বাউল-উজ্জ্বল-মিডিয়া

🎶 Baul Uzzal Media – বাংলা লোকসংগীতের ভান্ডার 🎶

স্বাগতম Baul Uzzal Media-তে! এখানে পাবেন—
✅ বাউল গান (Baul Song)
✅ লালনগীতি (Lalon Geeti)
✅ বাংলা লোকগান (Bangla Folk Song)
✅ আধ্যাত্মিক সংগীত (Spiritual Song)
✅ ব্যান্ড পার্টির বাজনা ও বিয়ের অনুষ্ঠানের গান

আমরা চেষ্টা করি বাংলার ঐতিহ্যবাহী লোকসংগীত, বাউল-লালনের দর্শন এবং ব্যান্ড বাজনার আনন্দকে আপনাদের কাছে পৌঁছে দিতে। আমাদের প্রতিটি পরিবেশনায় আছে গ্রামীণ জীবনের স্পর্শ, সুরের আবেগ এবং ভালোবাসার বার্তা।

👉 বাংলার লোকসংগীত, বাউল গান ও লালনগীতি ভালোবাসলে অবশ্যই সাবস্ক্রাইব করুন Baul Uzzal Media-কে।
👉 নতুন গান আপডেট মিস না করতে বেল আইকন প্রেস করতে ভুলবেন না।

📌 Baul Uzzal Media – যেখানে গান মিশে যায় হৃদয়ের গভীরে।



বাউল-উজ্জ্বল-মিডিয়া

“মহারাজ আবুল সরকারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত হোক, আমরা চাই তাঁর দ্রুত মুক্তি। সত্যের জয় হোক।”

1 month ago | [YT] | 0

বাউল-উজ্জ্বল-মিডিয়া

শুভ দীপাবলির শুভেচ্ছা সকলকে ❤️

2 months ago | [YT] | 2

বাউল-উজ্জ্বল-মিডিয়া

এবারের দূর্গা পূজা সবার কেমন কাটতেছে?

3 months ago | [YT] | 1

বাউল-উজ্জ্বল-মিডিয়া

👻 পর্ব ৫: রহমান জ্বীনের অভিশাপ ফিরে এলো

লেখক : উজ্জ্বল দাস
📍মানিকগঞ্জ সদর, বেলাইল গ্রাম
🗓️ সময়কাল: এপ্রিল ১৯৮১

🌪️ ভূত নয়, ছায়া নয় — এটা অভিশাপ

হরিদাস মারা যাওয়ার এক মাস পরে গ্রামের মানুষ ভাবছিল, সব শেষ।
নন্দিতা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে উঠছে, শান্তনু ফিরে গেছে পিপুলিয়ার আশ্রমে।

কিন্তু এক রাতে বেলাইল গ্রামের মুদি দোকানদার মজিবর নদীর ঘাট থেকে ফিরছিল। সে দেখলো ঘাটের পাশের পাকা সিঁড়িতে কেউ বসে কাঁদছে —

চুল ভেজা

সাদা শাড়ি

মাথা নিচু

সে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো, “মা, কে তুমি?”

কিন্তু কোনো উত্তর নেই।
সে হাত দিয়ে ছুঁয়েছিলো... আর সেই মুহূর্তে তার হাত ভেঙে যায় তিন টুকরোয়!

---

📚 পুরনো কাহিনির খোঁজে

শান্তনু খবর পেয়ে আবার ফিরে আসে।
সে গিয়ে দেখে গ্রামের এক বয়স্ক মহিলা, নাম কমলা দিদি, বলছেন:
“তোর লড়াই শেষ হয়নি বাবা... হরিদাসের আত্মা এখানে থেকে গেছে, আর রহমান জ্বীন তো সেই ১৮৭০ সাল থেকে অভিশপ্ত। জমিদার সেন সাহেবের মেয়ের উপর… জ্বীনের লোভ পড়েছিল।”

ঘটনা ছিল:

জমিদার রাজেন্দ্র সেনের কন্যা "হেমন্তিকা" একা থাকতেন পুরনো কক্ষে

রহমান জ্বীন তার প্রেমে পড়ে যায় এবং তার উপর জোর করে সম্পর্ক গড়ে তোলে

সেই মেয়েটি আত্মহত্যা করে, এবং মৃত্যুর ঠিক আগে এক গোপন তাবিজ রেখে যায়

এই তাবিজই পারে রহমান জ্বীনের অভিশাপ ভাঙতে।

---

🧿 নন্দিতার দেহে অদ্ভুত পরিবর্তন

নন্দিতা এখন ঘুমের মধ্যে এক ভাষায় কথা বলে, যেটা এই যুগের না।

কণ্ঠস্বর মাঝে মাঝে পুরুষের মতো হয়ে যায়

সে নিজেই বলে বসে:
"হেমন্তিকা ফিরে আসছে... আমি তার ভেতরেই আসবো..."

---

🔍 ক্লাইম্যাক্সে প্রস্তুতি

শান্তনু এবার খোঁজে বেতিলা জমিদার বাড়ির পুরনো গুপ্ত ঘরে থাকা সেই "হেমন্তিকার রেখে যাওয়া তাবিজ" —
যেটা ছিল একটা খয়েরি কাপড়ে মোড়ানো, রূপার তৈরি পেন্ডেন্ট।

কিন্তু তাবিজ খুঁজে পাওয়া মানে রহমান জ্বীনের রাগ বাড়ানো।
সে গ্রামের বাতাস ভারি করে তোলে।
পুকুরে মাছ মরতে শুরু করে।
গ্রামের গরু-বাছুররা চিৎকার করে ওঠে রাতে।

---👻 পর্ব ৬: নন্দিতার গর্ভে কে?

🌘 বদলে যাচ্ছে শরীর, পাল্টে যাচ্ছে চেতনা...

নন্দিতা এখন ঠিক আগের মতো নয়। তার শরীর ক্রমশ ভারী হয়ে উঠছে।

সে দিনের পর দিন বমি করে, শরীরে ঘা উঠছে

কিন্তু ডাক্তারি পরীক্ষা বলছে — সে গর্ভবতী!

অথচ সে জানে, মুক্তির পর সে আর কোনো সম্পর্কে ছিল না...

🧬 ডাক্তার অবাক

ডাক্তার জানায়,
“এই সন্তান মানুষের নয়... এর হাড়ের গঠন আলাদা, হৃদস্পন্দনের ধরন অস্বাভাবিক। এমন শিশু আমি জীবনে দেখিনি।”

নন্দিতা রাতে স্বপ্নে দেখে —
এক ছায়াময় ব্যক্তি তার পেটে হাত রেখে বলছে,
“তুই শুধু পথ... এই শিশুই আমার রাজ্য ফিরিয়ে আনবে।”

---

🌪️ গ্রামের ভয়

খবর ছড়িয়ে পড়ে বেলাইল গ্রামে।

অনেকে বলে, “ওরে মারতে হবে!”

কেউ কেউ মনে করে, “এটা যদি জন্মায়, পুরো গ্রাম ধ্বংস হয়ে যাবে!”

কিন্তু শান্তনু বাধা দেয়।
“এই শিশু অশুভ হতে পারে, কিন্তু তার মধ্যে এখনো আছে কিছু মানবতা... আমি সেটা পরীক্ষা করবো।”

---

🔮 অতীতের ফিরে দেখা — হেমন্তিকার আত্মা

শান্তনু এক রাতে নন্দিতাকে নিয়ে যায় বেতিলা জমিদার বাড়ির কূপের পাশে, যেখানে আত্মহত্যা করেছিল রাজকন্যা হেমন্তিকা।
নন্দিতা অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তার শরীর কাঁপে, চোখ উলটে যায়।

সে বলে —
“আমি হেমন্তিকা... আমি ফিরে এসেছি... আমি তাকে শাস্তি দিতে চাই।”

হেমন্তিকা তখন জানায় এক ভয়ানক সত্য —

> রহমান জ্বীন শুধু এক দানব নয়।
সে অতীতে বহু নারীকে ব্যবহার করে জন্ম দিতে চেয়েছে “আত্মিক সেনা” — এমন শিশু যারা হবে মানুষ ও জ্বীনের মিলিত শক্তি।

---

🏚️ সন্তান কি বাঁচবে?

শান্তনুর দেহে তখন জ্বীনের ছায়া পড়ে। সে কয়েক ঘণ্টা অচেতন।
জেগে উঠে সে বুঝে — নন্দিতার গর্ভস্থ সন্তান যদি জন্মায়, তবে সেটা হবে রহমান জ্বীনের রাজত্বের নতুন পথ।
কিন্তু এই সন্তানই যদি হয় হেমন্তিকার অভিশাপ বহনকারী, তবে...

সে-ই শেষ করে দিতে পারে রহমানকে!

---👻 পর্ব ৭: শান্তনুর রক্তে লুকিয়ে আছে কী?

🌌 “তুই তারই সন্তান... যে একদিন আমাকে বশ করেছিল!”

এক রাতে পিপুলিয়া আশ্রমে বসে ধ্যান করছিল শান্তনু। হঠাৎ করেই চারপাশ কাঁপতে থাকে, বাতাস থেমে যায়।
সে চোখ খুলতেই দেখে — দেয়ালের ছায়া জেগে উঠেছে, রক্তের মতো লাল চোখ।

রহমান জ্বীনের আত্মা এসে বলল —

> “তুই আমার চেনা... তোর রক্তের গন্ধ আমি চিনে ফেলেছি।”

শান্তনু হকচকিয়ে যায়।
সে ছোটবেলায় জানত, তার বাবা ছিলেন এক “ভ্রাম্যমাণ তান্ত্রিক সাধক”।
কিন্তু আসল সত্য ছিল—
তাঁর বাবা এক সময় রহমান জ্বীনকেই বন্দী করেছিল।

---

🧙‍♂️ শান্তনুর পিতার চুক্তি

শান্তনু পিতার পুরনো নোট খুঁজে পায় —

সেখানে লেখা:
“জ্বীন বশ মানে না, সে চুক্তি ভাঙে... আমি তাকে বেঁধেছি, তবে সে আমার ভবিষ্যৎ প্রজন্মে ফিরবে।”

অর্থাৎ, রহমান এখন শান্তনুর রক্তের মধ্যেও ঢোকার পথ খুঁজছে।

---

🌫️ নন্দিতা ও হেমন্তিকা

নন্দিতার দেহে তখন হেমন্তিকার আত্মা আরও শক্তিশালী।
সে মাঝে মাঝে চোখ খুলে বলে —
“এই শিশুকে রক্ষা করো, নয়তো জ্বীনের প্রজন্ম জন্ম নেবে।”

কিন্তু প্রশ্ন হলো —

হেমন্তিকা কি সত্যিই মুক্তি চায়?

না কি সে এই শিশুর মাধ্যমে রহমানের মতো অন্য এক প্রতিশোধের বাহন তৈরি করতে চায়?

---

🧿 দ্বিধা

শান্তনুর সামনে এখন দুটো পথ:

1. শিশুটিকে নষ্ট করা — জ্বীনের পথ রোধ হবে, কিন্তু একটি প্রাণ যাবে

2. শিশুটিকে রক্ষা করা — কিন্তু যদি সে রহমানের মতোই হয়?

---

🕯️ এক গোপন সংকেত

এক রাতে নন্দিতা বলে উঠে —
“বেতিলা জমিদার বাড়ির নিচে লুকানো আছে সত্য — রক্ততাবিজ!
যেটা একবার কারো রক্ত ছুঁলে, সে চিরজীবনের জন্য বা তো জ্বীনের দাস, বা তার বিনাশকারী।”

---
👻 পর্ব ৮: রক্ততাবিজ ও শেষ রাতের প্রস্তুতি

---

🗝️ রক্ততাবিজের খোঁজ

শান্তনু, নন্দিতা ও গ্রামের এক বৃদ্ধ সন্ন্যাসী সত্যনাথ বাবার সহায়তায় প্রবেশ করে বেতিলা জমিদার বাড়ির সেই কক্ষে —
যেখানে শত বছর আগে আত্মহত্যা করেছিলেন হেমন্তিকা।

পুরনো মেঝে ভেঙে নিচে মাটির খনিতে পায় এক রূপার তৈরি গোল পেন্ডেন্ট। পেছনে লেখা:

> “রক্ত যার, সে দাস না ধ্বংসকারী, নির্ধারণ হবে আত্মিক শুদ্ধতায়।”

তাবিজটা হাতে নিতেই শান্তনুর হাত রক্তাক্ত হয় —
তাবিজ জ্বলতে শুরু করে।

সত্যনাথ বলে,
“এটা মানে তুই ওর উত্তরাধিকারী...
কিন্তু তুই কি প্রস্তুত তোর রক্ত দিয়ে যুদ্ধ করতে?”

---

🕯️ শেষ রাতের প্রস্তুতি

নির্ধারণ করা হয় —
পূর্ণিমার রাত, যখন রহমান তার শক্তির চূড়ায় থাকে, তখনই হবে শেষ লড়াই।

👉 প্রস্তুতি:

বেতিলা জমিদার বাড়ির চূড়ায় বানানো হবে একটি রক্ষাকবচ চক্র

মাঝখানে থাকবে নন্দিতা — গর্ভবতী অবস্থায়

চারপাশে থাকবে সাতটি পবিত্র ধূপ, গোময় লেপা বৃত্ত

তাবিজ পড়ে থাকবে শান্তনুর গলায়

---

🌑 রাত ১২টা – শুরু হয় ভয়ংকর যুদ্ধ

বাতাস থেমে যায়, গাছ কাঁপে না, কুকুর চিৎকার করে।
বেতিলা জমিদার বাড়ির ছাদে ধোঁয়া হয়ে দেখা দেয় রহমান — পুরো দানব রূপে।

সে চিৎকার করে ওঠে:
“এই নারী আমার, এই সন্তান আমার রাজ্যের প্রণববিন্দু! আজ শেষ তুই শান্তনু!”

হেমন্তিকার আত্মা তখন নন্দিতার ভেতর থেকে বলে —
“এই দেহ আমি ছাড়বো, কিন্তু তোর রক্ত চাই, রহমান!”

---

⚔️ চূড়ান্ত মুখোমুখি

শান্তনু তাবিজ ছুঁড়ে দেয় রহমানের দিকে —

প্রথমে রহমান আঘাত পায় না

হঠাৎই আকাশ চিরে পড়ে এক বজ্র

নন্দিতা প্রসব যন্ত্রনায় চিৎকার করে ওঠে

শিশু ভূমিষ্ঠ হয় — কিন্তু তার চোখ খুলেই রক্ত চেয়ে চায়!

সেই সময় হেমন্তিকার আত্মা তাবিজে ঢুকে পড়ে —
তখন রহমান জ্বীন চিৎকার করে ওঠে:
“না!!! তুই আমাকে ফাঁকি দিলি হেমন্তিকা!”

এক প্রচণ্ড আলোয় কাঁপে পুরো জমিদার বাড়ি।
সব কিছু থেমে যায়।

---

🌅 ভোর...

শান্তনু পড়ে থাকে মাটিতে — অচেতন, তাবিজ ছাই হয়ে গেছে।
নন্দিতা নিস্তব্ধ। শিশু তার কোলে, কিন্তু তার চোখে এখন নীল দীপ্তি — শান্ত।

সত্যনাথ বলেন,
“জ্বীনের রক্তও যদি সৎ হৃদয়ে আসে, সে ভালো হতে পারে।”

---

6 months ago | [YT] | 2

বাউল-উজ্জ্বল-মিডিয়া

👻 গল্পের নাম: জ্বীনের সরদার ও তান্ত্রিকের নতুন বউ

📍পর্ব ১: ধলেশ্বরীর ঘাটে জ্বীনের কণ্ঠস্বর
🗓️ সময়কাল: ১৯৮০ সাল
📌 লোকেশন: বেতিলা-তেবাড়িয়া রোডের পাশে, বেলাইল গ্রাম, মানিকগঞ্জ সদর

১৯৮০ সালের একটি শীতের রাত। চারপাশে তখনও বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি। কেরোসিনের লাইট, হারিকেন আর দেশি কুপির আলোয় গ্রামের রাত কাটে। ধলেশ্বরী নদীর ঠিক পাশে অবস্থিত বেলাইল গ্রাম তখনও সুনামি ঘুমে বিভোর। কিন্তু এই ঘুমের নিচেই লুকিয়ে ছিল এক অশুভ ছায়া...

গ্রামের এক প্রান্তে বসবাস করতো এক বয়স্ক তান্ত্রিক — হরিদাস গোস্বামী। এক সময়ের শক্তিশালী তান্ত্রিক, এখনো মানিকগঞ্জের অনেক দূরের লোক তার কাছে ঝাড়ফুঁকের জন্য আসতো। তার বাড়ির চারপাশ ঘেরা কাঁঠাল গাছ, নারকেল গাছ আর এক পুরনো পুকুর।

অবাক করার বিষয় হলো — বছর ৫৫ এর হরিদাস একেবারে ১৮ বছরের এক মেয়েকে বিয়ে করলো। মেয়েটির নাম নন্দিতা মন্ডল, বাড়ি ছিল পার্শ্ববর্তী সাটুরিয়া উপজেলার বারুয়াখালী গ্রামে।

গ্রামের লোকজন বলাবলি শুরু করলো —
"ওই মেয়েটারে নিশ্চয়ই তাবিজ-তুমার কইরা বিয়া করছে।"
"বুড়া মানুষটা নাকি জ্বীনের সাথে সখ্যতা রাখে..."

🕯️ অদ্ভুত কাণ্ড শুরু

বিয়ের কয়েকদিন পর থেকেই অদ্ভুত ঘটনা ঘটতে থাকে।

মাঝরাতে নদীর ঘাট থেকে আসে গলার আওয়াজ, যেন কেউ ডাকে – “নন্দিতা... ওরে নন্দিতা...”

নন্দিতার ঘরের জানালা খোলা পায়, অথচ কেউ বাইরে ছিল না।

এক রাতে নন্দিতা নিজের গলায় আঙুল দিয়ে আঁচড় কাটলো – চিৎকার করে বললো, “সেই ছায়া আবার এসেছিলো... আমাকে বলে ও এখন আমার স্বামী!”

হরিদাস তখন কপালে ছাই মেখে মন্ত্র পড়ে বললো —
“ও তোর রক্ষক — রহমান জ্বীন। এখন থেকে তুই ওর...”

🔥 তান্ত্রিকের আসল পরিকল্পনা

হরিদাস শুধু একজন তান্ত্রিক ছিল না। সে ছিল “জ্বীনের সরদার” রহমান জ্বীনের সাথে আত্মার চুক্তিতে যুক্ত। তার বিশ্বাস ছিল, যদি কোন নিষ্পাপ যুবতীকে জ্বীনের সরদারে উৎসর্গ করা যায়, তাহলে সে অমরত্ব লাভ করবে।

১৯৮০ সালের ডিসেম্বরের এক অমাবস্যার রাতে হরিদাস আর তার চারজন অনুসারী গেল ধলেশ্বরীর শ্মশানে। মাটির নিচে কবর থেকে তুলে আনে পুরনো হাড়গোড়। ওই রাতে সে নন্দিতাকে উৎসর্গ করার প্রস্তুতি নেয়...

---
👻 পর্ব ২: নন্দিতার চোখে জ্বীনের রাজত্ব

📍বেলাইল, মানিকগঞ্জ সদর | 🗓️ সময়কাল: জানুয়ারি ১৯৮১

বিয়ের এক মাস পর...

নন্দিতা আর আগের মতো নেই।
তার মুখে সবসময় একটা ফ্যাকাশে ভাব, যেন ঘুম ঘুম... অথচ রাতে সে ঘরে থাকেই না!

হরিদাস বারবার বলে, “ওর উপরে আধ্যাত্মিক সত্তার ছায়া পড়েছে।”
কিন্তু গ্রামের বয়স্ক লোকেরা জানে, এটা কোনো ছায়া নয় — এটা “জ্বীনের দখল”।

🌑 অমাবস্যার রাত

নদীর পাড়ে থাকা গজার ঘাটে এক রাতে গ্রামের এক কিশোর ছেলে – রামকৃষ্ণ পাল — দেখে,
নন্দিতা একা একা গিয়ে দাঁড়িয়ে আছে নদীর ঠিক মাঝখানে। অথচ নদীতে তখন জল ছিল হাঁটুসমান, এবং পিচ্ছিল কাদায় কেউ দাঁড়াতে পারে না।

সে দেখে, নন্দিতার পেছনে একজন লম্বা পুরুষ — চোখ লাল, গায়ে ছাই মাখা, পা নেই, ছায়ার মতো ভাসছে।

রামকৃষ্ণ ভয়ে দৌড়ে পালায়।

পরদিন সকালে সে দেখতে পায়, নদীর মাঝখানে কোথাও মানুষের পায়ের ছাপ নেই — কেবল একটি লম্বা, ছাপমুক্ত রেখা, যেন কেউ মাটি ছুঁয়ে হাঁটেনি...

🧿 গ্রামে আগমন ঘটে একজনের

ঠিক তখন ঘিওর উপজেলার পাকুটিয়া মিশন থেকে এক ধর্মজ্ঞানী যুবক আসেন — নাম শান্তনু সরকার। শান্তনু ছিল এক সময়ের বৈজ্ঞানিক, পরে সব ছেড়ে দিয়েছে। সে বিশ্বাস করে –
“অশুভ শক্তি থাকে, কিন্তু তা প্রতিহত করা যায় জ্ঞান, সাহস আর হৃদয়ের শক্তিতে।”

সে গিয়ে দেখা করে হরিদাসের সাথে। হরিদাস হেসে ওঠে,
"তুই কে রে? এই মেয়েটা এখন আর মানুষ নয়... সে আমার নয়, রহমান জ্বীনের বউ!"

শান্তনু বলে,
“তোর কপালে কালি পড়বে। এই মেয়েকে আমি উদ্ধার করবো।”

---

🌊 রাতের বিশেষ দৃশ্য:

এক রাতে শান্তনু ছদ্মবেশে হরিদাসের বাড়ির পেছনে গিয়ে দেখে,

হরিদাস মাটি কেটে তাবিজ পুঁতছে

নন্দিতা জড়োসড়ো হয়ে বসে আছে, তার গায়ে আরেকটা আত্মা কথা বলছে

গলার স্বর ভিন্ন, পুরুষ কণ্ঠ:
“আমি রহমান... আমি এসেছি নববধূকে রাজ্য দেখাতে।”

শান্তনু চমকে ওঠে।

---
👻 পর্ব ৩: জ্বীনের জগতে নববধূ

📍বেলাইল, মানিকগঞ্জ সদর | 🗓️ সময়কাল: ফেব্রুয়ারি ১৯৮১

🌘 “আমি তো স্বপ্নে ছিলাম, তাই না?”

নন্দিতা জেগে ওঠে ধলেশ্বরী নদীর তীরে, কিন্তু এ কোনো সাধারণ ঘাট নয় — চারপাশে ধোঁয়া, কুয়াশা, বাতাসে জ্বালানো ধূপের গন্ধ, আর দূর থেকে ভেসে আসছে অজানা ভাষায় মন্ত্র।

তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে রহমান জ্বীন। মুখে গাঢ় কালো দাড়ি, লম্বা পোশাক, চোখ দুটো লালচে আগুনের মতো।
সে বলে,
“তুই এখন আমার... তোর আত্মা এখন আমাদের রাজ্যে প্রবেশ করেছে।”

নন্দিতা চিৎকার করে কাঁদে, কিন্তু সেই আওয়াজ ধরা পড়ে না মানুষের জগতে। সে এখন “জ্বীনের রাজ্য”তে।

---

🔥 রহমান জ্বীনের রাজত্ব

এই রাজ্য ধলেশ্বরীর নিচে এক আত্মিক স্তরে। সেখানে রয়েছে হাজারো আত্মা, বিশেষ করে নারীদের, যারা মানুষ হিসেবে মৃত্যুবরণ করেনি, বরং ধীরে ধীরে আত্মিকভাবে জ্বীনের অধীনে চলে গেছে।

নন্দিতা দেখে, কিছু মেয়েরা পাথরের মতো বসে থাকে

কেউ কেউ হাসে অথচ চোখ দিয়ে রক্ত পড়ে

মাঝেমধ্যে তান্ত্রিক মন্ত্র উচ্চারিত হলেই তারা কেঁপে ওঠে

রহমান বলে,
“আমাদের শক্তির উৎস এই নারীরা। তোর মতো পবিত্র আত্মা হলে এই রাজ্য অমর হবে।”

---

🕉️ হরিদাসের চূড়ান্ত প্রস্তুতি

হরিদাস বুঝে গেছে, রহমান তার উপরও নিয়ন্ত্রণ শুরু করেছে।
সে জানে, এটাই শেষ সুযোগ —
“পূর্ণ অমরত্ব” লাভের জন্য তাকে নিজ হাতে নন্দিতাকে উৎসর্গ করতে হবে। এজন্য সে প্রস্তুত করছে “তাম্রতান্ত্রিক বেদি” — এক পুরনো কালো পাথরের আসন, যেটা গোপনে আনা হয়েছিল বেতিলা জমিদার বাড়ির পুরনো গোপন কক্ষ থেকে।

---

🧠 শান্তনু’র গোপন পরিকল্পনা

শান্তনু বুঝতে পারে, শুধু সাহস দিয়ে এই অশুভ শক্তি রুখে দেওয়া যাবে না। সে যায় সাটুরিয়া উপজেলার পিপুলিয়া গ্রামের এক বৃদ্ধ সন্ন্যাসীর কাছে — যিনি একসময় নিজেও জ্বীনের চুক্তি ভেঙেছিলেন।

তিনি শান্তনুকে দেন এক বিশেষ তাবিজ —
“যদি হৃদয় পবিত্র থাকে, তবে এই তাবিজ নন্দিতার আত্মার খোঁজ পাবে।”

---👻 পর্ব ৪ (শেষ): বেতিলা জমিদার বাড়ির তলদেশে শেষ বিচার

📍লোকেশন: বেতিলা জমিদার বাড়ি, মানিকগঞ্জ সদর
🗓️ সময়কাল: মার্চ ১৯৮১

🏚️ জমিদার বাড়ির নিষিদ্ধ কক্ষ

হরিদাস তার অনুসারীদের নিয়ে প্রবেশ করে জমিদার বাড়ির সেই পুরনো অংশে — যেটা ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
পুরনো লোহার দরজা, ধুলোমাখা জং ধরা দেওয়াল আর ভিতরে মাটির তলা দিয়ে গিয়ে এক অন্ধকার ঘর — "জমিদার রাজেন্দ্র সেনের গুপ্ত তান্ত্রিক কক্ষ"।

এই কক্ষেই হরিদাস সাজিয়েছে এক তাম্র পাথরের বেদি — তাতে রক্ত, ছাই আর নানান যজ্ঞ সামগ্রী।
সেই বেদিতে শুইয়ে দেওয়া হয়েছে নন্দিতাকে। তার চোখ বন্ধ, কিন্তু মুখে জ্বীনের হাসি।

---

🔥 উৎসর্গের মুহূর্ত

হরিদাস মন্ত্র পড়া শুরু করে —
"ইয়া রহমান! ইয়া তাগুত! এই নারী, এই আত্মা, আমার নয় — তোমার!"

ঠিক সেই মুহূর্তে কক্ষ কেঁপে ওঠে!

চারপাশে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে

নন্দিতার দেহ হঠাৎ উঠে বসে, চোখ লাল

রহমান জ্বীনের কণ্ঠে গলা ভেসে আসে —
“তুই ভেবেছিস আমায় শোষণ করবি? এখন তুই-ই আমার…!”

হরিদাস বুঝে যায় — সে নিজেই এখন বলি হতে চলেছে।

---

🧿 শান্তনুর আগমন

ঠিক তখনই প্রবেশ করে শান্তনু। তার হাতে সেই বিশেষ তাবিজ আর মুখে বিষ্ণু-মন্ত্র। সে তাবিজ ছুঁড়ে দেয় নন্দিতার দিকে।

নন্দিতা হঠাৎ চিৎকার করে ওঠে। তার শরীর থেকে যেন ছায়া বেরিয়ে আসে — ধোঁয়া হয়ে মিশে যায় জমিদার বাড়ির ছাদের ফাটলে।

রহমান জ্বীনের ছায়া আরও একবার ফুঁসে ওঠে, কিন্তু শান্তনুর মুখে উচ্চারিত পবিত্র মন্ত্রে কেঁপে উঠে দেয়াল।

⚔️ শেষ মুহূর্ত

হরিদাস দৌড়ে পালাতে চায়, কিন্তু সেই ছায়া — রহমান জ্বীন — এক ঝড় তুলে তাকে টেনে নিয়ে যায় মাটির নিচে!

শুধু একটা কথা বাতাসে ভেসে ওঠে —
"তুই বিশ্বাসঘাতক, মানুষ না, পশু!"

---

🌄 শেষ দৃশ্য

সকাল।
নন্দিতা বাড়ি ফিরে আসে। মুখে পবিত্রতার ছাপ, কিন্তু চোখে অদ্ভুত এক শূন্যতা।
শান্তনু চলে যায় ফিরে পিপুলিয়ার আশ্রমে। আর বলে —
“জ্বীনের রাজত্ব থাকবে, কিন্তু মানুষ যদি ভয় না পায়, তবেই সে মুক্ত…”

---

✅ উপসংহার:

এই ঘটনার পর বেলাইল গ্রামের আশেপাশে কেউ রাতে নদীর ধারে যায় না।
বেতিলা জমিদার বাড়ি তালাবদ্ধ করে দেওয়া হয় আবার।
আর কেউ কেউ এখনো রাতের বেলা নদীর পাড়ে এক কিশোরী কণ্ঠে শোনে...
"আমি... নন্দিতা... আমি এখন মাঝখানে..."

---
বিশেষ দ্রষ্টব্য : গল্পটা সম্পুর্ন কাল্পনিক বাস্তবের সাথে মিলে গেলে সেটা কাকতালীয় |

6 months ago | [YT] | 1

বাউল-উজ্জ্বল-মিডিয়া

🕷️ ভৌতিক গল্প: বদ জ্বীন

অবস্থান: মানিকগঞ্জ জেলার বেতিলা ইউনিয়নের প্রাচীন মঠবাড়ি
গল্পের নাম: বদ জ্বীন
লিখেছেন: উজ্জ্বল দাস


---

🕯️ ১. শুরু…

মানিকগঞ্জ জেলার বেতিলা ইউনিয়নের এক প্রাচীন গ্রাম — মঠবাড়ি। চারদিক জঙ্গল, কুয়াশা, আর নিস্তব্ধতা। মঠবাড়িতে আছে এক ধ্বংসপ্রায় জমিদার বাড়ি। শত বছর আগের পুরনো ইটের সেই বাড়িটিতে নাকি এখনো রাত নামলে কেউ যেতে সাহস করে না।

এই বাড়িরই এক পুরনো কাহিনি রয়েছে — এক সময়ের জমিদার হরিপদ রায় ছিলেন এক নিষ্ঠুর ও লোভী মানুষ। তিনি অন্ধকার চর্চা করতেন, বিশেষ করে জ্বীন ডাকতেন ক্ষমতা আর ধন-সম্পদ লাভের জন্য। কথিত আছে, একদিন তিনি একটি বদ জ্বীনকে বন্ধন করে ফেলেন, নিজের স্বার্থে।

কিন্তু একদিন সেই বদ জ্বীন তার বন্ধন ছিঁড়ে ফেলে — জমিদারকে হত্যা করে, আর তারপর পুরো জমিদার বাড়িটা নিজের বাসস্থান বানিয়ে নেয়। সেই থেকে প্রতি বছরের শ্রাবণ মাসে, ঠিক রাত ৩টা নাগাদ, বাড়ির ছাদে অদ্ভুত ছায়া ঘুরে বেড়ায়—হাসে, কাঁদে, ডাকে।


---

🌑 ২. এখনকার ঘটনা…

২০২4 সালের এক সন্ধ্যা। চারজন তরুণ ইউটিউবার — রাব্বি, ফারহান, কাব্য আর প্রিয়া ঠিক করে "ভৌতিক অনুসন্ধান" নামে একটা ভিডিও বানাবে। তারা এই মঠবাড়ি সম্পর্কে অনেক শুনেছে।
তাদের বিশ্বাস ছিল, সব ভৌতিক ঘটনা আসলে গুজব। সেজন্য তারা ঠিক করল, রাত কাটাবে সেই মঠবাড়ির মধ্যে।

তারা ক্যামেরা সেট করল, ড্রোনও চালালো — কিন্তু রাত যত বাড়ছিল, ভয়ানক অস্বাভাবিকতা শুরু হলো।

প্রথমে ছাদের দিকে ক্যামেরা ঘুরতেই দেখা গেল একটা ছায়া — খুব লম্বা, মাথা নিচু, চোখ লাল। ক্যামেরা ব্লার করে গেল সঙ্গে সঙ্গে।
তারপর একসময় ফারহান হারিয়ে গেল — তার চিৎকার শুনে সবাই দৌড়ে গেল, কিন্তু কোথাও ফারহান নেই।


---

⚰️ ৩. মুখোমুখি...

রাব্বি এবং প্রিয়া ছাদে ওঠার চেষ্টা করতেই, এক নারীকণ্ঠে কে যেন ফিসফিস করে বলল,

> "ওই ছেলেটাকে আমি নিয়ে গেছি... এবার তোদের পালা..."



প্রিয়া জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। রাব্বি তারে টেনে নিচে নামিয়ে আনে। কাব্য তখন এক কোণায় অন্ধভাবে কিছু লিখে চলেছে। তার শরীর ঠাণ্ডা, ঠোঁট নীল।

রাব্বি তাকিয়ে দেখে — কাব্যের হাতে রক্ত দিয়ে লেখা

> "আমি বদ জ্বীন... আর কেউ এখানে এলে বাঁচবে না..."




---

🔥 ৪. পালানোর চেষ্টা…

রাব্বি আর প্রিয়া দৌড়াতে শুরু করে, কিন্তু বাড়ির দরজা তখন লকড — কে যেন বাইরে থেকে তালা লাগিয়েছে। প্রিয়া অজ্ঞান, রাব্বি তাকে কাঁধে তুলে ছাদে ওঠে, সেখান থেকে নিচে লাফ দিয়ে একটা জলাশয়ে পড়ে।

ভোরের দিকে গ্রামবাসীরা রাব্বিকে উদ্ধার করে। প্রিয়া আর কাব্যের খোঁজ মেলেনি। ফারহানকে কদিন পর একটা গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।


---

☠️ ৫. আজও...

আজও কেউ যদি সেই জমিদার বাড়ির পাশ দিয়ে যায়, রাতের বেলায়, তাহলে সে দেখতে পায় — ছাদের কোণে কেউ দাঁড়িয়ে আছে। মাথা নিচু করে ধীরে ধীরে হাসছে...

> "আমি বদ জ্বীন... আবার আসবি?"




---

⚠️ শেষ কথা:

> এই গল্পটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক। মানিকগঞ্জের বেতিলা ইউনিয়নের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে ভিত্তি করে গঠিত।
(কাল্পনিক)




---

6 months ago | [YT] | 1

বাউল-উজ্জ্বল-মিডিয়া

👻: বেতিলা জমিদার বাড়ির অশরীরী অভিশাপ
-----------------------------------------------------------
______________________________________________
📍 স্থান: বেতিলা জমিদার বাড়ি, মানিকগঞ্জ
🕰️ সময়: বর্তমান, ঈদের ঠিক আগের রাত

---

🌑 ১. অজানা ইশারা

বেতিলা গ্রামের সবাই জানে, জমিদার হেমচন্দ্র রায়ের বাড়িটা এখন শুধু ইতিহাস নয়, একটা ভয়ংকর রহস্যের কেন্দ্র। বিশাল ফটক, পরিত্যক্ত ঠাকুরঘর, আর কাঁচা ইটের লম্বা বারান্দা — রাত হলেই নাকি সেখানে অজানা চিৎকার শোনা যায়।

তবুও ঈদের আগের রাতে মানিকগঞ্জ শহরের তিন যুবক – রাফি, মিশু আর তুষার – সিদ্ধান্ত নেয়, ওরা探险ে যাবে বেতিলার জমিদার বাড়িতে। তাদের ইউটিউব চ্যানেলের জন্য এটা হবে একটা “অসাধারণ কনটেন্ট”।

---

🌫️ ২. আগমন ও অশরীরী ছায়া

রাত ১১টা। চাঁদের আলো ধূসর, বাতাস কেমন যেন ভারী। জমিদার বাড়িতে ঢুকতেই অদ্ভুত ঠাণ্ডা অনুভব করে সবাই। গেটের পাশে ছেঁড়া একটা পুরনো নোটিশ ঝুলছে:
"এই স্থানে প্রবেশ নিষেধ। এখানে অতৃপ্ত আত্মার বসবাস।"

তুষার মজা করে বলে, “আত্মা থাকলে সামনে আয়!”

ঠিক তখনই বারান্দার শেষ প্রান্তে দেখা গেল এক বৃদ্ধা মেয়ের ছায়া—দাঁড়িয়ে আছে, চোখের দৃষ্টিতে শুধু ভয়। হঠাৎ সে ছায়া হাওয়ার মতো মিলিয়ে গেল।

---

🪔 ৩. ঠাকুরঘরের দরজা

তারা পৌঁছাল ঠাকুরঘরের সামনে। দরজা নিজে নিজেই খুলে গেল। ভিতরে প্রবেশ করতেই তীব্র ধূপের গন্ধ আর এক ধরনের কান্নার শব্দ ভেসে এলো। হঠাৎ সব ক্যামেরা বন্ধ, মোবাইল ডেড, আলো নিভে গেল।

হঠাৎ মিশু চোখ বড় বড় করে চিৎকার দিয়ে উঠলো — “আমার কানে কেউ ফিসফিস করছে... বলে ‘ফিরে যা... ফিরে যা...’”

রাফি ছুটে গেল মন্দির ঘরের পেছনে। সেখানে মাটির নিচে অর্ধেক ঢেকে থাকা একটা কঙ্কাল খুঁজে পায় তারা। তখনই হাওয়ার ঝাপটা এসে সব দরজা বন্ধ করে দেয়।

---

🔥 ৪. অতৃপ্ত আত্মা ও ইতিহাস

তারা বুঝতে পারে, এই বাড়িতে শুধু জমিদার হেমচন্দ্র নয়, তার কন্যা “কমলা”র আত্মাও বাস করে। কমলা বিয়ের আগের রাতে আত্মহত্যা করেছিল, কারণ তার বিয়ে ঠিক হয়েছিল এক অত্যাচারী জমিদারের সঙ্গে।

কিন্তু কেউ জানে না, ওর আত্মা এখনো অপেক্ষা করে তার ভালোবাসার মানুষের জন্য… আর যারা খেলো করতে আসে, তাদের মনে ঢুকে পড়ে।

হঠাৎ মিশু অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তার মুখে কমলার কণ্ঠ! সে বলতে থাকে,
“আমার প্রতিশোধ শেষ হয়নি... যে ভালোবাসেনি, সেও শান্তি পাবে না!”

---

🏃‍♂️ ৫. পালানোর শেষ চেষ্টা

রাফি আর তুষার দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু গেট নিজে থেকে বন্ধ। বাইরে কেউ নেই, ভেতরটা যেন আরেকটা দুনিয়া।

ভোর ৫টায় হঠাৎ সব কিছু স্বাভাবিক হয়ে যায়। গেট খুলে যায়, মিশু হঠাৎ জ্ঞান ফিরে পায়, কিন্তু তার চোখে এখনও কমলার ছায়া।

তারা বেরিয়ে পড়ে, কিন্তু ক্যামেরার সব ফুটেজ শুধু একটা মেয়ের মুখ দেখায়, যার মুখ নেই — শুধু ফাঁকা, কালো গহ্বর।

---

📜 ৬. উপসংহার

তারা যখন ভিডিও এডিট করে, তখন আবিষ্কার করে: সেই ছায়া এখন ভিডিও’র ভিতর থেকেও নাকি বেরিয়ে আসে। রাত বারোটার পর যারা ভিডিও দেখে, তাদের নাকি ফোনে হালকা ফিসফাস শোনা যায়...

আজও সেই বাড়ি দাঁড়িয়ে আছে।
যদি সাহস থাকে, একবার ঢুকে দেখো…
...আর ফিরে না এলে, দায় কার?

---

📌 লেখক: উজ্জ্বল দাস
📌 স্থান: বেতিলা জমিদার বাড়ি, মানিকগঞ্জ
📌 বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই কাহিনি সম্পূর্ণ কাল্পনিক, বাস্তব জীবনের সাথে মিল থাকলে তা কাকতালীয় মাত্র।

---

6 months ago | [YT] | 1

বাউল-উজ্জ্বল-মিডিয়া

"গাজিরটেক বাজারের মৃত অতিথি"
লেখক : উজ্জ্বল দাস |
স্থান: গাজিরটেক বাজার, হরিরামপুর, মানিকগঞ্জ
সময়: ২০১৯ সালের শেষের দিকে, শীতকাল

১ম পর্ব: অদ্ভুত ফোনকল
রাত তখন প্রায় ১টা। রাহুল গাজিরটেক বাজারে নতুন বাড়ি করেছে। সদ্য ঢাকায় চাকরি পাওয়া এই তরুণ ছুটিতে বাড়িতে এসেছে। বাড়ির পাশেই পুরনো একটা পরিত্যক্ত স্কুল ভবন। সেই স্কুল বহু বছর আগে বন্ধ হয়ে গেছে—লোকমুখে শোনা যায়, ওইখানে কোনো এক সময় এক ছাত্রী আত্মহত্যা করেছিল।

সেই রাতে রাহুলের মোবাইলে হঠাৎ একটা অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন আসে। ফোন ধরতেই একটা মেয়েলি কণ্ঠ, কিন্তু সেটা যেন একটা রেকর্ডিং-এর মতো—
"আমাকে দেখে যাও... আমি এখানেই আছি... স্কুলের বারান্দায়..."
ফোন কেটে যায়। রাহুল ভেবেছিল হয়তো কেউ মজা করছে।

২য় পর্ব: বারান্দার ছায়া
পরদিন রাত ২টার সময় আবার ফোন আসে। এইবার কণ্ঠটা রাগত, বিষণ্ণ—
"আমি এখনও অপেক্ষা করছি রাহুল... তুমি কি ভুলে গেছো... আমি মরিনি..."
রাহুল ঘেমে যায়। ভয় পেলেও কৌতূহল চেপে রাখতে পারে না। একটা টর্চ হাতে নিয়ে চলে যায় স্কুলের দিকে।

ভবনের সামনের দরজা খুলে, টর্চের আলোয় সে দেখতে পায়... বারান্দার শেষ মাথায় একটা সাদা জামা পরা মেয়ে বসে আছে। কিন্তু সে এত স্থির যে মনে হয় মূর্তি। রাহুল যত কাছে যায়, মেয়েটা ধীরে ধীরে মাটি থেকে উঠে দাঁড়ায়... মুখ নিচু, চুল সব সামনের দিকে।

হঠাৎ করেই বাতাস জোরে বইতে থাকে। দরজা আপনিই বন্ধ হয়ে যায়। আর সেই মেয়েটার গলা আবার শোনা যায়—
"তুমি তো কথা দিয়েছিলে... ফিরে আসবে... আমায় বাঁচাবে..."

৩য় পর্ব: গোপন কবর
রাহুল কাঁপতে কাঁপতে স্কুলের ভেতরে ঢুকে পড়ে, আর সেখানে গিয়ে দেখে দেয়ালে পুরনো ছাত্রীদের ছবিতে একটার নিচে লেখা "মুনা, ২০০৪ - ২০১৭"।
ঠিক সেই মেয়েটির মুখ। পরদিন সকালে রাহুল ভয়ে মানিকগঞ্জ থানায় যায়, আর স্থানীয় কয়েকজন বয়স্ক লোক জানায়—
হ্যাঁ, "মুনা" নামে একটা মেয়ে স্কুলে পড়তো, এক শিক্ষক তাকে হয়রানি করতো। একদিন মুনা গুম হয়ে যায়। কেউ কিছু খুঁজে পায়নি।

শেষ পর্যন্ত, গ্রামের লোকজন স্কুলের পেছনে খোঁড়াখুঁড়ি করে একটা পচা গন্ধযুক্ত বস্তা পায়—তার ভেতর হাড়গোড় ও কাপড়চোপড়।
ডিএনএ টেস্টে প্রমাণ হয় — ওটাই ছিল মুনার দেহ।
রাহুল এখনো বেঁচে আছে, তবে সে আর কারো ফোন ধরে না...

---
ঘটনা সম্পূর্ণ কাল্পনিক চরিত্র বাস্তবের সাথে মিলে গেলে সেটা কাকতালীয় |

6 months ago | [YT] | 1

বাউল-উজ্জ্বল-মিডিয়া

👿 : ইফ্রিতের ছায়া____১ম পর্ব ___
লেখক : উজ্জ্বল দাস,

📍স্থান: মানিকগঞ্জ সদর, গড়পাড়া ইউনিয়ন
🕯️কাল: ২০০২ সালের আশ্বিন মাস

মানিকগঞ্জ জেলার গড়পাড়া ইউনিয়নের একটি গ্রাম—আলমপুর। এই গ্রামে ছিল এক পুরনো জমিদার বাড়ি, এখন যা প্রায় ধ্বংসস্তুপে পরিণত। স্থানীয়দের মধ্যে প্রচলিত, ওই বাড়ির নিচে এক সময় একটা সিন্দুক চেপে রাখা হয়েছিল—যেখানে আটকে রাখা হয়েছিল এক ইফ্রিদ জ্বীনকে।

ইফ্রিদ হলো আগুনের তৈরি এক ভয়ংকর জ্বীন, যা হিংস্র, প্রতিশোধপরায়ণ এবং মানুষের আত্মা দখল করতে সক্ষম। কথিত আছে, জমিদার নিজের ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ইফ্রিদকে বন্দি করেছিলো এক কালো যন্ত্র-তাবিজ আর তেলাওয়াত করা চালে। কিন্তু জমিদারের মৃত্যুর পর সেই তাবিজ দুর্বল হয়ে যায়।

🧑🏽‍💼 ঘটনা শুরু

২০০২ সালের এক রাতে, ঢাকাফেরত এক যুবক—রহিত—তার পুরনো জমি দেখতে গড়পাড়ায় আসে। সে ছিল শহুরে, আধুনিক, এসব ভূতপ্রেতের গল্পকে কুসংস্কার বলে উড়িয়ে দিতো।

একদিন সে শুনতে পেলো পুরনো বাড়ির নিচ থেকে কারও গলায় কাঁপানো আরবি মন্ত্রপাঠের আওয়াজ! প্রথমে সে অবহেলা করলো। কিন্তু রাত বাড়তেই বাড়িতে তার আশেপাশে ছায়ামূর্তি ঘোরাফেরা করতে থাকে। দরজা-জানালাগুলো নিজে থেকেই খুলে-বন্ধ হচ্ছে, আয়নায় দেখা যাচ্ছে আগুনে লেলিহান চোখ!

পরদিন রাত ৩টায়, রহিত আবার গেল সেই পুরনো জমিদার বাড়িতে। সঙ্গে নিয়ে গেলো মোবাইলের ফ্ল্যাশ আর সাহস। ঘরে ঢুকে সিঁড়ি দিয়ে নেমে গেলো নিচের ঘরে। হঠাৎ তার পেছন থেকে কেউ ফিসফিস করে বলল,
"তুই আমার ১০০ বছরের ঘুম ভাঙালি, এখন তোর আত্মা আমার..."

🔥 ইফ্রিদ মুক্ত

মাটির নিচে শিকল বাঁধা এক ছায়ামূর্তি, চোখে আগুনের গোলা, আর পুরো ঘর যেন কাঁপছে তার রাগে। রহিত চিৎকার করে উঠে পালাতে চেষ্টা করলো কিন্তু দরজা বন্ধ! সেই ছায়ামূর্তি ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে আসছে। হঠাৎ রহিত দেখে, তার পেছনে সে-ই দাঁড়িয়ে!

হ্যাঁ, ইফ্রিদ তার চেহারাও নকল করে ফেলেছে। রহিত শেষবারের মতো তার নাম চিৎকার করলো, আর তারপর পুরো ঘর অন্ধকার হয়ে গেল।

🕯️ শেষ পরিণতি

সেই রাতের পর থেকে রহিতকে আর কেউ খুঁজে পায়নি। তার মোবাইল ফোন পরে পাওয়া যায় জমিদার বাড়ির নিচে, যার শেষ ভিডিওতে দেখা যায়: এক আগুনে ঘেরা দানব ধীরে ধীরে ক্যামেরার দিকে এগিয়ে আসছে...

এখনো মাঝরাতে কেউ যদি ওই বাড়ির সামনে দাঁড়ায়, কানে আসে:
"তুইও কি আমার ঘুম ভাঙাতে এসেছিস?"

---
📜 ইফ্রিতের ছায়া – দ্বিতীয় পর্ব: শয়তানের রক্তচিহ্ন

রহিতের নিখোঁজ হওয়ার ৭ দিন পর গ্রামের লোকেরা জমিদারবাড়ির পাশে এক অদ্ভুত জিনিস খুঁজে পায়। সেখানে মাটির ওপর আঁকা ছিলো এক বিশাল গোল রক্তলাল চিহ্ন, যার চারপাশে আরবিতে লেখা কিছু অদ্ভুত মন্ত্র। স্থানীয় হুজুর এসে বললেন —
"এটা ইফ্রিদের দাগ। যারা এর ভেতরে পা দেয়, তারা আর ফিরে আসে না..."

🧓🏾 রহিতের দাদু, বৃদ্ধ লোকমান মিয়া, জানতেন তার নাতি এতো সহজে হারিয়ে যেতে পারে না। তিনি এক রাত, তাবিজ-কবচ আর লাল সুতো পরে জমিদারবাড়ির দিকে এগিয়ে গেলেন। তার চোখের সামনে বাড়ির দেয়াল ভেদ করে বেরিয়ে এলো ছায়ার মতো এক আকৃতি।

"তোর বংশ আমার ঘুম ভেঙেছে, এবার সময় তাদের শেষ করার..." — কাঁপা কণ্ঠে বলে উঠল সেই ছায়া।

🌪️ শয়তানের ছায়া

লোকমান মিয়া দ্রুত পবিত্র আয়াত পড়তে শুরু করলেন। হঠাৎ করে আগুন ছড়িয়ে পড়লো, আর সেই ছায়া কেঁপে কেঁপে মাটিতে মিলিয়ে গেল। কিন্তু তার আগেই সে লোকমান মিয়াকে বলেছিল—
"পরবর্তী পূর্ণিমায় আমি ফিরে আসব। আর এবার কারো নাম আর মুখ মনে থাকবে না!"

---

💀 এখনো গড়পাড়ার সেই জমিদারবাড়ি প্রতি পূর্ণিমায় কাঁপে, আর বাতাসে ভেসে আসে পোড়া মাংসের গন্ধ। মানুষ বলে, ইফ্রিদ তার মুক্তির জন্য এখনও কাউকে খুঁজে ফেরে... যে তার দেহ হবে।

---☠️ ইফ্রিতের ছায়া – তৃতীয় ও শেষ পর্ব: শেষ আহুতি

🗓️ সময়: পূর্ণিমার রাত

পূর্ণিমার আলোয় গড়পাড়া যেন থমকে গেছে। আকাশে চাঁদের চারপাশে লালাভ আভা। গ্রামের সবাই দরজা-জানালা বন্ধ করে রেখেছে। কিন্তু একজন থেমে নেই — রহিতের ছোট ভাই রায়হান, সে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ:
"ভাইকে ছাড়াবই। ইফ্রিদকে শেষ করেই ফিরবো!"

📿 তাবিজ ও কালো বই

লোকমান মিয়ার রেখে যাওয়া এক পুরনো কাঠের বাক্সে রায়হান খুঁজে পায় একটি তামার তাবিজ, রক্তে লেখা কালো কিতাব ও একটা নির্দেশ—
"ইফ্রিদকে মারতে হলে তার নাম ও রক্ত একত্রে পোড়াতে হবে পূর্ণিমার মধ্যরাতে!"

রায়হান সেই রাতেই যায় জমিদারবাড়ির নিচের গোপন ঘরে। সেখানে অন্ধকারের ভেতর একটা অশরীরি কণ্ঠ ভেসে আসে,
"তুই আবার এসেছে? এবার তোকে ছাড়ব না…"

চারপাশ আগুনে ঘিরে যায়। ইফ্রিদ তার বিশাল আগুনের ডানা মেলে আকাশ ছুঁয়েছে। রায়হান পড়ে যাচ্ছে, হাঁপাচ্ছে, কিন্তু হাল ছাড়ছে না।

🔥 মুখোমুখি সংঘর্ষ

রায়হান পড়ে পড়েই তাবিজ তুলে ধরে, আর কিতাব খুলে ইফ্রিদের আসল নাম উচ্চারণ করে:
"ইফ্রিত আল রুহান আল লাহব!"

সাথে সাথে ভয়ঙ্কর চিৎকার, জমিন কাঁপে, আর চারপাশ ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। ইফ্রিদ থমকে যায়—তার রক্তমাখা শরীর কাঁপছে। রায়হান সেই মুহূর্তে তার রক্তভেজা তাবিজ আগুনে ছুঁড়ে দেয়।

এক বিকট বিস্ফোরণে পুরো জমিদারবাড়ি ধসে পড়ে।

🌙 শেষ দৃশ্য

ভোরের আলোয় দেখা যায়, জমিদারবাড়ির জায়গায় শুধু ছাই।
রায়হান কোথায়, কেউ জানে না।

কিন্তু গ্রামের লোকেরা বলে, পূর্ণিমার রাতে এক যুবককে তারা দেখতে পায় ধোঁয়ার মধ্যে হাঁটতে — যার গলায় একটি তাবিজ ঝুলছে, আর চোখে অদ্ভুত নীরবতা।

---

🖊️ গল্পকার: উজ্জ্বল দাস
📌 এই গল্পটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক, বাস্তবের সঙ্গে কোনো মিল থাকলে তা কাকতালীয় মাত্র।

---

6 months ago | [YT] | 1