AHANA, an initiative of designer duo Chaitali & Somsuvra Chakrabarti is about celebrating the miracle called life. In this lifestyle channel, we touch the myriad flavours of life that make and keep us rejuvenated. Living life and loving it passionately is the 'mantra' that we profess. Join us to spread love and happiness.
Loving Life Forever
ছুটির দিনে ঘরদোর পরিষ্কার করছি। খুব মন দিয়ে। সেই আদ্যিকালে মা চলে যাওয়ার পর থেকেই ঘর গেরস্থালি পরিপাটি রাখার দায়িত্ব আমার। বাপি এ বিষয়ে নিতান্তই অপটু। পরিষ্কার, কিন্তু বড়ো এলোমেলো। চিরুনি, পেন, হাতঘড়ি হারিয়ে ফেলে যেখানে সেখানে। অতয়েব মায়ের জিন ও ট্রেনিংয়ের তারনায় আমি গৃহকর্মে মোটামুটি নিপুণ।
যে সময়ের কথা বলছি, সে সময় চৈতী আসেনি। তবে আসবো আসবো করছে। দিনক্ষণ পাকা। বাড়িঘরকে 'নতুন বউ ফ্রেন্ডলি' করে তোলার ডিউটি আমার। চাকরি সামলে সেই কাজ চলছে তখন। এক্সট্রা এফর্ট দিয়ে।
এমন সময় গলায় ক্যামেরা ঝুলিয়ে বন্ধু ঝিলামের প্রবেশ। আমার পাড়াতুতো সব বন্ধুরাই আমার চাইতে অল্পবিস্তর ছোট। তবে, ওরা বরাবর আমায় ওদের থেকে 'জুনিয়র' বলেই মনে করে এসেছে। ভগবান জানেন কেন! আর আমিও দাদাগিরি ফলাতে যাইনি কস্মিনকালেও। ওদের শাসন বারন মেনে নিয়েছি অবলিলায়।
ঝিলামের অনেক শখের মধ্যে ছবি তোলার শখ অন্যতম। এবং সেই শখে সে যে বিশেষ পারদর্শী, একথা পরম শত্রুও অস্বীকার করতে পারবে না। তবে, যে সময়ের কথা বলছি, সে সময়টা তার হাত পাকানোর পর্ব চলছে। যেখানে সেখানে যখন তখন ক্যামেরা তাক করে দাঁড়িয়ে পড়ছে। চলছে লেন্স দিয়ে জগৎ চেনার কাজ।
ঝড়ের মতো ঘরে ঢুকেই বললো, "আজ তোমার ছবি তুলবো।"
"আরে বাবা, আমি এখন ঘর ঝাড়পোঁছ করছি তো! চান টান কিচ্ছু হয়নি।"
"না হোক। ছবিতে কিচ্ছু বোঝা যাবে না।"
"বড্ড জ্বালাতন করিস তোরা।"
এরপর, দাঁড়িয়ে বসিয়ে, এদিকে তাকাও ওদিকে তাকাও করে ছবি তোলা হলো খানিক।
ক'দিন পর সাদা কালো কতগুলো ছবি নিয়ে হাজির। আমাদের প্রাইমে ডিজিটাল ক্লিক ক্লিক ছিলনা। ছিল রিল। ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করতে হতো ফল দেখার জন্য।
তা, ফল ভালোই এলো। মানে এই জিওগ্রাফিতে যতটা ভালো আসা যায় আর কি। ব্ল্যাক এ্যান্ড হোয়াইট পিওর এস্থেটিক। জীবন যতই রঙ্গীন হোক না কেন, ছবি থেকে সব রং শুষে নিলে তবেই যেন গভীরতা বাড়ে। কি অদ্ভুত না? রঙের জৌলুসে উৎসবের আলো থাকে বটে, তবে সাদায় কালোয় থাকে নিভৃত বোধ। সেখানে মনের যেকোনো রং ধরানো যায় ইচ্ছে মতো। সবুজ পাতা হলুদ হতে পারে। নীল আকাশ হয়ে উঠতে পারে গোলাপি। সে 'না দেখা রং' আরও গাঢ়। আরও গভীর।
অনেকটা জন কিটস্ এর 'আনহার্ড মেলোডি'র মতো। অশ্রুত গান আর অদৃশ্য রঙের ব্যাপারটাই আলাদা! তাই না?
এই ছবি নাকি আবার আমার হবু শশুর বাড়ীর এক সদস্যর হাতে গিয়ে পড়ে। ঝিলামের সহকর্মী হওয়ার সুবাদে। আর, তার হাত ধরে ছবি পাড়ি জমায় আমার ভবিতব্যার কাছে। অবশ্যই ছাদনাতলায় বসার আগে। এতসব কাণ্ড ঘটিয়ে ছবি অবশেষে আমার জিম্মায়। লজ্জায় মাথা কাটা। কি ভাবলেন তিনি, কে জানে... বেহায়া? গায়ে পড়া? বোঝানোর উপায় নেই যে এ ষড়যন্ত্রের আমি ভাগিদার নই। এ নেহাতই বন্ধুদের 'বিয়েবাড়ি সুলভ' রসিকতা।
পরে অবিশ্যি চৈতীর কাছে জেনেছি, সে কিছুই ভাবেনি তেমন। হবু কর্তার ছবি একঝলক দেখেই ফিরিয়ে দিয়েছে ছবি বাহকের হাতে। নিশ্চিন্তি।
আজ রবিবার। হোম মেইনটেনেন্সের দিন। আলমারি নাড়াচাড়া করতে গিয়ে হারানো চিঠির মতো ছবিটা এসে পড়লো হাতে। তেইশ বছর আগের আমি'র সাথে এই আমি'র হঠাৎ মোলাকাত। সাথে জড়ানো কিছু কাঁচা মিঠে গপ্পো।
মুঠোফোনে টুক করে তুলে রাখলাম ছবির ছবি। আর দুর্দমনীয় অভ্যাসের বশে টাঙ্গিয়ে রাখলাম ফেসবুকের দেওয়ালে। আরও তেইশ যদি টিকে যাই, ফিরে দেখবো এই সাদা কালো ছেলেটাকে। ইচ্ছে মতো রং ধরাবো জামায়। চোখে। দেওয়ালের গায়ে।
#সাদাকালোজীবন #ছবি
2 days ago | [YT] | 36
View 21 replies
Loving Life Forever
AHANA designer studio
Where heritage meets artistry. ✨
Inspired by the vintage spirit of Bengal, this hand-painted kurta captures the charm of a bygone era through intricate brushstrokes and timeless storytelling. Every detail reflects the elegance, culture, and nostalgia of Bengal’s rich legacy, transformed into wearable art for the modern gentleman.
Wear tradition. Carry history. Make a statement.
#AHANADesignerStudio #HandPaintedKurta #VintageBengal #WearableArt #MenswearFashion #HeritageInspired #HandcraftedElegance #BengalHeritage #EthnicMenswear #MadeWithArt #IndianFashion #KurtaLove #TimelessStyle #ArtOnFabric #designermenswear
5 days ago | [YT] | 17
View 2 replies
Loving Life Forever
আজ খুব বৃষ্টি। সকাল থেকে আকাশ ভেঙ্গে পড়েছে মাটির বুকে। আঁধার আঁধার বেলায় ঘনঘন বাজের বাদ্যি বাজছে।
'আষাঢ়ে' রবিবার।
আজ আবার আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। সাজো সাজো উদযাপন। কেউ ইচ্ছায়, আর অনেকে ঠেকায় পড়ে সক্কাল সক্কাল কসরত করেছেন গা ঘামিয়ে। আসলে, একসময় যা ছিল আমাদের সংস্কৃতির স্বাভাবিক অভ্যাস, আজ অনভ্যাসের পলি সরিয়ে বহু কষ্টে তাকে আয়ত্তে আনতে হচ্ছে আর কি। আমিও নড়বড়ে হাড়ে যতটুকু সম্ভব করেছি।
তা যা বলছিলাম, আজ ঘনঘোর বর্ষা। ভেজা দিন। ভেজা মন। ফেসবুকে জামাইষষ্ঠী আর পিতৃ দিবসের রঙ্গচঙ্গে আনন্দ মূহুর্ত দেখছি। সবার হাসিখুশি ঝলমলে মুখ দেখতে বেশ লাগে। কিছুক্ষণের জন্য মনে হয়, পৃথিবীতে সব ঠিক আছে। এভরিথিং ইজ পারফেক্ট।
আমার শাশুড়ি মা গত হয়েছেন বছরখানেক হলো। তাই জামাই আদরটা এ জন্মের মতো লাল কাপড়ে মুড়ে শিকেয় তোলা আছে। পরের জন্মের প্রত্যাশায়।
ছোটবেলার ষষ্ঠী ছিল দারুণ জমজমাট এক ব্যাপার। একটা ইভেন্ট পুরো।
মায়ের মাথার হাতপাখায় সাজানো হলদে খেজুর ছড়া, গোটা ফল, ফুল, আরও কত কি। স্নানের সময় সেই পাখা ধোয়া জল গড়িয়ে পড়তো মায়ের গা বেয়ে। একটা ছোট্ট বাটিতে যত্নে ধরা হতো সেই মঙ্গল জল। মাতৃগর্ভের সমস্ত স্নেহ, ভালোবাসা, শুভকামনা আর আশীর্বাদের দূর্লভ নির্যাস। তারপর সেই জল ছিটিয়ে দেওয়া হতো আমার মাথায়। বাদ পড়তো না সন্তানতুল্য কেউই।
ষষ্ঠী ঠাকুরানী ও তাঁর আদরের বিড়ালটির আখ্যান, ভিজে পাখার ঠাণ্ডা বাতাস, ফল মিষ্টি, নতুন জামা... মিলেমিশে এক রূপকথা যেন! হলুদ ছোপানো সুতোয় ফুল দূর্বা বেঁধে দেওয়া হতো কব্জিতে। মা আর তাঁর সন্তানের অমোঘ বন্ধন। কি আদুরে মায়া!
আজও কানের কাছে ফিসফিসিয়ে ওঠে চল্লিশ বছর আগের সেই কন্ঠ, "সাট সাট"!
এ জন্মের মতো ষষ্ঠী ঠাকুরানীর সাথে আমার যাবতীয় সম্পর্ক ফুরিয়েছে। আর নটে গাছটিও মুড়িয়েছে। দি এণ্ড।
আমার বাবা ছিলো নারকোলের মতো। বাইরে নিরেট শাসন আর অনুশাসনের শক্ত খোলা। ভিতরে স্নেহের টলটলে মিঠে জল আর একটুখানি প্রশ্রয়ের শাঁস। তাঁর সাথেও ষষ্ঠী ঠাকুরানীর ভাব ছিল না মোটে। তাই আমার অভাবটা বাপি বিলক্ষণ বুঝতো। বহুদিন অবধি ষষ্ঠীর নতুন জামার চলটা টিকিয়ে রেখেছিলো। সাথে একটু আধটু ভালোমন্দ রান্না।
বাপি ছিল পাকা রাঁধুনি। মায়ের কাছে ট্রেনিং প্রাপ্ত।
আমার অসুস্থ মা জানতো, তাঁর প্রদীপের তেল ফুরিয়ে আসছে দ্রুত। জ্বলবে না বেশীদিন। তাই আমাদের প্রশিক্ষণ দিতো একটু একটু। বাপি যেদিন প্রথম 'ভালো' রাঁধলো, মা হেসে বললো, "এই তো, বেশ শিখে গেছো। আমি না থাকলে অসুবিধা হবে না আর।"
না, খাবার অসুবিধা হয়নি তেমন। অসুবিধাটা বাসা বেঁধেছিল অন্যখানে। গভীর ক্ষতর মতো। আর সেই অসুবিধা বাড়তে বাড়তে একদিন আমার বাবার জীবনের দখল নিল।
বাপি তখন বড়ো ভঙ্গুর। দিন দিন শুকনো পাতার মতো কুঁকড়ে যাচ্ছে। একদিন দুপুরে খাবার সময় আমি সামনে বসেছিলাম। নিজের অজান্তেই চোখ উপচে জল এলো। আমার মুখের পানে ঘোলাটে চোখে চেয়ে বাপি বললো, "যতদিন তোর চোখে এমন জল আসবে, ততদিন তোর ভিতরের সুকুমার বৃত্তি বেঁচে থাকবে। চলে যাবার পর, কেউ যদি দুফোঁটা চোখের জল ফেলে, সেটাই জানবি সারা জীবনের অর্জন। জীবনে আর কি আছে, বাবা!'
দেখো বাপি, আমার চোখ আজও উপচে পড়ে। সুকুমার বৃত্তিগুলো সযত্নে আগলে রেখেছি এখনও। তুমি খুশি হয়েছো তো?
হ্যাপি ফাদার্স ডে।
#হ্যাপি_ফাদার্স_ডে
1 week ago (edited) | [YT] | 30
View 10 replies
Loving Life Forever
গোমুখ থেকে নেমে এলেন গঙ্গা। ভূগোল তাই বলে। তবে, বিশ্বাসীরা মনে করেন, গঙ্গার উৎস শ্রীহরির পাদপদ্মে। তারপর মহেশ্বরের জটা হয়ে, ভগীরথের তপস্যায় মর্ত্যে আগমন। পাপ উদ্ধারন।
সূচনার দুই ভিন্ন আখ্যান। ভিন্ন দর্শন।
তেমনি শেষেরও অনেক 'রকমফের' আছে। কেউ বলে ফুরালো। কেউ বলে রূপ বদল হলো কেবল।
যার যেমন মন, সে তেমন করে গ্রহন।
যে তারা চোখের আড়াল হলো প্রভাত আলোয়, সেই আবার অন্য আকাশ আলো করে ঝলমলিয়ে উঠলো। কেউ বললো রাত পোহালো, কেউ দেখলো ঘনালো। এই প্রকাণ্ড ব্রহ্মাণ্ডে, কোনটি যে ঠিক, আর কোনটি বেঠিক, বিচার করবে কে?
তাই, সব দেখেশুনে যুগ কবি বললেন, "শেষ নাহি যে, শেষ কথা কে বলবে?"
আমরা বাপু সাধারণ মানুষ। অতো রহস্যে আমাদের কাজ কি! এটুকু বুঝলেই হলো যে, শুরু ও শেষ দুই ভাই। গলাগলি। ঢলাঢলি। শুরু যেমন শেষের সাথে মিলবে বলে ছোটে, শেষ তেমনি শুরু হওয়ার ফিকির খোঁজে। এটুকু যদি মেনে নিতে পারি, তো বিষাদ মেঘ কিছুটা হালকা হয়ে ছড়িয়ে পড়ে বিশাল আকাশে।
একদিক থেকে দেখতে গেলে, সূচনায় যে উৎসবের আলোক দ্যূতি থাকে তা সমাপনে এসে এক অন্য শান্ত সুষমার রং ধরে। বিদায় বেলার মালায় ফিরে আসার অঙ্গীকার মিশে থাকে সুগন্ধের মতো।
অর্থাৎ... 'আমার যাওয়া তো নয় যাওয়া।'
প্রতি ভোরে শুরু হয় এক নতুন পথ চলা। অতীত দর্শনের নবীন যাপন। সময় লব্ধ বোধ নতুন অভিজ্ঞতায় মিশিয়ে দেওয়া।
পথ আবহমান। শুরুর ঠিকানা নেই। নেই ফুরিয়ে যাওয়ার দায়।
বিগত বিষাদ এগিয়ে চলার শক্তি হোক। পিছুটান নয়।
তাই 'চরৈবেতি'। যাত্রাপথ শুভ হোক। সব্বার।
#চরৈবেতি #শুভযাত্রা
2 weeks ago | [YT] | 33
View 5 replies
Loving Life Forever
জৈষ্ঠ্য স্বমহিমায় তাপ ছড়াচ্ছে। মাঝে মাঝে আবার ঝড় জলের প্রলয়ঙ্করী তাণ্ডব। গাছ উৎপাটিত। ল্যাম্পপোস্ট ভূপাতিত। রাস্তাময় পাতা আর যত্রতত্র কিলবিল করছে কালো তার। এক ভয়ঙ্কর যুদ্ধ শেষের দৃশ্য যেন! কিছু ল্যাম্পপোস্ট এমনভাবে হেলে আছে, বুঝি এক্ষুনি ঝুপ করে পিচঢালা রাস্তায় এসে নামবে।
শহরে ক্ষয়ক্ষতির আধিক্য। তবে, শহরতলী রেহাই পেয়েছে খানিক।
এসবের মাঝে হৈহৈ করে খুলে গেলো স্কুল। গরমের ছুটি শেষ। ক্লাস চলছে বেশকিছুদিন। তবে সময় বদলে সাত সকালে। সাড়ে সাতটায়। মর্নিং সেশন এখন চলবে কিছুদিন। গরমকে মাত দেওয়ার আপ্রাণ প্রয়াস আর কি!
আমি দূরপাল্লার মানুষ। তাই কাক ভোরে হুটোপুটি করে শিয়ালদা। সেখান থেকে ঝিকঝিক ট্রেন। মেট্রো বাবুর ঘুম ভাঙ্গে না অতো সকালে। অতয়েব লোকালই ভরসা।
দুর্গানগর স্টেশনে নেমে গুটিগুটি পায়ে হাঁটতে থাকি স্কুলের পথে। অনেক দোকান ঝাঁপ ফেলে সুখনিদ্রায়। অনেকে আবার ভোরের পসরায় সেজেগুজে রেডি।
পথের ধারে এঁচোড়, মোচা, লাউ, কুমড়ো, বেগুন, কাঁচকলা...পেয়ে যাবে সব। ঘুম ভাঙ্গা গেরস্তরা দামদর করে পছন্দের সবজি টুপটাপ তুলে নিচ্ছেন বাজারের ব্যাগে।
আমি সব দেখতে দেখতে পথ চলি।
রাস্তার দুধারে মস্ত মস্ত আম গাছ। গাঢ় সবুজ পাতায় আমের হাসি মুখ। বুদ্ধিমান মালিক মশারি দিয়ে ঘিরে রেখেছেন ফলন্ত সব ডাল। ঝুপ ঝুপ করে আম পড়ছে বোঁটা ছিঁড়ে, আর মনের সুখে দোল খাচ্ছে মশারি দোলনায়। সে এক দারুণ মজার ব্যাপার। দেখলে, আপনিই হাসি ফুটে ওঠে ঠোঁটের কোণে। মন ভালো হয়ে যায়।
একটা বাড়ি ধাপে ধাপে উঠে গেছে সেই তেতলায়। প্রতি ধাপে একটি করে ছোট্ট ছাদ। ছাদে লোহার মাচা। আর সেই মাচায় গা এলিয়ে শুয়ে আছে গোলাপি সাদা কাগজ ফুলের লতা। সবচাইতে ওপরের মাচাটি আবার একটা আঙ্গুর লতার দখলে। গরবিনীর মতো, সে তরতর করে উঠে যাচ্ছে সর্বোচ্চ আসনে। তার ফুলের অলঙ্কার না থাকলেও, ফলের অহঙ্কার আছে।
উঁচু পাঁচিল ছেয়ে কেবল কাগজ ফুলের আধিপত্য।পথের ওপর লুটিয়ে আছে ফুল পাতার ঢল।
এই লতায় পাতায় ছাওয়া বাড়িটা আমার বড়ো ভালো লাগে।
ওর গা ঘেঁষে যে গলিপথ চলে গেছে এঁকেবেঁকে, আমি সেখান থেকে বাঁক নিই। তারপর মোচড় দিয়ে চলতে থাকি খানিক। একটা পোড়ো জমিতে ছাগল মসমস করে কলাগাছের পাতা চিবোয়। হলুদ গাঁদা চোখ বড়ো বড়ো করে তাই দেখে। আমিও দেখি। জানো, এখানে ঝিঁঝিঁ ডাকে সকালের আলোয়। এলোমেলো হাওয়া ওঠে হঠাৎ। আমার মনটা কেমন উদাস হয়ে যায়। এই ঝিঁঝিঁর ডাক শুনবো বলে আমি শর্টকাট এড়িয়ে কিছুটা পথ বেশী হাঁটি। খুচরো ভালোলাগা যত্নে পুরে রাখি কাঁধের ব্যাগে।
তারপর, চেনা পাড়া। স্কুলের গেট। ছকে বাঁধা দিন যাপন। সাথে একটুখানি পথের ভালোলাগা, একদম ফ্রি।
#পথচলারআনন্দ
(গৃহকর্তার অনুমতি ছাড়াই বাড়ির ছবি দিলাম, কেবলমাত্র ভালোলাগার ভরসায়। আশা করি এই অপরাধটুকু মার্জনা পাবে। 🙏🏻)
2 weeks ago | [YT] | 19
View 12 replies
Loving Life Forever
"ছিঃ ছিঃ ছিঃ। এই বয়সে এসে মাধুরী দীক্ষিতের মতো একজন কিংবদন্তী অভিনেত্রী এমন এক স্খলিত নারীর চরিত্রে অভিনয় করলো! ভাবা যায়!! চিপ। ভেরী চিপ।"
' মা বহন' ছবির শুরুতে এমনটাই মনে হয়েছে তো?
অভিনন্দন, তুমি পুরুষতন্ত্রের প্রথম ধাপ সফল ভাবে উত্তীর্ণ হয়েছো।
"বয়সকে গ্রেসফুলি মেনে নিলেই হয়। এসব বোটক্স ফিলারসের কি খুব প্রয়োজন আছে? অ্যাকসেপ্ট ইওর এজ।"
এমন কথা কি তুমি প্রায়ই বলে থাকো?
তবে, আবারও তোমায় অভিনন্দন জানাই। তুমি পুরুষতন্ত্রের স্টেজ টু উত্তীর্ণ হয়েছো। সাফল্যের সাথে।
"দশ মিনিটের পর, ছবিটা না আর দেখতে পারিনি। অখাদ্য। এমন মনে হয়েছে কি?"
তবে, তুমি পুরুষতন্ত্রের সিঁড়ি অতি দ্রুত একের পর এক টপকে চলেছো। কনগ্রাচুলেশনস। কনগ্রাচুলেশনস।
না না, পুরুষতান্ত্রিক হতে গেলে তোমায় পুরুষ হতে হবে না এক্কেবারে। তুমি একজন নারীও হতে পারো। কারণ পুরুষতন্ত্রকে সযত্নে বাঁচিয়ে রাখেন পুরুষ এবং মহিলা উভয়ের যত্নশীল সম্মিলিত প্রয়াস।
ভীষণ কনফিউজিং লাগছে, তাই না?
দাঁড়াও, খুলে বলছি।
এই যে ষাটোর্ধ্ব আমশি হয়ে যাওয়া নায়করা যখন মেয়ে বা নাতনীর বয়সী নায়িকাদের সাথে চুটিয়ে রোমান্স করেন, তখন সিনেমা হলের মাথায় কেমন সুন্দর 'হাউজ ফুল' বোর্ড ঝোলে। দর্শকদের তীব্র ভালোবাসায় সুপারস্টার টপকে যান দশকের পর দশক। অথচ একদা তাঁর নায়িকারা খুব সহজেই পর্দায় তাদেরই 'মা' বা 'বহন' হয়ে ওঠেন অতি সহজেই, সেই একই দর্শকের বদান্যতায়। কারণ তাঁরা যে নারী। তাঁদের বয়স বাড়ে ডালে ডালে আর পাতায় পাতায়।
নায়কের পনেরোটা সার্জারি, হেয়ার উইভিং, সতেরো রকমের ইনজেকশনের খবর কোনো মিডিয়া বা প্রেমাতূর ভক্ত রাখেন না। বরং ঘরের ও মনের দেওয়ালে সেই 'চির কিশোরের' পোস্টার সাঁটেন ষোলো বছরের বালিকার মতো। ভ্যাট্, প্রেমের আবার বয়স হয় নাকি!
নিজের ফাউন্ডেশন, কনসিলার, হেয়ার এক্সটেনশন, নেইল আর্ট... ইত্যাদি প্রভৃতি চৌষট্টি সরঞ্জাম ঠিক রেখে নায়িকাদের বোটক্স চর্চা করে চলেন অবিরাম। দোষের কি আছে?? ইটস ন্যাচারাল!
ডিপ নেক লাইন, ব্যাকলেস ব্লাউজের সাথে 'মাই বডি, মাই চয়েস' স্লোগান জুড়ে, অভিনেত্রীদের দিকে নাক সিঁটকে বলেন, "ছিঃ, বয়স অনুযায়ী সাজ পোশাকও পরতে জানে না। বুড়ো বয়সের ভীমরতি যত!"
কিন্তু, নায়ক কথায় কথায় সার্ট খুলে পেশী আস্ফালন ও পেটের বিস্কুট প্রদর্শন করলে, গালে লাল আভা ফুটিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলেন, 'এই বয়সেও কি ফিটনেস! সো হট!'
এগুলোকে আসলে ডবল স্ট্যান্ডার্ডও বলে না। বলে বংশানুক্রমিক রোগ। রক্তে আছে। সব্বার। রামায়ণ মহাভারতের যুগ থেকেই। আর এই রোগের জনক ও জননী হয়ে বসে আছেন পুরুষ ও নারী উভয়েই।
'মা বহন' ছবিটি এই অসাধারণ রোগে আক্রান্ত সমাজের গালে এক সপাট চড়। দুই কন্যা সন্তান নিয়ে এক রূপসী সিঙ্গেল মাদারের সমাজ যাপনের কথা বলে এই ডার্ক কমেডি।
এহেন কমেডি তোমাকে হাসাতে হাসাতে প্রবল অস্বস্তিতে ফেলবে। মাঝে মাঝেই মনে হবে, "ধুর, বন্ধ করে দিই।" তবু অস্বস্তি সহ্য করে যদি শেষ অবধি টিকে যেতে পারো, তো ছবিটি ভালো মন্দ না মাঝারি তা বিচার করার অধিকার তুমি পাবে। আর নিজেদের চরিত্র স্ক্যানিংও হয়ে যাবে ছোট্ট করে।
পাটনার অখ্যাত মফস্বলে 'স্লিভলেস ব্লাউজ' পরে যখন রেখা সংসার পাততে আসে, তখনই তাঁর চরিত্রের 'মা বহন' করে ফেলেন প্রতিবেশীরা। সেই আঁচ থেকে বাদ পড়েনি রেখার মেয়েরাও, অর্থাৎ জয়া আর সুষমা। অকাল বৈধব্যের পর তো সোনায় সোহাগা। তকমা পড়ে ডাইনী ও বেশ্যার।
বিধবার রঙ্গীন শাড়ি, লাল লিপস্টিক, মাথায় ফুল মেনে নেবার মতো বুকের পাটা আমাদের অনেকের মধ্যেই নেই। আজও। তাঁর সৌজন্য বোধকে আমন্ত্রণ ভেবে নেওয়াই যায়। ক্ষতি কি! তাঁর নিজের মতো করে বাঁচার স্পৃহাকে ব্যাভিচার ছাড়া অন্য কোনো নাম দেওয়া যায় নাকি? মোটকথা, সমাজের সব রেখারাই ব্যাভিচারিনী। এই তকমা নারীত্বকে শুধুমাত্র পুরুষের নয়, নারীদেরও দেওয়া উপহার।
(মনে রেখো, রাবনের সীতা হরণের অনেক আগেই মন্থরা আর কৈকেয়ী মিলে তাঁর সংসারের সাধ ঘুচিয়ে দিয়েছিলেন। আর সূর্পনখার অবদান তো বিশেষ প্রশংসা যোগ্য।)
ফিল্ম ক্রিটিক হওয়া বড়ো দায়। পড়াশোনা করতে হয় বিস্তর। একটা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থাকলেই হয়না। সার্টিফিকেট লাগে। তাই কেমন ছবি, কেমন অভিনয়, কেমন ক্যামেরার বাহাদুরি, সেসব নিয়ে আমি নাই বা বললাম। বুঝিও না বিশেষ।
তবে, সমাজের যেটুকু আমার বোকা চোখে ধরা পড়েছে, তাই দেখেই এই লেখা।
নারীর গর্ভে জন্মেছি। ছেলেবেলা থেকে তাঁকে মা বলেই জানি। জীবনসঙ্গী হয়ে আমার হাত ধরেছেন যে নারী, তাঁকে ভালোবাসি। বন্ধু হয়ে পাশে থেকেছেন যে নারীরা, তাঁদের সম্মান করি বলে, সমাজের রেখা জয়া ও সুষমাদের হয়ে দুকথা বললাম আর কি।
সময় সত্যিই এসেছে, 'নিরমা ডিটারজেন্ট' দিয়ে কদর্য এই সমাজকে ভালো করে ধুইয়ে দেওয়ার। একেবারে 'ধোবি পাছার' যাকে বলে। আর তা পারে হেমা, রেখা, জয়া আর সুষমা। (হ্যাঁ, ছবিতে হেমাও আছে।) তাঁদের যে হারানোর মতো সম্মানটুকুও নেই!
সর্বশেষে বলি, এ ছবি পুরুষতন্ত্রের পাচনতন্ত্রের জন্যে মোটেও ভালো নয়। হজম শক্তি দুর্বল হলে এড়িয়ে যেও বরং।
পুরুষ মন্দ নয়। মন্দ নন নারীও। শুধু এই ভয়াবহ পুরুষতন্ত্র থেকে নিজেদের বাঁচিয়ে রাখতে পারলেই আর ভয় নেই। রোগমুক্তি।
#মাবহন #পুরুষতন্ত্র
3 weeks ago | [YT] | 14
View 6 replies
Loving Life Forever
AHANA helps you create a style that's all yours. Our indigenous, handcrafted clothing is designed to help you stand out and shine in the crowd. We're really grateful to Mr Aakash Tolani, one of our cherished patrons, who showcased our design with such ease and added a touch of charm that truly made it special.
(Background is AI-manipulated)
AHANA designer studio
#designerwear #AHANA #ahana_designer_studio #couturefashion #EthnicStyle
3 weeks ago | [YT] | 19
View 2 replies
Loving Life Forever
Tradition meets timeless sophistication. ✨
AHANA Designer Studio brings heritage weaves to life with contemporary elegance, crafted for the modern connoisseur. From intricate drapes to refined detailing, every thread tells a story of culture, craftsmanship, and confidence.
Elevate your festive and wedding wardrobe with ensembles that celebrate Bengal’s rich textile legacy in a truly regal way.
We are grateful to one of our patrons, Mr Aakash Tolani, who graciously posed for our brand, draped in AHANA's creations.
AHANA designer studio
#AHANADesignerStudio #TraditionWoven #MensEthnicWear #HeritageFashion #ContemporaryElegance DesignerDhoti EthnicStyle IndianMenswear WeddingFashion LuxuryEthnicWear
1 month ago | [YT] | 21
View 4 replies
Loving Life Forever
সূর্যদেব অশান্ত হয়েছেন। অন্তরে তাঁর ঝড়ের মাতামাতি। তাই আকাশ থেকে ঠিকরে পড়ছে জ্বলন্ত হাহাকার। মর্তবাসী সন্ত্রস্ত। বৈশাখের কিছুটা স্বস্তি, ছাই হয়ে উড়ছে জৈষ্ঠ্য বাতাসে। ঘনঘন কাজলা কালবৈশাখীর স্মৃতি এখন গল্পকথার মতো অলীক মনে হয়।
তবু, গত দু'দিন দমকা হাওয়া এসে এলোমেলো করে দিচ্ছে ভাবনাগুলোকে। উষ্ণ হাওয়ার দাপাদাপি গাছের পাতায়, ঘরের পর্দায়। থাক না একটু আঁচ, তবু বাতাস তো! মনটা ভালো করে দেয় ম্যাজিকের মতো।
আমাদের সিঁড়ির ধাপের ছোট্ট জানলাটা দিয়ে গ্যারাজের নীল ছাদটা দেখা যায় বেশ। তার ওপর বিছিয়ে আছে লালচে গোলাপি কাগজ ফুলের লতা। বেশ কয়েক গ্রীষ্ম আগে পুঁতেছিলাম শখ করে। সে লতা আজ ডাগর হয়ে আকাশ পানে হাত মেলছে। আর তার বাকি শরীরটা আয়েসি সুয়োরানীর মতো শুয়ে আছে ছাদের চালে। রাজ্যপাট পেতে।
কখনো সখনো হাওয়ার তালে আড়মোড়া ভাঙছে। ফিসফিস করে উঠছে সবুজ পাতা আর রাঙ্গা ফুল। গপ্পো করছে অচিন দেশের। পাতালপুরীতে পা রেখে আকাশের সাথে মিতালী করছে দিব্যি!
সেদিন দুপুরে, সিঁড়ি বেয়ে উঠছি দোতলায়। দেখি, ডালে ডালে দোল লেগেছে হাওয়ায়। সবুজ পাতার ঝুমঝুমি বাজছে তালে তালে। আর লালচে গোলাপি ফুলগুলো লুকোচুরি খেলছে সবুজের বুকে মুখ গুঁজে। হাসছে খিলখিল করে।
সে হাসি কানে নয়, মনে এসে লাগে।
নিদাঘ দুপুরে আবির মাখা মায়াময় শান্তি।
আমার মনটা কিন্তু হু হু করে উঠলো সেই হলুদ ফুলগুলোর জন্য। মাসখানেক আগে আমাদের ছাদ থেকে, বৈশাখী ঝড়ে বাঁধ ভাঙা নদীর মতো লুটিয়ে পড়েছিল হলুদ সবুজ লতার ঢল। একেবারে পথের ওপর। সামাল দিতে কেটে ছেঁটে এতটুকু করে দিতে হল তাকে। সে যে কি নিদারুণ কষ্ট, তোমাদের কি বলবো!
তারপর কতদিন সোনার কুচির মতো ছড়িয়ে ছিল হলুদ কাগজ ফুল ইতি উতি। পথের ধুলোয়।
তবে তোমাদের আশীর্বাদে, আর আমাদের স্নেহ ভালোবাসায় সেই লতায়, আলপনার কল্কার মতো নতুন ডাল গজিয়েছে। কেমন নাচের ভঙ্গিতে ছাদের দিকে উঠে আসছে আবার। ডালের গায়ে কচি পাতার বাহারি সাজ। কি যে আনন্দ আমার, কি বলি তোমাদের!
ফুল ধরেনি এখনও, তবে সম্ভবনা টলটল করছে ডালের প্রতিটি বিভঙ্গে।
এই দুই ভাই বোন একসাথে বড়ো হয়ে উঠেছে। একজন বাড়ির ছাদ বরাবর। আরেকজন গাড়ি ঘরের মাথায় বিছিয়ে আছে সবুজ ঘোমটা টেনে।
আমাদের আদরের দুলাল দুলালী।
জানো, আমি যখন এসব আগডুম বাগডুম লিখছি, বাইরে তখন বৃষ্টির রুমঝুম আর মেঘের হম্বিতম্বি। সূয্যি মামার দুঃখ, কিছুটা কান্না হয়ে ঝরলো বুঝি। অবশেষে।
আজ বৃষ্টির জলের স্নান। আরাম পাক শ্যামল মায়া। আরাম পাই আমরাও।
#শ্যামলমায়া #রূপকথারফুল
1 month ago | [YT] | 15
View 2 replies
Loving Life Forever
ফ্যাশনের ভূত ঘাড়ে চেপেছিল আদ্যিকালে। সেই মধ্য ন'য়ের দশকে। মনে আছে ঠিক। রক্ষণশীল বাঙালি বাড়িতে এমন ভূত বড়ো বালাই! তাড়ানোর ওঝা পাওয়া ভার।
চাকরি বাকরি, গেরস্থালি...এই তো বেশ। ফ্যাশন ট্যাশন আবার কি! যত সব অলুক্ষণে কাণ্ড!
তার ওপর সংসার লক্ষ্মীছাড়া বহুদিন। মা থাকলে হয়তো মাথাটা কম বিগড়াতো। বাপি বুঝেই উঠতে পাচ্ছে না যে, এ ভয়ঙ্কর রোগে তাঁর গোবেচারা ছেলেটি আক্রান্ত হলো কি করে! ক'টা বছর মহারাষ্ট্রে গেছেন বৈ তো নয়, এর মধ্যেই কলকাতায় ছেলের মারাত্মক ভোলবদল!
তা, সে যুগে, সেই পরিস্থিতিতে এমনটা ভাবাই তো স্বাভাবিক। ফ্যাশন বিষয়টা আসলে বেশ গোলমেলে। সোজাসাপ্টা সংজ্ঞা নেই কোনো। যে যেমন পারে একটা মানে করে নিয়েই খালাস। বইয়ে যাই লেখা থাকুক না কেনো, বোধের পার্থক্য থাকবেই। তাই আমি যা বুঝলাম, বাপিকে বোঝাতে পারলাম না। আবার বপি যা বুঝলো, আমার কাছে তা দুর্বোধ্য।
তবু, নিঃশব্দে তিনি আমার পাশে রইলেন। যেমন সব ভালো বাবা থাকেন। তবে একটি অমোঘ শর্তে। ফ্যাশন প্যাশন হয়ে থাক, ক্ষতি নেই, প্রফেশন যেন না হয়। আমি বললুম, "শিরোধার্য।"
চুপিচুপি বলি, এসব বেহিসাবি চিন্তা আমার মায়ের থেকেই পাওয়া। সেলাই ফোরাইয়ের রঙ্গীন রাজ্য তিনিই দেখিয়েছিলেন। রং তুলি, কাপড় কাঁচি, সুর তাল... এলোমেলো ভাবনা যত। ছোঁয়াচে বড়ো।
তারপর জীবন নাট্যে চৈতীর প্রবেশ। ঠাকুরের অশেষ কৃপায়, সহধর্মিণী 'সহকর্মিনী' হয়ে উঠলো। অনায়াসে। বোধে বোধে মিলে গেলো বেশ। আমার সময়ের খামতি ও পুষিয়ে দিল। স্বেচ্ছায় তুলে নিল আমার ইচ্ছে পূরণের ভার। আমার থেকে স্বপ্নটা 'আমাদের' হয়ে গেলো কখন। হাত বাড়ালেই সঠিক জিনিসটি জুগিয়ে দেওয়ার অদ্ভুত ক্ষমতা আছে ওর। কিচ্ছুটি বলতে হয়না মুখে।
আর এই বোঝাপড়া থেকেই জন্ম 'অহনা'র।
তারপর? 'তার আর পর নেই, নেই কোনো ঠিকানা।' আমরা চলছি আর চলছি। ঠিকানায় পৌঁছে গেলে শিল্পীর মৃত্যু হয়। তাই, বয়ে যাচ্ছি নদীর মতো। চির পরিবর্তনশীল ফ্যাশন থেকে চিরন্তন স্টাইলের সন্ধানে। পার ভাঙ্গছি। পার গড়ছি।
সৃজনশীলতার হাত ধরে আবিষ্কার করছি মানুষের মন, জীবন। মনস্তত্ত্ব, সংস্কৃতি মিলেমিশে জীবনের উৎসব।পোশাকের ক্যানভাসে ভরে দিচ্ছি ভাবনার রং। কল্পনার আঁকিবুঁকি।
বাঁচছি প্রাণভরে।
(ছবি - গুগলের গর্ভ থেকে তুলে আনা।)
AHANA designer studio
#জীবনস্মৃতি #ফ্যাশন_প্যাশন
1 month ago | [YT] | 38
View 2 replies
Load more