পরিচয়ে কী যায় আসে ! আমি সবসময় তোমাদের Genuine Guidance দেব। তোমরা আমাকে ঘৃণা করতে পারো , অসহ্য লাগতে পারে কিন্তু বিপদে পাশে সবসময় থাকব । আসুন সবাই কে ভালোবাসতে শিখি । -Assistant Commissioner of Revenue (WBCS GROUP-A)


Focus WBCS

Wbcs Previous Years এর জন্য Best book
আমার লেখা স্ট্রাটেজি আছে । Amazon এবং Flipkart এ পেয়ে যাবে

1 day ago | [YT] | 35

Focus WBCS

জীবন যখন পরীক্ষা নেয়, তখন সে সিলেবাস দেখে প্রশ্ন করে না। আকাশের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছিল। একদিকে ব্যক্তিগত জীবনের ঝড়, প্রেমিকার বিচ্ছেদ, আর অন্যদিকে সামনে পাহাড়প্রমাণ স্বপ্ন—WBCS Mains। মনের ভেতর তখন ভাঙন, প্রিয় মানুষটার অভাব প্রতি মুহূর্তে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। কিন্তু আকাশ জানত, ভেঙে পড়ার বিলাসিতা তার সাজে না। সে যে স্কুল শিক্ষক, তার কাঁধে অনেক দায়িত্ব।
​নন্দীগ্রামে তখন তার পোস্টিং। পরীক্ষার আর মাত্র ২৫ দিন বাকি। ঠিক তখনই এল প্রথম দুঃসংবাদটা। যে দিদা ছিল তার ছেলেবেলার আশ্রয়, যাকে সে সবথেকে বেশি ভালোবাসত, সেই দিদা আর নেই। বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল। শেষ দেখাটুকু দেখতে যাওয়ার সময়ও তার মনে ভাসছিল পরীক্ষার দিনক্ষণ। দিদাকে হারিয়ে চোখের জল মুছতে মুছতে সে আবার টেবিলে বসল। কারণ সে জানত, দিদাও চাইতেন তার নাতি জীবনে বড় কিছু করুক। শোককে সে শক্তিতে বদলানোর চেষ্টা শুরু করল।
​কিন্তু বিধাতা বোধহয় তখনও সন্তুষ্ট হননি। পরীক্ষার ঠিক ১৩ দিন আগে, এল আরও এক ভয়াবহ খবর। বাবার হার্ট অ্যাটাক। পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গেল আকাশের। নদিয়ার বাড়ি থেকে নন্দীগ্রাম—দূরত্বটা যেন সেদিন আরও বেশি মনে হচ্ছিল। পাগলের মতো ছুটে এসে বাবাকে গান্ধী হাসপাতালে ভর্তি করাল সে।
​হাসপাতালের সেই করিডোর, ওষুধের গন্ধ, আর মৃত্যুর সাথে বাবার পাঞ্জা লড়া—এর মাঝেই আকাশ তার যুদ্ধ চালিয়ে গেল। এক হাতে বাবার স্যালাইনের বোতল দেখার দায়িত্ব, অন্য হাতে মোবাইল ফোন। যেখানে পিডিএফ আর মক টেস্টের এমসিকিউ (MCQ) চলছে অবিরাম। চোখের জল আর ঘাম একাকার হয়ে গিয়েছিল সেদিন। আশেপাশে কত মানুষ, কত কোলাহল, কিন্তু আকাশের চোখে তখন শুধুই অর্জুন পাখির চোখ—তাকে জিততেই হবে।
​বাবার শয্যাপাশে টানা ৪ দিন নির্ঘুম কাটার পর, বাবা একটু সুস্থ হয়ে যখন তাকালেন, ছেলের মুখের দিকে চেয়ে হয়তো সবটা বুঝেছিলেন। দুর্বল গলায় শুধু বললেন, "তুই যা... তোর এক্সাম। ওটা তোকে পেতেই হবে।"
​বাবার ওই একটা কথা আকাশের শিরায় শিরায় আগুন জ্বালিয়ে দিল। সে পরীক্ষা দিতে গেল। মনের অবস্থা বিধ্বস্ত, শরীর ক্লান্ত, কিন্তু জেদটা ছিল ইস্পাতকঠিন।
​ফলাফল? সে আজ Assistant Commissioner of Revenue।
​কিন্তু গল্পের শেষটা এখানেই নয়। সমাজ বড়ই অদ্ভুত। যে আকাশ একদিন হাসপাতালের করিডোরে দাঁড়িয়ে চোখের জল মুছতে মুছতে এমসিকিউ সলভ করেছে, যে আকাশ ব্যক্তিগত শোক আর বিচ্ছেদকে পায়ে মাড়িয়ে এতদূর এসেছে, তাকে নিয়ে আজও মানুষ কথা বলে। তার ক্লান্তি, তার দীর্ঘশ্বাস কেউ দেখে না। তারা শুধু সাফল্য দেখে, পেছনের রক্তাক্ত পথটা দেখে না।
​আকাশ আজ ক্লান্ত হতে পারে, কিন্তু সে পরাজিত নয়। তার এই ক্লান্তিই প্রমাণ করে যে সে নিজের সর্বস্ব দিয়ে লড়াইটা লড়েছে। যারা আজ তাকে নিয়ে কথা বলে, তারা জানে না—আকাশ সেই ফিনিক্স পাখি, যে ছাই থেকে উঠে এসে আকাশ ছোঁয়ার ক্ষমতা রাখে।

সত্য ঘটনা অবলম্বনে

নমস্কার

Assistant Commissioner of Revenue

5 days ago | [YT] | 130

Focus WBCS

গ্রামের ভাঙাচোরা এক মাটির বাড়িতে সায়নের বেড়ে ওঠা। নুন আনতে পান্তা ফুরোনো সংসার। বাবা সামান্য চাষী, রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে অন্যের জমিতে ফসল ফলান। সেই কষ্টার্জিত ফসলে কোনোমতে চলে সায়নের সংসার।
ছোটবেলা থেকেই সায়ন ছিল মেধাবী। মাধ্যমিকে যখন ও গ্রামের মধ্যে সবচেয়ে ভালো রেজাল্ট করল, তখন সবার মুখে একটাই কথা— "চাষার ছেলে এবার বড় কিছু করবে।" সায়নের চোখেও তখন অনেক স্বপ্ন। কিন্তু অভাবের সংসারে স্বপ্ন দেখা সহজ, তা সত্যি করা কঠিন। তাই পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে সায়নের বাবার সাথে মাঠে যেতে হতো। হাতে বইয়ের বদলে উঠে আসত লাঙলের মুঠি, পিঠে ভারী বোঝা। রোদে পিঠ যখন পুড়ে যেত, তখন সায়নের মনে হতো— এই কি তার নিয়তি?
সেদিন ছিল শ্রাবণ মাসের এক ঘনকালো রাত। সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে, বলদ দুটোকে নিয়ে সায়ন যখন বাড়ি ফিরছিল, তখন আকাশ ভেঙে নামল অঝোর বৃষ্টি। কর্দমাক্ত মাটির রাস্তা, চারপাশে ঘুটঘুটে অন্ধকার, কেবল মাঝে মাঝে বিদ্যুতের ঝলকানি। সায়নের শরীর তখন ক্লান্তিতে ভেঙে আসছে, পা আর চলছে না। বৃষ্টির তোড়ে বলদ দুটোও এগোতে চাইছিল না।
হঠাৎ সায়নের কাদামাখা রাস্তায় হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল। বৃষ্টির জল আর চোখের জল একাকার হয়ে গড়িয়ে পড়তে লাগল তার গাল বেয়ে। বুকের ভেতর জমে থাকা সব অভিমান যেন চিৎকার হয়ে বেরিয়ে এল, "আমি এ কী করছি? আমি কি সারাজীবন এই বলদ তাড়ানোর জন্যই জন্মেছি? আমি তো খারাপ স্টুডেন্ট নই! আমার মেধা আছে, আমার স্বপ্ন আছে... তবে কেন আমি হার মেনে নিচ্ছি?"
সেদিন ওই বৃষ্টির রাতে কাদার মধ্যে বসে সায়নের নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করল। সে প্রতিজ্ঞা করল— এই অন্ধকার আর কাদা মাখা জীবন তার শেষ গন্তব্য নয়। তাকে আলোয় ফিরতেই হবে।
সেই রাতটাই ছিল সায়নের জীবনের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত। পরদিন থেকে সায়নের বদলে গেল। দিনের বেলা হাড়ভাঙা খাটুনি, আর রাত জেগে পড়াশোনা। তার চোখের নিচে কালি পড়ল, কিন্তু জেদ কমল না। গ্রামের মানুষ হাসাহাসি করত, "চাষার ছেলে আবার অফিসার হবে!" সায়ন কান দিত না। তার কানে তখন কেবল সেই বৃষ্টির রাতের প্রতিধ্বনি— "আমি পারব, আমাকে পারতেই হবে।"
দিন গড়িয়ে মাস, মাস গড়িয়ে বছর গেল। প্রথম সাফল্য এল 'Miscellaneous Service'-এ। সায়ন চাকরি পেল, সংসারের হাল ধরল। কিন্তু তার লক্ষ্য তো আরও উঁচুতে। সে থামল না। চাকরির ফাঁকে ফাঁকে চলল আরও কঠোর প্রস্তুতি।
অবশেষে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ এল। পাবলিক সার্ভিস কমিশনের রেজাল্ট বেরোল। তালিকার উপরের দিকে জ্বলজ্বল করছে সায়নের নাম। 'WBCS Group A Officer'— অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অফ রেভিনিউ (Assistant Commissioner of Revenue)।
যে ছেলেটা একদিন বৃষ্টির রাতে কাদার মধ্যে বসে নিজের ভাগ্যকে ধিক্কার দিচ্ছিল, আজ সে-ই সই করে সরকারি ফাইল। সায়ন প্রমাণ করে দিল, যার জেদ আছে, তাকে কোনো দারিদ্র্য বা প্রতিকূলতা আটকে রাখতে পারে না। মাটির কাছাকাছি থাকা মানুষই একদিন আকাশ ছোঁয়ার ক্ষমতা রাখে।

কলমে

Assistant Commissioner of Revenue

6 days ago | [YT] | 65

Focus WBCS

সত্য ঘটনা অবলম্বনে 🔥 🔥

রাত তখন গভীর। গ্রামের জরাজীর্ণ টিনের চালের ঘরে টিমটিম করে জ্বলছে একটা হ্যারিকেন। সেই হ্যারিকেনের কালচে ধোঁয়ায় চোখ জ্বালা করছে, কিন্তু তার চেয়েও বেশি জ্বালা করছে রাহুলের বুকটা। পাশের ঘরে চলছে তুমুল চিৎকার-চেঁচামেচি। বাবা আর মায়ের ঝগড়া। নিত্যদিনের এই কুরুক্ষেত্র রাহুলের কাছে নতুন নয়, কিন্তু আজকের রাতটা যেন বড্ড বেশি ভারী।
রাহুল অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র। পুরনো সিলেবাসের কঠিন যুগে দাঁড়িয়ে মাধ্যমিকে সে ‘স্টার’ পেয়েছিল। উচ্চ মাধ্যমিকেও সেই ধালাই বজায় রেখেছে। কিন্তু এই রেজাল্টের পেছনের গল্পটা কেউ জানে না। তার কোনো প্রাইভেট টিউটর ছিল না। সম্বল ছিল শুধু পুরোনো ‘ছাত্রবন্ধু’ বই আর নিজের ওপর অটুট বিশ্বাস। কিন্তু মেধা থাকলেও, দারিদ্র্য আর পারিবারিক অশান্তি তাকে মানসিক ভাবে প্রতিনিয়ত ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছিল।
সেদিন হ্যারিকেনের আলোয় বসে রাহুল ভাবছিল, "কেন এমন হয়? কেন বাবা-মা একে অপরকে সহ্য করতে পারে না?" উত্তরটা সে জানত— দারিদ্র্য। অভাবের সংসারে স্বভাব নষ্ট হতে বাধ্য। নুন আনতে পান্তা ফুরোনোর সংসারে ভালোবাসা জানালা দিয়ে পালায়। রাহুল বুঝতে পারল, এই নরক থেকে বেরোনোর একটাই রাস্তা— নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা।
পয়সা ছিল না বলে বড় কোনো কোচিং সেন্টারে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন সে দেখেনি। কিন্তু তার ছিল এক অদম্য জেদ। সে ঠিক করল, "সেলফ স্টাডি (Self-study) করেই আমি আমার ভাগ্য বদলাব।"
শুরু হলো এক নতুন যুদ্ধ। একদিকে সিভিল সার্ভিসের পাহাড় প্রমাণ সিলেবাস, আর অন্যদিকে কানের কাছে বেজে চলা বাবা-মায়ের কলহ। মাঝে মাঝে মনে হতো সব ছেড়ে দিই, পালিয় যাই কোথাও। মানসিক অবসাদ তাকে ঘিরে ধরত কালো মেঘের মতো। কিন্তু যখনই সে হ্যারিকেনের ওই ক্ষুদ্র শিখাটার দিকে তাকাত, সে নতুন করে শক্তি পেত। সে ভাবত, "এই সামান্য তেল আর সলতে যদি অন্ধকার ঘরটাকে আলোকিত রাখার লড়াই করতে পারে, তবে আমি কেন পারব না?"
রাহুল নিজেকে ঘরবন্দী করে ফেলল। বাইরের জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সে ডুব দিল বইয়ের পাতায়। তার বন্ধু হলো লাইব্রেরি আর নিজের তৈরি নোটস। রাত জেগে পড়ার সময় বাবার গালিগালাজ বা মায়ের কান্না কানে এলে সে দাঁতে দাঁত চেপে অঙ্ক কষেছে, ইতিহাসের সাল-তারিখ মুখস্থ করেছে। চোখের জল মুছে সে প্রতিজ্ঞা করেছে, "এই চোখের জল একদিন আমি মুছিয়ে দেব, শুধু সময়ের অপেক্ষা।"
দিন গড়িয়ে মাস, মাস গড়িয়ে বছর। ব্যর্থতা এসেছে, হতাশা এসেছে, কিন্তু রাহুল থামেনি।
অবশেষে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ উপস্থিত হলো। পাবলিক সার্ভিস কমিশনের রেজাল্ট বেরোল। পিডিএফ-এর লিস্টে জ্বলজ্বল করছে নামটা। রাহুল সিলেক্টেড হয়েছে West Bengal Revenue Service (WBCS Group A) অফিসার হিসেবে।
যে ছেলেটা একদিন হ্যারিকেনের আলোয় বসে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অন্ধকারে হাতড়াচ্ছিল, আজ সে রাজ্যের এক সম্মানীয় অফিসার। রেজাল্ট শোনার পর বাবা-মায়ের সেই ঝগড়া থেমে গিয়েছিল। তাঁদের চোখে ছিল অবিশ্বাসের ঘোর আর আনন্দের অশ্রু।
রাহুল প্রমাণ করে দিল, কোচিং সেন্টার বা দামী বই নয়, মানুষের আসল শক্তি হলো তার ইচ্ছাশক্তি। পারিবারিক অশান্তি বা দারিদ্র্য তাকে আটকাতে পারেনি, বরং সেই অপমান আর কষ্টকেই সে তার জেদ হিসেবে ব্যবহার করেছে।

1 week ago | [YT] | 95

Focus WBCS

এম. লক্ষ্মীকান্তের (M. Laxmikanth) 'Indian Polity'

বই অনুসারে মৌলিক কর্তব্য (Fundamental Duties)

✍️ভারতীয় সংবিধানের Part IV-A-তে Article 51A-র অধীনে মৌলিক কর্তব্যগুলি বর্ণিত আছে। মূল সংবিধানে এগুলির উল্লেখ ছিল না।

১. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও উৎস

🖐️সংযোজন: ১৯৭৬ সালে ৪২তম সংবিধান সংশোধনী আইন (42nd Amendment Act, 1976)-এর মাধ্যমে এটি সংবিধানে যুক্ত করা হয়।

🖐️সুপারিশ: এটি স্বরণ সিং কমিটি (Swaran Singh Committee)-র সুপারিশক্রমে গ্রহণ করা হয়েছিল।

উৎস: এই ধারণাটি তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন (USSR)-এর সংবিধান থেকে অনুপ্রাণিত।

🖐️সংখ্যা: ১৯৭৬ সালে ১০টি মৌলিক কর্তব্য যুক্ত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০০২ সালে ৮৬তম সংশোধনীর মাধ্যমে আরও ১টি যুক্ত করা হয়। বর্তমানে মোট মৌলিক কর্তব্যের সংখ্যা ১১টি।

২. ১১টি মৌলিক কর্তব্যের তালিকা (Article 51A)
ভারতের প্রতিটি নাগরিকের কর্তব্য হলো:

সংবিধান মেনে চলা এবং এর আদর্শ, প্রতিষ্ঠানসমূহ,

জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সঙ্গীতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা।

যেসব মহান আদর্শ আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামকে অনুপ্রাণিত করেছিল, সেগুলিকে হৃদয়ে পোষণ করা ও অনুসরণ করা।

ভারতের সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও অখণ্ডতা রক্ষা করা এবং বজায় রাখা।

দেশরক্ষা করা এবং প্রয়োজেনে জাতীয় সেবায় আত্মনিয়োগ করা।

ধর্মীয়, ভাষাগত ও আঞ্চলিক বা শ্রেণিগত বিভেদের ঊর্ধ্বে উঠে সমস্ত ভারতীয়দের মধ্যে ঐক্যের ও ভ্রাতৃত্ববোধের প্রসার ঘটানো এবং নারীদের মর্যাদাহানিকর প্রথা বর্জন করা।

আমাদের মিশ্র সংস্কৃতির (Composite Culture) গৌরবময় ঐতিহ্যকে মূল্য দেওয়া ও সংরক্ষণ করা।
বন, হ্রদ, নদী ও বন্যপ্রাণীসহ প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা ও উন্নত করা এবং প্রাণীকুলের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া।
বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি, মানবতাবাদ এবং জ্ঞানার্জন ও সংস্কারের মানসিকতা গড়ে তোলা।

সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা এবং হিংসা বর্জন করা।
ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত সকল ক্ষেত্রে উৎকর্ষ সাধনের চেষ্টা করা, যাতে দেশ প্রগতি ও উন্নয়নের উচ্চতর শিখরে পৌঁছাতে পারে।

(২০০২ সালে যুক্ত): ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের পিতা-মাতা বা অভিভাবকের কর্তব্য হলো তাদের শিক্ষার সুযোগ করে দেওয়া।

৩. মৌলিক কর্তব্যের বৈশিষ্ট্য (Features)

এম. লক্ষ্মীকান্ত মৌলিক কর্তব্যগুলোর কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন:

🖐️নৈতিক ও নাগরিক কর্তব্য: কিছু কর্তব্য নৈতিক (যেমন- স্বাধীনতা সংগ্রামের আদর্শ পোষণ করা), আবার কিছু নাগরিক বা সিভিক ডিউটি (যেমন- জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মান)।

🖐️শুধুমাত্র নাগরিকদের জন্য: মৌলিক অধিকারের কিছু অংশ বিদেশিদের জন্যও প্রযোজ্য হলেও, মৌলিক কর্তব্য শুধুমাত্র ভারতীয় নাগরিকদের পালন করতে হয়।

🖐️অ-বিচারযোগ্য (Non-justiciable): এগুলি লঙ্ঘিত হলে সরাসরি আদালতে যাওয়া যায় না বা আদালত এগুলি বলবৎ করতে পারে না (যতক্ষণ না সংসদ এ বিষয়ে নির্দিষ্ট আইন তৈরি করে)।

৪. ভার্মা কমিটির পর্যবেক্ষণ (Verma Committee Observations)
১৯৯৯ সালে গঠিত 'ভার্মা কমিটি' উল্লেখ করে যে, যদিও মৌলিক কর্তব্যগুলি সরাসরি আদালতে বলবৎযোগ্য নয়, তবুও বেশ কিছু আইনি বিধান রয়েছে যা পরোক্ষভাবে এই কর্তব্যগুলি কার্যকর করে। যেমন:

Prevention of Insults to National Honour Act (1971): জাতীয় পতাকা ও সংবিধান অবমাননা রোধে।
Wildlife Protection Act (1972): বন্যপ্রাণী রক্ষার্থে।
Unlawful Activities (Prevention) Act (1967): সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টকারী সংগঠনের বিরুদ্ধে।

৫. গুরুত্ব ও সমালোচনা

🖐️সমালোচনা: সমালোচকরা বলেন, এই তালিকায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নেই (যেমন- ভোট দেওয়া, কর প্রদান করা)। এছাড়া কিছু শব্দ খুব অস্পষ্ট (যেমন- 'মহৎ আদর্শ', 'বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি') যা সাধারণ মানুষের বোঝা কঠিন।

🖐️গুরুত্ব: , এগুলি নাগরিকদের মনে করিয়ে দেয় যে, তাদের শুধু অধিকারই নেই, দেশের প্রতি কিছু দায়িত্বও আছে। এগুলি জাতীয়তাবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করে।

নমস্কার

Assistant Commissioner of Revenue

1 week ago | [YT] | 28

Focus WBCS

রুমের দরজাটা ভেতর থেকে বন্ধ। বাইরে তখনো আত্মীয়-স্বজন আর পাড়া-প্রতিবেশীর ফিসফিসানি শোনা যাচ্ছে।
​"ছেলেটা আর্টস নিয়ে পড়েছে, ও নাকি আবার WBCS অফিসার হবে! সায়েন্সের ছেলেরা হিমশিম খায়, আর ও তো..."
"আরে বাদ দাও, ওসব বড় বড় স্বপ্ন। এই বাজারে চাকরি পাওয়া কি মুখের কথা? ৫-৬ বছর লেগে যাবে, তাও হবে কি না সন্দেহ। শেষে দেখবে বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে ফিরছে।"
​কথাগুলো তীরের ফলার মতো বিঁধছিল বুকের ভেতর। দরজা বন্ধ করে সেদিন খুব কেঁদেছিল কৌশিক। বালিশটা চোখের জলে ভিজে একাকার। মনে হচ্ছিল, সত্যিই কি ওরা ঠিক? সত্যিই কি আমার দ্বারা হবে না? আমি কি শুধুই সময় নষ্ট করছি?
​কান্না যখন ফুরিয়ে এল, তখন জন্ম নিল এক অদ্ভুত জেদ। আগুনের মতো দাউদাউ করে জ্বলে উঠল বুকের ভেতরটা। কৌশিক আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে বলল, "ওরা বলেছে আমি পারব না। ওরা আমার বর্তমান দেখেছে, আমার ভেতরের বারুদটা দেখেনি। এই কান্নাই হবে আমার শক্তি।"
​শুরু হলো এক অঘোষিত যুদ্ধ। বাইরের পৃথিবীর জন্য কৌশিক তখন "ঘরকুনো", "অসামাজিক"। বন্ধুরা যখন পুজোর মণ্ডপে সেলফি তুলছে, কৌশিক তখন লক্ষ্মীকান্ত আর স্পেকট্রামের পাতায় মুখ গুঁজে বসে আছে। আত্মীয়রা যখন বিয়েবাড়ির নিমন্ত্রণে ব্যস্ত, কৌশিক তখন মক টেস্টের স্কোর এনালাইসিস করছে।
​মাঝে মাঝে ক্লান্তি আসত। মনে হতো ছেড়ে দিই। তখন কানে বাজত সেই কথাগুলো— "আর্টস-এর ছেলেমেয়েদের জন্য WBCS নয়।" কৌশিক টেবিলের সামনে বড় করে লিখে রাখল— "বিষয়টা ব্যাকগ্রাউন্ডের নয়, বিষয়টা পরিশ্রমের।"
​এক বছর, দু'বছর... সময় কাটতে লাগল। বিদ্রুপের হাসিগুলো আরও চওড়া হলো। "কি রে? অফিসার হলি?"— এই বাঁকা প্রশ্নের উত্তরে কৌশিক শুধু মৃদু হাসত। কোনো তর্ক করত না। কারণ সে জানত, সিংহ গর্জন করে না যখন সে শিকারের জন্য প্রস্তুত হয়, সে তখন নিস্তব্ধ থাকে।
​অবশেষে সেই দিনটা এল। পিএসসি-র ওয়েবসাইটে রেজাল্ট বেরিয়েছে। হাতটা কাঁপছিল মাউসের ওপর। পিডিএফ ফাইলটা ওপেন করে 'Ctrl+F' টিপে নিজের রোল নম্বরটা টাইপ করল সে।
​এক মুহূর্তের স্তব্ধতা। তারপরই স্ক্রিনে জ্বলে উঠল হাইলাইট করা অংশটা।
Group A: Executive.
​সেদিন আর কৌশিক কাঁদেনি। কেঁদেছিল তার বাবা-মা। আর যারা বলেছিল "তোর দ্বারা হবে না", তাদের মুখে তখন কুলুপ। যে ছেলেটাকে ওরা "আর্টস-এর ছাত্র" বলে তাচ্ছিল্য করেছিল, আজ পাড়ার মোড়ে তাকে দেখেই ওরা সম্ভ্রমের চোখে তাকায়।
​কৌশিক বুঝেছিল, পৃথিবী ততক্ষণই তোমাকে দুর্বল ভাববে, যতক্ষণ তুমি তাদের কথায় বিশ্বাস করবে। যেদিন তুমি নিজেকে বিশ্বাস করবে, সেদিন পৃথিবী তোমার পায়ের তলায়।

নমস্কার

Assistant Commissioner of Revenue

2 weeks ago | [YT] | 152

Focus WBCS

🔥 M. Laxmikanth-এর 'Indian Polity'

বই অনুযায়ী ভারতীয় সংবিধানের তৃতীয় অংশ (Part-III)-এ ১২ থেকে ৩৫ নম্বর ধারায় 'মৌলিক অধিকার' (Fundamental Rights) নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এই অংশকে ভারতের 'ম্যাগনা কার্টা' (Magna Carta of India) বলা হয়।

​বোঝার সুবিধার্থে এই ধারাগুলোকে কয়েকটি প্রধান ভাগে ভাগ করে নিচে আলোচনা করা হলো:

✍️​প্রাথমিক ধারণা (General)

👉​ধারা ১২ (Article 12): রাষ্ট্রের সংজ্ঞা (Definition of State)

এখানে 'রাষ্ট্র' বলতে কী বোঝায় তা সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। কারণ মৌলিক অধিকারগুলো মূলত রাষ্ট্রের বিরুদ্ধেই দাবি করা হয়। এর মধ্যে ভারত সরকার, পার্লামেন্ট, রাজ্য সরকার, বিধানসভা এবং সমস্ত স্থানীয় বা অন্যান্য কর্তৃপক্ষ (যেমন- পৌরসভা, পঞ্চায়েত, ONGC, LIC ইত্যাদি) অন্তর্ভুক্ত।

👉​ধারা ১৩ (Article 13): মৌলিক অধিকারের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ আইন

এই ধারাটি বিচার বিভাগকে 'বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনা' (Judicial Review)-এর ক্ষমতা দেয়। এতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্র এমন কোনো আইন তৈরি করতে পারবে না যা মৌলিক অধিকার হরণ করে। যদি করে, তবে সুপ্রিম কোর্ট বা হাইকোর্ট সেই আইনকে বাতিল (Void) ঘোষণা করতে পারে।

​১. সাম্যের অধিকার (Right to Equality): ১৪-১৮

✍️​ধারা ১৪ (Article 14): আইনের দৃষ্টিতে সাম্য (Equality before Law) এবং আইন কর্তৃক সমানভাবে সংরক্ষিত হওয়ার অধিকার (Equal Protection of Laws)। অর্থাৎ, ধনী-দরিদ্র, উচ্চ-নিচ নির্বিশেষে আইন সবার জন্য সমান।

✍️​ধারা ১৫ (Article 15): ধর্ম, জাতি, বর্ণ, লিঙ্গ বা জন্মস্থানের ভিত্তিতে কোনো নাগরিকের প্রতি বৈষম্য করা যাবে না।

✍️​ধারা ১৬ (Article 16): সরকারি চাকুরির ক্ষেত্রে সুযোগের সমতা। (তবে রাষ্ট্র পিছিয়ে পড়া অনগ্রসর শ্রেণীর জন্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে পারে)।

✍️​ধারা ১৭ (Article 17): অস্পৃশ্যতা দূরীকরণ (Abolition of Untouchability)। যেকোনো রূপে অস্পৃশ্যতা পালন দণ্ডনীয় অপরাধ।

✍️​ধারা ১৮ (Article 18): খেতাব বা উপাধি বিলোপ (Abolition of Titles)। সামরিক বা শিক্ষাগত খেতাব ছাড়া রাষ্ট্র অন্য কোনো উপাধি (যেমন- রায়বাহাদুর, জমিদার ইত্যাদি) দিতে পারবে না।

​২. স্বাধীনতার অধিকার (Right to Freedom): ১৯-২২
​ধারা ১৯ (Article 19): ৬টি গণতান্ত্রিক স্বাধীনতার অধিকার:

🖐️​বাক ও মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা।
🖐️​শান্তিপূর্ণভাবে ও অস্ত্র ছাড়া সমবেত হওয়ার স্বাধীনতা।
🖐️​সমিতি বা সংগঠন গড়ার স্বাধীনতা।
🖐️​ভারতের সর্বত্র স্বাধীনভাবে চলাফেরার স্বাধীনতা।
🖐️​ভারতের যেকোনো অংশে বসবাস করার স্বাধীনতা।
🖐️​যেকোনো পেশা বা ব্যবসা করার স্বাধীনতা।

✍️​ধারা ২০ (Article 20): অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত হওয়া সংক্রান্ত সুরক্ষা। (একই অপরাধের জন্য দুবার শাস্তি দেওয়া যাবে না এবং নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যাবে না)।

✍️​ধারা ২১ (Article 21): জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সুরক্ষা (Protection of Life and Personal Liberty)। এটি সংবিধানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধারা। আইনের নির্দিষ্ট পদ্ধতি ছাড়া কারো জীবন বা স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া যাবে না।

✍️​ধারা ২১-ক (Article 21A): শিক্ষার অধিকার। ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের জন্য অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা (২০০২ সালের ৮৬তম সংশোধনীতে যুক্ত)।

✍️​ধারা ২২ (Article 22): গ্রেফতার ও আটক হওয়া থেকে সুরক্ষা। গ্রেফতারের কারণ জানানো এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার অধিকার।

​৩. শোষণের বিরুদ্ধে অধিকার (Right against Exploitation): ২৩-২৪

✍️​ধারা ২৩ (Article 23): মানুষ কেনা-বেচা (Human trafficking) এবং জোরপূর্বক শ্রম বা বেগার খাটানো (Forced labor) নিষিদ্ধ।

✍️​ধারা ২৪ (Article 24): ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের কারখানা, খনি বা অন্য কোনো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োগ করা নিষিদ্ধ।

​৪. ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার (Right to Freedom of Religion): ২৫-২৮

✍️​ধারা ২৫ (Article 25): যেকোনো ধর্ম বিবেকের স্বাধীনতা অনুসারে গ্রহণ, পালন ও প্রচার করার অধিকার।

✍️​ধারা ২৬ (Article 26): ধর্মীয় কার্যাবলি পরিচালনা করার স্বাধীনতা।

✍️​ধারা ২৭ (Article 27): কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের প্রচারের জন্য কর (Tax) দিতে বাধ্য না করার স্বাধীনতা।

✍️​ধারা ২৮ (Article 28): সরকারি অর্থে পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় শিক্ষা নিষিদ্ধ।

​৫. সংস্কৃতি ও শিক্ষা বিষয়ক অধিকার (Cultural and Educational Rights): ২৯-৩০

✍️​ধারা ২৯ (Article 29): সংখ্যালঘুদের স্বার্থরক্ষা (নিজস্ব ভাষা, লিপি ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের অধিকার)।

✍️​ধারা ৩০ (Article 30): ধর্মীয় বা ভাষাগত সংখ্যালঘুদের নিজেদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনা করার অধিকার।

​(দ্রষ্টব্য: ধারা ৩১-এ সম্পত্তির অধিকার ছিল, যা ১৯৭৮ সালের ৪৪তম সংবিধান সংশোধনী দ্বারা মৌলিক অধিকার থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এটি এখন ৩০০-এ ধারায় একটি আইনি অধিকার মাত্র।)

​৬. সাংবিধানিক প্রতিবিধানের অধিকার (Right to
Constitutional Remedies): ৩২

✍️​ধারা ৩২ (Article 32): মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার অধিকার। ডঃ বি. আর. আম্বেদকর এই ধারাটিকে 'সংবিধানের হৃদয় ও আত্মা' (Heart and Soul of the Constitution) বলেছিলেন। এই ধারার অধীনে সুপ্রিম কোর্ট ৫টি 'লেখ' বা Writ জারি করতে পারে (হেবিয়াস কর্পাস, ম্যান্ডামাস, প্রহিবিশন, সার্টিওভারি, কো-ওয়ারেন্টো)।

অন্যান্য বিধান (Other Provisions): ৩৩-৩৫

✍️​ধারা ৩৩ (Article 33): সশস্ত্র বাহিনী, আধা-সামরিক বাহিনী, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ইত্যাদির সদস্যদের ক্ষেত্রে পার্লামেন্ট আইন করে মৌলিক অধিকার সীমিত বা বাতিল করতে পারে।

✍️​ধারা ৩৪ (Article 34): ভারতের কোনো এলাকায় সামরিক আইন (Martial Law) জারি থাকলে সেখানে মৌলিক অধিকারের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা যায়।

✍️​ধারা ৩৫ (Article 35): মৌলিক অধিকারগুলো কার্যকর করার জন্য আইন তৈরির ক্ষমতা কেবল পার্লামেন্টের হাতে থাকবে, রাজ্য আইনসভার হাতে নয়।

নমস্কার

Assistant Commissioner of Revenue

2 weeks ago | [YT] | 26

Focus WBCS

🔥🔥M. Laxmikanth-এর বই (Indian Polity)
Article 1-4

অনুযায়ী ভারতীয় সংবিধানের প্রথম অংশ (Part-I)-এ ১ থেকে ৪ নম্বর ধারায় (Articles 1-4) 'সংঘ ও তার ভূখণ্ড' (Union and its Territory) সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

✍️​নিচে প্রতিটি ধারা সহজ বাংলায় ব্যাখ্যা করা হলো:

👉​ধারা ১ (Article 1): সংঘের নাম ও ভূখণ্ড
​এই ধারায় ভারতকে ঘোষণা করা হয়েছে এভাবে: "India, that is Bharat, shall be a Union of States."

​নামকরণ: এখানে 'India' (আধুনিক নাম) এবং 'Bharat' (ঐতিহ্যবাহী নাম)—উভয় নামই গ্রহণ করা হয়েছে।

​রাজ্যসমূহের সংঘ (Union of States): ডঃ বি. আর. আম্বেদকরের মতে, 'Federation' শব্দের বদলে 'Union' শব্দ ব্যবহারের দুটি কারণ আছে:

​ভারতীয় সংঘ কোনো রাজ্যগুলোর মধ্যে চুক্তির ফল (result of an agreement) নয় (যেমন আমেরিকার ক্ষেত্রে হয়েছে)।

​কোনো রাজ্যের এই সংঘ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার (secede) অধিকার নেই। ভারতকে বলা হয়— "Indestructible Union of destructible states" (বিনাশশীল রাজ্যের অবিনশ্বর সংঘ)।

✍️​ভূখণ্ডের শ্রেণীবিভাগ: ভারতের ভূখণ্ডকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়:।
​রাজ্যগুলির ভূখণ্ড (Territories of the States)।
​কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল (Union Territories)।
​ভবিষ্যতে ভারত সরকার কর্তৃক অধিগৃহীত হতে পারে এমন কোনো ভূখণ্ড (Acquired territories)।

👉ধারা ২ (Article 2): নতুন রাজ্যের অন্তর্ভুক্তি বা স্থাপন
​এই ধারাটি পার্লামেন্টকে (সংসদ) এমন ক্ষমতা দেয় যা ভারতের সীমানার বাইরে থাকা কোনো ভূখণ্ড বা রাজ্যকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করতে পারে।
​এটি মূলত বহিরাগত পরিবর্তনের সাথে যুক্ত।
​পার্লামেন্ট আইন দ্বারা নতুন রাজ্যকে ভারতের ইউনিয়নে ভর্তি (Admit) করতে পারে বা নতুন রাজ্য স্থাপন (Establish) করতে পারে।

👉​ধারা ৩ (Article 3): নতুন রাজ্যের গঠন এবং বিদ্যমান রাজ্যের সীমানা বা নাম পরিবর্তন
​এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধারা। এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ মানচিত্র পরিবর্তনের ক্ষমতা পার্লামেন্টকে দেয়। অর্থাৎ, ভারতের বর্তমান রাজ্যগুলোর পুনর্গঠন।
​পার্লামেন্ট আইন প্রণয়ন করে:

🖐️​কোনো রাজ্য থেকে ভূখণ্ড আলাদা করে নতুন রাজ্য গঠন করতে পারে।
🖐️​কোনো রাজ্যের আয়তন বাড়াতে বা কমাতে পারে।
🖐️​কোনো রাজ্যের সীমানা পরিবর্তন করতে পারে।
🖐️​কোনো রাজ্যের নাম পরিবর্তন করতে পারে।

​শর্তাবলী:
​এই ধরণের বিল রাষ্ট্রপতির পূর্ব অনুমতি (Prior recommendation) ছাড়া সংসদে পেশ করা যায় না।
​রাষ্ট্রপতি সংশ্লিষ্ট রাজ্যের বিধানসভার মতামত জানতে চান, তবে সেই মতামত মানতে রাষ্ট্রপতি বা সংসদ বাধ্য নন।

👉​ধারা ৪ (Article 4): ২ ও ৩ নং ধারার অধীন আইনসমূহ
​এই ধারায় বলা হয়েছে যে, ধারা ২ (নতুন রাজ্য ভর্তি) এবং ধারা ৩ (রাজ্য পুনর্গঠন)-এর অধীনে করা আইনগুলি সংবিধানের ৩৬৮ নং ধারার (Article 368) অধীনে 'সংবিধান সংশোধন' (Constitutional Amendment) বলে গণ্য হবে না।

🖐️​তাৎপর্য: এর অর্থ হলো, এই ধরণের পরিবর্তনগুলি সংসদে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় (Simple Majority) পাস করা যায়। এর জন্য বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতার (Special Majority) প্রয়োজন হয় না।

✍️✍️​সারাংশ (Laxmikanth অনুযায়ী মনে রাখার টিপস):

​Article 1: ভারতের নাম ও সংজ্ঞা।

​Article 2: ভারতের বাইরের কোনো অংশকে ভারতের ভেতরে আনা (External adjustment)।

​Article 3: ভারতের ভেতরের রাজ্যগুলোকে কাটাছেঁড়া করা বা নাম পাল্টানো (Internal re-adjustment)।

​Article 4: ওপরের কাজগুলো করতে সংবিধান সংশোধনের জটিলতা দরকার নেই, সাধারণ মেজরিটিই যথেষ্ট।

কেমন লাগলো Share করে দিও।

নমস্কার

Assistant Commissioner of Revenue

2 weeks ago | [YT] | 18

Focus WBCS

🔥 🔥 M. Laxmikanth-এর 'Indian Polity' বই অনুসারে

✍️ ভারতীয় সংবিধানের দ্বিতীয় অংশ (Part-II)-এ ৫ থেকে ১১ নম্বর ধারায় (Articles 5-11) 'নাগরিকত্ব' (Citizenship) নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

✍️​তবে মনে রাখা প্রয়োজন, সংবিধানে মূলত ১৯৫০ সালের ২৬শে জানুয়ারি (সংবিধান চালুর সময়) কারা ভারতের নাগরিক হবেন, তা বলা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আইন তৈরির ক্ষমতা পার্লামেন্টকে দেওয়া হয়েছে।

👉​নিচে প্রতিটি ধারা সহজ বাংলায় ব্যাখ্যা করা হলো:

🖐️​ধারা ৫ (Article 5): সংবিধান প্রবর্তনের সময় নাগরিকত্ব

​এই ধারায় বলা হয়েছে, সংবিধান চালুর সময় (২৬ জানুয়ারি, ১৯৫০) একজন ব্যক্তি ভারতের নাগরিক হবেন যদি তিনি ভারতে বসবাস করেন (Domicile in India) এবং নিচের তিনটি শর্তের যেকোনো একটি পূরণ করেন:
​যিনি ভারতের মাটিতে জন্মগ্রহণ করেছেন।
​অথবা, যার বাবা-মায়ের মধ্যে কেউ একজন ভারতে জন্মগ্রহণ করেছেন।
​অথবা, যিনি সংবিধান চালুর ঠিক আগে অন্তত ৫ বছর ধরে ভারতে বসবাস করছেন।

🖐️​ধারা ৬ (Article 6): পাকিস্তান থেকে আগত ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব

​দেশভাগের সময় যারা পাকিস্তান থেকে ভারতে চলে এসেছিলেন, তাদের নাগরিকত্ব নিয়ে এই ধারায় বলা হয়েছে।

​শর্ত: ১৯৪৮ সালের ১৯শে জুলাইয়ের আগে যারা ভারতে এসেছেন, তারা সাধারণভাবেই নাগরিকত্ব পাবেন।
​যারা ১৯৪৮ সালের ১৯শে জুলাই বা তার পরে এসেছেন, তাদের নাম নথিভুক্ত (Register) করতে হবে এবং আবেদনের আগে অন্তত ৬ মাস ভারতে থাকতে হবে।

🖐️​ধারা ৭ (Article 7): পাকিস্তানে গিয়ে ফিরে আসা ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব

​যারা ১৯৪৭ সালের ১লা মার্চের পর ভারত ছেড়ে পাকিস্তানে চলে গিয়েছিলেন কিন্তু পরে পুনর্বাসনের জন্য আবার ভারতে ফিরে এসেছেন, তাদের কথা এখানে বলা হয়েছে।
​তারা যদি বৈধ অনুমতি (Resettlement Permit) নিয়ে ফিরে আসেন এবং ৬ মাস থাকার পর রেজিস্ট্রেশন করেন, তবেই তারা ভারতের নাগরিক হতে পারবেন।

🖐️​ধারা ৮ (Article 8): ভারতের বাইরে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের নাগরিকত্ব

​যারা বা যাদের পূর্বপুরুষ (বাবা-মা বা দাদু-দিদা) অবিভক্ত ভারতে জন্মেছিলেন, কিন্তু বর্তমানে তারা ভারতের বাইরে অন্য দেশে বসবাস করছেন, তারা ভারতের নাগরিক হিসেবে গণ্য হতে পারেন।

​শর্ত: তাদের সংশ্লিষ্ট দেশের ভারতীয় দূতাবাসে (Diplomatic/Consular representative) নাগরিক হিসেবে নাম নথিভুক্ত করতে হবে।

🖐️​ধারা ৯ (Article 9): বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে ভারতীয় নাগরিকত্ব বাতিল
​খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ধারা। এতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি স্বেচ্ছায় অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন, তবে তার ভারতীয় নাগরিকত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।

​অর্থাৎ, ভারত 'দ্বৈত নাগরিকত্ব' (Dual Citizenship) সমর্থন করে না।

🖐️​ধারা ১০ (Article 10): নাগরিকত্বের অধিকার বজায় রাখা

​যেকোনো ব্যক্তি যিনি ওপরের ধারাগুলোর অধীনে ভারতের নাগরিক হয়েছেন, তার নাগরিকত্ব বজায় থাকবে। তবে পার্লামেন্ট যদি ভবিষ্যতে কোনো নতুন আইন তৈরি করে, তবে সেই আইনের শর্ত অনুযায়ী তা নির্ধারিত হবে। অর্থাৎ, নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া বা বজায় রাখা সংসদের আইনের ওপর নির্ভরশীল।

🖐️​ধারা ১১ (Article 11): আইন দ্বারা নাগরিকত্ব নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা সংসদের

​এই ধারাটি ভারতীয় পার্লামেন্টকে (সংসদ) অপরিসীম ক্ষমতা দিয়েছে।
​পার্লামেন্ট নাগরিকত্ব অর্জন (acquisition) এবং সমাপ্তি (termination) সংক্রান্ত যেকোনো আইন তৈরি করতে পারে।
​এই ক্ষমতার বলেই পার্লামেন্ট 'নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫' (Citizenship Act, 1955) পাস করেছে, যা আজও (বিভিন্ন সংশোধনীসহ) ভারতের নাগরিকত্ব ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে।

✍️​সংক্ষেপে মনে রাখার টিপস:

🖐️​Article 5: শুরুতে (১৯৫০ সালে) কারা নাগরিক।
🖐️​Article 6: পাকিস্তান থেকে যারা এসেছেন।
🖐️​Article 7: যারা পাকিস্তানে গিয়ে আবার ফিরে এসেছেন।
🖐️​Article 8: বিদেশে থাকা ভারতীয় বংশোদ্ভূত (PIO)।
🖐️​Article 9: বিদেশি পাসপোর্ট নিলে ভারতীয় নাগরিকত্ব শেষ (No Dual Citizenship)।
🖐️​Article 10: নাগরিকত্ব অব্যাহত থাকা।
🖐️​Article 11: পার্লামেন্টের আইন তৈরির ক্ষমতা (যার ভিত্তিতে Citizenship Act, 1955 তৈরি হয়েছে)।

নমস্কার

Assisstant Commissioner of Revenue

Youtube - Focus WBCS

2 weeks ago | [YT] | 9

Focus WBCS

Indian Polity Class -2
আজকের বিষয় - Pitt's India Act 1784 🔥

✍️এম. লক্ষ্মীকান্তের বই অনুযায়ী, Regulating Act of 1773-এর ত্রুটিগুলো দূর করার জন্য ব্রিটিশ পার্লামেন্ট Pitt’s India Act of 1784 পাশ করে।

✍️​আইনের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ (Features of the Act)

​১. কর্মকাণ্ডের বিভাজন: এটি প্রথমবারের মতো কোম্পানির বাণিজ্যিক (commercial) এবং রাজনৈতিক (political) কাজগুলোকে আলাদা করে দেয়।

​২. দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা (Double Government):
​কোম্পানির বাণিজ্যিক কাজগুলো দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয় 'কোর্ট অফ ডিরেক্টরস'-এর হাতে।
​কিন্তু রাজনৈতিক বিষয়গুলো (বেসামরিক, সামরিক ও রাজস্ব) পরিচালনা করার জন্য একটি নতুন বডি তৈরি করা হয়, যার নাম 'বোর্ড অফ কন্ট্রোল' (Board of Control)।
​এভাবে ভারতে একটি দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা বা 'System of Double Government' চালু হয়।

​৩. বোর্ড অফ কন্ট্রোলের ক্ষমতা: এই বোর্ডকে ভারতের ব্রিটিশ অধিকৃত অঞ্চলের সমস্ত বেসামরিক (civil), সামরিক সরকার এবং রাজস্ব সংক্রান্ত বিষয়গুলো তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ করার পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়।
​এই আইনের গুরুত্ব (Significance of the Act)
​এম. লক্ষ্মীকান্তের মতে, এই আইনটি দুটি কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:

১. ব্রিটিশ অধিকৃত ভারত: এই আইনে প্রথমবারের মতো কোম্পানির অধীনস্থ এলাকাগুলোকে 'ব্রিটিশ পজেশনস ইন ইন্ডিয়া' (British possessions in India) বা 'ভারতে ব্রিটিশদের সম্পত্তি' বলে অভিহিত করা হয়।

২. চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ: ব্রিটিশ সরকারকে ভারতে কোম্পানির প্রশাসন ও কাজের ওপর সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণ (Supreme Control) প্রদান করা হয়।

🖐️​মনে রাখার টিপস: ১৭৭৩-এর রেগুলেটিং অ্যাক্ট ছিল 'শুরু', আর ১৭৮৪-এর পিটস ইন্ডিয়া অ্যাক্ট ছিল ব্রিটিশ সরকারের 'কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা'। এই আইনে গভর্নর-জেনারেলের কাউন্সিলের সদস্য সংখ্যা ৪ থেকে কমিয়ে ৩ করা হয়, যাতে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।

নমস্কার - Assistant Commissioner of Revenue

2 weeks ago | [YT] | 12