I love explaining the complex issues in simple words.
Learning, Awareness, Education and Entertainment are the purposes of this channel. Amran Hossain is a youtube educator whose expertise lies in explaining the complex topics in an easier way.
হযরত উমর (রাঃ): রাতের কান্না ও শাসকের দায়িত্ববোধ!
রাতের গভীর নিস্তব্ধতা…..মদীনার আকাশে চাঁদের ম্লান আলো, রাস্তার ধুলো যেন ঘুমিয়ে আছে। চারপাশে নেই কোনো কোলাহল, নেই কোনো মানুষের শব্দ-শুধু মাঝে মাঝে ঝি ঝি পোকার শব্দের মতো শব্দ ভেসে আসছে! এই নীরব রাতের আঁধারে, এক ছায়ামূর্তি ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছেন মদীনার গলিপথে।
তিনি মুসলিম উম্মাহর শাসক—আমিরুল মুমিনিন হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)। কিন্তু আজ তিনি শাসকের পোশাকে নন—সাধারণ পোশাকে, নিরবে, যেন কেউ তাঁকে চিনতে না পারে। কারণ তাঁর উদ্দেশ্য ক্ষমতার প্রদর্শন নয়, মানুষের হালখবর জানা। তাঁর অন্তর সদা ব্যাকুল—“আমার উম্মাহর মধ্যে কেউ যেন অভুক্ত না থাকে, কেউ যেন কষ্টে না থাকে।”
হঠাৎ একটি জরাজীর্ণ কুঁড়েঘরের সামনে এসে তিনি থামলেন। ভেতর থেকে ক্ষীণ, কিন্তু বেদনাদায়ক শব্দ ভেসে আসছে—শিশুদের কান্না। কান্না যেন ক্ষুধার আর্তনাদে রূপ নিচ্ছে।
তিনি ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলেন, দরজার ফাঁক দিয়ে তাকালেন। দেখলেন, এক মা হাঁড়িতে পানি ও কয়েকটি পাথর বসিয়ে দিয়েছেন আগুনে। শিশুরা হাঁড়ির দিকে চেয়ে অপেক্ষা করছে—ভাবছে কিছুক্ষণ পর খাবার পাবে। কিন্তু আসলে রান্না নয়, এটি ছিল এক মায়ের অসহায় অভিনয়, যেন ক্ষুধার যন্ত্রণা সহ্য করতে করতে সন্তানেরা ঘুমিয়ে পড়ে।
এই দৃশ্য যেন উমর (রাঃ)-এর হৃদয়ে ছুরির মতো বিঁধল। তাঁর বুক ভারী হয়ে এলো, চোখে জল জমে উঠল। ঠোঁট কাঁপতে লাগল। তিনি জানতেন—এটি কেবল একটি পরিবারের অবস্থা নয়, বরং তাঁর উম্মাহর একটি অংশের কষ্ট। আর সেই কষ্টের দায়িত্ব তাঁরই কাঁধে।
তিনি দ্রুত পা চালিয়ে ফিরে গেলেন বায়তুল মাল—রাষ্ট্রীয় খাদ্য ভাণ্ডারে। সেখানে নিজ হাতে একটি ভারী খাদ্যের বস্তা তুলে নিলেন কাঁধে। বস্তাটি এত ভারী যে সাধারণ একজন মানুষের পক্ষে বহন করাই কঠিন, কিন্তু উমরের কাঁধে যেন আজ সেই ওজন হালকা লাগছে—কারণ এটি তাঁর উম্মাহর ক্ষুধা মেটানোর বোঝা।
এক প্রহরী এগিয়ে এসে বলল- “আমার কাঁধে দিন, আমিরুল মুমিনিন, আমি নিয়ে যাই। উমর (রাঃ)-এর চোখের কোনে জল চিকচিক করল, তিনি বললেন- কেয়ামতের দিনও কি তুমি আমার বোঝা বহন করবে?”
তিনি নিজেই কাঁধে করে বস্তা নিয়ে সেই কুঁড়েঘরে গেলেন। নিজ হাতে খাবার রান্না করলেন। ক্ষুধার্ত শিশুদের কাছে খাবার পৌঁছে দিলেন। তারা যখন প্রথম গ্রাস মুখে তুলল, তখন তাদের মুখে ফুটে উঠল এমন এক হাসি—যেন ক্ষুধার কালো মেঘ সরিয়ে সূর্যের আলো এসে পড়েছে।
উমর (রাঃ) কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলেন, দূর থেকে সেই হাসি দেখতে দেখতে। তারপর ধীরে ধীরে চলে গেলেন।
কিন্তু তাঁর বুকের ভেতরে যেন ঢেউ খেলতে লাগল এক প্রশ্ন— “উমর, যদি কেয়ামতের দিন আল্লাহ এই শিশুদের নিয়ে জিজ্ঞাসা করেন—‘তারা ক্ষুধায় কাঁদছিল, তুমি কোথায় ছিলে?’—তুমি কী জবাব দেবে?”
জীবনের জন্য শিক্ষা: নেতৃত্ব মানে শুধু ক্ষমতা নয়, নেতৃত্ব মানে মানুষের দুঃখ-কষ্ট নিজের কাঁধে তুলে নেওয়া। একজন প্রকৃত মুসলিম কেবল নিজের শান্তি নয়, সমাজের প্রতিটি মানুষের শান্তির জন্য চেষ্টা করে। কারণ সে জানে—আল্লাহর দরবারে জবাবদিহি থেকে কেউই মুক্ত নয়।
চলুন পহেলা বৈশাখের ইতিহাস জানি: বাংলা সনের উৎপত্তি মূলত মোগল সম্রাট আকবরের শাসনামলে, ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে।তখন রাজস্ব আদায় (খাজনা নেওয়া) হতো হিজরি চন্দ্রপঞ্জিকা অনুসারে, যেটা ছিল কৃষিকাজের জন্য ঝামেলাপূর্ণ, কারণ চন্দ্রবছর ঋতুর সাথে মিলতো না।
এই সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে আকবরের আদেশে রাজা টোডরমল বাংলা অঞ্চলের ঋতুভিত্তিক কৃষিপঞ্জিকা সংস্কার করেন। এভাবেই জন্ম নেয় বাংলা সন বা ফসলি সন, যেটিকে আজ আমরা বাংলা সাল হিসেবে জানি।
প্রথম দিকে পহেলা বৈশাখ উদযাপন হতো মূলত খাজনা আদায় ও ব্যবসায়িক হিসাব (হালখাতা) উপলক্ষে। গ্রামীণ মেলায়, গানে-বাজনায় সাধারণ মানুষ দিনটি পালন করত। পরে এটি একটি সাংস্কৃতিক উৎসবে রূপ নেয়।
বিশেষ করে স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে, বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম বড় প্রতীক হিসেবে পহেলা বৈশাখ জাতীয়ভাবে উদযাপিত হতে থাকে। ১৯৮৯ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ পহেলা বৈশাখ উদযাপনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে ওঠে!
সারাংশে বলা যায়: কারা চালু করেছিল? মোগল সম্রাট আকবর কেন চালু হয়েছিল? কৃষিজীবী সমাজের সুবিধার জন্য কীভাবে উদযাপন শুরু হলো? হালখাতা, মেলা, গান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দিয়ে
আজকের রূপ: ধর্মনিরপেক্ষ জাতীয় উৎসব ও বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক!
Amran Hossain
হযরত উমর (রাঃ): রাতের কান্না ও শাসকের দায়িত্ববোধ!
রাতের গভীর নিস্তব্ধতা…..মদীনার আকাশে চাঁদের ম্লান আলো, রাস্তার ধুলো যেন ঘুমিয়ে আছে। চারপাশে নেই কোনো কোলাহল, নেই কোনো মানুষের শব্দ-শুধু মাঝে মাঝে ঝি ঝি পোকার শব্দের মতো শব্দ ভেসে আসছে! এই নীরব রাতের আঁধারে, এক ছায়ামূর্তি ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছেন মদীনার গলিপথে।
তিনি মুসলিম উম্মাহর শাসক—আমিরুল মুমিনিন হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)। কিন্তু আজ তিনি শাসকের পোশাকে নন—সাধারণ পোশাকে, নিরবে, যেন কেউ তাঁকে চিনতে না পারে। কারণ তাঁর উদ্দেশ্য ক্ষমতার প্রদর্শন নয়, মানুষের হালখবর জানা। তাঁর অন্তর সদা ব্যাকুল—“আমার উম্মাহর মধ্যে কেউ যেন অভুক্ত না থাকে, কেউ যেন কষ্টে না থাকে।”
হঠাৎ একটি জরাজীর্ণ কুঁড়েঘরের সামনে এসে তিনি থামলেন। ভেতর থেকে ক্ষীণ, কিন্তু বেদনাদায়ক শব্দ ভেসে আসছে—শিশুদের কান্না। কান্না যেন ক্ষুধার আর্তনাদে রূপ নিচ্ছে।
তিনি ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলেন, দরজার ফাঁক দিয়ে তাকালেন। দেখলেন, এক মা হাঁড়িতে পানি ও কয়েকটি পাথর বসিয়ে দিয়েছেন আগুনে। শিশুরা হাঁড়ির দিকে চেয়ে অপেক্ষা করছে—ভাবছে কিছুক্ষণ পর খাবার পাবে। কিন্তু আসলে রান্না নয়, এটি ছিল এক মায়ের অসহায় অভিনয়, যেন ক্ষুধার যন্ত্রণা সহ্য করতে করতে সন্তানেরা ঘুমিয়ে পড়ে।
এই দৃশ্য যেন উমর (রাঃ)-এর হৃদয়ে ছুরির মতো বিঁধল। তাঁর বুক ভারী হয়ে এলো, চোখে জল জমে উঠল। ঠোঁট কাঁপতে লাগল। তিনি জানতেন—এটি কেবল একটি পরিবারের অবস্থা নয়, বরং তাঁর উম্মাহর একটি অংশের কষ্ট। আর সেই কষ্টের দায়িত্ব তাঁরই কাঁধে।
তিনি দ্রুত পা চালিয়ে ফিরে গেলেন বায়তুল মাল—রাষ্ট্রীয় খাদ্য ভাণ্ডারে। সেখানে নিজ হাতে একটি ভারী খাদ্যের বস্তা তুলে নিলেন কাঁধে। বস্তাটি এত ভারী যে সাধারণ একজন মানুষের পক্ষে বহন করাই কঠিন, কিন্তু উমরের কাঁধে যেন আজ সেই ওজন হালকা লাগছে—কারণ এটি তাঁর উম্মাহর ক্ষুধা মেটানোর বোঝা।
এক প্রহরী এগিয়ে এসে বলল- “আমার কাঁধে দিন, আমিরুল মুমিনিন, আমি নিয়ে যাই।
উমর (রাঃ)-এর চোখের কোনে জল চিকচিক করল, তিনি বললেন- কেয়ামতের দিনও কি তুমি আমার বোঝা বহন করবে?”
তিনি নিজেই কাঁধে করে বস্তা নিয়ে সেই কুঁড়েঘরে গেলেন। নিজ হাতে খাবার রান্না করলেন। ক্ষুধার্ত শিশুদের কাছে খাবার পৌঁছে দিলেন। তারা যখন প্রথম গ্রাস মুখে তুলল, তখন তাদের মুখে ফুটে উঠল এমন এক হাসি—যেন ক্ষুধার কালো মেঘ সরিয়ে সূর্যের আলো এসে পড়েছে।
উমর (রাঃ) কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলেন, দূর থেকে সেই হাসি দেখতে দেখতে। তারপর ধীরে ধীরে চলে গেলেন।
কিন্তু তাঁর বুকের ভেতরে যেন ঢেউ খেলতে লাগল এক প্রশ্ন—
“উমর, যদি কেয়ামতের দিন আল্লাহ এই শিশুদের নিয়ে জিজ্ঞাসা করেন—‘তারা ক্ষুধায় কাঁদছিল, তুমি কোথায় ছিলে?’—তুমি কী জবাব দেবে?”
জীবনের জন্য শিক্ষা:
নেতৃত্ব মানে শুধু ক্ষমতা নয়, নেতৃত্ব মানে মানুষের দুঃখ-কষ্ট নিজের কাঁধে তুলে নেওয়া। একজন প্রকৃত মুসলিম কেবল নিজের শান্তি নয়, সমাজের প্রতিটি মানুষের শান্তির জন্য চেষ্টা করে। কারণ সে জানে—আল্লাহর দরবারে জবাবদিহি থেকে কেউই মুক্ত নয়।
6 months ago | [YT] | 0
View 0 replies
Amran Hossain
১৪৩২ - শুভ নববর্ষ !
চলুন পহেলা বৈশাখের ইতিহাস জানি:
বাংলা সনের উৎপত্তি মূলত মোগল সম্রাট আকবরের শাসনামলে, ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে।তখন রাজস্ব আদায় (খাজনা নেওয়া) হতো হিজরি চন্দ্রপঞ্জিকা অনুসারে, যেটা ছিল কৃষিকাজের জন্য ঝামেলাপূর্ণ, কারণ চন্দ্রবছর ঋতুর সাথে মিলতো না।
এই সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে আকবরের আদেশে রাজা টোডরমল বাংলা অঞ্চলের ঋতুভিত্তিক কৃষিপঞ্জিকা সংস্কার করেন। এভাবেই জন্ম নেয় বাংলা সন বা ফসলি সন, যেটিকে আজ আমরা বাংলা সাল হিসেবে জানি।
প্রথম দিকে পহেলা বৈশাখ উদযাপন হতো মূলত খাজনা আদায় ও ব্যবসায়িক হিসাব (হালখাতা) উপলক্ষে। গ্রামীণ মেলায়, গানে-বাজনায় সাধারণ মানুষ দিনটি পালন করত। পরে এটি একটি সাংস্কৃতিক উৎসবে রূপ নেয়।
বিশেষ করে স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে, বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম বড় প্রতীক হিসেবে পহেলা বৈশাখ জাতীয়ভাবে উদযাপিত হতে থাকে। ১৯৮৯ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ পহেলা বৈশাখ উদযাপনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে ওঠে!
সারাংশে বলা যায়:
কারা চালু করেছিল? মোগল সম্রাট আকবর
কেন চালু হয়েছিল? কৃষিজীবী সমাজের সুবিধার জন্য
কীভাবে উদযাপন শুরু হলো? হালখাতা, মেলা, গান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দিয়ে
আজকের রূপ: ধর্মনিরপেক্ষ জাতীয় উৎসব ও বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক!
10 months ago | [YT] | 1
View 1 reply
Amran Hossain
Who will score highest runs in this WC-2023 amongst all Bangladeshi Batsman?
2 years ago | [YT] | 0
View 0 replies
Amran Hossain
Without Tamim Iqbal, how many matches should Bangladesh win in this WC-2023?
2 years ago | [YT] | 1
View 0 replies