I'm moving forward little by little. But this journey is not alone, holding your hand and taking my Shiuli with me, I will reach my destination one day.


Tanmoy Dey

Harvinder Singh এইবারের Paris Paralympics 2024 এর Mens Para Archery Recurve এ Gold 🥇 🥇 🥇 জিতলেন। এই Paris Paralympics এ এটি তার প্রথম এবং ভারতের চতুর্থ সোনার পদক। তিনি তার প্রতিপক্ষকে ৬-০ তে হারিয়ে এই খেতাব জিতলেন। তিনি 2020 Tokyo Paralympics এ ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিলেন। তিনি Asian Para Games 2018 (Jakarta) তে এই একই ইভেন্টে সোনার🥇🥇 পদক জেতেন এবং Asian Para Games 2022 (Hangzhou) এ ব্রোঞ্জ🥉🥉 পদক জিতেছেন। তার এই পদকের উপর ভর করে ভারত বর্তমানে মেডেল তালিকায় ১৫ তম স্থানে উঠে এলো।
2024 সালে চেক প্রজাতন্ত্রে (বর্তমান চেচিয়া) আয়োজিত World Archery Oceania এবং Para Grand Prix দুটোতেই এই ইভেন্টে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন।
হরিয়ানার কৈথালের এই Archer 🏹 প্রথম পুরুষ ভারতীয় হিসেবে এই ইভেন্টে সোনার 🥇🥇🥇🥇পদক জিতলেন। একই সঙ্গে এটি ছিল এইবার Paris Paralympics Archery তে ভারতের প্রথম সোনার পদক।
বর্তমানে বিশ্বের ১২ নম্বর Archer হরবিন্দর সিংয়ের জন্য ভারতের জাতীয় পতাকাকে সবার উঁচুতে উঠবে, ন্যাশনাল Anthem বাজবে প্যারিসে।
এই তরুণ ক্রীড়াবিদের জন্য রইলো অনেক শুভেচ্ছা। তিনি ভবিষ্যতে আরো খেতাব অর্জন করবেন এই আশা রাখি। ভারত সরকার এইবার তাকে খেলরত্ন কিংবা অর্জুন পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করলে যথাযথ হবে।
🥇🥇🥇🥇🥇🥇🥇🥇🥇🥇🥇🥇🥇🥇🥇🥇🥇🥇
🏹🏹🏹🏹🏹🥈🏹🏹🏹🏹🏹🏹🏹🏹🏹🏹🏹🏹

#ParalympicGamesParis2024 #খেলাধুলো #archerychallenge #ParisOlympics2024 #Paralympics2024 #sportmotivation #india #ShareThisPost #sports #Paris2024 #ParisParalympics #ParisOlympics #olympics2024 #france #game #harvindersingh #SportsNews #sportswear

1 year ago | [YT] | 8

Tanmoy Dey

Who will win this 2024 Parliamentary General Election?

1 year ago | [YT] | 15

Tanmoy Dey

পায়েলের কোমরের নীচ থেকে কার্যত অসাড়। নিজে স্নান করতে পারে না, চলাফেরা খাবার খাওয়া- সবেতেই প্রয়োজন মাকে। তবে রুগ্ন হাতে কোনওরকমে কলম চালাতে শিখেছে পায়েল। আর তাতেই বাজিমাত।

প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে উচ্চ মাধ্যমিকে অভাবনীয় ফল করেছে বালুরঘাটের কামারপাড়ার পায়েল পাল। ৮০ শতাংশ বিশেষ ভাবে সক্ষম হওয়ার পরও এবারের উচ্চ মাধ্যমিকে সে ৪৬০ নম্বর পেয়েছে।

মায়ের কোলে চেপেই স্কুলে যায় উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে গিয়েছিল পায়েল। ফল প্রকাশের পর তাক লাগিয়েছে পায়েল। এবারে সে ৯২ শতাংশ নম্বর পেয়েছে। আগামীদিনে ব্যাঙ্ক কর্মী হতে যায় পায়েল। আপাতত ভূগোল নিয়ে স্নাতকোত্তর পড়তে চায় সে। মেয়ের সাফল্যে আনন্দিত বাবা-মা।

মনের জোরে হেরে যায় যে প্রতিবন্ধকতাও, তা আজ প্রমাণ করলেন পায়েল। টিভি নাইন বাংলা এই দুর্দান্ত অকল্পনীয় সাফল্যের কাহিনী রিপোর্ট করেছে।

1 year ago | [YT] | 18

Tanmoy Dey

Suprobhat
Joy Maa 🌺🌺

2 years ago | [YT] | 15

Tanmoy Dey

অমিতাভ বচ্চন তাঁর জীবনীতে লিখেছেন.....
"আমি তখন ক্যারিয়ারের তুঙ্গে। একদিন প্লেনে করে যাচ্ছিলাম । খুব সাধারণ শার্ট আর প্যান্ট পরিহিত একজন ভদ্রলোক আমার পাশে বসেই যাচ্ছিলেন৷ দেখে উনাকে একজন শিক্ষিত এবং মার্জিত মধ্যবিত্ত মানুষ মনে হয়েছিল । অন্য সহযাত্রীরা আমায় চিনতে পেরে খুব উৎসাহিত হয়ে অটোগ্রাফ নিচ্ছে। কিন্তু পাশে বসা ভদ্রলোককে লক্ষ্য করলাম উনার কোন ভ্রুক্ষেপ নেই ।

উনি একমনে একটা খবরের কাগজ পড়ছিলেন আর মাঝে মাঝে জানালার বাইরে তাকিয়ে কি যেন ভাবছিলেন । চা পরিবেশন করা হলো, ঠোঁটের আগেই থ্যাঙ্কস লেগেই আছে। আমাকে পাত্তাই দিচ্ছে না।

আমার উনার প্রতি কৌতূহল বেড়েই চলছিল । তাই উনার সাথে কথা বলার জন্য উনার দিকে তাকিয়ে হাসলাম । উনিও একটা সৌজন্যমূলক হাসি ফিরিয়ে দিয়ে বললেন,'হ্যালো', কিছু সৌজন্যমূলক কথোপকথন শুরু হলো ।"

"আমি নিজে থেকে সিনেমা প্রসঙ্গ উত্থাপন করলাম ।
জিজ্ঞাসা করলাম :' আপনি সিনেমা দেখেন ?'
উনি বললেন, 'কখনো-সখনো ।
শেষ যে সিনেমাটা দেখেছি...
হ্যাঁ...তাও প্রায় এক বছরের বেশি হয়ে গেছে ।'
বললাম: ' আমি ওই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতেই আছি ।'
উনি উৎসাহিত হয়ে বললেন ' দারুণ ব্যাপার!
তা আপনি কী করেন ?'
বললাম, ' আমি একজন অভিনেতা ।'
প্রত্যুত্তরে বললেন 'দারুণ! '
ব্যস! ওই পর্যন্তই...

প্লেন, ল্যান্ড করার পরে আমি ভদ্রলোকের দিকে করমর্দনের জন্য হাতটা বাড়িয়ে দিয়ে বললাম:
'আমার নাম অমিতাভ বচ্চন'

উনি মাথা নত করে আমার হাতটা ঝাঁকিয়ে দিয়ে বললেন:'আপনার সাথে পরিচিত হয়ে দারুণ লাগল !
আমার নাম জে.আর.ডি. টাটা(Jehangir Ratanji Dadabhoy Tata, chairman of TATA Group)'

চমকে উঠলাম আমি !

ওই দিনের ঘটনা থেকে একটা বিষয় শিখলাম:
"যত বড়োই হই না কেন, আমার থেকেও বড়ো কেউ না কেউ আছে, কিন্ত তাঁর দৃষ্টিটা সর্বদাই মাটির দিকে !"

শিক্ষনীয়: গাছ যতই বড়ো হয়,
ততই মাটির দিকে ঝুঁকে যায়
(সংগৃহীত)

2 years ago | [YT] | 19

Tanmoy Dey

সবসময় হিন্দু ধর্মকে ছোট করে দেখানো এক বিদেশিনী মহিলা সাংবাদিক একবার স্বামী বিবেকানন্দকে জিজ্ঞাসা করলেন :-
মহিলা : *" ইসলাম ধর্মের প্রবর্তন কে করেছেন ?"*
স্বামীজী: *প্রফেট মহম্মদ .*
মহিলা : *খ্রিস্টান ধর্মের প্রবর্তন কে করেছেন ?*
স্বামীজী : *জেসাস ক্রাইষ্ট .*
মহিলা: *হিন্দু ধর্মের প্রবর্তন কে করেছেন ?*
স্বামীজী চুপ করে রইলেন।
স্বামীজীর উত্তর না পেয়ে কিছুক্ষণ পর মহিলা সাংবাদিক বললেন: - হিন্দু ধর্মের কোন প্রবর্তক নেই, অতএব হিন্দু কোনও ধর্ম-ই নয়।
এবার স্বামীজী বললেন: *আপনি একদম ঠিক বলেছেন। হিন্দু কোনও ধর্ম নয়, এটা বিজ্ঞান !*
মহিলা সাংবাদিক অবাক হয়ে স্বামীজীর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলেন।
এবার স্বামীজী ওই মহিলা সাংবাদিককে প্রশ্ন করলেন,
স্বামীজী : *পদার্থবিজ্ঞান কে আবিষ্কার করেছেন ?*
মহিলা : *কোনও একজন নয় ।*
স্বামীজী: *রসায়ন বিজ্ঞান কে আবিষ্কার করেছেন ?*
মহিলা: *কোনও একজন নয়।
স্বামীজী : *জীববিজ্ঞান কে আবিষ্কার করেছেন ?*
মহিলা : *কোনও একজন নয় ।
এবার স্বামীজী বললেন, *আপনার সব কথা ঠিক, আসলে অনেক মানুষ, অনেক বিজ্ঞানী সময়ে সময়ে নিজেদের আবিষ্কারের অবদান রেখে বিজ্ঞানের শাখাগুলি সৃষ্টি করে গেছেন।
হিন্দু ধর্ম হল সেই বিজ্ঞান যা বহু বছর ধরে সাধু-সন্ন্যাসী-জ্ঞানী-মহাত্মাদের সঠিক মার্গ দর্শনে ক্রমশ বেড়ে উঠেছে*।
ইসলাম ধর্মের একটাই ধর্ম গ্রন্থ - কোরান* ।
খ্রিস্টান ধর্মেরও একটাই ধর্ম গ্রন্থ - বাইবেল*।
*কিন্তু হিন্দুধর্মের উপর এত ধর্মগ্রন্থ আছে, তাতে একটা লাইব্রেরি হয়ে যাবে।
তাই হিন্দু ধর্ম হল একটা বিজ্ঞানসম্মত ধর্ম যার নাম সনাতন ধর্ম , শাশ্বত চিরন্তন ধর্ম !


ওঁ নমঃ ভগবতে রামকৃষ্ণায়।।
জয় মা।।
জয়তু স্বামীজী।।
ওঁ তৎসৎ।।

2 years ago | [YT] | 29

Tanmoy Dey

ইহুদীরা কি "অভিশপ্ত".....?‌🌑🌑

কয়েক বছর আগে ইরানের ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ খোমেইনী সমগ্র ইসলামী দুনিয়া কে অনুরোধ করেছিলেন "Boycott anything and everything that originates with the Jewish people."

এবারে দেখে নিন বিজ্ঞান সাহিত্য ও মানব সভ্যতার উৎকর্ষ সাধনে "অভিশপ্ত" ইহুদী জাতির অবদান । এঁদের এই অবদান ছাড়া মানুষ পড়ে থাকতো কয়েক শতাব্দী পিছনে।
১) ফিজিক্সএ ৫১ টি নোবেল পুরস্কার (ফিজিক্স নোবেলের ২৬%)
২) কেমিস্ট্রি তে ৩৬ টি নোবেল পুরস্কার (কেমিস্ট্রি নোবেলের ২০%)
৩) মেডিসিন বা ফিজিওলজি তে ৫৫ টি নোবেল পুরস্কার (মেডিসিন নোবেলের ২৬%)
৪) অর্থনীতি তে ২৯ টি নোবেল পুরস্কার (অর্থনীতি নোবেলের ৩৮%)
৫) শান্তিতে (পিস) ৯ টি নোবেল পুরস্কার( পিস্ নোবেলের ৯%)
৬) সাহিত্যে ১৪ টি নোবেল পুরস্কার ( সাহিত্য নোবেলের ১৩%)
সারা পৃথিবীতে ইহুদি জনসংখ্যা মাত্র ১.৫ কোটির কিছু বেশী (প্রায় ৭০-৮০ লক্ষ ইসরায়েলে, বাদবাকী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে)।

ইসরায়েলের এক সাংবাদিক প্রশ্ন তুলেছিলেন, খোমেইনীর কথা মত সমগ্র মুসলিম দুনিয়া তো দূরের কথা, শুধুমাত্র ইরান যদি বয়কট করে "anything and everything of Jewish people " তাহলে ইরানের শিশুদের পোলিও টিকা নেওয়া বন্ধ করতে হবে কারণ এটা এক ইহুদী বিজ্ঞানীর আবিস্কার। ইরানের মুসলমানদের সিফিলিস এবং গনোরিয়া রোগ এবং খোমেইনীর হৃদযন্ত্র এবং ডায়াবেটিস রোগের চিকিৎসা হয় ইহুদী বিজ্ঞানীদের আবিস্কার করা ওষুধে।ডিপথেরিয়া থেকে কানের ব্যাথা, ব্রেন ড্যামেজ থেকে মনবিজ্ঞানের চিকিৎসা, ইনসুলিন থেকে স্ট্রেপ্টোমাইসিন সবকিছুই ইহুদী বিজ্ঞানীদের আবিস্কার। মেডিসিনে ৫৫ টি নোবেল পুরস্কার তারা এমনি এমনি পায়নি।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধে রাশিয়া ছাড়া আর যে দেশটি ভারত কে সাহায্য করেছিল সেটি ছিল ইসরায়েল এবং অনেক মুসলিম দেশের আগে ৪ঠা ফেব্রুয়ারী ১৯৭২ সালে ইসরায়েল বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশের স্বীকৃতি দেয় এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করতে চায়। কিন্তু বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খোন্দকার মোশতাক আহমেদ চিঠি দিয়ে ইসরায়েল এর স্বীকৃতি প্রত্যাখ্যান করেন।

বাংলাদেশের কাছে ইসরায়েল এর স্বীকৃতি তো দূরের কথা, একজন বাংলাদেশী ইসরায়েল ভ্রমণ করতেও পারে না। ২০০৩ সালে বাংলাদেশী সাংবাদিক সালাহ চৌধুরীকে ইসরায়েল ভ্রমণের অপরাধে সাত বছরের জন্য জেলে পাঠানো হয়। যে পাকিস্তান ১৯৭১ এ ৩০ লক্ষ জেনোসাইড করেছিল তার সাথে বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক রাখে কিন্তু ইসরায়েলের সাথে নয়, যারা মুক্তিযুদ্ধে সাহায্য করেছিল এবং স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে একদম প্রথম দিকে ছিল।

ভারতের সাথে ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয় ১৯৯২ সালে। ভারত স্বাধীন হওয়ার দু-তিন বছর পর বিশ্ববিখ্যাত ইহুদী বিজ্ঞানী আইনস্টাইন নেহেরুকে অনুরোধ করেছিলেন ইসরায়েল এর সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করার, কিন্তু নেহেরু থেকে ইন্দিরা গান্ধী সবারই দ্বিধা ছিল, কারণ এতে নাকি ভারতের মুসলমানদের মধ্যে বিরূপভাব তৈরী হবে এবং মধ্যপ্রাচের আরব দেশগুলির সাথে সম্পর্ক খারাপ হবে। ভারতের অর্থনৈতিক সংস্কারের রূপকার পি ভি নরসীমা রাও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এই সব ভন্ডামি তুচ্ছ করে ইসরায়েলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। সেই থেকে ইসরায়েল ভারতের এক অকৃত্রিম বন্ধু দেশ। ভারত এবং ইসরায়েলের সম্পর্ক স্থাপনে ইসরায়েলের যতটা না লাভ হয়েছে, ভারত লাভবান হয়েছে তার কয়েকগুন। বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি, কৃষিক্ষেত্র, মহাকাশ গবেষণা, ডিফেন্স টেকনোলজি এবং ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস এ ইসরায়েলি সহায়তা ভারতকে সমৃদ্ধ করেছে এবং করছে। ১৯৯৯ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে কার্গিল যুদ্ধে ইসরায়েল একমাত্র দেশ যারা ভারতকে অত্যাধুনিক রাডার এবং স্যাটেলাইট দিয়ে সাহায্য করেছিল।

ছোট্ট একটি দেশ, জনসংখ্যা মাত্র ৭০-৮০ লাখ। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল তৈরী হওয়ার সাথে সাথে তাকে একযোগে আক্রমণ করে পাঁচ-পাঁচটি আরবদেশ -ইজিপ্ট, লেবানন, সিরিয়া জর্ডন এবং ইরাক। জন্মের বছরেই তার মৃত্যু হওয়ার কথা। কিন্তু শিশু কৃষ্ণের কালিয় দমনের মত ইসরায়েল পর্যুদস্ত করে তার থেকে অনেক বড় আক্রমণকারী দেশগুলোকে।

১৯৬৯ সাল এবং Three NO 's -War of Attrition
"NO peace , NO recognition , NO negotiation - destroy the State of Israel" - ৬৩০ গুন্ আয়তনে বড় আরব দেশগুলি রেজোলিউশন পাশ করলো -ইসরাইলের ধ্বংসই একমাত্র কাম্য। ইজিপ্টের ক্যারিশম্যাটিক প্রেসিডেণ্ট Gamel Abdel Nasser রণহুংকার দিয়ে সাথের আরব দেশগুলিকে নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লেন ইসরায়েলের ওপরে।

যুদ্ধ স্থায়ী হল মাত্র ছ-দিন। আবার শোচনীয় পরাজয়। ইজিপ্টের বিমানগুলিকে সম্পূর্ণ ভাবে ধ্বংস করে দিল ইসরায়েল। পরাজয়ের গ্লানিতে পরের বছর মাত্র ৫২ বছর বয়সে হৃদরোগে মৃত্যু হয় গামেল আব্দেল নাসেরের।

৬ই অক্টোবর ১৯৭৩। আবার আক্রান্ত ইসরায়েল। দিনটা ছিল "ইয়ম কিপ্পুর " -ইহুদী ক্যালেন্ডারে এক পুন্য দিন। উৎসবের আমেজে মত্ত ইসরায়েলি সেনাবাহিনী প্রস্তুত ছিল না একযোগে ১২ টি আরবদেশের হটাত আক্রমনের। ঘুরে দাঁড়াতে তাদের সময় লাগলো দু-তিনদিন। ইতিহাসে এটি "ইয়ম কিপ্পুর" যুদ্ধ নামে বিখ্যাত। যুদ্ধের ফলাফল আপনারাই অনুমান করে নিন।

এবার দেখে নিন গাজা'র গণহত্যার কারণ....
একাধিক আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সাইড এফেক্ট এই গাজার অশান্তি। যেকোন সম্পর্কই খারাপ হয় একে অন্যের প্রতি অবিশ্বাস থেকে। আগেকার PLO এবং এখনকার HAMAS এবং ইসরায়েল কেউ কাউকে জায়গা ছেড়ে দিতে রাজি নয়। ইসরায়েল নিজের বাহুবলে বলীয়ান আর HAMAS কে সাহায্য করে আরব দেশগুলি। HAMAS প্যালেস্টাইনের জনবহুল জায়গা থেকে মিসাইল ছোঁড়ে ইসরায়েল লক্ষ্য করে, টেকনোলোজি তে বলীয়ান ইসরায়েলের আছে মিসাইল শিল্ড -"Iron Dome". , তারা প্রতিহত করতে পারে সেই আক্রমণ। উল্টা মার দেয় ইসরায়েল। যুদ্ধবিমান দিয়ে বম্বিং করে আসে হামাস অধ্যুষিত জায়গায়। ফলাফল, হাজার হাজার নিরীহ প্যালেস্টাইনবাসীর মৃত্যু যদিও ইসরায়েল রক্ষা করতে সমর্থ হয় তার নিজের দেশের নাগরিকদের।

আরবদের মানসিকতা এখনো সেই "তিন না " এর নির্ভরশীল -"নো পিস, নো রিকগনিশন, নো নেগোশিয়েশন - ডেসট্রয় দ্য স্টেট অফ ইসরায়েল।"
ইসরায়েলের জবাব "....if we were to lay down our arms today, there will be no Israel tomorrow." সুতরাং যুদ্ধ চলছে, চলবে।

ইসরায়েল কি ইহুদীদের দখল করা দেশ?
প্রায় ৩৩০০ বছর আগে পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন শহর জেরুজালেম এ বাস করতো আজকের ইহুদীদের পূর্ব পুরুষেরা। হিব্রু ভাষী, একেশ্বর বাদী ইহুদীদের ধর্ম ছিল জুদাইসম (judaism ), বিশ্বে এটাই প্রথম আব্রাহামিক রিলিজিয়ন, প্রতিবেশী ছিল প্যাগান পূজারী আরবরা। ইসলামের আরবে আসতে তখন অনেক দেরি। প্রায় ২০০০ বছর আগে জেরুজালেম দখল করে রোমানরা। ইহুদীরা বিতাড়িত হয় স্বভূমি থেকে এবং ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। বিভিন্ন সময়ে "ল্যান্ড অফ ইসরায়েল" কে শাসন করে রোমান, খ্রীষ্টান এবং মুসলমান শাসকরা।জেরুজালেম একই সাথে জুদাইসম, ক্রিশ্চিয়ানিটি, ইসলাম, সামারিটানিজম, দ্রুজ এবং বাহাই ধর্মের পবিত্র স্থান। পরে এটি দখলে আসে অটোম্যান সাম্রাজ্য এবং ব্রিটিশদের। গত শতাব্দীতে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে এবং চলাকালীন জার্মানীতে হিটলারের হাতে নিহত হয় প্রায় ৬০ লক্ষ ইহুদী, ইতিহাসে যা "হলোকাস্ট" নামে পরিচিত।

অসংখ্য ইহুদী জার্মানী থেকে পলায়ন করে চলে আসে আমেরিকা এবং ব্রিটেনে ।যুদ্ধে জার্মানীর পরাজয়ের পর আমেরিকা, ব্রিটেন এবং আরো বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকে ইহুদীরা তৈরী করে আজকের স্টেট অফ ইসরায়েল, ১৯৪৮ সালে। মানে "ফ্রম ল্যান্ড অফ ইসরায়েল" টু "স্টেট অফ ইসরায়েল"- মাঝে সময় কেটে গেছে ৩০০০ বছর বা তারও বেশী সময় ।

কিন্তু এই স্টেট অফ ইসরায়েল তৈরী করলো এক ভীষণ সমস্যা। ইসলামিক আরব দেশগুলির মাঝে এক আন-ইসলামিক jewish স্টেট মেনে নিতে পারে নি কোন আরব দেশই।১৯৪৮ সালেই তারা আক্রমণ করে এই নব গঠিত দেশকে। সেই যুদ্ধের কথা আগেই লিখেছি। সেই যুদ্ধের ট্রাডিশন সমানে চলছে -জোর যার মুলুক তার -আমাঝখানে মারা পরে নিরীহ মানুষ, পৃথিবীর বাস্তবতা এটাই।

বর্তমান পৃথিবীতে প্রায় ১৫০-১৬০ কোটি মুসলমান এবং প্রায় ১০০-১১০ কোটি হিন্দু বাস করে। গত ১০০ বছরে জনসংখ্যা বাড়ানো ছাড়া এই বিশাল জন গোষ্ঠীর অবদান কি? শিল্পে, পদার্থ বিজ্ঞানে, রসায়নে, মেডিক্যাল সায়েন্সে এবং অর্থনীতিতে এদের অবদান প্রায় শূন্যের কাছাকাছি। কেউ বর্তমান যুগের পাঁচটা জীবনদায়ী ওষুধের নাম বলতে পারবে না, যা এরা আবিস্কার করেছে। কজন নোবেল পুরস্কার পেয়েছে হাতের কড়ে আঙ্গুলে গুনে বলে দেওয়া যায়। হিন্দুরা ব্যস্ত ছিল জাতপাত নিয়ে আর মুসলমানরা চিন্তিত কবরে শায়িত মৃত ব্যাক্তির ভবিষ্যত নিয়ে। সেই তালে ইহুদীরা আবিস্কার করে নিয়ে গেলো সবকিছু।

এরপরও অসুস্থ মস্তিষ্ক এর অধিকারী যারা ইহুদীদের "অভিশপ্ত" বলবেন তাদেরকে বলি: আপনারা অসুস্থ হওয়ার পর ডাক্তার ডাকতে যে মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন তার আবিস্কারক ইসরায়েলের এক ইহুদী ইঞ্জিনিয়ার। তার নামটা আর লিখলাম না, জানতে নেটে সার্চ করুন। ও হ্যাঁ, সার্চ ইঞ্জিনটাও এক ইহুদী বিজ্ঞানীর আবিস্কার। যে ফেসবুকে নিত্য ইহুদীদের গালাগাল দেন, সেই ফেসবুকের আবিস্কর্তা মাত্র ৩০ বছরের এক নাস্তিক ইহুদী যুবক, তার নাম মার্ক জুকেরবার্গ। তারা “অভিশপ্ত” জাতই বটে !
সংকলনে ✍🏻©️ স্বপন সেন
কৃতজ্ঞতা: ফরিদ আহমেদ

2 years ago | [YT] | 19

Tanmoy Dey

*শ্রী, লক্ষ্মী, ধান্যলক্ষ্মী, ধনলক্ষ্মী এবং বাণিজ্য লক্ষ্মী*
ড. কল্যাণ চক্রবর্তী এবং অরিত্র ঘোষ দস্তিদার।

'শ্রী' এবং 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' কথাটি তো আমরা জানি। কিন্তু 'শ্রী' শব্দের অর্থ কী? আচার্য মহীধরের মতে যাঁর দ্বারা সর্বজনের আশ্রয় হয়, তিনি শ্রী। যাঁর দ্বারা আশ্রিত হই আমরা, তিনিই শ্রী। যাঁকে শ্রী বলা হবে তাঁর ভর্তুকি বা আশ্রয়ের প্রয়োজন হবে না, তিনি অন্যকে স্বনির্ভরতার আশ্রয় দেবেন, আশ্রিতের দুর্গতি দূর করবেন। 'শ্রী' মানে সম্পদ; 'শ্রী' মানে শোভা; 'শ্রী' মানে জ্যোতি। দেবী লক্ষ্মীর যে অসংখ্য নাম রয়েছে, তারমধ্যে সবচাইতে প্রাচীন নাম হচ্ছে 'শ্রী'। ঋগ্বেদে 'শ্রী' শব্দের ব্যবহার আছে। এক বার ছাড়া (সেখানে অর্থ 'সমৃদ্ধি') 'পার্থিব সম্পদ' অর্থে 'শ্রী' শব্দটি কখনোই ব্যবহার হয় নি, 'সৌভাগ্যদেবী' অর্থেও ব্যবহৃত হয় নি। 'শ্রী' শব্দটি ব্যবহৃত হত সৌন্দর্যময় বা শোভাময় বোঝাতে। আর লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বলতে বুঝি ধানের গোলা, গৃহে সংরক্ষিত খাদ্যোপাদান এবং সাত্ত্বিক উপায়ে উপার্জিত ধনরত্ন যা ধানের আবাদে, ব্যবসা-বাণিজ্য করে সংগৃহীত হয়, যার আহরণের মধ্যে একটা কর্মোদ্যোগ ও সম্মান জড়িত থাকে।

বেদ ও পুরাণ অনুসন্ধান করে মনে হয়, 'শ্রী' আর 'লক্ষ্মী' এক দেবী ছিলেন না। আলাদা আলাদা দুই দেবী কালের প্রয়োজনে মিশে গেছেন। শ্রী আর লক্ষ্মী দেবী মিলে আবির্ভূত হয়েছেন আজকের লক্ষ্মী। 'লক্ষ্মী' শব্দের অর্থ কি? যার দ্বারা লক্ষিত হয়, তিনিই লক্ষ্মী। জানা যায়, শ্রী ও লক্ষ্মী অভিন্ন দেবী ছিলেন না। দুই পৃথক দেবতা ক্রমে মিলিত হয়ে দেবীলক্ষ্মীতে পরিণত হয়েছেন। লক্ষ্মীকে তাই বলা যেতে পারে অভিসৃত দেবী বা Convergent Goddess. শ্রী ও লক্ষ্মী এই দুই সমান্তরাল বা Parallel Goddess মিলে লক্ষ্মী। যেমন বিষ্ণুর দশাবতার হচ্ছেন তাঁর Divergent রূপ।

সামজিকভাবে কিংবা কৃষি পরিমণ্ডলে 'লক্ষ্মী' কাকে বলি? একটি প্রচল কথা হল, "জলে ভিজ্যা, রোদে পুইড়্যা আনছি ঘরে লক্ষ্মী।" তারমানে কৃষি উৎপাদন মানেই লক্ষ্মী লাভ। গ্রাম বাংলায় 'ক্ষেত্রলক্ষ্মী' বা 'ধান্যলক্ষ্মী'-র নাম পাওয়া যায়। প্রবাদে আছে, "ধান ধন বড় ধন/ আর ধন গাই/ সোনারূপা কিছু কিছু/ আর সব ছাই।" বলা হয় "ধানের আবাদে ধন"। বাংলার কোনো কোনো জায়গায় লক্ষ্মীপুজো কোনো মূর্তি কিংবা পট রেখে হয় না। হয় একটি কুনকের মধ্যে নতুন ধান রেখে, তা লাল শালুতে মুড়ে, কুনকে-তে স্বর্ণ বা রৌপ্য মুদ্রা বা কড়ি রেখে। কোথাও কুনকের ধানের উপর কাঠের বা পিতলের পেঁচামূর্তি রেখে। এ থেকে বোঝা যায়, ধানই লক্ষ্মী।

যেহেতু ধানের ক্ষেতে 'অলক্ষ্মী' পদবাচ্য ইঁদুর মারাত্মক একটি আপদ, তাই ইঁদুর ভক্ষণকারী পেঁচা (শত্রুর শত্রু) সেখানে লক্ষ্মীর প্রতিনিধি। পেঁচা লক্ষ্মীর বাহন হয়েছে এক ধন্যবাদাত্মক চিন্তনের মধ্যে দিয়ে। কোথাও 'প্যাঁচাই লক্ষ্মী'-র কাঠের মূর্তি ধানের সঙ্গে পূজিতা হন৷

বাংলার অনেক স্থানেই কৃষিজমির আগাছাকে 'অলক্ষ্মী' বলা হয়। কারণ আগাছা কৃষিতে অবাঞ্ছিত উদ্ভিদ। তারা মূল ফসলের থেকে সার-জল কেড়ে নেয়, জায়গা দখল করে। মূল ফসলকে ছাপিয়ে তার বিটপ, পত্র-পল্লব সূর্যালোক ভোগ করে, মূল ফসলকে আড়াল করে। কৃষক তাই 'নিড়িয়ে অলক্ষ্মী' দূর করেন। তা না হলে অলক্ষ্মীর দাপটে 'লক্ষ্মীর দান' বা ধান গোলায় আসবে না৷ ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে, "One year seeding is seven year's weeding." একবার যদি কোনো আগাছা কৃষিজমিতে ফুল হয়ে ফল ও বীজের পরিপক্বতায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়, তবে জমি থেকে সেই আগাছা দূর করা খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। কারণ অনেকদিন ধরে জমিতে তার বীজ অঙ্কুরোদগমের ক্ষমতা ধরে রাখে, বারবার তা থেকে আগাছার চারা বের হয় এবং মূল ফসলের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়। এজন্যই বলা হয়, একবছরের জন্য আগাছা বীজ ঢাললে, সাত বছর নিড়িয়ে তুলতে হয়, তবে সেই আগাছা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। অতএব কৃষিজীবী মানুষের কাছে কেবল ইঁদুর নয়, আগাছাও অলক্ষ্মী। এর বিপ্রতীপে কেবল ধানই যে লক্ষ্মী তা নয়, শাকসবজি-ফলমূলও লক্ষ্মী বলে মনে করেন বাংলার কৃষক। খনার একটি বচন আছে, "চাল ভরা কুমড়ো লতা/ লক্ষ্মী বলেন, আমি তথা।" এই বচন প্রমাণ করে খনার সময়ে গ্রাম বাংলা নানান উদ্যানফসলে সমৃদ্ধ ছিল এবং তার চাষ লক্ষ্মীলাভ রূপে গণ্য ছিল। ভারতের অন্য কোনো রাজ্যে সমসাময়িক সময়ে উদ্যানফসল চাষের এত সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল না, যা খনার বচনে দেখতে পাওয়া যায়।

বাংলায় দেবী দুর্গার আরাধনায় 'শাকম্ভরী' দুর্গাকেও স্মরণ-মনন করা হয়৷ শাকম্ভরী দুর্গা হচ্ছেন দেবীর উদ্যান ফসল হয়ে ওঠার কাহিনী এবং মানুষকে পরিপুষ্টি দিয়ে তার দুর্গতি দূর করা। জীবনে খাদ্য সংগ্রহ ও উৎপাদনই সবচাইতে বড় লড়াই, বড় লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে দেবী লক্ষ্মীই ভরসা। কৃষি সমৃদ্ধির লক্ষ্যে পৌঁছে দেন দেবী। মানুষের মরাই বা গোলা ভরা থাকলে তার অশেষ দুর্গতি দূর হয়৷ দেবীর 'অন্নপূর্ণা' রূপ এবং 'শাকম্ভরী' রূপের পাশাপাশি তাঁর ধান্যরূপ পাওয়া যায় দেবী মহালক্ষ্মীর মধ্যে।

ভারতবর্ষ প্রাচীন কাল থেকে কৃষি সম্পদে সমৃদ্ধ। তার উদ্বৃত্ত উৎপাদন সে সামুদ্রিক জলযানে ভরে বিশ্বের নানান জায়গায় প্রেরণ করেছে৷ বিনিময়ে সংগ্রহ করেছে বিশ্বের অপরাপর অমূল্য সম্পদ। তাই বলা হয় "বাণিজ্যে বসতে লক্ষ্মী"। " বাণিজ্যে লক্ষ্মীর বাস।" ময়ূরপঙ্খী নৌকায় ভারতীয় পণ্য সমুদ্র পেরিয়ে ধন আহরণ করেছে বলেই ধান্যলক্ষ্মী হয়ে উঠলেন 'ধনলক্ষ্মী'। কৃষি ও কৃষি-ভিত্তিক বাণিজ্য করেই হয়েছে ধনাগম। যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত তাঁর 'নবান্ন' কবিতায় লিখছেন, "লেপিয়া আঙিনা দ্যায়/আলপনা ভরা মরাই-এর পাশে,/লক্ষ্মী বোধহয় বাণিজ্য ত্যজি'/এবার নিবসে চাষে।" লক্ষ্মী বণিকদেরও দেবী, তিনি কৃষকেরও দেবী, তিনি ব্যবসায়ীদেরও দেবী। বাংলার কোনো কোনো স্থানে দেবীকে পুজো করা নৌকাবাহনা রূপে৷ কলাগাছের পাতার খোল বা মান্দাস থেকে তৈরি করা হয় নৌকা, তারমধ্যে নানান কৃষিপণ্য, অলংকার, মূল্যবান ছোটো ছোটো সামগ্রী, নৈবেদ্য থরে থরে সাজিয়ে দেবীকে আরাধনা করা হয়, যার মধ্যে ফুটে ওঠে বাংলার কৃষি সমৃদ্ধির চিরকালীন পরিচয়। ব্যবসায় প্রচণ্ড আর্থিক ঝুঁকি নিতে হয়, সজাগ থাকতে হয়। সেই থেকেই ব্যবসায়ীদের নিশি জাগরণ এবং অক্ষক্রীড়ার রীতি কিনা সে বিষয়ে আরও গবেষণা করা দরকার৷ কোজাগরী লক্ষ্মীপূজার মধ্যে জাগরণ বা সচেতন মনের প্রসঙ্গ হয়তো লুকিয়ে আছে৷ দীপান্বিতা লক্ষ্মী আরাধনার মধ্যে হয়তো লুকিয়ে আছে ব্যবসায়িক অন্ধকার ছাপিয়ে আলোর দিকে যাবার সদর্থক উপাসনা৷ এই দুইয়ের মধ্যেই ধনলক্ষ্মীর আরাধনা সুস্পষ্ট।

এখন এই লক্ষ্মী আরাধনা কী কেবলই বাংলা তথা ভারতবর্ষের মধ্যেই সীমায়িত? অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'বাংলার ব্রত' গ্রন্থে এই লক্ষ্মী উপাসনার বিশ্বরূপ পরিবেশন করেছেন। মেক্সিকোর 'ছড়াম্মা', গ্রীক শস্যদেবী 'টাইকি', 'ডিমিটার', জোরোয়াসস্ট্রিয়ান দেবী 'আদির্সভঙ্গ' দেবী লক্ষ্মীর সমতুল্য। হয়তো বাংলার এই লক্ষ্মীর পুজোর ইতিহাস বহু প্রাচীন। আলো-আঁধারি থেকে তার প্রকৃত ইতিহাস তুলে আনতে হবে। তার সঙ্গে তুলে আনতে হবে সেই ইতিহাস, যেখানে বাংলার হিন্দুরা নানান কারণে যখন প্রতিবেশীর ধর্ম গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছেন, তখন হিন্দু রমণী কিন্তু গৃহলক্ষ্মীকে একেবারে ফেলতে পারেন নি। জানা যায়, একটি লক্ষ্মী স্মৃতি নীরবে লুকিয়ে কুলুঙ্গিতে তুলে রেখেছেন। আজও তা হিন্দু ঘরানার মিসিং লিঙ্ক রূপেই রয়ে গেছে গৃহ ও মনের হারানো অন্দরে।

পুরাণে দেখা যায়, সমুদ্র মন্থনে অলক্ষ্মী দেবীর উৎপত্তি লক্ষ্মীর পূর্বে৷ তাঁর নাম 'নির্ঋতি'। তিনি কৃষ্ণবর্ণা, তিনি লৌহাভরণা। লোহার মূর্তি ব'লেই তিনি হয়তো লৌহযুগের সমসাময়িক। কিন্তু দেবী লক্ষ্মীর যে রূপ, তাতে তিনি 'হিরণ্যবর্ণাং হরিণাং সুবর্ণরজাস্রজাম'। তাঁর রঙ টকটকে সোনার মতো, তিনি সোনা ও রূপার গহনা পরিহিতা৷ শ্রী ও লক্ষ্মী যেভাবে জুড়ে লক্ষ্মী হয়েছেন, একইভাবে হয়তো অলক্ষ্মী আর লক্ষ্মী জুড়ে গিয়ে লক্ষ্মী হলেন। কারণ বাস্তুতন্ত্রে কোনো জীবকে একেবারেই নির্মূল করা যায় না। তাকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করতে হয় এবং এভাবেই মূল ফসলকে নির্বিবাদে চয়ন করে নিতে হয়। ধানের জমির ইঁদুর যে একেবারেই নিঃশেষ করা যাবে না। কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে, অনেক কৌমগোষ্ঠীর আমিষ খাবার এই ইঁদুরের মাংস এবং তার গর্তে থরে থরে সঞ্চিত ধান। ধান কাটার পর শাবল-কোদাল নিয়ে মাটির সুরঙ্গ অনুসরণ করে এই ইঁদুর ধরেন কোনো কোনো বনবাসী মানুষ, সংগ্রহ করেন মূষিকে নিয়ে আসা ধান। এভাবেই ইকোসিস্টেমে ভারসাম্য বজায় থাকে। বাংলা ও ভারতবর্ষের কোথাও কোথাও ধানের জমির নানান তণ্ডুল জাতীয় আগাছার বীজ সংগ্রহ করে তার চাল খেয়ে বাঁচেন গরীব মানুষ। যেমন শ্যামাধান, কাউনধান, নানান মিলেট জাতীয় আগাছা। কোথাও জল ও সারের অভাবে সেই আগাছাই আংশিকভাবে চাষ করে দুর্ভিক্ষ দূর করে লোকসমাজ। তারাই হয়তো বহু প্রাচীনকাল থেকে মিলিয়ে দিয়েছেন লক্ষ্মী-অলক্ষ্মীর এই ধারণা। পৃথিবীতে অলক্ষ্মী বলে যা আছে, তা হল আমাদের সমাজের বিড়ম্বনা, আমাদের ধর্মীয় বিপ্রতীপের চিত্র। আজকের দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা সমগ্র হিন্দুজাতির এক ভারসাম্যের প্রকৃতি পূজা, সামাজিক মেলবন্ধনের উপাসনা। এই পুজো দীর্ঘজীবী হবেই।

*তথ্যসূত্র*
লোকসংস্কৃতি গবেষণা ১৭(২), ২০০৪: ২৭৯-২৮৫ এবং ৩২৪-৩৩৫

2 years ago | [YT] | 20

Tanmoy Dey

ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল কোন দলকে ফাইনালে হারিয়ে এশিয়ান গেমসে স্বর্ণ পদক জিতলো?

2 years ago | [YT] | 19

Tanmoy Dey

জন্মদিন শ্রদ্ধা:ঈশ্বর পুত্র ঈশ্বরচন্দ্র

*বিদ্যাসাগর ধর্ম বিষয়ে নিঃশব্দ কেন?*
_কল্যাণ গৌতম_

(১)
বাংলার বামপন্থী চিন্তাবিদেরা সব সময় প্রমাণ করতে চেয়েছেন, বিদ্যাসাগর ধর্ম-উদাসীন এক চরিত্র, তুলে ধরতে চেয়েছেন তাঁর ধর্মনিরপেক্ষ ব্যক্তিত্বকে। কিন্তু মূল সত্যিটা হল, পরাধীন ভারতবর্ষে নিজেকে কীভাবে উপস্থাপন করলে দেশের সামাজিক সংস্কারের কাজটি সুসম্পন্ন হয়, সে ব্যাপারে বিদ্যাসাগর বাস্তববাদী ছিলেন। সেই পথে যেতে হলে তিনি কোনো কোনো ক্ষেত্রে আপোষ করেছেন। তার জন্যই ধর্ম আধারিত সমাজ সংস্কার করতে পেরেছেন তিনি। 'ধর্ম বিযুক্ত বিদ্যাসাগর' বলে কোনো কথা হয় না।

মনে রাখতে হবে তিনি যখন কর্মজীবন শুরু করছেন (১৮৪১ সালের ২৯ শে ডিসেম্বর) কলকাতার ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রধান পণ্ডিতের পদে, বছর ছয়েক আগে (১৮৩৫ সালে) মেকলে ভারতীয় সনাতনী শিক্ষাব্যবস্থার ভিত নড়িয়ে দিয়ে বোধন করে গেছেন ব্রিটিশ ভারতের চিন্তাচেতনা।

মেকলের নীতি অনুসরণ করে ভারতে ব্রিটিশরা বুঝিয়ে দিয়েছেন, তারা হিন্দু ধর্মের পাঠ যথাসম্ভব পাঠ্যসূচীতে রাখবে না, হিন্দু ধর্মের গরিমা-প্রকাশক কোনো পাঠ তো নয়ই। চাকরী জীবনের প্রথমে এটা বুঝতে সক্ষম হয়েছিলেন বলেই বিদ্যাসাগরকে আমরা বিশেষভাবে প্রকাশ হতে দেখি। কেউ কখনও অস্বীকার করতে পারবেন না, বিদ্যাসাগরের আনা নবজাগরণ ছিল হিন্দু-নবজাগরণ। তিনি হিন্দু ধর্মশাস্ত্র অধ্যয়ন করেছিলেন, নিজের আরদ্ধ কাজ করার জন্য শাস্ত্রীয় যুক্তি গ্রহণ করেছিলেন, তাঁর বহু রচনাই হিন্দু ধর্ম আধারিত।

অনুবাদক বিদ্যাসাগরের প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ হিসাবে আমরা 'বেতালপঞ্চবিংশতি' (১৮৪৭) নামটি জানলেও আমরা অনেকেই জানি না, তাঁর প্রথম অনুবাদ ছিল 'বাসুদেবচরিত'। নমুনা যা পাওয়া গেছে, অসাধারণ সুললিত ছিল এই গ্রন্থ, অনুবাদ-কর্মের প্রথম পরীক্ষা, লিপিচাতুর্য আর ভাষা-সৌন্দর্যে অতুলনীয়। এর পাণ্ডুলিপিটি রচিত হয় সম্ভবত ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে চাকুরিরত অবস্থায় (১৮৪২ - ১৮৪৬ এর মধ্যে)। বিদ্যাসাগর জীবনীকার বিহারীলাল সরকার অনুমান করেছিলেন, এ আখ্যানে হিন্দুর ধর্মগ্রন্থের কাহিনী গৃহীত হয়েছিল বলে ফোর্ট উইলিয়াম কর্তৃপক্ষ এটি কলেজের পাঠ্য গ্রন্থরূপে গ্রহণ ও প্রকাশ করতে সম্মত হননি। বাংলা সাহিত্যের তন্বিষ্ট গবেষক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ও স্বীকার করেছেন, 'বাসুদেবচরিত' বিদ্যাসাগরের প্রথম গদ্যগ্রন্থ। কিন্তু দুঃখের বিষয় পরে আর এই পাণ্ডুলিপিটি খুঁজে পাওয়া যায় না। বিদ্যাসাগর নিজে তা পরে প্রকাশ করতে চেয়ে খুঁজে পান নি। তাঁর মৃত্যুর পর পুত্র নারায়ণচন্দ্র বইটি কীটদষ্ট অবস্থায় খুঁজে পেয়েছিলেন এবং জীবনীকারদের দেখিয়েও ছিলেন। অর্থাৎ জলে থেকে কুমীরের সঙ্গে লড়াই করা যায় না, এই বোধে নিজেকে পরবর্তী সময়ে পরিচালিত করে থাকবেন। তারই অনুভবে নিজের জীবনের লক্ষ্য স্থির করে থাকবেন। হিন্দু ধর্মের প্রচার করতে গিয়ে সাহেবদের চটালে, তাঁর সমাজসংস্কারের কাজ পাছে বাঁধা পায়, সেজন্য অন্যভাবে হিন্দু ধর্মের সামীপ্যে সান্নিধ্যে বিরাজ করলেন।

(২)
তখন প্রগতিশীলতা মানেই ছিল ব্রাহ্ম হয়ে যাওয়া, কিন্তু বিদ্যাসাগরকে ব্রাহ্ম হতে দেখি নি আমরা। দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, রাজ নারায়ণ বসু, অক্ষয় কুমার দত্ত প্রমুখ ব্রাহ্ম মনীষীর সঙ্গে তাঁর চির ঘনিষ্ঠতা সত্ত্বেও তিনি হিন্দুই থেকে গেছেন। বরং প্রিয়পাত্র শিবনাথ শাস্ত্রী ব্রাহ্ম হয়ে গেলে তা তাঁকে বিশেষভাবে পীড়িত, ব্যথিত করেছিল।

বিদ্যাসাগরের লেখা চিঠিপত্রের শীর্ষে অবশ্যই স্থান পেত 'শ্রীহরি শরণম্'। এটা দেখবার মত ব্যাপার। শুধুই কী আচার পালন!

হিন্দুধর্মের প্রতি অকারণ বিদ্বেষ ও কটূক্তি তিনি কখনোই মেনে নেন নি। একসময় সুপ্রিম কোর্টের এক বিচারক একটি মামলার রায়দানের সময় প্রসঙ্গ-বহির্ভূতভাবে হিন্দুধর্ম সম্পর্কে কটূ কথা বলেছিলেন, অশালীন কথা বলেছিলেন; তার প্রবল প্রতিবাদ করেছিলেন বিদ্যাসাগর, গর্জে উঠেছিলেন তিনি। কলকাতায় রাজা রাধাকান্ত দেবের প্রাসাদে অনুষ্ঠিত এক প্রতিবাদ সভায় নেতৃত্ব দিলেন বিদ্যাসাগর। পাঁচ হাজার গণ্যমাণ্য মানুষের সাক্ষর সম্বলিত একটি চিঠি পাঠালেন ইংল্যান্ডের ব্রিটিশ সেক্রেটারিয়েটে। চিঠির গুরুত্ব অনুভব করে ব্রিটিশ সেক্রেটারিয়েট ভারত সরকারকে নির্দেশ দিল, সুপ্রিম কোর্টের সেই বিচারকে সতর্ক করে দিতে হবে। জয় হল বিদ্যাসাগরের, জয় হল হিন্দুর।

হিন্দুধর্মে যে দশটি মানবিক গুণ থাকলে যিনি যথার্থ ধার্মিক হতে পারেন, তার সমস্ত গুণই বিদ্যাসাগরের মধ্যে আমরা দেখতে পাই -- ধৃতি, ক্ষমা, দম, অজেয়, শৌচ, ইন্দ্রিয় নিগ্রহ, ধী, বিদ্যা, সত্য, অক্রোধ। যদি তাই হয় তবে তিনি অবশ্যই হিন্দু-ধার্মিক।

বিদ্যাসাগর গীতার উপদেশ অনুসারে চলবার কথা উচ্চারণ করেছেন। তাঁর স্নেহধন্য ও পারিবারিক চিকিৎসক ডাক্তার অমূল্য চরণ বসু (১৮৬২--১৮৯৮; ১৮৮৬ সালে কলকাতা মেডিক্যাল স্কুল থেকে এম.বি উত্তীর্ণ) একবার বিদ্যাসাগরের ধর্মবোধ ও কর্তব্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, "গীতার উপদেশ অনুসারে চললেই ভালো হয়।"

কোনো এক ভয়াবহ লঞ্চডুবিতে প্রায় ৮০০ জন আরোহীর মৃত্যু হলে তিনি সখেদে বলে উঠেছিলেন, "দুনিয়ার মালিকের কি এই কাজ?"

শ্রীরামকৃষ্ণ বারবার বিদ্যাসাগরের সঙ্গে সাক্ষাতের ইচ্ছা প্রকাশ করলে, ঠাকুরের ভক্তেরা অভিমত প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যাসাগর ঈশ্বর মানেন না, তিনি নাস্তিক। শ্রীরামকৃষ্ণ মত প্রকাশ করে বলেন, ঈশ্বরের আশীর্বাদ না থাকলে কোনো মানুষ এমন জায়গায় পৌঁছাতে পারেন না। তিনি কলকাতার বাদুড় বাগানে বিদ্যাসাগরের বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে আলাপ করেছিলেন।

নানান সমাজ সংস্কারের কাজে তিনি শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা ও তার সুলুকসন্ধান করেছিলেন, গভীরে গিয়েই পাঠ করেছিলেন শাস্ত্রীয় আপ্তবাক্য। কিন্তু তবুও তিনি নিরীশ্বরবাদী। বলা হয়ে থাকে বুদ্ধের পর বিদ্যাসাগরই প্রথম ভারতীয় মনীষা যিনি ঈশ্বর নিয়ে চিন্তা করেন নি। গৌতমবুদ্ধ যেখানে হিন্দুদের দশাবতারের একজন হয়ে উঠলেন তবে কেনই বা ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় 'ঈশ্বরচন্দ্র' হয়ে উঠবেন না? যিনি কর্মফলের আশা না করে নিষ্কাম কর্ম করে গেছেন এবং অক্ষয় মনুষ্যত্বের অধিকারী ছিলেন; গীতার উপর আস্থা রেখেছিলেন, তিনি তো কর্মযোগী হিন্দু সন্ন্যাসীই হবেন! তাই নয় কী?

৩.
বিদ্যাসাগরের জীবনে আরও একটি ঘটনা থেকে মনে হয়, তিনি ব্রাহ্ম কিংবা খ্রিস্টান মহিলাদের তুলনায় হিন্দু মহিলাদের প্রতি বিশেষ পক্ষপাতিত্ব করেছিলেন। ১৮৬৬ সালে স্ত্রী শিক্ষাবিদ মেরি কার্পেন্টার ভারতে আসেন। তিনি বিদ্যাসাগরের সঙ্গে দেখা করে তাঁর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বেথুন স্কুলে একটি শিক্ষিকা-শিক্ষণ বিদ্যালয় স্থাপন করতে চাইলেন। কারণ এতদিন বালিকা বিদ্যালয়ে পুরুষেরা পড়াতেন।

বিদ্যাসাগর প্রথমে কার্পেন্টারকে সঙ্গ দিলেও পরে প্রস্তাবের বিরুদ্ধে মত দিলেন। যুক্তি ছিল সমকালীন সামাজিক পরিস্থিতিতে উপযুক্ত বয়স্কা মেয়ে পাওয়া যাবে না৷ বিপুল সামাজিক বাঁধা আসবে তাদের প্রতি। কিন্তু প্রশ্ন হল, এটা তো হিন্দু ঘরের মেয়েদের জন্য সত্য। শিক্ষিকা হিসাবে তো ব্রাহ্ম মহিলারাও আসতে পারতেন; খ্রিস্টান মহিলারাও আসতে পারতেন, তাদের জন্য তো সত্য নয়। তারা তো অনেকেই শিক্ষিতও ছিলেন, সামাজিক বাঁধাও পেতেন না সেভাবে। তাহলে কী বিদ্যাসাগর মনে করেছিলেন, শিক্ষিকা হিসাবে হিন্দু মেয়েরা সুযোগ না পেলে, শিক্ষা জগতে ব্রাহ্ম এবং খ্রিস্টান শিক্ষিকারা দাপিয়ে বেড়াবে? ধর্মীয় প্রভাব ফেলবে? একজন হিন্দু পুরুষকে শিক্ষা দেওয়া আর একজন হিন্দু নারীকে শিক্ষা দেওয়ার মধ্যে অনেক ফারাক। শিক্ষিকা হিসাবে হিন্দু নারীর মধ্যে হিন্দু সংস্কৃতির প্রতি অশ্রদ্ধা বা বিরূপ চিন্তন তৈরি করে দিলে তা হিন্দু সমাজে দীর্ঘকালীন ক্ষতি করে দিতে পারে, এটা পরিস্কারভাবে হয়তো বুঝতে পেরেছিলেন তিনি। তাই সেই ফাঁদে পা দেন নি।
বিদ্যাসাগর যুক্তি দেখালেন, বিধবা বিবাহে বিধবা মেয়ে ঘর পাচ্ছে, কিন্তু নতুন বিদ্যালয়ে ঘরের মেয়ে বাইরে আসার সূচনা হবে। এটা কয়েক বছরের শিক্ষা লাভের বিষয় নয়। বিদ্যাসাগর বুঝেছিলেন তা সমাজের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে৷ কারণ এখানে যদি হিন্দু সম্পন্ন ঘরের কোনো মেয়ে আসে, তার বিধবা হবার সম্ভাবনাই বেশি। বিদ্যাসাগরের কাছে বড় হয়ে দেখা দিয়েছিল, বিধবা বিবাহের ফলশ্রুতিতে বিধবা আপন ঘর পাক। তাঁর নিজের উক্তি "বিধবা বিবাহ প্রবর্তন আমার-জীবনের সর্বপ্রধান সৎকর্ম। এজন্মে ইহা অপেক্ষা কোন সৎকর্ম করিতে পারিবো, তাহার সম্ভাবনা নাই। এ বিষয়ের জন্য সর্বস্বান্ত হইয়াছি এবং আবশ্যক হইলে প্রাণান্তস্বীকারেও পরাঙ্মুখ নহি।" সৎকর্ম করা হিন্দু ধর্মের এক পবিত্র কাজ। বিদ্যাসাগর শুধু সমাজ সংস্কারক নয়, তিনি হিন্দু ধর্মের অভিমত ও প্রথা মেনে চলার পন্থী এক সংস্কারক।


বিদ্যাসাগরের ধর্মে মতি না থাকার পশ্চাতে একটি মনস্তাত্ত্বিক নিবৃত্তি হয়তো কাজ করে থাকবে। যে গরীব ঘরের ছেলেটি জানতেন তার ঠাকুরদা (পন্ডিত রামজয় তর্কভূষণ) সন্ন্যাসী হয়ে ঘর ছেড়েছেন; ঠাকুমা (দুর্গাদেবী) প্রবল দুরবস্থায় পড়েছেন তার ছয় ছেলেমেয়ে নিয়ে; সুতো কেটে বাজারে বিক্রি করে যে মহিলাকে সংসার চালাতে হয়; যার ১৫ বছরের ছেলেকে কাজ জোটাতে গিয়ে কলকাতার পথে পথে চলতে গিয়ে ক্ষুধায় মূর্ছা যেতে হয়, সেই পরিবারের একজন সংবেদনশীল অতল জ্ঞানী সংস্কৃতজ্ঞ ব্যক্তি অথচ মানব দরদীর ধর্মে বিশেষ মতি থাকলে, "ঘর পোড়া গরুর সিঁদূরে মেঘ দেখে ডরানো"-র মতো অবস্থা হয় পরিবারের। তিনি নিজেও সদাসর্বদা খেয়াল রাখেন, অধ্যাত্মিক উপলব্ধির চরম দর্শন যেন তাকে অন্তত গৃহত্যাগী সন্ন্যাসী না করে তোলে৷ আর বিদ্যাসাগর তো সন্ন্যাসীই ছিলেন; মননে, কর্মে বাস্তববোধে। প্রাচীন ঋষিদের মতো যার প্রজ্ঞা আর পাণ্ডিত্য, মানুষের জন্য যার অপরিমিত দয়া বাঙালি রমণীর মতো কোমল করে তোলে, তিনি হিন্দু সন্ন্যাসী না হয়ে যান না। তিনি পুণ্যশ্লোক, তিনি পবিত্র ঋষি।

2 years ago | [YT] | 18