পাঁচ রাবিয়ান গ্রুপ স্টাডির একটি মুহূর্ত। একসাথে স্বপ্ন দেখতেন পাঁচজন বন্ধু দিনরাত পরিশ্রম, অগণিত পরিকল্পনা, এবং পারস্পরিক সহযোগিতায় এগিয়ে গেছেন নিজেদের লক্ষ্যের দিকে।
আজ তাঁরা সবাই বিসিএস ক্যাডার তখন হয়তো কেউ জানত না, এই পাঁচজনই একদিন হয়ে উঠবেন রাষ্ট্রের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসীন।
জাকির হোসাইন: শিক্ষা ক্যাডার (৪০তম) ইসরাফিল হোসেন শিহাব: সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (৩৮তম) আবুল কালাম আজাদ: আনসার ক্যাডার (৩৮তম) নাসিরউদ্দিন শুভ: শিক্ষা ক্যাডার (৪০তম) ফজলে রাব্বী: শিক্ষা ক্যাডার (৪০তম)
সঠিক সঙ্গ, নিয়মিত স্টাডি, ও লক্ষ্যভিত্তিক প্রস্তুতি এই তিনটি মিলেই সম্ভব যে কোনো বড় অর্জন। গ্রুপ স্টাডি শুধু সময় কাটানোর জায়গা নয়; যদি সবাই সিরিয়াস হয়, তাহলে সেটি হয়ে উঠতে পারে সফলতার প্ল্যাটফর্ম।একে অপরকে সহযোগিতা ও মোটিভেট করা এই বন্ধুত্বই সবচেয়ে বড় শক্তি।
প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য এই ছবিটি প্রমাণ, "পরিশ্রম + সহযোদ্ধা + নিয়মিততা = সফলতা"
আজকের ক্লান্তির পড়া, রাত জেগে দেওয়া প্রস্তুতি সবই একদিন হাসি হয়ে ফিরে আসবে। নিজেকে ছোট ভাবো না। যেখানে দাঁড়িয়ে আছো, সেখান থেকেই শুরু করো।
ইংলিশ চ্যানেলের হিমশীতল জলরাশি পেরিয়ে এক ইতিহাস গড়লেন পাবনার মাহফিজুর রহমান সাগর। পৌঁছে গেলেন অনন্য এক কৃতিত্বের শিখরে। তার সাথে ছিলেন কিশোরগঞ্জের নাজমুল হক হিমেল। মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই টানা ১২ ঘণ্টা ১০ মিনিট সাঁতরে এই দুই সাঁতারু সফলভাবে অতিক্রম করেন ইংলিশ চ্যানেল। পাবনা শহর থেকে দূরে, দ্বীপচরের লাউদাড়া গ্রামের ছোট্ট এক পুকুর। সেখানেই শুরু হয়েছিল স্বপ্নের সাঁতার। আর আজ সেই স্বপ্ন পৌঁছে গেছে বিশ্বের অন্যতম কঠিন জলপথ—ইংলিশ চ্যানেলের উত্তাল ঢেউয়ে। মাহফিজুর রহমান সাগর নামটির সঙ্গে এখন আর শুধু ‘পাবনার সাঁতারু’ শব্দটি জুড়ে থাকে না—এখন তিনি সেই তরুণ, যিনি বুক চিতিয়ে পাড়ি দিয়েছেন ইংলিশ চ্যানেল। বাংলাদেশের ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছেন সাহসিকতার নতুন অধ্যায়ে।
বাবা মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান টিংকু। মাতা নিলুফা বেগম।দুই ভাই এক বোনের মধ্যে সাগর সবার ছোট। তার বাড়ীর সামনের পুকুর থেকে বাবার অনুপ্রেরণায় সাঁতারের শুরু।
ছোটবেলায় সাগরের খেলার মাঠ ছিলো বাড়ির সামনের পুকুর। বাবার কড়া স্নেহময় কণ্ঠে ভেসে আসত, "সাঁতার শেখো, শক্ত হও।" সেই বাবা—আজিজুর রহমান টিংকু—ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, দেশের জন্য লড়েছেন অস্ত্র হাতে। আর ছেলে সাগর লড়াই করলেন ঢেউয়ের বিপরীতে, শরীর আর মানসিক জোরে।
পাবনার রফিকুল ইসলাম সুইমিং পুল ছিল সাগরের প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক সাঁতারের মঞ্চ। সেখান থেকে বিকেএসপিতে ভর্তি, জাতীয় পর্যায়ে পাঁচবার সেরা সাঁতারু, অসংখ্য পদক। প্রতিটি ধাপে সাগরের ভেতর গড়ে উঠেছে এক নির্মোহ, দৃঢ়চেতা যোদ্ধা।
জুলাইয়ের শুরুতে সাগর ও তার সঙ্গী কিশোরগঞ্জের নাজমুল হক হিমেল রওনা দেন লন্ডনের পথে। উদ্দেশ্য একটাই—ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়া। তবে বিষয়টি এমন নয় যে গিয়ে সাঁতার দিলেই হল। অপেক্ষা করতে হয় আবহাওয়ার অনুকূলতার জন্য, জানতে হয় স্রোতের ধরন, জেলিফিশের উপস্থিতি, পানির তাপমাত্রা।
২৯ জুলাই, সকাল। একটানা ১২ ঘণ্টা ১০ মিনিট সাঁতরেছেন সাগর। পানির তাপমাত্রা ছিল ১৫ থেকে ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শরীর শীতল হয়ে আসে, পেশি বেঁকে যায়, মন চায় থেমে যেতে। কিন্তু সাগরের ভেতরে গড়িয়ে চলেছে অন্যরকম স্রোত—সেটা আত্মবিশ্বাসের, দেশের প্রতি ভালোবাসার, আর বাবার বলা সেই পুরোনো কথাগুলোর।
যখন চ্যানেলের বিপরীত পাড়ে পা রাখেন, তখন সাগরের চোখে পানি। হয়ত ঠান্ডার কারণে, হয়ত আনন্দে। কিন্তু পাবনায় তার মা নিলুফা বেগমের চোখে পানি ছিল একটাই অর্থে—গর্ব। স্থানীয় লোকজন, প্রতিবেশী, জেলা প্রশাসক, কোচ—সবাই যেন গর্বে ভরে উঠেছেন সাগরের এই বিজয়ে। লাউদাড়ার পুকুরটা হয়ত সেদিন আরও উচ্ছ্বাসে ঢেউ তুলেছে।
তবে সাগরের গল্পটা শুধু সাঁতারের নয়। এটা এক পিতা থেকে ছেলের কাছে উত্তরাধিকার হয়ে আসা সাহসের গল্প। এটা গ্রামের পুকুর থেকে সমুদ্র জয়ের গল্প। এটা প্রমাণ, স্বপ্ন বড় হলে—জল, শীত, জেলিফিশ—কিছুই থামাতে পারে না একজন সত্যিকারের যোদ্ধাকে।
মাহফিজুর রহমান সাগরের এই সাফল্য যেন আরেকবার মনে করিয়ে দেয়—বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকেও বিশ্বজয় সম্ভব। শুধু প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা, প্রতিভা লালন, আর একফোঁটা সাহস।
ইংলিশ চ্যানেলের হিমশীতল জলরাশি ভেদ করে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা যেদিন বাতাসে ওড়ে—সেদিনই বুঝি জন্ম হয় এক সত্যিকারের বিজয়ের গল্প। ছোটবেলার সেই গ্রামের পুকুর থেকে শুরু হয়েছিল যাত্রা—আর আজ মাহফিজুর রহমান সাগর পাড়ি দিয়েছেন বিশাল ইংলিশ চ্যানেল। জলের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে শুধু সাঁতরেই নয়, তিনি পাড়ি দিয়েছেন স্বপ্ন, সংগ্রাম আর সাফল্যের পথও।
মাহফিজুর রহমান সাগরের মা নিলুফা বেগম বলেন, আজকে যদি তার বাবা বেঁচে থাকতেন তাহলে অনেক খুশি হতেন। এটা জয়ের স্বার্থকতা ফুটে উঠত। বছর দুই হলেন সে মারা গিয়েছে। আজকে ছেলের এতোবড় সাফল্যে বুক ভরে যাচ্ছে। আপনারা সবাই ছেলেটির জন্য দোয়া করবেন। ছেলে যেন মানুষের মত মানুষ হয়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে পারে।
আমার ছেলে ছোট বেলা থেকে খুবই মেধাবী ছিল। ওর বাবার অনুপ্রেরণায় আজকে সে সাঁতার শিখছে। তার বাবা মুক্তিযুদ্ধ করেছে দেশের মানুষের মুক্তির জন্য। আমার ছেলেও যেন মানুষের জন্য কাজ করতে পারে।
পাবনার জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ মফিজুল ইসলাম বলেন, আমরা খুবই গর্ববোধ করছি ছেলেটি ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ায়। সে আগামীতে আরও বড় কিছু হোক এই শুভ কামনা থাকল। এর আগে, ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়েছেন বাংলাদেশের তিনজন সাঁতারু। ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রমকারী প্রথম এশীয় সাঁতারু ব্রজেন দাস। ১৯৫৮ থেকে ১৯৬১ সালের মধ্যে মোট ছয়বার চ্যানেলটি অতিক্রম করেন তিনি।
🎯 এ যেন ‘রবার্ট ব্রুস’ ৭ বারের চেষ্টায় বিসিএস ক্যাডার!
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে পড়াশোনা করেছেন রিয়াজ উদ্দিন খান। ছয়বার বিসিএস পরীক্ষায় ভাইভা দিয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে না পারলেও সপ্তমবারের চেষ্টায় ৪৩তম বিসিএসে পেয়েছেন শিক্ষা ক্যাডার। তাই তো বন্ধুবান্ধব নাম দিয়েছে ‘রবার্ট ব্রুস’। সত্যিই তো! রবার্ট ব্রুসও সাতবারের চেষ্টায় রাজ্য জয় করেছিলেন।
শুরুটা ২০১৩ সালে। রিয়াজ তখন স্নাতক চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। বহুজাতিক কোম্পানিতে চাকরি করার ইচ্ছা থাকলেও বন্ধুবান্ধবদের বিসিএসের প্রস্তুতি নিতে দেখে সিদ্ধান্ত নেন—তিনিও অংশ নেবেন। শুরু করেন প্রস্তুতি। ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে নন-ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে কিশোরগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ে যোগ দেন। তবে লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য তাঁর চেষ্টা চলতে থাকে। টানা কয়েকবার নন–ক্যাডার সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর বন্ধুরা মজা করে ডাকতে শুরু করেন ‘ফাদার অব নন-ক্যাডার’। শুনতে অবশ্য খারাপ লাগত না। তবে ‘এতবার পরীক্ষা দিয়েও ক্যাডার হতে পারলেন না!’ স্থানীয় মানুষজনের এমন তীর্যক কথাও তাঁকে শুনতে হয়েছে।
কিশোরগঞ্জের পশ্চিম জগৎচর গ্রামের ছেলে রিয়াজ। ছোটবেলা থেকেই উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল, তবে নিয়তি পক্ষে ছিল না। রিয়াজ বলেন, ‘অনেক সংগ্রাম করে পড়াশোনা করেছি। একসময় সচ্ছল মধ্যবিত্ত পরিবার ছিল। কিন্তু বড় বোনের বিবাহবিচ্ছেদের মামলা চালাতে গিয়ে প্রচুর টাকা দিতে হয়েছে। বৃদ্ধ বাবার উপার্জন না থাকায় বিক্রি করতে হয়েছে সম্পত্তিও।’ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে পড়ালেখা চালিয়েছেন রিয়াজ উদ্দিন। অর্থনৈতিক সংকট, ব্যক্তিগত জীবনের নানা টানাপোড়েনে একসময় আত্মহত্যার কথাও মাথায় এসেছিল। রিয়াজ বলেন, ‘২০১৬ সালে চরম হতাশায় ভুগতে শুরু করেছিলাম। একপর্যায়ে আত্মহত্যার কথাও ভেবেছি। তবে পরিবার ও বিচ্ছেদের শিকার বোনের দিকে তাকিয়ে সেটা করতে পারিনি।’
নিজের সঙ্গে লড়াই করে চেষ্টা চালিয়ে গেছেন রিয়াজ। তাঁর ভাষ্য, ‘ইচ্ছা ছিল পুলিশ হয়ে নারীদের অধিকার আদায়ে কাজ করব। সমাজে নানাভাবে হেয় হয় নারীরা। বিভিন্ন অত্যাচারের শিকার হয়েও বিচার পায় না। তাই একটা সুন্দর সমাজ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে চেয়েছি সব সময়।’ পুলিশ হতে না পারলেও এখন নিজ অবস্থান থেকেই নারীর অধিকার রক্ষায় কাজ করতে চান তিনি। বলছিলেন, ‘যেহেতু শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দেব, আলোকিত মানুষ গড়ার জন্য কাজ করব। শিক্ষায় নারীদের এগিয়ে নিতে যথাসাধ্য চেষ্টা করব। মূল্যবোধ ও নৈতিকতা চর্চায় আমার শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করব।
নাম উল্লাস পাল। ৪৪তম বিসিএসের ফলাফলে প্রশাসন ক্যাডার হয়েছেন। জন্মগতভাবেই শারীরিক প্রতিবন্ধী। কিন্তু শিক্ষাজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য প্রতিবন্ধী কোটা নেননি।
এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়েছেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় ৪৬৩তম হয়ে ভর্তি হন ব্যবস্থাপনা বিভাগে।
কারো করুণা নিয়ে নয়, সবার সাথে প্রতিযোগিতা করেই ভর্তি হয়েছেন।
জন্মগতভাবেই দুই হাত-পা বাঁকা। অনেক চিকিৎসা করেছেন তার পরিবার কিন্তু স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারেননি। বাবা নিজে তাকে স্কুলে নিয়ে গেছেন, মায়ের স্নেহে নিজের মেধাকে শান দিয়েছেন।
৪০তম, ৪১তম ও ৪৩তম বিসিএসে অংশ নেন নিজেকে প্রস্তুত করতে। ৪০তম পাস করেও কোনো পদ পাননি। অনেকটাই হতাশ হন। ৪১তম বিসিএসে জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর পদে সুপারিশ পান।
পরে ৪৩তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে নড়িয়া সরকারি কলেজে লেকচারার হিসেবে যোগদান করেন। কিন্তু তার স্বপ্ন যেনো তখনো অপূর্ণতা। কারণ তার জীবনের চূড়ান্ত ইচ্ছে প্রশাসন ক্যাডার হওয়া। তার স্বপ্ন ছিল প্রশাসন ক্যাডার হওয়া।
আর সেই স্বপ্ন পূরণ হলো। ৪৪তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েছেন তিঁনি। অভিনন্দন ভাই উল্লাস। জীবন এমনি, নিজের ইচ্ছে আর চূড়ান্ত শক্তিতে নিজেকে এগিয়ে নিতে হয়।
প্রশাসনে বিসিএস ক্যাডার তিনি হননি, হয়েছেন তার মা-বাবা। পরিবারে কত রকমের কথা শুনতে হয়েছে, কাছের মানুষদের কাছে। আজ তারা দেখুক, উল্লাস প্রশাসনে বিসিএস ক্যাডার।
অর্থাভাবে গার্মেন্টসে চাকরি করেছে,আজ সে বিসিএস ক্যাডার✅ দিনাজপুরের বীরগঞ্জের মো. সইমুদ্দিন ও মোছা. তহমিনা বেগম দম্পতির বড় সন্তান মো. তমিজ উদ্দিন। মেধাবী হলেও টানাপোড়েনের সংসারে ছোটবেলা থেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ঝরে পড়ার শঙ্কায় থাকতে হতো। মাধ্যমিকের পর সেই শঙ্কা অনেকটা বাস্তবে পরিণত হয়েছিল। পড়াশোনা ছেড়ে তাঁকে গার্মেন্টসে যোগ দিতে হয়। কিন্তু থেমে যাননি তমিজ। সব বাধা পেরিয়ে তিনি এখন বিসিএস ক্যাডার। ৪১তম বিসিএস থেকে শিক্ষা ক্যাডারে কর্মরত।
এই বাধা ডিঙাতে যারা সহযোগী ছিলেন বা আছেন, তাঁদের এই আনন্দের ক্ষণে স্মরণ করেছেন তমিজ। তিনি বলেন, জীবনে দরিদ্রতার সঙ্গে সংগ্রাম করে আল্লাহর অশেষ রহমতে আজকে আমি ৪১তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডার হয়েছি। আল্লাহর অশেষ রহমত, বাবা-মায়ের দোয়া, শিক্ষক এবং কিছু ফেরেশতাতূল্য মানুষের সহযোগিতায় এত দূর আসা সম্ভব হয়েছে।
তমিজের ভাষ্য, দরিদ্র দিনমজুর বাবার সংসারে ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়ার একটা ভয়ে থাকতেন। কিন্তু ভালো ফলাফল, বৃত্তি ও স্কুলের শিক্ষকদের সহযোগিতায় এসএসসি পর্যন্ত তেমন সমস্যা হয়নি। ২০১৩ সালে মাধ্যমিক পাসের পর তাঁর জীবনে নতুন করে সংগ্রাম শুরু হয়।
এসএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গোল্ডেন এ+ পান। সাথে বৃত্তি। এর পর তাঁর বন্ধুরা সবাই যখন বিভিন্ন নামী কলেজে ভর্তি হচ্ছিলেন, তখন অর্থাভাবে তাঁকে ভর্তি হতে হয় বাড়ির কাছে খানসামা ডিগ্রি কলেজে। বিজ্ঞান বিভাগেই ভর্তি হন। তবে এক মাস না যেতেই বুঝতে আর বাকি থাকে না যে, তাঁর বাবার পক্ষে এত টিউশন ফি দেওয়া সম্ভব না।
ঠিক ওই সময়েই গ্রামের কিছু নেতার চাপে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তমিজের পরিবার বসতভিটা ছাড়তে বাধ্য হয়। এতে তাঁর পড়ালেখার স্বপ্ন প্রায় শেষের পথে চলে যায়। তবুও স্বপ্নটাকে কিছুটা জিইয়ে রাখতে তমিজ কলেজে গিয়ে বিভাগ পরিবর্তন করে মানবিক বিভাগ নিয়ে সেই দিনই ঢাকায় চলে যান।
তমিজ বলেন, ২০১৩ সালের আগস্টে গার্মেন্টসে কাটিং সেকশনে কাজ নিই। শুরু হয় আমার অন্য রকম একটা জগৎ। সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা বা কোনোদিন রাত ৩টা পর্যন্ত কাজ। এভাবেই চলতে থাকে। ওই সময় প্রায় রাতেই কান্না করতাম। আর সৃষ্টিকর্তার কাছে নালিশ করতাম, আমার ভাগ্যে যদি এটাই রেখেছ, তবে এসএসসিতে এত ভালো ফলাফল কেন?
এর পর ২০১৪ সালের নভেম্বরে কলেজের টেস্ট পরীক্ষা হয়। কলেজের টেস্ট পরীক্ষার আগে সুযোগ বুঝে গার্মেন্টসের বসকে সব বলেন তমিজ। তিনি সব শুনে তমিজকে গ্রামে গিয়ে পরীক্ষা দিতে বলেন।
সেই সময়ের কথা স্মরণ করে তমিজ বলেন, ‘কিন্তু আমার চাকরি হারানোর ভয় ছিল। তাই তাঁর কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি নিই যে, আমাকে পরীক্ষার পরে আবার কাজে নিতে হবে। তিনি ভালো মানুষ ছিলেন। হেসে বলেন, “তোমার জন্য আমার দরজা সবসময় খোলা।” ভরসা পেয়ে ২০১৪ সালের অক্টোবরে টেস্ট পরীক্ষার এক মাস আগে গ্রামে চলে যাই। মন দিয়ে পড়াশোনা করি। টেস্ট পরীক্ষার ফলাফলে আমি তৃতীয় হই। আমার আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। আরও বেশি পরিশ্রম করি। বোর্ড পরীক্ষায় এ+সহ আবারও বৃত্তি পাই।’
বৃত্তি তো মিলল। কিন্তু অভাব তো যায় না। তমিজ বলছেন, ‘ভেবেছিলাম ডিগ্রিতে ভর্তি হয়ে আবার গার্মেন্টসে চলে যাব। কিন্তু আমার বন্ধু জাফর, বেলাল, গণির মাধ্যমে এসব কথা জানতে পেরে বোর্ড পরীক্ষা চলাকালীন আমার কাছে ছুটে আসেন ঠাকুরগাঁও সদরের সহকারী শিক্ষা অফিসার মো. মিলন ইসলাম স্যার, মো. সোহেল রানা ভাই, মো. এনাম ভাই। পরীক্ষার কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষা শেষে আমাকে বিভিন্নভাবে সাহস যোগান তাঁরা। পরীক্ষার পর ওনারাই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার জন্য সব ব্যবস্থা করে দেন।’
তমিজ বলেন, ‘মনে মনে একটাই সংকল্প ছিল ভর্তি হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই হব, অন্য কোথাও না। কারণ, সেখানে পড়লে টিউশনি করে চলা যাবে। সে সুযোগ অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে খুব সীমিত। ভর্তি পরীক্ষা দিই। ২০১৫-১৬ সেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে ভর্তির সুযোগ পাই। মাস্টারদা’ সূর্যসেন আবাসিক হলে এটাচ পড়ে। আমার শিক্ষক ও আত্মীয়স্বজনের সহযোগিতায় ভর্তি হই। এর পর ভীষণ আর্থিক সমস্যায় পড়ে যাই। তখন মো. ফেরদাউস হাসান ভাই টিউশনির ব্যবস্থা করে দেন।’
কঠিন সেই সময় যেন তমিজের চোখের সামনে। দৃশ্যের পর দৃশ্যে যেন তিনি নিজেকেই দেখছেন, নিজের লড়াইকে দেখছেন। আর বলে চলছেন, ‘শুরু হয় আমার টিউশন জীবন! ১টা থেকে ২টা, ২টা থেকে ৪টা টিউশনি করি! এভাবে পড়ালেখার পাশাপাশি টিউশনির টাকা দিয়ে চলি, বাসায়ও কিছু পাঠাই। এর পর আর আমাকে পেছনে তাকাতে হয়নি। অনেক চড়াই উৎরাই পার হয়ে ২০১৯ সালে স্নাতক ও ২০২০ সালে মাস্টার্স সম্পন্ন হয়। করোনাকালে বাড়ি গিয়ে নিষ্ক্রিয় না থেকে অনলাইনে টিউশনি চালিয়ে যাই। এর মধ্যে ৪১তম বিসিএস-এ আবেদন করি। এটাই আমার প্রথম বিসিএস ছিল।’
আবেদন তো হলো। আরও অনেকেই করেছেন আবেদন। তমিজ খুব ভালো করে জানেন এই সময়ে বিসিএস শিক্ষিত চাকরিপ্রার্থীদের কতটা আরাধ্য। ফলে আবেদন মানেই যে চাকরি নয়, তা তমিজ জানেন। সাথে এও জানেন বিসিএস ক্যাডার হতে হলে এক দীর্ঘ যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। কিন্তু এর মাঝের সময়টা চলবে কী করে? ফলে আবার ঢাকায় তমিজ। কারণ, মাঝের এই সময়টার জন্য টিউশনিই যে শুধু ভরসা।
তমিজ বলছেন, ‘করোনার পর অবস্থা কিছুটা স্বাভাবিক হলে ঢাকায় যাই। তখনো হল বন্ধ। মেসে থেকে সরাসরি টিউশনি শুরু করি। ওই সময় প্রায় দুপুর ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত টিউশনি করিয়েছি। বাকি সময়টুকু চাকরির প্রস্তুতি। ২০২১ সালের মার্চ মাসে ৪১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশ নিই। উত্তীর্ণ হই। তারপর ২০২১ সালের ডিসেম্বরে ৪১তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা হয়। সেখানেও উত্তীর্ণ হই।’
এ পুরো সময়টায় তমিজ কিন্তু নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন না। দারিদ্র্য, পরিবারের প্রতি দায়বোধ-এ সবই তাঁকে ছুটিয়ে বেড়িয়েছে। নিজের তৈরি পথে চলার জন্য হাত ধরে নিয়ে আসেন ছোট ভাইকে। তমিজের ভাষ্যে, ‘এ সময় ছোট ভাই রাজুকে ঢাকায় এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার জন্য পড়াশোনায় সাহায্য করি। খরচ বেড়ে যায়। টিউশনিও বাড়াতে হয়। জমানো কিছু টাকা ছিল সেটাসহ বাড়ি থেকেও কিছু নিয়ে ওর জন্য খরচ করি। সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পায়। পরিবারের সবার সিদ্ধান্তে তাকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি করাই। সে এখন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।’
যুক্ত হতে থাকে সাফল্যের পালক। মাঝে গতানুগতিক টিউশন জীবনে কিছুটা ছেদ পড়ে। প্রাইমারি স্কুলে সহকারী শিক্ষক পদে চাকরি হয় তমিজের। বিসিএসে জয়েন করার আগে বীরগঞ্জের ১ নম্বর শিবরামপুর ইউনিয়নের মুরারীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি করেন।
কিন্তু এই সাফল্য তমিজকে আরও বেশি অতীত মনে করিয়ে দিচ্ছে। আরও বেশি করে তাঁর মনে পড়ছে সেইসব মানুষদের, যারা তাঁকে নানা বাধা ডিঙোতে সহায়তা করেছেন। তিনি চান, একদিন তিনিও অন্যদের সহায় হয়ে উঠতে পারবেন। তমিজ বলেন, ‘এ পর্যন্ত আসার ক্ষেত্রে যারা আমাকে আর্থিক, মানসিকভাবে সাহস যুগিয়েছেন তাদের সকলের প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ। আমি সততার সাথে আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে চাই এবং সমাজে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য কিছু করতে পারলে নিজেকে ধন্য মনে করব।’
Rudrowaves
Govt. Edward college honours 1st year result session 23-24 published 2025
2 weeks ago | [YT] | 0
View 0 replies
Rudrowaves
3 weeks ago | [YT] | 0
View 0 replies
Rudrowaves
4 weeks ago | [YT] | 0
View 0 replies
Rudrowaves
পাঁচ রাবিয়ান
গ্রুপ স্টাডির একটি মুহূর্ত।
একসাথে স্বপ্ন দেখতেন পাঁচজন বন্ধু দিনরাত পরিশ্রম, অগণিত পরিকল্পনা, এবং পারস্পরিক সহযোগিতায় এগিয়ে গেছেন নিজেদের লক্ষ্যের দিকে।
আজ তাঁরা সবাই বিসিএস ক্যাডার
তখন হয়তো কেউ জানত না, এই পাঁচজনই একদিন হয়ে উঠবেন রাষ্ট্রের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসীন।
জাকির হোসাইন: শিক্ষা ক্যাডার (৪০তম)
ইসরাফিল হোসেন শিহাব: সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (৩৮তম)
আবুল কালাম আজাদ: আনসার ক্যাডার (৩৮তম)
নাসিরউদ্দিন শুভ: শিক্ষা ক্যাডার (৪০তম)
ফজলে রাব্বী: শিক্ষা ক্যাডার (৪০তম)
সঠিক সঙ্গ, নিয়মিত স্টাডি, ও লক্ষ্যভিত্তিক প্রস্তুতি এই তিনটি মিলেই সম্ভব যে কোনো বড় অর্জন।
গ্রুপ স্টাডি শুধু সময় কাটানোর জায়গা নয়; যদি সবাই সিরিয়াস হয়, তাহলে সেটি হয়ে উঠতে পারে সফলতার প্ল্যাটফর্ম।একে অপরকে সহযোগিতা ও মোটিভেট করা এই বন্ধুত্বই সবচেয়ে বড় শক্তি।
প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য এই ছবিটি প্রমাণ,
"পরিশ্রম + সহযোদ্ধা + নিয়মিততা = সফলতা"
আজকের ক্লান্তির পড়া, রাত জেগে দেওয়া প্রস্তুতি সবই একদিন হাসি হয়ে ফিরে আসবে।
নিজেকে ছোট ভাবো না।
যেখানে দাঁড়িয়ে আছো, সেখান থেকেই শুরু করো।
কারণ তোমার গল্পটাও একদিন কারো অনুপ্রেরণা হবে।
প্রথম ছবিটি ২০১৮ সালের...
1 month ago | [YT] | 0
View 0 replies
Rudrowaves
ইংলিশ চ্যানেলের হিমশীতল জলরাশি পেরিয়ে এক ইতিহাস গড়লেন পাবনার মাহফিজুর রহমান সাগর। পৌঁছে গেলেন অনন্য এক কৃতিত্বের শিখরে। তার সাথে ছিলেন কিশোরগঞ্জের নাজমুল হক হিমেল। মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই টানা ১২ ঘণ্টা ১০ মিনিট সাঁতরে এই দুই সাঁতারু সফলভাবে অতিক্রম করেন ইংলিশ চ্যানেল।
পাবনা শহর থেকে দূরে, দ্বীপচরের লাউদাড়া গ্রামের ছোট্ট এক পুকুর। সেখানেই শুরু হয়েছিল স্বপ্নের সাঁতার। আর আজ সেই স্বপ্ন পৌঁছে গেছে বিশ্বের অন্যতম কঠিন জলপথ—ইংলিশ চ্যানেলের উত্তাল ঢেউয়ে। মাহফিজুর রহমান সাগর নামটির সঙ্গে এখন আর শুধু ‘পাবনার সাঁতারু’ শব্দটি জুড়ে থাকে না—এখন তিনি সেই তরুণ, যিনি বুক চিতিয়ে পাড়ি দিয়েছেন ইংলিশ চ্যানেল। বাংলাদেশের ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছেন সাহসিকতার নতুন অধ্যায়ে।
বাবা মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান টিংকু। মাতা নিলুফা বেগম।দুই ভাই এক বোনের মধ্যে সাগর সবার ছোট। তার বাড়ীর সামনের পুকুর থেকে বাবার অনুপ্রেরণায় সাঁতারের শুরু।
ছোটবেলায় সাগরের খেলার মাঠ ছিলো বাড়ির সামনের পুকুর। বাবার কড়া স্নেহময় কণ্ঠে ভেসে আসত, "সাঁতার শেখো, শক্ত হও।" সেই বাবা—আজিজুর রহমান টিংকু—ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, দেশের জন্য লড়েছেন অস্ত্র হাতে। আর ছেলে সাগর লড়াই করলেন ঢেউয়ের বিপরীতে, শরীর আর মানসিক জোরে।
পাবনার রফিকুল ইসলাম সুইমিং পুল ছিল সাগরের প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক সাঁতারের মঞ্চ। সেখান থেকে বিকেএসপিতে ভর্তি, জাতীয় পর্যায়ে পাঁচবার সেরা সাঁতারু, অসংখ্য পদক। প্রতিটি ধাপে সাগরের ভেতর গড়ে উঠেছে এক নির্মোহ, দৃঢ়চেতা যোদ্ধা।
জুলাইয়ের শুরুতে সাগর ও তার সঙ্গী কিশোরগঞ্জের নাজমুল হক হিমেল রওনা দেন লন্ডনের পথে। উদ্দেশ্য একটাই—ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়া। তবে বিষয়টি এমন নয় যে গিয়ে সাঁতার দিলেই হল। অপেক্ষা করতে হয় আবহাওয়ার অনুকূলতার জন্য, জানতে হয় স্রোতের ধরন, জেলিফিশের উপস্থিতি, পানির তাপমাত্রা।
২৯ জুলাই, সকাল। একটানা ১২ ঘণ্টা ১০ মিনিট সাঁতরেছেন সাগর। পানির তাপমাত্রা ছিল ১৫ থেকে ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শরীর শীতল হয়ে আসে, পেশি বেঁকে যায়, মন চায় থেমে যেতে। কিন্তু সাগরের ভেতরে গড়িয়ে চলেছে অন্যরকম স্রোত—সেটা আত্মবিশ্বাসের, দেশের প্রতি ভালোবাসার, আর বাবার বলা সেই পুরোনো কথাগুলোর।
যখন চ্যানেলের বিপরীত পাড়ে পা রাখেন, তখন সাগরের চোখে পানি। হয়ত ঠান্ডার কারণে, হয়ত আনন্দে। কিন্তু পাবনায় তার মা নিলুফা বেগমের চোখে পানি ছিল একটাই অর্থে—গর্ব। স্থানীয় লোকজন, প্রতিবেশী, জেলা প্রশাসক, কোচ—সবাই যেন গর্বে ভরে উঠেছেন সাগরের এই বিজয়ে। লাউদাড়ার পুকুরটা হয়ত সেদিন আরও উচ্ছ্বাসে ঢেউ তুলেছে।
তবে সাগরের গল্পটা শুধু সাঁতারের নয়। এটা এক পিতা থেকে ছেলের কাছে উত্তরাধিকার হয়ে আসা সাহসের গল্প। এটা গ্রামের পুকুর থেকে সমুদ্র জয়ের গল্প। এটা প্রমাণ, স্বপ্ন বড় হলে—জল, শীত, জেলিফিশ—কিছুই থামাতে পারে না একজন সত্যিকারের যোদ্ধাকে।
মাহফিজুর রহমান সাগরের এই সাফল্য যেন আরেকবার মনে করিয়ে দেয়—বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকেও বিশ্বজয় সম্ভব। শুধু প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা, প্রতিভা লালন, আর একফোঁটা সাহস।
ইংলিশ চ্যানেলের হিমশীতল জলরাশি ভেদ করে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা যেদিন বাতাসে ওড়ে—সেদিনই বুঝি জন্ম হয় এক সত্যিকারের বিজয়ের গল্প। ছোটবেলার সেই গ্রামের পুকুর থেকে শুরু হয়েছিল যাত্রা—আর আজ মাহফিজুর রহমান সাগর পাড়ি দিয়েছেন বিশাল ইংলিশ চ্যানেল। জলের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে শুধু সাঁতরেই নয়, তিনি পাড়ি দিয়েছেন স্বপ্ন, সংগ্রাম আর সাফল্যের পথও।
মাহফিজুর রহমান সাগরের মা নিলুফা বেগম বলেন, আজকে যদি তার বাবা বেঁচে থাকতেন তাহলে অনেক খুশি হতেন। এটা জয়ের স্বার্থকতা ফুটে উঠত। বছর দুই হলেন সে মারা গিয়েছে। আজকে ছেলের এতোবড় সাফল্যে বুক ভরে যাচ্ছে। আপনারা সবাই ছেলেটির জন্য দোয়া করবেন। ছেলে যেন মানুষের মত মানুষ হয়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে পারে।
আমার ছেলে ছোট বেলা থেকে খুবই মেধাবী ছিল। ওর বাবার অনুপ্রেরণায় আজকে সে সাঁতার শিখছে। তার বাবা মুক্তিযুদ্ধ করেছে দেশের মানুষের মুক্তির জন্য। আমার ছেলেও যেন মানুষের জন্য কাজ করতে পারে।
পাবনার জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ মফিজুল ইসলাম বলেন, আমরা খুবই গর্ববোধ করছি ছেলেটি ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ায়। সে আগামীতে আরও বড় কিছু হোক এই শুভ কামনা থাকল।
এর আগে, ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়েছেন বাংলাদেশের তিনজন সাঁতারু। ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রমকারী প্রথম এশীয় সাঁতারু ব্রজেন দাস। ১৯৫৮ থেকে ১৯৬১ সালের মধ্যে মোট ছয়বার চ্যানেলটি অতিক্রম করেন তিনি।
1 month ago | [YT] | 0
View 0 replies
Rudrowaves
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করে প্রথম বিসিএসেই প্রশাসন ক্যাডারে ১৭তম স্থান অধিকার করেছেন শিব্বির আহমেদ।
1 month ago | [YT] | 0
View 0 replies
Rudrowaves
2 months ago | [YT] | 1
View 0 replies
Rudrowaves
🎯 এ যেন ‘রবার্ট ব্রুস’ ৭ বারের চেষ্টায় বিসিএস ক্যাডার!
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে পড়াশোনা করেছেন রিয়াজ উদ্দিন খান। ছয়বার বিসিএস পরীক্ষায় ভাইভা দিয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে না পারলেও সপ্তমবারের চেষ্টায় ৪৩তম বিসিএসে পেয়েছেন শিক্ষা ক্যাডার। তাই তো বন্ধুবান্ধব নাম দিয়েছে ‘রবার্ট ব্রুস’। সত্যিই তো! রবার্ট ব্রুসও সাতবারের চেষ্টায় রাজ্য জয় করেছিলেন।
শুরুটা ২০১৩ সালে। রিয়াজ তখন স্নাতক চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। বহুজাতিক কোম্পানিতে চাকরি করার ইচ্ছা থাকলেও বন্ধুবান্ধবদের বিসিএসের প্রস্তুতি নিতে দেখে সিদ্ধান্ত নেন—তিনিও অংশ নেবেন। শুরু করেন প্রস্তুতি। ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে নন-ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে কিশোরগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ে যোগ দেন। তবে লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য তাঁর চেষ্টা চলতে থাকে। টানা কয়েকবার নন–ক্যাডার সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর বন্ধুরা মজা করে ডাকতে শুরু করেন ‘ফাদার অব নন-ক্যাডার’। শুনতে অবশ্য খারাপ লাগত না। তবে ‘এতবার পরীক্ষা দিয়েও ক্যাডার হতে পারলেন না!’ স্থানীয় মানুষজনের এমন তীর্যক কথাও তাঁকে শুনতে হয়েছে।
কিশোরগঞ্জের পশ্চিম জগৎচর গ্রামের ছেলে রিয়াজ। ছোটবেলা থেকেই উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল, তবে নিয়তি পক্ষে ছিল না। রিয়াজ বলেন, ‘অনেক সংগ্রাম করে পড়াশোনা করেছি। একসময় সচ্ছল মধ্যবিত্ত পরিবার ছিল। কিন্তু বড় বোনের বিবাহবিচ্ছেদের মামলা চালাতে গিয়ে প্রচুর টাকা দিতে হয়েছে। বৃদ্ধ বাবার উপার্জন না থাকায় বিক্রি করতে হয়েছে সম্পত্তিও।’ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে পড়ালেখা চালিয়েছেন রিয়াজ উদ্দিন। অর্থনৈতিক সংকট, ব্যক্তিগত জীবনের নানা টানাপোড়েনে একসময় আত্মহত্যার কথাও মাথায় এসেছিল। রিয়াজ বলেন, ‘২০১৬ সালে চরম হতাশায় ভুগতে শুরু করেছিলাম। একপর্যায়ে আত্মহত্যার কথাও ভেবেছি। তবে পরিবার ও বিচ্ছেদের শিকার বোনের দিকে তাকিয়ে সেটা করতে পারিনি।’
নিজের সঙ্গে লড়াই করে চেষ্টা চালিয়ে গেছেন রিয়াজ। তাঁর ভাষ্য, ‘ইচ্ছা ছিল পুলিশ হয়ে নারীদের অধিকার আদায়ে কাজ করব। সমাজে নানাভাবে হেয় হয় নারীরা। বিভিন্ন অত্যাচারের শিকার হয়েও বিচার পায় না। তাই একটা সুন্দর সমাজ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে চেয়েছি সব সময়।’ পুলিশ হতে না পারলেও এখন নিজ অবস্থান থেকেই নারীর অধিকার রক্ষায় কাজ করতে চান তিনি। বলছিলেন, ‘যেহেতু শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দেব, আলোকিত মানুষ গড়ার জন্য কাজ করব। শিক্ষায় নারীদের এগিয়ে নিতে যথাসাধ্য চেষ্টা করব। মূল্যবোধ ও নৈতিকতা চর্চায় আমার শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করব।
2 months ago | [YT] | 0
View 0 replies
Rudrowaves
নাম উল্লাস পাল। ৪৪তম বিসিএসের ফলাফলে প্রশাসন ক্যাডার হয়েছেন। জন্মগতভাবেই শারীরিক প্রতিবন্ধী। কিন্তু শিক্ষাজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য প্রতিবন্ধী কোটা নেননি।
এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়েছেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় ৪৬৩তম হয়ে ভর্তি হন ব্যবস্থাপনা বিভাগে।
কারো করুণা নিয়ে নয়, সবার সাথে প্রতিযোগিতা করেই ভর্তি হয়েছেন।
জন্মগতভাবেই দুই হাত-পা বাঁকা। অনেক চিকিৎসা করেছেন তার পরিবার কিন্তু স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারেননি। বাবা নিজে তাকে স্কুলে নিয়ে গেছেন, মায়ের স্নেহে নিজের মেধাকে শান দিয়েছেন।
৪০তম, ৪১তম ও ৪৩তম বিসিএসে অংশ নেন নিজেকে প্রস্তুত করতে। ৪০তম পাস করেও কোনো পদ পাননি। অনেকটাই হতাশ হন। ৪১তম বিসিএসে জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর পদে সুপারিশ পান।
পরে ৪৩তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে নড়িয়া সরকারি কলেজে লেকচারার হিসেবে যোগদান করেন। কিন্তু তার স্বপ্ন যেনো তখনো অপূর্ণতা। কারণ তার জীবনের চূড়ান্ত ইচ্ছে প্রশাসন ক্যাডার হওয়া। তার স্বপ্ন ছিল প্রশাসন ক্যাডার হওয়া।
আর সেই স্বপ্ন পূরণ হলো। ৪৪তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েছেন তিঁনি। অভিনন্দন ভাই উল্লাস। জীবন এমনি, নিজের ইচ্ছে আর চূড়ান্ত শক্তিতে নিজেকে এগিয়ে নিতে হয়।
প্রশাসনে বিসিএস ক্যাডার তিনি হননি, হয়েছেন তার মা-বাবা। পরিবারে কত রকমের কথা শুনতে হয়েছে, কাছের মানুষদের কাছে। আজ তারা দেখুক, উল্লাস প্রশাসনে বিসিএস ক্যাডার।
সংগৃহীত
2 months ago | [YT] | 0
View 0 replies
Rudrowaves
অর্থাভাবে গার্মেন্টসে চাকরি করেছে,আজ সে
বিসিএস ক্যাডার✅
দিনাজপুরের বীরগঞ্জের মো. সইমুদ্দিন ও মোছা. তহমিনা বেগম দম্পতির বড় সন্তান মো. তমিজ উদ্দিন। মেধাবী হলেও টানাপোড়েনের সংসারে ছোটবেলা থেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ঝরে পড়ার শঙ্কায় থাকতে হতো। মাধ্যমিকের পর সেই শঙ্কা অনেকটা বাস্তবে পরিণত হয়েছিল। পড়াশোনা ছেড়ে তাঁকে গার্মেন্টসে যোগ দিতে হয়। কিন্তু থেমে যাননি তমিজ। সব বাধা পেরিয়ে তিনি এখন বিসিএস ক্যাডার। ৪১তম বিসিএস থেকে শিক্ষা ক্যাডারে কর্মরত।
এই বাধা ডিঙাতে যারা সহযোগী ছিলেন বা আছেন, তাঁদের এই আনন্দের ক্ষণে স্মরণ করেছেন তমিজ। তিনি বলেন, জীবনে দরিদ্রতার সঙ্গে সংগ্রাম করে আল্লাহর অশেষ রহমতে আজকে আমি ৪১তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডার হয়েছি। আল্লাহর অশেষ রহমত, বাবা-মায়ের দোয়া, শিক্ষক এবং কিছু ফেরেশতাতূল্য মানুষের সহযোগিতায় এত দূর আসা সম্ভব হয়েছে।
তমিজের ভাষ্য, দরিদ্র দিনমজুর বাবার সংসারে ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়ার একটা ভয়ে থাকতেন। কিন্তু ভালো ফলাফল, বৃত্তি ও স্কুলের শিক্ষকদের সহযোগিতায় এসএসসি পর্যন্ত তেমন সমস্যা হয়নি। ২০১৩ সালে মাধ্যমিক পাসের পর তাঁর জীবনে নতুন করে সংগ্রাম শুরু হয়।
এসএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গোল্ডেন এ+ পান। সাথে বৃত্তি। এর পর তাঁর বন্ধুরা সবাই যখন বিভিন্ন নামী কলেজে ভর্তি হচ্ছিলেন, তখন অর্থাভাবে তাঁকে ভর্তি হতে হয় বাড়ির কাছে খানসামা ডিগ্রি কলেজে। বিজ্ঞান বিভাগেই ভর্তি হন। তবে এক মাস না যেতেই বুঝতে আর বাকি থাকে না যে, তাঁর বাবার পক্ষে এত টিউশন ফি দেওয়া সম্ভব না।
ঠিক ওই সময়েই গ্রামের কিছু নেতার চাপে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তমিজের পরিবার বসতভিটা ছাড়তে বাধ্য হয়। এতে তাঁর পড়ালেখার স্বপ্ন প্রায় শেষের পথে চলে যায়। তবুও স্বপ্নটাকে কিছুটা জিইয়ে রাখতে তমিজ কলেজে গিয়ে বিভাগ পরিবর্তন করে মানবিক বিভাগ নিয়ে সেই দিনই ঢাকায় চলে যান।
তমিজ বলেন, ২০১৩ সালের আগস্টে গার্মেন্টসে কাটিং সেকশনে কাজ নিই। শুরু হয় আমার অন্য রকম একটা জগৎ। সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা বা কোনোদিন রাত ৩টা পর্যন্ত কাজ। এভাবেই চলতে থাকে। ওই সময় প্রায় রাতেই কান্না করতাম। আর সৃষ্টিকর্তার কাছে নালিশ করতাম, আমার ভাগ্যে যদি এটাই রেখেছ, তবে এসএসসিতে এত ভালো ফলাফল কেন?
এর পর ২০১৪ সালের নভেম্বরে কলেজের টেস্ট পরীক্ষা হয়। কলেজের টেস্ট পরীক্ষার আগে সুযোগ বুঝে গার্মেন্টসের বসকে সব বলেন তমিজ। তিনি সব শুনে তমিজকে গ্রামে গিয়ে পরীক্ষা দিতে বলেন।
সেই সময়ের কথা স্মরণ করে তমিজ বলেন, ‘কিন্তু আমার চাকরি হারানোর ভয় ছিল। তাই তাঁর কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি নিই যে, আমাকে পরীক্ষার পরে আবার কাজে নিতে হবে। তিনি ভালো মানুষ ছিলেন। হেসে বলেন, “তোমার জন্য আমার দরজা সবসময় খোলা।” ভরসা পেয়ে ২০১৪ সালের অক্টোবরে টেস্ট পরীক্ষার এক মাস আগে গ্রামে চলে যাই। মন দিয়ে পড়াশোনা করি। টেস্ট পরীক্ষার ফলাফলে আমি তৃতীয় হই। আমার আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। আরও বেশি পরিশ্রম করি। বোর্ড পরীক্ষায় এ+সহ আবারও বৃত্তি পাই।’
বৃত্তি তো মিলল। কিন্তু অভাব তো যায় না। তমিজ বলছেন, ‘ভেবেছিলাম ডিগ্রিতে ভর্তি হয়ে আবার গার্মেন্টসে চলে যাব। কিন্তু আমার বন্ধু জাফর, বেলাল, গণির মাধ্যমে এসব কথা জানতে পেরে বোর্ড পরীক্ষা চলাকালীন আমার কাছে ছুটে আসেন ঠাকুরগাঁও সদরের সহকারী শিক্ষা অফিসার মো. মিলন ইসলাম স্যার, মো. সোহেল রানা ভাই, মো. এনাম ভাই। পরীক্ষার কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষা শেষে আমাকে বিভিন্নভাবে সাহস যোগান তাঁরা। পরীক্ষার পর ওনারাই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার জন্য সব ব্যবস্থা করে দেন।’
তমিজ বলেন, ‘মনে মনে একটাই সংকল্প ছিল ভর্তি হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই হব, অন্য কোথাও না। কারণ, সেখানে পড়লে টিউশনি করে চলা যাবে। সে সুযোগ অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে খুব সীমিত। ভর্তি পরীক্ষা দিই। ২০১৫-১৬ সেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে ভর্তির সুযোগ পাই। মাস্টারদা’ সূর্যসেন আবাসিক হলে এটাচ পড়ে। আমার শিক্ষক ও আত্মীয়স্বজনের সহযোগিতায় ভর্তি হই। এর পর ভীষণ আর্থিক সমস্যায় পড়ে যাই। তখন মো. ফেরদাউস হাসান ভাই টিউশনির ব্যবস্থা করে দেন।’
কঠিন সেই সময় যেন তমিজের চোখের সামনে। দৃশ্যের পর দৃশ্যে যেন তিনি নিজেকেই দেখছেন, নিজের লড়াইকে দেখছেন। আর বলে চলছেন, ‘শুরু হয় আমার টিউশন জীবন! ১টা থেকে ২টা, ২টা থেকে ৪টা টিউশনি করি! এভাবে পড়ালেখার পাশাপাশি টিউশনির টাকা দিয়ে চলি, বাসায়ও কিছু পাঠাই। এর পর আর আমাকে পেছনে তাকাতে হয়নি। অনেক চড়াই উৎরাই পার হয়ে ২০১৯ সালে স্নাতক ও ২০২০ সালে মাস্টার্স সম্পন্ন হয়। করোনাকালে বাড়ি গিয়ে নিষ্ক্রিয় না থেকে অনলাইনে টিউশনি চালিয়ে যাই। এর মধ্যে ৪১তম বিসিএস-এ আবেদন করি। এটাই আমার প্রথম বিসিএস ছিল।’
আবেদন তো হলো। আরও অনেকেই করেছেন আবেদন। তমিজ খুব ভালো করে জানেন এই সময়ে বিসিএস শিক্ষিত চাকরিপ্রার্থীদের কতটা আরাধ্য। ফলে আবেদন মানেই যে চাকরি নয়, তা তমিজ জানেন। সাথে এও জানেন বিসিএস ক্যাডার হতে হলে এক দীর্ঘ যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। কিন্তু এর মাঝের সময়টা চলবে কী করে? ফলে আবার ঢাকায় তমিজ। কারণ, মাঝের এই সময়টার জন্য টিউশনিই যে শুধু ভরসা।
তমিজ বলছেন, ‘করোনার পর অবস্থা কিছুটা স্বাভাবিক হলে ঢাকায় যাই। তখনো হল বন্ধ। মেসে থেকে সরাসরি টিউশনি শুরু করি। ওই সময় প্রায় দুপুর ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত টিউশনি করিয়েছি। বাকি সময়টুকু চাকরির প্রস্তুতি। ২০২১ সালের মার্চ মাসে ৪১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশ নিই। উত্তীর্ণ হই। তারপর ২০২১ সালের ডিসেম্বরে ৪১তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা হয়। সেখানেও উত্তীর্ণ হই।’
এ পুরো সময়টায় তমিজ কিন্তু নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন না। দারিদ্র্য, পরিবারের প্রতি দায়বোধ-এ সবই তাঁকে ছুটিয়ে বেড়িয়েছে। নিজের তৈরি পথে চলার জন্য হাত ধরে নিয়ে আসেন ছোট ভাইকে। তমিজের ভাষ্যে, ‘এ সময় ছোট ভাই রাজুকে ঢাকায় এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার জন্য পড়াশোনায় সাহায্য করি। খরচ বেড়ে যায়। টিউশনিও বাড়াতে হয়। জমানো কিছু টাকা ছিল সেটাসহ বাড়ি থেকেও কিছু নিয়ে ওর জন্য খরচ করি। সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পায়। পরিবারের সবার সিদ্ধান্তে তাকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি করাই। সে এখন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।’
যুক্ত হতে থাকে সাফল্যের পালক। মাঝে গতানুগতিক টিউশন জীবনে কিছুটা ছেদ পড়ে। প্রাইমারি স্কুলে সহকারী শিক্ষক পদে চাকরি হয় তমিজের। বিসিএসে জয়েন করার আগে বীরগঞ্জের ১ নম্বর শিবরামপুর ইউনিয়নের মুরারীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি করেন।
কিন্তু এই সাফল্য তমিজকে আরও বেশি অতীত মনে করিয়ে দিচ্ছে। আরও বেশি করে তাঁর মনে পড়ছে সেইসব মানুষদের, যারা তাঁকে নানা বাধা ডিঙোতে সহায়তা করেছেন। তিনি চান, একদিন তিনিও অন্যদের সহায় হয়ে উঠতে পারবেন। তমিজ বলেন, ‘এ পর্যন্ত আসার ক্ষেত্রে যারা আমাকে আর্থিক, মানসিকভাবে সাহস যুগিয়েছেন তাদের সকলের প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ। আমি সততার সাথে আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে চাই এবং সমাজে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য কিছু করতে পারলে নিজেকে ধন্য মনে করব।’
2 months ago | [YT] | 0
View 0 replies
Load more