তাওহীদের গুরুত্ব অপরিসীম। তাওহীদের কারণেই মানুষ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারে এবং পরকালে জান্নাত লাভে সক্ষম হবে। নিম্নে তাওহীদের গুরুত্বের কতিপয় দিক উল্লেখ করা হ’ল।-
১. মানব সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য : আল্লাহ মানুষকে কেবল তাঁর ইবাদতের জন্য তথা তাওহীদ প্রতিষ্ঠার জন্য সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ বলেন, وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ ‘আমি মানুষ ও জিনকে কেবল আমার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছি’ (যারিয়াত ৫১/৫৬)। আর ইবাদতের মূল তাওহীদের স্বীকৃতি।
অন্যত্র আল্লাহ বলেন, يَا أَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوْا رَبَّكُمُ الَّذِيْ خَلَقَكُمْ وَالَّذِيْنَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُوْنَ- ‘হে মানবমন্ডলী! তোমরা তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহর ইবাদতে সর্বদা রত থাক, যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদেরকে সৃষ্টি করেছেন। তাহ’লে তোমরা সংযমী ও মুত্তাক্বী হ’তে পারবে’ (বাক্বারাহ ২/২১)।
তিনি আরো বলেন, فَلاَ تَجْعَلُوْا للهِ أَنْدَادًا وَأَنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ- ‘তাঁর সাথে অন্য কাউকে কদাচ অংশীদার করো না, অথচ তোমরা জান’(বাক্বারাহ ২/২২)।
মানবজাতির সর্বপ্রথম কর্তব্য হচ্ছে তার সৃষ্টিকর্তা আললাহকে এক বলে জানা। কেননা আল্লাহকে এক বলে না জানা পর্যন্ত তাঁকে এক বলে মানাও যায় না। আল্লাহ বলেন, فَاعْلَمْ أَنَّهُ لاَ إِلَهَ إِلاَ اللهُ ‘অতএব জেনে রাখ, নিঃসন্দেহে আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য ইলাহ নেই’ (মুহাম্মাদ ৪৭/১৯)।
২. নবী-রাসূল প্রেরণের উদ্দেশ্য ছিল তাওহীদের প্রতিষ্ঠা : তাওহীদ বা আল্লাহর একত্বকে প্রচার ও প্রতিষ্ঠার জন্যই আল্লাহ মানবজাতির নিকট যুগে যুগে নবী ও রাসূল প্রেরণ করেছেন। তাওহীদই হচ্ছে সমস্ত রাসূলদের দাওয়াতের মূল কথা, যার দিকে তাঁরা তাঁদের উম্মতদের ডেকেছেন। আল্লাহ বলেন, وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلاَ نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لاَ إِلَهَ إِلاَ أَنَا فَاعْبُدُونِ ‘আর তোমার পূর্বে এমন কোন রাসূল আমরা পাঠাইনি যার প্রতি আমরা এই ওহী অবতরণ করিনি যে, ‘আমি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই; সুতরাং তোমরা আমার ইবাদত কর’ (আম্বিয়া ২১/২৫)।
তিনি আরো বলেন, وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اعْبُدُوا اللهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ ‘আর আমরা অবশ্যই প্রত্যেক জাতির নিকটে একজন রাসূল প্রেরণ করেছি যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর এবং তাগূতকে পরিহার কর’(নাহল ১৬/৩৬)।
৩. তাওহীদ বিশ্বাস নিরাপত্তা ও হেদায়াত লাভের মাধ্যম : আললাহ বলেন,الَّذِيْنَ آمَنُواْ وَلَمْ يَلْبِسُواْ إِيْمَانَهُم بِظُلْمٍ أُوْلَـئِكَ لَهُمُ الأَمْنُ وَهُم مُّهْتَدُوْنَ ‘যারা ঈমান আনে এবং স্বীয় বিশ্বাসকে শিরকের সাথে মিশ্রিত করে না, তাদের জন্যেই শান্তি এবং তারাই সুপথগামী’ (আন‘আম ৬/৮২)।
তিনি আরো বলেন, ‘এবং এ কারণেও যে, যাদেরকে জ্ঞানদান করা হয়েছে তারা যেন জানে যে, এটা তোমার পালনকর্তার পক্ষ থেকে সত্য; অতঃপর তারা যেন এতে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তাদের অন্তর যেন এর প্রতি অনুগত হয়। আল্লাহ বিশ্বাসস্থাপনকারীকে অবশ্যই সরল পথ প্রদর্শন করেন’ (হজ্জ ২২/৫৪)।
৪. দুনিয়া ও আখেরাতে দৃঢ়তা লাভের মাধ্যম : আল্লাহ বলেন,يُثَبِّتُ اللهُ الَّذِينَ آمَنُواْ بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الآخِرَةِ ‘যারা শাশ্বত বাণীতে বিশ্বাসী তাদেরকে আল্লাহ দুনিয়ার জীবনে ও আখেরাতে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন’ (ইবরাহীম ১৪/২৭)।
৫. গোনাহ মাফের উপায় : আল্লাহ বলেন, وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَنُكَفِّرَنَّ عَنْهُمْ سَيِّئَاتِهِمْ وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَحْسَنَ الَّذِي كَانُوا يَعْمَلُونَ ‘আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, আমরা অবশ্যই তাদের মন্দ কর্মগুলো মিটিয়ে দেব এবং তাদেরকে তাদের কর্মের উৎকৃষ্টতর প্রতিদান দেব’ (আনকাবূত ২৯/৭)।
তিনি আরো বলেন, وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْكِتَابِ آمَنُواْ وَاتَّقَوْاْ لَكَفَّرْنَا عَنْهُمْ سَيِّئَاتِهِمْ وَلأدْخَلْنَاهُمْ جَنَّاتِ النَّعِيمِ ‘আর যদি আহলে কিতাবরা বিশ্বাস স্থাপন করত এবং আল্লাহভীতি অবলম্বন করত, তবে আমরা তাদের মন্দ বিষয়সমূহ ক্ষমা করে দিতাম এবং তাদেরকে নে‘মতের উদ্যানসমূহে প্রবেশ করতাম’ (মায়েদাহ ৫/৬৫)।
‘আর হে নবী! যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ সমূহ করেছে, তুমি তাদেরকে এমন জান্নাতের সুসংবাদ দাও, যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহমান থাকবে। যখনই তারা খাবার হিসাবে কোন ফল প্রাপ্ত হবে, তখনই তারা বলবে, এতো অবিকল সে ফলই যা আমরা ইতিপূর্বেও লাভ করেছিলাম। বস্ত্ততঃ তাদেরকে একই প্রকৃতির ফল প্রদান করা হবে এবং সেখানে তাদের জন্য শুদ্ধাচারিণী রমণীকুল থাকবে। আর সেখানে তারা অনন্তকাল অবস্থান করবে’ (বাক্বারাহ ২/২৫)।
তাওহীদ কি? তাওহীদ কত প্রকার??
তাওহীদ শব্দের আভিধানিক অর্থঃ কোনো কিছুকে এক করা, একক ও অদ্বিতীয় সাব্যস্ত করা, একত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করা। শরীয়তের পরিভাষায়ঃ তাওহীদ শব্দের অর্থ হলো - আল্লাহ সুবহা’নাহু তাআ’লাকে তাঁর সুমহান জাত (সত্ত্বা), আসমা বা সর্বসুন্দর নাম ও সিফাতে (গুণরাজি ও বৈশিষ্টে), এবং তাঁর অধিকার, কর্ম ও কর্তৃত্বে এক,একক ও অদ্বিতীয় ষোষণা ও সাব্যস্ত করা, এবং এসব ক্ষেত্রে নিজের কথা, কাজ ও বিশ্বাসের দ্বারা আল্লাহর একত্বকে অক্ষুন্ন রাখা।
১. তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহঃ রুবুবিয়্যাহ বা প্রভুত্বের ক্ষেত্রে তাওহীদ... আর তা হলোঃ নিজের কথা, কাজ ও বিশ্বাসের দ্বারা আল্লাহ্ তাআ’লাকে তাঁর যাবতীয় কর্ম ও কর্তৃত্বে এক ও অদ্বিতীয় তথা লা-শরীক (অংশীদারহীন) সাব্যস্ত করা। তাওহীদের এই পর্যায়ের মূলত যে কাজগুলো রব্ব বা বিশ্বজাহানের প্রতিপালক হিসেবে একমাত্র আল্লাহ তাআ’লাই করে থাকেন, সেই কাজগুলোতে এক আল্লাহকেই বিশ্বাস করাকে বোঝায়। এর উদাহরণ হলো, রিযিকদাতা, সন্তানদাতা, ভাগ্যের ভালো-মন্দের মালিক, বিপদে উদ্ধার করার মালিক, পৃথিবীর নিয়ন্ত্রনকারী, এইরকম যেই কাজগুলো রব্ব হিসেবে একমাত্র আল্লাহ তাআ’লাই করে থাকেন – সেইগুলোতে আল্লাহকে এক ও একক সত্ত্বা হিসেবে বিশ্বাস করা, এবং তাঁর সাথে অন্য কাউকে শরীক না করা। সহজ করে বলা যেতে পারে, “তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ” হচ্ছে আল্লাহর কাজের ক্ষেত্রে (আরবীতে যাকে রুবুবিয়্যাহ বলা হয়) – সেইগুলোতে এক আল্লাহকেই বিশ্বাস করা, এবং এই কাজ অন্য কেউ করে বা তাঁর সাথে অন্য কেউ শরীক (অংশীদার) বা সাহায্যকারী আছে এই ধারণ বা বিশ্বাস অন্তরে না রাখা।
২. তাওহীদুল উলুহিয়্যাহঃ ইবাদতের ক্ষেত্রে তাওহীদ... অর্থাতঃ বান্দার ইবাদতে ইবাদতে আল্লাহ্ তাআ’লার তাওহীদকে অক্ষুন্ন রাখা। অন্য কথায়, ইবাদতে আল্লাহর একত্ব প্রতিষ্ঠা করা। যেমন নামায রোযা, হজ্জ, যাকাত শুধু মাত্র এক আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য করা, পিতামাতা, পীরের বা অন্য যেকারো সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য না করা অথবা শুধুমাত্র দুনিয়াবি কোনো কিছু পাওয়ার জন্য (যেমন কেউ কুরআন শিক্ষা দিলো শুধু বেতন পাওয়ার লোভে, আল্লাহকে সন্তুষ্টির জন্যে নয়) বা অন্য কাউকে সন্তুষ্ট করতে না চাওয়া। যেমন অনেকে বেনামাযি শ্বশুর বাড়িতে গেলে লোক দেখানো নামায পড়ে, নির্বাচন আসলে মন্ত্রী এমপিরা ভোট পাওয়ার জন্য বা সুনাম কুড়ানোর জন্য হজ্জ উমরা করে, টুপি পাঞ্জাবী বা হেজাব পর্দা করে ধার্মিক সাজার চেষ্টা করে। এই সবগুলো কাজ তাওহীদে উলুহিয়্যাহর দিক থেকে বড় শিরকের পর্যায়ে পড়ে। কারণ সে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নয়, বরং অন্য কাউকে সন্তুষ্ট করার জন্য ইবাদত করছে। সহজ করে বলা যেতে পারে, “তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ” হচ্ছে বান্দার যেই কাজগুলো শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য নির্ধারিত (আরবীতে যাকে ইবাদত বলা হয়, যার জন্য ইবাদত করা হয় তাকে “ইলাহ” বলা হয়) – সেইগুলো এক আল্লাহর জন্যই করা, এর বিনিময়ে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টিই কামনা করা এবং এই কাজগুলোর উদ্দেশ্যের মাঝে অন্য কারো সন্তুষ্টিকে শরীক (অংশীদার) না করা।
৩. তাওহীদুল আসমা ওয়াস-সিফাত অর্থাত, আল্লাহ্ তাআ’লাকে তাঁর আসমা (সুন্দরতম সমূহ নাম) ও সিফাত (গুণাবলীতে) এক ও অদ্বিতীয় সাব্যস্ত করা, এই আসমা ও সিফাতগুলোতে কাউকে শরীক না করা। অন্য কথায়, আল্লাহর সুমহান নাম ও গুণাবলীতে আল্লাহ্ তাআ’লার একত্ব অক্ষুন্ন রাখা। “সাব্যস্ত করার’’ অর্থ হলোঃ নিজের আক্বীদাহ-বিশ্বাসে, কথা-বার্তায় ও কাজে-কর্মে আল্লাহর একত্ববাদ প্রমাণিত ও প্রতিষ্ঠিত করা।
যেমন – আল্লাহ তাআ’আলার একটা সিফাত হচ্ছে তিনি “আ’লেমুল গায়েব” –সুতরাং অন্য কেউ গায়েব জানে, এই আকীদা না রাখা।
Abu Dharr said: The Messenger of Allah said to me: 'Have Taqwa of Allah wherever you are, and follow an evil deed with a good one to wipe it out, and treat the people with good behavior.
Most of the people have this dangerous habit. Whenever they feel upset or depressed or distress they run over to the bathroom to cry (utmost people think it brings peace to them once they spend their time in bathroom by crying, in fact, it might bring them because of arbitrary they found peace in doing it). “Verily, he [Shaytaan] and Qabeeluhu (his soldiers from the jinn or his tribe) see you from where you cannot see them.” [lal-Araaf 7:27] Anyways, do you know mostly where does the Jinn resides? They live mostly in the bathrooms. Most of the people know this and still, they forget or neglect this, that the Jinn can harm or live in us. Do you know that being distress in the bathroom is the best way to make the Jinn able to harm you? So I suggest if you ever feel sorrow or feel like crying then rather than going into the bathroom just do Wudhu and offer 2 Rakah salah and cry in front of Allah! Subhanallah how immense feeling it will be. Don’t forget to follow this Sunnah while going to bathroom it will help us from Shayateen.
The Prophet Muhammad saw has told us what we should do so that Allah will protect us from the evil of the shayaateen when we enter the toilet. That is that before entering the place, the Muslim should say, “Bismillaah, Allaahumma inni a’oodhu bika min al-khubthi wa’l-khabaa’ith (In the name of Allah, O Allah, I seek refuge with You from evil and from the male and female devils)” Al-Tirmidhi (no. 606) Narrated from ‘Ali ibn Abi Taalib (May Allah be pleased with him) that the Messenger of Allah PBUH “A screen will be placed between the eyes of the jinn and the ‘awrah of the sons of Adam when one of them enters the toilet, if he says ‘Bismillaah (in the name of Allah)” (Classed as saheeh by al-Albaani in Saheeh al-Tirmidhi, 496). Abu Dawood (6) and lbn Maajah (296) narrated that the Prophet PBUH said: “These toilets are visited (by jinn), so when any one of you goes to the toilet, let him say.
Repenting Muslimah
তাওহীদের গুরুত্ব ও তাৎপর্য :
তাওহীদের গুরুত্ব অপরিসীম। তাওহীদের কারণেই মানুষ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারে এবং পরকালে জান্নাত লাভে সক্ষম হবে। নিম্নে তাওহীদের গুরুত্বের কতিপয় দিক উল্লেখ করা হ’ল।-
১. মানব সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য : আল্লাহ মানুষকে কেবল তাঁর ইবাদতের জন্য তথা তাওহীদ প্রতিষ্ঠার জন্য সৃষ্টি করেছেন।
আল্লাহ বলেন, وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ
‘আমি মানুষ ও জিনকে কেবল আমার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছি’ (যারিয়াত ৫১/৫৬)।
আর ইবাদতের মূল তাওহীদের স্বীকৃতি।
অন্যত্র আল্লাহ বলেন, يَا أَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوْا رَبَّكُمُ الَّذِيْ خَلَقَكُمْ وَالَّذِيْنَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُوْنَ- ‘হে মানবমন্ডলী! তোমরা তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহর ইবাদতে সর্বদা রত থাক, যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদেরকে সৃষ্টি করেছেন। তাহ’লে তোমরা সংযমী ও মুত্তাক্বী হ’তে পারবে’ (বাক্বারাহ ২/২১)।
তিনি আরো বলেন, فَلاَ تَجْعَلُوْا للهِ أَنْدَادًا وَأَنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ- ‘তাঁর সাথে অন্য কাউকে কদাচ অংশীদার করো না, অথচ তোমরা জান’(বাক্বারাহ ২/২২)।
মানবজাতির সর্বপ্রথম কর্তব্য হচ্ছে তার সৃষ্টিকর্তা আললাহকে এক বলে জানা। কেননা আল্লাহকে এক বলে না জানা পর্যন্ত তাঁকে এক বলে মানাও যায় না। আল্লাহ বলেন, فَاعْلَمْ أَنَّهُ لاَ إِلَهَ إِلاَ اللهُ ‘অতএব জেনে রাখ, নিঃসন্দেহে আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য ইলাহ নেই’ (মুহাম্মাদ ৪৭/১৯)।
২. নবী-রাসূল প্রেরণের উদ্দেশ্য ছিল তাওহীদের প্রতিষ্ঠা : তাওহীদ বা আল্লাহর একত্বকে প্রচার ও প্রতিষ্ঠার জন্যই আল্লাহ মানবজাতির নিকট যুগে যুগে নবী ও রাসূল প্রেরণ করেছেন। তাওহীদই হচ্ছে সমস্ত রাসূলদের দাওয়াতের মূল কথা, যার দিকে তাঁরা তাঁদের উম্মতদের ডেকেছেন। আল্লাহ বলেন, وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلاَ نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لاَ إِلَهَ إِلاَ أَنَا فَاعْبُدُونِ ‘আর তোমার পূর্বে এমন কোন রাসূল আমরা পাঠাইনি যার প্রতি আমরা এই ওহী অবতরণ করিনি যে, ‘আমি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই; সুতরাং তোমরা আমার ইবাদত কর’ (আম্বিয়া ২১/২৫)।
তিনি আরো বলেন, وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اعْبُدُوا اللهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ ‘আর আমরা অবশ্যই প্রত্যেক জাতির নিকটে একজন রাসূল প্রেরণ করেছি যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর এবং তাগূতকে পরিহার কর’(নাহল ১৬/৩৬)।
৩. তাওহীদ বিশ্বাস নিরাপত্তা ও হেদায়াত লাভের মাধ্যম : আললাহ বলেন,الَّذِيْنَ آمَنُواْ وَلَمْ يَلْبِسُواْ إِيْمَانَهُم بِظُلْمٍ أُوْلَـئِكَ لَهُمُ الأَمْنُ وَهُم مُّهْتَدُوْنَ ‘যারা ঈমান আনে এবং স্বীয় বিশ্বাসকে শিরকের সাথে মিশ্রিত করে না, তাদের জন্যেই শান্তি এবং তারাই সুপথগামী’ (আন‘আম ৬/৮২)।
তিনি আরো বলেন, ‘এবং এ কারণেও যে, যাদেরকে জ্ঞানদান করা হয়েছে তারা যেন জানে যে, এটা তোমার পালনকর্তার পক্ষ থেকে সত্য; অতঃপর তারা যেন এতে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তাদের অন্তর যেন এর প্রতি অনুগত হয়। আল্লাহ বিশ্বাসস্থাপনকারীকে অবশ্যই সরল পথ প্রদর্শন করেন’ (হজ্জ ২২/৫৪)।
৪. দুনিয়া ও আখেরাতে দৃঢ়তা লাভের মাধ্যম : আল্লাহ বলেন,يُثَبِّتُ اللهُ الَّذِينَ آمَنُواْ بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الآخِرَةِ ‘যারা শাশ্বত বাণীতে বিশ্বাসী তাদেরকে আল্লাহ দুনিয়ার জীবনে ও আখেরাতে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন’ (ইবরাহীম ১৪/২৭)।
৫. গোনাহ মাফের উপায় : আল্লাহ বলেন, وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَنُكَفِّرَنَّ عَنْهُمْ سَيِّئَاتِهِمْ وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَحْسَنَ الَّذِي كَانُوا يَعْمَلُونَ ‘আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, আমরা অবশ্যই তাদের মন্দ কর্মগুলো মিটিয়ে দেব এবং তাদেরকে তাদের কর্মের উৎকৃষ্টতর প্রতিদান দেব’ (আনকাবূত ২৯/৭)।
তিনি আরো বলেন, وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْكِتَابِ آمَنُواْ وَاتَّقَوْاْ لَكَفَّرْنَا عَنْهُمْ سَيِّئَاتِهِمْ وَلأدْخَلْنَاهُمْ جَنَّاتِ النَّعِيمِ ‘আর যদি আহলে কিতাবরা বিশ্বাস স্থাপন করত এবং আল্লাহভীতি অবলম্বন করত, তবে আমরা তাদের মন্দ বিষয়সমূহ ক্ষমা করে দিতাম এবং তাদেরকে নে‘মতের উদ্যানসমূহে প্রবেশ করতাম’ (মায়েদাহ ৫/৬৫)।
৬. জান্নাত লাভের মাধ্যম : আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
وَبَشِّرِ الَّذِين آمَنُواْ وَعَمِلُواْ الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الأَنْهَارُ كُلَّمَا رُزِقُواْ مِنْهَا مِن ثَمَرَةٍ رِّزْقاً قَالُواْ هَـذَا الَّذِي رُزِقْنَا مِن قَبْلُ وَأُتُواْ بِهِ مُتَشَابِهاً وَلَهُمْ فِيهَا أَزْوَاجٌ مُّطَهَّرَةٌ وَهُمْ فِيهَا خَالِدُونَ
‘আর হে নবী! যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ সমূহ করেছে, তুমি তাদেরকে এমন জান্নাতের সুসংবাদ দাও, যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহমান থাকবে। যখনই তারা খাবার হিসাবে কোন ফল প্রাপ্ত হবে, তখনই তারা বলবে, এতো অবিকল সে ফলই যা আমরা ইতিপূর্বেও লাভ করেছিলাম। বস্ত্ততঃ তাদেরকে একই প্রকৃতির ফল প্রদান করা হবে এবং সেখানে তাদের জন্য শুদ্ধাচারিণী রমণীকুল থাকবে। আর সেখানে তারা অনন্তকাল অবস্থান করবে’ (বাক্বারাহ ২/২৫)।
তাওহীদ কি? তাওহীদ কত প্রকার??
তাওহীদ শব্দের আভিধানিক অর্থঃ
কোনো কিছুকে এক করা, একক ও অদ্বিতীয় সাব্যস্ত করা, একত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করা।
শরীয়তের পরিভাষায়ঃ
তাওহীদ শব্দের অর্থ হলো - আল্লাহ সুবহা’নাহু তাআ’লাকে তাঁর সুমহান জাত (সত্ত্বা), আসমা বা সর্বসুন্দর নাম ও সিফাতে (গুণরাজি ও বৈশিষ্টে), এবং তাঁর অধিকার, কর্ম ও কর্তৃত্বে এক,একক ও অদ্বিতীয় ষোষণা ও সাব্যস্ত করা, এবং এসব ক্ষেত্রে নিজের কথা, কাজ ও বিশ্বাসের দ্বারা আল্লাহর একত্বকে অক্ষুন্ন রাখা।
তাওহীদ কত প্রকার?
তাওহীদ ৩ প্রকারঃ
১. তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ,
২. তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ,
৩. তাওহীদুল আসমা ওয়াস-সিফাত।
১. তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহঃ
রুবুবিয়্যাহ বা প্রভুত্বের ক্ষেত্রে তাওহীদ...
আর তা হলোঃ নিজের কথা, কাজ ও বিশ্বাসের দ্বারা আল্লাহ্ তাআ’লাকে তাঁর যাবতীয় কর্ম ও কর্তৃত্বে এক ও অদ্বিতীয় তথা লা-শরীক (অংশীদারহীন) সাব্যস্ত করা। তাওহীদের এই পর্যায়ের মূলত যে কাজগুলো রব্ব বা বিশ্বজাহানের প্রতিপালক হিসেবে একমাত্র আল্লাহ তাআ’লাই করে থাকেন, সেই কাজগুলোতে এক আল্লাহকেই বিশ্বাস করাকে বোঝায়। এর উদাহরণ হলো, রিযিকদাতা, সন্তানদাতা, ভাগ্যের ভালো-মন্দের মালিক, বিপদে উদ্ধার করার মালিক, পৃথিবীর নিয়ন্ত্রনকারী, এইরকম যেই কাজগুলো রব্ব হিসেবে একমাত্র আল্লাহ তাআ’লাই করে থাকেন – সেইগুলোতে আল্লাহকে এক ও একক সত্ত্বা হিসেবে বিশ্বাস করা, এবং তাঁর সাথে অন্য কাউকে শরীক না করা।
সহজ করে বলা যেতে পারে, “তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ” হচ্ছে আল্লাহর কাজের ক্ষেত্রে (আরবীতে যাকে রুবুবিয়্যাহ বলা হয়) – সেইগুলোতে এক আল্লাহকেই বিশ্বাস করা, এবং এই কাজ অন্য কেউ করে বা তাঁর সাথে অন্য কেউ শরীক (অংশীদার) বা সাহায্যকারী আছে এই ধারণ বা বিশ্বাস অন্তরে না রাখা।
২. তাওহীদুল উলুহিয়্যাহঃ
ইবাদতের ক্ষেত্রে তাওহীদ...
অর্থাতঃ বান্দার ইবাদতে ইবাদতে আল্লাহ্ তাআ’লার তাওহীদকে অক্ষুন্ন রাখা। অন্য কথায়, ইবাদতে আল্লাহর একত্ব প্রতিষ্ঠা করা।
যেমন নামায রোযা, হজ্জ, যাকাত শুধু মাত্র এক আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য করা, পিতামাতা, পীরের বা অন্য যেকারো সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য না করা অথবা শুধুমাত্র দুনিয়াবি কোনো কিছু পাওয়ার জন্য (যেমন কেউ কুরআন শিক্ষা দিলো শুধু বেতন পাওয়ার লোভে, আল্লাহকে সন্তুষ্টির জন্যে নয়) বা অন্য কাউকে সন্তুষ্ট করতে না চাওয়া। যেমন অনেকে বেনামাযি শ্বশুর বাড়িতে গেলে লোক দেখানো নামায পড়ে, নির্বাচন আসলে মন্ত্রী এমপিরা ভোট পাওয়ার জন্য বা সুনাম কুড়ানোর জন্য হজ্জ উমরা করে, টুপি পাঞ্জাবী বা হেজাব পর্দা করে ধার্মিক সাজার চেষ্টা করে। এই সবগুলো কাজ তাওহীদে উলুহিয়্যাহর দিক থেকে বড় শিরকের পর্যায়ে পড়ে। কারণ সে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নয়, বরং অন্য কাউকে সন্তুষ্ট করার জন্য ইবাদত করছে।
সহজ করে বলা যেতে পারে, “তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ” হচ্ছে বান্দার যেই কাজগুলো শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য নির্ধারিত (আরবীতে যাকে ইবাদত বলা হয়, যার জন্য ইবাদত করা হয় তাকে “ইলাহ” বলা হয়) – সেইগুলো এক আল্লাহর জন্যই করা, এর বিনিময়ে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টিই কামনা করা এবং এই কাজগুলোর উদ্দেশ্যের মাঝে অন্য কারো সন্তুষ্টিকে শরীক (অংশীদার) না করা।
৩. তাওহীদুল আসমা ওয়াস-সিফাত
অর্থাত, আল্লাহ্ তাআ’লাকে তাঁর আসমা (সুন্দরতম সমূহ নাম) ও সিফাত (গুণাবলীতে) এক ও অদ্বিতীয় সাব্যস্ত করা, এই আসমা ও সিফাতগুলোতে কাউকে শরীক না করা।
অন্য কথায়, আল্লাহর সুমহান নাম ও গুণাবলীতে আল্লাহ্ তাআ’লার একত্ব অক্ষুন্ন রাখা।
“সাব্যস্ত করার’’ অর্থ হলোঃ নিজের আক্বীদাহ-বিশ্বাসে, কথা-বার্তায় ও কাজে-কর্মে আল্লাহর একত্ববাদ প্রমাণিত ও প্রতিষ্ঠিত করা।
যেমন – আল্লাহ তাআ’আলার একটা সিফাত হচ্ছে তিনি “আ’লেমুল গায়েব” –সুতরাং অন্য কেউ গায়েব জানে, এই আকীদা না রাখা।
5 years ago | [YT] | 0
View 0 replies
Repenting Muslimah
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ مَيْمُونِ بْنِ أَبِي شَبِيبٍ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ: قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: اتَّقِ اللَّهِ حَيْثُمَا كُنْتَ، وَأَتْبِعِ السَّيِّئَةَ الْحَسَنَةَ تَمْحُهَا، وَخَالِقِ النَّاسَ بِخُلُقٍ حَسَنٍ ، قَالَ: وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ أَبُو عِيسَى: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.
Abu Dharr said:
The Messenger of Allah said to me: 'Have Taqwa of Allah wherever you are, and follow an evil deed with a good one to wipe it out, and treat the people with good behavior.
Jam e Tirmazi, Hadith Number : 1987
Subscribe for more post like this.
.
.
.
.
.
#theonlytruereligionislam #islam #muslim #muslims #islammeanspeace #islamispeace #loveislam #LoveAllah #islam #shs #repenting_muslimah #repenting_muslims #SHS #Quran_recitation #theonlytruereligionislam #SHS_Network #repenting_muslim #Muslims_around_the_world
5 years ago | [YT] | 0
View 0 replies
Repenting Muslimah
@UCOOCXZbFL-kEzYW65ViO-XQ
5 years ago | [YT] | 0
View 0 replies
Repenting Muslimah
❝DO NOT CRY IN THE BATHROOM❞
Most of the people have this dangerous habit. Whenever they feel upset or depressed or distress they run over to the bathroom to cry (utmost people think it brings peace to them once they spend their time in bathroom by crying, in fact, it might bring them because of arbitrary they found peace in doing it).
“Verily, he [Shaytaan] and Qabeeluhu (his soldiers from the jinn or his tribe) see you from where you cannot see them.” [lal-Araaf 7:27] Anyways, do you know mostly where does the Jinn resides?
They live mostly in the bathrooms. Most of the people know this and still, they forget or neglect this, that the Jinn can harm or live in us. Do you know that being distress in the bathroom is the best way to make the Jinn able to harm you? So I suggest if you ever feel sorrow or feel like crying then rather than going into the bathroom just do Wudhu and offer 2 Rakah salah and cry in front of Allah! Subhanallah how immense feeling it will be. Don’t forget to follow this Sunnah while going to bathroom it will help us from Shayateen.
The Prophet Muhammad saw has told us what we should do so that Allah will protect us from the evil of the shayaateen when we enter the toilet. That is that before entering the place, the Muslim should say,
“Bismillaah, Allaahumma inni a’oodhu bika min al-khubthi wa’l-khabaa’ith
(In the name of Allah, O Allah, I seek refuge with You from evil and from the male and female devils)” Al-Tirmidhi (no. 606) Narrated from ‘Ali ibn Abi Taalib (May Allah be pleased with him) that the Messenger of Allah PBUH
“A screen will be placed between the eyes of the jinn and the ‘awrah of the sons of Adam when one of them enters the toilet, if he says ‘Bismillaah (in the name of Allah)”
(Classed as saheeh by al-Albaani in Saheeh al-Tirmidhi, 496). Abu Dawood (6) and lbn Maajah (296) narrated that the Prophet PBUH said: “These toilets are visited (by jinn), so when any one of you goes to the toilet, let him say.
5 years ago | [YT] | 3
View 0 replies
Repenting Muslimah
*Friday Reminder*
Recite sura Kahf, if you are nit able to recite atleast listen to it. 💞
5 years ago | [YT] | 1
View 0 replies