শ্রী শ্রী সারদা মায়ের এই ছবিগুলি বাড়িতে রাখলে সব দিক দিয়ে মঙ্গল হয়।। ছবিগুলি সম্পর্কে জানতে নিচের এই লিংকে ক্লিক করুন। https://youtu.be/GVO6pXux8No?si=AUYVg...
সাধু-সন্তান ব্রঃ অশোককৃষ্ণকে তাঁর বিধবা মা-র প্রতি কর্তব্য প্রসঙ্গে মা
বলেন:
'মার সেবা করা সকলের উচিত, বিশেষ যখন তোমরা সকলের সেবা করবার জন্য এখানে এসেছ। তোমার বাপ যদি টাকা না রেখে যেতেন তা হলে তোমাকে টাকা রোজগার করে মার সেবা করতে বলতুম। ঠাকুরের ইচ্ছায় তিনি তোমার কোন উৎপাত রাখেননি। কেবল মেয়েমানুষের হাতে থেকে টাকাগুলো নষ্ট না হয়ে যায়, এর একটা বন্দোবস্ত করা ও দেখাশুনা করলেই হয়ে যাবে। এটা কি কম সুবিধে? টাকা রোজগার মানুষ সৎভাবে করতে পারে না-মন বড় মলিন করে দেয়। এজন্যে তোমায় বলছি, টাকা-কড়ির ব্যাপার যত শিল্পির সম্ভব সেরে ফেল। বেশি দিন ওসব নিয়ে থাকলেই ওতে একটা টান পড়বে, টাকা এমনি জিনিস! মনে করছ ওতে আমার টান নেই, যখন একবার ছাড়তে পেরেছি তখন আর টান হবে না, যখন ইচ্ছে চলে আসব। না, একথা কখনো মনে ভেব না। কোন ফাঁক দিয়ে তোমার গলা টিপে ধরবে, তোমায় বুঝতে দেবে না। বিশেষ তোমরা কলকাতার ছেলে, টাকা নিয়ে খেলা করতে তোমরা জান। যত শীঘ্র পার মার বন্দোবস্ত করে কলকাতা থেকে পালিয়ে যাও। আর মাকে যদি কোন তীর্থস্থানে নিয়ে যেতে পার, দুজনে বেশ ভগবানকে ডাকবে, মা-ব্যাটা-সম্পর্ক ভুলে। এই শোকের সময় মার মনে খুব কষ্ট, এটি হলে বেশ হয়। তোমার মারও তো বয়স হয়েছে। তাঁকে খুব বোঝাবে। এই সব কথা মার সঙ্গে কইবে।'
মার পথের সঞ্চয় করবার সাহায্য করতে পার তবেই তো ঠিক ছেলের কাজ করলে। তাঁর বুকের রক্ত খেয়ে যে এত বড় হয়েছ, কত কষ্ট করে তোমায় মানুষ করেছেন! তাঁর সেবা করা তোমার সবচেয়ে বড় ধর্ম জানবে। তবে তিনি যদি ভগবানের পথে যেতে বাধা দেন তখন অন্য কথা। তোমার মাকে একবার এখানে নিয়ে এস না, দেখব কেমন। যদি ভাল বুঝি, দু-একটা কথা বলে দেব। কিন্তু সাবধান, মার সেবা করছি ভেবে বিষয় নিয়ে মেতো না, একটা বিধবার খাওয়া-পরা বই তো না! কত টাকাই বা চাই! কিছু লোকসান দিয়েও যদি তাড়াতাড়ি বন্দোবস্ত হয়, তার চেষ্টা করবে। ঠাকুর তো টাকা ছুঁতেই পারতেন না। তোমরা তাঁর নামে বেরিয়েছ, সব সময় তাঁর কথা মনে ভাববে। জগতে যত অনর্থের মূল টাকা। তোমাদের কাঁচা বয়স, হাতে টাকা থাকলেই মন লোভ দেখাবে। সাবধান!'
এক জায়গায় স্থির হয়ে থাকতে পারছে না বলে মাকু আক্ষেপ করলে মা
বললেন:
'থির কি গো? যেখানে থাকবি সেইখানেই থির। স্বামীর কাছে গিয়ে থির হবি ভাবছিস, সে কি করে হবে? তার অল্প মাইনে, চলবে কি করে? তুই তো (এখানে যেন) বাপের বাড়িতেই রয়েছিস। বাপের বাড়ি লোকে থাকে না? (সামনে উপস্থিত স্ত্রী-ভক্তকে দেখিয়ে) এই দ্যাখ না, এ রয়েছে নিজের সংসার ছেড়ে। তোরা এতটুকু ত্যাগ করতে পারিস নে? দ্যাখ না একে, কি শান্ত মূর্তি! আর আমি আছি বলে আছে, আর তোরা থাকতে পারিস নে?'
মাঃ কঃ, ২/১৮৪
স্বামী অরূপানন্দ তাঁর ভাইদের সুমতি হওয়ার জন্য মা-র আশীর্বাদ প্রার্থনা করলে, মা তাঁকে উপদেশ দিলেন:
'বিয়ে করো না, সংসার করো না। বিয়ে না করলে আর কি? যেখানে থাক সেইখানেই স্বাধীন। বিয়ে করাই হচ্ছে মহাপাপ।'
মাঃ কঃ, ২/২৯৮
জনৈক স্ত্রী-ভক্ত মাকে প্রশ্ন করেন, 'মা ঠাকুর কোথায়?' মা উত্তরে বলছেন:
'মা, ঠাকুর আর কোথায়? তিনি ভক্তের নিকটে। যেখানে সাধুরা শৌচাদি করে সেখানেও যদি সংসারীরা যায়, সেই বাতাসে তাদের মনের মলিনতা কেটে যায়।'
মাঃ কঃ, ২/২৯৯
জনৈক স্ত্রী-ভক্ত ঠাকুরের পূজা করার কথা জিজ্ঞাসা করলে মা বললেন:
মা মন্দকেও ভাল চোখে দেখে সকলকে উন্নত করতেন। তিনি বলতেন:
'দোষ তো মানুষের লেগেই আছে। কি করে যে তাকে ভাল করতে হবে তা জানে ক-জনে?'
একজন তুঁতে মুসলমান ঠাকুরের জন্য কলা আনলে মা তা গ্রহণ করায় জনৈক স্ত্রী-ভক্ত সে চোর বলে আপত্তি করে। মা পরে তাকে বলেন:
'কে ভাল, কে মন্দ, আমি জানি।'
মাঃ কঃ, ২/১৬১
কেউ মহাগর্হিত কাজ করেও যদি পরে অনুতপ্ত হত মা তাকে অভয় দিতেন। এইভাবে এক যুবতী মা-র শরণাপন্ন হলে শ্রীমা তাকে বললেন:
আচ্ছা, যা করেছ করেছ, আর করো না।'
তিনি তাকে মন্ত্রদীক্ষা দিয়ে তার পাপরাশি গ্রহণ করলেন।
মাঃ কঃ, ২/১৬১
একবার জনৈক যুবক ভক্তের কোনও অন্যায় আচরণের জন্য ঠাকুরের কোনও বিশিষ্ট অন্তরঙ্গ-ভক্ত অনুরোধ করেছিলেন, যেন তাকে মা-র কাছে আসতে না দেওয়া হয়। তাতে মা বলেছিলেন:
'আমার ছেলে যদি ধুলোকাদা মাখে, আমাকেই তো ধুলো ঝেড়ে কোলে নিতে হবে!'
মাঃ কঃ, ২/৩১৯
একজন স্ত্রী-ভক্তকে মা খুব ভালবাসলেও তার স্বভাব তত ভাল ছিল না। তাই সাধুদের অনেকে চাইতেন না যে সে উদ্বোধনে মা-র কাছে আসুক।
মা কিন্তু বললেন:
'গঙ্গায় যে কত অপবিত্র জিনিস ভেসে যায়, তাতে গঙ্গা কি কখনো অপবিত্র হয়?'
সান্নিধ্যে/১৬৭
কলকাতা থেকে জনৈক স্ত্রী-ভক্ত নানা অশান্তির কথা জানিয়ে এবং মায়ের কাছ থেকে সমাধান চেয়ে চিঠি লিখলে মা বলেন:
'লিখে দাও: জীবনে যা কিছু অন্যায় ক'রে ফেলেছ, শৌচাদির যেমন কেহ হিসাব রাখে না, তেমনি ও-সবের আর কোন হিসাব না রেখে, কোন চিন্তা মনে না এনে, সরলভাবে শ্রীশ্রীঠাকুরের চরণে মন দাও।
আমার সঙ্গে দেখা ক'রে আর কি হবে? অনুতাপ যদি প্রাণ থেকে এসে থাকে, তিনিই সব যোগাযোগ ক'রে দেবেন। সময়ে সব হবে। তিনিই প্রাণে শান্তি দিবেন। সব ভুলে তাঁর শরণাগত হও, মা,
নলিনীদি পায়খানা জল দিয়ে ধুয়ে অশুচিতাবোধে অসময়ে অসুস্থ শরীরে গঙ্গাস্নানে গিয়েছিলেন। সেই প্রসঙ্গে মা নলিনীদিকে বোঝাচ্ছেন:
'আমিও তো দেশে কত শুকনো বিষ্ঠা মাড়িয়ে চলেছি। দুবার "গোবিন্দ গোবিন্দ" বললুম, বস্ শুদ্ধ হয়ে গেল। মনেতেই সব, মনেই শুদ্ধ, মনেই অশুদ্ধ। মানুষ নিজের মনটি আগে দোষী করে নিয়ে তবে পরের দোষ দেখে। পরের দোষ দেখলে তাদের কি হয়? -নিজেরই ক্ষতি। আমার এইটি ছেলেবেলা থেকেই স্বভাব যে আমি কারও দোষ দেখতে পারতুম না। আমার জন্য যে এতটুকু করে আমি তাকে তাই দিয়ে মনে রাখতে চেষ্টা করি। তা আবার মানুষের দোষ দেখা? মানুষের কি দোষ দেখতে আছে! ওটি শিখিনি। ক্ষমারূপ তপস্যা।'
সান্নিধ্যে ১০৯-১০; মাঃ কঃ, ২/২৭৬
কারও দোষ না দেখার কথা প্রসঙ্গে:
'আজ সকালে খ-রা আমাকে প্রণাম করতে এসে আ-র সম্বন্ধে কটাক্ষ ক'রে নানা কথা বলছে। সে নাকি হৃষীকেশের সাধুদের সঙ্গে ঝগড়া করে। আবার বলছে "সে আপনাদের এত সঙ্গ ও সেবা ক'রে শেষে এসব কুমতি হচ্ছে কেন?" এ সমস্ত নানা কথা। আমি আর কারুর দোষ দেখতে-শুনতে পারিনি, বাবা। প্রারব্ধ কর্ম যার যা আছে যেখানে ফালটি যেতো, সেখানে সূঁচটি তো যাবে? আমার কাছে তার দোষের কথা বললে। আচ্ছা, তখন এরা সব কোথায় ছিল? সে আমার কত সেবা করেছে। আমি তো তখন ভাইদের ঘরে ধান সেদ্ধ করি, ধান ভানি। সংসারের সব কাজ করি। বৌরা সব তো ছোট। সে শীত বর্ষা গ্রাহ্য না ক'রে সকাল থেকে গায়ে কালি মেখে আমার সঙ্গে বড় বড় ধানের হাঁড়ি নামাতো। এখন তো অনেকে ভক্ত হয়ে আসে। তখন আমার কে ছিল? আমরা কি সেগুলো সব ভুলে যাব? তা বাবা, লোকেরই বা দোষ কি? আমারও আগে লোকের কতো দোষ চোখে ঠেকত। তারপর ঠাকুরের কাছে কেঁদে কেঁদে, "ঠাকুর, আর দোষ দেখতে পারিনে" ব'লে কত প্রার্থনা ক'রে তবে দোষ দেখাটা গেছে। বৃন্দাবনে যখন থাকতুম, বাঁকেবিহারীকে দর্শন ক'রে বলতুম, "তোমার রূপটি দেখতে বাঁকা, মনটি সোজা। আমার মনের বাঁকটি সোজা ক'রে দাও।" আর দেখো, মানুষের হাজার উপকার ক'রে একটু দোষ করো, অমনি মুখটি তখনই ফিরিয়ে নেবে, সব উপকার ভুলে যাবে। লোকে কেবল দোষটি দেখে, গুণটি ক'জন দেখে? গুণটি দেখা চাই।'
পঞ্চপিশাচের কাহিনি। জীবিত কালে কি করলে পিশাচত্ব লাভ হয়?আর কি করলে এই পিশাচত্ব থেকে মুক্তি পাওয়া যায়? অগ্নি পুরাণের কাহিনী।
শ্রীহরি বললেন- এবার পাঁচ পিশাচের গল্প বলছি শোনো।
সংসারের অশান্তি সহ্য করতে না পেরে এক ব্রাহ্মণ বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পড়ল। হাঁটতে হাঁটতে চলে এল এক গভীর অরণ্যে। ঘুরতে ঘুরতে গভীর অরণ্যের মধ্যে প্রবেশ করল। দেখতে পেল অত্যাশ্চর্য ভয়ঙ্কর দৃশ্য- গাছের ডাল থেকে ঝুলছে একটা মরা দেহ। আর পাঁচটা প্রেত সেই দেহ থেকে মাংস খুবলে খুবলে খাচ্ছে আর উল্লাস করছে।
ব্যাপার স্যাপার দেখে ব্রাহ্মণের পিলে চমকে গেল। সর্বাঙ্গ কাঁপছে। পিশাচ তো নয়। যেন পাঁচ পাঁচটা জ্যান্ত কঙ্কাল। কোটরাগত চোখ। পেট-পিঠ আলাদা করে বোঝা যাচ্ছে না। হাড়গুলো গোণা যায়, নাকহীন।
ব্রাহ্মণকে দেখে তারা মরাটাকে ফেলে এগিয়ে এল জ্যান্ত টাটকা মাংস খাবে বলে। সরু সরু কাঠির মতো পা ফেলে ছুটে এল, লম্বা হাত বাড়িয়ে দিল। এবার শুরু হল ব্রাহ্মণকে নিয়ে টানা-হ্যাঁচড়া। প্রত্যেকেরই একই কথা- আমি আগে ধরেছি, তাই আমি আগে খাব।
ব্রাহ্মণ দেখল এই প্রেত-পিশাচের হাত থেকে একমাত্র শ্রীগোবিন্দই তাঁকে রক্ষা করতে পারে নতুবা প্রাণটা দিতে হবে। ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে ভগবানের স্মরণ করল- হে কৃষ্ণ, হে মধুসূদন, বিপদত্তারণ, এই সংকট থেকে আমাকে রক্ষা করো। তুমি আমার একমাত্র ভরসা, তুমিই অগতির গতি।
ব্রাহ্মণের সেই আকুল প্রার্থনা আমার সিংহাসন নড়িয়ে দিল। ব্রাহ্মণকে ওই পিশাচদের হাত থেকে
রক্ষা করার উদ্দেশ্যে সেখানে এলাম।
এখন পিশাচেরা ব্রাহ্মণকে নিয়ে আকাশপথে ওড়ার তোড়জোড় করছে, নিরিবিলি জায়গায় গিয়ে খাবে বলে হয়তো। তখনই গাছের ডাল থেকে কীভাবে যেন মৃতদেহটা পড়ে গেল। পিশাচেরা তা লক্ষ্য করে ফিরে এল নীচে। একটাকে সামলাতে গিয়ে আর একটা হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। তারা তাড়াতাড়ি ব্রাহ্মণকে নিয়ে ঐ মৃতদেহের সামনে এল।
জীবন্ত আর মৃত দুটি দেহ নিয়ে তখন পিশাচেরা উড়ে চলেছে শূন্যপথে। আমি ওদের অনুসরণ করলাম, অবশ্য গোপনে। ঠিক সেই সময় ওই পথ দিয়ে যক্ষ মণিভদ্র যাচ্ছিল। তাকে বললাম- ওই পিশাচদের হাত থেকে ওই মৃতদেহটা ছিনিয়ে নাও, দেখো ব্রাহ্মণের যেন কোনো ক্ষতি না হয়।
আমার আদেশ পেয়ে যক্ষ বিশাল আকারের এক পিশাচের রূপ ধরল। সে তার লম্বা লম্বা হাতের দ্বারা সেই শব কেড়ে নিল পাঁচ পিশাচের কাছ থেকে।
পর্বতের মাথায় ব্রাহ্মণকে রেখে পিশাচেরা মণিভদ্রকে তাড়া করল। তাদের মুখের গ্রাস কেড়ে নিলে
তারা মানবে কেন? কিন্তু মণিভদ্রের শক্তির কাছে তারা হেরে গেল। মণিভদ্র বাগিয়ে দিল এক ঘুষি। মাথা ঘুরে পড়ে গেল সবকটা পিশাচ। মণিভদ্রও পালিয়ে গেল। তাকে খুঁজে না পেয়ে ফিরে এল পর্বতের ওপর, এবার আয়েস করে ব্রাহ্মণকে খাবে। কিন্তু অবাক কাণ্ড! ব্রাহ্মণকে স্পর্শ করতেই তারা বিদ্যুৎ পিষ্টের মতো ছিটকে গেল। তারা তাড়াতাড়ি হাত জোড় করে দাঁড়াল।
পিশাচদের এমন অনুগত ভাব দেখে ব্রাহ্মণ আশ্চর্য হল।
পঞ্চ পিশাচ বলল হে ব্রাহ্মণ, আমাদের মাফ করুন। না জেনে আর একটা পাপ কাজ করে
-আপনার স্পর্শে আমরা গত জন্মের সব কথা মনে করতে পারছি।
ব্রাহ্মণ বললেন- তোমাদের পরিচয় কী?
-আমি হলাম প্যুষিত, পিশাচদের মধ্যে একজন বলল, আর এদের নাম সূচীমুখ, শীঘ্রক, রোধক
আর লেখক।
তোমরা পিশাচ হলে কীভাবে?
প্যুষিত জবাব দিল পিতৃশ্রাদ্ধাদি শেষ করে ব্রাহ্মণ ভোজন করালাম। কিন্তু এক ব্রাহ্মাণ তখনও এসে পৌঁছাননি। আমার ভীষণ খিদে পেয়েছিল। ওই ব্রাহ্মণের জন্য অপেক্ষা না করে আমি খেয়ে নিলাম। তারপরেই ওই ব্রাহ্মণ এসে হাজির হলেন। কিন্তু কী খেতে দেব? খাবার তো নেই। তাই পাত্রগুলোর গায়ে লেগে থাকা খাবার আর নিজের এঁটো খাবার থেকে কিছুটা নিয়ে ওই ব্রাহ্মাণকে ভোজন করালাম। এ হল চরম পাপ। যার ফলে পিশাচ হলাম। সেই থেকে আমি হলাম পিশাচ পর্যুষিত।
সূচীমুখ তার কাহিনি শোনাল- ক্ষত্রিয় বংশে আমার জন্ম হলেও সেই ধর্ম মানতাম না। ভীষণ উগ্র স্বভাব। পরের ওপর অত্যাচার করে সুখ পেতাম। একবার এক ব্রাহ্মণীকে ধরে খুব আঘাত করলাম। তাঁর যা কিছু ছিল সব কেড়ে নিলাম। সঙ্গে ছিল তাঁর পাঁচ বছরের ছোটো ছেলে। ছেলেটা জল খেতে চাইল। কিন্তু আমি তাকে জল খেতে দিলাম না। বরং তাকে বেত দিয়ে কয়েক ঘা বসিয়ে দিলাম। একরত্তি ছেলে, পারে কী সহ্য করতে অত মার। ছটফট করতে করতে মারা গেল। এ দৃশ্য দেখে ব্রাহ্মণী আর বেঁচে রইল না। একটা কুয়োতে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ বিসর্জন দিল।
দিনের পর দিন আমার অত্যাচারের মাত্রা বাড়তে লাগল। এর জন্য কোনো তাপ-অনুতাপ হত না আমার। মানুষের মুখের গ্রাস কেড়ে নিতাম। তাদের মুখকে সূচী করেছিলাম। তাই পিশাচত্ব লাভ করে হলাম সূচীমুখ। বিশাল পিশাচদেহ পেলাম আমি, কিন্তু মুখ পেলাম ক্ষুদ্র সূচের ছ্যাঁদার মতো। আপনার স্পর্শে আমি পিশাচমুক্ত হলাম।
শীঘ্রক বলল আমি এক নরাধম, এমনটি সারা দুনিয়া ঘুরেও দ্বিতীয়টি পাবেন না। বণিক বংশে জন্ম নিয়েছিলাম, সর্বদা অকাজ-কুকাজে মেতে থাকতাম। একবার আমি আর আমার দাদা বিদেশে সওদা করতে গিয়ে প্রচুর মুনাফা করে ফিরে এলাম। নদীপথে ফিরছি। মনে এক ববুদ্ধি এল, এর কারণ কিন্তু আমি জানি না। ভাবলাম, দাদাকে যদি
এখানেই সরিয়ে দিতে পারি, তাহলে মুনাফার অর্ধেক ভাগ দিতে হবে না। যেমন ভাবা, তেমন কাজ।
নৌকো তীরের কাছে নিয়ে এলাম। দাদাকে নিয়ে তীরে নামলাম। তারপর দাদাকে কিছু বুঝতে না দিয়ে নিমেষে দ্রুত লাফিয়ে উঠলাম নৌকোতে, নির্দেশ পেয়ে মাঝি নৌকা ছেড়ে দিল।
বাড়ি ফিরে এলাম। কাঁদতে কাঁদতে বৌদিকে বললাম- দস্যুর আক্রমণ রুখতে গিয়ে দাদা মারা গেছে।
স্বামীর শোকে বৌদি কান্নাকাটি করতে লাগল। তারপর চিতা সাজিয়ে আগুনে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ দিল। ধনসম্পদ সব আমার হল। মন ভরে সব ভোগ করলাম। কিন্তু এমন মহাপাপ করলাম, যার ফলে আমি পিশাচত্ব লাভ করলাম।
এরপর চতুর্থ পিশাচের পরিচয় প্রদানের পালা। সে বলল আমি রোধক। চাষির ঘরে জন্ম। মা-বাবা-ভাই-বোন নিয়ে ভরা সংসার। আমার ভাই কোনো কাজ কর্ম করতে চাইত না, ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসত। খাওয়ার সময় হলেই তবে তাকে খুঁজে পাওয়া যেত। তাই তার বিষয়-আশয় আলাদা করে দিলাম। পৃথক হল সে। কয়েকদিনের মধ্যে জমি জায়গা বিক্রি করে দিল। দুবেলা খাওয়া পর্যন্ত জুটল না। মা-বাবাকে নিয়ে আমি তখন বেশ সুখেই দিন কাটাচ্ছি।
ছেলে না খেতে পেয়ে শুকিয়ে মরছে, কোন বাবা-মা তা সহ্য করতে পারে বলুন? আমার সংসার থেকে লুকিয়ে চুরিয়ে নিয়ে মা তার ছোটো ছেলেকে খাবার জোগাত। আমি একদিন টের পেয়ে মাকে যাচ্ছে তাই করে অপমান করলাম। ওদের ঘরে আটকে রেখে দিয়ে তালা লাগিয়ে দিলাম। সেই দুঃখে মা-বাবা বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করলেন।
আর আমার ভাই? সেও অনাহারে একদিন মা-বাবার পথ অনুসরণ করল। আমি হলাম পাপী। পাপের ফলে হলাম পিশাচ।
অবন্তী নগরে আমার জন্ম; পঞ্চম পিশাচ বলতে শুরু করল। রাজপুরোহিত ছিলাম। ছিলাম খুব লোভী, রাজমন্দিরে ঠাকুরের গায়ে সোনার অলঙ্কার আমি চুরি করলাম। রাজা চুরির খবর পেয়ে ঘোষণা করলেন যে চোরকে ধরতেই হবে। তাকে শূলে চড়াব।
আমার কানেও এই রাজপ্রতিজ্ঞার কথা পৌঁছে গেল। ঠিক করলাম, রাজাকে খুন করব। একদিন প্রভাতে রাজবাড়িতে প্রবেশ করলাম। সকলের পরিচিত বলে কেউ বাধা দিল না আমায়। রাজার ঘরে গিয়ে পালঙ্কের নীচে ঘাপটি মেরে বসে রইলাম। রাত হল। ক্রমশ তা ঘন হল। ধারালো অস্ত্র সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলাম। রাজার গলা কেটে ফেললাম। বেরিয়ে এলাম সেখান থেকে। মন্দিরে এসে বিগ্রহের বাকি সব গয়না গাঁটি, প্রতিমার গা থেকে আঁচড়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে বের করে নিলাম। তারপর চোরের মতো সেখান থেকে চলে এলাম। বনের পথ ধরলাম। পড়লাম এক হিংস্র বাঘের মুখে। সে আমাকে ভক্ষণ করল। জীবনে যত পাপ করেছি, তার যন্ত্রণা ভোগ করলাম পিশাচ হয়ে। বিগ্রহের গায়ে আচঁড় কাটায় আমি হলাম লেখক পিশাচ।
পাঁচ পিশাচের কাহিনি শেষ হল।
ব্রাহ্মণ জানতে চাইল তারা এখন কোথায় থাকে? কী খায়?
পিশাচেরা জবাবে বলল লজ্জা, ধর্ম, ক্ষমা, ভীতি, জ্ঞান যেখানে বিরাজ করে সেখান থেকে আমরা যোজন যোজন দূরে থাকি। এসব যেখানে নেই সেখানেই আমরা বাস করি। যা খাই তা তো নিজের চোখেই আপনি দেখলেন। অনাচারীদের রক্ত-মাংস আমরা আহার করি। আপনি একজন সিদ্ধ যোগী। তাই আপনার স্পর্শে আমরা আজ ধন্য হলাম। পূর্বস্মৃতি ফিরে পেলাম।
শ্রীহরির মুখ থেকে গরুড় এই কাহিনি শ্রবণ করছিল।
শ্রীকৃষ্ণ বললেন ওদের কথাবার্তা আমি অলক্ষ্যে দাঁড়িয়ে শুনছিলাম। আমি তারপর ওদের
সামনে নিজমূর্তি ধারণ করে দাঁড়ালাম। ওরা আমাকে দেখে হাউ-হা'উ করে কাঁদতে লাগল। পা জড়িয়ে ধরল। আমি তাদের নিরস্ত করলাম। ছ-টা দিব্য বিমানে করে ওই পাঁচ পিশাচ আর বিম্বকসেন নামে ওই ব্রাহ্মণকে নিয়ে গেলাম বৈকুণ্ঠধামে।
শ্রীকৃষ্ণ তাঁর প্রিয় বাহন গরুড়ের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন একটি একটি করে।
তিনি বললেন- শ্রাদ্ধ কালে পুত্র যে অন্নজল দান করে তা খেয়ে প্রেতলোকে পিতা তৃপ্তি লাভকরে। নরক থেকেও মুক্তি পায়।
গরুড় জানতে চাইল- যারা পুত্রহীন, তাদের কী গতি হয়? তাছাড়া ছেলের দেওয়া অন্নজল পিতা যে গ্রহণ করল, তা কী করে বোঝা যায়? হে প্রভু, আপনি আমার এ প্রশ্নের উত্তর দিয়ে আমাকে শান্ত করুন।
শ্রীভগবান বললেন- এ অতি উত্তম প্রশ্ন। সন্তানহীনদের ধনসম্পদের যে অধিকারী হয়, সে-ই অন্নজল দান করতে পারে। যে করবে শ্রাদ্ধ আর যার ধনসম্পত্তি কিছু নেই, নিঃস্ব, এক্ষেত্রে সে দেশের রাজাই তার পারলৌকিক ক্রিয়া করবে, কারণ রাজা হলেন সকলের পালন কর্তা।
এরপর শ্রীকৃষ্ণ একটি সুন্দর উপাখ্যান বললেন।
পুরাকালে বজ্রবাহন নামে এক প্রজাবৎসল রাজা ছিলেন। সেই রাজ্যে সর্বদা শান্তি বিরাজ করত।
একদিন রাজা তাঁর লোকূলস্কর নিয়ে মৃগয়া করতে বেরোলেন। বনে ঢুকেই একটা হরিণকে দেখে তীর নিক্ষেপ করলেন। হরিণের পায়ে লাগল। আহত হয়েও সে প্রাণের তাগিদে ছুটতে শুরু করল। রাজা তার পিছু ধরলেন। ঘোড়া ছুটিয়ে দিলেন। কিন্তু খানিক যাওয়ার পর হরিণটাকে আর দেখতে পেলেন না।
এ সময়ে রাজার খুব জলতেষ্টা পেল। সামনেই এক সুন্দর সরোবর, তিনি ঘোড়া থেকে নেমে শীতল জল গন্ডুষ করে পান করলেন। শরীর ও মন জুড়াল। গাছের তলায় বসলেন জিরিয়ে নেবার আশায়। ফুরফুরে বাতাসে রাজার চোখে ঘুম এল। তিনি ঘাসের ওপর শুয়ে পড়লেন।
আধো ঘুম আধো তন্দ্রার মধ্যে রাজা একটা বিশ্রী কটু গন্ধ পেলেন। নাক কুঁচকে চোখ মেলে দিলেন। কী আশ্চর্য দৃশ্য! ভূতরাজা তার বিশাল ভূতবাহিনী নিয়ে রাজার দিকেই এগিয়ে আসছে।
রাজা তড়াক করে উঠে বসলেন। ধনুকে তীর সংযোজন করলেন। ভূতের দলকে লক্ষ্য করে তাক করলেন।
ভূত রাজা বলল দাঁড়ান, ধনুক নামান, তীর ছোঁড়ার আগে আমার কথা শুনুন।
রাজা ধনুকসহ হাত নামিয়ে নিলেন।
ভূতরাজ বললেন- হে রাজা, আমি হলাম প্রেতবাহন, পিশাচদের রাজা। গতজন্মে আমি ছিলাম এক বণিক, তখন নাম ছিল সুদেব। সে সময়ে দানধ্যান করেছি অনেক। সৎপথে থেকেছি। ধর্ম মেনে চলেছি। তবুও তাকে মৃত্যুর পরে ভূত হতে হল।
রাজা অবাক হলে।
জানতে চাইলেন- এর কারণ কী?
প্রেতরাজ বলল- আমি ছিলাম নিঃসন্তান। এমনকি কোনো আত্মীয়স্বজন না থাকায় অন্নজল পেলাম না। তাই হলাম পিশাচ।
-আর ওরা? রাজা ভূত-বাহিনীর দিকে চোখ তুলে জানতে চাইলেন।
ভূতরাজা বলল- ওদের অবস্থাও আমারই মতো। আমাদের বীভৎস চেহারা দেখে সকলে ভয় পায়। কেউ সামনে আসতে চায় না। মনের দুঃখের কথা কাউকে বলতে পারছি না। আপনি দেশের পালনকর্তা। আপনাকে সব বললাম। আপনি আমাদের জন্য পিণ্ডদান করুন। বৃষ দান করে শ্রাদ্ধাদি সম্পন্ন করুন।
ঠিক এই সময়ে রাজার লোকজন রাজাকে খুঁজতে খুঁজতে সেখানে এসে হাজির হল। ভূত বাহিনীকে আর দেখা গেল না।
রাজা নিজ রাজ্যে ফিরে এসে নিয়মমতো বৃষোৎসর্গ শ্রাদ্ধ করলেন ওইসব ভূত পিশাচের উদ্দেশ্যে। শ্রীহরি এবার বললেন- রাজা হলেন প্রজার পাপতানেষু কারণ। তিনি প্রজাকে পাপ থেকে উদ্ধার করতে পারেন।
'বেদান্তবাদী সাধু যারা, তারা সব কি নির্বাণে যাবে?' স্বামী অরূপানন্দ
এই প্রশ্ন করলে, মা-র উত্তর:
'তা বইকি। মায়া কাটিয়ে কাটিয়ে নির্বাণ হবে-ভগবানে মিশে যাবে। বাসনা হতেই তো দেহ। একটু বাসনা না থাকলে দেহ থাকে না। একেবারে নির্বাসনা হলো, তো সব ফুরাল।'
মাঃ কঃ, ২/২০৩
মায়া, নির্বাণ ইত্যাদির আলোচনা প্রসঙ্গে শ্রীমা স্বামী অরূপানন্দকে বললেন:
'যোগীন যখন দেহ রাখলে, নির্বাণ চাইলে। গিরিশবাবু বললেন,
"দ্যাখ যোগীন, নির্বাণ নিসনি নিসনি। ঠাকুর বিশ্বব্রহ্মাণ্ড জুড়ে, চন্দ্র সূর্য তাঁর চক্ষু-এত বড় ভাবিসনি। যেমন ঠাকুরটি ছিলেন, তেমনটি ভেবে ভেবে তাঁর কাছে চলে যা।"
'দেবতা বল, যা বল-সব এসে পৃথিবীতে জন্মাচ্ছে। সূক্ষ্মদেহে তো আর খাওয়া-পরা কথাবার্তা কিছু নেই, তাই বেশি দিন থাকতে পারে না।'
মাঃ কঃ, ২/২০৩
স্বামী অরূপানন্দ শ্রীঠাকুর-কথিত, 'ঈশ্বরকোটা নির্বাণের (নির্বিকল্প সমাধির) পরও ফেরে, আর কেউ পারে না', এই কথার অর্থ জানতে চাইলে, মা বলছেন:
ঈশ্বরকোটী নির্বাণের পরও মনটি গুছিয়ে আনতে পারে।'
'যে মন লীন হয়ে গেল, সে মন কি করে ফিরে আসে? একঘটি জল পুকুরে ফেলে দিলে কি করে সেই জলটুকুই বেছে আনবে?' এই বলে স্বামী অরূপানন্দ সংশয় প্রকাশ করলে মা বললেন:
'সব্বাই পারে না। যাঁরা পরমহংস তাঁরা পারেন। হাঁস, জল দুধ একত্র করে দাও, দুধটুকু বেছে খাবে।'
সবাই কি নির্বাসনা হতে পারে?' স্বামী অরূপানন্দ প্রশ্ন করলেন। মা-র উত্তর:
'তা পারলে তো সৃষ্টি ফুরিয়ে যেত। পারে না বলেই তো সৃষ্টি চলছে-পুনঃপুনঃ জন্মাচ্ছে।'
অরূপানন্দ আবার জিজ্ঞেস করলেন, 'যদি গঙ্গায় দেহত্যাগ হয়?' মা উত্তরে বললেন:
'বাসনা ফুরুলেই হয়, নইলে কিছুতেই কিছু নয়। বাসনা না ফুরুলে শেষ জন্ম হলেই বা কি হবে?'
মাঃ কঃ, ২/২১৭
মায়ের ভাইদের অর্থের আকাঙ্ক্ষা এবং তাদের ঝগড়া-বিরোধের প্রসঙ্গে রাসবিহারী মহারাজ মাকে তাঁর ভাইদের আরও সম্পদ দিতে বললেন, যাতে যথেষ্ট ভোগ করে তাদের নিবৃত্তি হয়। মা বললেন:
'ওদের কি আর নিবৃত্তি আছে? ওদের কিছুতেই নিবৃত্তি হবে না। শত দিলেও না। সংসারী লোকদের কি আর নিবৃত্তি হয়?'
মাঃ কঃ, ২/২১২
রাসবিহারী মহারাজ 'শেষ জন্ম' কথার মানে জিজ্ঞাসা করায় মা বলছেন: 'শেষ জন্ম মানে তার আর যাতায়াত হবে না, এই জন্মেই শেষ হয়ে গেল।'
মাঃ কঃ, ২/২১২
শেষ জন্ম মানে নির্বাণ কি না রাসবিহারী মহারাজ জিজ্ঞাসা করায় মা বলছেন: 'তা বইকি। হয়তো দেহ যাবার সময় মন নির্বাসনা হবে।'
Ishwarer kotha o gaan
শ্রী শ্রী সারদা মায়ের এই ছবিগুলি বাড়িতে রাখলে সব দিক দিয়ে মঙ্গল হয়।। ছবিগুলি সম্পর্কে জানতে নিচের এই লিংকে ক্লিক করুন।
https://youtu.be/GVO6pXux8No?si=AUYVg...
9 hours ago | [YT] | 422
View 22 replies
Ishwarer kotha o gaan
সাধু-সন্তান ব্রঃ অশোককৃষ্ণকে তাঁর বিধবা মা-র প্রতি কর্তব্য প্রসঙ্গে মা
বলেন:
'মার সেবা করা সকলের উচিত, বিশেষ যখন তোমরা সকলের সেবা করবার জন্য এখানে এসেছ। তোমার বাপ যদি টাকা না রেখে যেতেন তা হলে তোমাকে টাকা রোজগার করে মার সেবা করতে বলতুম। ঠাকুরের ইচ্ছায় তিনি তোমার কোন উৎপাত রাখেননি। কেবল মেয়েমানুষের হাতে থেকে টাকাগুলো নষ্ট না হয়ে যায়, এর একটা বন্দোবস্ত করা ও দেখাশুনা করলেই হয়ে যাবে। এটা কি কম সুবিধে? টাকা রোজগার মানুষ সৎভাবে করতে পারে না-মন বড় মলিন করে দেয়। এজন্যে তোমায় বলছি, টাকা-কড়ির ব্যাপার যত শিল্পির সম্ভব সেরে ফেল। বেশি দিন ওসব নিয়ে থাকলেই ওতে একটা টান পড়বে, টাকা এমনি জিনিস! মনে করছ ওতে আমার টান নেই, যখন একবার ছাড়তে পেরেছি তখন আর টান হবে না, যখন ইচ্ছে চলে আসব। না, একথা কখনো মনে ভেব না। কোন ফাঁক দিয়ে তোমার গলা টিপে ধরবে, তোমায় বুঝতে দেবে না। বিশেষ তোমরা কলকাতার ছেলে, টাকা নিয়ে খেলা করতে তোমরা জান। যত শীঘ্র পার মার বন্দোবস্ত করে কলকাতা থেকে পালিয়ে যাও। আর মাকে যদি কোন তীর্থস্থানে নিয়ে যেতে পার, দুজনে বেশ ভগবানকে ডাকবে, মা-ব্যাটা-সম্পর্ক ভুলে। এই শোকের সময় মার মনে খুব কষ্ট, এটি হলে বেশ হয়। তোমার মারও তো বয়স হয়েছে। তাঁকে খুব বোঝাবে। এই সব কথা মার সঙ্গে কইবে।'
মার পথের সঞ্চয় করবার সাহায্য করতে পার তবেই তো ঠিক ছেলের কাজ করলে। তাঁর বুকের রক্ত খেয়ে যে এত বড় হয়েছ, কত কষ্ট করে তোমায় মানুষ করেছেন! তাঁর সেবা করা তোমার সবচেয়ে বড় ধর্ম জানবে। তবে তিনি যদি ভগবানের পথে যেতে বাধা দেন তখন অন্য কথা। তোমার মাকে একবার এখানে নিয়ে এস না, দেখব কেমন। যদি ভাল বুঝি, দু-একটা কথা বলে দেব। কিন্তু সাবধান, মার সেবা করছি ভেবে বিষয় নিয়ে মেতো না, একটা বিধবার খাওয়া-পরা বই তো না! কত টাকাই বা চাই! কিছু লোকসান দিয়েও যদি তাড়াতাড়ি বন্দোবস্ত হয়, তার চেষ্টা করবে। ঠাকুর তো টাকা ছুঁতেই পারতেন না। তোমরা তাঁর নামে বেরিয়েছ, সব সময় তাঁর কথা মনে ভাববে। জগতে যত অনর্থের মূল টাকা। তোমাদের কাঁচা বয়স, হাতে টাকা থাকলেই মন লোভ দেখাবে। সাবধান!'
জয় মা জয় জয় মা ❤️❤️❤️🙏🙏🌹🌹🌹
#maasarada #ramakrishna #swamiviekananda #মা #সারদা #রামকৃষ্ণ #spirituality #motivation #viralpost #followers #ramakrishna #thakur #sarada #saradadevi #foryoupageシforyou #followerseveryonev #SharePost #viral #story #love #trending #divotional #trends #bestpic #ishwarerkothaogaan
9 hours ago | [YT] | 306
View 10 replies
Ishwarer kotha o gaan
এক জায়গায় স্থির হয়ে থাকতে পারছে না বলে মাকু আক্ষেপ করলে মা
বললেন:
'থির কি গো? যেখানে থাকবি সেইখানেই থির। স্বামীর কাছে গিয়ে থির হবি ভাবছিস, সে কি করে হবে? তার অল্প মাইনে, চলবে কি করে? তুই তো (এখানে যেন) বাপের বাড়িতেই রয়েছিস। বাপের বাড়ি লোকে থাকে না? (সামনে উপস্থিত স্ত্রী-ভক্তকে দেখিয়ে) এই দ্যাখ না, এ রয়েছে নিজের সংসার ছেড়ে। তোরা এতটুকু ত্যাগ করতে পারিস নে? দ্যাখ না একে, কি শান্ত মূর্তি! আর আমি আছি বলে আছে, আর তোরা থাকতে পারিস নে?'
মাঃ কঃ, ২/১৮৪
স্বামী অরূপানন্দ তাঁর ভাইদের সুমতি হওয়ার জন্য মা-র আশীর্বাদ প্রার্থনা করলে, মা তাঁকে উপদেশ দিলেন:
'বিয়ে করো না, সংসার করো না। বিয়ে না করলে আর কি? যেখানে থাক সেইখানেই স্বাধীন। বিয়ে করাই হচ্ছে মহাপাপ।'
মাঃ কঃ, ২/২৯৮
জনৈক স্ত্রী-ভক্ত মাকে প্রশ্ন করেন, 'মা ঠাকুর কোথায়?' মা উত্তরে বলছেন:
'মা, ঠাকুর আর কোথায়? তিনি ভক্তের নিকটে। যেখানে সাধুরা শৌচাদি করে সেখানেও যদি সংসারীরা যায়, সেই বাতাসে তাদের মনের মলিনতা কেটে যায়।'
মাঃ কঃ, ২/২৯৯
জনৈক স্ত্রী-ভক্ত ঠাকুরের পূজা করার কথা জিজ্ঞাসা করলে মা বললেন:
'তোমরা সংসারী, ঠাকুরের পূজা পেরে উঠবে না।'
মাঃ কঃ, ১/১১৬
জয় মা জয় জয় মা ❤️❤️❤️🙏🙏🌹🌹🌹
#maasarada #ramakrishna #swamiviekananda #মা #সারদা #রামকৃষ্ণ #spirituality #motivation #viralpost #followers #ramakrishna #thakur #sarada #saradadevi #foryoupageシforyou #followerseveryonev #SharePost #viral #story #love #trending #divotional #trends #bestpic #ishwarerkothaogaan
10 hours ago | [YT] | 106
View 4 replies
Ishwarer kotha o gaan
এক সম্ভ্রান্ত কুলমহিলা কর্মবিপাকে দুষ্পবৃত্তিপরায়ণ হলেও পরে নিজের ভুল বুঝতে পেরে, উদ্বোধনে মা-র ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে বললেন: 'মা,
আমার উপায় কি হবে? আমি আপনার কাছে এই পবিত্র মন্দিরে প্রবেশ করার যোগ্য নই।' মা তাঁকে সস্নেহে বললেন:
'এস, মা, ঘরে এস। পাপ কি তা বুঝতে পেরেছ, অনুতপ্ত হয়েছ। এস, আমি তোমাকে মন্ত্র দেব ঠাকুরের পায়ে সব অর্পণ করে দাও, ভয় কি?'
জয় মা জয় জয় ঠাকুর ❤️❤️❤️🙏🙏🌹🌹🌹
#maasarada #ramakrishna #swamiviekananda #মা #সারদা #রামকৃষ্ণ #spirituality #motivation #viralpost #followers #ramakrishna #thakur #sarada #saradadevi #foryoupageシforyou #followerseveryonev #SharePost #viral #story #love #trending #divotional #trends #bestpic #ishwarerkothaogaan
10 hours ago | [YT] | 173
View 9 replies
Ishwarer kotha o gaan
মা মন্দকেও ভাল চোখে দেখে সকলকে উন্নত করতেন। তিনি বলতেন:
'দোষ তো মানুষের লেগেই আছে। কি করে যে তাকে ভাল করতে হবে তা জানে ক-জনে?'
একজন তুঁতে মুসলমান ঠাকুরের জন্য কলা আনলে মা তা গ্রহণ করায় জনৈক স্ত্রী-ভক্ত সে চোর বলে আপত্তি করে। মা পরে তাকে বলেন:
'কে ভাল, কে মন্দ, আমি জানি।'
মাঃ কঃ, ২/১৬১
কেউ মহাগর্হিত কাজ করেও যদি পরে অনুতপ্ত হত মা তাকে অভয় দিতেন। এইভাবে এক যুবতী মা-র শরণাপন্ন হলে শ্রীমা তাকে বললেন:
আচ্ছা, যা করেছ করেছ, আর করো না।'
তিনি তাকে মন্ত্রদীক্ষা দিয়ে তার পাপরাশি গ্রহণ করলেন।
মাঃ কঃ, ২/১৬১
একবার জনৈক যুবক ভক্তের কোনও অন্যায় আচরণের জন্য ঠাকুরের কোনও বিশিষ্ট অন্তরঙ্গ-ভক্ত অনুরোধ করেছিলেন, যেন তাকে মা-র কাছে আসতে না দেওয়া হয়। তাতে মা বলেছিলেন:
'আমার ছেলে যদি ধুলোকাদা মাখে, আমাকেই তো ধুলো ঝেড়ে কোলে নিতে হবে!'
মাঃ কঃ, ২/৩১৯
একজন স্ত্রী-ভক্তকে মা খুব ভালবাসলেও তার স্বভাব তত ভাল ছিল না। তাই সাধুদের অনেকে চাইতেন না যে সে উদ্বোধনে মা-র কাছে আসুক।
মা কিন্তু বললেন:
'গঙ্গায় যে কত অপবিত্র জিনিস ভেসে যায়, তাতে গঙ্গা কি কখনো অপবিত্র হয়?'
সান্নিধ্যে/১৬৭
কলকাতা থেকে জনৈক স্ত্রী-ভক্ত নানা অশান্তির কথা জানিয়ে এবং মায়ের কাছ থেকে সমাধান চেয়ে চিঠি লিখলে মা বলেন:
'লিখে দাও: জীবনে যা কিছু অন্যায় ক'রে ফেলেছ, শৌচাদির যেমন কেহ হিসাব রাখে না, তেমনি ও-সবের আর কোন হিসাব না রেখে, কোন চিন্তা মনে না এনে, সরলভাবে শ্রীশ্রীঠাকুরের চরণে মন দাও।
আমার সঙ্গে দেখা ক'রে আর কি হবে? অনুতাপ যদি প্রাণ থেকে এসে থাকে, তিনিই সব যোগাযোগ ক'রে দেবেন। সময়ে সব হবে। তিনিই প্রাণে শান্তি দিবেন। সব ভুলে তাঁর শরণাগত হও, মা,
শরণাগত হও।'
শ্রীমা সাঃ দেঃ/৩০৭
#maasarada #ramakrishna #swamiviekananda #মা #সারদা #রামকৃষ্ণ #spirituality #motivation #viralpost #followers #ramakrishna #thakur #sarada #saradadevi #foryoupageシforyou #followerseveryonev #SharePost #viral #story #love #trending #divotional #trends #bestpic #ishwarerkothaogaan
10 hours ago | [YT] | 232
View 10 replies
Ishwarer kotha o gaan
নলিনীদি পায়খানা জল দিয়ে ধুয়ে অশুচিতাবোধে অসময়ে অসুস্থ শরীরে গঙ্গাস্নানে গিয়েছিলেন। সেই প্রসঙ্গে মা নলিনীদিকে বোঝাচ্ছেন:
'আমিও তো দেশে কত শুকনো বিষ্ঠা মাড়িয়ে চলেছি। দুবার "গোবিন্দ গোবিন্দ" বললুম, বস্ শুদ্ধ হয়ে গেল। মনেতেই সব, মনেই শুদ্ধ, মনেই অশুদ্ধ। মানুষ নিজের মনটি আগে দোষী করে নিয়ে তবে পরের দোষ দেখে। পরের দোষ দেখলে তাদের কি হয়? -নিজেরই ক্ষতি। আমার এইটি ছেলেবেলা থেকেই স্বভাব যে আমি কারও দোষ দেখতে পারতুম না। আমার জন্য যে এতটুকু করে আমি তাকে তাই দিয়ে মনে রাখতে চেষ্টা করি। তা আবার মানুষের দোষ দেখা? মানুষের কি দোষ দেখতে আছে! ওটি শিখিনি। ক্ষমারূপ তপস্যা।'
সান্নিধ্যে ১০৯-১০; মাঃ কঃ, ২/২৭৬
কারও দোষ না দেখার কথা প্রসঙ্গে:
'আজ সকালে খ-রা আমাকে প্রণাম করতে এসে আ-র সম্বন্ধে কটাক্ষ ক'রে নানা কথা বলছে। সে নাকি হৃষীকেশের সাধুদের সঙ্গে ঝগড়া করে। আবার বলছে "সে আপনাদের এত সঙ্গ ও সেবা ক'রে শেষে এসব কুমতি হচ্ছে কেন?" এ সমস্ত নানা কথা। আমি আর কারুর দোষ দেখতে-শুনতে পারিনি, বাবা। প্রারব্ধ কর্ম যার যা আছে যেখানে ফালটি যেতো, সেখানে সূঁচটি তো যাবে? আমার কাছে তার দোষের কথা বললে। আচ্ছা, তখন এরা সব কোথায় ছিল? সে আমার কত সেবা করেছে। আমি তো তখন ভাইদের ঘরে ধান সেদ্ধ করি, ধান ভানি। সংসারের সব কাজ করি। বৌরা সব তো ছোট। সে শীত বর্ষা গ্রাহ্য না ক'রে সকাল থেকে গায়ে কালি মেখে আমার সঙ্গে বড় বড় ধানের হাঁড়ি নামাতো। এখন তো অনেকে ভক্ত হয়ে আসে। তখন আমার কে ছিল? আমরা কি সেগুলো সব ভুলে যাব? তা বাবা, লোকেরই বা দোষ কি? আমারও আগে লোকের কতো দোষ চোখে ঠেকত। তারপর ঠাকুরের কাছে কেঁদে কেঁদে, "ঠাকুর, আর দোষ দেখতে পারিনে" ব'লে কত প্রার্থনা ক'রে তবে দোষ দেখাটা গেছে। বৃন্দাবনে যখন থাকতুম, বাঁকেবিহারীকে দর্শন ক'রে বলতুম, "তোমার রূপটি দেখতে বাঁকা, মনটি সোজা। আমার মনের বাঁকটি সোজা ক'রে দাও।" আর দেখো, মানুষের হাজার উপকার ক'রে একটু দোষ করো, অমনি মুখটি তখনই ফিরিয়ে নেবে, সব উপকার ভুলে যাবে। লোকে কেবল দোষটি দেখে, গুণটি ক'জন দেখে? গুণটি দেখা চাই।'
মাঃ কঃ, ২/১৬১
জয় মা জয় জয় মা ❤️❤️🙏🙏🌹🌹
#maasarada #ramakrishna #swamiviekananda #মা #সারদা #রামকৃষ্ণ #spirituality #motivation #viralpost #followers #ramakrishna #thakur #sarada #saradadevi #foryoupageシforyou #followerseveryonev #SharePost #viral #story #love #trending #divotional #trends #bestpic #ishwarerkothaogaan
10 hours ago | [YT] | 64
View 6 replies
Ishwarer kotha o gaan
.... কোন্ জিনিসটা ভগবানের কাছে প্রার্থনা করতে হয়?'
মা নলিনী দিদিদের জিজ্ঞাসা করলেন?
নলিনীদিদি বলেন, জ্ঞান, ভক্তি, সাংসারিক সুখ ইত্যাদি। মা বললেন:
'এক কথায় বলতে গেলে, নির্বাসনা প্রার্থনা করতে হয়। কেন না বাসনাই সকল দুঃখের মূল, বার বার জন্ম-মৃত্যুর কারণ, আর মুক্তিপথের অন্তরায়।'
জয় মা জয় জয় মা ❤️❤️❤️🙏🙏🌹🌹🌹
#maasarada #ramakrishna #swamiviekananda #মা #সারদা #রামকৃষ্ণ #spirituality #motivation #viralpost #followers #ramakrishna #thakur #sarada #saradadevi #foryoupageシforyou #followerseveryonev #SharePost #viral #story #love #trending #divotional #trends #bestpic #ishwarerkothaogaan
10 hours ago | [YT] | 113
View 2 replies
Ishwarer kotha o gaan
পঞ্চপিশাচের কাহিনি। জীবিত কালে কি করলে পিশাচত্ব লাভ হয়?আর কি করলে এই পিশাচত্ব থেকে মুক্তি পাওয়া যায়? অগ্নি পুরাণের কাহিনী।
শ্রীহরি বললেন- এবার পাঁচ পিশাচের গল্প বলছি শোনো।
সংসারের অশান্তি সহ্য করতে না পেরে এক ব্রাহ্মণ বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পড়ল। হাঁটতে হাঁটতে চলে এল এক গভীর অরণ্যে। ঘুরতে ঘুরতে গভীর অরণ্যের মধ্যে প্রবেশ করল। দেখতে পেল অত্যাশ্চর্য ভয়ঙ্কর দৃশ্য- গাছের ডাল থেকে ঝুলছে একটা মরা দেহ। আর পাঁচটা প্রেত সেই দেহ থেকে মাংস খুবলে খুবলে খাচ্ছে আর উল্লাস করছে।
ব্যাপার স্যাপার দেখে ব্রাহ্মণের পিলে চমকে গেল। সর্বাঙ্গ কাঁপছে। পিশাচ তো নয়। যেন পাঁচ পাঁচটা জ্যান্ত কঙ্কাল। কোটরাগত চোখ। পেট-পিঠ আলাদা করে বোঝা যাচ্ছে না। হাড়গুলো গোণা যায়, নাকহীন।
ব্রাহ্মণকে দেখে তারা মরাটাকে ফেলে এগিয়ে এল জ্যান্ত টাটকা মাংস খাবে বলে। সরু সরু কাঠির মতো পা ফেলে ছুটে এল, লম্বা হাত বাড়িয়ে দিল। এবার শুরু হল ব্রাহ্মণকে নিয়ে টানা-হ্যাঁচড়া। প্রত্যেকেরই একই কথা- আমি আগে ধরেছি, তাই আমি আগে খাব।
ব্রাহ্মণ দেখল এই প্রেত-পিশাচের হাত থেকে একমাত্র শ্রীগোবিন্দই তাঁকে রক্ষা করতে পারে নতুবা প্রাণটা দিতে হবে। ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে ভগবানের স্মরণ করল- হে কৃষ্ণ, হে মধুসূদন, বিপদত্তারণ, এই সংকট থেকে আমাকে রক্ষা করো। তুমি আমার একমাত্র ভরসা, তুমিই অগতির গতি।
ব্রাহ্মণের সেই আকুল প্রার্থনা আমার সিংহাসন নড়িয়ে দিল। ব্রাহ্মণকে ওই পিশাচদের হাত থেকে
রক্ষা করার উদ্দেশ্যে সেখানে এলাম।
এখন পিশাচেরা ব্রাহ্মণকে নিয়ে আকাশপথে ওড়ার তোড়জোড় করছে, নিরিবিলি জায়গায় গিয়ে খাবে বলে হয়তো। তখনই গাছের ডাল থেকে কীভাবে যেন মৃতদেহটা পড়ে গেল। পিশাচেরা তা লক্ষ্য করে ফিরে এল নীচে। একটাকে সামলাতে গিয়ে আর একটা হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। তারা তাড়াতাড়ি ব্রাহ্মণকে নিয়ে ঐ মৃতদেহের সামনে এল।
জীবন্ত আর মৃত দুটি দেহ নিয়ে তখন পিশাচেরা উড়ে চলেছে শূন্যপথে। আমি ওদের অনুসরণ করলাম, অবশ্য গোপনে। ঠিক সেই সময় ওই পথ দিয়ে যক্ষ মণিভদ্র যাচ্ছিল। তাকে বললাম- ওই পিশাচদের হাত থেকে ওই মৃতদেহটা ছিনিয়ে নাও, দেখো ব্রাহ্মণের যেন কোনো ক্ষতি না হয়।
আমার আদেশ পেয়ে যক্ষ বিশাল আকারের এক পিশাচের রূপ ধরল। সে তার লম্বা লম্বা হাতের দ্বারা সেই শব কেড়ে নিল পাঁচ পিশাচের কাছ থেকে।
পর্বতের মাথায় ব্রাহ্মণকে রেখে পিশাচেরা মণিভদ্রকে তাড়া করল। তাদের মুখের গ্রাস কেড়ে নিলে
তারা মানবে কেন? কিন্তু মণিভদ্রের শক্তির কাছে তারা হেরে গেল। মণিভদ্র বাগিয়ে দিল এক ঘুষি। মাথা ঘুরে পড়ে গেল সবকটা পিশাচ। মণিভদ্রও পালিয়ে গেল। তাকে খুঁজে না পেয়ে ফিরে এল পর্বতের ওপর, এবার আয়েস করে ব্রাহ্মণকে খাবে। কিন্তু অবাক কাণ্ড! ব্রাহ্মণকে স্পর্শ করতেই তারা বিদ্যুৎ পিষ্টের মতো ছিটকে গেল। তারা তাড়াতাড়ি হাত জোড় করে দাঁড়াল।
পিশাচদের এমন অনুগত ভাব দেখে ব্রাহ্মণ আশ্চর্য হল।
পঞ্চ পিশাচ বলল হে ব্রাহ্মণ, আমাদের মাফ করুন। না জেনে আর একটা পাপ কাজ করে
ফেলছিলাম।
বিস্মিত কণ্ঠে ব্রাহ্মণ জানতে চাইলেন- তোমাদের কথার মাথামুণ্ডু কিছুই বুঝতে পারছি না।
-আপনার স্পর্শে আমরা গত জন্মের সব কথা মনে করতে পারছি।
ব্রাহ্মণ বললেন- তোমাদের পরিচয় কী?
-আমি হলাম প্যুষিত, পিশাচদের মধ্যে একজন বলল, আর এদের নাম সূচীমুখ, শীঘ্রক, রোধক
আর লেখক।
তোমরা পিশাচ হলে কীভাবে?
প্যুষিত জবাব দিল পিতৃশ্রাদ্ধাদি শেষ করে ব্রাহ্মণ ভোজন করালাম। কিন্তু এক ব্রাহ্মাণ তখনও এসে পৌঁছাননি। আমার ভীষণ খিদে পেয়েছিল। ওই ব্রাহ্মণের জন্য অপেক্ষা না করে আমি খেয়ে নিলাম। তারপরেই ওই ব্রাহ্মণ এসে হাজির হলেন। কিন্তু কী খেতে দেব? খাবার তো নেই। তাই পাত্রগুলোর গায়ে লেগে থাকা খাবার আর নিজের এঁটো খাবার থেকে কিছুটা নিয়ে ওই ব্রাহ্মাণকে ভোজন করালাম। এ হল চরম পাপ। যার ফলে পিশাচ হলাম। সেই থেকে আমি হলাম পিশাচ পর্যুষিত।
সূচীমুখ তার কাহিনি শোনাল- ক্ষত্রিয় বংশে আমার জন্ম হলেও সেই ধর্ম মানতাম না। ভীষণ উগ্র স্বভাব। পরের ওপর অত্যাচার করে সুখ পেতাম। একবার এক ব্রাহ্মণীকে ধরে খুব আঘাত করলাম। তাঁর যা কিছু ছিল সব কেড়ে নিলাম। সঙ্গে ছিল তাঁর পাঁচ বছরের ছোটো ছেলে। ছেলেটা জল খেতে চাইল। কিন্তু আমি তাকে জল খেতে দিলাম না। বরং তাকে বেত দিয়ে কয়েক ঘা বসিয়ে দিলাম। একরত্তি ছেলে, পারে কী সহ্য করতে অত মার। ছটফট করতে করতে মারা গেল। এ দৃশ্য দেখে ব্রাহ্মণী আর বেঁচে রইল না। একটা কুয়োতে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ বিসর্জন দিল।
দিনের পর দিন আমার অত্যাচারের মাত্রা বাড়তে লাগল। এর জন্য কোনো তাপ-অনুতাপ হত না আমার। মানুষের মুখের গ্রাস কেড়ে নিতাম। তাদের মুখকে সূচী করেছিলাম। তাই পিশাচত্ব লাভ করে হলাম সূচীমুখ। বিশাল পিশাচদেহ পেলাম আমি, কিন্তু মুখ পেলাম ক্ষুদ্র সূচের ছ্যাঁদার মতো। আপনার স্পর্শে আমি পিশাচমুক্ত হলাম।
শীঘ্রক বলল আমি এক নরাধম, এমনটি সারা দুনিয়া ঘুরেও দ্বিতীয়টি পাবেন না। বণিক বংশে জন্ম নিয়েছিলাম, সর্বদা অকাজ-কুকাজে মেতে থাকতাম। একবার আমি আর আমার দাদা বিদেশে সওদা করতে গিয়ে প্রচুর মুনাফা করে ফিরে এলাম। নদীপথে ফিরছি। মনে এক ববুদ্ধি এল, এর কারণ কিন্তু আমি জানি না। ভাবলাম, দাদাকে যদি
এখানেই সরিয়ে দিতে পারি, তাহলে মুনাফার অর্ধেক ভাগ দিতে হবে না। যেমন ভাবা, তেমন কাজ।
নৌকো তীরের কাছে নিয়ে এলাম। দাদাকে নিয়ে তীরে নামলাম। তারপর দাদাকে কিছু বুঝতে না দিয়ে নিমেষে দ্রুত লাফিয়ে উঠলাম নৌকোতে, নির্দেশ পেয়ে মাঝি নৌকা ছেড়ে দিল।
বাড়ি ফিরে এলাম। কাঁদতে কাঁদতে বৌদিকে বললাম- দস্যুর আক্রমণ রুখতে গিয়ে দাদা মারা গেছে।
স্বামীর শোকে বৌদি কান্নাকাটি করতে লাগল। তারপর চিতা সাজিয়ে আগুনে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ দিল। ধনসম্পদ সব আমার হল। মন ভরে সব ভোগ করলাম। কিন্তু এমন মহাপাপ করলাম, যার ফলে আমি পিশাচত্ব লাভ করলাম।
এরপর চতুর্থ পিশাচের পরিচয় প্রদানের পালা। সে বলল আমি রোধক। চাষির ঘরে জন্ম। মা-বাবা-ভাই-বোন নিয়ে ভরা সংসার। আমার ভাই কোনো কাজ কর্ম করতে চাইত না, ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসত। খাওয়ার সময় হলেই তবে তাকে খুঁজে পাওয়া যেত। তাই তার বিষয়-আশয় আলাদা করে দিলাম। পৃথক হল সে। কয়েকদিনের মধ্যে জমি জায়গা বিক্রি করে দিল। দুবেলা খাওয়া পর্যন্ত জুটল না। মা-বাবাকে নিয়ে আমি তখন বেশ সুখেই দিন কাটাচ্ছি।
ছেলে না খেতে পেয়ে শুকিয়ে মরছে, কোন বাবা-মা তা সহ্য করতে পারে বলুন? আমার সংসার থেকে লুকিয়ে চুরিয়ে নিয়ে মা তার ছোটো ছেলেকে খাবার জোগাত। আমি একদিন টের পেয়ে মাকে যাচ্ছে তাই করে অপমান করলাম। ওদের ঘরে আটকে রেখে দিয়ে তালা লাগিয়ে দিলাম। সেই দুঃখে মা-বাবা বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করলেন।
আর আমার ভাই? সেও অনাহারে একদিন মা-বাবার পথ অনুসরণ করল। আমি হলাম পাপী। পাপের ফলে হলাম পিশাচ।
অবন্তী নগরে আমার জন্ম; পঞ্চম পিশাচ বলতে শুরু করল। রাজপুরোহিত ছিলাম। ছিলাম খুব লোভী, রাজমন্দিরে ঠাকুরের গায়ে সোনার অলঙ্কার আমি চুরি করলাম। রাজা চুরির খবর পেয়ে ঘোষণা করলেন যে চোরকে ধরতেই হবে। তাকে শূলে চড়াব।
আমার কানেও এই রাজপ্রতিজ্ঞার কথা পৌঁছে গেল। ঠিক করলাম, রাজাকে খুন করব। একদিন প্রভাতে রাজবাড়িতে প্রবেশ করলাম। সকলের পরিচিত বলে কেউ বাধা দিল না আমায়। রাজার ঘরে গিয়ে পালঙ্কের নীচে ঘাপটি মেরে বসে রইলাম। রাত হল। ক্রমশ তা ঘন হল। ধারালো অস্ত্র সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলাম। রাজার গলা কেটে ফেললাম। বেরিয়ে এলাম সেখান থেকে। মন্দিরে এসে বিগ্রহের বাকি সব গয়না গাঁটি, প্রতিমার গা থেকে আঁচড়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে বের করে নিলাম। তারপর চোরের মতো সেখান থেকে চলে এলাম। বনের পথ ধরলাম। পড়লাম এক হিংস্র বাঘের মুখে। সে আমাকে ভক্ষণ করল। জীবনে যত পাপ করেছি, তার যন্ত্রণা ভোগ করলাম পিশাচ হয়ে। বিগ্রহের গায়ে আচঁড় কাটায় আমি হলাম লেখক পিশাচ।
পাঁচ পিশাচের কাহিনি শেষ হল।
ব্রাহ্মণ জানতে চাইল তারা এখন কোথায় থাকে? কী খায়?
পিশাচেরা জবাবে বলল লজ্জা, ধর্ম, ক্ষমা, ভীতি, জ্ঞান যেখানে বিরাজ করে সেখান থেকে আমরা যোজন যোজন দূরে থাকি। এসব যেখানে নেই সেখানেই আমরা বাস করি। যা খাই তা তো নিজের চোখেই আপনি দেখলেন। অনাচারীদের রক্ত-মাংস আমরা আহার করি। আপনি একজন সিদ্ধ যোগী। তাই আপনার স্পর্শে আমরা আজ ধন্য হলাম। পূর্বস্মৃতি ফিরে পেলাম।
শ্রীহরির মুখ থেকে গরুড় এই কাহিনি শ্রবণ করছিল।
শ্রীকৃষ্ণ বললেন ওদের কথাবার্তা আমি অলক্ষ্যে দাঁড়িয়ে শুনছিলাম। আমি তারপর ওদের
সামনে নিজমূর্তি ধারণ করে দাঁড়ালাম। ওরা আমাকে দেখে হাউ-হা'উ করে কাঁদতে লাগল। পা জড়িয়ে ধরল। আমি তাদের নিরস্ত করলাম। ছ-টা দিব্য বিমানে করে ওই পাঁচ পিশাচ আর বিম্বকসেন নামে ওই ব্রাহ্মণকে নিয়ে গেলাম বৈকুণ্ঠধামে।
গরুড় শ্রীহরির চরণে প্রণাম নিবেদন করে বলল হে ভগবান, আপনি দয়াময়, আপনার অসাধ্য
কিছুই নেই।
বভ্রুবাহন ও প্রেতবাহন
শ্রীকৃষ্ণ তাঁর প্রিয় বাহন গরুড়ের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন একটি একটি করে।
তিনি বললেন- শ্রাদ্ধ কালে পুত্র যে অন্নজল দান করে তা খেয়ে প্রেতলোকে পিতা তৃপ্তি লাভকরে। নরক থেকেও মুক্তি পায়।
গরুড় জানতে চাইল- যারা পুত্রহীন, তাদের কী গতি হয়? তাছাড়া ছেলের দেওয়া অন্নজল পিতা যে গ্রহণ করল, তা কী করে বোঝা যায়? হে প্রভু, আপনি আমার এ প্রশ্নের উত্তর দিয়ে আমাকে শান্ত করুন।
শ্রীভগবান বললেন- এ অতি উত্তম প্রশ্ন। সন্তানহীনদের ধনসম্পদের যে অধিকারী হয়, সে-ই অন্নজল দান করতে পারে। যে করবে শ্রাদ্ধ আর যার ধনসম্পত্তি কিছু নেই, নিঃস্ব, এক্ষেত্রে সে দেশের রাজাই তার পারলৌকিক ক্রিয়া করবে, কারণ রাজা হলেন সকলের পালন কর্তা।
এরপর শ্রীকৃষ্ণ একটি সুন্দর উপাখ্যান বললেন।
পুরাকালে বজ্রবাহন নামে এক প্রজাবৎসল রাজা ছিলেন। সেই রাজ্যে সর্বদা শান্তি বিরাজ করত।
একদিন রাজা তাঁর লোকূলস্কর নিয়ে মৃগয়া করতে বেরোলেন। বনে ঢুকেই একটা হরিণকে দেখে তীর নিক্ষেপ করলেন। হরিণের পায়ে লাগল। আহত হয়েও সে প্রাণের তাগিদে ছুটতে শুরু করল। রাজা তার পিছু ধরলেন। ঘোড়া ছুটিয়ে দিলেন। কিন্তু খানিক যাওয়ার পর হরিণটাকে আর দেখতে পেলেন না।
এ সময়ে রাজার খুব জলতেষ্টা পেল। সামনেই এক সুন্দর সরোবর, তিনি ঘোড়া থেকে নেমে শীতল জল গন্ডুষ করে পান করলেন। শরীর ও মন জুড়াল। গাছের তলায় বসলেন জিরিয়ে নেবার আশায়। ফুরফুরে বাতাসে রাজার চোখে ঘুম এল। তিনি ঘাসের ওপর শুয়ে পড়লেন।
আধো ঘুম আধো তন্দ্রার মধ্যে রাজা একটা বিশ্রী কটু গন্ধ পেলেন। নাক কুঁচকে চোখ মেলে দিলেন। কী আশ্চর্য দৃশ্য! ভূতরাজা তার বিশাল ভূতবাহিনী নিয়ে রাজার দিকেই এগিয়ে আসছে।
রাজা তড়াক করে উঠে বসলেন। ধনুকে তীর সংযোজন করলেন। ভূতের দলকে লক্ষ্য করে তাক করলেন।
ভূত রাজা বলল দাঁড়ান, ধনুক নামান, তীর ছোঁড়ার আগে আমার কথা শুনুন।
রাজা ধনুকসহ হাত নামিয়ে নিলেন।
ভূতরাজ বললেন- হে রাজা, আমি হলাম প্রেতবাহন, পিশাচদের রাজা। গতজন্মে আমি ছিলাম এক বণিক, তখন নাম ছিল সুদেব। সে সময়ে দানধ্যান করেছি অনেক। সৎপথে থেকেছি। ধর্ম মেনে চলেছি। তবুও তাকে মৃত্যুর পরে ভূত হতে হল।
রাজা অবাক হলে।
জানতে চাইলেন- এর কারণ কী?
প্রেতরাজ বলল- আমি ছিলাম নিঃসন্তান। এমনকি কোনো আত্মীয়স্বজন না থাকায় অন্নজল পেলাম না। তাই হলাম পিশাচ।
-আর ওরা? রাজা ভূত-বাহিনীর দিকে চোখ তুলে জানতে চাইলেন।
ভূতরাজা বলল- ওদের অবস্থাও আমারই মতো। আমাদের বীভৎস চেহারা দেখে সকলে ভয় পায়। কেউ সামনে আসতে চায় না। মনের দুঃখের কথা কাউকে বলতে পারছি না। আপনি দেশের পালনকর্তা। আপনাকে সব বললাম। আপনি আমাদের জন্য পিণ্ডদান করুন। বৃষ দান করে শ্রাদ্ধাদি সম্পন্ন করুন।
ঠিক এই সময়ে রাজার লোকজন রাজাকে খুঁজতে খুঁজতে সেখানে এসে হাজির হল। ভূত বাহিনীকে আর দেখা গেল না।
রাজা নিজ রাজ্যে ফিরে এসে নিয়মমতো বৃষোৎসর্গ শ্রাদ্ধ করলেন ওইসব ভূত পিশাচের উদ্দেশ্যে। শ্রীহরি এবার বললেন- রাজা হলেন প্রজার পাপতানেষু কারণ। তিনি প্রজাকে পাপ থেকে উদ্ধার করতে পারেন।
#পুরান #puran #পুরানেরগল্প #শ্রীহরি #agnipuran
1 day ago | [YT] | 237
View 7 replies
Ishwarer kotha o gaan
'বেদান্তবাদী সাধু যারা, তারা সব কি নির্বাণে যাবে?' স্বামী অরূপানন্দ
এই প্রশ্ন করলে, মা-র উত্তর:
'তা বইকি। মায়া কাটিয়ে কাটিয়ে নির্বাণ হবে-ভগবানে মিশে যাবে। বাসনা হতেই তো দেহ। একটু বাসনা না থাকলে দেহ থাকে না। একেবারে নির্বাসনা হলো, তো সব ফুরাল।'
মাঃ কঃ, ২/২০৩
মায়া, নির্বাণ ইত্যাদির আলোচনা প্রসঙ্গে শ্রীমা স্বামী অরূপানন্দকে বললেন:
'যোগীন যখন দেহ রাখলে, নির্বাণ চাইলে। গিরিশবাবু বললেন,
"দ্যাখ যোগীন, নির্বাণ নিসনি নিসনি। ঠাকুর বিশ্বব্রহ্মাণ্ড জুড়ে, চন্দ্র সূর্য তাঁর চক্ষু-এত বড় ভাবিসনি। যেমন ঠাকুরটি ছিলেন, তেমনটি ভেবে ভেবে তাঁর কাছে চলে যা।"
'দেবতা বল, যা বল-সব এসে পৃথিবীতে জন্মাচ্ছে। সূক্ষ্মদেহে তো আর খাওয়া-পরা কথাবার্তা কিছু নেই, তাই বেশি দিন থাকতে পারে না।'
মাঃ কঃ, ২/২০৩
স্বামী অরূপানন্দ শ্রীঠাকুর-কথিত, 'ঈশ্বরকোটা নির্বাণের (নির্বিকল্প সমাধির) পরও ফেরে, আর কেউ পারে না', এই কথার অর্থ জানতে চাইলে, মা বলছেন:
ঈশ্বরকোটী নির্বাণের পরও মনটি গুছিয়ে আনতে পারে।'
'যে মন লীন হয়ে গেল, সে মন কি করে ফিরে আসে? একঘটি জল পুকুরে ফেলে দিলে কি করে সেই জলটুকুই বেছে আনবে?' এই বলে স্বামী অরূপানন্দ সংশয় প্রকাশ করলে মা বললেন:
'সব্বাই পারে না। যাঁরা পরমহংস তাঁরা পারেন। হাঁস, জল দুধ একত্র করে দাও, দুধটুকু বেছে খাবে।'
মাঃ কঃ, ২/২০৩
জয় মা জয় জয় জয় ঠাকুর ❤️❤️❤️🙏🙏🌹🌹🌹
#maasarada #ramakrishna #swamiviekananda #মা #সারদা #রামকৃষ্ণ #spirituality #motivation #viralpost #followers #ramakrishna #thakur #sarada #saradadevi #foryoupageシforyou #followerseveryonev #SharePost #viral #story #love #trending #divotional #trends #bestpic #ishwarerkothaogaan
1 day ago | [YT] | 740
View 20 replies
Ishwarer kotha o gaan
সবাই কি নির্বাসনা হতে পারে?' স্বামী অরূপানন্দ প্রশ্ন করলেন। মা-র উত্তর:
'তা পারলে তো সৃষ্টি ফুরিয়ে যেত। পারে না বলেই তো সৃষ্টি চলছে-পুনঃপুনঃ জন্মাচ্ছে।'
অরূপানন্দ আবার জিজ্ঞেস করলেন, 'যদি গঙ্গায় দেহত্যাগ হয়?' মা উত্তরে বললেন:
'বাসনা ফুরুলেই হয়, নইলে কিছুতেই কিছু নয়। বাসনা না ফুরুলে শেষ জন্ম হলেই বা কি হবে?'
মাঃ কঃ, ২/২১৭
মায়ের ভাইদের অর্থের আকাঙ্ক্ষা এবং তাদের ঝগড়া-বিরোধের প্রসঙ্গে রাসবিহারী মহারাজ মাকে তাঁর ভাইদের আরও সম্পদ দিতে বললেন, যাতে যথেষ্ট ভোগ করে তাদের নিবৃত্তি হয়। মা বললেন:
'ওদের কি আর নিবৃত্তি আছে? ওদের কিছুতেই নিবৃত্তি হবে না। শত দিলেও না। সংসারী লোকদের কি আর নিবৃত্তি হয়?'
মাঃ কঃ, ২/২১২
রাসবিহারী মহারাজ 'শেষ জন্ম' কথার মানে জিজ্ঞাসা করায় মা বলছেন: 'শেষ জন্ম মানে তার আর যাতায়াত হবে না, এই জন্মেই শেষ হয়ে গেল।'
মাঃ কঃ, ২/২১২
শেষ জন্ম মানে নির্বাণ কি না রাসবিহারী মহারাজ জিজ্ঞাসা করায় মা বলছেন: 'তা বইকি। হয়তো দেহ যাবার সময় মন নির্বাসনা হবে।'
জয় মা জয় জয় মা ❤️❤️❤️🙏🙏🌹🌹🌹
#maasarada #ramakrishna #swamiviekananda #মা #সারদা #রামকৃষ্ণ #spirituality #motivation #viralpost #followers #ramakrishna #thakur #sarada #saradadevi #foryoupageシforyou #followerseveryonev #SharePost #viral #story #love #trending #divotional #trends #bestpic #ishwarerkothaogaan
#maasarada #ramakrishna #swamiviekananda #মা #সারদা #রামকৃষ্ণ #spirituality #motivation #viralpost #followers #ramakrishna #thakur #sarada #saradadevi #foryoupageシforyou #followerseveryonev #SharePost #viral #story #love #trending #divotional #trends #bestpic #ishwarerkothaogaan
1 day ago | [YT] | 815
View 32 replies
Load more