Hello friends my channel name is KRI-alochona , here I discuss about Lord Krishna, Song of Lord Krishna, Bhagvat Path, Krishna Katha,Recent events, news, bollywood Songs, lifestyle, defferent temple view,etc.
যুধিষ্ঠির বললেন- হে কৃষ্ণ! পৌষ মাসের শুক্লপক্ষের একাদশীর নাম কি, বিধিই বা কি, কোন দেবতা ঐ দিনে পূজিত হন এবং আপনি কার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে সেই ব্রতফল প্রদান করেছিলেন কৃপা করে আমাকে সবিস্তারে তা বলুন।
শ্রীকৃষ্ণ বললেন- হে মাহারাজ! এই একাদশী ‘পুত্রদা’ নামে প্রসিদ্ধ। সর্বপাপবিনাশিনী এই একাদশীর অধিষ্ঠাতৃ দেবতা হলেন সিদ্ধিদাতা নারায়ণ। ত্রিলোকে এর মতো শ্রেষ্ঠ ব্রত নেই। এই ব্রতকারীকে নারায়ণ বিদ্ধান ও যশস্বী করে তোলেন। এখন আমার কাছে ব্রতের মাহাত্ম্য শ্রবণ করুন।
ভদ্রাবতী পুরীতে সুকেতুমান নামে এক রাজা ছিলেন। তার রানীর নাম ছিল শেব্যা। রাজদম্পতি বেশ সুখেই দিনযাপন করছিলেন। বংশরক্ষার জন্য বহুদিন ধরে ধর্ম-কর্মের অনুষ্ঠান করেও যখন পুত্রলাভ হল না, তখন রাজা দুশ্চিন্তায় কাতর হয়ে পড়লেন। তাই সকল ঐশ্বর্যবান হয়েও পুত্রহীন রাজার মনে কোন সুখ ছিল না। তিনি ভাবতেন পুত্রহীনের জন্ম বৃথা ও গৃহশূণ্য। পিতৃ-দেব মনুষ্যলোকের কাছে যে ঋণ শাস্ত্রে উল্লেখ আছে, তা পুত্র বিনা পরিশোধ হয় না। পুত্রবান জনের এ জগতে যশলাভ ও উত্তম গতি লাভ হয় এবং তাদের আয়ু, আরোগ্য, সম্পত্তি প্রভৃতি বিদ্যমান থাকে। নানা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত রাজা আত্মহত্যা করবেন বলে স্থির করলেন। কিন্তু পরে বিচার করে দেখলেন- ‘আত্মহত্যা মহাপাপ, এরফলে কেবল দেহের বিনাশমাত্র হবে, কিন্তু আমার পুত্রহীনতা তো দূর হবে না। তারপর একদিন রাজা নিবিড় বনে গমন করলেন। বন ভ্রমণ করতে করতে দ্বিপ্রহর অতিক্রান্ত হলে রাজা ক্ষুধা-তৃষ্ণায় অত্যন্ত কাতর হলেন। এদিক ওদিক জলাদির অনুসন্ধান করতে লাগলেন।
তিনি চক্রবাক, রাজহংস এবং নানারকম মাছে পরিপূর্ণ একটি মনোরম সরোবর দেখতে পেলেন। সরোবর দেখতে পেলেন। সরোবরের কাছে মুনিদের একটি আশ্রম ছিল। তিনি সেখানে উপস্থিত হলেন। সরোবর তীরে মুনিগণ বেদপাঠ করছিলেন। মুনিবৃন্দের শ্রীচরণে তিনি দন্ডবৎ প্রণাম করলেন।
মুনিগণ রাজাকে বললেন-হে মহারাজ! আমরা ‘বিশ্বদেব’ নামে প্রসিদ্ধ। এই সরোবরে স্নান করতে এসেছি। আজ থেকে পাাঁচদিন পরেই মাঘ মাস আরম্ভ হবে। আজ পুত্রদা একাদশী তিথি। পুত্র দান করে বলেই এই একাদশীর নাম ‘পুত্রদা’।
তাঁদের কথা শুনে রাজা বললেন-হে মুনিবৃন্দ! আমি অপুত্রক। তাই পুত্র কামনায় অধীর হয়ে পড়েছি। এখন আপনাদের দেখে আমার হৃদয়ে আশার সঞ্চার হয়ে। এ দুর্ভাগা পুত্রহীনের প্রতি অনুগ্রহ করে একটি পুত্র প্রদান করুন।
মুনিগণ বললেন- হে মহারাজ! আজ সেই পুত্রদা একাদশী তিথি। তাই এখনই আপনি এই ব্রত পাল করুন। ভগবান শ্রীকেশবের অনুগ্রহে অবশ্যই আপনার পুত্র লাভ হবে।
মুনিদের কথা শোনার পর যথাবিধানে রাজা কেবল ফলূমূলাদি আহার করে সেই ব্রত অনুষ্ঠান করলেন। দ্বাদশী দিনে উপযুক্ত সময়ে শস্যাদি সহযোগে পারণ করলেন। মুনিদের প্রণাম নিবেদন করে নিজগৃহে ফিরে এলেন। প্রতভাবে রাজার যথাসময়ে একটি তেজস্বী পুত্র লাভ হল।
হে মাহারাজ! এ ব্রত সকলেরই পালন করা কর্তব্য। মানব কল্যাণ কামনায় আপনার কাছে আমি এই ব্রত কথা বর্ণনা করলাম।
নিষ্ঠাসহকারে যারা এই পুত্রদা একাদশী ব্রত পালন করবে, তারা ‘পুত’ নামক নরক থেকে পরিত্রাণ লাভ করবে। আর এই ব্রত কথা শ্রবণ কীর্তনে অগ্নিষ্টোম যজ্ঞের ফল পাওয়া যায়। ব্রহ্মান্ডপুরাণে এই মাহাত্ম্য বর্ণনা করা হয়েছে।
🌿✨ আগামী ২৫শে ডিসেম্বর — পবিত্র তুলসী পূজা দিবস ✨🌿 শাস্ত্রে বলা হয়েছে — তুলসী সর্বমঙ্গলময়ী। তাঁর দর্শনে পাপ নাশ হয়, স্পর্শে শরীর শুদ্ধ হয়, জল সেচনে ভয় দূর হয়, রোপণে ভগবদ্ভক্তি বৃদ্ধি পায়, আর প্রণামে শ্রীকৃষ্ণচরণে অগাধ প্রেম লাভ হয়। 🙏 এইজন্য মা তুলসী কেবল একটি গাছ নন — তিনি ভক্তি, পবিত্রতা, শান্তি ও কল্যাণের জীবন্ত প্রতীক 🌿💛 যেখানে তুলসী থাকেন, সেখানে নারায়ণের কৃপা বিরাজ করে। আগামীকাল সকলে মিলে স্নান করে পবিত্র বস্ত্র ধারণ করে মা তুলসীকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে সকাল আটটা থেকে দশটা, কিংবা বিকাল সাড়ে পাঁচটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা এই সময়ে পূজা করুন।
🕉 তুলসী প্রণাম মন্ত্র “ওঁম বৃন্দায়ৈ তুলসী দেব্যৈ প্রিয়ায়ৈ কেশবস্য চ। বিষ্ণুভক্তি প্রদে দেবী সত্যবত্যৈ নমো নমঃ॥” 🙏 এই ২৫শে ডিসেম্বর আমরা সকলে মিলে মা তুলসীর চরণে প্রণাম জানাই এবং প্রার্থনা করি — আমাদের ঘরে ঘরে শান্তি, সুস্থতা, ভক্তি ও মঙ্গল বর্ষিত হোক। ✨🌿 শুভ তুলসী পূজা দিবসের অগ্রিম প্রণাম 🌿✨
পক্ষবর্ধিনী মহাদ্বাদশীর ব্রতোপবাস ✨ শ্রীল উদ্ধারণ দত্ত ঠাকুর ও শ্রীল মহেশ পণ্ডিত ঠাকুরের তিরোভাব ✨ ১৬ ডিসেম্বর ,২০২৫ 📌 পারণ- পরের দিন দি ৯।৪৫ মিঃ মধ্যে মহাদ্বাদশী ব্রতের পারণ
উন্মীলনী ব্যঞ্জুলী চ ত্রিস্পৃশা পক্ষবর্ধিনী । জয়া চ বিজয়া চৈব জয়ন্তী পাপনাশিনী ।। দ্বাদশ্যোষ্টৌ মহাপুণ্যাঃ সর্বাপাপহরা দ্বিজ। তিথিযোগেন জায়ন্তে চতস্রশ্চাপরাস্তথা। নক্ষত্রযোগাচ্চ বলাৎ পাপং প্রশময়ন্তি তাঃ।। (হঃ ভঃ বিঃ ১৩।২৬৫-৬৬ ব্রহ্ম বৈবর্ত্ত পুরাণ বাক্য) ব্রহ্ম বৈবর্ত্ত পুরাণে সুতশৌনক সংবাদে যথা—হে দ্বিজ! উন্মীলনী, ব্যঙ্গুলী, ত্রিস্পৃশা, পক্ষবর্ধিনী, জয়া, বিজয়া, জয়ন্তী ও পাপনাশিনী-এই অষ্টদ্বাদশী মহাপুণ্যস্বরূপা ও নিখিল পাপনাশী। এই অষ্ট মহাদ্বাদশীর মধ্যে তিথিযোগে চারিটি ও নক্ষত্রযোগে অবশিষ্ট চারিটি হয়। এই সকল দ্বাদশী পাতকরাশি বিনাশিনী ।
পক্ষবর্ধিনী দ্বাদশী নিরূপণ—যে দ্বাদশীর পরে পূর্ণিমা বা অমাবস্যা ৬০ দণ্ড ভোগের পর পরের দিন কিঞ্চিৎ বৃদ্ধি হয়, তার পূর্বের দ্বাদশীকে পক্ষবর্ধিনী বলা হয়। একাদশীকে বৰ্জ্জনপূর্বক এই দ্বাদশীতে উপবাস করাই উচিত।
যুধিষ্ঠির বললেন, ''হে বিষ্ণু! আপনাকে আমি বন্দনা করি। আপনি ত্রিলোকের সুখ প্রদানকারী, বিশ্বেশ্বর, পুরুষোত্তম। আমার একটি সংশয় আছে। অগ্রহায়ণ মাসের শুক্লপক্ষের একাদশীর নাম কী, বিধিই বা কী এবং কোন দেবতা এই একাদশীতে পূজিত হন, তা আমাকে বলুন।''
শ্রীকৃষ্ণ বললেন, "হে মহারাজ! আপনি উত্তম প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেছেন, যার মাধ্যমে আপনার যশ চতুর্দিকে বিস্তৃত হবে। এখন এই একাদশীর কথা বর্ণনা করছি যা শোনামাত্রেই বাজপেয় যজ্ঞের ফল লাভ হয়।
অগ্রহায়ণ মাসের শুক্লপক্ষের একাদশী 'মোক্ষদা' নামে পরিচিত। সর্বপাপবিনাশিনী ও ব্রত মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠা এই একাদশীর দেবতা শ্রী দামোদর। তুলসী, তুলসী মঞ্জরী, ধূপ, দীপ ইত্যাদি উপচারে শাস্ত্রবিধি অনুসারে শ্রী দামোদরের পূজা করতে হবে। পূর্ববর্ণিত বিধি অনুসারে দশমী ও একাদশী পালন করতে হবে। এই উপবাস দিনে স্তব-স্তুতি, নৃত্য-গীত আদি সহ রাত্রি জাগরণ করা কর্তব্য।
হে মহারাজ! প্রসঙ্গক্রমে একটি অলৌকিক কাহিনী আমি বলছি। মনোযোগ দিয়ে এই ইতিহাস শ্রবণ মাত্রই সর্বপাপ ক্ষয় হয়। যে পিতৃপুরুষেরা নিজ নিজ পাপে অধঃযোনি প্রাপ্ত হয়েছে, এই ব্রত পালনের পুণ্যফল বিন্দুমাত্র তাদেরকে দান করলে তারাও মুক্তিলাভের যোগ্য হন। কোন এক সময় মনোরম চম্পক নগরে বৈখানস নামে এক রাজা ছিলেন। তিনি ছিলেন সমস্ত বৈষ্ণব সদ্গুণে বিভূষিত। প্রজাদের তিনি পুত্রের মতো পালন করতেন। তার রাজ্যে বহু বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণ বাস করতেন। রাজ্যের সকলেই ছিল বেশ সমৃদ্ধশালী। একবার রাজা স্বপ্নে দেখলেন যে তার পিতা নরকে পতিত হয়েছেন। তা দেখে তিনি অত্যন্ত বিস্মিত হলেন। পরদিন ব্রাহ্মণদের ডেকে বলতে লাগলেন, "হে ব্রাহ্মণগণ! গতরাত্রিতে স্বপ্নে নরকযাতনায় পিতাকে কষ্ট পেতে দেখে আমার হৃদয় বিদীর্ণ হচ্ছে। তিনি আমাকে লক্ষ্য করে বলতে লাগলেন, 'হে পুত্র! তুমি আমাকে নরকসমুদ্র থেকে উদ্ধার কর।' তার সেই অবস্থা দেখে আমার অন্তরে সুখ নেই। আমার এই বিশাল রাজ্য, স্ত্রী-পুত্র, কিছুতেই আমি শান্তি পাচ্ছি না। কী করি, কোথায় যাই কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না। আমার পূর্বপুরুষেরা মুক্তিলাভ করতে পারেন এমন কোন পুণ্য ব্রত, তপস্যা ও যোগের কথা আমাকে উপদেশ করুন। আমি তা অনুষ্ঠান করব। আমার মতো পুত্র বর্তমান থাকা সত্ত্বেও যদি পিতা-মাতা, পূর্বপুরুষেরা নরক যাতনা ভোগ করতে থাকেন, তবে সে পুত্রের কী প্রয়োজন?''
ব্রাহ্মণগণ বললেন, "হে মহারাজ! আপনার রাজ্যের কাছেই মহর্ষি পর্বত মুনির আশ্রম রয়েছে। তিনি ত্রিকালজ্ঞ। তাঁর কাছে আপনার মুক্তির উপায় জানতে পারবেন।" ব্রাহ্মণদের উপদেশ শ্রবণ করে মহাত্মা বৈখানস তাঁদের সঙ্গে নিয়ে সেই পর্বত মুনির আশ্রমে গমন করলেন। তাঁরা দূর থেকে ঋষিবরকে সাষ্টাঙ্গ প্রণাম করে তাঁর কাছে গেলেন। মুনিবর রাজার কুশলবার্তা জিজ্ঞাসা করলেন। রাজা বললেন, "হে প্রভু! আপনার কৃপায় আমার সবই কুশল। তবে আমি একদিন স্বপ্নযোগে পিতার নরক যাতনা ভোগ ও কাতর আর্তনাদ শুনে অত্যন্ত দুঃখিত ও চিন্তাগ্রস্ত হয়েছি। হে ঋষিবর! কোন পুণ্যের ফলে তিনি সেই দুর্দশা থেকে মুক্তি পাবেন, তার উপায় জানতেই আপনার শরণাগত হয়েছি।"
রাজার কথা শুনে পর্বত মুনি কিছুক্ষণ ধ্যানস্থ হয়ে বললেন, "হে মহারাজ! পূর্বজন্মে তোমার পিতা অত্যন্ত কামাচারী হওয়ায় তার এরকম অধোগতি লাভ হয়েছে। এখন এই পাপ থেকে মুক্তির উপায় বর্ণনা করছি অগ্রহায়ণ মাসের শুক্লপক্ষের মোক্ষদা একাদশী পালন করে সেই পুণ্যফল পিতাকে প্রদান কর। সেই পুণ্য প্রভাবে তোমার পিতার মুক্তি লাভ হবে।"
মুনির কথা শুনে রাজা নিজের প্রাসাদে ফিরে এলেন। সেই পবিত্র তিথির আবির্ভাবে তিনি স্ত্রী-পুত্রাদিসহ যথাবিধি মোক্ষদা একাদশী ব্রত পালন করলেন। ব্রতের পুণ্যফল পিতার উদ্দেশ্যে প্রদান করলেন। ঐ পুণ্যফল দানের সঙ্গে সঙ্গে আকাশ থেকে পুষ্পবৃষ্টি হতে লাগল। 'হে পুত্র! তোমার মঙ্গল হোক।' এই বলতে বলতে বৈখানস রাজার পিতা নরক হতে মুক্ত হয়ে স্বর্গে গমন করলেন।
হে মহারাজ যুধিষ্ঠির! যে ব্যক্তি এই মঙ্গলদায়িনী মোক্ষদা একাদশী ব্রত পালন করে, তার সমস্ত পাপ বিনষ্ট হয় এবং মৃত্যুর পরে মুক্তি লাভ করে। এই ব্রতের পুণ্য সংখ্যা আমিও জানিনা। চিন্তামণির মতো এই ব্রত আমার অত্যন্ত প্রিয়। এই ব্রতকথা যিনি পাঠ করেন এবং যিনি শ্রবণ করেন, উভয়েই বাজপেয় যজ্ঞের ফল প্রাপ্ত হন।"
🌼 শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা – তৃতীয় অধ্যায় : কর্মযোগ 🌼 ✨ “কর্মেই জীবন— আর সেই কর্মকে ঈশ্বরার্পিত করাই প্রকৃত যোগ।” ✨
তৃতীয় অধ্যায়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে শেখালেন— জীবন থেকে পালিয়ে যাওয়া নয়, কর্মের মধ্যেই ঈশ্বরকে পাওয়া যায়। ধ্যান, জ্ঞান, ত্যাগ— সবই উৎকৃষ্ট, কিন্তু কর্মযোগ সেই পথ, যেখানে ভক্ত প্রতিদিনের কাজের মধ্যেই কৃষ্ণকে অনুভব করে।
গীতার মূল শিক্ষা (অধ্যায় ৩)
🌿 ১. কর্ম করো — কিন্তু ফলের আশা ছাড়ো প্রভু বলেন— “কর্মণ্যেবাধিকারস্তে মা ফলেষু কদাচন।” অর্থাৎ, কাজ আমাদের কর্তব্য, ফল ঈশ্বরের ইচ্ছা। যে মানুষ নির্লিপ্ত হয়ে কাজ করে, সে-ই প্রকৃত ভক্ত।
🌿 ২. নিষ্ক্রিয়তা নয় — কর্মই জীবন অর্জুনের মতো আমাদেরও কখনো মনে হয় — “এতো দুঃখ, এতো জঞ্জাল… পালিয়ে যাই!” কিন্তু কৃষ্ণ বলেন— ধ্যানেও শান্তি, কর্মেও শান্তি — কিন্তু যিনি কর্ম ত্যাগ করেন, তিনি প্রকৃতপক্ষে বাঁধা বাড়ান। কারণ, এই বিশ্ব ঈশ্বরের ‘যজ্ঞযাত্রা’— সবাই নিজের অংশটুকু করবে।
🌿 ৩. নিঃস্বার্থ কর্মই ভক্তের অলঙ্কার যে কাজকে কৃষ্ণার্পণ করা যায়— সেই কর্ম পবিত্র। যে কাজও ত্যাগ করা যায় না, তা ভক্ত প্রভুর নামে করে নিলে— কর্মই হয়ে ওঠে ভক্তি।
🌿 ৪. জ্ঞানীগণও কর্ম করেন প্রভু উদাহরণ দিলেন— ব্রহ্মা, রাম, কৃষ্ণ… সকল অবতারও কর্ম করেন। তারা করেন— যাতে পৃথিবী সঠিক পথে থাকে। ভক্তও তাই করে— মন ঈশ্বরের কাছে, হাত কর্মে।
🌿 ৫. ঋষি, কৃষক, গৃহস্থ, সন্ন্যাসী— সকলের পথ একটাই কর্মযোগ শেখায়— পথ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু লক্ষ্য এক– ✨ ভগবানের প্রেম। ✨
💛 আমাদের জীবনে এর প্রয়োগ
• ঘরের কাজ প্রভুতে নিবেদন করলে তা পূণ্য। • অফিসের কাজ সততা দিয়ে করলে সেটাই যজ্ঞ। • মানুষের সেবায় হাত বাড়ালে সেটাই কৃষ্ণসেবা। • প্রতিদিন নিজের কর্তব্য ভালোভাবে পালন করাই ঈশ্বরের নিকট সর্বোত্তম উপহার।
কর্মকে ভক্তিতে রূপান্তরিত করাই বাস্তব যোগ।
🌸 ভক্তিমূলক ভাবার্থ
হে প্রভু, আমরা তো ভুলে যাই— যে প্রতিটি নিঃশ্বাস তোমার দান, প্রতিটি সক্ষমতা তোমার করুণা, প্রতিটি কর্মের ফল তোমার হাতে।
আজ তৃতীয় অধ্যায় শিখিয়ে দেয়— কৃষ্ণ! আমরা শুধু কাজ করবো— ফল তোমার চরণে সমর্পণ করবো। ভক্তি নয় শুধু নামজপ, ভক্তি হলো— যে কাজই করি, তোমার আনন্দের জন্য করি।
নৃসিংহদেবের বিপদ-হরণ শক্তি!! যে ভক্ত সত্যিকার ভক্তি ও আশ্রয় নেয়, নৃসিংহদেব নিজেই তার পথের সমস্ত অন্ধকার দূর করেন।। ১.ভক্তের ভয় দূর করেন শ্রীমদ্ভাগবত ৭.৯.২২- “হে নৃসিংহদেব!! আপনার করাল রূপ ভক্তদের জন্য চিরশান্তি।। যারা আপনাকে স্মরণ করে, তাদের ভয়, দুঃখ, বিপদ মুহূর্তে নাশ পায়।।” ভয়—অর্থাৎ মানসিক চাপ, অশান্তি, অজানা বিপদ—সব তিনি প্রশমিত করেন।। ২.অদৃশ্য শত্রু ও বাধা থেকে রক্ষা করেন: ভাগবত ৭.৮ অধ্যায়-এ উল্লেখ আছে,নৃসিংহদেব ভক্তের পথে থাকা দৈহিক, দৈবিক ও ভৌতিক তিন ধরনের কষ্ট নাশ করেন।। এই তিনটা হলো— 👉দৈবিক:অদৃশ্য শক্তি, অশুভ প্রভাব, অশান্তি 👉দৈহিক:শরীরজনিত কষ্ট, ভয়,বিপদ 👉ভৌতিক:মানুষজনের শত্রুতা, কাজের সমস্যা, দুর্ঘটনা ইত্যাদি ৩.ভক্তের জন্য “প্রহ্লাদ-রক্ষা” আশীর্বাদ: প্রহ্লাদ মহারাজকে যেমন আগুন,সাপ,হাতি,বিষ—কিছুই স্পর্শ করতে পারেনি,তেমনি ভক্তদেরও নৃসিংহদেব অদৃশ্য বর্ম প্রদান করেন।। এটা বলা হয় "নরসিংহ কবচ-রক্ষা"।। ৪.জীবনের আটকে থাকা পথ খুলে দেন: নরসিংহ পুরাণে বলা হয়েছে—যে ব্যক্তি নৃসিংহদেবকে স্মরণ করে বা তাঁর নাম জপ করে, তার জীবনের আটকে থাকা দরজা খুলে যায়।। চাকরি, ব্যবসা, পরিবার—যেখানে আটকে আছেন, নৃসিংহদেব সেখানে রাস্তাকে পরিষ্কার করে দেন।। ৫.পাপ ও নেতিবাচক শক্তি ধ্বংস করেন।। নাম জপ: “উগ্রং বীরং মহাবীরং নৃসিংহং পরমং দ্যম।।” এই মন্ত্রটি পাপ,ভয়,অশুভের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী রক্ষাকবচ।।
অনুবাদঃ যিনি তাঁর মনকে জয় করেছেন, মন তাঁর পরম বন্ধু কিন্তু যিনি তা করতে অক্ষম, তাঁর মনই তাঁর পরম শত্রু।
ভগবানের নাম স্মরণ, জপ, কীর্তন ও পাঠ মনকে পবিত্র করে। ভক্তি মানুষের অন্তর থেকে অহংকার, লোভ, ঈর্ষা ধীরে ধীরে মুছে দেয়। অর্থাৎ ভগবানের ভাবনাই অন্তরের শত্রুকে পরাস্ত করার বল দেয়। তাই অন্তরের শত্রুদের জয় করার পথ বাহিরে নয়, নিজের ভিতরেই। মন ও হৃদয় যখন পরিষ্কার ও ভগবানমুখী হয়, তখন মানুষ অন্তরের শত্রুর উপর বিজয়ী হয় — এবং সত্যিকার অর্থে মুক্ত ও শান্তিপূর্ণ জীবন পায়।। হরেকৃষ্ণ।। ।। জয় শ্রীকৃষ্ণ।
KRI-alochona
#পুত্রদা একাদশীর ব্রত মাহাত্ম্য!!!
যুধিষ্ঠির বললেন- হে কৃষ্ণ! পৌষ মাসের শুক্লপক্ষের একাদশীর নাম কি, বিধিই বা কি, কোন দেবতা ঐ দিনে পূজিত হন এবং আপনি কার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে সেই ব্রতফল প্রদান করেছিলেন কৃপা করে আমাকে সবিস্তারে তা বলুন।
শ্রীকৃষ্ণ বললেন- হে মাহারাজ! এই একাদশী ‘পুত্রদা’ নামে প্রসিদ্ধ। সর্বপাপবিনাশিনী এই একাদশীর অধিষ্ঠাতৃ দেবতা হলেন সিদ্ধিদাতা নারায়ণ। ত্রিলোকে এর মতো শ্রেষ্ঠ ব্রত নেই। এই ব্রতকারীকে নারায়ণ বিদ্ধান ও যশস্বী করে তোলেন। এখন আমার কাছে ব্রতের মাহাত্ম্য শ্রবণ করুন।
ভদ্রাবতী পুরীতে সুকেতুমান নামে এক রাজা ছিলেন। তার রানীর নাম ছিল শেব্যা। রাজদম্পতি বেশ সুখেই দিনযাপন করছিলেন।
বংশরক্ষার জন্য বহুদিন ধরে ধর্ম-কর্মের অনুষ্ঠান করেও যখন পুত্রলাভ হল না, তখন রাজা দুশ্চিন্তায় কাতর হয়ে পড়লেন। তাই সকল ঐশ্বর্যবান হয়েও পুত্রহীন রাজার মনে কোন সুখ ছিল না।
তিনি ভাবতেন পুত্রহীনের জন্ম বৃথা ও গৃহশূণ্য। পিতৃ-দেব মনুষ্যলোকের কাছে যে ঋণ শাস্ত্রে উল্লেখ আছে, তা পুত্র বিনা পরিশোধ হয় না। পুত্রবান জনের এ জগতে যশলাভ ও উত্তম গতি লাভ হয় এবং তাদের আয়ু, আরোগ্য, সম্পত্তি প্রভৃতি বিদ্যমান থাকে। নানা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত রাজা আত্মহত্যা করবেন বলে স্থির করলেন। কিন্তু পরে বিচার করে দেখলেন- ‘আত্মহত্যা মহাপাপ, এরফলে কেবল দেহের বিনাশমাত্র হবে, কিন্তু আমার পুত্রহীনতা তো দূর হবে না। তারপর একদিন রাজা নিবিড় বনে গমন করলেন। বন ভ্রমণ করতে করতে দ্বিপ্রহর অতিক্রান্ত হলে রাজা ক্ষুধা-তৃষ্ণায় অত্যন্ত কাতর হলেন। এদিক ওদিক জলাদির অনুসন্ধান করতে লাগলেন।
তিনি চক্রবাক, রাজহংস এবং নানারকম মাছে পরিপূর্ণ একটি মনোরম সরোবর দেখতে পেলেন। সরোবর দেখতে পেলেন। সরোবরের কাছে মুনিদের একটি আশ্রম ছিল। তিনি সেখানে উপস্থিত হলেন। সরোবর তীরে মুনিগণ বেদপাঠ করছিলেন। মুনিবৃন্দের শ্রীচরণে তিনি দন্ডবৎ প্রণাম করলেন।
মুনিগণ রাজাকে বললেন-হে মহারাজ! আমরা ‘বিশ্বদেব’ নামে প্রসিদ্ধ। এই সরোবরে স্নান করতে এসেছি। আজ থেকে পাাঁচদিন পরেই মাঘ মাস আরম্ভ হবে। আজ পুত্রদা একাদশী তিথি। পুত্র দান করে বলেই এই একাদশীর নাম ‘পুত্রদা’।
তাঁদের কথা শুনে রাজা বললেন-হে মুনিবৃন্দ! আমি অপুত্রক। তাই পুত্র কামনায় অধীর হয়ে পড়েছি। এখন আপনাদের দেখে আমার হৃদয়ে আশার সঞ্চার হয়ে। এ দুর্ভাগা পুত্রহীনের প্রতি অনুগ্রহ করে একটি পুত্র প্রদান করুন।
মুনিগণ বললেন- হে মহারাজ! আজ সেই পুত্রদা একাদশী তিথি। তাই এখনই আপনি এই ব্রত পাল করুন। ভগবান শ্রীকেশবের অনুগ্রহে অবশ্যই আপনার পুত্র লাভ হবে।
মুনিদের কথা শোনার পর যথাবিধানে রাজা কেবল ফলূমূলাদি আহার করে সেই ব্রত অনুষ্ঠান করলেন। দ্বাদশী দিনে উপযুক্ত সময়ে শস্যাদি সহযোগে পারণ করলেন। মুনিদের প্রণাম নিবেদন করে নিজগৃহে ফিরে এলেন। প্রতভাবে রাজার যথাসময়ে একটি তেজস্বী পুত্র লাভ হল।
হে মাহারাজ! এ ব্রত সকলেরই পালন করা কর্তব্য। মানব কল্যাণ কামনায় আপনার কাছে আমি এই ব্রত কথা বর্ণনা করলাম।
নিষ্ঠাসহকারে যারা এই পুত্রদা একাদশী ব্রত পালন করবে, তারা ‘পুত’ নামক নরক থেকে পরিত্রাণ লাভ করবে। আর এই ব্রত কথা শ্রবণ কীর্তনে অগ্নিষ্টোম যজ্ঞের ফল পাওয়া যায়। ব্রহ্মান্ডপুরাণে এই মাহাত্ম্য বর্ণনা করা হয়েছে।
1 week ago | [YT] | 12
View 0 replies
KRI-alochona
ওঁ কৃষ্ণায় বাসুদেবায় হরয়ে পরমাত্মনে।
প্রণত ক্লেশনাশায় গোবিন্দায় নমো নমঃ।।
2 weeks ago | [YT] | 26
View 1 reply
KRI-alochona
🌿✨ আগামী ২৫শে ডিসেম্বর — পবিত্র তুলসী পূজা দিবস ✨🌿
শাস্ত্রে বলা হয়েছে —
তুলসী সর্বমঙ্গলময়ী।
তাঁর দর্শনে পাপ নাশ হয়,
স্পর্শে শরীর শুদ্ধ হয়,
জল সেচনে ভয় দূর হয়,
রোপণে ভগবদ্ভক্তি বৃদ্ধি পায়,
আর প্রণামে শ্রীকৃষ্ণচরণে অগাধ প্রেম লাভ হয়। 🙏
এইজন্য মা তুলসী কেবল একটি গাছ নন — তিনি ভক্তি, পবিত্রতা, শান্তি ও কল্যাণের জীবন্ত প্রতীক 🌿💛
যেখানে তুলসী থাকেন, সেখানে নারায়ণের কৃপা বিরাজ করে।
আগামীকাল সকলে মিলে স্নান করে পবিত্র বস্ত্র ধারণ করে মা তুলসীকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে সকাল আটটা থেকে দশটা, কিংবা বিকাল সাড়ে পাঁচটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা এই সময়ে পূজা করুন।
🕉 তুলসী প্রণাম মন্ত্র
“ওঁম বৃন্দায়ৈ তুলসী দেব্যৈ প্রিয়ায়ৈ কেশবস্য চ।
বিষ্ণুভক্তি প্রদে দেবী সত্যবত্যৈ নমো নমঃ॥”
🙏 এই ২৫শে ডিসেম্বর আমরা সকলে মিলে মা তুলসীর চরণে প্রণাম জানাই এবং প্রার্থনা করি — আমাদের ঘরে ঘরে শান্তি, সুস্থতা, ভক্তি ও মঙ্গল বর্ষিত হোক।
✨🌿 শুভ তুলসী পূজা দিবসের অগ্রিম প্রণাম 🌿✨
2 weeks ago | [YT] | 8
View 1 reply
KRI-alochona
পক্ষবর্ধিনী মহাদ্বাদশীর ব্রতোপবাস ✨
শ্রীল উদ্ধারণ দত্ত ঠাকুর ও শ্রীল মহেশ পণ্ডিত ঠাকুরের তিরোভাব ✨
১৬ ডিসেম্বর ,২০২৫ 📌
পারণ- পরের দিন দি ৯।৪৫ মিঃ মধ্যে মহাদ্বাদশী ব্রতের পারণ
উন্মীলনী ব্যঞ্জুলী চ ত্রিস্পৃশা পক্ষবর্ধিনী ।
জয়া চ বিজয়া চৈব জয়ন্তী পাপনাশিনী ।।
দ্বাদশ্যোষ্টৌ মহাপুণ্যাঃ সর্বাপাপহরা দ্বিজ।
তিথিযোগেন জায়ন্তে চতস্রশ্চাপরাস্তথা।
নক্ষত্রযোগাচ্চ বলাৎ পাপং প্রশময়ন্তি তাঃ।।
(হঃ ভঃ বিঃ ১৩।২৬৫-৬৬ ব্রহ্ম বৈবর্ত্ত পুরাণ বাক্য)
ব্রহ্ম বৈবর্ত্ত পুরাণে সুতশৌনক সংবাদে যথা—হে দ্বিজ! উন্মীলনী, ব্যঙ্গুলী, ত্রিস্পৃশা, পক্ষবর্ধিনী, জয়া, বিজয়া, জয়ন্তী ও পাপনাশিনী-এই অষ্টদ্বাদশী মহাপুণ্যস্বরূপা ও নিখিল পাপনাশী। এই অষ্ট মহাদ্বাদশীর মধ্যে তিথিযোগে চারিটি ও নক্ষত্রযোগে অবশিষ্ট চারিটি হয়। এই সকল দ্বাদশী পাতকরাশি বিনাশিনী ।
পক্ষবর্ধিনী দ্বাদশী নিরূপণ—যে দ্বাদশীর পরে পূর্ণিমা বা অমাবস্যা ৬০ দণ্ড ভোগের পর পরের দিন কিঞ্চিৎ বৃদ্ধি হয়, তার পূর্বের দ্বাদশীকে পক্ষবর্ধিনী বলা হয়। একাদশীকে বৰ্জ্জনপূর্বক এই দ্বাদশীতে উপবাস করাই উচিত।
#GaudiyaMission #gaudiyamath #prabhupad #srilaprabhupad #srilaprabhupada #prabhupada150 #prabhupad150
4 weeks ago | [YT] | 16
View 2 replies
KRI-alochona
মোক্ষদা একাদশীর মাহাত্ম্য:
যুধিষ্ঠির বললেন, ''হে বিষ্ণু! আপনাকে আমি বন্দনা করি। আপনি ত্রিলোকের সুখ প্রদানকারী, বিশ্বেশ্বর, পুরুষোত্তম। আমার একটি সংশয় আছে। অগ্রহায়ণ মাসের শুক্লপক্ষের একাদশীর নাম কী, বিধিই বা কী এবং কোন দেবতা এই একাদশীতে পূজিত হন, তা আমাকে বলুন।''
শ্রীকৃষ্ণ বললেন, "হে মহারাজ! আপনি উত্তম প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেছেন, যার মাধ্যমে আপনার যশ চতুর্দিকে বিস্তৃত হবে। এখন এই একাদশীর কথা বর্ণনা করছি যা শোনামাত্রেই বাজপেয় যজ্ঞের ফল লাভ হয়।
অগ্রহায়ণ মাসের শুক্লপক্ষের একাদশী 'মোক্ষদা' নামে পরিচিত। সর্বপাপবিনাশিনী ও ব্রত মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠা এই একাদশীর দেবতা শ্রী দামোদর। তুলসী, তুলসী মঞ্জরী, ধূপ, দীপ ইত্যাদি উপচারে শাস্ত্রবিধি অনুসারে শ্রী দামোদরের পূজা করতে হবে। পূর্ববর্ণিত বিধি অনুসারে দশমী ও একাদশী পালন করতে হবে। এই উপবাস দিনে স্তব-স্তুতি, নৃত্য-গীত আদি সহ রাত্রি জাগরণ করা কর্তব্য।
হে মহারাজ! প্রসঙ্গক্রমে একটি অলৌকিক কাহিনী আমি বলছি। মনোযোগ দিয়ে এই ইতিহাস শ্রবণ মাত্রই সর্বপাপ ক্ষয় হয়। যে পিতৃপুরুষেরা নিজ নিজ পাপে অধঃযোনি প্রাপ্ত হয়েছে, এই ব্রত পালনের পুণ্যফল বিন্দুমাত্র তাদেরকে দান করলে তারাও মুক্তিলাভের যোগ্য হন। কোন এক সময় মনোরম চম্পক নগরে বৈখানস নামে এক রাজা ছিলেন। তিনি ছিলেন সমস্ত বৈষ্ণব সদ্গুণে বিভূষিত। প্রজাদের তিনি পুত্রের মতো পালন করতেন। তার রাজ্যে বহু বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণ বাস করতেন। রাজ্যের সকলেই ছিল বেশ সমৃদ্ধশালী। একবার রাজা স্বপ্নে দেখলেন যে তার পিতা নরকে পতিত হয়েছেন। তা দেখে তিনি অত্যন্ত বিস্মিত হলেন। পরদিন ব্রাহ্মণদের ডেকে বলতে লাগলেন, "হে ব্রাহ্মণগণ! গতরাত্রিতে স্বপ্নে নরকযাতনায় পিতাকে কষ্ট পেতে দেখে আমার হৃদয় বিদীর্ণ হচ্ছে। তিনি আমাকে লক্ষ্য করে বলতে লাগলেন, 'হে পুত্র! তুমি আমাকে নরকসমুদ্র থেকে উদ্ধার কর।' তার সেই অবস্থা দেখে আমার অন্তরে সুখ নেই। আমার এই বিশাল রাজ্য, স্ত্রী-পুত্র, কিছুতেই আমি শান্তি পাচ্ছি না। কী করি, কোথায় যাই কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না। আমার পূর্বপুরুষেরা মুক্তিলাভ করতে পারেন এমন কোন পুণ্য ব্রত, তপস্যা ও যোগের কথা আমাকে উপদেশ করুন। আমি তা অনুষ্ঠান করব। আমার মতো পুত্র বর্তমান থাকা সত্ত্বেও যদি পিতা-মাতা, পূর্বপুরুষেরা নরক যাতনা ভোগ করতে থাকেন, তবে সে পুত্রের কী প্রয়োজন?''
ব্রাহ্মণগণ বললেন, "হে মহারাজ! আপনার রাজ্যের কাছেই মহর্ষি পর্বত মুনির আশ্রম রয়েছে। তিনি ত্রিকালজ্ঞ। তাঁর কাছে আপনার মুক্তির উপায় জানতে পারবেন।" ব্রাহ্মণদের উপদেশ শ্রবণ করে মহাত্মা বৈখানস তাঁদের সঙ্গে নিয়ে সেই পর্বত মুনির আশ্রমে গমন করলেন। তাঁরা দূর থেকে ঋষিবরকে সাষ্টাঙ্গ প্রণাম করে তাঁর কাছে গেলেন। মুনিবর রাজার কুশলবার্তা জিজ্ঞাসা করলেন। রাজা বললেন, "হে প্রভু! আপনার কৃপায় আমার সবই কুশল। তবে আমি একদিন স্বপ্নযোগে পিতার নরক যাতনা ভোগ ও কাতর আর্তনাদ শুনে অত্যন্ত দুঃখিত ও চিন্তাগ্রস্ত হয়েছি। হে ঋষিবর! কোন পুণ্যের ফলে তিনি সেই দুর্দশা থেকে মুক্তি পাবেন, তার উপায় জানতেই আপনার শরণাগত হয়েছি।"
রাজার কথা শুনে পর্বত মুনি কিছুক্ষণ ধ্যানস্থ হয়ে বললেন, "হে মহারাজ! পূর্বজন্মে তোমার পিতা অত্যন্ত কামাচারী হওয়ায় তার এরকম অধোগতি লাভ হয়েছে। এখন এই পাপ থেকে মুক্তির উপায় বর্ণনা করছি অগ্রহায়ণ মাসের শুক্লপক্ষের মোক্ষদা একাদশী পালন করে সেই পুণ্যফল পিতাকে প্রদান কর। সেই পুণ্য প্রভাবে তোমার পিতার মুক্তি লাভ হবে।"
মুনির কথা শুনে রাজা নিজের প্রাসাদে ফিরে এলেন। সেই পবিত্র তিথির আবির্ভাবে তিনি স্ত্রী-পুত্রাদিসহ যথাবিধি মোক্ষদা একাদশী ব্রত পালন করলেন। ব্রতের পুণ্যফল পিতার উদ্দেশ্যে প্রদান করলেন। ঐ পুণ্যফল দানের সঙ্গে সঙ্গে আকাশ থেকে পুষ্পবৃষ্টি হতে লাগল। 'হে পুত্র! তোমার মঙ্গল হোক।' এই বলতে বলতে বৈখানস রাজার পিতা নরক হতে মুক্ত হয়ে স্বর্গে গমন করলেন।
হে মহারাজ যুধিষ্ঠির! যে ব্যক্তি এই মঙ্গলদায়িনী মোক্ষদা একাদশী ব্রত পালন করে, তার সমস্ত পাপ বিনষ্ট হয় এবং মৃত্যুর পরে মুক্তি লাভ করে। এই ব্রতের পুণ্য সংখ্যা আমিও জানিনা। চিন্তামণির মতো এই ব্রত আমার অত্যন্ত প্রিয়। এই ব্রতকথা যিনি পাঠ করেন এবং যিনি শ্রবণ করেন, উভয়েই বাজপেয় যজ্ঞের ফল প্রাপ্ত হন।"
1 month ago | [YT] | 13
View 0 replies
KRI-alochona
🕉️ ভগবদ্গীতা — ১৮ অধ্যায় সংক্ষিপ্ত জানুন 🕉️
1️⃣ অর্জুন বিষাদ যোগ
দায়িত্ব থেকে পালালে দুঃখ বাড়ে।
সঙ্কটে ভেঙেও পড়া নয় — সমাধান খোঁজা।
2️⃣ সাংখ্য যোগ
ফলের আসক্তি ছাড়া কর্তব্য করো।
আত্মা চিরজীবী — তাই ভয় নেই।
3️⃣ কর্ম যোগ
নিস্বার্থ কাজে ঈশ্বর-সেবা।
আলস্য নয় — কাজেই আনন্দ।
4️⃣ জ্ঞান-কর্ম-সংন্যাস যোগ
জ্ঞান + সৎকর্ম = মুক্তি।
অহংকার নয়, আত্মতত্ত্ব বোঝা।
5️⃣ কর্ম-সংন্যাস যোগ
কাজ করেও নিরাসক্ত থাকো।
অন্তর শান্ত হলে জীবন শান্ত।
6️⃣ ধ্যান যোগ
মন নিয়ন্ত্রণেই আসল সুখ।
ধ্যান = আত্মার সাথে সংযোগ।
7️⃣ জ্ঞান-বিজ্ঞান যোগ
সর্বত্র ঈশ্বর — তাই ভয় নেই।
যে দেখে, সেই পায়।
8️⃣ অক্ষর ব্রহ্ম যোগ
মৃত্যুও মুক্তির পথ।
শ্বাসে শ্বাসে ঈশ্বর স্মরণ।
9️⃣ রাজবিদ্যা-রাজগুহ্য যোগ
প্রেম/ভক্তিই পরম জ্ঞান।
ঈশ্বর আমাদের অন্তরেই আছেন।
🔟 বিভূতি যোগ
শ্রেষ্ঠ গুণে ঈশ্বরের প্রকাশ।
ভালোটাকে ঈশ্বর ভেবে শ্রদ্ধা করো।
1️⃣1️⃣ বিশ্বরূপ দর্শন যোগ
ঈশ্বর সর্বশক্তিমান, সর্বত্র।
জীবন-মৃত্যু—সব তাঁরই রূপ।
1️⃣2️⃣ ভক্তি যোগ
প্রেমই ঈশ্বর লাভের পথ।
নম্রতা, দয়া — ভক্তির লক্ষণ।
1️⃣3️⃣ ক্ষেত্র-ক্ষেত্রজ্ঞ যোগ
আমি দেহ নই — চিরজীবী আত্মা।
দেহ বদলায়, আত্মা নয়।
1️⃣4️⃣ গুণত্রয় বিভাগ যোগ
গুণের ঊর্ধ্বে উঠো — তবেই মুক্তি।
সাত্ত্বিকতা = শান্তি + উন্নতি।
1️⃣5️⃣ পুরুষোত্তম যোগ
জগৎ মায়া — ঈশ্বরই আশ্রয়।
যিনি সবকিছুর উৎস — তিনি কৃষ্ণ।
1️⃣6️⃣ দৈবাসুর সম্পদ বিভাগ যোগ
চরিত্রই গতি নির্ধারণ করে।
দেবগুণে জীবন উন্নত হয়।
1️⃣7️⃣ শ্রদ্ধাত্রয় বিভাগ যোগ
যেমন বিশ্বাস, তেমন মানুষ।
সাত্ত্বিক বিশ্বাস — উত্তম জীবন।
1️⃣8️⃣ মোক্ষ-সংন্যাস যোগ
সব কর্ম ঈশ্বরকে সমর্পণ = মুক্তি।
আত্মসমর্পণেই পরম শান্তি।
1 month ago | [YT] | 7
View 1 reply
KRI-alochona
🌼 শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা – তৃতীয় অধ্যায় : কর্মযোগ 🌼
✨ “কর্মেই জীবন— আর সেই কর্মকে ঈশ্বরার্পিত করাই প্রকৃত যোগ।” ✨
তৃতীয় অধ্যায়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে শেখালেন—
জীবন থেকে পালিয়ে যাওয়া নয়, কর্মের মধ্যেই ঈশ্বরকে পাওয়া যায়।
ধ্যান, জ্ঞান, ত্যাগ— সবই উৎকৃষ্ট,
কিন্তু কর্মযোগ সেই পথ, যেখানে ভক্ত প্রতিদিনের কাজের মধ্যেই কৃষ্ণকে অনুভব করে।
গীতার মূল শিক্ষা (অধ্যায় ৩)
🌿 ১. কর্ম করো — কিন্তু ফলের আশা ছাড়ো
প্রভু বলেন—
“কর্মণ্যেবাধিকারস্তে মা ফলেষু কদাচন।”
অর্থাৎ, কাজ আমাদের কর্তব্য, ফল ঈশ্বরের ইচ্ছা।
যে মানুষ নির্লিপ্ত হয়ে কাজ করে, সে-ই প্রকৃত ভক্ত।
🌿 ২. নিষ্ক্রিয়তা নয় — কর্মই জীবন
অর্জুনের মতো আমাদেরও কখনো মনে হয় —
“এতো দুঃখ, এতো জঞ্জাল… পালিয়ে যাই!”
কিন্তু কৃষ্ণ বলেন—
ধ্যানেও শান্তি, কর্মেও শান্তি —
কিন্তু যিনি কর্ম ত্যাগ করেন, তিনি প্রকৃতপক্ষে বাঁধা বাড়ান।
কারণ, এই বিশ্ব ঈশ্বরের ‘যজ্ঞযাত্রা’— সবাই নিজের অংশটুকু করবে।
🌿 ৩. নিঃস্বার্থ কর্মই ভক্তের অলঙ্কার
যে কাজকে কৃষ্ণার্পণ করা যায়—
সেই কর্ম পবিত্র।
যে কাজও ত্যাগ করা যায় না,
তা ভক্ত প্রভুর নামে করে নিলে—
কর্মই হয়ে ওঠে ভক্তি।
🌿 ৪. জ্ঞানীগণও কর্ম করেন
প্রভু উদাহরণ দিলেন—
ব্রহ্মা, রাম, কৃষ্ণ… সকল অবতারও কর্ম করেন।
তারা করেন— যাতে পৃথিবী সঠিক পথে থাকে।
ভক্তও তাই করে—
মন ঈশ্বরের কাছে, হাত কর্মে।
🌿 ৫. ঋষি, কৃষক, গৃহস্থ, সন্ন্যাসী— সকলের পথ একটাই
কর্মযোগ শেখায়—
পথ ভিন্ন হতে পারে,
কিন্তু লক্ষ্য এক–
✨ ভগবানের প্রেম। ✨
💛 আমাদের জীবনে এর প্রয়োগ
• ঘরের কাজ প্রভুতে নিবেদন করলে তা পূণ্য।
• অফিসের কাজ সততা দিয়ে করলে সেটাই যজ্ঞ।
• মানুষের সেবায় হাত বাড়ালে সেটাই কৃষ্ণসেবা।
• প্রতিদিন নিজের কর্তব্য ভালোভাবে পালন করাই ঈশ্বরের নিকট সর্বোত্তম উপহার।
কর্মকে ভক্তিতে রূপান্তরিত করাই বাস্তব যোগ।
🌸 ভক্তিমূলক ভাবার্থ
হে প্রভু,
আমরা তো ভুলে যাই—
যে প্রতিটি নিঃশ্বাস তোমার দান,
প্রতিটি সক্ষমতা তোমার করুণা,
প্রতিটি কর্মের ফল তোমার হাতে।
আজ তৃতীয় অধ্যায় শিখিয়ে দেয়—
কৃষ্ণ!
আমরা শুধু কাজ করবো—
ফল তোমার চরণে সমর্পণ করবো।
ভক্তি নয় শুধু নামজপ,
ভক্তি হলো—
যে কাজই করি, তোমার আনন্দের জন্য করি।
✨ হরে কৃষ্ণ • রাধে রাধে ✨
1 month ago | [YT] | 14
View 1 reply
KRI-alochona
নৃসিংহদেবের বিপদ-হরণ শক্তি!!
যে ভক্ত সত্যিকার ভক্তি ও আশ্রয় নেয়, নৃসিংহদেব নিজেই তার পথের সমস্ত অন্ধকার দূর করেন।।
১.ভক্তের ভয় দূর করেন
শ্রীমদ্ভাগবত ৭.৯.২২-
“হে নৃসিংহদেব!! আপনার করাল রূপ ভক্তদের জন্য চিরশান্তি।। যারা আপনাকে স্মরণ করে, তাদের ভয়, দুঃখ, বিপদ মুহূর্তে নাশ পায়।।”
ভয়—অর্থাৎ মানসিক চাপ, অশান্তি, অজানা বিপদ—সব তিনি প্রশমিত করেন।।
২.অদৃশ্য শত্রু ও বাধা থেকে রক্ষা করেন:
ভাগবত ৭.৮ অধ্যায়-এ উল্লেখ আছে,নৃসিংহদেব ভক্তের পথে থাকা দৈহিক, দৈবিক ও ভৌতিক তিন ধরনের কষ্ট নাশ করেন।।
এই তিনটা হলো—
👉দৈবিক:অদৃশ্য শক্তি, অশুভ প্রভাব, অশান্তি
👉দৈহিক:শরীরজনিত কষ্ট, ভয়,বিপদ
👉ভৌতিক:মানুষজনের শত্রুতা, কাজের সমস্যা, দুর্ঘটনা ইত্যাদি
৩.ভক্তের জন্য “প্রহ্লাদ-রক্ষা” আশীর্বাদ:
প্রহ্লাদ মহারাজকে যেমন আগুন,সাপ,হাতি,বিষ—কিছুই স্পর্শ করতে পারেনি,তেমনি ভক্তদেরও নৃসিংহদেব অদৃশ্য বর্ম প্রদান করেন।।
এটা বলা হয় "নরসিংহ কবচ-রক্ষা"।।
৪.জীবনের আটকে থাকা পথ খুলে দেন:
নরসিংহ পুরাণে বলা হয়েছে—যে ব্যক্তি নৃসিংহদেবকে স্মরণ করে বা তাঁর নাম জপ করে, তার জীবনের আটকে থাকা দরজা খুলে যায়।।
চাকরি, ব্যবসা, পরিবার—যেখানে আটকে আছেন, নৃসিংহদেব সেখানে রাস্তাকে পরিষ্কার করে দেন।।
৫.পাপ ও নেতিবাচক শক্তি ধ্বংস করেন।।
নাম জপ:
“উগ্রং বীরং মহাবীরং নৃসিংহং পরমং দ্যম।।”
এই মন্ত্রটি পাপ,ভয়,অশুভের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী রক্ষাকবচ।।
1 month ago | [YT] | 12
View 0 replies
KRI-alochona
🪔🙏🏼সবাই কে জানাই শ্রী শ্রী উৎপন্না একাদশীর শুভেচ্ছা🌻✨️
🪷🏵💗🙏জয় শ্রী রাধামাধব🙏💗🏵🪷
1 month ago | [YT] | 9
View 0 replies
KRI-alochona
🌸
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ গীতায় বলেছেন,
"বন্ধুরাত্মনস্তস্য যেনাত্মৈবাত্মনা জিতঃ,
অনাত্মনস্তু শত্রুত্বে বর্তেতাত্মৈব শত্রুবৎ।।৬/৬।।
অনুবাদঃ যিনি তাঁর মনকে জয় করেছেন, মন তাঁর পরম বন্ধু কিন্তু যিনি তা করতে অক্ষম, তাঁর মনই তাঁর পরম শত্রু।
ভগবানের নাম স্মরণ, জপ, কীর্তন ও পাঠ মনকে পবিত্র করে। ভক্তি মানুষের অন্তর থেকে অহংকার, লোভ, ঈর্ষা ধীরে ধীরে মুছে দেয়। অর্থাৎ ভগবানের ভাবনাই অন্তরের শত্রুকে পরাস্ত করার বল দেয়।
তাই অন্তরের শত্রুদের জয় করার পথ বাহিরে নয়, নিজের ভিতরেই।
মন ও হৃদয় যখন পরিষ্কার ও ভগবানমুখী হয়, তখন মানুষ অন্তরের শত্রুর উপর বিজয়ী হয় — এবং সত্যিকার অর্থে মুক্ত ও শান্তিপূর্ণ জীবন পায়।। হরেকৃষ্ণ।।
।। জয় শ্রীকৃষ্ণ।
1 month ago | [YT] | 7
View 0 replies
Load more