গ্র্যাজুয়েট প্রস্তুতির পাশাপাশি একাডেমিক কাজের বাইরে গত দেড় মাসে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো'র একটা WUR'তে কী কী উন্মুক্ত ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে, তা একটু দেখে নিতে পারেন।
বিশেষ করে থার্ড-ইয়ার ও ফোর্থ-ইয়ারের শিক্ষার্থীদের জন্য এই ধরনের ইভেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের এই পর্যায়ে এমন ইভেন্টগুলো কেবল জ্ঞান বাড়ায় না বরং নিজের স্কিল, দুর্বলতা, মার্কেটেবিলিটি এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, নিজের প্রোফাইলের সামঞ্জস্যতা বোঝার সুযোগ দেয়।
I wish student from our country had the opportunity to explore the potential possibilities and challenges within themselves. Sometimes we thrive, sometimes we stumble, but these experiences help us to refine who we are and what needs to be done.
ইতালি'তে আমার ডিপার্টমেন্টে আমি'ই প্রথম বাংলাদেশী ছাত্র। গত সপ্তাহে ডিরেক্টরের সাথে ইনকামিং শিক্ষার্থীদের নিয়ে কথা হলো এর আগেও ডিপার্টমেন্টে আরো বাংলাদেশী শিক্ষার্থী'র সম্ভাবণা নিয়ে কোর্ডিনেটরের সাথে কথা হইছে। যতটুকু মাথায় ধরেছে, তাদের বুঝানের চেষ্টা করেছি পড়াশোনা'র জন্য ইতালি আমাদের জন্য খুবই পছন্দের একটা জায়গা। টিউশন ফি নাই, কতো রকমের স্কলারশিপ, স্টাইপেন দিচ্ছে, লিভিং খরচও তুলনামূলক কম আরো কতো কি।
কিন্তু বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরা কি সত্যিই পড়াশোনা করতে আসে! বাস্তবতা আসলে অন্যরকম, আপন প্রান বাঁচা টাইপের মানুষের জন্য পড়াশোনা শুধু'ই একটা ব্যানার। আর নিজের খেয়ে এতোকিছু ভাবার সময়'ই কই। আসার পর লেখাপড়া বাদ কিংবা গুরুত্ব না দিয়ে অন্যদিকে ফোকাস করে চলে যায় মামা/চাচাদের কাছে ইউরো কামানোর ধান্দায়। যেটা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আমাদের দেশে'র শিক্ষার্থীদের প্রতি একটা বাজে দৃষ্টি'র সূচনা করে। এছাড়াও এরা খুব ভালো জানে আমাদের ইকোনমিক, কালচারাল এবং বর্তমানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের স্টেটাস। ইমপ্রেশনস এমনিতেই খারাপ আরো হইলে সেটা পাইপলাইনেও ইফেক্ট পরে এবং প্রতিনিয়ত পরতেছে।
ডিরেক্টরে'র ইমেইলে স্পষ্ট যে ❝আমাদের দেশে'র শিক্ষার্থীদের ভিসা পাওয়াটাও অনেকটা নির্ভর করে ঐ ডিপার্টমেন্টে ইতোমধ্যে রানিং শিক্ষার্থীদের আছে তাদের অবস্থান সম্পর্কে❞ সম্প্রতি তারা বিভিন্ন ভাবে ভেরিফিকেশন করে যেটা হয়তো এতোটা সামনে আসে না। এসবও ভিসা জটিলতার অন্যতম কারণ তাছাড়া সম্প্রতি বিভিন্ন অভিবাসন নীতিগুলিও দেখছেন'তো। এগুলো কেন বলতেছি জানিনা, কোন টার্গেট অডিয়েন্স নাই। তবুও সামগ্রিকভাবে, যারা স্টুডেন্ট ভিসায় আসতে চায় তাদের স্টুডেন্ট হওয়ার মনোভাব'ই রাখা উচিত।
যদিও UniTrento'তে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের অবস্থান কিছুটা ভালো। তবে ইতালি'র অনেক ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষার্থী'রা এসে পরবর্তী'তে অন্যদিকে মনোযোগী হয়ে উঠে। এদিকে একাডেমিক বিষয়গুলোও এতো সহজ না, সময় না দিলে হবে না। বুক ফুলিয়ে "আমি'তো শুধুমাত্র আসার জন্য স্টুডেন্ট ভিসা নিসি" বলা মানুষগুলো'র দিকে দুইবার তাকাই। হাউ কিউট! এদিকে নেদারল্যান্ডস-ইতালি ঘুরেফিরে ইন্ডিয়ান-পাকিস্থানি বহু স্টুডেন্ট দেখি সে-তুলনায় বাংলাদেশী স্টুডেন্ট অনেক অনেক কম, সেটা আরেক হিস্টোরি।
দেশি মানুষের সাইকোলজি আরেক ডিজাস্টার। ইতালি মানেই টাকা আর টাকা, গেইম, টারজান ভিসা, কৃষি ভিসা ছাড়াও কতো কি। কিছু ছা-পোষা পাব্লিক এসে দাঁত বের করে দেশে'র মানুষদের এখান থেকে এসব'ই দেখায়। গোলামী করা জাতি'র কাছে এসব দেশের সাধারণ পাব্লিকও স্যার, কিন্তু এরা'যে কয় পয়সার পাত্তা সেটা বাদ'ই দিলাম। আর অনেকক্ষেত্রে আপনি বৈধ হয়েও অবৈধের ভাইব পাবেন, কারণ দিনশেষে আপনি বেঙ্গালি। যাইহোক ট্যাকার হিসাবে ভালো, দেশে গেলেও একটু ভাবসাব আসে। কয়দিন আগে দেখলাম বাথট্যাবে মনিটর লাগাইছে একজন, বুঝতে হবে'তো ইতালি ফেরত।
পাশের গ্রামের অমুক বন্ধু ইস্টু খেলে কোটিপতি, আগে ইস্টার খাইতে ফাঁটতো এখন বেনসন ছাড়া খায়না। পাছা'র নিচে কেটিএম বাইকও আছে। আঙ্কেলও বুঝি ভালো'ই খুশি, পোলা'র কামাই ভালো। এদিকে আমার হইলো সামনে থিসিস সেমিস্টার! আর কয়টা টাকা থাকলে ঐ স্পেশালাইজড কোর্সটা করা যাইতো। গ্রোয়িং টেনশন চাকরি-বাকরি'র যা অবস্থা ফ্যামিলি থেইকা আর কতো!
দেশি সেলিব্রিটি'রা যা শিখাইল দাদা! জোয়ান-বুড়া'রা এখন সকাল-বিকাল শুভেচ্ছা জানায়। কোনদিক দিয়া ব্যক্তিত্ব হারিয়ে ফেলছেন টের'ই পাচ্ছে'না শিক্ষক, ব্যবসায়ী, ছাড়াও বহু ক্যাটাগরির মানুষ। খেয়াল কৈ, ডলার কৈ! মনিটরাজেশন কই! কিন্তু বায়োলজি'র ঐ স্যার'টা ২০১৭ সালের পর প্রোফাইল চেঞ্জ করার সময় পায় নাই, পরীক্ষার খাতায় ভুলের সাথে বিস্তারিত ব্যাখ্যা, রাতের খাবার খেয়ে স্যার কি এগুলাই করে?
আরেহ্ দেশে বহু সমস্যা! বিদেশে যামু গা। গুলিস্তান থেকে উত্তরা পর্যন্ত শুধু সমস্যা'র লিস্ট। চকচকে ইউরোপের চিল লাইফ! ক্যারিয়ার-পড়াশোনা বাদ দিলাম রক্ত-মরা মানুষ নিয়াও ব্যবসা, গডফাদার হলো "ভয়ের ব্যবসা" যেটা শিক্ষার্থীদের মানসিক বাঁধা'র এভারেস্ট। ইংরেজি - কঠিন, গনিত - কঠিন, টাকা দিয়ে প্রাইভেট পড়া লাগবো। রাস্তা দিয়া হাঁটলে ভুল হিসাব করতে করতে উষ্ঠা খাই, ভালো'টা দেখা সিস্টেমে নাই, রক্তে-মস্তিষ্কে কমপ্লেক্সিটি ট্রেইনড করা। ঐদিন লোকা'র (ইতালিয়ান বন্ধু) সাথে কথা হইলো! ছোট্ট একটা রোমের ভেতর মাইক্রোগ্রিনস প্রডাকশন করছে ৮/১০টা কন্টাক্ট কাস্টমার'ও আছে, ব্রাভো।
মিডিয়ায় কিন্তু কম'ই আসে, এই সেই পার্টি-প্যানেলের মারামারি ছাড়াও প্রথম শ্রেণীর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আর কি কি চলতেছে৷ আগে আছিলো কদম গ্রুপ এখন মার্কেটে চলে টিয়া প্যানেল। এ যেন অসৎ/খারাপ চর্চার ভরা ফাল্গুন ফিরেছে, সুপ্ত ক্যারেক্টার-গুলো বের হচ্ছে। অটোরিকশা'র বদলে ২/৪টা রকেট সাইন্স টাইপের কিছু হইলে নামের সাথে কাম মিলতো কিন্তু! আওবাও রেংকিং ছাড়া আসল ভ্যালু আছে কয়টার! জংধরা স্লাইড রেখে রিয়্যালটাইম-কনটেক্সচুয়্যাল হইলে ভালোই হইতো না? ওগেনিনগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যাম্পল প্রশ্ন দেখে এটাই প্রথম মাথায় আইছিলো - দরকার কী আর আমরা গিলতেছি কি।
এছাড়াও, দেশে কেকপট্টি হয়ে যায় ভাইরাল, খিচ মাইরা চিৎকার কইরা ভাইরাল - পাবলিক আবার গিলতেছেও। হানিয়া গেলো দেশে, মার্কেটিং করলো সানসিল্ক, রাত ৩:৩০ পর্যন্ত কন্টেন্ট বানাইলো থার্ড ইয়ারের স্টুডেন্ট। হাজার হাজার পেইজ থেকে এনালাইসিস করলো, মিডিয়াগুলোও হিড়িক দিলো। এদিকে কৃষি, পরিবেশ, খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশ সচেতনতা এগুলো নিয়া কারো ভ্রুক্ষেপ নাই, টিআরপি জমে না এগুলা দিয়া, মাথা ঘামানো নাই। স্বাধীনতার পর থেকে'ই অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ আরো ৫০ বছর পরেও এমন'ই থাকবে।
বাংলাদেশের চেয়ে ছোট দেশ নেদারল্যান্ডস ১৯৪৪-৪৫ এর "Hunger Winter" প্রায় ২০ হাজার মানুষ মারা যাওয়ার পর থেকে কৃষি নিয়ে এরা কি করছে তা পুরো বিশ্বের কাছে বিস্ময়, কৃষি পণ্যরপ্তানিতে সারা বিশ্বের দ্বিতীয়। আমাদের ১৯৭৪ সালে'তো প্রায় ১.৫ মিলিয়ন মানুষ মারা গেছিলো, এতদিনে এটলিস্ট স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া যাইতো কিন্তু! চুষে খেতে খেতে বাকী বলতে হাড্ডির ভেতরে'র ক্যালসিয়াম টুকুও বাকি নাই। এইদিকে অভুক্ত'রা বলে, যাই'হোক তারাতারি নির্বাচন দরকার। আয় হ্যায়!
ইতালিতে সামার ভেকেশনে আঙ্গুর হার্ভেষ্টের কাজ করতে গেছিলাম দুইদিন। সাথে মালিক, মালিকের জামাই, ভাই, ছেলে-মেয়ে সবাই কাজ করলো। হেক্টরের পর হেক্টর বাগান, নিজস্ব সেলার- ওয়াইন ব্যান্ড। তাদের মিলিয়নিয়ার বললে ভূল হবেনা হয়তো, তারপরও ফিল্ডে কাজের দক্ষতা দেখার মতো। ভাবতেছিলাম এদের দেশি ভার্সন কেমন হইতো! হয়তো দু-চারজন ছাতা দিয়া দাঁড়ানো থাকতো ১০ মিনিট পর পিএস এসে বলতো "স্যার! পরিবেশটা দারুণ না?"
এই'যে রুটিন দেখতেছেন, এটা হলো আমার বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সের দ্বিতীয় সেমিস্টারের সাপ্তাহিক ক্লাসের নমুনা (সোমবার থেকে শুক্রবার) মোট কতো ক্রেডিট করতেছি সেটা বললাম না, একটু কষ্ট করে রুটিন'টা দেখলেই ধারণা পাবেন, এটাই ওদের দেওয়া স্ট্যান্ডার্ড স্ট্রাকচার। ক্লাসের শুরু-শেষ এবং ক্লাসের নির্ধারিত সময় বিভিন্ন রংয়ে উল্লেখ করা আছে।
ক্লাসের সময় নিয়ে একটু বলি, ৩ ঘন্টা এবং ২ ঘন্টা ছাড়া কোন ক্লাস নাই তবে ঘন্টার মাঝে ছোট বিরতি আছে। মনোযোগ দিতে না পারলে বাহিরে গিয়ে কফি কিংবা হাঁটাচলা করেন সমস্যা নাই, ল্যাপটপ নিয়া অন্য কাজও করতে পারেন সম্পূর্ণ স্বাধীনতা আছে। কিন্তু ব্যচেলরে'তো ১ ঘন্টা ক্লাস করতে করতে মাঞ্জা ধরে যাইতো - মনে হইতো একটু পর ফজরের আযান দিবে হয়তো, কতো অভিযোগও শুনছি ২ ঘন্টার ল্যাব নিয়া।
কোর্স স্ট্রাকচার এমভাবে করা যে ফাইনালে'র আগের রাতে পড়াশোনা করে পাশ করে ফেলবেন তার সুযোগ নাই, ক্লাসের ভেতরে'ই প্রেজেন্টেশন, ভাইবা, গ্রুপওয়ার্ক, ইনস্ট্যান্ট কুইজ, রিপোর্ট ইত্যাদি - সময় ২ ঘন্টা মানে শেষ করতে ২ ঘন্টা'ই লাগবে। ব্যচেলরের মতো এতো হাইপার হইলে হচ্ছে না- এগুলা মামুলি জিনিস। আবার প্রতিটি কাজের মান ধরে নাম্বার তুলতে পারাও খুব একটা সহজ না কিন্তু। যদিও আমি নিজে ব্যাকবেঞ্চার তাই আরো চাপ!
যারা বাহিরে পড়াশোনা নিয়ে ভাবতেছেন তারা রংবেরঙের অনেক কিছুই দেখবেন কিন্তু সত্যিকার ধকল এবং পরিশ্রম'টা দেখবেন না। তাই বাংলাদেশের সিস্টেম এবং ক্যাপাসিটি নিয়ে বাহিরে আসলে অনেক কষ্ট করা লাগবে সেভাবে মাথায় সেটআপ রাখা জরুরি। এরা ব্যাচেলরে যা পড়াশোনা করে তার কাছে আমাদের তুলনা করা চলবে না। আর যদি ভাবেন টাকা কামাবো কোনরকম শেষ করে সাদা চামড়া ধরে থেকে যাবো তাহলে আলাদা হিসাব।
আগে থেকে'ই নিজের ভালো লাগার ফিল্ড নির্ধারণ করে সে অনুযায়ী কাজ করে যাওয়া উচিত। যেমন ধরুন আপনার প্লান্ট জেনেটিক্স ভালো লাগে, ব্যচেলরে এই কোর্সের সময় সর্বোচ্চ মনোযোগ, এক্সট্রা পড়াশোনা ও বিভিন্ন ওয়ার্কশপ-সেমিনারে অংশগ্রহণ করা উচিত। নিজের এই ইন্টারেস্ট বিভিন্নভাবে গল্পের মতো সাজিয়ে নিজেকে উন্নত করতে হবে। নিজের সিভিতে যেনো প্লান্ট জেনেটিক্সের একটা ভাইব থাকে, অনার্স শেষ করে আপনি রকেট-সাইন্স
সমাধান করে ফেলবেন এটা হয়তো ওনারাও আশা করে না। তবে আপনার সাজানো প্রোফাইলের ওয়ার্ক-ফ্লু হয়তো জরুরি।
দু'একটা রিসার্স পেপার বের করে "আপনারে দেখলেই বুঝা যায় উচ্চশিক্ষিত" ভাব নিয়ে চলা মানুষ অনেক আছে, জিজ্ঞেস করলে ইংরেজিতে ২ মিনিটে নিজের কাজের উপস্থাপন করতে পারবে না। আমি বলছি না যে পেপার্স কাজের না, তবে সবচেয়ে জরুরি হলো কি করেছেন সেইটা এবং সম্পর্কিত পারিপার্শ্বিক বিষয়গুলো নিয়ে পরিষ্কার থাকা। এডমিশনের সময় কয়টা পেপার'স আছে এমন প্রশ্ন করে কি'না জানি না তবে যেটুকুই করেছেন সেটা নিয়ে কি ধারণা রাখেন, ঐটা জরুরি।
- নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও মতামত থেকে বললাম, ভুল-ত্রুটি মাফ করবেন, কোন সংযুক্তি জানালে আরো কৃতজ্ঞ হবো। ধন্যবাদ।
যারা ভাবেন বিদেশ যাবো, পড়াশোনার পাশাপাশি জব করে সব খরচ তুলে নিবো—লেখাটা তাদের জন্য!
অনেকেই বলে ইউরোপে পড়াশোনা সহজ, আমিও বলি হ্যাঁ! কিন্তু এরকম না যে পরীক্ষার আগে এক সপ্তাহ পড়াশোনা করে শেষ করে ফেলবেন। পুরো সেমিস্টার জুড়েই এনগেজড থাকতে হয়। ল্যাব, প্র্যাকটিক্যাল, লার্নিং বাই ডুয়িং, প্রজেক্ট, প্রেজেন্টেশনসহ রিসার্চ পেপার ভিত্তিক বিভিন্ন মডিউলে পড়াশোনা করতে হয়। সেমিস্টারের কোর্সগুলোও একে-অপরের সাথে সম্পর্কিত। যেমন ধরুন, একটা ক্লাসে স্ট্যাটিসটিকস বা প্রোগ্রামিং শিখছেন, ফাইনালে অন্য ক্লাসের রিপোর্টে সেটা ইমপ্লিমেন্ট করতে হবে। একটা মিস করলে আরেকটায় প্যারা!
দুই বছরের মাস্টার্সে যদি ১২০ ক্রেডিট হয়, ৪ সেমিস্টারে ভাগ করে দেখুন তো—সপ্তাহে কত ঘন্টা ক্লাস/অ্যাক্টিভিটি থাকে! যদিও ইউনিভার্সিটির সিস্টেমের উপর অনেকটা নির্ভর করে, তবুও ক্লাস ছাড়াও ক্রেডিট রিকগনিশনের জন্য বিভিন্ন উপলক্ষে আপনার দিনের বেশিরভাগ সময় কেটে যাবে। ডিপার্টমেন্ট থেকে বাসার দূরত্ব'তো আরেকটা ফ্যাক্টর। যেমন ধরুন, ফাইনালের ১০০ মার্কসকে ভাগ করা হয় বিভিন্ন প্রোপরশনে ৫% / ১০% / ২০% প্রজেক্ট + ল্যাব + রিপোর্ট + প্রেজেন্টেশন + ভাইভা ছাড়াও কতো'কি, প্রফেসরের নিদর্শনা পেলে বুঝবেন বাকী ইতিহাস। কখন কী মিস করে কোনটা হারাচ্ছেন চোখ-কান খোলা না রাখলে অনেকসময় বুঝতেই পারবেন না।
প্ল্যানিং আপনার ব্যক্তিগত। যেমন ধরুন, ২ বছরের মাস্টার্স ঠিক সময়ে শেষ করতে চাইলে কাজ এবং পড়াশোনার ম্যানেজমেন্ট সহজ হয় না—অনেক ক্ষেত্রে অসম্ভব। ইউনিভার্সিটির সময়, রান্নাবান্না, গ্রোসারি, পারসোনাল কেয়ার, ঘুম, হোমওয়ার্ক—এসব শেষ করার পর খুব বেশি সময় থাকে না। সকাল/দুপুর/বিকেলে ইউনিভার্সিটি, এরপর কাজে গিয়ে রাত ১১/১২ টার দিকে বাসায় এসে রান্নাবান্না, খাওয়া, পড়াশোনা, আবার কালকের জন্য ব্রেকফাস্ট + লাঞ্চ রেডি করা! সকাল ৬টার আগে ওঠা! কী মনে হয়? আবার ব্যালেন্স লাইফ স্টাইল না থাকলে, নিজের শরীরের যত্ন না নিলে, কিছুদিন পর এর ফল'ও আস্তে আস্তে টের পাওয়া যায়।
আরেকটা জরুরি বিষয় কাজের ফ্লেক্সিবিলিটি। আপনার ফ্রি সময়েই কাজ করতে পারবেন—এমন কাজ কয়টা আছে? ভালো/সহজ কাজ কিন্তু আপনার একাডেমিক শিডিউলের সাথে মিলে নাই, তখন কাজ নাকি পড়াশোনা? দুইটাই'তো দরকার। এদিকে ৮ ঘন্টার নিচে কাজ পাওয়াও কঠিন, আছে দূরত্ব, কন্ট্রাক্টের ধরণ সহ পরিবেশগত (রোদ/বৃষ্টি/স্নোফল) কতো মাপকাঠি। অনেকে বলে ডেলিভারি জব, রেস্টুরেন্ট, অড জব ইত্যাদি দিয়ে হয়ে যায়। শিউর না হয়তো সম্ভব! কিন্তু বাংলাদেশ ছাড়াও সমমানের বহু দেশ থেকে বহু মানুষ এগুলাই করছে। সেখানে ভাগ মেরে চলতে গেলে কীরকম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বেন সেটাও দুইবার ভাবতে হবে। সপ্তাহের ছুটির দিনে কাজ করতে পারেন, কিন্তু কাহিনি একই অতো সস্তা না। আপনার ধরার আগেই দেখবেন আরেকজন অর্ডার নিয়ে গেছে! বাঁচতে হলে কিলোমিটার না দেখে'ই ডেলিভারি ধরতে হবে। সব স্ট্রেস সামাল দিয়ে সবচেয়ে জরুরি হলো পড়াশোনায় ফোকাস করতে পারা। এদিকে বছর শেষে নির্দিষ্ট ক্রেডিট শেষ করতে না পারলে আরেক বিপদ! টিউশন ফি বেড়ে যাওয়া/ওয়েভার বা স্কলারশিপ কমে যাওয়া/শেষ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
আপনার বিভিন্ন আয়ের উৎস থাকতে পারে, সেটা অন্য হিসাব। তবে ইউরোপে থাকতে হলে সর্বনিম্ন ৫০০ ইউরো (প্রায় ৭০ হাজার টাকা) লাগবেই। একটা হিসেব করেন'তো—ঘন্টায় সর্বনিম্ন ৮ ইউরো বেতনে (জার্মানি/নেদারল্যান্ডস এসব দেশে ঘন্টা/ইউরো বেশি পাবেন হয়'তো কিন্তু খরচও তেমন) মাসিক খরচ তুলতে হলে সপ্তাহে অন্তত ১৬ ঘন্টা কাজ করতে হবে। পড়াশোনা সহ বাকি সবকিছু শেষে এই সময়টা বের করা সত্যিই চ্যালেঞ্জিং। এর সাথে আছে ভাষা, নতুন কালচার, সিস্টেম, পরিবেশ এবং ভিন্ন দেশে “পরগাছা”র মতো চলাফেরা। লিগ্যাল ডকুমেন্টস, ইনস্যুরেন্স, হাউজিং কন্ট্রাক্ট—ছাড়াও আছে বহুরংয়ের বুঝাপড়া! বর্তমানে বিভিন্ন দেশের অভিবাসন নীতিমালাও আরেকটা বড় ইস্যু।
একেক শহর/দেশে সুযোগ ও সিস্টেমের ভিন্নতা আছে। কিন্তু কেউ এসে ১ বছরের মাঝেই অডি নিয়ে ঘুরছে, ফেসবুকে জমকালো ছবি দিচ্ছে, আইফোন সহ হেভি লাক্সারিয়াস কারবার-দরবার দেখে চোখ কপালে তুলে গাট্টি-বস্তা নিয়ে চলে আসলেন, অথচ বাস্তবতা শুনলেন না/বুঝলেন না পরে কয়দিন গেলে কিন্তু ধান=চালের হিসেব বুঝতে পারবেন। দেশ যাদের তিতা লাগে তাদের বিদেশের “তিতা”র কতো রকম স্বাদ হতে পারে সেটা'র ফিল দিতে পারলে ভালো হতো। অনেকে আবার এজেন্সির মাধ্যমে আসে, প্রাথমিক ঐ চ্যালেঞ্জটা'ই নিতে রাজি না, প্রব্লেম/ডিফিকাল্টিগুলো ফেস না করে তাদের উপর ছেড়ে দিই, একদম চ্যালচ্যালাইয়া চইলা আসতে চায় এরপর এখানে এসে সমুদ্রে ঝাঁপ দেওয়ার মতো অবস্থা! শুরু হয় আসল এপিসোড।
স্টুডেন্ট ছাড়াও বহু মানুষের সাথে কথা হয়েছে। অনেকেই ডকুমেন্টের জন্য দেশে যেতে পারে না, হয়তো ইনকাম আছে/নাই কিন্তু সবশেষে শান্তি নাই আকাশের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে। লাখ লাখ টাকা খরচ করে ইউরোপে এসে পড়াশোনা + ইনকাম বিষয়টা অনেক বেশি ওভার-হাইপড। মিডল-ক্লাস পরিবার থেকে এভাবে চিন্তা করার আগে দুইবার ভেবে নিওয়া উচিৎ। গত সপ্তাহে নিউজে দেখলাম জার্মানিতে গত ৩ মাসে ৩ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। এছাড়াও কিছুদিন আগে জাপানে “আপন” নামের এক শিক্ষার্থী না খেয়ে রুমের ভেতরেই মারা যায়—ছিল না খোঁজ নেওয়ার কেউ এবং খরচ মেটানোর কোনো সুযোগ। বিদেশে'র জীবন'টা অনেকটাই নিঃসঙ্গ এবং একাকী। মানুষ'যে আসলে একা—এর সংজ্ঞা বুঝবেন এখানে আসার পর।
এতকিছু শেষে বিদেশ এসেছেন পারিবারিক/নিজস্ব/সামাজিক এক্সপেকটেশন্স কতটুকু বাড়বে সেটাও মাথায় রাখতে হবে। পাওয়া/না-পাওয়ার ক্যালকুলেশনে জীবন থেকে ফুরিয়ে যাওয়ার দুঃখ কিন্তু আরো বেশি। দিনশেষে ভালো থাকার জন্যই এত আয়োজন—লোক দেখানোর জন্য নয়। মন যেটা-যতটুকুতে খুশি কিংবা রিস্ক-চ্যালেঞ্জ উপভোগ করছেন সেটাই মুখ্য, ওটুকুই যথেষ্ট। মিলিয়নিয়ারের পর বিলিয়নিয়ার আছে, এগুলো কেবলই সংখ্যা। যতোদূর হাঁটবেন ততবেশি অনিশ্চিত এই জীবনটা/ভবিষ্যত কতো তুচ্ছ সেটা বুঝতে পারবেন, তাই নিজের সন্তুষ্টির লাগাম ধরতে পারাও জরুরি।
প্রতিটি বিষয় ব্যক্তি-সাপেক্ষ ও পরিস্থিতি-নির্ভর। ইনস্পিরেশন দেওয়ার মতো অনেক কনটেন্ট আছে, তবে আমি কিছু যৌক্তিক ক্যালকুলেশন তুলে ধরলাম। ডিমোটিভেট করছি না—এটাই বাস্তব। তবে নিজের উপর বিশ্বাস থাকলে আপনিও পারবেন, তবে লাগবে প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা। এখানে বেশিরভাগই আমার নিজস্ব মতামত/অভিজ্ঞতা। সিদ্ধান্ত আপনার—আশা করি ভেবে-চিন্তে নিবেন।
আমাকে অনেকেই ইতালিতে পড়াশোনা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করে থাকেন। এই ভিডিওতে আমি একটা রোডম্যাপ দেওয়ার চেষ্টা করেছি যা ২০২৬ সালে ইতালিতে মাস্টার্সে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের কাজে লাগবে। আমি নিজেও এরকম একটা টাইমলাইন অনুসরণ করেছিলাম।
বর্তমানে'র এই সময়টা পরিকল্পনার জন্য একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (ব্যাংক স্টেটমেন্ট) তাই সম্পূর্ণ ভিডিও ভালো করে দেখুন, ভয়েসের পাশাপাশি স্ক্রিনে এক্সট্রা কিছু তথ্য/হ্যাকস দেওয়ার চেষ্টা করেছি, আশা করি উপকৃত হবেন। সময় নিয়ে আপনার পরিস্থিতি অনুযায়ী প্লান করুন তারপর আস্তে আস্তে আগান। শুভকামনা রইল সবার জন্য 🤜🤛
তথ্যগুলো প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হয় তাই অবশ্যই যাচাই করে নিবেন এবং আপনার পরিচিত যারা বিদেশে পড়াশোনা'র প্রস্তুতি নিচ্ছে তাদের কাছে শেয়ার করার অনুরোধ রইলো।
এটি আমার দ্বিতীয় ভিডিও আমি মূলত কৃষি এবং উচ্চশিক্ষা নিয়ে ভিডিও বানানো'র চেষ্টা করি, কমেন্টে আপনার মতামত এবং প্রশ্ন জানাতে পারেন এবং ভালো লাগলে অবশ্যই চ্যানেলে যুক্ত হবেন, ধন্যবাদ।
KBD Zahid
গ্র্যাজুয়েট প্রস্তুতির পাশাপাশি একাডেমিক কাজের বাইরে গত দেড় মাসে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো'র একটা WUR'তে কী কী উন্মুক্ত ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে, তা একটু দেখে নিতে পারেন।
বিশেষ করে থার্ড-ইয়ার ও ফোর্থ-ইয়ারের শিক্ষার্থীদের জন্য এই ধরনের ইভেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের এই পর্যায়ে এমন ইভেন্টগুলো কেবল জ্ঞান বাড়ায় না বরং নিজের স্কিল, দুর্বলতা, মার্কেটেবিলিটি এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, নিজের প্রোফাইলের সামঞ্জস্যতা বোঝার সুযোগ দেয়।
I wish student from our country had the opportunity to explore the potential possibilities and challenges within themselves. Sometimes we thrive, sometimes we stumble, but these experiences help us to refine who we are and what needs to be done.
Thanks!
2 months ago | [YT] | 1
View 5 replies
KBD Zahid
ইতালি'তে আমার ডিপার্টমেন্টে আমি'ই প্রথম বাংলাদেশী ছাত্র। গত সপ্তাহে ডিরেক্টরের সাথে ইনকামিং শিক্ষার্থীদের নিয়ে কথা হলো এর আগেও ডিপার্টমেন্টে আরো বাংলাদেশী শিক্ষার্থী'র সম্ভাবণা নিয়ে কোর্ডিনেটরের সাথে কথা হইছে। যতটুকু মাথায় ধরেছে, তাদের বুঝানের চেষ্টা করেছি পড়াশোনা'র জন্য ইতালি আমাদের জন্য খুবই পছন্দের একটা জায়গা। টিউশন ফি নাই, কতো রকমের স্কলারশিপ, স্টাইপেন দিচ্ছে, লিভিং খরচও তুলনামূলক কম আরো কতো কি।
কিন্তু বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরা কি সত্যিই পড়াশোনা করতে আসে! বাস্তবতা আসলে অন্যরকম, আপন প্রান বাঁচা টাইপের মানুষের জন্য পড়াশোনা শুধু'ই একটা ব্যানার। আর নিজের খেয়ে এতোকিছু ভাবার সময়'ই কই। আসার পর লেখাপড়া বাদ কিংবা গুরুত্ব না দিয়ে অন্যদিকে ফোকাস করে চলে যায় মামা/চাচাদের কাছে ইউরো কামানোর ধান্দায়। যেটা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আমাদের দেশে'র শিক্ষার্থীদের প্রতি একটা বাজে দৃষ্টি'র সূচনা করে। এছাড়াও এরা খুব ভালো জানে আমাদের ইকোনমিক, কালচারাল এবং বর্তমানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের স্টেটাস। ইমপ্রেশনস এমনিতেই খারাপ আরো হইলে সেটা পাইপলাইনেও ইফেক্ট পরে এবং প্রতিনিয়ত পরতেছে।
ডিরেক্টরে'র ইমেইলে স্পষ্ট যে ❝আমাদের দেশে'র শিক্ষার্থীদের ভিসা পাওয়াটাও অনেকটা নির্ভর করে ঐ ডিপার্টমেন্টে ইতোমধ্যে রানিং শিক্ষার্থীদের আছে তাদের অবস্থান সম্পর্কে❞ সম্প্রতি তারা বিভিন্ন ভাবে ভেরিফিকেশন করে যেটা হয়তো এতোটা সামনে আসে না। এসবও ভিসা জটিলতার অন্যতম কারণ তাছাড়া সম্প্রতি বিভিন্ন অভিবাসন নীতিগুলিও দেখছেন'তো। এগুলো কেন বলতেছি জানিনা, কোন টার্গেট অডিয়েন্স নাই। তবুও সামগ্রিকভাবে, যারা স্টুডেন্ট ভিসায় আসতে চায় তাদের স্টুডেন্ট হওয়ার মনোভাব'ই রাখা উচিত।
যদিও UniTrento'তে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের অবস্থান কিছুটা ভালো। তবে ইতালি'র অনেক ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষার্থী'রা এসে পরবর্তী'তে অন্যদিকে মনোযোগী হয়ে উঠে। এদিকে একাডেমিক বিষয়গুলোও এতো সহজ না, সময় না দিলে হবে না। বুক ফুলিয়ে "আমি'তো শুধুমাত্র আসার জন্য স্টুডেন্ট ভিসা নিসি" বলা মানুষগুলো'র দিকে দুইবার তাকাই। হাউ কিউট! এদিকে নেদারল্যান্ডস-ইতালি ঘুরেফিরে ইন্ডিয়ান-পাকিস্থানি বহু স্টুডেন্ট দেখি সে-তুলনায় বাংলাদেশী স্টুডেন্ট অনেক অনেক কম, সেটা আরেক হিস্টোরি।
দেশি মানুষের সাইকোলজি আরেক ডিজাস্টার। ইতালি মানেই টাকা আর টাকা, গেইম, টারজান ভিসা, কৃষি ভিসা ছাড়াও কতো কি। কিছু ছা-পোষা পাব্লিক এসে দাঁত বের করে দেশে'র মানুষদের এখান থেকে এসব'ই দেখায়। গোলামী করা জাতি'র কাছে এসব দেশের সাধারণ পাব্লিকও স্যার, কিন্তু এরা'যে কয় পয়সার পাত্তা সেটা বাদ'ই দিলাম। আর অনেকক্ষেত্রে আপনি বৈধ হয়েও অবৈধের ভাইব পাবেন, কারণ দিনশেষে আপনি বেঙ্গালি। যাইহোক ট্যাকার হিসাবে ভালো, দেশে গেলেও একটু ভাবসাব আসে। কয়দিন আগে দেখলাম বাথট্যাবে মনিটর লাগাইছে একজন, বুঝতে হবে'তো ইতালি ফেরত।
3 months ago | [YT] | 1
View 0 replies
KBD Zahid
তফাৎ!
পাশের গ্রামের অমুক বন্ধু ইস্টু খেলে কোটিপতি, আগে ইস্টার খাইতে ফাঁটতো এখন বেনসন ছাড়া খায়না। পাছা'র নিচে কেটিএম বাইকও আছে। আঙ্কেলও বুঝি ভালো'ই খুশি, পোলা'র কামাই ভালো। এদিকে আমার হইলো সামনে থিসিস সেমিস্টার! আর কয়টা টাকা থাকলে ঐ স্পেশালাইজড কোর্সটা করা যাইতো। গ্রোয়িং টেনশন চাকরি-বাকরি'র যা অবস্থা ফ্যামিলি থেইকা আর কতো!
দেশি সেলিব্রিটি'রা যা শিখাইল দাদা! জোয়ান-বুড়া'রা এখন সকাল-বিকাল শুভেচ্ছা জানায়। কোনদিক দিয়া ব্যক্তিত্ব হারিয়ে ফেলছেন টের'ই পাচ্ছে'না শিক্ষক, ব্যবসায়ী, ছাড়াও বহু ক্যাটাগরির মানুষ। খেয়াল কৈ, ডলার কৈ! মনিটরাজেশন কই! কিন্তু বায়োলজি'র ঐ স্যার'টা ২০১৭ সালের পর প্রোফাইল চেঞ্জ করার সময় পায় নাই, পরীক্ষার খাতায় ভুলের সাথে বিস্তারিত ব্যাখ্যা, রাতের খাবার খেয়ে স্যার কি এগুলাই করে?
আরেহ্ দেশে বহু সমস্যা! বিদেশে যামু গা। গুলিস্তান থেকে উত্তরা পর্যন্ত শুধু সমস্যা'র লিস্ট। চকচকে ইউরোপের চিল লাইফ! ক্যারিয়ার-পড়াশোনা বাদ দিলাম রক্ত-মরা মানুষ নিয়াও ব্যবসা, গডফাদার হলো "ভয়ের ব্যবসা" যেটা শিক্ষার্থীদের মানসিক বাঁধা'র এভারেস্ট। ইংরেজি - কঠিন, গনিত - কঠিন, টাকা দিয়ে প্রাইভেট পড়া লাগবো। রাস্তা দিয়া হাঁটলে ভুল হিসাব করতে করতে উষ্ঠা খাই, ভালো'টা দেখা সিস্টেমে নাই, রক্তে-মস্তিষ্কে কমপ্লেক্সিটি ট্রেইনড করা। ঐদিন লোকা'র (ইতালিয়ান বন্ধু) সাথে কথা হইলো! ছোট্ট একটা রোমের ভেতর মাইক্রোগ্রিনস প্রডাকশন করছে ৮/১০টা কন্টাক্ট কাস্টমার'ও আছে, ব্রাভো।
মিডিয়ায় কিন্তু কম'ই আসে, এই সেই পার্টি-প্যানেলের মারামারি ছাড়াও প্রথম শ্রেণীর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আর কি কি চলতেছে৷ আগে আছিলো কদম গ্রুপ এখন মার্কেটে চলে টিয়া প্যানেল। এ যেন অসৎ/খারাপ চর্চার ভরা ফাল্গুন ফিরেছে, সুপ্ত ক্যারেক্টার-গুলো বের হচ্ছে। অটোরিকশা'র বদলে ২/৪টা রকেট সাইন্স টাইপের কিছু হইলে নামের সাথে কাম মিলতো কিন্তু! আওবাও রেংকিং ছাড়া আসল ভ্যালু আছে কয়টার! জংধরা স্লাইড রেখে রিয়্যালটাইম-কনটেক্সচুয়্যাল হইলে ভালোই হইতো না? ওগেনিনগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যাম্পল প্রশ্ন দেখে এটাই প্রথম মাথায় আইছিলো - দরকার কী আর আমরা গিলতেছি কি।
এছাড়াও, দেশে কেকপট্টি হয়ে যায় ভাইরাল, খিচ মাইরা চিৎকার কইরা ভাইরাল - পাবলিক আবার গিলতেছেও। হানিয়া গেলো দেশে, মার্কেটিং করলো সানসিল্ক, রাত ৩:৩০ পর্যন্ত কন্টেন্ট বানাইলো থার্ড ইয়ারের স্টুডেন্ট। হাজার হাজার পেইজ থেকে এনালাইসিস করলো, মিডিয়াগুলোও হিড়িক দিলো। এদিকে কৃষি, পরিবেশ, খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশ সচেতনতা এগুলো নিয়া কারো ভ্রুক্ষেপ নাই, টিআরপি জমে না এগুলা দিয়া, মাথা ঘামানো নাই। স্বাধীনতার পর থেকে'ই অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ আরো ৫০ বছর পরেও এমন'ই থাকবে।
বাংলাদেশের চেয়ে ছোট দেশ নেদারল্যান্ডস ১৯৪৪-৪৫ এর "Hunger Winter" প্রায় ২০ হাজার মানুষ মারা যাওয়ার পর থেকে কৃষি নিয়ে এরা কি করছে তা পুরো বিশ্বের কাছে বিস্ময়, কৃষি পণ্যরপ্তানিতে সারা বিশ্বের দ্বিতীয়। আমাদের ১৯৭৪ সালে'তো প্রায় ১.৫ মিলিয়ন মানুষ মারা গেছিলো, এতদিনে এটলিস্ট স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া যাইতো কিন্তু! চুষে খেতে খেতে বাকী বলতে হাড্ডির ভেতরে'র ক্যালসিয়াম টুকুও বাকি নাই। এইদিকে অভুক্ত'রা বলে, যাই'হোক তারাতারি নির্বাচন দরকার। আয় হ্যায়!
ইতালিতে সামার ভেকেশনে আঙ্গুর হার্ভেষ্টের কাজ করতে গেছিলাম দুইদিন। সাথে মালিক, মালিকের জামাই, ভাই, ছেলে-মেয়ে সবাই কাজ করলো। হেক্টরের পর হেক্টর বাগান, নিজস্ব সেলার- ওয়াইন ব্যান্ড। তাদের মিলিয়নিয়ার বললে ভূল হবেনা হয়তো, তারপরও ফিল্ডে কাজের দক্ষতা দেখার মতো। ভাবতেছিলাম এদের দেশি ভার্সন কেমন হইতো! হয়তো দু-চারজন ছাতা দিয়া দাঁড়ানো থাকতো ১০ মিনিট পর পিএস এসে বলতো "স্যার! পরিবেশটা দারুণ না?"
🙏
3 months ago | [YT] | 4
View 0 replies
KBD Zahid
এই'যে রুটিন দেখতেছেন, এটা হলো আমার বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সের দ্বিতীয় সেমিস্টারের সাপ্তাহিক ক্লাসের নমুনা (সোমবার থেকে শুক্রবার) মোট কতো ক্রেডিট করতেছি সেটা বললাম না, একটু কষ্ট করে রুটিন'টা দেখলেই ধারণা পাবেন, এটাই ওদের দেওয়া স্ট্যান্ডার্ড স্ট্রাকচার। ক্লাসের শুরু-শেষ এবং ক্লাসের নির্ধারিত সময় বিভিন্ন রংয়ে উল্লেখ করা আছে।
ক্লাসের সময় নিয়ে একটু বলি, ৩ ঘন্টা এবং ২ ঘন্টা ছাড়া কোন ক্লাস নাই তবে ঘন্টার মাঝে ছোট বিরতি আছে। মনোযোগ দিতে না পারলে বাহিরে গিয়ে কফি কিংবা হাঁটাচলা করেন সমস্যা নাই, ল্যাপটপ নিয়া অন্য কাজও করতে পারেন সম্পূর্ণ স্বাধীনতা আছে। কিন্তু ব্যচেলরে'তো ১ ঘন্টা ক্লাস করতে করতে মাঞ্জা ধরে যাইতো - মনে হইতো একটু পর ফজরের আযান দিবে হয়তো, কতো অভিযোগও শুনছি ২ ঘন্টার ল্যাব নিয়া।
কোর্স স্ট্রাকচার এমভাবে করা যে ফাইনালে'র আগের রাতে পড়াশোনা করে পাশ করে ফেলবেন তার সুযোগ নাই, ক্লাসের ভেতরে'ই প্রেজেন্টেশন, ভাইবা, গ্রুপওয়ার্ক, ইনস্ট্যান্ট কুইজ, রিপোর্ট ইত্যাদি - সময় ২ ঘন্টা মানে শেষ করতে ২ ঘন্টা'ই লাগবে। ব্যচেলরের মতো এতো হাইপার হইলে হচ্ছে না- এগুলা মামুলি জিনিস। আবার প্রতিটি কাজের মান ধরে নাম্বার তুলতে পারাও খুব একটা সহজ না কিন্তু। যদিও আমি নিজে ব্যাকবেঞ্চার তাই আরো চাপ!
যারা বাহিরে পড়াশোনা নিয়ে ভাবতেছেন তারা রংবেরঙের অনেক কিছুই দেখবেন কিন্তু সত্যিকার ধকল এবং পরিশ্রম'টা দেখবেন না। তাই বাংলাদেশের সিস্টেম এবং ক্যাপাসিটি নিয়ে বাহিরে আসলে অনেক কষ্ট করা লাগবে সেভাবে মাথায় সেটআপ রাখা জরুরি। এরা ব্যাচেলরে যা পড়াশোনা করে তার কাছে আমাদের তুলনা করা চলবে না। আর যদি ভাবেন টাকা কামাবো কোনরকম শেষ করে সাদা চামড়া ধরে থেকে যাবো তাহলে আলাদা হিসাব।
আগে থেকে'ই নিজের ভালো লাগার ফিল্ড নির্ধারণ করে সে অনুযায়ী কাজ করে যাওয়া উচিত। যেমন ধরুন আপনার প্লান্ট জেনেটিক্স ভালো লাগে, ব্যচেলরে এই কোর্সের সময় সর্বোচ্চ মনোযোগ, এক্সট্রা পড়াশোনা ও বিভিন্ন ওয়ার্কশপ-সেমিনারে অংশগ্রহণ করা উচিত। নিজের এই ইন্টারেস্ট বিভিন্নভাবে গল্পের মতো সাজিয়ে নিজেকে উন্নত করতে হবে। নিজের সিভিতে যেনো প্লান্ট জেনেটিক্সের একটা ভাইব থাকে, অনার্স শেষ করে আপনি রকেট-সাইন্স সমাধান করে ফেলবেন এটা হয়তো ওনারাও আশা করে না। তবে আপনার সাজানো প্রোফাইলের ওয়ার্ক-ফ্লু হয়তো জরুরি।
দু'একটা রিসার্স পেপার বের করে "আপনারে দেখলেই বুঝা যায় উচ্চশিক্ষিত" ভাব নিয়ে চলা মানুষ অনেক আছে, জিজ্ঞেস করলে ইংরেজিতে ২ মিনিটে নিজের কাজের উপস্থাপন করতে পারবে না। আমি বলছি না যে পেপার্স কাজের না, তবে সবচেয়ে জরুরি হলো কি করেছেন সেইটা এবং সম্পর্কিত পারিপার্শ্বিক বিষয়গুলো নিয়ে পরিষ্কার থাকা। এডমিশনের সময় কয়টা পেপার'স আছে এমন প্রশ্ন করে কি'না জানি না তবে যেটুকুই করেছেন সেটা নিয়ে কি ধারণা রাখেন, ঐটা জরুরি।
- নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও মতামত থেকে বললাম, ভুল-ত্রুটি মাফ করবেন, কোন সংযুক্তি জানালে আরো কৃতজ্ঞ হবো। ধন্যবাদ।
4 months ago | [YT] | 3
View 0 replies
KBD Zahid
যারা ভাবেন বিদেশ যাবো, পড়াশোনার পাশাপাশি জব করে সব খরচ তুলে নিবো—লেখাটা তাদের জন্য!
অনেকেই বলে ইউরোপে পড়াশোনা সহজ, আমিও বলি হ্যাঁ! কিন্তু এরকম না যে পরীক্ষার আগে এক সপ্তাহ পড়াশোনা করে শেষ করে ফেলবেন। পুরো সেমিস্টার জুড়েই এনগেজড থাকতে হয়। ল্যাব, প্র্যাকটিক্যাল, লার্নিং বাই ডুয়িং, প্রজেক্ট, প্রেজেন্টেশনসহ রিসার্চ পেপার ভিত্তিক বিভিন্ন মডিউলে পড়াশোনা করতে হয়। সেমিস্টারের কোর্সগুলোও একে-অপরের সাথে সম্পর্কিত। যেমন ধরুন, একটা ক্লাসে স্ট্যাটিসটিকস বা প্রোগ্রামিং শিখছেন, ফাইনালে অন্য ক্লাসের রিপোর্টে সেটা ইমপ্লিমেন্ট করতে হবে। একটা মিস করলে আরেকটায় প্যারা!
দুই বছরের মাস্টার্সে যদি ১২০ ক্রেডিট হয়, ৪ সেমিস্টারে ভাগ করে দেখুন তো—সপ্তাহে কত ঘন্টা ক্লাস/অ্যাক্টিভিটি থাকে! যদিও ইউনিভার্সিটির সিস্টেমের উপর অনেকটা নির্ভর করে, তবুও ক্লাস ছাড়াও ক্রেডিট রিকগনিশনের জন্য বিভিন্ন উপলক্ষে আপনার দিনের বেশিরভাগ সময় কেটে যাবে। ডিপার্টমেন্ট থেকে বাসার দূরত্ব'তো আরেকটা ফ্যাক্টর। যেমন ধরুন, ফাইনালের ১০০ মার্কসকে ভাগ করা হয় বিভিন্ন প্রোপরশনে ৫% / ১০% / ২০% প্রজেক্ট + ল্যাব + রিপোর্ট + প্রেজেন্টেশন + ভাইভা ছাড়াও কতো'কি, প্রফেসরের নিদর্শনা পেলে বুঝবেন বাকী ইতিহাস। কখন কী মিস করে কোনটা হারাচ্ছেন চোখ-কান খোলা না রাখলে অনেকসময় বুঝতেই পারবেন না।
প্ল্যানিং আপনার ব্যক্তিগত। যেমন ধরুন, ২ বছরের মাস্টার্স ঠিক সময়ে শেষ করতে চাইলে কাজ এবং পড়াশোনার ম্যানেজমেন্ট সহজ হয় না—অনেক ক্ষেত্রে অসম্ভব। ইউনিভার্সিটির সময়, রান্নাবান্না, গ্রোসারি, পারসোনাল কেয়ার, ঘুম, হোমওয়ার্ক—এসব শেষ করার পর খুব বেশি সময় থাকে না। সকাল/দুপুর/বিকেলে ইউনিভার্সিটি, এরপর কাজে গিয়ে রাত ১১/১২ টার দিকে বাসায় এসে রান্নাবান্না, খাওয়া, পড়াশোনা, আবার কালকের জন্য ব্রেকফাস্ট + লাঞ্চ রেডি করা! সকাল ৬টার আগে ওঠা! কী মনে হয়? আবার ব্যালেন্স লাইফ স্টাইল না থাকলে, নিজের শরীরের যত্ন না নিলে, কিছুদিন পর এর ফল'ও আস্তে আস্তে টের পাওয়া যায়।
আরেকটা জরুরি বিষয় কাজের ফ্লেক্সিবিলিটি। আপনার ফ্রি সময়েই কাজ করতে পারবেন—এমন কাজ কয়টা আছে? ভালো/সহজ কাজ কিন্তু আপনার একাডেমিক শিডিউলের সাথে মিলে নাই, তখন কাজ নাকি পড়াশোনা? দুইটাই'তো দরকার। এদিকে ৮ ঘন্টার নিচে কাজ পাওয়াও কঠিন, আছে দূরত্ব, কন্ট্রাক্টের ধরণ সহ পরিবেশগত (রোদ/বৃষ্টি/স্নোফল) কতো মাপকাঠি। অনেকে বলে ডেলিভারি জব, রেস্টুরেন্ট, অড জব ইত্যাদি দিয়ে হয়ে যায়। শিউর না হয়তো সম্ভব! কিন্তু বাংলাদেশ ছাড়াও সমমানের বহু দেশ থেকে বহু মানুষ এগুলাই করছে। সেখানে ভাগ মেরে চলতে গেলে কীরকম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বেন সেটাও দুইবার ভাবতে হবে। সপ্তাহের ছুটির দিনে কাজ করতে পারেন, কিন্তু কাহিনি একই অতো সস্তা না। আপনার ধরার আগেই দেখবেন আরেকজন অর্ডার নিয়ে গেছে! বাঁচতে হলে কিলোমিটার না দেখে'ই ডেলিভারি ধরতে হবে। সব স্ট্রেস সামাল দিয়ে সবচেয়ে জরুরি হলো পড়াশোনায় ফোকাস করতে পারা। এদিকে বছর শেষে নির্দিষ্ট ক্রেডিট শেষ করতে না পারলে আরেক বিপদ! টিউশন ফি বেড়ে যাওয়া/ওয়েভার বা স্কলারশিপ কমে যাওয়া/শেষ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
আপনার বিভিন্ন আয়ের উৎস থাকতে পারে, সেটা অন্য হিসাব। তবে ইউরোপে থাকতে হলে সর্বনিম্ন ৫০০ ইউরো (প্রায় ৭০ হাজার টাকা) লাগবেই। একটা হিসেব করেন'তো—ঘন্টায় সর্বনিম্ন ৮ ইউরো বেতনে (জার্মানি/নেদারল্যান্ডস এসব দেশে ঘন্টা/ইউরো বেশি পাবেন হয়'তো কিন্তু খরচও তেমন) মাসিক খরচ তুলতে হলে সপ্তাহে অন্তত ১৬ ঘন্টা কাজ করতে হবে। পড়াশোনা সহ বাকি সবকিছু শেষে এই সময়টা বের করা সত্যিই চ্যালেঞ্জিং। এর সাথে আছে ভাষা, নতুন কালচার, সিস্টেম, পরিবেশ এবং ভিন্ন দেশে “পরগাছা”র মতো চলাফেরা। লিগ্যাল ডকুমেন্টস, ইনস্যুরেন্স, হাউজিং কন্ট্রাক্ট—ছাড়াও আছে বহুরংয়ের বুঝাপড়া! বর্তমানে বিভিন্ন দেশের অভিবাসন নীতিমালাও আরেকটা বড় ইস্যু।
একেক শহর/দেশে সুযোগ ও সিস্টেমের ভিন্নতা আছে। কিন্তু কেউ এসে ১ বছরের মাঝেই অডি নিয়ে ঘুরছে, ফেসবুকে জমকালো ছবি দিচ্ছে, আইফোন সহ হেভি লাক্সারিয়াস কারবার-দরবার দেখে চোখ কপালে তুলে গাট্টি-বস্তা নিয়ে চলে আসলেন, অথচ বাস্তবতা শুনলেন না/বুঝলেন না পরে কয়দিন গেলে কিন্তু ধান=চালের হিসেব বুঝতে পারবেন। দেশ যাদের তিতা লাগে তাদের বিদেশের “তিতা”র কতো রকম স্বাদ হতে পারে সেটা'র ফিল দিতে পারলে ভালো হতো। অনেকে আবার এজেন্সির মাধ্যমে আসে, প্রাথমিক ঐ চ্যালেঞ্জটা'ই নিতে রাজি না, প্রব্লেম/ডিফিকাল্টিগুলো ফেস না করে তাদের উপর ছেড়ে দিই, একদম চ্যালচ্যালাইয়া চইলা আসতে চায় এরপর এখানে এসে সমুদ্রে ঝাঁপ দেওয়ার মতো অবস্থা! শুরু হয় আসল এপিসোড।
স্টুডেন্ট ছাড়াও বহু মানুষের সাথে কথা হয়েছে। অনেকেই ডকুমেন্টের জন্য দেশে যেতে পারে না, হয়তো ইনকাম আছে/নাই কিন্তু সবশেষে শান্তি নাই আকাশের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে। লাখ লাখ টাকা খরচ করে ইউরোপে এসে পড়াশোনা + ইনকাম বিষয়টা অনেক বেশি ওভার-হাইপড। মিডল-ক্লাস পরিবার থেকে এভাবে চিন্তা করার আগে দুইবার ভেবে নিওয়া উচিৎ। গত সপ্তাহে নিউজে দেখলাম জার্মানিতে গত ৩ মাসে ৩ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। এছাড়াও কিছুদিন আগে জাপানে “আপন” নামের এক শিক্ষার্থী না খেয়ে রুমের ভেতরেই মারা যায়—ছিল না খোঁজ নেওয়ার কেউ এবং খরচ মেটানোর কোনো সুযোগ। বিদেশে'র জীবন'টা অনেকটাই নিঃসঙ্গ এবং একাকী। মানুষ'যে আসলে একা—এর সংজ্ঞা বুঝবেন এখানে আসার পর।
এতকিছু শেষে বিদেশ এসেছেন পারিবারিক/নিজস্ব/সামাজিক এক্সপেকটেশন্স কতটুকু বাড়বে সেটাও মাথায় রাখতে হবে। পাওয়া/না-পাওয়ার ক্যালকুলেশনে জীবন থেকে ফুরিয়ে যাওয়ার দুঃখ কিন্তু আরো বেশি। দিনশেষে ভালো থাকার জন্যই এত আয়োজন—লোক দেখানোর জন্য নয়। মন যেটা-যতটুকুতে খুশি কিংবা রিস্ক-চ্যালেঞ্জ উপভোগ করছেন সেটাই মুখ্য, ওটুকুই যথেষ্ট। মিলিয়নিয়ারের পর বিলিয়নিয়ার আছে, এগুলো কেবলই সংখ্যা। যতোদূর হাঁটবেন ততবেশি অনিশ্চিত এই জীবনটা/ভবিষ্যত কতো তুচ্ছ সেটা বুঝতে পারবেন, তাই নিজের সন্তুষ্টির লাগাম ধরতে পারাও জরুরি।
প্রতিটি বিষয় ব্যক্তি-সাপেক্ষ ও পরিস্থিতি-নির্ভর। ইনস্পিরেশন দেওয়ার মতো অনেক কনটেন্ট আছে, তবে আমি কিছু যৌক্তিক ক্যালকুলেশন তুলে ধরলাম। ডিমোটিভেট করছি না—এটাই বাস্তব। তবে নিজের উপর বিশ্বাস থাকলে আপনিও পারবেন, তবে লাগবে প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা। এখানে বেশিরভাগই আমার নিজস্ব মতামত/অভিজ্ঞতা। সিদ্ধান্ত আপনার—আশা করি ভেবে-চিন্তে নিবেন।
ধন্যবাদ 💛
4 months ago | [YT] | 7
View 3 replies
KBD Zahid
ইতালিতে উচ্চশিক্ষা 🇮🇹🎓
VIDEO LINK - https://www.youtube.com/watch?v=J9_3N...
আমাকে অনেকেই ইতালিতে পড়াশোনা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করে থাকেন। এই ভিডিওতে আমি একটা রোডম্যাপ দেওয়ার চেষ্টা করেছি যা ২০২৬ সালে ইতালিতে মাস্টার্সে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের কাজে লাগবে। আমি নিজেও এরকম একটা টাইমলাইন অনুসরণ করেছিলাম।
বর্তমানে'র এই সময়টা পরিকল্পনার জন্য একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (ব্যাংক স্টেটমেন্ট) তাই সম্পূর্ণ ভিডিও ভালো করে দেখুন, ভয়েসের পাশাপাশি স্ক্রিনে এক্সট্রা কিছু তথ্য/হ্যাকস দেওয়ার চেষ্টা করেছি, আশা করি উপকৃত হবেন। সময় নিয়ে আপনার পরিস্থিতি অনুযায়ী প্লান করুন তারপর আস্তে আস্তে আগান। শুভকামনা রইল সবার জন্য 🤜🤛
তথ্যগুলো প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হয় তাই অবশ্যই যাচাই করে নিবেন এবং আপনার পরিচিত যারা বিদেশে পড়াশোনা'র প্রস্তুতি নিচ্ছে তাদের কাছে শেয়ার করার অনুরোধ রইলো।
এটি আমার দ্বিতীয় ভিডিও আমি মূলত কৃষি এবং উচ্চশিক্ষা নিয়ে ভিডিও বানানো'র চেষ্টা করি, কমেন্টে আপনার মতামত এবং প্রশ্ন জানাতে পারেন এবং ভালো লাগলে অবশ্যই চ্যানেলে যুক্ত হবেন, ধন্যবাদ।
Join 🩵
Facebook Page - www.facebook.com/kbdmhzahid
Youtube - youtube.com/@kbdmhzahid?si=9oaWAygFLMmiWihN
#StudyinItaly #HigherStudy #StudyAbroad #Bangladesh
4 months ago (edited) | [YT] | 2
View 0 replies