Hi, This #MediaTech252 channel is a #tutorials #videoshow channel. Various #bengali videos including #computer #words #excel #power Point, #photoshop #illustrator #premiere #online are made in this #channel #MediaTech252

Thank you so much.


MediaTech252

মধুময় নৌকা ভ্রমণের সেই দিনটি
লেখক: মোঃ সোলায়ামন (শাহীন)
সময়টা তখন ১৯৮৪ সাল। শুভ্র মেঘের ভেলা ভাসানো এক ঝলমলে সকাল। দৌলতপুর গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে চলা সরু নদী(খাল)। নদীর ঘাটে বাঁধা একটি ডিঙ্গি নৌকা। নৌকার ছাউনির একপাশে কাপড় জড়ানো। ছাউনির ভেতরে বসা আছে এক সুন্দরী নববধু। এখান থেকে যাত্রা শুরু হলো তাদের। কচি ধানের শীষের মতো স্নিগ্ধ এক নতুন বধূ শায়লা (ছদ্মনাম) আজ বাবার বাড়ি মুহুরীগঞ্জ যাচ্ছে বেড়াতে। সাথে তার ছোট্ট ভাসুর-পো বছর চারেকের সুমন। গাঢ় গোলাপী রঙা শাড়িতে লাবণ্যময়ী শায়লাকে আজ আরও বেশি মোহময়ী লাগছে।
পাল-তোলা ছোট ডিঙি নৌকাটি যখন সরু নদী থেকে বেরিয়ে দিগন্তজোড়া ছোট ফেনী নদীর বুকে পড়ল, তখন চারপাশের দৃশ্যপট যেন এক স্বর্গীয় চিত্র হয়ে ধরা দিল চোখের মণিকোঠায়। নদীর দু'ধারে সবুজ বনানী, কোথাও বা কূল ছুঁয়ে নেমে এসেছে ঝোপের সারি। কোথাও বা দেখা যাচ্ছে মৃদু বাতাসে দোল খাওয়া সাধা কাঁশফুল। মিষ্টি রোদ পড়ে চিকচিক করছে নদীর জল। যেন এক অপরুপ মোহময় দৃশ্য।
নৌকা এগিয়ে চলে। প্রথম যে বাজারটি পড়ল, সেটি ছিল সরু নদীর(খাল) পাশে। তার নাম মমতাজ মিয়ার হাট। নদীর ঘাটে লোকজনের আনাগোনা, রঙিন কাপড়ের পসরা আর বাঁশের চাঙারিতে টাটকা মাছের গন্ধ। সব মিলিয়ে যেন এক প্রাণবন্ত ছবি। বড় নদীর কূল ঘেঁষে হেলে দুলে চলছে ডিঙ্গি নৌকাটি। একটু পর দূরে দেখা গেল আরেকটি বড় বাজার। যার নাম লেমুয়া বাজার। নদীর উপর দিয়ে তৈরি কাঠের বিশাল পুল নদীটির দু-কুল স্পর্শ করে আছে। পুলের উপর দিয়ে শত শত মানুষের পদচারনায় পুলটি মৃদু দুলছে। একটু পরেই দেখা গেল নদীর উপর দিয়ে চলে যাওয়া বড় বাস-টুাক পারাপারের পুল। ডিঙ্গি নৌকাটি যেই মুহুর্ত্বে পুলের নিচ দিয়ে যাচ্ছিল, ঠিক সেই মুহুর্ত্বে দুরের আরেকটি পুলের উপর দিয়ে ঝমঝম শব্দে একটি দ্রুতগামী ট্রেন তার পুল পার হচ্ছে, আর সেই শব্দে চমকে উঠে সুমন। খিলখিল করে হেসে উঠল এবং হাতের অঙ্গুলি দিয়ে দেখাচ্ছিল তার কাকীমাকে।
নৌকা যখন সুন্দরপুর বাজারের কাছে পৌঁছল, ততক্ষণে সূর্য কিছুটা তেতে উঠেছে। মাঝি পাল নামিয়ে বৈঠা ধরল। এই সময় শায়লার ভাসুর-পো হাত দিয়ে নদীর পানিতে খেলা করছিল। শায়লা ছাউনি থেকে বেরিয়ে এসে সুমনের দিকে প্রেমময় দৃষ্টিতে তাকিয়ে, এক আঁজলা শীতল জল তুলে সপাং করে তার গায়ে ছিটিয়ে দিল। সুমনও মুহূর্তেই মেতে উঠল এই জল-খেলায়। তাদের বাঁধভাঙা হাসি আর খুনসুটি দেখে মাঝিও মুচকি হাসছিল আর দাঁড় বাইছিল। দাঁড়ের আঘাতে নদীর পানিতে এক ধরনের শব্দ হচ্ছিল। সেই শব্দের মুর্ছনায় আন্দোলিত হচ্ছিল শায়লার মন।
শায়লা আলতো করে সুমনের হাত ধরে ফিসফিস করে বলল, "ঐ দেখ, আর কিছু দূর গেলেই বাবার বাড়ি। বাবার বাড়ির কাছাকাছি চলে এসেছি আমরা। নদীর দুপাশের সাদা কাঁশফুল গুলো খুব সুন্দর তাই না?" এই সহজ আলাপচারিতার মধ্যে দিয়েও একটি মিষ্টি, স্নিগ্ধ প্রেমের আভা ছড়িয়ে পড়ছিল, যা শায়লার নতুন সম্পর্কের গভীরতাকেই ইঙ্গিত করে।
শেষের দিকে নদীপথের উপর দিয়ে যাওয়া আরও একটি বড় সড়ক-সেতু দেখা গেল, যেখান দিয়ে দ্রুতগামী বাসগুলো মুহুরীগঞ্জের দিকে ছুটে যাচ্ছে। প্রকৃতির এমন নয়নাভিরাম দৃশ্যের সাক্ষী হয়ে, হাসি-খুশি আর মধুর জল-খেলায় দেখতে দেখতেই যেন দৌলতপুর থেকে মুহুরীগঞ্জের মনোমুগ্ধকর এই নৌকা জার্নি শেষ হয়ে এলো।

বি:দ্র:- এই গল্পটি লেখকের ছোটবেলার একটি স্মৃতি। স্মৃতিটাকে গল্প আকারে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

7 months ago | [YT] | 0