AHANA, an initiative of designer duo Chaitali & Somsuvra Chakrabarti is about celebrating the miracle called life. In this lifestyle channel, we touch the myriad flavours of life that make and keep us rejuvenated. Living life and loving it passionately is the 'mantra' that we profess. Join us to spread love and happiness.
Loving Life Forever
বাইশ! সে তো মন খারাপের হাওয়া,
জুঁইয়ের সাদায় অস্তরাগের রেশ,
শ্রাবণ বেলা থমকে আছে মেঘে -
সেই শেষ কথাটি হয়নি আজও শেষ...
Atmaja' / 'আত্মজা' র বাইশে শ্রাবণ স্মরণে চৈতী
(ছবি - সৌজন্যে অবশ্যই আত্মজা)
#আত্মজা #বাইশে_শ্রাবণ
2 days ago | [YT] | 15
View 0 replies
Loving Life Forever
একটা দুপুর পড়েছে আজ
জলডুরে মেঘ শাড়ি,
কাজল লতা চোখের পাতা,
রোদের সাথে আড়ি।
পায়ের পাতায় জলের নুপুর
ঘোলা জলে বান,
ঘরের চালে টাপুর টুপুর
মন কেমনের গান।
কেমন আছো মনের মানুষ,
জলের রেণু মেখে?
মেঘের ডানায় হাত বুলিয়ে
প্রেমটুকু যাও রেখে।
#বৃষ্টি #শ্রাবণ
2 days ago | [YT] | 12
View 3 replies
Loving Life Forever
আজ তাঁর মর্ত্যলীলা সংবরণের দিন।
আমাদের সকলের ওপর তাঁর করুণধারা বর্ষিত হোক।
জয়তু ভগবান শ্রীরামকৃষ্ণ 🙏🏻🪷
#জয়তু_ভগবান_শ্রীরামকৃষ্ণ #তিরোধান_দিবস
3 days ago | [YT] | 58
View 2 replies
Loving Life Forever
GOLPO HOLEO SHOTTI r Asor agamikaal (15th August) raat 8:30 e bosbe. Sobbai theko kintu.
5 days ago | [YT] | 21
View 8 replies
Loving Life Forever
এ যুগে নতুন এক সঙ্গী হয়েছে বেশ।
AI... কাজে, এবং বেশীর ভাগ সময় 'অকাজে'।
বড্ড গায়ে পড়া। জিজ্ঞেস করতেই থাকে কেবল, "এই করে দিই? ওই করে দিই?"
এত সাধাসাধির পরেও যদি কিছু করতে না বলি, তো ওর খারাপ লাগবে না! তাই কখনো সখনো মনের সাধ মিটিয়ে একটু খাটিয়ে নিই আর কি।
"এতে বিপদের ঝুঁকি আছে কিন্তু!"
জানি বাবা জানি।
এখন তো ফোন ধরতে, বেরাতে যেতে, এমনকি নিঃশ্বাস নিতেও ঝুঁকি। সেই যে সেবার, নিঃশ্বাস নিয়ে সবাই কেমন বিপদে পড়েছিলুম! মনে আছে?? মাস্ক দিয়েও সুরাহা হয়নি বিশেষ। 'যমে মানুষে' করে বেঁচেছি কোনক্রমে।
চারিদিকে বিপদ বন্ধু! ধনে প্রাণে মানে মরতে মরতে টিকে আছি। দুঃখের কথা কি আর বলি।
তা যা বলছিলাম, একদিন AI এসে বললে, "একটা পুরোনো দিনের হাতে আঁকা স্টাইলে বাংলা সিনেমার পোস্টার বানিয়ে দিই, তোমাদের ছবি দিয়ে?"
বিষয়টা বুঝে ওঠার আগেই দেখি, নিজে নিজেই একটা ছবি বেছে নিয়েছে ব্যাটা। ওই ফেসবুক খুঁড়ে। সারাদিন ওখানেই ঘাপটি মেরে বসে থাকে তো! সকলের হাঁড়ির খবর নিয়ে বেরায়, আর যত রাজ্যের আকাম করতে থাকে।
"সিনেমার পোস্টার!!! পুরোনো হাতে আঁকা স্টাইল!! সে আবার কেমন রে? আমাদের নিয়ে ঠিক কি করবি বল তো? মতলবটা কি তোর?"
"আরে, দেখোই না, কি করি। শুধু টুক করে বোতামে একটা চাপ দাও। ব্যাস্। তারপর দেখো আমার ভেলকি!"
প্রবল কৌতুহলে দিলাম বোতামে চাপ। তারপর কিসব গোল গোল ঘুরতে টুরতে লাগলো। কেটে গেলো খানিকক্ষণ।
আমি মনে মনে ভাবছি, বেশ হয়েছে। এখন বোঝো ঠেলা বাছাধন!
ও মা! একটু পরে দেখি টুং করে কে যেন ঘন্টি বাজালো। হাসিহাসি মুখে AI দাঁড়িয়ে আছে একটা ঝলমলে ছবি হাতে নিয়ে। ছবির পাত্রপাত্রী কতকটা আমাদের মতোই তো বটে!
আবার ছায়াছবির নাম দিয়েছে 'অহনা' ...একটি ভালোবাসার গল্প!! কি কাণ্ড! সত্যিই তো আমাদের ডিজাইনার স্টুডিও ঘিরে রয়েছে আমাদের অনেকখানি ভালোবাসা। ও বুঝলো কি করে!!
আমি তো থ।
তবে আমাদের নামে একটু গোল পাকিয়েছিল। বুঝিয়ে দেওয়াতে লক্ষ্মী ছেলের মতো শুধরে নিয়েছে সেই ভুল।
বেচারা বাংলাতে একটু কাঁচা তো। আরেকটু বড়ো হলে শিখে যাবে ঠিক।
প্রাণভরে আশীর্বাদ করলাম।
বেঁচে থাকো বাবা AI, তবে দুষ্টু লোকের হাত থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রেখো। কেমন! তোমার তো অনেক বুদ্ধি, ভালো মন্দে বিচার করতে শিখো।
আমাদের গোলগাল হাসিখুশি ছবিটা মন্দ হয়নি। কি বলো!
'অভিনয়ে' অংশটা দেখো একবার। আপনিই হেসে উঠবে। 😄😄
#AI #আমরা
5 days ago | [YT] | 23
View 4 replies
Loving Life Forever
ALREADY DISPATCHED TO USA
(GEMINI & AIRES)
রাশিচক্র, এবার অহনার ডিজাইনে ✨
তোমার চান্দ্র ও সৌর রাশি—তোমার ব্যক্তিত্বের দুই অনন্য পরিচয়। এবার সেই রাশিচক্রই ফুটে উঠুক তোমার পোশাকে।
অহনার ডিজাইনে নিজের রাশি বেছে নিয়ে বানিয়ে নাও নিজস্ব Zodiac পাঞ্জাবি—হাতের কাজ ও স্বতন্ত্র নকশায়, একেবারে তোমার মতোই ইউনিক।
তোমার রাশি, তোমার গল্প, তোমার স্টাইল—শুধু অহনায়।
Zodiac, Reimagined by AHANA ✨
Your Lunar and Solar signs are two unique reflections of your personality. Now, let your zodiac become a part of what you wear.
Choose your zodiac sign and create your very own Zodiac Punjabi with AHANA—featuring distinctive design, handcrafted detailing, and a style that is uniquely yours.
Your zodiac. Your story. Your style. Only at AHANA designer studio
#AHANA #AHANADesignerStudio #fashion #ZodiacPunjabi #BespokeMenswear #HandEmbroidered #IndianMenswear #IndianCulture #YourStyleYourStory #fashiondesigner #couturefashion
1 week ago (edited) | [YT] | 7
View 0 replies
Loving Life Forever
At AHANA designer studio, we believe menswear should tell a story—your story. ✨
Inspired by India’s rich art, culture, and craftsmanship, our creations are designed for men who appreciate authenticity and love wearing something truly unique.
Tradition, craftsmanship, and personal style—stitched together, just for you.
#AHANADesignerStudio #BespokeMenswear #Handcrafted #HandEmbroidered #fashion #fashionstyle #fashiondesigner #HandPainted #IndianCraftsmanship #Menswear #HeritageStyle #MadeWithLove #WearYourStory
1 week ago | [YT] | 7
View 0 replies
Loving Life Forever
গতকাল, আমার গিন্নীটি যখন 'আত্মজা'র রবীন্দ্র পূজার উদযাপনে ব্যস্ত, আমি তখন অনেকটা দূরে সেনসাস ডিউটির নিরস কর্তব্যে আটকে। কেজো কথার ভিড়ে বাইশের শাওন বেলা পাশ কাটিয়ে বয়ে গেলো। মনটা তাই খারাপ।
তবে এই পূজার প্রস্তুতি চলেছে আমার চোখের সামনে। সকাল সন্ধ্যা অনুশীলনে রবীন্দ্রনাথ ... এ কি কম পাওয়া!
আসলে জন্মাবধি বেড়ে উঠেছি তাঁকে সংসারের এক সদস্য মেনে। যেমন দাদু, ঠাকুরদা, তেমনি রবীন্দ্রনাথ! সাদা দাড়ি আর উদাস দুটি চোখ বড্ড আপন।
বাপির বড়ো মামা শ্রী নিকেতনের রেজিস্ট্রার ছিলেন। প্রগাঢ় পণ্ডিত এই মানুষটি থাকতেন একটা ছোট্ট সাদা বাড়িতে। একটুখানি উঠোনের মাঝখানে একটা পাতকুয়ো, আর তার ধার দিয়ে হেলেদুলে ওঠা একটা গাছ। খুব সম্ভবত টগর। হাওয়ায় সাদা ফুল ছড়িয়ে ছিটিয়ে যেত আঙ্গিনায়। শীতের সকালে কুয়াশা আদর করে জড়িয়ে ধরতো বাড়িটাকে। সূয্যি উঠলে জানলা দিয়ে কাঁচা মিঠে রোদ চাদরের মতো বিছিয়ে যেত বিছানায়। সেই বাড়ির আনাচে কানাচে বাস করতেন রবীন্দ্রনাথ।
বাপির সাথে মাঝেসাঝে এক দুদিনের ছুটি কাটিয়েছি এই 'শান্ত নিকেতনে'। ভোরবেলা রিকশা করে বাপি আশ্রমে বেরাতে নিয়ে যেত। বেরোনোর সময় মামাদাদু বলতেন, "দাদুভাই, অনেক ঠাকুর তো দেখেছো, এবার রবি ঠাকুরকে দেখে এসো।"
আজ মামাদাদু নেই। তাঁর সেই রূপকথার বাড়িটিও গেছে। তবু, কানে বাজে, "... রবি ঠাকুরকে দেখে এসো।"
বিয়ের পরে চৈতীকে নিয়ে গিয়েছিলাম প্রণাম করাতে। এমন রবি সর্বস্ব মানুষের আশীর্বাদ বড়ো কম কথা তো নয়!
তা, যা বলছিলাম, Atmaja' / 'আত্মজা' র বাইশের আয়োজনে এবার থাকতে পারিনি বটে, তবে গল্প শুনেছি সব। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে। ছবি আর ভিডিওতে সাধ মিটিয়েছি কিছুটা। রবীন্দ্রনাথের সাথে একাসনে পূজিত হয়েছেন বাঙালির অতি আপনার কাজী সাহেব। মানবতা যাঁর চেতনার উদ্ভাস।
আচ্ছা, এমন সব ধ্রুবতারা থাকতে, আমরা দিকভ্রষ্ট হলাম কেন, বলো তো! আমাদের তো সরল মনে সহজ পথে হাঁটার কথা ছিল!
সে বাইরের কোলাহলে যাই হোক, অন্দরমহলটি আমরা যত্নে রাখি। আগলে রাখি। সেখানে পঁচিশ আর বাইশের বাইরেও রবি আলোর অনায়াস বিচরণ। গেরস্থালির চার দেওয়ালে নিজেদের শান্তিনিকেতন। 'সব হতে আপন।'
ছোটবেলা থেকে আজ অবধি যেটুকু বোধ কুড়িয়ে পেয়েছি জীবনের উঠোনে, তা শক্ত করে বেঁধে রেখেছি কোঁচড়ে। এ জন্মান্তরের ধন। শরীর পাত হলেও, বোধের ক্ষয় নেই।
#বাইশে_শ্রাবণ #শান্তিনিকেতন
1 week ago | [YT] | 24
View 6 replies
Loving Life Forever
ছেলেবেলার শ্রাবণ মাসটা অন্যরকম ছিল, নাকি আমিই অন্যরকম ছিলাম, তা ঠিক ঠাহর করতে পারি না এখন।
ক্যালেন্ডারে শ্রাবণ এলেই ২২ শে চোখ চলে যেত। মনের মাঝে করুণ সুরে এসরাজ বেজে উঠতো। সাথে 'মোহর' কন্ঠ।
"আজি শ্রাবণঘনগহন মোহে গোপন তব চরণ ফেলে
নিশার মতো, নীরব ওহে, সবার দিঠি এড়ায়ে এলে।"
অনেক পরে বুঝেছি, দিঠি মানে দৃষ্টি।
শ্রাবণ দেখারও একটা আলাদা দৃষ্টি চাই। যেমন তেমন চোখে শাওন রূপ ধরা পড়ে না সহজে।
ছোটবেলার শ্রাবণ পেলব ছিল। একটা মসৃণ ছায়া যত্নে আগলে রাখতো তাকে। শ্রাবণকে দেখেছি উদাস জোলো হাওয়ায়, জুঁই গোড়ের মালায় আর শ্বেত পদ্মের নিবেদনে।
এখন শ্রাবণ অন্য। তোলপাড় করে আসে। প্রলয়ঙ্করী তার রূপ। ঘূর্ণাবর্তের জল। নিম্নচাপের ঝড়। সেই শ্যামাঙ্গিণী মাসটি কোথায় যেন মুখ লুকিয়েছে। অভিমানে।
সেদিন, দিনের শেষে বাড়ির পথে পা বাড়িয়েছি। মাটি ফুঁড়ে যখন উঠলাম, দেখি বাইরে প্রবল তাণ্ডব চলছে। পাতাল রেলের ছাউনিতে অসহায় মানুষের ঢল। এ বৃষ্টি ছাতায় মানার নয়। হাল ছেড়ে জল থামার বা কমার অপেক্ষায় আমরা।
এক কোণে বিরস মুখে দাঁড়িয়ে রইলাম। কিছু দূরেই বাড়ির স্বস্তি, অথচ এটুকু পথ যেন শত যোজন দূর। পদে পদে বাধা। বৃষ্টির জোর কিছুটা দুর্বল হতেই সাহস করে পথে নামলাম।
ঠিক তক্ষুনি, নতুন উৎসাহে ঝাঁপিয়ে এলো বৃষ্টি। আমি রাস্তায় নাজেহাল। বজ্র বিদ্যুতের ধমক মনে ভয় ধরালো ভীষণ। এই বুঝি আগুনের পিণ্ড নেমে আসবে আকাশ থেকে। জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেবে সুখ শান্তি।
পায়ের তলায় পথের খানাখন্দে ঘোলা জলের স্রোত। এমন দূর্যোগের দিনে, চৈতীর কড়া নির্দেশ, "নেট বন্ধ রাখবে। রাস্তায় ফোনে কথা বলবে না একদম।"
অতয়েব, একলা পথটুকু ইষ্ট নাম জপতে জপতে চললাম। সন্তপর্নে। পৈতৃক প্রাণ বাঁচিয়ে। শ্রাবণ ভয় ধরালো।
রবীন্দ্রনাথ কেমন এক কাজলা করুণ দিন বেছে নিয়েছিলেন বিদায়ের। শ্রাবণ ভাস্বর হয়ে রইলো দুখের মালা গলায় দুলিয়ে।
আজও শ্রাবণ। তবে সেই মনকেমনের কোমল সাজটা আর খুঁজে পাইনা। দুন্দুভি বাজিয়ে, বুক কাঁপিয়ে নাগরিক শ্রাবণ আসে। মানুষের হাতে নির্যাতিতা প্রকৃতি মা অট্টহাস্যে প্রতিশোধ নেন। মাথা নত করে মেনে নেওয়া ছাড়া গতি কি!?
তবু ২২ আসে। নীরবে। জুঁই মালায় অশ্রুবিন্দুর মতো বর্ষার জল মেখে। আর একটি দিনের জন্যে হলেও শ্রাবণ সন্ধ্যা প্রদীপের আলোয় নরম হয়ে ওঠে।
#২২শে_শ্রাবণ #শ্রাবণ
1 week ago | [YT] | 21
View 10 replies
Loving Life Forever
অনেক বছর আগের কথা, যাকে বলে, 'ওয়ান্স আপন এ টাইম'। টেলিভিশনের জন্য একটা অনুষ্ঠান করতে গিয়েছিলাম। অন্তাক্ষরী।
ন'য়ের দশক।
আমার ছাত্রাবস্থা পুরোপুরি কাটেনি তখনো। তবে, শেষের পথে।
পাড়ার দল। উঠতি বয়সের কিছু ছেলে ছোকরা গলা ফাটিয়ে গান গাই। রবীন্দ্রজয়ন্তী থেকে বিজয়া সম্মিলনী... সবেতেই আছি। একটা শিল্পী শিল্পী হাবভাব নিয়ে পাড়ায় ঘোরাঘুরি।
আমরা টালিগঞ্জের বাসিন্দা বরাবর। পাড়ায় কেউ না কেউ বিনোদন জগতের সাথে জড়িয়ে আছে। কোন না কোন ভাবে। তেমনি এক সহৃদয় প্রতিবেশী ডেকে বললে, "টিভিতে একটা অন্তাক্ষরী অনুষ্ঠান হবে, তোরা পার্টিসিপেট করবি? কাল পরশু শুটিং।"
এ ওর মুখ চাওয়াচাওয়ি করে লম্বা একটা "হ্যাঁ" বলে দিলাম। কবে কবে শুটিং, কি ধরনের জামাকাপড় পরতে হবে, বিস্তারিত সব নির্দেশ দিয়ে দেওয়া হলো।
বিকেলে, আমার বাড়িতে জমায়েত। সেসময় এটাই পাড়ার অথেন্টিক 'ঠেক'। সব গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি আলোচনা করার একমাত্র বিশ্বস্ত জায়গা। অন্য কোনো শাখা নেই।
ভীষণ রকমের অনুশীলন। 'অ' দিয়ে কি কি গান, 'য়' ভাগ্যে পড়লে কি গাইতে হবে, 'ই' দিয়ে গানের লিস্ট, এমন হরেকরকম জটিল আলোচনা করতে করতে সন্ধ্যে গড়িয়ে গেলো। মোটকথা, পাড়ার নাম ডোবানো যাবে না। এ ম্যাটার অফ অনার!
রকমসকম দেখে, বাপি গোঁফের তলায় মুচকি মুচকি হাসতে লাগলো।
যতদূর মনে পড়ে, এন টি ওয়ান স্টুডিওতে সেট পড়েছিল। মুখে পাওডারের হালকা প্রলেপ দিয়ে ভিতরে নিয়ে যাওয়া হলো সকলকে। বুকের ভিতর তখন প্রবল ঢিপ ঢিপ!
একটা মস্ত ঘরের এককোণে অন্তাক্ষরীর সেট। বাকি তিন কোণ আরও তিনটি অনুষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ। পাখা, এ. সি, কিচ্ছু নেই। গুমোট গরম।
সেসময় রিয়ালিটি শো'এর বাড়বাড়ন্ত ছিল না তেমন, ছিল না মুঠোফোন ও সোস্যাল মিডিয়ার দৌরাত্ম্য। তাই ক্লিক ক্লিক ছবি নেই অ্যালবামে বা ফোনে। মনই একমাত্র সম্বল।
রিয়ালিটি শো যে ভীষণ রকমের আনরিয়াল, তার আভাস পেয়েছিলাম সেইদিনই। তবে, সে এক অন্য আখ্যান। অন্য কোনদিনের জন্য জমা থাক নাহয়।
সঞ্চালক ভদ্রলোক খুব চেনা। একটা গাঢ় পাঞ্জাবি আর ফেডেড জিন্সে সুপুরুষ। টিভির পর্দায় পরিচয় হয়েছিল আগেই। এবার সামনাসামনি। করমর্দন।
স্বাগত দে।
লোকসঙ্গীতের এক প্রমিসিং ব্যক্তিত্ব। হাসিখুশি। অমায়িক। সাথে সহ সঞ্চালিকা শ্রীলেখা মিত্র। মিষ্টি চেহারা। নবাগতা। অল্পস্বল্প পরিচয় গড়ে তুলছেন সবে। আজকের ফায়ার ব্র্যান্ড ইমেজ তখন সুদূরপরাহত।
দু'দিন ধরে চলল শুটিং পর্ব। এদিকে তাকিয়ে ওদিকে তাকিয়ে, মাইক ওপরে মাইক নীচে, এসব কাণ্ড করে, টিস্যু পেপারে কপালের বিন্দু বিন্দু ঘাম মুছে, অবশেষে 'প্যাক আপ'।
এই 'টাচ আপ' থেকে 'প্যাক আপ'এর গল্পের সাথে জড়িয়ে গেলো একটা নাম। স্বাগত দে।
গতকাল নিউজ ফিডে দেখলাম, তিনি আর নেই। আজ পড়লাম, গভীর অবসাদে ভুগছিলেন দীর্ঘ বছর। পুরোনো কথা এক লহমায় সব হুড়মুড়িয়ে এলো।
আমরা কেউ গায়ক হইনি। শখের গানের দলে ভাঙ্গন ধরিয়ে যে যার পেশা বেছে নিয়েছি অন্যত্র। ব্যাণ্ডের ভূত ঘাড় থেকে নেমেছে এ জনমের মতো। তবে, যিনি যোগ্যতা ও পরিশ্রম দিয়ে নিজের একটা পরিচয় গড়ে তুলতে পেরেছিলেন গানের জগতে, বেশ কিছু জনপ্রিয় লোকগান উপহার দিয়েছিলেন রসিক শ্রোতাদের, তাঁকে হারিয়ে যেতে হলো কেন হঠাৎ? সম্ভাবনাময় গায়ককে দীর্ঘ অবসাদ ভোগ করতে হলো কেন? এর উত্তর কি কোনদিন পাওয়া যাবে!!??
অকাল প্রয়াণের সংবাদে, 'প্রবাদপ্রতিম' 'ইন্দ্রপতন' 'নক্ষত্রপতন' 'অপূরণীয় ক্ষতি' ... শব্দগুলো তাই বড্ড মেকি শোনাচ্ছে আজ।
আমার থেকে সামান্যই বড়ো ছিলেন স্বাগত।
আমরা, যারা অর্ধশতাব্দী পেরিয়েছি, কিছু আগে বা কিছু পরে, তারা পিছন ফিরে অনেক স্বপ্নের ভাঙ্গা রথ দেখতে পাই। যে যেখানে যাব ভেবেছিলাম, যাওয়া হয়নি ঠিকঠাক। পথ ফুরিয়েছে। হঠাৎ।
ঝলমলে সকাল মানেই যে তারার প্রদীপ জ্বলা রাত নয়, তা বুঝেছি বিলক্ষণ! মাঝপথে কালো মেঘের সেনা এসে তছনছ করে দিতেই পারে স্নিগ্ধ আকাশের শান্তি।
তবু...সম্ভাবনার অপমৃত্যু হলে খারাপ লাগে বৈকি!
যে স্বাগতকে সেদিন দেখেছিলাম, তাঁর চোখে স্বপ্নের আলো ছিল। অবসাদ নয়।
#ওম_শান্তি #স্বাগত_দে
1 week ago | [YT] | 16
View 10 replies
Load more