Loving Life Forever

AHANA, an initiative of designer duo Chaitali & Somsuvra Chakrabarti is about celebrating the miracle called life. In this lifestyle channel, we touch the myriad flavours of life that make and keep us rejuvenated. Living life and loving it passionately is the 'mantra' that we profess. Join us to spread love and happiness.


Loving Life Forever

While traditionally recognised for our menswear designs, we have now ventured into the realm of women's apparel with a bridal ensemble, alongside the groom's attire.

AHANA deeply values the trust our patrons placed in us to enhance the brilliance of their special occasions.

This particular couple's set beautifully embodies the nuances of a classic Bengali wedding, celebrating our rich, ancient traditions and customs.

The intricate, hand-embroidered garments require significant time and skill to bring a designer's vision to life. We hope you appreciate the meticulous effort invested in our bespoke creations.

AHANA designer studio

#designerwear #fashiondesigner #bespokedesign #couture #handcraftedclothing

1 day ago | [YT] | 11

Loving Life Forever

আগে, কথায় কথায় হাসতাম। যেখানে সেখানে। যখন তখন। বন্ধুগুলোও জুটেছিল তেমনি। এ ওর মুখের দিকে তাকালেই হাসি ভুরভুর করে উঠতো। একেবারে বিনা কারণে। সারা কলেজ জীবনটাই হা হা আর হি হির আখ্যান। সিরিয়াসনেসের সংজ্ঞা পর্যন্ত জানা ছিল না কারো। কতো বকুনি যে খেয়েছি বাপির কাছে! তবু, এ রোগ সারার নাম করলো না। নাছোড় হয়ে রয়ে গেলো মনের আর ঠোঁটের কোণে।
এই হাসি, আমার মায়ের থেকে আমদানি করা। মামার বাড়ির সবাই জরো হলে, আর রক্ষে নেই। মোচ্ছব লাগতো বাড়িতে। ঝলমলিয়ে উঠতো ঘর বারান্দা। সকাল সন্ধ্যা।
তারপর...
"...আমরা এমনি এসে ভেসে যাই
আলোর মতন, হাসির মতন
কুসুমগন্ধ রাশির মতন
হাওয়ার মতন, নেশার মতন
ঢেউয়ের মতন ভেসে যাই..."
ভেসে গেলো মায়েদের সেই হাসিখুশি দল। যেমন এসেছিল, তেমনি হুটোপুটি করে চলে গেলো সবাই। ভাঙ্গলো হট্টমালার দেশ। বড্ড তাড়াতাড়ি! তবে, প্রতিধ্বনি রয়ে গেলো উত্তরসূরীদের মাঝে। চোখের জল কাপড়ের খুঁটে মুছে, আমরা হাসতে লাগলাম। আবার। পুরোনো অভ্যেসে!
আমার বাবা কাকারাও একেক মহারথী। প্রখর রসবোধ। গম্ভীর মুখে হাসির তুবড়ি ছোটাতে তাঁরা সিদ্ধহস্ত। হিউমার, উইট, খামতি নেই কোনকিছুর।
তাই বুঝতেই পারছো, হাসির উত্তরাধিকার নিয়েই আমার জন্ম।
বিধাতা পুরুষ, জীবনে দুঃখের যতিচিহ্ন বসানোর যতই ষড়যন্ত্র করুন না কেন, সেসব চেষ্টাকে‌ নস্যাৎ করে আমি হেসেই চললাম। দগদগে ক্ষতর ওপর হাসির লাল নীল ফুল ছাপা উজ্জ্বল পোশাক চাপিয়ে, মাথা উঁচু করে বললাম, "দেখো, আমি দুঃখের চেয়ে বড়ো। আমি হাসলে, জগৎ হাসে।"
হাসির রোদ্দুর লুটেপুটে নাও। যত পার। কান্নার ঐশ্বর্য কিন্তু আমার একার। তার ভাগ দিতে পারবো না মোটে। সে আমার শক্তি। আমার অহংকার। সাধনার সঞ্চয়। অমূল্য। তাকে কেনা যায় না কোন দামে।
মনের জমি কান্নার জলে উর্বর হয়েছে বলেই না তাতে হাসির ফসল ফলে! মাটির বুক ফালা ফালা করে সোনার ধান যেমন খিলখিলিয়ে ওঠৈ! ধানের সোনালী সোহাগ মেখে নাও প্রাণভরে। বুক ফাটা মাটির গল্প স্পর্শ কোরো না।
আমি এখনও হাসি। শরীর দুলিয়ে। মন ভুলিয়ে। বেদনার বেদী ঢেকে রাখি আলোর মালায়। ফুলের পাপড়িতে।
দূরে কোথাও সুর ভাসে —
"...ফুল সে হাসিতে হাসিতে ঝরে,
জোছনা হাসিয়া মিলায়ে যায়,
হাসিতে হাসিতে আলোকসাগরে
আকাশের তারা তেয়াগে কায়।..."

#আমরা_এমনি_এসে_ভেসে_যাই

2 days ago | [YT] | 55

Loving Life Forever

There was a time in the tender dawn of youth when cinema quietly taught us the language of romance. And then came Madhuri — one smile, one graceful glance, and the very meaning of love seemed to unfold on screen. The effortless elegance, the enchanting rhythm, the radiant face — she was everything dreams were woven from.

For an entire generation, she embodied the innocence and magic of the 90s, turning ordinary hearts into hopeless romantics.

Happy Birthday to the timeless enchantress whose charm still feels like poetry in motion. ✨

@madhuridixitnene
#happybirthday #MadhuriDixit #goddessofthesilverscreen

6 days ago | [YT] | 8

Loving Life Forever

আমার তখন বিয়ের ফুল ফুটেছে। মানে, বাপি জোর জবরদস্তি ফুটিয়েছেন বলাই ভালো। মায়ের অকালে চলে যাওয়া এবং বাপির বিরহ যন্ত্রণা আমার মনে এমন ভয় ঢুকিয়ে দিয়েছিল যে ভেবেছিলাম, কৌমার্যের ভীষণ প্রতিজ্ঞা নিয়ে ভীষ্ম হব।
তা, বাপি সেই প্রতিজ্ঞার মাথায় হিমশীতল জল ঢেলে, আমার মাথায় টোপর পরালেন। আজ বলতে বাধা নেই, আমার দূরদর্শী বাবা ভালোই করেছিলেন। গৃহে লক্ষ্মী প্রতিষ্ঠা করে অনেক দূর্দশার হাত থেকে আমায় বাঁচিয়ে দিয়ে গেছেন।
কিন্তু, সেই দিন এমনটা মনে হয়নি। বুক ধরফর, মাথা বনবন, গা ঝনঝন, এমন সব উপসর্গ নিয়ে ছাদনাতলায় গিয়েছিলাম। গ্যাস অম্বলে এমন পৈটিক গোলযোগ হয়েছিল, যে নববধূ চৈতীকে ময়দানে নেমে আমার জন্য ওষুধ পথ্যি যোগাড় করতে হয়েছিল। (তখনো ছাদনাতলায় বসা হয়নি কিন্তু!)
আমার আশঙ্কিত বন্ধু কুল আর কাউকে সামনে না পেয়ে চৈতীর কাছে ডাইরেক্ট রিপোর্ট করে। চুপিচুপি বলি, বাপিকে ওরা মারাত্মক ভয় পেত। কি রিয়াকশন হবে, তা বুঝতে না পেরে এই পথ অবলম্বন। চন্দন চর্চিত নববধূর লাইম সোডা হাতে আবির্ভাব শুভদৃষ্টির আগেই। কি কাণ্ড!
আসল বিয়ের আগে একটা মিনি বিয়ে হয়ে গিয়েছিল আমাদের। আশীর্বাদ পর্ব। আমাদের বাড়িতে বিরাট ঘটাপটা করে আশীর্বাদ করার রীতি। আলো, সানাই ভুঁড়িভোজ সমেত। যোধপুর পার্কে, বড়ো শ্যালকের বাড়িতে আয়োজন। সাজুগুজু করে সব্বাই রেডি। আমার আবার বুক ধরফর। আমার ব্যস্তবাগীশ অতি সাবধানি বাবা, একরকম হাত ধরে আমায় নিয়ে চললো। পাছে মাঝপথে আমি পালিয়ে যাই। আমার পাঁচ কাকা কড়া প্রহরায়। একেবারে জেড ক্যাটাগরির সিকিউরিটি। নীচের ছবিটি দেখলেই আন্দাজ করতে পারবে।
ভালোয় ভালোয় মিটল সব। আর আশীর্বাদের দিন অফিসিয়ালি আমার ভাবি বউয়ের সাথে কথা বলার পারমিশন দেওয়া হলো আমায়। প্রথম রাউন্ড ক্লিয়ারড। সাকসেসফুলি।
পরের দিন মুঠোফোনের টুং টাং শব্দে ঘুম ভাঙ্গলো। ঘোর লাগা গলায় বললাম, "হ্যালো"।
একটা অপরিচিত ল্যান্ডলাইন নম্বর।
"তোমার কিছু উপহার ভুল করে আমাদের সাথে চলে এসেছে।‌ তোমাকে জানিয়ে রাখলাম। দাদা পরে গিয়ে দিয়ে আসবে।"
গতকাল যার পাশে বসে ধান দূর্বায় জেরবার হয়েছি, আর কাঁড়ি কাঁড়ি মিষ্টি গিলেছি, ফোনের ওপারে সেই নারী। বাপির ভাষায় আমার 'ভবিতব্যা'।
সেই যে কথা শুরু হলো, আজও সেই কথা সমানে চলেই যাচ্ছে। এবং আমার যতরকম গোলমেলে কান্ডকারখানা তখন থেকে তিনিই সামলে যাচ্ছেন। সাকসেসফুলি।

#বিবাহ_বিভ্রাট

6 days ago (edited) | [YT] | 41

Loving Life Forever

নয় নয় করে বেশ কিছু বছর 'চাকরি' করছি। তার আগে কাজ করতুম। ইচ্ছেমতো।
পড়াশোনার সাথে, আর পড়াশোনার পরে, কোনদিন বসে থেকেছি বলে মনে পড়ে না। তখনকার 'বেকার'দের এক মোক্ষম অস্ত্র ছিল, 'টিউশনি'। টুকটাক প্রয়োজনের টাকা উঠে আসতো দিব্যি। সাথে কচিকাঁচাদের একটু আধটু শ্রদ্ধা ভক্তি। একটা দাদা দাদা ভাব।

তা, সেই পথ ধরে আঁকা শিখিয়েছি, পড়িয়েছি। কম্পিউটার প্রশিক্ষণও দিয়েছি কিছু কিছু। সঙ্গে আমার জামাকাপড়ে ইকির মিকির। এক্সিবিশন। গানের ফাংশন, ইত্যাদি প্রভৃতি।
তবে, আমাদের মধ্যবিত্ত সমাজে যতক্ষণ না 'চাকুরিজীবি' তকমা পড়ছে, ততক্ষণ এক অনিবার্য প্রশ্ন থাকবেই - "তুমি কি করো?"

ঠাকুরের কৃপায় সেই প্রশ্নের একটা যুতসই জবাব খুঁজে পেয়েছি আজ পঁচিশ বছর হলো। নিশ্চিন্তি এখন।
এর মাঝে, মেঘে মেঘে বেলা হয়েছে বেশ। চুল পেকেছে। চশমার কাঁচ 'পাওয়ারফুল' হয়েছে বছর বছর। হাড়গোড়ে ঘুনপোকার খুটুর খুটুর। ডাক্তার প্রায় বন্ধু হয়ে উঠেছেন। সকালে রাতে ঠাকুরের নাম করতে করতে দু চারটে বড়ি গলাধঃকরণ।

তবে, বরাবর এমনটা তো ছিল না। মাথার চুলে ঢেউ ছিল। কোমর ছিল পাতলা। কথায় কথায় তিড়িং বিড়িং করে সিঁড়ি ভাঙ্গতাম, আর চশমার বদলে রোদ চশমার বাহার ছিল নাকের ডগায়।

তখন সবে স্কুলে‌ ঢুকেছি। আমিই সর্বকনিষ্ঠ। দক্ষিণ থেকে উত্তরে পড়াতে যাচ্ছি। লোকাল ট্রেনে চেপে। সবকিছুই নতুন নতুন ঠেকছে। ব্যাপারস্যাপার অভ্যেসে পরিণত হতে সময় নিচ্ছে একটু। তবে, ভালো লাগছে।
ছাত্রছাত্রীদের বেশ একটা 'ফ্যানডম' তৈরী হয়েছে। আর সহকর্মীরা আপন করে নিয়েছেন ছোট ভাইয়ের মতো। দাদা দিদিদের সহযোগিতা ও প্রশ্রয়ে দিব্যি কাটছে দিন।
অনেক ছাত্রছাত্রী। অনেক অনেক ক্লাস। তবু ক্লান্তি নেই।

তখন মাঝে মাঝে ছোটখাটো আউটিং লেগে থাকতো স্কুলে। কো অপারেটিভ মিটিং। কোনো এক পার্কে বা পিকনিক স্পটে শীতের‌ রোদ গায়ে মেখে মিটিং। সাথে অবশ্যই ইটিং।

মোবাইল এসেছে সদ্য, তবে ক্যামেরা বিহীন।‌ কারো কারো গলায় ঝোলানো ক্যামেরায় ক্লিক ক্লিক ছবি। প্রিন্ট করার পরে হয়তো দেখা যেত, কারো কপাল কাটা, তো কারো চোখ বোজা। কোথাও কালো ছায়া, আবার কোথাও আলোর মায়া। ওভার এক্সপোজার। কিছু ফেলে কিছু রেখে সাজানো হতো স্মৃতির অ্যালবাম।
পুরোনো মুখ। হারানো গল্প। অদ্ভুত মন কেমন করা সুখ!
আজ হঠাৎ ঘর গোছাতে গিয়ে হাতে এলো এই ছবিগুলো। কোথায়, কবে, কখন... মনে নেই কিচ্ছু। আনন্দটুকু মনে আছে কেবল।

একটা লেক... মস্ত। আর তার গা ঘেঁষে গাছগাছালির উৎসব। সোনালী রোদ। রূপোলী জল। আলোর ফুলকির মতো মজা। সবমিলিয়ে ঝলমলে‌ একটা দিন।
হৈ হৈ করতে করতে বোটিং। হাসিখুশি পিকনিক।

ছবির কিছু মুখ হারিয়ে গেছে চিরকালের মতো। কিছু আছে।
দিনটি গেছে, আমার কাছে তার‌ গল্পগুলো গচ্ছিত রেখে।
গরমের বিকেলে, হেমন্তের সকালে বা শীতের দুপুরে, আমি‌ এসব গল্প খুলে বসি।
নতুন কাউকে সামনে পেলে বলি —"জানো, সেবার আমরা সবাই মিলে...কি মজাই যে হয়েছিল..."

(এইসব ছবি তুলেছেন, এই শিক্ষক জীবনে আমার ঘনিষ্ঠতম বন্ধু Anup Kar মহাশয়।)

#জীবনস্মৃতি

1 week ago | [YT] | 44

Loving Life Forever

একটা কোনো দিন হয় না কি!!!
প্রতিটা দিন যত্নে ধরে রাখি,
আমার সকাল সাঁঝে।
তোমায় আমার মাঝে।

আমার বলার ঢঙে,
আমার গায়ের রঙে,
তোমায় দেখে লোকে,
আমার মুখে চোখে।

তোমায় ছাড়া আমি,
একদম পাগলামি,
হতেই পারে না,
তুমি আমার মা।

যতদিন এই প্রাণ,
তোমার স্নেহের দান,
থাকবে আমার কাছে,
আমার মাও আছে,
বলবো সবার কাছে।

#শুভ_মা_দিবস

1 week ago | [YT] | 43

Loving Life Forever

এক ব্রাহ্ম ভাবাপন্ন স্কুলে আমার হাতেখড়ি। বেড়ে ওঠা। ইংরাজী মাধ্যম। তবে, বাংলায় স্বচ্ছন্দ হওয়া বাধ্যতামূলক। সারাক্ষণ ইংরেজিতে বকবক করলেও, সুন্দর সাবলীল মাতৃভাষায় ফিরতেই হয়। ঠিক যেমন সব সুর সমে এসে ঠেকে। এটিই তালের প্রথম মাত্রা। তাই অনিবার্য।
বরাবর দেখে এসেছি, সমস্ত বিষয় একদিকে, আর রবীন্দ্রনাথ একদিকে।
প্রতি বছর নতুন বুক লিস্ট যখন অভিভাবকদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হতো, তখন তার মধ্যে অবধারিত ভাবে রবীন্দ্র গ্রন্থ থাকতো।‌ একটি না একটি। এভাবেই তো 'শিশু ভোলানাথ', 'কথা ও কাহিনী' র সাথে পরিচয়। আর রবীন্দ্রনাথের‌ সাথে সম্পর্কের শুরু। সেই কাঁচা বয়সে বুঝিনি, এই সম্পর্ক বয়ে নিয়ে যেতে হবে আজীবন। ভালোবেসে। এ সম্বন্ধ নীবিড় থেকে নীবিড়তম হবে সময়ের সাথে।
বিদ্যালয়ে সরস্বতী পূজা হতে দেখিনি কখনো। আক্ষেপ হতো, পাজামা পাঞ্জাবী পরে স্কুলে যাওয়া হলো না কোনদিন। অঞ্জলী দেওয়া হলো না বন্ধুদের সাথে। তবে, সব অভিযোগ পুষিয়ে দিত পঁচিশে বৈশাখ আর বাইশে শ্রাবণ। গুচ্ছ গুচ্ছ রজনীগন্ধা, জুঁইয়ের মালা, আর ধুপের সুবাসের মাঝে রাজার মতো বিরাজ করতেন রবীন্দ্রনাথ। চোখের দিকে তাকালে অস্বস্তি হতো একটু। মনে হতো আমার কিশোর মনের যত্নে রাখা গোপনীয়তার আগল‌ খুলে তিনি দেখছেন সব। সাদা কালো একটি ছবি এতো বাঙ্ময় হতে পারে! হতে পারে এ তো প্রাণময়!
জীবনে রবীন্দ্রনাথের যতগুলো ছবি দেখেছি, স্পন্দন অনুভব করেছি। কখনো মনে হয়নি, উনি ইতিহাস। দেখেছি, জীবন্ত বর্তমান রূপে। শাশ্বত। সদা জাগ্রত।
আমার সেই আটের দশকের ছেলেবেলায়, তাঁর সাথে এই আমার আলাপের সূচনা। একটু আধটু আঁকতে পারতুম, গুনগুন করতে পারতুম বলে ডাক পড়তো রবীন্দ্র উদযাপনে। গান তুলতে, ওয়াল ম্যাগাজিন আঁকতে, আলপনা দিতে গিয়ে বুঝলাম গুরুদেবকে ঘিরেই আমাদের সারস্বত উৎসব।
এসব প্রভাতী অর্চনার ছবি এখনও মনের অ্যালবামে অমলিন। পড়ার মাঝে, ফুরফুরে ছুটির মতো রবি ঠাকুর। ভালোলাগা গাঢ় হচ্ছিল। তবে, তিনি যে ঠিক কোথায় আসন পেতে বসেছেন আমার অজান্তেই, বুঝলাম কিছু পরে।
ক্লাস সিক্সের শেষ তখন। শীতের ছুটি। নতুন বছর, নতুন ক্লাস ... আরও একটু বড়ো হয়ে ওঠার অধীর অপেক্ষা।‌ এমন সময় মা চলে গেলো, আমার শৈশব আঁচলের খুঁটে বেঁধে। সেই শীতার্ত দিন আর কুয়াশার রাত আমায় অনেকটা বড়ো করে দিয়ে গেলো।
নেড়া মাথায় নতুন ক্লাসের দোরগোড়ায় এসে দাঁড়ালাম। আমায় আঁচল দিয়ে ঘিরে নিলেন আমার শিক্ষিকারা।‌ যেসব আন্টিদের সমীহ করে দূরে দূরে থেকেছি, তাঁরা হঠাৎ কেমন এক একজন 'মা' হয়ে উঠলেন। চুল আঁচড়ে, টাই ঠিক করে দেওয়া থেকে শুরু করে, আমার টিফিন খাবার খোঁজখবর রাখতেন সব। বন্ধুরা হয়ে উঠলো ভাই বোন। আমি মানুষটা একটু বিশেষ হয়ে উঠলুম আচমকা।
এরপর...আরেক রবীন্দ্র জয়ন্তী। আমার এক মাতৃসমা আন্টি ডেকে বললেন, "গানের প্রতিযোগিতা আছে। তোমাকে গাইতে হবে এইবার। গেট রেডি।‌ ঋতু গুহ ম্যাডাম উইল বি আওয়ার চিফ গেস্ট।"
আমি অসম্ভব লাজুক প্রকৃতির। যদিও আজ সেই দুর্নাম ঘুচেছে কিছুটা। তবে, সেদিন আমার বুক ধরফর করতে লাগলো। বাপির উৎসাহ, আন্টির উদ্দীপনা সব নস্যাৎ করে আমি পিছু হটার জল্পনা করতে লাগলুম।
বেশ মনে আছে, শেষ মুহূর্তে, "গোওওও", বলে পিছনে থেকে ধাক্কা দিয়েছিলেন আন্টি। এগিয়ে দিয়েছিলেন আগামীর পথে।
স্টেজে এসে পড়লাম অকস্মাৎ। সামনে কতো কতো মুখ। মঞ্চের আলো, ফুলের গন্ধ, তবলার ঠুক ঠাক, আর মাঝে আমি। আন্টি আর বাপির সম্মান রাখতে, সেই আমার প্রথম মঞ্চে গান।
"আমার সকল দুখের প্রদীপ জ্বেলে দিবস গেলে করব নিবেদন--
আমার ব্যথার পূজা হয় নি সমাপন ॥"
ওই বয়সে ওই গান কেন বেছে ছিলাম, জানিনা। অর্থ বুঝেছিলাম কি! তাও মনে নেই। শুধু মনে হয়েছিল এ আমার গান। এর প্রতিটি বাণী আমার জন্য লেখা। এ কেবলই আমার। এ গানের ওপর আর যেন কারো অধিকার নেই।
বিজয়ী হইনি প্রতিযোগিতায়। তবে, রবীন্দ্রনাথকে পেয়েছিলাম।
কত তো এলো গেলো, তিনি কিন্তু রয়েই গেলেন, আমার হাতটি ধরে। যে চাহনিতে অস্বস্তি হতো একসময়, আজ সেই চোখে তাকিয়ে কাটিয়ে দিতে পারি জন্ম জন্মান্তরের দুখের রাত।
সেই প্রথম গানের আসরে, তিনি ছিলেন আমার পাশটিতে, কখন বুঝলাম জানো?
বছর খানেক আগে এক পুরোনো বান্ধবীর সাথে দেখা। বাড়ি এলো। চায়ের কাপে ধোঁয়ার মতো অতীত কথা ম ম করে উঠলো। হঠাৎ সে বললো, "তুই রবীন্দ্র জয়ন্তীতে একটা গান গেয়েছিলি না, আমার সকল দুখের প্রদীপ?"
"মনে আছে তোর? সে তো সেই ক্লাস সেভেন এইটের কথা!!" বিস্মিত আমি।
সে একটু উদাস চোখে বললো, "হ্যাঁ রে, মনে আছে।"

#আমার_রবীন্দ্রনাথ

1 week ago | [YT] | 25

Loving Life Forever

আমার অন্তঃপুরের কথাগুলো তিনি সাজিয়ে দিয়েছিলেন পরম যত্নে,
বর্ণের কুঁড়ি আর শব্দের জুঁই ফুলে।

আমার সকাল পবিত্র, আর বিকেল পেলব হয় তাঁর সুরে।

শৈশবের প্রার্থনা, যৌবনের কাব্য, আর অপরাহ্নের বোধ, তাঁর কাছেই তো শেখা!

প্রথম যেদিন শোক এসে দাঁড়ালো আমার উঠোনে,
তিনি এসে হাতের ওপর হাত রাখলেন।
আমার ব্যথা মুক্ত হয়ে ঝরলো সেই পরশে।
আমি মুক্ত হলাম।

ভালোবাসার গোলাপি চিঠি জীবনের ডাক বাক্সে তিনিই এনে দেন। প্রথম।
পলাশ আভা বসন্ত দিন রাঙ্গিয়ে যায়।
আমি প্রেমিক হলাম।

সময়ের শ্রান্তি, যাপনের যাতনা, তাঁর ছোঁয়ায় অমৃত।
অবগাহনে আমি শুদ্ধ হলাম।

দিনের পারাবারে যখন রাত্রি এসে ডাক দেবে,
জানি, তখনও তিনিই থাকবেন।
তাঁর এক হাতে মঙ্গল দীপ, আর এক হাতে বাঁশের বাঁশি।
গলার কুঁদ ফুলের মালায় দিন শেষের জ্যোৎস্না।
সেই স্নিগ্ধতায় আমি অমর হব, ঠিক।

তাঁর কাছে যত ঋণ, তাতে ভারের ক্লান্তি নেই।
আছে ছুটির নির্ভার স্বস্তি।
স্বস্তিতে আমি শান্ত হলাম।
আমি জীবন পেলাম।
আমি বেঁচে গেলাম।

#আমার_রবীন্দ্রনাথ

1 week ago | [YT] | 24

Loving Life Forever

आत्मनो मोक्षार्थं जगद्धिताय च

For one's own salvation and for the welfare of the world.
🙏🏻

2 weeks ago | [YT] | 18

Loving Life Forever

যেমন ঠাণ্ডা তেমন গরম, এমনটাই হবে, বলেছিল সব্বাই। আমিও মনে মনে প্রমাদ গুনছিলাম। একে বৈশাখ, তার ওপর ভোট যুদ্ধ। গরমাগরমি যে হবে, তাতে বিচিত্র কি!
তবে, সবাইকে অবাক করে দিয়ে একের পর এক কালবৈশাখী। গরমের গতি পথে কমা, সেমিকোলনের মতো সব যতিচিহ্ন বসিয়ে উত্তাপ একটু হলেও দমিয়ে রেখেছে। সেই ভয়ঙ্কর আঁচের হলকা খানিকটা ম্রিয়মাণ যেন।
তার ওপর আজকাল একটু আগেই সন্ধ্যে নামছে। পাঁচটা বাজলেই গনগনে বিকেল পেলব হয়ে আসে।

কোথাও কিছু একটা বদলে যাচ্ছে। পাল্টে যাচ্ছে। বুঝতে পারছি বেশ। সেই ইংরেজিতে বলে না, change is the only constant.

তবে, এই উথালপাথাল সংসারের মাঝে আমাদের একটি সুস্থির আশ্রয় আছে। ভাগ্যিস!
মনের আরাম‌‌। প্রাণের শান্তি। ঝড়ের মাঝে অনির্বাণ দীপ শিখা। অকম্পিত। অমলিন।
আমাদের ঠাকুর মায়ের সংসার।
দুঃখে সুখে, আবাহনে‌ বিসর্জনে, এই আমাদের নিশ্চিন্ত গন্তব্য... আমাদের ছায়া সুনিবিড় আশ্রম।

সংসার যাপন করতে গিয়ে বুঝেছি, কঠিন আঘাত দিয়ে তিনি জীবনকে সরল করে নেন। জীবনবোধকে দেন গভীরতার আশীর্বাদ।
আর এই বোধটুকুই আমাদের জন্মান্তরের সম্পদ।

সময় থাকতে সেই সম্পদের সোনার কুঁচি খুঁটে বেঁধে রাখছি। পথের শেষে তাঁর কৃপার দান, তাঁর পায়েই উজাড় করে দেবো বলে।

#আশ্রয় #জীবনবোধ

2 weeks ago | [YT] | 39