শিবরাত্রি ২০২৬ সালে সমস্ত প্রশ্নের উত্তর এই পোস্টেই আছে:-
কবে পালন করবেন শিবরাত্রি? উত্তর:- শৈব মতে অথবা স্মার্তমতে ১৫ তারিখ রবিবার শিবরাত্রি ব্রত পালন করবেন। আর গোস্বামী মতে বা বৈষ্ণব মতে ১৬ তারিখ সোমবার পালন করতে পারেন শিবরাত্রি ব্রত। (আমাদের দেশে অধিকাংশ মানুষ ১৫ তারিখ পালন করেন)
কিভাবে পালন করবো? উ:- আপনি যেদিনই পালন করুন। আপনি চাইলে ফল খেয়েও ব্রত করতে পারেন, অথবা নির্জলা উপবাস থেকেও ব্রত করতে পারেন।
অভিষেক করতে কি কি লাগবে? উ:- দুধ, ক্ষীর, দই, ঘি, মধু, বিশুদ্ধ জল দ্বারা অভিষেক করবেন। গন্ধ, পুষ্প, তিল, বেলপাতা দ্বারা অর্চনা করবেন।
চারপ্রহর পুজার সঠিক সময়সূচি বলুন? উত্তর:- আপনি ১৫ তারিখ অথবা ১৬ তারিখ যেদিনই চার প্রহর পুজা ও অভিষেক করুন সময়সূচি একই। নিম্মে দেয়া হলো:-
🌺পশ্চিমবঙ্গের সময়ানুযায়ী, নিশিকাল পূজা সময় : 11:25 PM - 12:16 AM ১ম প্রহর : 5:33 PM - 8:42 PM ২য় প্রহর: 8:42 PM - 11:50 PM ৩য় প্রহর: 11:50 PM -2:59 AM ৪র্থ প্রহর: 2:59 AM – 6:08 AM
🌺বাংলাদেশের সময়ানুযায়ী, নিশিকাল পূজা সময় : 11:47 PM - 12:38 AM ১ম প্রহর : 5:54 PM - 9:03 PM ২য় প্রহর: 9:03 PM - 12:12 AM ৩য় প্রহর: 12:12 AM -3:22 AM ৪র্থ প্রহর: 3:22 AM - 6:31 AM
কোন প্রহরে কি কি দিয়ে অভিষেক করাবো মন্ত্র কি? উ:- প্রথম প্রহর দুধ দিয়ে স্নান করাবেন। মন্ত্র:- ইদং স্নানীয়দুগ্ধং ওঁ হৌঁ ঈশানায় নমঃ। অর্ঘ্যপ্রদান মন্ত্র - শিবরাত্রিব্রতং দেব পূজাজপপরায়ণঃ | করোমি বিধিবদ্দত্তং গৃহাণার্ঘ্যং মহেশ্বর ||
শিবরাত্রির পারণ সর্বদা তারপরের দিন সূর্যউদয়ের পরেই করতে হয়। যারা ১৫ তারিখ ব্রত করবেন তারা ১৬ তারিখ সকালে ১০ টার আগে পারণ করে নিবেন। আর যারা ১৬ তারিখ করবেন তারা ১৭ তারিখ সকালে করবেন পারণ। অনেকে ১৬ তারিখ দুপুরে অভিষেক করিয়ে অন্নপ্রসাদ পায়।
অর্থাৎ: সদাশিব পার্বতীকে বললেন- “হে বরাননে, রবিসংক্রমনে, ব্যতীপাতে(ভূমিকম্প,দুর্ভিক্ষ,অশুভ সময়ে) এবং চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ চলাকালে যথাশক্তি বিশেষরূপে বিষ্ণুপূজা করিবে।
গ্রহণকালকে বলা হয় অমৃতকাল। এ সময় পৃথিবীর সমস্ত জল অমৃততুল্য হয়, সমস্ত স্নান অমৃতস্নান তুল্য হয় এবং সমস্ত দ্বিজ ব্যাসতুল্য হয় তাই এ সময়ে বিষ্ণুপূজা সর্ববাঞ্চা পূরণ করে। তাই ভগবদ্ভক্তগণ এ সময়ে হরিনামগঙ্গায় স্নান করেন এবং অধিক অধিক কৃষ্ণপূজা, কৃষ্ণ নাম কীর্তন, কৃষ্ণ নাম জপ, গীতা-ভাগবতাদি পাঠ ও শ্রবণ করেন।
গ্রহণকালে রান্না করা সমস্ত বস্তু অখাদ্য হয়ে যায়, গ্রহণ লাগলে পাকভান্ড (রান্নার বাসন) ধুয়ে ফেলতে হয়। শাস্ত্র প্রমাণ-
শ্রীকৃষ্ণ নন্দবাবাকে বললেন, "চন্দ্র-সূর্য-গ্রহণে, জনন-মরণাশৌচে ও অশুচি ব্যক্তির সংস্পর্শে তৎক্ষণাৎ পাক ভাণ্ড পরিত্যাগ করা বিধেয়।" [শ্রীব্রহ্মবৈবর্তপুরাণ, কৃষ্ণজন্মখন্ড, ৮৩।৫৬]
🔴গর্ভবতী মায়েরা চন্দ্র গ্রহণের সময় কী করবেন:-
গ্রহণের সময়ে গর্ভবতী মহিলারা কোনও ধারযুক্ত জিনিস যেমন ছুরি, কাঁচি, ছুঁচ ইত্যাদি ব্যবহার করবেন না। বাড়ির কোনও কাজ করবেন না। শাস্ত্র মতে গ্রহণ শুরু হওয়ার পর গর্ভবতী মহিলাদের স্নান করা উচিত নয়। এমনকি ব্যায়ামও নিষিদ্ধ। গর্ভবতী মহিলারা গ্রহণের সময়ে চাঁদের আলোয় এসে দাঁড়াবেন না। আবার বাড়ির মধ্যে এমন স্থানে থাকুন, যেখানে চাঁদের আলো প্রবেশ না-করে। চন্দ্র গ্রহণের সময়ে গর্ভবতী মহিলারা মন্ত্র জপ, ঈশ্বর নাম সংকীর্তন করতে পারেন। এ সময়ে আপনারা বিষ্ণু সহস্ত্রনাম পাঠ করতে পারেন। এছাড়াও হনুমান চালিসা, আদিত্য হৃদয় স্তোত্র, বিষ্ণু হস্তাক্ষরী মন্ত্র ও পঞ্চাক্ষরী মন্ত্র জপ করলে বিশেষ সুফল পেতে পারেন। শাস্ত্র মতে গ্রহণের সময়ে গর্ভবতী মহিলারা নিজের কাছে একটি নারকেল রেখে নিন। এ ফলে সমস্ত ধরনের ক্ষতিকর রশ্মি ও প্রভাব থেকে মুক্ত থাকা যায়। গ্রহণ শেষ হওয়ার পর পবিত্র কোনও নদীতে নারকেলটি প্রবাহিত করে দিন।
সবাই গ্রহণ চলাকালীন অবশ্যই বেশি বেশি কৃষ্ণনাম জপ করবেন। রাধে রাধে |🌿🌺 Bong Bonding - বং বন্ডিং
Bong Bonding Official
শিবরাত্রি ২০২৬ সালে সমস্ত প্রশ্নের উত্তর এই পোস্টেই আছে:-
কবে পালন করবেন শিবরাত্রি?
উত্তর:-
শৈব মতে অথবা স্মার্তমতে ১৫ তারিখ রবিবার শিবরাত্রি ব্রত পালন করবেন।
আর গোস্বামী মতে বা বৈষ্ণব মতে ১৬ তারিখ সোমবার পালন করতে পারেন শিবরাত্রি ব্রত।
(আমাদের দেশে অধিকাংশ মানুষ ১৫ তারিখ পালন করেন)
কিভাবে পালন করবো?
উ:- আপনি যেদিনই পালন করুন। আপনি চাইলে ফল খেয়েও ব্রত করতে পারেন, অথবা নির্জলা উপবাস থেকেও ব্রত করতে পারেন।
অভিষেক করতে কি কি লাগবে?
উ:- দুধ, ক্ষীর, দই, ঘি, মধু, বিশুদ্ধ জল দ্বারা অভিষেক করবেন। গন্ধ, পুষ্প, তিল, বেলপাতা দ্বারা অর্চনা করবেন।
চারপ্রহর পুজার সঠিক সময়সূচি বলুন?
উত্তর:-
আপনি ১৫ তারিখ অথবা ১৬ তারিখ যেদিনই চার প্রহর পুজা ও অভিষেক করুন সময়সূচি একই। নিম্মে দেয়া হলো:-
🌺পশ্চিমবঙ্গের সময়ানুযায়ী,
নিশিকাল পূজা সময় : 11:25 PM - 12:16 AM
১ম প্রহর : 5:33 PM - 8:42 PM
২য় প্রহর: 8:42 PM - 11:50 PM
৩য় প্রহর: 11:50 PM -2:59 AM
৪র্থ প্রহর: 2:59 AM – 6:08 AM
🌺বাংলাদেশের সময়ানুযায়ী,
নিশিকাল পূজা সময় : 11:47 PM - 12:38 AM
১ম প্রহর : 5:54 PM - 9:03 PM
২য় প্রহর: 9:03 PM - 12:12 AM
৩য় প্রহর: 12:12 AM -3:22 AM
৪র্থ প্রহর: 3:22 AM - 6:31 AM
কোন প্রহরে কি কি দিয়ে অভিষেক করাবো মন্ত্র কি?
উ:-
প্রথম প্রহর দুধ দিয়ে স্নান করাবেন।
মন্ত্র:- ইদং স্নানীয়দুগ্ধং ওঁ হৌঁ ঈশানায় নমঃ।
অর্ঘ্যপ্রদান মন্ত্র -
শিবরাত্রিব্রতং দেব পূজাজপপরায়ণঃ |
করোমি বিধিবদ্দত্তং গৃহাণার্ঘ্যং মহেশ্বর ||
দ্বিতীয় প্রহরে দধি দিয়ে স্নানের নিয়ম মন্ত্র –
ইদং স্নানীয়ং দধি ওঁ হৌঁ অঘোরায় নমঃ।
অর্ঘ্যপ্রদান মন্ত্র -
নমঃ শিবায় শান্তায় সর্বপাপহরায় চ |
শিবরাত্রৌ দদাম্যর্ঘ্যং প্রসীদ উময়া সহ ||
তৃতীয় প্রহরে ঘি দিয়ে স্নানের নিয়ম মন্ত্র –
ইদং স্নানীয়ং ঘৃতং ওঁ হৌঁ বামদেবায় নমঃ।
অর্ঘ্যপ্রদান মন্ত্র -
দুঃখদারিদ্রশোকেন দগ্ধো'হং পার্বতীশ্বর |
শিবরাত্রৌ দদাম্যর্ঘ্যং উমাকান্ত প্রসীদ মে ||
চতুর্থ প্রহরে মধু দিয়ে স্নানের নিয়ম মন্ত্র –
ইদং স্নানীয়ং মধু হৌঁ সদ্যোজাতায় নম।
অর্ঘ্যপ্রদান মন্ত্র -
ময়া কৃত্যান্যনেকানি পাপানি হর শঙ্কর |
শিবরাত্রৌ দদাম্যর্ঘ্যং উমাকান্ত গৃহাণ মে ||
তাহলে এবার শিবরাত্রির পারণ কখন?
উত্তর:-
শিবরাত্রির পারণ সর্বদা তারপরের দিন সূর্যউদয়ের পরেই করতে হয়।
যারা ১৫ তারিখ ব্রত করবেন তারা ১৬ তারিখ সকালে ১০ টার আগে পারণ করে নিবেন। আর যারা ১৬ তারিখ করবেন তারা ১৭ তারিখ সকালে করবেন পারণ। অনেকে ১৬ তারিখ দুপুরে অভিষেক করিয়ে অন্নপ্রসাদ পায়।
পারণের মন্ত্র:-
সংসারক্লেশদগ্ধস্য ব্রতেনানেন শঙ্কর ।
প্রসীদ সুমুখো নাথ জ্ঞানদৃষ্টিপ্রদো ভব॥
অভিষেক কি দিয়ে করাবেন?
উ:- স্টিলের পাত্র আর শঙ্খ অভিষেকে ব্যবহার করা যাবে না। রুপা, পিতল, সোনার পাত্র ব্যবহার করবেন।
সবাইকে ধন্যবাদ মনোযোগ দিয়ে পোস্ট পড়ার জন্য।
ভালো লাগলে সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিবেন।
অনিক চন্দ্র মাঝি (এডমিন)
4 weeks ago | [YT] | 1
View 0 replies
Bong Bonding Official
🌕🌔🌓আজ চন্দ্রগ্রহণ🌗🌘🌑
গ্রহণ চলাকালীন অবশ্যই মনে রাখবেন:-
রবিসংক্রমে ব্যতীপাতে গ্রহণে চন্দ্ৰসূৰ্য্যয়োঃ।
বিশেষণার্চ্চয়েদ্বিষ্ণুং যথাশক্ত্যা বরাননে।।
[পদ্মপুরাণ, উত্তরখন্ডম, অধ্যায় ২৫৩, শ্লোক ১৬৩]
অর্থাৎ: সদাশিব পার্বতীকে বললেন- “হে বরাননে, রবিসংক্রমনে, ব্যতীপাতে(ভূমিকম্প,দুর্ভিক্ষ,অশুভ সময়ে) এবং চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ চলাকালে যথাশক্তি বিশেষরূপে বিষ্ণুপূজা করিবে।
গ্রহণকালকে বলা হয় অমৃতকাল। এ সময় পৃথিবীর সমস্ত জল অমৃততুল্য হয়, সমস্ত স্নান অমৃতস্নান তুল্য হয় এবং সমস্ত দ্বিজ ব্যাসতুল্য হয় তাই এ সময়ে বিষ্ণুপূজা সর্ববাঞ্চা পূরণ করে।
তাই ভগবদ্ভক্তগণ এ সময়ে হরিনামগঙ্গায় স্নান করেন এবং অধিক অধিক কৃষ্ণপূজা, কৃষ্ণ নাম কীর্তন, কৃষ্ণ নাম জপ, গীতা-ভাগবতাদি পাঠ ও শ্রবণ করেন।
গ্রহণকালে রান্না করা সমস্ত বস্তু অখাদ্য হয়ে যায়, গ্রহণ লাগলে পাকভান্ড (রান্নার বাসন) ধুয়ে ফেলতে হয়। শাস্ত্র প্রমাণ-
শ্রীকৃষ্ণ নন্দবাবাকে বললেন,
"চন্দ্র-সূর্য-গ্রহণে, জনন-মরণাশৌচে ও অশুচি ব্যক্তির
সংস্পর্শে তৎক্ষণাৎ পাক ভাণ্ড পরিত্যাগ করা বিধেয়।"
[শ্রীব্রহ্মবৈবর্তপুরাণ, কৃষ্ণজন্মখন্ড, ৮৩।৫৬]
🔴গর্ভবতী মায়েরা চন্দ্র গ্রহণের সময় কী করবেন:-
গ্রহণের সময়ে গর্ভবতী মহিলারা কোনও ধারযুক্ত জিনিস যেমন ছুরি, কাঁচি, ছুঁচ ইত্যাদি ব্যবহার করবেন না। বাড়ির কোনও কাজ করবেন না।
শাস্ত্র মতে গ্রহণ শুরু হওয়ার পর গর্ভবতী মহিলাদের স্নান করা উচিত নয়। এমনকি ব্যায়ামও নিষিদ্ধ।
গর্ভবতী মহিলারা গ্রহণের সময়ে চাঁদের আলোয় এসে দাঁড়াবেন না। আবার বাড়ির মধ্যে এমন স্থানে থাকুন, যেখানে চাঁদের আলো প্রবেশ না-করে।
চন্দ্র গ্রহণের সময়ে গর্ভবতী মহিলারা মন্ত্র জপ, ঈশ্বর নাম সংকীর্তন করতে পারেন। এ সময়ে আপনারা বিষ্ণু সহস্ত্রনাম পাঠ করতে পারেন। এছাড়াও হনুমান চালিসা, আদিত্য হৃদয় স্তোত্র, বিষ্ণু হস্তাক্ষরী মন্ত্র ও পঞ্চাক্ষরী মন্ত্র জপ করলে বিশেষ সুফল পেতে পারেন।
শাস্ত্র মতে গ্রহণের সময়ে গর্ভবতী মহিলারা নিজের কাছে একটি নারকেল রেখে নিন। এ ফলে সমস্ত ধরনের ক্ষতিকর রশ্মি ও প্রভাব থেকে মুক্ত থাকা যায়। গ্রহণ শেষ হওয়ার পর পবিত্র কোনও নদীতে নারকেলটি প্রবাহিত করে দিন।
সবাই গ্রহণ চলাকালীন অবশ্যই বেশি বেশি কৃষ্ণনাম জপ করবেন। রাধে রাধে |🌿🌺
Bong Bonding - বং বন্ডিং
6 months ago | [YT] | 0
View 0 replies