেই। সুমন্তের জিনিসপত্র সব আছে, মোবাইল আছে, জুতো আছে, চাবি আছে।

শুধু সুমন্ত নেই।

পুলিশ এলো। তদন্ত হলো। কিছু পাওয়া গেল না। ফাইল বন্ধ হলো।

তিনতলায় উঠে একজন কনস্টেবল দেওয়ালের তালিকাটা দেখল। সতেরোটা নামের নিচে আঠারো নম্বর হিসেবে লেখা —

সুমন্ত ঘোষ।

কিন্তু সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার হলো — তালিকার নিচে উনিশ নম্বরের জায়গাটা আবার খালি।

অপেক্ষায়।

✦ ✦ ✦

আট — বাড়িওয়ালা

মাস দুয়েক পরে আবার বিজ্ঞাপন বেরোলো। সস্তায় ঘর ভাড়া, তিনতলা বাড়ি, উত্তর প্রান্তে।

একজন তরুণ ছেলে গেল দেখতে। যুক্তিবাদী, ভূতে বিশ্বাস করে না। সরকারি অফিসে চাকরি, সবে বদলি হয়েছে।

"ভাড়া কম কেন?"

"পুরনো বাড়ি। একটু আধটু বদনাম আছে।"

"কী ধরনের বদনাম?"

"লোকে বলে ভূত আছে। কিন্তু আপনি তো এসব বিশ্বাস করেন না, তাই না?"

ছেলেটি হাসল।

চুক্তিপত্রে সই করল।

এবং বাড়িওয়ালা — যে কিনা বহু বছর ধরে এই বাড়ি থেকে ভাড়া তুলে আসছেন — ফোন রাখলেন।

তাঁর হাতের আঙুলগুলো একটু বেশিই ঠান্ডা।

তাঁর ছায়া পড়ে না।

এবং যে টেবিলে তিনি বসে আছেন, সেটা ঠিক হরিপদ বাবুর পুরনো অফিসের টেবিল।

— সমাপ্ত —

1 week ago | [YT] | 0

Golpobolisorasori

#কল্পবিজ্ঞানের_গল্প
ছায়া শিকারি: কোড বি-১২২

ওয়াশিংটনের তুষারপাত আর পোটোম্যাক নদীর হিমশীতল হাওয়া গোয়েন্দা বি-১২২-এর কোটের কলার ভেদ করে শরীরে কামড় বসাচ্ছিল। বি-১২২—যাঁর আসল নাম ফেডারেল নথিতেও গোপন রাখা হয়েছে—একটু আগেই তাঁর ডেস্কে দশ নম্বর ফাইলটি রেখেছেন।

২০২৩ থেকে ২০২৬। তিন বছর। দশ জন বিজ্ঞানী।

সবাই মহাকাশ গবেষণা, বিশেষ করে 'আনআইডেন্টিফাইড ফ্লাইং অবজেক্ট বা ইউএফও নিয়ে কাজ করছিলেন। এঁদের কেউ ল্যাবে কাজ করতে করতে উধাও হয়েছেন, কেউ আবার মর্নিং ওয়াকে বেরিয়ে আর ফেরেননি। অদ্ভুত ব্যাপার হলো, কোনো মৃতদেহ পাওয়া যায়নি, কোনো মুক্তিপণ চাওয়া হয়নি। যেন বাতাস থেকে কেউ তাঁদের মুছে দিয়েছে।

অদৃশ্য হওয়ার তালিকা

বি-১২২ তাঁর ডিজিটাল বোর্ডে শেষ তিনটি অন্তর্ধানের তারিখ মেলাচ্ছিলেন:
ড. এলিয়াস হোয়াইট: নেভাডার মরুভূমি থেকে নিখোঁজ (জুন ২০২৪)।
সারাহ কনিংহাম: পেন্টাগনের প্রজেক্ট 'ব্লু লাইট'-এর প্রধান তথ্য বিশ্লেষক (ডিসেম্বর ২০২৫)।
প্রফেসর ইভান পেত্রভ: মহাকাশ সংকেত বিশেষজ্ঞ (মার্চ ২০২৬)।

সবগুলো নিখোঁজ হওয়ার দিন আকাশে একটি অদ্ভুত নীল আভার খবর পাওয়া গিয়েছিল, যা রাডারে ধরা পড়লেও পরক্ষণেই গায়েব হয়ে যায়।


সূত্র: একটি ছেঁড়া ডায়েরি

তদন্তের স্বার্থে বি-১২২ পৌঁছেছিলেন নিউ মেক্সিকোর এক নির্জন কেবিনে, যেখানে শেষবার দেখা গিয়েছিল প্রফেসর পেত্রভকে। ঘরটি তছনছ করা ছিল না, বরং মনে হচ্ছিল প্রফেসর খুব তাড়াহুড়ো করে কোথাও গিয়েছেন। কফির কাপে তখনও তলানি জমে।

বি-১২২-এর নজরে এল কার্পেটের নিচে লুকানো একটি ছোট ডায়েরি। পাতা উল্টাতেই তাঁর চোখ আটকে গেল। শেষ পাতায় কাঁপা হাতে লেখা:

"ওরা পৃথিবীর ভেতর থেকে আসছে না, আবার বাইরে থেকেও নয়। ওরা সময়ের ভাঁজ (Fold in time) থেকে আসছে। আমরা যাকে ইউএফও ভাবছি, সেগুলো মহাকাশযান নয়—সেগুলো এক একটা 'প্রিজম'। দশম বিজ্ঞানী হিসেবে আমি জানি, এরপর আমার পালা।"



রহস্যের কেন্দ্রবিন্দু

বি-১২২ বুঝতে পারলেন, এটা কোনো সাধারণ অপহরণ নয়। যদি কোনো দেশীয় শত্রু বা গুপ্তচর সংস্থা থাকতো, তবে কোনো না কোনো ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট পাওয়া যেত। কিন্তু এখানে সব শূন্য।

হঠাৎ তাঁর স্যাটেলাইট ফোনের সংকেত লাল হয়ে জ্বলে উঠল। বি-১২২ দেখলেন, তাঁর বর্তমান অবস্থানের ঠিক উপরে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা দ্রুত কমছে। থার্মোমিটারে রিডিং দেখাচ্ছে-


বাইরে তাকাতেই তিনি দেখলেন, মেঘের ভেতর থেকে একটা বিশাল জ্যামিতিক কাঠামো নেমে আসছে। কোনো শব্দ নেই, কোনো ইঞ্জিন নেই। শুধু এক তীব্র নীল আলো, যা পেত্রভের ডায়েরিতে লেখা বর্ণনার সাথে হুবহু মিলে যাচ্ছে।


বি-১২২ তাঁর রিভলভারে হাত রাখলেন না, বরং পকেট থেকে একটা ছোট এনক্রিপ্টেড ডিভাইস বের করলেন। তিনি জানতেন, তাঁর পূর্বসূরিরা কেন নিখোঁজ হয়েছেন। তাঁরা কেউ অপহৃত হননি, তাঁরা হয়তো এক মহাজাগতিক সত্যের মুখোমুখি হয়েছিলেন যা সাধারণ মানুষের বোঝার ক্ষমতার বাইরে।

নীল আলোটা যখন কেবিনের জানালা দিয়ে ভেতরে ঢুকছে, বি-১২২ শেষবারের মতো কন্ট্রোল রুমে মেসেজ পাঠালেন:
প্রজেক্ট ভয়েজার সফল। দশ জন বিজ্ঞানী নিখোঁজ নন, তাঁরা পরবর্তী ধাপে পৌঁছেছেন। আমি এগারো নম্বর হতে যাচ্ছি।"

পরদিন সকালে পুলিশ যখন সেই কেবিনে পৌঁছাল, সেখানে বি-১২২-এর কোনো চিহ্ন ছিল না। শুধু টেবিলের ওপর পড়ে ছিল তাঁর আইডেন্টিটি কার্ড আর পেত্রভের সেই অদ্ভুত ডায়েরিটা।

আমেরিকার মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে যুক্ত হলো আরও একটি অমীমাংসিত ফাইল, যার শিরোনাম: 'বি-১২২ এবং শূন্যতার রহস্য'।

2 weeks ago | [YT] | 0

Golpobolisorasori

www.facebook.com/share/p/18K3XCG36y/

পয়লা বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

2 weeks ago | [YT] | 1