Hridoy Tanvir – A window to my world.
📷 Frames | 🌍 Travels | 🏏 Sports | 🎥 Movies


Hridoy Tanvir

এশিয়া কাপ এবং বিশ্বকাপকে টার্গেট করে বাংলাদেশ দলকে খুব ভালভাবেই সাজানো হচ্ছে । প্রতিটি পজিশন নিয়ে কাজ করা হচ্ছে । বাংলাদেশ যদি ভালো রেজাল্ট চায় তাহলে অবশ্যই তাদের এপ্রোচ ঠিক করতে হবে । টার্গেট অনুযায়ী জানতে হবে তাদের কি রকম প্ল্যানে আগাতে হবে । এখন পর্যন্ত মোটামোটি ২৫ জনের মতো প্লেয়ার আছে যারা বিশ্বকাপের চিন্তা ভাবনায় আছেন । এদের মধ্যে থেকেই বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট করা হবে । এখন আমি যদি আমাদের পজিশন গুলো বিশ্লেষণ করি তাহলে
টপ অর্ডার , মিডল অর্ডার , লোয়ার অর্ডার এই ৩ টা সেক্টর হয় । টপ অর্ডারে বেসিক্যালি ওপেনার দুইজন এবং ফার্স্ট ডাউন ব্যাটসম্যান থাকে , পজিশন ১,২ এবং ৩ । তারপরে থাকছে মিডল অর্ডার , মূলত পজিশন ৪,৫ এবং ৬ । এর পর থেকেই মূলত ফিনিশিং এর কাজ স্টার্ট হয় এবং লোয়ার অর্ডার শুরু হয়ে যায় । পজিশন ৭/৮ ফিনিশার এর কাজ করে এবং বাকি পজিশনগুলো বোলাররা থাকে । এখন আসি মূল আলোচনায় । শুরুতে টপ অর্ডার , বিশেষত ওপেনার ব্যাটসম্যান দুইজন এবং ফার্স্ট ডাউন ব্যাটসম্যানকে নিয়ে কথা বলবো । এই ক্যাটাগরিতে আমাদের হাতে এভেইলেবল রিসোর্স কারা আছেন আসন্ন এশিয়া কাপ এবং বিশ্বকাপের জন্য সেটা দেখে নেওয়া যাক - ১। তামিম , ২। লিটন , ৩। বিজয় , ৪। শান্ত , ৫। নাইম শেখ , ৬। রিয়াদ , ৭। সাকিব , ৮। তাওহিদ হৃদয় , ৯। জাকির হাসান , ১০ । রনি ।
মোটামোটি এই ১০ জন প্লেয়ারকে আপনি ১/২/৩ নাম্বারে খেলাতে পারবেন বা তারা এই পজিশনগুলোতে সফল হয়েছে । এখন একটু বিস্তারিত আলোচনা করলে প্রথমেই তামিম ইকবালকে নিয়ে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় , তামিম ইকবাল যেহেতু ক্যাপ্টেন তাই তাকে নিয়েই দল আগাবে এবং সে ওপেনার হিসেবেই খেলবে । এখন আমি আপনি যতই বলি না কেন তার স্ট্রাইক রেট কম বা ফিটনেসে সমস্যা , যেটা করা হতে পারে মুলত এগুলো থেকে অভারকাম করা আর সেটা একমাত্র তামিম ইকবালকেই বুঝতে হবে বিশ্বকাপে দেশের জন্য আমাদের পুরনো তামিমকে দরকার যে ২২ গজের মধ্যে ডাউন দ্যা উইকেটে এসে মারাটাতেই সবচেয়ে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতো ডট দেওয়ার থেকে । অন্যথায় যেহেতু তামিম খেল্বেই বিশ্বকাপ পর্যন্ত , এর আগে কোন পরিবর্তন হবেও না তাই তামিমের ডট খেলা অনেক ভুগাবে দলকে ।
পরবর্তীতে থাকছেন লিটন কুমার দাশ , লিটন বর্তমানে দারুণ ফর্মে আছেন তাই বলাই যায় সেও দলে ফিক্সড , যদিও লিটন গত বিশ্বকাপে মিডল অর্ডারে ভালো খেলেছিল । তার এই অপশন খোলা আছে , দলের প্রয়োজনে তাকে আমরা মাঝখানে খেলাতে পারবো । ওপেনিং এ এই দুইজন ফিক্সড থাকছে । একন আসি ব্যাকআপ ওপেনার এই ১০ জন থেকে কাকে নেওয়া যায় , মুলত ৬ জন , কারণ তামিম - লিটন ফিক্সড আর সাকিব - রিয়াদকে নাম্বার ৩ তে বিবেচনা করছি । বাকিরা ওপেনিং এ খেলেছে প্রায় । ব্যাকআপ ওপেনার হিসেবে আমার প্রথম পছন্দ এনামুল হক বিজয় । যদিও নাইম শেখও পারফর্ম করছে কিন্তু বিজয় এই পারফর্মটা শেষ ২ বছর ধরেই করছে । আর বিজয় ওয়ানডেতে কামব্যাক করার পর যথেষ্ট ভালো খেলেছে । অন্তত যে ৬ ম্যাচ চান্স পেয়েছে সে ৬ ম্যাচে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান করেছে । জাকির হাসান , রনি এদেরকে অন্তত বিশ্বকাপের আগে এভাবে দলে নেওয়ার পক্ষে আমি নয় , বিশেষ করে রনি টি২০ তে যে রিদমে আছে সেটাও পরবর্তীতে তাকে দিয়ে ওয়ানডে খেলানোতে নষ্ট হয়ে যেতে পারে । তাওহিদ হৃদয় ওপেনিং এ খেললেও সে জাতীয় দলে মিডল অর্ডারে ভালো খেলেছে তাই তার সেখানে খেলাটাই ভালো । এখন আসি ফার্স্ট ডাউনের কথায় , এই পজিশনে শান্ত খেলছে বর্তমানে । সাকিব গত বিশ্বকাপে ভালো খেলেছে । কিন্তু সাকিবের ক্ষেত্রে আমার মতে নাম্বার ৫ বেস্ট হবে কারণ সাকিব - মুশির মতো বড় প্লেয়াররা ৫/৬ এ থাকলে উপরের ব্যাটসম্যানদের খেলতে সুবিধা হয় । প্রেসারে কম পড়ে , সাথে দলের জন্য ও ভালো । কারণ প্রেসারে ব্যাট করার মতো ব্যাটসম্যান আমাদের আছে হাতে গোনা কয়েকজন । তাই সাকিবকে আমি মিডল অর্ডারেই রাখবো । আর রিয়াদকে আমি যদি খেলাতেই হয় তাহলে নাম্বার ৩ তে খেলাবো , কারণ এখানে সে যেভাবে খেলতে পারবে , এই বয়সে ফিনিশিং এ সে দিতে পারবে না । হয় তাকে বাদ দিলে বাদ দেন তা না হলে নাম্বার ৩ এ খেলান যেখানে সে পারফর্ম করতে পারবে এবং দলেরও কাজে লাগবে । ফিনিশিং এ সে দলের বিপদ বাড়াবে । অভারঅল আমি প্রথম ৩ টা পজিশনের জন্য ৫ জনকে বিবেচনায় রাখছি - ১। তামিম , ২। লিটন , ৩। বিজয় , ৪। শান্ত , ৫। রিয়াদ . পরবর্তীতে আসছি মিডল অর্ডার নিয়ে , এখানে নাম্বার ৪ আর ৫ পজিশনের জন্য অনেকের নামই আসে । কিন্তু এই দুই পজিশনে বেস্ট চয়েজ হবে তাওহীদ হৃদয় এবং সাকিব আল হাসান , আর ব্যাকআপে একজনকে রাখলে থাকছেন আফিফ হোসেন ধ্রুব । নাম্বার ৬ এবং ৭ পজিশনের জন্য মুশফিকুর রহিম এবং মেহেদি হাসান মিরাজ , ব্যাকআপ প্লেয়ার হিসেবে থাকছেন শামিম হোসেন পাটওায়ারি । এরপর স্পিনার থাকছেন নাসুম এবং তাইজুল । আর পেসারদের মধ্যে তাসকিন , এবাদত , হাসান মাহমুদ , মুস্তাফিজ এবং পঞ্চম বোলার হিসেবে মৃত্যুঞ্জয়কে রাখছি । এখন আমার বেস্ট এলেভেন এবং ১৫ জনের স্কোয়াডসহ ৩ জন স্ট্যান্ডবাই লিস্ট অনেকটা এমন হবে -
১। তামিম ।
২। লিটন ।
৩। রিয়াদ ।
৪। হৃদয় ।
৫। সাকিব ।
৬। মুশি ।
৭। মিরাজ ।
৮। মৃত্যুঞ্জয় / তাইজুল ।
৯। তাসকিন ।
১০। এবাদত ।
১১। মুস্তাফিজ

স্কোয়াডের বাকি ৪ জন -

১২। তাইজুল / মৃত্যুঞ্জয় ।
১৩। শান্ত ।
১৪। বিজয় ।
১৫ । হাসান মাহমুদ ।

স্ট্যান্ডবাই প্লেয়ার -

১। শামিম হোসেন ।
২। আফিফ ।
৩। নাসুম ।

এই প্লেয়ারদের বাহিরে আমাদের রিসোর্সে আছেন -
১। শরিফুল ।
২। মোসাদ্দেক ।
৩। জাকির ।
৪। রনি ।
৫। সাইফুদ্দিন ।
৬। নাইম শেখ ।
৭। রাব্বি ।

এখানে এক্সট্রা প্লেয়ার যারা আছেন তাদের থেকে মেইন টীমে আসার চান্স খুবই কম । আর আমার দলটা থেকে ১৫ জনের ১৩ টা পজিশন মোস্টলি ফিক্সড থাকবে । কথা হতে পারে বা পরিবর্তন আসতে পারে ২ টা পজিশন নিয়ে , ১। রিয়াদ , ২। বিজয় .

এখানে বিভিন্ন সময় প্রত্যেকটা প্লেয়ারকে নিয়ে আলাদাভাবে কথা বলে হয়েছে তাইই আর এই পোস্টে বিস্তারিত লিখলাম না । জাস্ট রিয়াদের ব্যাপারটায় আমার মনে হয় বিসিবি শেষ পর্যন্ত ২০২২ টি২০ বিশ্বকাপে ভরাডুবির কথা মাথায় রেখে , সাথে অভিজ্ঞতাও একটা ফ্যাক্ট , এসবই চিন্তা করে তাকে দলে নিয়ে আগাবে বিশ্বকাপ পর্যন্ত । যদিও এখনো আফগানিস্তান সিরিজ আছে , যেটায় বুঝা যাবে কারা কারা দলে থাকছে ।

3 years ago | [YT] | 1

Hridoy Tanvir

অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসই কি আয়ারল্যান্ডের সাথে হারার কারণ???

আজকের খেলা নিয়ে শুরু থেকে কথা বললে , প্রথমেই ব্যাটিং নিয়ে কথা বলবো । ব্যাটিং এর আজকের এপ্রোচ অনেকের কাছে নতুন মনে হতেই পারে কিন্তু এমন এপ্রোচে আমরা আগেও খেলতাম , সেটা অবশ্যই আরও ৭/৮ বছর আগে । মাঝখানে আমরা টিকে খেলতে যেয়ে এই ধরনের এগ্রেসিভনেস একদমই ভুলে গিয়েছিলাম । এখন সেটি আবার ফেরত আসছে । আমরা আসলেই টি২০ টাকে যেভাবে চিন্তা করে আসতেছি টি২০ ক্রিকেট আসলে সেটি না । আমরা একদম শুরুতে ভাবতাম টি২০ মানে মেরে খেলতে হবে , উঠেই মারতে হবে । যার কারণে দেখা গেলো একদম শুরুতে আমরা মেরে খেলতাম , ১/২ ম্যাচে সফল হতাম আর বাকি গুলোতে আজকের মতো কলাপ্স করতাম । ২০০৭ বিশ্বকাপের ম্যাচের কথাটাই ভাবুন , তখনকার সময়ে আমরা ১৬৭ চেজ করে জিতেছিলাম এই এপ্রোচের কারণেই । কিন্তু ব্যাপারটা হলো এই এপ্রোচটা মানেই কিন্তু টি২০ না আর তাই আমরা বেশিরভাগ সময়ে এই এপ্রোচে খেলেও কলাপ্স করতাম এবং হেরে যেতাম । পরবর্তীতে আমরা চলে গেলাম ধরে খেলার নীতিতে , এটাতেও সফলতা আগের থেকে একটু বেশি আসলেও , দিনশেষে আমরা সফল হতাম না । বিগ ম্যাচ গুলোতে বা বড় দলগুলোর সাথে বা স্পোর্টিং পিচে আমরা সম্মানজনক স্কোর করে হারতাম । এটা স্বাভাবিক আপনি ১৫ বছর আগে ১০ ম্যাচে ১ টায় জিতলে তার থেকে ৬ বছর পরে যেয়ে এই জয় টা যদি ১০ ম্যাচে ৩ এ যেয়ে পৌছায় তাহলে অবশ্যই আপনি ভাববেন উন্নতি হচ্ছে । কিন্তু যখন বিশ্ব ক্রিকেটের সাথে মেলাতে যেয়ে দেখবেন আপনারা বড় টুর্নামেন্টে ভালো করতে পারছেন না তখন কিন্তু একই অবস্থাই থাকছে । ঠিক এই কারণে গত ২ বছরে আমরা টি২০ দলের এপ্রোচ নিয়ে এতো সমালোচনা করছি । এখন বিশ্বকাপেও বাজে পারফরমেন্সের পর আমরা যখন দলটাকে ২য় বারের মতো বদলিয়ে নতুন এপ্রোচে ( আমাদের মতে কিন্তু এটি আসলে পুরনো এপ্রোচই) খেলা শুরু করলাম ৫ ম্যাচ সফল হওয়ার পর ৬ নাম্বারে এসে কলাপ্স করলাম । তার মানে এখনো কিন্তু আমাদের গ্রাফটা উন্নতির দিকেই আছে যেটা সব থেকে জরুরী । এখন স্বাভাবিক ভাবেই আয়ারল্যান্ডের মতো দলের সাথে এমন কলাপ্স করলে তাও আবার নিজেদের কন্ডিশনে তখন সমালোচনা হবেই । কিন্তু এই ব্যাপারটা কীভাবে ঠিক করা যায় বা আমাদের ভুলটা কোথায় সেটা বের করতে হলে আমাদেরকে আগে জানতে হবে ক্রিকেটে আসলে কীভাবে বিশ্বমানের দল গুলো সারভাইব করছে বা টি২০ ক্রিকেটটা আসলে কীভাবে খেলতে হয়? আমরা সবসময় ভেবে এসেছি বা এখনো এটাই মানি টি২০ মানেই মেরে খেলতে হবে । কিন্তু ব্যাপার টা মোটেই এমন নয় । আপনাকে মেরে খেলা , স্ট্রাইক রোটেট করে খেলা এসব কিছুই কম্বিনেশন করতে হবে । ১ থেকে ৬ ওভার পর্যন্ত অর্থাৎ পাওয়ার প্লে তে ব্যাট করার এপ্রোচ এক রকম রাখতে হবে , মিডল ওভারগুলোতে ৬ থেকে ১৫ ওভার পর্যন্ত অন্য রকম রাখতে হবে আবার শেষের ৫ ওভার ব্যাটিং থাকবে অন্য ধরনের । এই মেথড যদি আপনি না শিখতে পারেন তাহলে আপনি ১১ টা হার্ড হিটার নিয়ে খেললেও ম্যাচ জিতবেন না । খেলাটা যদি শুধু মেরে খেলারই হতো তাহলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সব সময় কাপ পেতো বা আরসিবি এতো ভালো দল নিয়েই এমন খারাপ করতো না । কেন বললাম এমন এগ্রেসিভ আমাদের আগেও ছিল এখনো আছে তার অন্যতম কারণ আমরা ম্যাচ রীড করতে পারি না । এই যেমন প্রথম ৬ ওভার আপনি ১/২ উইকেট দিয়ে ৫০ এর আশেপাশে রান নিলেন এটাও অনেক ভালো । ৬ থেকে ১৫ ওভার অনেক ট্রিকি , এই ৯ ওভারে আপনি চাইলেই ৮০+ রান করতে পারেন ওভারে ৫ টা সিঙ্গেল আর ১ টা ৪ মারলেই হয়ে যায় , ইভেন এমন স্ট্রাইক রোটেট করে খেললে বোলার নিজেই আরও মারার বল দিতে বাধ্য হয় । এই ৯ ওভারে ১/২ টা ওভার ১৫ করে নেওয়ার মতো পাবেনই । আর শেষ ৫ ওভারে যদি হাতে ৫/৬ উইকেট থাকে তখন ১২ করে নেওয়াটাও অনেক ইজি । এভাবে খেললে শেষে স্কোরবোর্ডে ১৯০ এর আশেপাশে রান হয়ে যায় । উইকেট পড়ার পরও আপনি বল না বুঝে ফিল্ডার না দেখে মারতে যেয়ে আউট হওয়াটা এগ্রেসিভ ক্রিকেট বলে না , সেটাকে বলে ব্রেইনলেস ক্রিকেট । রানের চাকা সচল মানেই কিন্তু ৪/৬ মারা না , রানিং বিটুইন দ্যা উইকেট বলেও একটা কথা আছে । এগ্রেসিভনেস যতটা জরুরী ঠিক ততটাই দরকার রানিং বিটুইন দ্যা উইকেট , সাথে গেইম সিচুয়েশন রীড করতে পারাটা সব থেকে জরুরী । এই দলটার মধ্যে এগ্রেসিভনেস যেমন আছে ঠিক তেমন দরকার সিচুয়েশন বুঝে ব্যাট করা , যে কাজটা শামিম করেছে । তার এই কাজটা করার দরকার ছিল সাকিব অথবা হৃদয় এর , উপরের দিকে কেউ একজন এটা করলেই রানটা ১৮০ তে চলে যেতে সময় নিতো না । সামনে থেকে এই জিনিষটাই মাথায় রাখতে হবে । দলটা একটা প্যাটার্নে আছে সেই প্যাটার্ন নিয়েই আরেকটু ঘষামাজা করতে হবে । দলটাকে অবশ্যই সময় দিতে হবে , তাড়াহুড়া কয়া যাবে না । এখন আমি যদি একদম পয়েন্ট করে বলি , আজকে দেখবেন সবাই উইকেট দিয়ে এসেছে । এখানে আয়ারল্যান্ডের বোলারদের খুব বেশি কৃতিত্ব দিতে পারবেন না । হ্যাঁ ফিল্ডারদের বিশেষ করে ফিল্ডিং সাজানো বা ক্যাপ্টেনের ফিল্ডিং চেঞ্জ চোখে পড়ার মতোই ছিল । এই হারটা জরুরী ছিল , দলকে নিজেদের ভুল গুলো দেখার সুযোগ করে দিয়েছে । এখানে আপনারা যারা হায় হায় করছেন সেটাও ঠিক না আবার যারা পুরাতন প্লেয়ারদেরকে খোঁচাচ্ছেন সেটাও ঠিক নয় । এই দুই ধরনের মানুষগুলোকেই আমার কাছে ক্রিকেটের জন্য টক্সিক মনে হয় । যারা ২০+ বছর ধরে ক্রিকেট ফলো করে তারা আসলেই বুঝবে ক্রিকেটের চেঞ্জ কীভাবে হচ্ছে । তাই এসব কথা বার্তা না বলে পজেটিভ কথা বলাই ব্যাটার । ওভার কনফিডেন্স ছিল , আজকের হারে সেটি ঠিক হয়ে যাবে । এভাবে না হারলে নিজেদের ভুলগুলো বের হবে না , ঠিকও করতে পারবে না । অন্যথায় দেখা যাবে ২০২১/২২ বিশ্বকাপের মতো যেয়ে প্রবলেম গুলো সামনে আসবে ।

3 years ago | [YT] | 1

Hridoy Tanvir

বাংলাদেশের ফিনিশারের কি সময় শেষ হয়ে আসলো?
মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে নিয়ে প্রচুর কথাবার্তা হচ্ছে , আসলেই কি সে বিশ্বকাপের দলে থাকবে কিনা তা নিয়ে নানা জল্পনা কল্পনা তো হচ্ছেই । আজকে আমি চেষ্টা করবো তাকে নিয়ে যতটা ডিটেইলস কথা বলা যায় । শুরুতেই বলবো রিয়াদের এখনকার অবস্থা , এখনকার রিয়াদের যে সমস্যা আমার কাছে সবথেকে বেশি মনে হয়েছে , সেটা হচ্ছে তার ফিটনেস । তার ফিটনেসে তার বয়সের একটা ছাপ পরিষ্কারভাবে পড়েছে । তার প্রতি যথেষ্ট সম্মান রেখেই বলছি তার এখনকার ফিটনেস আসলেই তার নামের প্রতি বেমানান । আর এই ফিটনেসের কারণেই তার মাঠের খেলায় বিশেষ করে ফিল্ডিং এবং রানিং বিটুইন দ্যা উইকেটে সব থেকে বেশি সমস্যা হয়ে যাচ্ছে । যেসব জায়গায় ২ রান হচ্ছে সেখানে তিনি ১ রানের বেশি নিতে পারছেন না , অন্যদিকে ৩ রানের গুলো ২ রানের বেশি নিতে পারছেন না , আবার অনেক সময় ১ রান নেওয়া গুলোও নিতে পারছেন না । এখানে মেইন সমস্যাটা হচ্ছে এই ব্যাপারগুলো সব একসাথে কানেক্টেড । কীভাবে কানেক্টড তা যদি একটু বলি , তার ব্যাটিং এর মেইন সমস্যা তার স্ট্রাইক রেট আর এই স্ট্রাইক রেট কম হওয়ার মেইন কারণ প্রচুর ডট বল খেলা , আর এই ডট বল খেলায় তিনি যেমন প্রেসারে পড়ছেন , দলও একইভাবে প্রেসারে পড়ছেন , স্ট্রাইক রেটটাও এই কারণেই এতো বাজে দেখায় । রিয়াদের সামর্থ্য নিয়ে অনেকের প্রশ্ন থাকলেও আমার কাছে পার্সোনালি একটুও মনে হয় না তার সামর্থ্যের কমতি আছে । তার মেইন সমস্যাটা যেহেতু বয়স বেড়েছে তাই সেটি ফিটনেসে প্রকাশ পেয়েছে । কেন বললাম সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন নেই তার যদি একটু এক্সাম্পল বা কিছু ইনফরমেশন দেই তাহলেই বুঝবেন । রিয়াদ আমাদের কত গুলো ম্যাচ জিতিয়েছে সেটা আমরা সবাই জানি । তারপরও একটা পরিসংখ্যান সবার সামনে উপস্থাপন করি , বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত যত ম্যাচ জিতেছে এবং রিয়াদ খেলেছে , সেই ম্যাচগুলোতে তার এভারেজ ৪৮.১৬ এবং স্ট্রাইক রেট ৮২.২৩ । এতেই বুঝা যায় তার পারফরমেন্স কেমন ছিল । এখন সম্প্রতি যদি তার ফর্মের কথা বলি , ২০২২ সালে তার এভারেজ ৫৮.২৯ , তার আগের বছরের কথা বললে , এভারেজ ৪৯.৮৮ । ইভেন তার ক্যারিয়ারে ২০১২ এর পর ২০২২ সালে এতো ভালো পারফরমেন্স করেছেন তিনি । কিন্তু তার পুরো ক্যারিয়ারের মধ্যে ২০২২ এই সবচেয়ে বড় সমস্যা স্ট্রাইক রেট , যেটা মাত্র ৬৯.১৫ । যেটা আসলেই খুবই দৃষ্টিকটু । কিন্তু এই সমস্যাটাও এই রিসেন্ট সময়ে এসে হচ্ছে । তাই শুরুতে যেটা বলেছিলাম সেটাই আবার বলতে হয় সমস্যা তার ফিটনেসে , যার কারণে স্ট্রাইক রোটেট করতে পারছেন না এবং যার ফলাফল স্ট্রাইক রেট অনেক কমে যাওয়া । এখন যদি রিয়াদকে বিশ্বকাপের দলে রাখতেই হয় তাহলে তাকে সবার প্রথমে ফিটনেস নিয়ে কাজ করতে হবে । এই ফিটনেসটা ঠিক করতে পারলে তার একসাথে ২ টা কাজ হয়ে যাবে । স্ট্রাইক রেট বাড়ানো , সাথে ফিল্ডিং দুটিরই সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে । রানিং বিটুইন দ্যা উইকেট বেশি হবে । তারপরে আসি তার পজিশনে । বিশ্বকাপে যদি তাকে রাখতেই হয় তাহলে তাকে উপরে খেলানো সব থেকে ভালো হবে । রিয়াদের অভিজ্ঞতা যেমন আমাদের বিশ্বকাপে দরকার ঠিক তেমনি আমাদের পজিশন অনুযায়ী ব্যাটসম্যান নামানোটাও জরুরী । এখন রিয়াদ যে পজিশনে খেলতে নামে বা ৭ নাম্বার পজিশনটা রিয়াদের এই বয়সে যায় না কারণ তখন যে নামবে তার ব্যাট করতে হবে ১৫ বলে ৩০ রান নিতে পারে এমন বা ২০ বলে ৩০ , আবার অনেকসময় ধরেও খেলতে হবে । মোটের উপর এমন একজন ব্যাটসম্যান যে কিনা মেরেও খেলতে পারে আবার ধরেও খেলতে পারে । উঠেই মেরে খেলাটা রিয়াদের এই সময়ে একটু কঠিনই বলতে হয় । আবার যেহেতু রিয়াদের উপরের দিকে নেমে ভালো করার রেকর্ড বিশ্বকাপেই আছে তাই সেটাও তার ফেভারেই কাজ করবে । রিয়াদ উপরের দিকে নেমে , নাম্বার ৩ অথবা ৪ এ নেমে ধরে খেললে রান যেমন আসবে সাথে স্ট্রাইক রেটটাও হেলদি হবে । আরেকটা ইনফরমেশন দিয়ে রাখি , বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ এভারেজ রিয়াদের এবং তা ৫২+ , স্ট্রাইক রেট ৮২+ । আমরা বিশ্বকাপে সেরা ভাবি বা জানি সাকিব আল হাসানকে । ইভেন সাকিব আল হ্যাঁসান থেকেও রিয়াদ এভারেজে আগানো , সাকিবের স্ট্রাইক রেট ৮৩+ , সাকিব নট আউট ছিল ৪ টায় , রিয়াদ ছিল ৩ টায় , সাকিবের এভারেজ ৪৫ এর আশেপাশে । সাকিবের সাথে কম্পেয়ার করে বুঝাতে চাইলাম রিয়াদ আসলেই বিশ্বকাপে ভালো খেলে । তাই আমাদের উচিৎ এই অভিজ্ঞতাটা কাজে লাগানো । এখন যদি আমি আমার পার্সোনাল মতামত দেই তাহলে বলবো যদি আমি রিয়াদকে বিশ্বকাপ বা এশিয়া কাপে খেলাই তাহলে তাকে নাম্বার ৩ অথবা ৪ এ খেলাবো এবং হাতে যে ৫/৬ মাস আছে এর মধ্যে অবশ্যই তাকে ফিটনেস নিয়ে কাজ করানোতে জোর দিবো । নাম্বার ৭ এ এমন একজনকেই নামাব যে আসলে উঠেই ব্যাট চালাতে পারে সেটা শামিম হোক বা অন্য কেউ হোক । রিয়াদকে এঙ্করিং রোল দেওয়াটাই ব্যাটার এবং একইভাবে তামিমকে এঙ্করিং থেকে বের করে তার পুরনো হার্ডহিটার ওপেনারের কাজ করাতে চাইবো । এতেই তাদের নিজেদের এবং দলের দুইজনের জন্যই বেস্ট হবে ।

3 years ago | [YT] | 1

Hridoy Tanvir

এই স্ট্যাটাস প্রথম অংশ সবার জন্য না , যারা এই টাইপের মানুষ না তারা গায়ে লাগাবেন না ।
" কয়লা ধুলে ময়লা যায় না "
আরেকটা কথা মাথায় আসছিল যেটা একটু অফেন্সিভ হয়ে যাবে তাই দিলাম না । এখন আসি আসল কথায় , আমি ব্রাজিলের খেলার দিন একবারও দেখলাম না ব্রাজিলের কোন সাপোর্টার ৪৫ মিনিট খেলা দেখার পর ব্রাজিলকে ধুয়ে দিসে কিন্তু ঠিকই আর্জেন্টিনার প্লাস্টিক ছাগলের ৩ নাম্বার বাচ্চা সাপোর্টার গুলোকে দেখলাম নিজের দলকেই ধুয়ে দিতে , ইভেন মেসির ওই গোলের আগে মিস করা ফ্রি কিক নিয়েও তারা মেসিকে বাদ দেয় নাই , তার থেকেও বড় কথা তাদের কাছে মেসির গোলটাও একদম হঠাৎ করে পাওয়া ছিল , সেই থার্ড ক্লাস সাপোর্টার গুলো আবার ম্যাচ জেতার পর ব্রাজিলকে অ্যাটাক করা শুরু করেছে । যেখানে তারা নিজেরাই ৫ মিনিট আগে নিজের দলকে গালি দিতে দিতে শেষ :3
এসব এক্সট্রিম লেভেলের লজিক ছাড়া খোঁচাখোঁচি অনেক আগে ছেড়ে দিসি , কারণ আপনি সুস্থ মস্তিষ্কে যখন থাকবেন তখন আপনি নিজেই আপনার এসব দেখে নিজেকে নিজে ব্রেইনলেস বলবেন নাথিং এলস ।
এখন আপনি বলতে পারেন ব্রাজিলের অনেক ফ্যান এমন করে , আমি সবার কথাই বলছি । তার উপর আমাকে কেউ বলতে পারবে না আমি টক্সিক ভাবে আর্জেন্টিনাকে নিয়ে কিছু বলছি । হ্যাঁ বিশ্বকাপে কম বেশি কথার তর্ক চলবে কিন্তু সেটা লজিকেলি কইরেন না হলে বিশ্বকাপের পর দেখবেন পার্সোনাল রিলেশন অনেকের সাথে খারাপ হয়ে যাবে , সেটা কাজের ক্ষেত্রে হোক বা প্রাত্যহিক জীবনে হোক । যত যাই হোক মেসি - রোনালদো - নেইমার আপনাকে ভাত খাওয়াবে না বা আপনার বিপদে দাঁড়াবে না তাই কতটুকু ফান করা উচিৎ বুঝা উচিৎ । যদি ব্রাজিল - আর্জেন্টিনা আর্গুমেন্ট করতে চান লিমিটলেস বলবেন আলাদা পোস্ট করে লজিকেল এবং লজিক ছাড়া কত টাইপ তর্ক করা যায় করে দিতে পারবো কিন্তু দিন শেষে সম্পর্ক নষ্ট হবে 🙂
এখন আসি খেলার কথায় , আর্জেন্টিনা সৌদি আরব এবং মেক্সিকোর সাথে প্রায় একই খেলেছে , বরং সৌদির সাথে অনেক ভালো খেলছে । শুনতে অবাক লাগলেও আর্জেন্টিনা সৌদির সাথের শেষ ২০/২৫ মিনিট এবং মেক্সিকোর সাথে শেষ ২০/২৫ মিনিট একই খেলা দিয়েছে ,যেই খেলাটাই সবাই তাদের কাছে চায় । মেক্সিকোর সাথে প্রথম ৬০ মিনিট সবথেকে বাজে ছিল , সৌদির সাথে এর থেকে ভালো খেলেছে প্রথম ৬০ মিনিটের খেলা । পার্থক্য হচ্ছে সৌদি গোল দেওয়ার মতো খেলছে মেক্সিকো ওই লেভেলেই খেলতে পারে নি , অন্যদিকে সৌদির গোল কিপার শেষ ৪০ মিনিট যেভাবে একের পর এক সেইভ দিয়েছে মেক্সিকোর গোল কিপার ওচোয়া তার আশেপাশেও ছিল না । ম্যাচটা এখানেই জিতেছে আর্জেন্টিনা । আর্জেন্টিনার এখন উচিৎ পরবর্তী ম্যাচ জিতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া তাহলে তারা ফ্রান্সকে এভয়েড করতে পারবে । আপনি যদি খেলা বিন্দু পরিমাণ বুঝে থাকেন তাহলে এই ফ্রান্সের সামনে এই আর্জেন্টিনা কোনভাবেই পারবে না , লাকিলি পারলে সেটা ভিন্ন কথা কিন্তু কেন এই রিস্ক নিবে?? যদিও পোল্যান্ডের সাথে ম্যাচ কঠিন হবে ।
এইবার আসি মেসির কথায় , মেসি অবশ্যই সেরা কিন্তু মেসি ক্লাব ফুটবলে যেটা দিতে পারে ন্যাশনাল টীমে সেটা পারে না কেন ?? ( আপনি বলতে পারেন কালকে এতো সুন্দর গোল দেওয়ার পর কেন তাকে নিয়ে এই প্রশ্ন তার উত্তর পুরোটা পড়লে পাবেন ) সেখানে অনেক গুলো কারণ থাকতে পারে কিন্তু দিনশেষে মেসি ই দলকে আবার উদ্ধার করে তার অন্যতম কারণ পারফর্মার নেই অন্য কোন , ডি মারিয়া যতটুকু দিচ্ছিল এইবার সেও টপ নচ নয় , যদিও গতকালকে মেসির গোলের পরে দলটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে । তবে আমার প্রশ্ন মেসি ভক্তদের কাছে কেন মেসি ন্যাশনাল টীমে এই ফ্রি কিক গুলো মিস করে? যেখানে সে ক্লাব ফুটবলে প্রতিনিয়ত এমন গোল করে একই পজিশন থেকে ?? পরপর দুই ম্যাচে একই পজিশন থেকে সে ফ্রি কিক মিস করলো । লজিকেল উত্তর দিবেন , আজাইরা প্যাঁচাল দিবেন না । আরেকটা কথা আমার কাছে রোনালদো , নেইমার , মেসি থেকে শুরু করে জিদান , কাকা , রোনালদো নাজারিও সবাই স্টার এবং কারো সাথে কারো তুলনা তো অবশ্যই করবো না । কিন্তু তাদের খেলার পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে বিশ্লেষণ করা থেকে এই প্রশ্ন করছি ।
শেষ করবো আবারও একটা কথাই বলে , ফান করবেন , খেলা দেখবেন , খেলা এঞ্জয় করবেন কিন্তু এটাও মাথায় রাখবেন কোন জায়গায় যেয়ে থামতে হয় । তর্ক থাকবে স্বাভাবিক কিন্তু সেটা ফান পর্যন্ত রাখবেন 🙂

3 years ago | [YT] | 1

Hridoy Tanvir

এই পোস্টে আমি অনেক গুলো কাকতালীয় ঘটনা বলবো যেগুলো ভারতের ফ্যানদের কাছে তেমন কোন ঘটনা মনে হবে না । যাই হোক শুরুতেই ৩ টা ভাগ করবো ,
১। বাংলাদেশের প্লেয়ারদের ভুল ।
২। আম্পায়ারিং বা আইসিসির ভারত প্রীতি ।
৩। সাকিবের নিষ্প্রভ ।
৪। টীম ম্যানেজমেন্ট ।







শুরু থেকে আসি প্রথমেই টীম ম্যানেজমেন্টের ভুলগুলো :

১। শরিফুলকে দলে নেওয়াটা লজিক্যালি ওকে হলেও মাঠে তা কাজে দেয় নাই , এটাকে আপনি ডিরেক্ট দোষ দিতে পারবেন না কিন্তু আপনি বোলার কে নেওয়ার জন্য আপনার টপ অর্ডার একজন ব্যাটসম্যানকে বাদ দিবেন এটা মোটেও কাম্য নয় , তার উপর আপনি যখন জানেন আপনার মিডল অর্ডার খুবই বাজে করতেসে সেখানে আপনি কেন ওপেনার বাদ দিবেন ?? এই ম্যাচে ক্লিয়ারলি সোহান এবং রাব্বি যেকোনো একজন বাদ যায় , যেহেতু সোহান সহ অধিনায়ক এবং কিপিং করে , লিটন কিপিং করবেন না সেহেতু সোহানকে রেখে রাব্বিকেই বাদ দিলেন । আপনার ম্যাচটা বেঁচে যেত ।

২। লিটন ওপেনিং এ ভালো খেলে এটা সবাই বলছিল এবং এই ম্যাচে ওপেনিং এ এসেই সেই প্রমাণ রাখলো সে , তার মানে টীম ম্যানেজমেন্ট জোর করে যে কাজটা করতেসিল সেটা ভুল ছিল । একমাত্র শান্তকে দলে রাখার জন্য এতো চেষ্টা এই টীম ম্যানেজমেন্টের যে কিনা একাই ম্যাচটা হারিয়ে দিয়েছে । ইভেন আমরা এখন পর্যন্ত টি২০ তে সব থেকে ভয়ঙ্কর ওপেনিং পার্টনারশিপ যাদেরকে ভাবি বা যাদের উপর বিশ্বাস আছে সেই সৌম্য-লিটন এখন পর্যন্ত একসাথে ওপেনিং এ নেমেছেন মনে হয় ১/২ ম্যাচ । তাদেরকে একসাথে টানা ১০ ম্যাচ ওপেন করানোর সাহস টীম ম্যানেজমেন্ট দেখায় না কেন? অনেক তো চেঞ্জ করলো , এটা দেখতে দোষ কি?? পার্টনার যে কত গুরুত্বপূর্ণ সেটা লিটনের আউট হওয়ার পর শান্তর দিকে তার এক্সপ্রেশন করা থেকেই বুঝা যায় ।

৩। আমার ব্যাটসম্যানরা অফে শট খেলতে পারতেসে না , ফিল্ডার সবাই লেগে এবং খেলা চলতেসে ফিনিশিং সময়ে । আমি সবসময় বলি শেষ ৫ ওভারে যদি ১ উইকেট পরে তখনই মোসাদ্দেককে নামাতে হবে কারণ সে ফিনিশিং এ এখন দলে যারা আছে সবার থেকে বেস্ট এবং পরিক্ষিত সাথে প্রমানিত । মোসাদ্দেক অফে ভালো খেলে , এসেই যে ৬ টা মারলো সেটা তার জন্য একটা ইজি শট কারণ সে এমনি খেলে । কিন্তু আমরা কি করলাম আগে রাব্বিকে নামালাম তারপর সোহান তারপর মোসাদ্দেককে , এখানেই আমরা বড় ভুল করেছি । মোসাদ্দেক আগে নামলে পর পর দুই বলে ৬ মারতে চাইতো না । প্রথম ৬ এর পর টাইম নিতে পারতো কারণ পরে ব্যাটসম্যান আছে এবং সব থেকে ইম্পরট্যান্ট ইন্ডিয়া ফিল্ডিং চেঞ্জ করতে বাধ্য হতো , তখন দুই পাশের ব্যাটসম্যানই রান বের করে ফেলতে পারতো ।

৪। মেরুদণ্ডহীন টীম ম্যানেজমেন্ট , ক্রিকেটীয় নলেজে আধুনিক ক্রিকেট থেকে অনেক পেছানো , কখনোই প্রতিপক্ষকে রিড করতে পারে না , খেলার সিচুয়েশন তো পারেই না ।

বাংলাদেশের প্লেয়ারদের ভুল :

১। মিস ফিল্ডিং , মিস ফিল্ডিং এবং মিস ফিল্ডিং । এই একটা জায়গা ঠিক থাকলে রান কম করে হলেও ১৪০/৫০ এর মধ্যে থাকতো । সুরাইয়া কুমার ইয়াদাবকে যতগুলো চান্স দিলো এরপরও রান ১৮৪ থাকা ভাগ্য বলতে হয় ।

২। নাজমুল হাসান শান্ত : সবথেকে বড় নির্লজ্জ একটা প্লেয়ার । টি২০ তে যে ব্যাটসম্যান প্রতিদিন প্রথম ৯/১০ বল ডট দেয় তাকে টীম ম্যানেজমেন্ট কিভাবে খেলায় আর সে নিজে কিভাবে খেলে ?? আজকের এই ম্যাচে যদি সৌম্য খেলতো , ধরে নিলাম সে খারাপ খেলে তবুও সে ৬ বলে ১০ , ১০ বলে ১৫ এমন করে দিতো । আপনার অনেক গুলো বল বেঁচে যেত, সাথে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও থাকতো আমাদের দিকে । শান্ত কালকে ম্যাচ হারার অন্যতম কারণ , কেননা সে ৯৬ বলের খেলায় ২৫ বল খেলে ফেলসে , সেখানে তার কত করা উচিৎ ছিল? কম করে হলেও ৩৫+ । তার থেকেও বড় কথা একজন ব্যাটসম্যান ২৫ বল খেলার পর সেট হয়ে এমন আউট কিভাবে হয়? আর সবচেয়ে সেলফিশের জায়গা টা বলি , লিটন যখন রান নিচ্ছিল , ২য় রানের সময় লিটন শুরুতেই পড়ে গেলো তখন কিন্তু লিটন তার সাইডের ক্রিজের ১ থেকে ২ স্টেপের ভিতরেই আর শান্ত তখন মাঝ ক্রিজের কাছে , তখনই শান্ত চাইলেই পারতো ব্যাক করতে কিন্তু না সে লিটনের পড়ে যাওয়া কেয়ারই করলেন না , তিনি নো লুক দিয়ে বিন্দুমাত্র নিশ্বাস না ফেলে নিজের উইকেট বাচিয়ে দৌড় দিলেন । এমন অনেক ম্যাচ দেখেছি দলের বেস্ট ব্যাটসম্যানকে বাঁচানোর জন্য যে একটু কম রিদমে আছে নিজের উইকেট টা দিয়ে আসে বা নিজে রিস্ক নিয়ে বেস্ট ব্যাটসম্যানকে প্রটেক্ট করে । এটা শান্ত চাইলেই করতে পারতেন , আমরা উল্টো বাহবাহ দিতাম । লিটনের রিয়েকশন দেখেই বুঝা যায় সে কতটা বিরক্ত শান্তর উপরে । দলের এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় সেলফিশ প্লেয়ার শান্ত ।

৩। ইয়াসির আলি রাব্বি : আমি তাকে নিয়ে আগেও বলেছি সে যদি প্ল্যানিং করে না খেলে সে টি২০ টিকবে না । তার হাতে শট আছে কিন্তু কনফিডেন্স তো নেই ই সাথে এপ্রোচ আরও বাজে । কালকে প্রথম যে বলটা সে ব্লক করলো সেটাতেই সে আপারকাট করলেই ৪ চলে আসে , ফিল্ডার ও ছিল না , বলও অনেক হাই ছিল । দলে সে জায়গা পাওয়ার কোন কারনই নেই ।

৪। নুরুল হাসান সোহান : সোহানকে কালকে অনেকে বলবেন ভালো খেলেছে , ট্রাই করেছি কিন্তু আমি বলবো তার বোকামির জন্য হেরেছি । তাসকিন ৪/৬ মেরে ম্যাচে এনেছে সোহান এসে পরপর ২ বল ডট দিলো তার প্রিয় লেগ সাইড শট খেলতে যেয়ে সাথে তার পাকনামির জন্য একটা ওয়াইড নষ্ট করলো । তাকে দেশ সেরা উইকেট কিপার বলা হয় কিন্তু আসলেই কি সে তা ?? কালকে সুরাইয়া কুমারের ক্যাচ মিস করলো । ব্যাটিং এ দলের জন্য এখন পর্যন্ত কিছুই করতে পারে না । নিজে আগে আগে নেমে যায় কিন্তু কাজের কাজ করতে পারে না । ইভেন তাকে সহঅধিনায়ক কেন করা হয়েছে সেটা বিসিবি জানে ।

৫। আফিফ হোসেন ধ্রুব : বড় দলের সাথে আফিফ ভালো খেলে না একটা মিথ আছে এবং এটা প্রমাণ করে আফিফের দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যাটিং । কালকে আফিফ যেভাবে বল আকাশে তুলে দিলো এবং সবচেয়ে দৃষ্টিকটু ছিল একটা প্লেয়ার অফে শট খেলতে পারতেসে না ।

আমাদের ব্যাটিং এর সময় সবথেকে বড় ভুল তারা কনফিডেন্স পাচ্ছে না । তারা নিজেদের বিশ্বাসে থাকতে পারছে না । ম্যাচ রিড করে খেলতে পারছে না । বেসিক খেলাটাই দিতে পারতেছে না ।

সাকিব আল হাসান :

সাকিব এজ অ্যা প্লেয়ার গ্রেট , বাংলাদেশের দিক দিয়ে চিন্তা করলে গ্রেটেস্ট সে কিন্তু সাকিব এজ অ্যা ক্যাপ্টেন এক কথায় বাজে , ক্যাপাবল না সে ক্যাপ্টেনসি তে । তার পারফরমেন্স তাকে পার্সোনালি গ্লোরিফাই করবে কিন্তু তার ক্যাপ্টেনসি দলকে অনেক বেশি ভুগাবে । এই দলের একমাত্র প্লেয়ার যে পারে মাঠের সব অনিয়মের বিপক্ষে ফাইট করবে এবং সেটা সারা বিশ্ব শুনবে । কিন্তু তিনি ছিলেন খুবই নিষ্প্রভ । ক্যাপ্টেন এর আলাদা অনেক কিছু করতে হয় , ক্যাপ্টেন কতটা ভাইটাল হয় তা আমরা মাশরাফি থেকে দেখেছি । কিন্তু সাকিবের ব্যাটিং এর সময় সে যদি লিডার হিসেবে ধরে খেলতো হয়তোবা আমরা জিতে যেতাম ।

আইসিসির স্বজন প্রীতি :

বাংলাদেশের ভুল আছে এটা যেমন সত্য ঠিক তেমন আপনি কখনোই এটা দিয়ে আইসিসির চুরি গুলো সাপোর্ট করতে পারেন না । বাংলাদেশ যদি ০ রানে অলআউট হয় এরপরও যদি আইসিসি চুরি করে সে চুরিটাই বড় হবে কারণ আগে নৈতিকতা তারপরেই না খেলায় আসবেন ।

১। মাঠ ভেজা থাকা অবস্থায় তড়িঘড়ি করে মাঠে নামানো , যেখানে কমপক্ষে আরও ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় লাগবে এই মাঠ শুকাতে । এটা কেন করেছে? একমাত্র কারণ যদি আর ২ ওভার কমে যেত তাহলে টার্গেট আরও ২০ থেকে ২৫ রান কমে যেত । শেষ ৭ ওভারে যেয়ে টার্গেট হতো ৫০ থেকে ৬০ এর মতো । এবং তার থেকেও মাঠ পিচ্ছিল থাকতো না , আউটফিল্ড স্লো হতো না , বল ভারি হয়ে যেত না । কোন দল সুবিধা পাবে সেটা বড় কথা না বড় কথা এই কন্ডিশনে ক্রিকেট হতে পারে কিনা তা ?? অন্য বড় দলের সাথে কখনোই এটা করতে পারতো না । এই ম্যাচ ভারত হারলে বিদায় হতো যে কারণে আইসিসির এতো তাড়াহুড়ো ম্যাচ স্টার্ট করা ।

২। ফেইক ফিল্ডিং : ফেইক ফিল্ডিং এর ভিডিও সবাই দেখেছেন , এটা নিয়ে ৫ রান পেনাল্টি বাংলাদেশ পেত যা আম্পায়ারদের কথা কিন্তু তারা বলছে তারা খেয়াল করে নি , তাই দিতে পারে নি । পরের বল করে ফেলায় আর সম্ভব হয় নি , এখানেও পক্ষপাতিত্ব ।

৩। ভারত এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সাথে খেলায় যত উরি করে সেটা দেখার পরও যদি আপনি শুধুমাত্র বাংলাদেশ খেলা পারে না বলে দোষ দেন তাহলে আপনি নীতিহীন এক মানুষ । আপনি বাস্তব জীবনে কখনো সলিড নয় ।

বল ভেজা থাকলে আউটফিল্ড ভেজা থাকলে ব্যাটসম্যানদের অসুবিধা আমার মতে বেশি কারণ তখন আপনি ৪/৬ মারতে পারবেন না , দুই নেওয়া সোজা হবে না , দুই নিতে গেলে রান আউট হবে তা তো দেখলেনই । এখন বলবেন তাহলে ফিল্ডার রা ফিল্ডিং করলো কিভাবে? খেয়াল করে দেখবেন তাদের থ্রোয়ার সবার পিছে পিছে দৌড়াচ্ছিল জুতার নিচ পরিষ্কার করে দেওয়ার জন্য । ভারত ভালো দল এটা নিয়ে সন্দেহ নেই , তারা এমন থ্রো হর হামেশাই করতে পারবে তাও স্বাভাবিক । কিন্তু আইসিসির সহায়তা ছাড়া ভারত কখনোই গ্রেট হতে পারবে না ইভেন , এখনো গ্রেট হতে পারে নি । ২০১১ তে আইসিসির সহায়তায় কাপ জিতলো এবং এরপর এখন পর্যন্ত এতো সুযোগ পেয়ে কাপ আর জিততে পারে না । এখানে বাংলাদেশেরও কিছু দোষ আছে । মাঠে যদি প্রতিবাদ না করতে পারে তাহলে দিনশেষে আমরা এভাবে লিখে যাবো কিন্তু কাজে দিবে না ।

ভারত-পাকিস্তানের ফ্যানরা দূরে থাকেন । যে মানুষ নিজের দেশের খেলায় অন্য দেশ সাপোর্ট করে তার সাথে তর্ক তো দুরের কথা তাকে তো আমি মানুষের কাতারেই ফেলবো না । অনেক বোল্ড স্টেটমেন্ট কিন্তু এটাই রাইট , আমার এই দেশের প্লেয়াররা স্কিলে কম হতে পারে , আমরা জিততে না পারি তার মানে এটা না আপনি এই দেশে থেকে অন্যদেশের সাপোর্ট করবেন আবার এই দেশকে হেয় করবেন ।

3 years ago | [YT] | 6

Hridoy Tanvir

আগামীকালকের খেলায় কে জিতবে??

3 years ago | [YT] | 3