Happy Toons Bangla Bhoutik



Happy Toons Bangla Bhoutik

শেষ ট্রেনের অদৃশ্য যাত্রী

রাত তখন সাড়ে এগারোটা।

শিয়ালদহ স্টেশন প্রায় ফাঁকা হয়ে এসেছে। দিনের কোলাহল যেন ধীরে ধীরে অন্ধকারের মধ্যে মিলিয়ে যাচ্ছে।

অর্ণব, পেশায় একজন ফটোগ্রাফার। সারাদিনের কাজ শেষে বাড়ি ফিরছে। শেষ লোকাল ট্রেনটা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

ট্রেনে উঠে সে অবাক হয়ে গেল। পুরো কামরায় মাত্র পাঁচজন যাত্রী।

একজন বৃদ্ধ, একজন মহিলা, দুইজন কলেজ ছাত্র আর জানালার পাশে বসে থাকা সাদা শাড়ি পরা এক নারী।

ট্রেন ছাড়তেই অর্ণব লক্ষ্য করল, মহিলাটি একদৃষ্টিতে জানালার বাইরে তাকিয়ে আছেন।

ট্রেন যত এগোচ্ছে, কামরার ভেতরটা যেন অস্বাভাবিক ঠান্ডা হয়ে উঠছে।

হঠাৎ লাইট দু-একবার জ্বলে নিভে উঠল।

বৃদ্ধ লোকটি আস্তে করে বললেন,
"রাত বারোটার পরে এই ট্রেনে বেশি কথা বলবেন না।"

অর্ণব হেসে বলল,
"কেন?"

বৃদ্ধ শুধু বললেন,
"সব যাত্রী মানুষ নয়।"

কথাটা শুনে কলেজের দুই ছাত্রও চুপ হয়ে গেল।

কিছুক্ষণ পর ট্রেন একটি ছোট্ট স্টেশনে দাঁড়াল।

দরজা খুলল।

কিন্তু কেউ উঠল না, কেউ নামলও না।

তবুও অর্ণব স্পষ্ট শুনতে পেল পায়ের শব্দ।

মনে হলো কেউ একজন কামরায় উঠে এসে ধীরে ধীরে হাঁটছে।

কিন্তু সামনে তাকিয়ে সে কাউকেই দেখতে পেল না।

তার শরীর কাঁটা দিয়ে উঠল।

হঠাৎ সাদা শাড়ির মহিলাটি খুব ধীরে মাথা ঘুরিয়ে অর্ণবের দিকে তাকালেন।

তার চোখ দুটো সম্পূর্ণ সাদা।

কোনো মণি নেই।

অর্ণব চোখ বন্ধ করে ফেলল।

আবার চোখ খুলতেই মহিলা আগের মতো জানালার দিকে তাকিয়ে আছেন।

সে ভাবল হয়তো চোখের ভুল।

কিন্তু ঠিক তখনই বৃদ্ধ লোকটি ফিসফিস করে বললেন,
"ওনার দিকে দ্বিতীয়বার তাকাবেন না।"

অর্ণব আর সাহস পেল না।

ট্রেন আবার চলতে শুরু করল।

এবার মোবাইল বের করে সময় দেখতে গিয়ে সে অবাক হয়ে গেল।

ঘড়িতে রাত বারোটা।

কিন্তু মোবাইলে কোনো নেটওয়ার্ক নেই।

কিছুক্ষণ পর সে একটা ছবি তুলতে গেল।

ক্যামেরায় দেখা গেল...

কামরায় সে একাই বসে আছে।

বৃদ্ধ নেই।

ছাত্র নেই।

মহিলা নেই।

শুধু সে।

ভয়ে হাত কাঁপতে শুরু করল।

ক্যামেরা নামিয়ে আবার সামনে তাকাতেই সবাই আগের জায়গায় বসে।

সে আর ছবি তুলল না।

এরপর হঠাৎ ট্রেনটা একটি অজানা জায়গায় থেমে গেল।

স্টেশনের কোনো নাম নেই।

চারদিকে শুধু কুয়াশা।

সাদা শাড়ির মহিলা ধীরে ধীরে উঠে দরজার দিকে এগোলেন।

নামার আগে একবার অর্ণবের দিকে তাকিয়ে হাসলেন।

সেই হাসি ছিল অস্বাভাবিক।

যেন ঠোঁটের দুই পাশ কান পর্যন্ত ছিঁড়ে গেছে।

তিনি নেমে যেতেই পুরো কামরা কেঁপে উঠল।

লাইট নিভে গেল।

কয়েক সেকেন্ড পরে আলো ফিরতেই দেখা গেল...

বৃদ্ধ লোকটিও নেই।

দুই ছাত্রও উধাও।

এখন সত্যিই কামরায় একা অর্ণব।

হঠাৎ পেছন থেকে একটা ঠান্ডা কণ্ঠস্বর ভেসে এল।

"আমার ছবিটা তুললে কেন?"

অর্ণব ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াল।

সাদা শাড়ির সেই মহিলা তার ঠিক পিছনে দাঁড়িয়ে।

চোখ থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে।

তিনি বললেন,
"এখন তুমিও আমাদের সঙ্গে থাকবে।"

অর্ণব প্রাণপণে দৌড়ে অন্য কামরায় চলে গেল।

কিন্তু প্রতিটি কামরা ফাঁকা।

শুধু দূরে দূরে সেই মহিলার হাসির শব্দ।

ট্রেনের জানালার বাইরে তাকিয়ে সে দেখল...

ট্রেন আর রেললাইনে নেই।

অন্ধকার জঙ্গলের মাঝখান দিয়ে ভেসে চলেছে।

হঠাৎ জরুরি চেইন টেনে দিল অর্ণব।

ট্রেন থামল না।

বরং আরও দ্রুত চলতে লাগল।

সে দরজা খুলে লাফ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল।

চোখ বন্ধ করে ঝাঁপ দিল।

পরদিন সকালে গ্রামের মানুষ রেললাইনের পাশে অজ্ঞান অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে।

হাসপাতালে জ্ঞান ফিরতেই সে প্রথম প্রশ্ন করল,

"শেষ লোকাল ট্রেনটা কোথায়?"

সবাই অবাক হয়ে বলল,

"গতরাতে ওই লাইনে কোনো ট্রেনই চলেনি।"

অর্ণব বিশ্বাস করতে পারছিল না।

সে নিজের ক্যামেরা খুলে ছবি দেখতে লাগল।

প্রথম কয়েকটা ছবি স্বাভাবিক।

শেষ ছবিটা খুলতেই তার বুক হিম হয়ে গেল।

ছবিতে দেখা যাচ্ছে...

সে একা নয়।

তার কাঁধে হাত রেখে দাঁড়িয়ে আছে সেই সাদা শাড়ির মহিলা।

আর ছবির নিচে ক্যামেরা নিজে থেকেই একটি তারিখ লিখে দিয়েছে—

১৫ আগস্ট, ১৯৮৯।

যে দিন ওই রুটে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় বহু যাত্রীর মৃত্যু হয়েছিল।

সেই রাতের পর অর্ণব আর কখনও ট্রেনে ওঠেনি।

কিন্তু মাঝে মাঝে গভীর রাতে তার মোবাইলে একটি অচেনা নম্বর থেকে একটি ছবি আসে।

ছবিতে একই ট্রেন।

একই কামরা।

আর জানালার পাশে বসে থাকে...

অর্ণব নিজেই।

যদি কোনোদিন রাতের শেষ ট্রেনে একা যাত্রা করেন...

আর জানালার পাশে সাদা শাড়ি পরা কাউকে দেখতে পান...

তাহলে কখনও তার ছবি তুলবেন না।

কারণ...

পরের অদৃশ্য যাত্রীটি হয়তো আপনিই হবেন।

সমাপ্ত।

1 month ago | [YT] | 1

Happy Toons Bangla Bhoutik

Subscribe this channel 🙂🙂🙂

3 months ago | [YT] | 0