Cocktail- Tour & Travels

Travel... Travel... & ... Travel
Let's travel and help others to travel... That's it


Cocktail- Tour & Travels

কেদারনাথ উত্তরাখণ্ডের চারধামের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন, আদরনীয় ও পবিত্র ধাম কেদারনাথ। দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম কেদারনাথ। পুর্নার্থী, অভিযাত্রী ও ভ্রমণার্থীদের আবেগের অন্ত নেই কেদারনাথকে ঘিরে। 'হিমালয়ে তু কেদারম্'।

মনে করা হয় কেদারনাথ দর্শন এ মোক্ষ মেলে কারণ মহাভারতের অন্তিম পর্বে পাণ্ডবদের এই স্থানেই স্বর্গের পথ দেখিয়েছিলেন দেবাদিদে মহাদেব। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১১ হাজার ৭৫০ ফুট তথা ৩৫৮৪ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই মন্দির ছ ফুট একটি পাথরের পাটাতনের ওপর অবস্থিত মনে করা হয় পাণ্ডবরা এই মন্দির নির্মাণ করেন।
কুন্তী পুত্ররা মহাভারতের যুদ্ধের পর হস্তিনাপুরে অনেকদিন রাজত্ব করার পর নিজেদের কৃতকর্মে অনুতপ্ত হয়ে মুক্তির উপায় অনুসন্ধান করেন। ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠির বেদব্যাস এর কথামতো অভিমন্যু ছেলে পরীক্ষিতকে রাজ্যভার বুঝিয়ে দিয়ে পঞ্চপান্ডব মহাদেবের সন্ধানে বেরিয়ে পড়েন। কাশিতে গিয়েও তারা মহাদেবের সন্ধান পান না। পান্ডবদের চোখে ধুলো দিতে মহাদেব উত্তরাখন্ডের গুপ্ত কাশিতে আত্মগোপন করে থাকেন। পরে মহাদেব এক মহিষের ছদ্মবেশে পান্ডবদের চোখে ধুলো দেওয়ার চেষ্টা করেন।
মহাদেবের পরিকল্পনা বুঝতে পেরে এক অদ্ভুত উপায় বের করেন পাণ্ডবেরা। যুধিষ্ঠির, অর্জুন, নকুল, সহদেব চারিদিক থেকে সমস্ত পশু জন্তুদের তাড়িয়ে নিয়ে আসতে থাকেন আর একদিকে দুই পা ফাঁক করে দাঁড়ান দ্বিতীয় পান্ডব ভীম। সমস্ত পশু জন্তুরা ভীমের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে চলে গেলেও থমকে দাঁড়িয়ে পড়েন এক মহিষ কারণ সেই মহিষ যে স্বয়ং দেবাদিদেব মহাদেব। কিছুতেই ধরা দেবেন না এই সংকল্প নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে মহিষ রুপি মহাদেব পাতালে প্রবেশ করতে শুরু করেন, ভীম ছুটে এসে জড়িয়ে ধরেন মহিষের পশ্চাৎ ভাগ। এবং ওই অংশই রয়ে গেল মাটির উপর। ওই অংশটি পিরামিড আকৃতির হয় শিবলিঙ্গ রূপে পুজিত হয় কেদারনাথে। পাণ্ডবদের নীষ্ঠা দেখে মহাদেব প্রকট হয়ে পান্ডবদের ক্ষমা করেন এবং স্বর্গ প্রাপ্তির খোঁজ দেন। পাণ্ডবরা এই স্থানে তৈরি করেন কেদারনাথ মন্দির। যখন পাতালে অদৃশ্য হচ্ছিলেন তখন মহাদেবের দেহের বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন জায়গায় জেগে উঠেছিল- রুদ্রনাথ (মুখ ), মদ মহেশ্বর (নাভি) তুঙ্গনাথ (বাহু)এবং কল্পেশ্বরে (জটা)। এই পাঁচটি স্থান পঞ্চ কেদার নামে পরিচিত। এছাড়াও নেপালে পশুপতিনাথকে ষষ্ঠ কেদার বলা হয় কারণ এখানেও মহিষের মুখ পড়েছিল বলে অনেকে মনে করেন।

মনে করা হয় আদি গুরু শঙ্করাচার্য অষ্টম শতকে এই মন্দির নির্মাণ করেন তবে তার আগেও কেদারনাথ ধামের উল্লেখ পাওয়া যায়। আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া পরীক্ষা করে জানান কেদারনাথ মন্দিরের পাথর মহাভারতের সময়কালের। ৪০০ বছর বরফের নিচে চাপা পড়ে থাকলেও কেদারনাথ মন্দিরের কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ২০১৩র উত্তরাখণ্ডের ভয়ানক বন্যার পরেও মন্দিরের কোন ক্ষতি হয়নি। পুরাতত্ত্ববিদরা মনে করেন কেদারনাথ ধাম Disaster Prone Areaতে অবস্থিত।

চারধাম পরিক্রমায় আমরাও দেখেছি কেদারনাথকে ঘিরে মানুষের উন্মাদনা সব থেকে বেশি। পূর্ণাথীরা পূন্য সঞ্চয়ে, ভ্রমণার্থীরা হিমালয়ের রূপ রস আহরণে এবং অভিযাত্রীরা এই দুর্গম পথের ট্রেকিং এর উত্তেজনায় এগিয়ে চলেন। বস্ত্র-পরিধেয়, আচার-অভ্যাস, জাতি- বর্ণতে পৃথক কিন্তু লক্ষ্য সবার একই সুতোয় গাঁথা- কেদারনাথ দর্শন।
গৌরীকুন্ড থেকে কেদারনাথের দূরত্ব মাইল ফলকে লেখা থাকে ১৬ কিলোমিটার। তবে ট্রেকিং এর সময় মনে হয় এ দূরত্ব দ্বিগুণ। গৌরিকুন্ড ৬৫০০ ফুট। রামওয়াড়া ৮০০০ ফুট, কেদারনাথ ১১৭৫০ ফুট। একদিনে প্রায় ৫০০০ ফুট চড়াই কষ্টসাধ্য তো বটেই- দুঃসাহসিক ও। আমাদের এই পথ ট্রেকিং এ সময় লেগেছিল প্রায় ১২-১৩ ঘন্টা। সাধারণত ৯-১০ ঘন্টা লাগে। ধীরে সুস্থে সময় নিয়ে উঠেছি আমরা।

আমাদের ট্রেকিং শুরু হয়েছিল ১৪ তারিখ ভোর সাড়ে তিনটা নাগাদ। অগণিত বাড়ি হোটেলের মাঝে দূর থেকে মন্দিরের চূড়ো দেখতে পেয়ে কপালে হাত ঠেকাই যখন ঘড়ির কাঁটায় তখন দুপুর তিনটে পেরিয়েছে।
আকাশ মেঘলা। কিছুক্ষণ পর শুরু হল তুষার বৃষ্টি। মন্দিরের সিঁড়িতে পা দিয়ে সত্যিই মনে হয় এ যেন স্বপ্ন। দিগন্ত বিস্তৃত গগন বিদারী উন্নত গিরিশৃঙ্গের মাঝে কেদারনাথ মন্দির। মনে হয় এ যেন সত্যিই স্বর্গপুরী। মন্দিরের পেছনে ওই যে সিঁড়ি, পথ চলেছে কোন রহস্য ঘেরা অজানার পথে ওই পথেই ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠির গিয়েছিলেন না মহাপ্রস্থানে! রোমাঞ্চ হয়। তুষার শুভ্র হিমালয়ের বুকে ওই যে মহাকালের মুখাবয়ব। হাঁটু মুড়ে বসে হাত কপালে ঠেকাই। ধন্য আমাদের চারধাম দর্শন। জয় কেদারনাথ। জয় গিরিরাজ হিমালয়। হর হর মহাদেব।


তবুও কিছু অপ্রিয় সত্য কথা সবার সাথে শেয়ার করে নিতে চাই। বিশেষত যারা কেদারনাথ যাওয়ার প্ল্যানিং করছেন এই সময়। কেদারনাথের আকস্মিক প্রাকৃতিক বিপর্যয় অন্যতম ভয়ের কারণ তবে কেদারনাথের বর্তমান সমস্যা জনবিস্ফোরণ। কষ্ট হলেও ট্রেকিং করাই যায় ধীরে সুস্থে কিন্তু প্রতি মুহূর্তে রাস্তায় ঘোড়া, পিট্টু, পালকি বাহকের চাপে ট্রেকিং যারা করেন তাদের ভীষণ অসুবিধার মুখে পড়তে হয়। এখনো মনে আছে কেদারনাথ থেকে ফেরার পথে আমরা একটা জায়গায় এমন ভাবে আটকে যাই, সামনে ঘোড়া, পেছনে ঘোড়া, পা ফেলার জায়গা নেই। ঘোড়ারা রেগে পিছন পা দিয়ে লাথি ছোঁড়ে। অসতর্কতায় যদি ঘোড়া পা মাড়িয়ে দেয় কি অবস্থা যে হয়! পালকি বাহকের সামনে পেছনের ডান্ডা মাথায় লেগে কতজনকে যে কাঁদতে দেখলাম।
এবার আসি মন্দির দর্শনের বিষয় মন্দিরের সামনে ২৪ ঘন্টা মানুষের ভিড় সবাই ব্লগারদের দোষী করেন কিন্তু এই ভিড়ে বেশি ব্লগারদের দেখা পায়নি বেশি বাঙালি যাত্রী ও চোখে পড়েনি। তবে ৯০ শতাংশ মানুষ ভিডিও কল করে বাড়ির মানুষদের মন্দির দর্শন করাচ্ছিলেন নিজে দর্শন না সেরেই বাবার দর্শন পেতে হলে কমপক্ষে পাঁচ ছয় ঘন্টা লাইন দিয়ে দাঁড়াতে হয় এবং মতভেদের ১০-১২ ঘন্টা ও হতে পারে। অন্যান্য মন্দিরের মতো এখানেও পুরোহিতদের ভালই প্রাধান্য রয়েছে।

এবার আসি হোটেলের প্রসঙ্গে। কেদারনাথের মাথাপিছু ৫০০ টাকা দিয়ে তাঁবুতে থাকা যায় তবে তাঁবু গুলোর অবস্থা বেশ শোচনীয়। মানিয়ে একটা রাত থাকা যায় হয়তো তবে ফ্যামিলি নিয়ে গেলে একটু অসুবিধে হবেই কারণ রাত বাড়লে কেদারনাথের হাড় হিম করা ঠান্ডা উপেক্ষা করা অসম্ভব। তবে এখানকার হোটেল চার্জ অসাধারণ ।
একটা রাত আমরা ৬ জন একটা রুমে কাটিয়েছি, যেখানে বাথরুমে আলো নেই কমোডে ফ্ল্যাশ নেই ,সেই রুমের চার্জ দশ হাজার টাকা ওনারা হেসেই নিয়ে নেন।


আর তার আগে কেদারনাথের ঢুকেই আমাদের ভীষণ খারাপ এক অভিজ্ঞতা হল। ৫০০ টাকা আগাম নিয়েও আমাদের রুম দিলেন না এক হোটেলের মালিক। তিনি আবার নিজে পুরোহিতের পোশাকে সুসজ্জিত। অনেক অনুরোধ করলাম, আমাদের সঙ্গে ছোট বাচ্চা আছে, আমরা ১৩ ঘণ্টা হেঁটেছি, ভীষণ ক্লান্ত ,এসব বলার পরেও মুখের সামনে দরজা বন্ধ করে দিলেন। সম্ভবত উনি আরো বেশি টাকা দিয়ে রুমটা বুকিং করাতে চাচ্ছিলেন। ইতিমধ্যে শুরু হলো ঝমঝম বৃষ্টি। স্যার কোন মতে আমাদের মালপত্র বই ছিলেন এক পিট্টু বাহক ওনাকে দিয়েই ওই ১০ হাজার টাকার রুম খুঁজলেন ।অবশ্য রুম যে পেয়েছি তাই আমাদের ভাগ্য। কারন ওখানে যাওয়ার দুদিন আগেও খবর পারছিলাম যে ওখানকার হোটেল মালিকরা স্ট্রাইক করছেন।

আর মন্দিরের সামনে পাশে কত যে হোটেল, কত যে দোকান তা গুনে শেষ করা যায় না। কত পুরানো এই মন্দির, বিচিত্র তার ইতিহাস, কত গৌরবময় তার উপস্থিতি! কেদার মন্দিরেও কি নিরালায় বাবাকে দর্শন করার কোন উপায় নেই? স্বর্গের মন্দিরে এত কোলাহল কি মানায়?

কেদার মন্দিরের সিঁড়ি দিয়ে উপরে বেশ কিছুটা ট্রেকিং করে পৌঁছে যাওয়া যায় চোরাবালি তাল। সেখানে গান্ধীজীর চিতাবর্ষ বিসর্জন দেওয়া হয়। নাম হয় গান্ধী সরোবর। চোরাবালি তাল থেকেই জন্ম স্বর্গের নদী মন্দাকিনীর। শঙ্কু মহারাজ বলেছিলেন - দূরে শুনতে পাচ্ছি 'মন্দাকিনীর মন্দিরা'। এখন মন্দাকিনীর ধনী মৃদু মন্দ হয়ে শোনা যায় হেলিকপ্টারের আওয়াজ। মন্দিরের পেছনে ভীম শিলা ২০১৩ র ট্রাজেডির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

নিউজ চ্যানেলে দেখলাম এভারেস্ট আরোহনে জ্যাম। দড়িতে ঝুলছেন পরপর অভিযাত্রীরা। কেদার নাথেই বা জ্যাম হবে না কেন?
তবে সাবধান সতর্ক হয়ে প্ল্যান করুন। সমস্ত প্রতিকুল পরিস্থিতির জন্য তৈরি থাকুন। অক্সিজেন ক্যান, কর্পূর, ড্রাই ফ্রুটস সঙ্গে রাখুন। স্রোতের অনুকূলে গা না ভাসিয়ে ভীড় একটু কমলে যাত্রা শুরু করাই ভালো। সেপ্টেম্বর অক্টোবর এ ভীড় অনেকটাই কম থাকে।
তবে যদি ইতিমধ্যেই প্ল্যানিং করে থাকেন তবে বেরিয়ে পড়ুন। মনে থাকুক কষ্ট সহ্য করার মানসিকতা, অসীমের সাথে মিলনের আকাঙ্ক্ষা ও মুখে থাকুক 'জয় কেদার' ধ্বনি।

#kedarnath #kedarnathtemple #uttarakhand

1 year ago | [YT] | 38

Cocktail- Tour & Travels

চারধাম - গঙ্গোত্রী যমুনোত্রী কেদার বদ্রী।
চার ধাম দর্শনে পূণ্য হয়, হৃদয়ে আসে প্রশান্তি, মন শান্ত হয়। গৃহী মানুষ ঘর ছাড়ে, অনেকে আবার আপন শিকড় আঁকড়ে ধরে শক্ত করে। এ পথ ধুলায় ঢাকা, জল কাদা মাখা অলসতা বিলাসিতার চিহ্নমাত্র নেই। কষ্ট বরণ করে আপন লক্ষ্যে এগিয়ে চলাই এ পথের নিরাময়। নাই ভয়। জল স্থলে অন্তরীক্ষে যিনি আছেন তিনিই রক্ষা করবেন নিশ্চয়। 'পথে যদি পিছিয়ে পরি কভু' তিনিই বরাভয়। চারধাম দর্শনে কতখানি পাপস্থালন হয়ে কতখানি পূণ্য সঞ্চয় করেছি তা জানি না তবে এই যাত্রা সারা জীবনের সঞ্চিত সম্পদ। আকাশে বাতাসে পাহাড়ে অরণ্যে অনুভব করেছি যাকে তিনি আমাদের পরম আরাধ্য- সেই আদি যোগীর আবাসস্থল এই দেবভূমি। এই সুউচ্চ হিমালয়ের গগনভেদি চূড়ায় স্বয়ং মহাদেবের বাস। এই গহীন অরন্যানি শিব পার্বতীর লীলাভূমি। পঞ্চপান্ডবের অজ্ঞাতবাসীর কাহিনী বাতাস বই বেড়ায়। স্বয়ং বিপদভঞ্জন শ্রীকৃষ্ণের স্পর্শ ধন্য এই মাটি। নদী হয়ে বয়ে যায় মা গঙ্গা, মা যমুনা। অটুট বিশ্বাস, অটল ভক্তি, শ্রদ্ধা, আকুতি নিয়ে পূর্ণার্থীরা এগিয়ে চলে পাথরে লাঠি টুকে, মুখে আরাধ্য দেবতার নাম। এ পথে ক্লান্তি আসে তবে ক্লান্তি মিলিয়ে যায় "ভোরের শিশির রোধের তাপে যেমন মেলায়"(পঞ্চকেদার, উমা প্রসাদ মুখোপাধ্যায়)।
এ পথের বাঁকে বাঁকে কষ্ট।মোড় ঘুরলেই আরেক সুউচ্চ চড়াই। চোখ তুলে তাকালেই পাহাড়ের উপর আঁকাবাঁকা, খাঁজ কাটা, ঝুলে থাকা রাস্তা, তাতে অগণিত মানুষের চলাফেরা, এ পথে শেষ কথা কে তা জানে?
হাঁফ ধরে, পায়ের শিরায় টান পড়ে, মন বলে কষ্ট বিনা কেষ্ট কোথা? ধুলো কাদা মেখে, জলে ভিজে ঘর্মাক্ত কলেবরে মিলবে তার দর্শন তবেই না এ যাত্রা সার্থক। এ পথে সময়ের হিসাব নাই, এগিয়ে যাওয়া লড়াই নেই, পরাজয় গ্লানি নেই। মন বলে, তিনি আছেন, আকাশে বাতাসে, নদীর কল্লোলে, অরণ্যের সবুজে, শুভ্র তুষার শৃঙ্গে, হাতের যষ্টিতে, মনের মনিকোঠায় তিনি সদাই বিরাজমান। তাই ভয় নাই। হোঁচট খেলে হাত ধরবেন তিনি। ক্লান্তি এলে সাময়িক বিশ্রামে আরাম যোগাবেন তিনি। পা ফেটে রক্ত গড়ায় যদি তবু খুঁড়িয়ে সামনে এগিয়ে চলার মনোবল যোগাবেন তিনি। কৃপা সিন্ধু অন্তর্যামী তিনিই। তিনি ডাক দিলে এ পথে কোথায় বাধা? তাঁর ডাক পেলে ঘরে বসে থাকার সাধ্য কোথা?

প্রতিবছর দীপাবলিতে বন্ধ হয় চার ধামের দরজা, মহাসমারোহে আরাধ্য দেবতাকে নিয়ে প্রবল শোভাযাত্রা সহকারে নিচে নেমে যান পুরোহিতরা। ছয় মাস বরফের তলায় চাপা পড়ে চার ধাম। জনহীন প্রান্তরে প্রবল ঠান্ডায় দেবতার নিরুপদ্রব বিশ্রাম। ছয় মাস পর অক্ষয় তৃতীয়ার পূর্ণ লগ্নে একে একে খুলে যায় চারধামের দ্বার। এ বছর ২০২৪ এ চারধাম পরিক্রমার মনোবাসনায় আমরাও বেরিয়ে পড়েছিলাম গাড়ি নিয়েই। গন্তব্য- দেবভূমি। হৃদয়ে 'জয়কেদার' ধ্বনি।
আমাদের দলের সবচেয়ে ক্ষুদে সদস্য দশ বছরের বাবু স্বপ্ন দেখেছিল সে কেদার ধামের সিঁড়িতে উঠছে, চলছে চারিদিক গিরি শৃঙ্গ ঘেরা স্বমহিমায় বিরাজমান বাবা কেদারনাথের মন্দিরের দিকে। সেখান থেকেই প্ল্যানিং শুরু। ২০২৪ এ দাঁড়িয়ে কেদারনাথ ঘুরতে যাওয়ার ইচ্ছা নেই এমন ভারতবাসী বিরল। তবে এবার প্রথম থেকেই স্যার বারবার বলছিলেন চারধাম ভ্রমণ নয়, চারধাম যাত্রা তীর্থ। হৃদয়ে ভক্তি, বিশ্বাস মহাদেবের অপার করুণা না থাকলে চারধাম পরিক্রমণ সম্ভব নয়।।
স্যারদের বাড়িতেই ডাইনিং এ গোল হয়ে বসে একদিন চারধাম পরিক্রমার কথা প্রথম শুনি স্যারের মুখেই। সেটা বোধহয় ২০২৩ এ অক্টোবর মাস। গরমের ছুটিতে চারধাম যাব আমরা এ রকমই ঠিক হয়। মনে বিশ্বাস অবিশ্বাসের দোলা। সত্যি কি যেতে পারবো পবিত্র তীর্থক্ষেত্র চারধাম? কেদারনাথ মন্দির দেখতে পাব? সেই যেখানে ইন্দ্রকিলা পর্বত, অর্জুন তপস্যা করে তুষ্ট করে মহাদেবকে, মহামহিম শিব কিরাতের ছদ্মবেশে দেখা দেন তাঁকে ,দান করেন পাশুপাত অস্ত্র।
অপেক্ষা করেছি বেশ কয়েকটা মাস। তারপর আসে লোকসভা ভোট। স্যারের ভোটের ডিউটি। চারধাম সম্ভব নয় এ বছর। মুষড়ে পরি সবাই। ঘুরে আসি তিন চার দিন নর্থ বেঙ্গল থেকে।

তারপর কিছুদিনের অপেক্ষা। হাঁসফাঁস গরমে রাজ্য সরকার নির্ধারিত সময়ের আগেই ছুটি ঘোষণা করেন। ২০২৪-এই চারধাম যাব আমরা ঠিক হয়। সমস্যা মাথা তোলে, বাধা আসে অসুবিধাও হাজির হয়। তবু এবার ঘুরতে নয়, তীর্থে যাব। আগে বাবা ঠাকুরদা, ঠাকুমা দিদিমারা জীবনের শেষ ভাগে চারধাম যেতেন পূণ্য আহরণে। আমরাও যাব মহাদেবের নাম নিয়ে, পরম করুণাময় এর কাছে আকুতি নিয়ে- যাত্রায় যেন কোন বিঘ্ন না আসে, কেউ যেন অসুস্থ না হয়, পাশে থেকো দয়াময়।
৬ ই মে সোমবার যাত্রা শুরু করে ২০ তারিখ, ঠিক দুই সপ্তাহ পর বাড়ি ফিরি আমরা। বড় কোন সমস্যায় পড়তে হয়নি আমাদের পরম করুনাময়ের কাছে অশেষ ধন্যবাদ।
চার ধাম পরিক্রমার ভিডিও নিয়ে আসছি পরের সপ্তায় থেকেই। 🙏🙏

1 year ago (edited) | [YT] | 30

Cocktail- Tour & Travels

কেদারনাথ ট্রেকিং এর পথে...

1 year ago | [YT] | 34

Cocktail- Tour & Travels

দ্বার উন্মোচন এর দিন মা যমুনোত্রী ধাম দর্শন 🙏🙏

1 year ago | [YT] | 34

Cocktail- Tour & Travels

পাহাড়ের আকর্ষণ শুধু পাইন বন, চা বাগান আর শীতের আমেজ নয় কিন্তু...
ধোঁয়া ওঠা চা, সন্ধ্যায় মুচমুচে পকোড়া, ঝাল ঝাল মোমো, লাঞ্চে টেস্টি এগ কারি কিংবা ডিনারে চিকেন সব ই পাহাড়ের আকর্ষণ 🥰🥰🥰

1 year ago | [YT] | 22

Cocktail- Tour & Travels

নর্থ বেঙ্গল এর এক অফবিট সুন্দর গ্রাম...সামথার।
ভিডিও মিস করবেন না কিন্তু...

1 year ago (edited) | [YT] | 34

Cocktail- Tour & Travels

শুভ নববর্ষ ১৪৩১🌸🙏

1 year ago | [YT] | 24

Cocktail- Tour & Travels

TOP 10 PLACES TO VISIT IN MANALI....
VIDEO IS COMING ON SUNDAY...

1 year ago | [YT] | 17

Cocktail- Tour & Travels

সান্দাকফু তে শুনেছি দারুন রডোডেন্ড্রন ওয়াইন পাওয়া যায়... তবে এই ফুলের রং এই নেশা ধরায় চোখে...

1 year ago | [YT] | 28

Cocktail- Tour & Travels

হোলির ছুটিতে পাহাড়ে...
Happy Holi to all 😊😊

1 year ago | [YT] | 38