“জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে ঠাকুরকে স্মরণ রেখাে। তাহলে কোনও কষ্টকে আর কষ্ট বলে মনে হবে না। জীবনে দুঃখ-কষ্ট কার বা নেই? ওসব তাে থাকবেই; তার নাম নিলে, তাকে আশ্রয় করলে তিনি শক্তি দেবেন। দুঃখ ও কষ্ট তখন আর তােমার ওপর ছাপ ফেলতে পারবে না।”-- শ্রীশ্রীমা সারদাদেবী।। জয় মা।। 🌹🌺🙏🌿🕉️🔱
আমাদের প্রতিদিনের জীবনে কত কাজ, অফিস, সংসার, বাজার এই সমস্ত কাজ সামলাতে সামলাতে ঠাকুরের স্মরণ - মনন, জপ ধ্যানের সময় হয় কি করবো আমরা ? অসাধারণ ব্যাখ্যা করেছেন পূজনীয় স্বামী সোমেশ্বরানন্দজী মহারাজ। লিঙ্ক নিচে দেওয়া রইলো 🙏 👇
দেবতাদের নিয়ে স্বপ্ন দেখলে সেই স্বপ্ন কিভাবে সত্যি হয় , কি বলেছেন ঠাকুর এবং শ্রীশ্রী মা ? শ্রীশ্রী মা কি মা সরস্বতী ? আজকের ভিডিও এই বিষয়ে। বিস্তারিত জানতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন। 🙏👇
রামকৃষ্ণসঙ্গে শ্রীরামকৃষ্ণ, শ্রীশ্রীমা এবং স্বামীজীর পরেই যাঁর স্থান তিনি হলেন 'মহারাজ'-স্বামী ব্রহ্মানন্দ।
শ্রীমায়ের প্রতি স্বামী ব্রহ্মানন্দের অপরিসীম শ্রদ্ধাভক্তির প্রথম লিখিত পরিচয় পাওয়া যায় ১৮৯০ সনে বৃন্দাবন থেকে বলরাম বসুকে লেখা তাঁর একটি পত্রের ছত্রে ছত্রেঃ 'মাতাঠাকুরানী গয়াধামে সত্বর যাইবেন লিখিয়াছেন এবং গয়াধাম হইতে আসিয়া বেলুড়ে থাকিবেন। নিরঞ্জনের অত্যন্ত ভক্তি এবং শ্রদ্ধা মাতাঠাকুরানীর উপর এবং আমাদের সকলেরই উচিত তাঁহার সেবা করা এবং তাঁহার কোন কষ্ট না হয়, দেখা। আমার অত্যন্ত দুর্ভাগ্য যে, তাঁহার কোন সেবা করিতে পারিলাম না। তাঁহাদের অকৃত্রিম স্নেহ আমাদের উপর। মাতাঠাকুরানী গঙ্গাস্নান করেন এবং গঙ্গাতীরে থাকেন-এটা আমাদের অত্যন্ত ইচ্ছা, কিন্তু নিরঞ্জন যেন তাঁহাকে লইয়া একটা গোলমাল না করে। কারণ, তিনি গোলমাল আদপে ভালবাসেন না। আমার অসংখ্য প্রণাম তাঁহার চরণে জানাইবেন এবং কহিবেন যেন আশীর্বাদ করেন তাঁহাদিগের চরণে আমার অচলা ভক্তি হয়।'
উদ্ধৃত অংশের শেষের বাক্যটি বিশেষভাবে লক্ষণীয়। এখানে 'তাঁহাদিগের চরণে' অর্থাৎ শ্রীরামকৃষ্ণ ও শ্রীমায়ের চরণে শ্রীরামকৃষ্ণ ও শ্রীমাকে তিনি দেখছেন অভেদ দৃষ্টিতে এবং তাঁদের চরণে অচলা ভক্তির জন্য একান্ত অকিঞ্চনের মতো প্রার্থনা করছেন শ্রীমায়ের আশীর্বাদ। এই যে শ্রীমায়ের আশীর্বাদ প্রার্থনা, এটি নিতান্ত ভাবোচ্ছ্বাসের ব্যাপার নয়। এর মূলে রয়েছে একটি আন্তরিক, প্রত্যক্ষপ্রজ্ঞালব্ধ প্রতীতি। এই প্রসঙ্গে স্বামী ব্রহ্মানন্দের একটি উপদেশ স্মরণীয়। সেখানে তিনি বলছেন: 'ঠাকুরের কৃপা পেতে হলে প্রথমে মাকে প্রসন্না করতে হবে। শ্রীশ্রীমাকে দেখলেই ঠাকুরকে দেখা হবে।'
একবার শ্রীমা (৫ নভেম্বর ১৯১২-১৫ জানুয়ারি ১৯১৩) কাশীতে লক্ষ্মীনিবাসে আছেন। স্বামী ব্রহ্মানন্দও তখন কাশীতে আছেন। তিনি প্রতিদিন সকালে লক্ষ্মীনিবাসে এসে গোলাপ-মার কাছে শ্রীমায়ের কুশল সংবাদ নিতেন। একদিন গোলাপ-মা উপরের বারান্দা থেকে (শ্রীমা গোলাপ-মাদের নিয়ে ঐ বাড়ির উপরে থাকতেন) বললেন: 'রাখাল, মা জিজ্ঞাসা করছেন আগে শক্তিপূজা করতে হয় কেন?' মহারাজ উত্তর দিলেন: 'মার কাছে যে ব্রহ্মজ্ঞানের চাবি। মা কৃপা করে চাবি দিয়ে দোর না খুললে যে আর উপায় নেই।' এই বলে তিনি বাউলের সুরে গান ধরলেন:
শঙ্করী-চরণে মন মগ্ন হয়ে রও রে।
মগ্ন হয়ে রও রে, সব যন্ত্রণা এড়াও রে।।
এ তিন সংসার মিছে, মিছে ভ্রমিয়ে বেড়াও রে।
কুলকুণ্ডলিনী ব্রহ্মময়ী অন্তরে ধিয়াও রে।।
কমলাকান্তের বাণী, শ্যামা মায়ের গুণ গাও রে।
এ তো সুখের নদী নিরবধি, ধীরে ধীরে বাও রে।।
গাইতে গাইতে তিনি ভাবোন্মত্ত হয়ে নৃত্য করতে লাগলেন এবং গান শেষ হওয়ামাত্র 'হো হো হো' বলে সবেগে চলে গেলেন। শ্রীমা উপর থেকে মহারাজের এই অপূর্ব ভাব এবং নৃত্য দেখে আনন্দ করছিলেন।" বলা বাহুল্য, স্বামী ব্রহ্মানন্দের চোখে শক্তিরূপা ব্রহ্মময়ী ছিলেন শ্রীমা-ই। তাই দুর্গাপূজার দিন শ্রীমায়ের চরণে পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে তিনি পেতেন পরম তৃপ্তি। একবার মহাষ্টমীর দিন তিনি একশ আটটি পদ্মফুল দিয়ে শ্রীমায়ের চরণ পূজা করেছিলেন। স্বামী ব্রহ্মানন্দ তখন রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ। দুর্গাপূজার সময়ে শ্রীমা বেলুড় মঠে উপস্থিত হতে না পারলে তিনি পূজা সম্পূর্ণ জ্ঞান করতে পারতেন না। আর, কোনও উৎসব উপলক্ষে শ্রীমায়ের শুভাগমনের সঙ্গে সঙ্গে মঠে আনন্দের সাড়া পড়ে যেত-বিশেষত মঠাধ্যক্ষ স্বামী ব্রহ্মানন্দের হহৃদয়ে। এসম্পর্কে একটি সুন্দর বিবরণ দিয়েছেন স্বামী অমৃতানন্দ। বিবরণটি এই: 'এক বৎসর ঠাকুরের সাধারণ উৎসবের দিন সকালবেলা শ্রীশ্রীমা স্ত্রীভক্তদের লইয়া মঠে আসিয়াছেন। মহারাজ গেটে দাঁড়াইয়া "মহামায়ী কি জয়” রবে অভ্যর্থনা করিয়া তাঁহাকে মঠের ভিতর লইয়া গেলেন। ... মা উপরে গিয়া ঠাকুরকে প্রণাম করিলেন এবং নামিয়া আসিয়া, মহারাজের প্রার্থনায় ঠাকুর ঘরের সিঁড়ির প্রায় আট হাত দক্ষিণে আসনের উপর দক্ষিণমুখী হইয়া দাঁড়াইলেন। মহারাজ মার পাদপদ্মে পুষ্পাঞ্জলি দিয়া কম্পিত-হস্তে রোমাঞ্চিতকলেবরে ঘণ্টা ও পঞ্চপ্রদীপ দ্বারা আরতি করিলেন। মহারাজের আদেশে সাধু-ভক্তগণ দুই সারি হইয়া হাঁটু গাড়িয়া বসিলেন। এবং করজোড়ে "সর্বমঙ্গলমঙ্গল্যে” ইত্যাদি স্তব পাঠ করিয়া মার পাদপদ্মে পুষ্পাঞ্জলি দিয়া প্রণাম করিলেন। মা তখন চিত্রার্পিতার ন্যায় দাঁড়াইয়া মুখের ঘোমটা খানিকটা উপরে উঠিয়াছে, মহারাজ তাঁহার সম্মুখে করজোড়ে পূর্বাস্য হইয়া হাঁটু গাড়িয়া বসিয়া-চক্ষে ধারা। সেইদিন মহারাজ বালকের মত হইয়া গিয়াছিলেন। তিনটার সময় দেখা গেল, বহুলোক উপরে উঠিবার চেষ্টা করিতেছে আর তিনি দুই হাতে তাহাদিগকে আটকাইতে গিয়া গলদঘর্ম হইতেছেন ও বলিতেছেন, না না, যেতে দেওয়া হবে না-মার কষ্ট হবে। লোকগুলি তাঁহার কথা না শুনিয়া ঠেলাঠেলি করিতেছিল, মহারাজের পরিচয় দিয়া বুঝাইয়া বলাতে নিবৃত্ত হইল।'
১৯১১ খ্রীষ্টাব্দে দাক্ষিণাত্যের তীর্থদর্শনের পর শ্রীমা যেদিন প্রথম মঠে পদার্পণ করেছিলেন সেদিনও মহারাজ আনন্দে আত্মহারা হয়েছিলেন। তাঁর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ও নির্দেশে সেদিন শ্রীমাকে মঠে অভ্যর্থনার বিরাট সমারোহ। এ সম্পর্কে স্বামী গম্ভীরানন্দ লিখছেন: 'মঠের প্রবেশদ্বারে মঙ্গলঘট ও কদলী-বৃক্ষ স্থাপিত হইল এবং পথের উভয় পার্শ্বে শতাধিক ভক্ত শ্রেণীবদ্ধ হইয়া করজোড়ে দাঁড়াইলেন। মাতাঠাকুরাণীর গাড়ি দৃষ্টিগোচর হইবামাত্র কয়েকটি বোমা ছোঁড়া হইল এবং প্রবেশদ্বার হইতে শ্রীমা যেমন স্ত্রীভক্তগণসহ মন্থরগতিতে অগ্রসর হইতে লাগিলেন, অমনি ভক্তগণের মুখে উচ্চারিত হইতে থাকিল "সর্বমঙ্গলমঙ্গল্যে” ইত্যাদি প্রণামমন্ত্র। শ্রীমৎ স্বামী ব্রহ্মানন্দজী আদেশ করিলেন যে, ঐ অবস্থায় কেহ মায়ের পাদস্পর্শপূর্বক প্রণাম করিতে পারিবে না। ... শ্রীমাকে মঠ-বাড়িতে লইয়া গিয়া উপরের একখানি ঘরে বসানো হইল। তখন নীচে কালীকীর্তন চলিতেছে; আর ব্রহ্মানন্দজী বিভোর হইয়া শুনিতেছেন। সহসা দেখা গেল, তাঁহার শরীর অসাড়, হুঁকার নল হাত হইতে খসিয়া পড়িয়াছে বহুক্ষণ। বহুক্ষণ এইভাবে অতীত হইলে শ্রীমাকে সংবাদ দেওয়া হইল; তিনি ব্রহ্মানন্দজীর কানে একটি মন্ত্র শুনাইতে বলিলেন। উহাতে আশ্চর্য ফল ফলিল; মহারাজ ব্যুৎথিত হইয়া গায়কগণকে উৎসাহ দিয়া বলিতে লাগিলেন, "হ্যাঁ, চলুক, চলুক"-যেন সবেমাত্র তিনি অন্যমনস্ক হইয়াছিলেন!'
এখন যা আবহাওয়া সর্দি কাশি হলে সারতেই চাইছে না। সর্দি জ্বর একটু কমলেও এখন আমার নতুন করে শুরু হয়েছে প্রচন্ড কাশি, আর তার সাথে মৃদু মৃদু শ্বাসকষ্ট। যার ফলে আজ আর ভিডিও করতে পারলাম না। ঠাকুর মায়ের কাছে প্রার্থনা করি যেন তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে আপনাদের সঙ্গে আবার ঠাকুর মায়ের কথা আলোচনা করতে পারি। সবাই ভালো থাকবেন। সাবধানে থাকবেন এই সময়টা। জয় মা। 🙏♥️
amrita surlahori
“জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে ঠাকুরকে স্মরণ রেখাে। তাহলে কোনও কষ্টকে আর কষ্ট বলে মনে হবে না। জীবনে দুঃখ-কষ্ট কার বা নেই? ওসব তাে থাকবেই; তার নাম নিলে, তাকে আশ্রয় করলে তিনি শক্তি দেবেন। দুঃখ ও কষ্ট তখন আর তােমার ওপর ছাপ ফেলতে পারবে না।”-- শ্রীশ্রীমা সারদাদেবী।। জয় মা।। 🌹🌺🙏🌿🕉️🔱
2 days ago | [YT] | 1,044
View 30 replies
amrita surlahori
বিখ্যাত সাহিত্যিকের জীবন কিভাবে রক্ষা করলেন ঠাকুর ? জানতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন।
https://youtu.be/wno0t8x5d98?si=9ZSvr...
2 days ago | [YT] | 452
View 8 replies
amrita surlahori
স্বামীজির শেষ ইচ্ছা কিভাবে পুরণ করেছিলেন ঠাকুর, ঠাকুরের ছবির কোথায় প্রথম পুজিত হয়? এই অসাধারণ দুটি ঘটনার কথা জানতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন।
https://youtu.be/IhaKAo9px14?si=VFM6c...
2 days ago | [YT] | 257
View 5 replies
amrita surlahori
বেশ কিছুদিন ধরে খুব সমস্যার মধ্যে আছি। আমার নিজের শরীরটাও খারাপ। তার সাথে শ্বশুর মশাইয়ের খুব শরীর খারাপ। তিনি আবার হসপিটালে ভর্তি হয়েছেন। তার জন্যই আমি ঠিকঠাক ভিডিও আপলোড করতে পারছি না। মায়ের কাছে প্রার্থনা করি তাড়াতাড়ি আমার এই সমস্যা গুলো সমাধান হোক। সবাই ভালো থাকবেন। পাশে থাকবেন।
#জয়মা
#everyoneactivefollowersシfypシ゚viralシalシ
#দৈববাণী #TopFans #everyoneシ゚viralシviralシfypシ゚viralシalシ
3 days ago | [YT] | 717
View 18 replies
amrita surlahori
মায়ের সম্পর্কে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের বিখ্যাত উক্তি। 🙏💐🌹🙏💐🌹🙏💐🌹🙏💐🌹🙏💐🌹
6 days ago | [YT] | 350
View 11 replies
amrita surlahori
আমাদের প্রতিদিনের জীবনে কত কাজ, অফিস, সংসার, বাজার এই সমস্ত কাজ সামলাতে সামলাতে ঠাকুরের স্মরণ - মনন, জপ ধ্যানের সময় হয় কি করবো আমরা ? অসাধারণ ব্যাখ্যা করেছেন পূজনীয় স্বামী সোমেশ্বরানন্দজী মহারাজ। লিঙ্ক নিচে দেওয়া রইলো 🙏 👇
https://youtu.be/NLgK5NWf0hI?si=0x1S6...
1 week ago | [YT] | 431
View 9 replies
amrita surlahori
দেবতাদের নিয়ে স্বপ্ন দেখলে সেই স্বপ্ন কিভাবে সত্যি হয় , কি বলেছেন ঠাকুর এবং শ্রীশ্রী মা ? শ্রীশ্রী মা কি মা সরস্বতী ? আজকের ভিডিও এই বিষয়ে। বিস্তারিত জানতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন। 🙏👇
https://youtu.be/ZNETUhjqX7I?si=11mdg...
1 week ago | [YT] | 582
View 16 replies
amrita surlahori
ঠাকুর বলেছেন, এখানেই আছে সব রোগের ওষুধ। ঠাকুর কোথাকার কথা বলেছেন ? জানতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন। 🙏👇
https://youtu.be/R6CG9Jdjesc
1 week ago | [YT] | 600
View 20 replies
amrita surlahori
*স্বামী ব্রহ্মানন্দ*
রামকৃষ্ণসঙ্গে শ্রীরামকৃষ্ণ, শ্রীশ্রীমা এবং স্বামীজীর পরেই যাঁর স্থান তিনি হলেন 'মহারাজ'-স্বামী ব্রহ্মানন্দ।
শ্রীমায়ের প্রতি স্বামী ব্রহ্মানন্দের অপরিসীম শ্রদ্ধাভক্তির প্রথম লিখিত পরিচয় পাওয়া যায় ১৮৯০ সনে বৃন্দাবন থেকে বলরাম বসুকে লেখা তাঁর একটি পত্রের ছত্রে ছত্রেঃ 'মাতাঠাকুরানী গয়াধামে সত্বর যাইবেন লিখিয়াছেন এবং গয়াধাম হইতে আসিয়া বেলুড়ে থাকিবেন। নিরঞ্জনের অত্যন্ত ভক্তি এবং শ্রদ্ধা মাতাঠাকুরানীর উপর এবং আমাদের সকলেরই উচিত তাঁহার সেবা করা এবং তাঁহার কোন কষ্ট না হয়, দেখা। আমার অত্যন্ত দুর্ভাগ্য যে, তাঁহার কোন সেবা করিতে পারিলাম না। তাঁহাদের অকৃত্রিম স্নেহ আমাদের উপর। মাতাঠাকুরানী গঙ্গাস্নান করেন এবং গঙ্গাতীরে থাকেন-এটা আমাদের অত্যন্ত ইচ্ছা, কিন্তু নিরঞ্জন যেন তাঁহাকে লইয়া একটা গোলমাল না করে। কারণ, তিনি গোলমাল আদপে ভালবাসেন না। আমার অসংখ্য প্রণাম তাঁহার চরণে জানাইবেন এবং কহিবেন যেন আশীর্বাদ করেন তাঁহাদিগের চরণে আমার অচলা ভক্তি হয়।'
উদ্ধৃত অংশের শেষের বাক্যটি বিশেষভাবে লক্ষণীয়। এখানে 'তাঁহাদিগের চরণে' অর্থাৎ শ্রীরামকৃষ্ণ ও শ্রীমায়ের চরণে শ্রীরামকৃষ্ণ ও শ্রীমাকে তিনি দেখছেন অভেদ দৃষ্টিতে এবং তাঁদের চরণে অচলা ভক্তির জন্য একান্ত অকিঞ্চনের মতো প্রার্থনা করছেন শ্রীমায়ের আশীর্বাদ। এই যে শ্রীমায়ের আশীর্বাদ প্রার্থনা, এটি নিতান্ত ভাবোচ্ছ্বাসের ব্যাপার নয়। এর মূলে রয়েছে একটি আন্তরিক, প্রত্যক্ষপ্রজ্ঞালব্ধ প্রতীতি। এই প্রসঙ্গে স্বামী ব্রহ্মানন্দের একটি উপদেশ স্মরণীয়। সেখানে তিনি বলছেন: 'ঠাকুরের কৃপা পেতে হলে প্রথমে মাকে প্রসন্না করতে হবে। শ্রীশ্রীমাকে দেখলেই ঠাকুরকে দেখা হবে।'
একবার শ্রীমা (৫ নভেম্বর ১৯১২-১৫ জানুয়ারি ১৯১৩) কাশীতে লক্ষ্মীনিবাসে আছেন। স্বামী ব্রহ্মানন্দও তখন কাশীতে আছেন। তিনি প্রতিদিন সকালে লক্ষ্মীনিবাসে এসে গোলাপ-মার কাছে শ্রীমায়ের কুশল সংবাদ নিতেন। একদিন গোলাপ-মা উপরের বারান্দা থেকে (শ্রীমা গোলাপ-মাদের নিয়ে ঐ বাড়ির উপরে থাকতেন) বললেন: 'রাখাল, মা জিজ্ঞাসা করছেন আগে শক্তিপূজা করতে হয় কেন?' মহারাজ উত্তর দিলেন: 'মার কাছে যে ব্রহ্মজ্ঞানের চাবি। মা কৃপা করে চাবি দিয়ে দোর না খুললে যে আর উপায় নেই।' এই বলে তিনি বাউলের সুরে গান ধরলেন:
শঙ্করী-চরণে মন মগ্ন হয়ে রও রে।
মগ্ন হয়ে রও রে, সব যন্ত্রণা এড়াও রে।।
এ তিন সংসার মিছে, মিছে ভ্রমিয়ে বেড়াও রে।
কুলকুণ্ডলিনী ব্রহ্মময়ী অন্তরে ধিয়াও রে।।
কমলাকান্তের বাণী, শ্যামা মায়ের গুণ গাও রে।
এ তো সুখের নদী নিরবধি, ধীরে ধীরে বাও রে।।
গাইতে গাইতে তিনি ভাবোন্মত্ত হয়ে নৃত্য করতে লাগলেন এবং গান শেষ হওয়ামাত্র 'হো হো হো' বলে সবেগে চলে গেলেন। শ্রীমা উপর থেকে মহারাজের এই অপূর্ব ভাব এবং নৃত্য দেখে আনন্দ করছিলেন।" বলা বাহুল্য, স্বামী ব্রহ্মানন্দের চোখে শক্তিরূপা ব্রহ্মময়ী ছিলেন শ্রীমা-ই। তাই দুর্গাপূজার দিন শ্রীমায়ের চরণে পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে তিনি পেতেন পরম তৃপ্তি। একবার মহাষ্টমীর দিন তিনি একশ আটটি পদ্মফুল দিয়ে শ্রীমায়ের চরণ পূজা করেছিলেন। স্বামী ব্রহ্মানন্দ তখন রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ। দুর্গাপূজার সময়ে শ্রীমা বেলুড় মঠে উপস্থিত হতে না পারলে তিনি পূজা সম্পূর্ণ জ্ঞান করতে পারতেন না। আর, কোনও উৎসব উপলক্ষে শ্রীমায়ের শুভাগমনের সঙ্গে সঙ্গে মঠে আনন্দের সাড়া পড়ে যেত-বিশেষত মঠাধ্যক্ষ স্বামী ব্রহ্মানন্দের হহৃদয়ে। এসম্পর্কে একটি সুন্দর বিবরণ দিয়েছেন স্বামী অমৃতানন্দ। বিবরণটি এই: 'এক বৎসর ঠাকুরের সাধারণ উৎসবের দিন সকালবেলা শ্রীশ্রীমা স্ত্রীভক্তদের লইয়া মঠে আসিয়াছেন। মহারাজ গেটে দাঁড়াইয়া "মহামায়ী কি জয়” রবে অভ্যর্থনা করিয়া তাঁহাকে মঠের ভিতর লইয়া গেলেন। ... মা উপরে গিয়া ঠাকুরকে প্রণাম করিলেন এবং নামিয়া আসিয়া, মহারাজের প্রার্থনায় ঠাকুর ঘরের সিঁড়ির প্রায় আট হাত দক্ষিণে আসনের উপর দক্ষিণমুখী হইয়া দাঁড়াইলেন। মহারাজ মার পাদপদ্মে পুষ্পাঞ্জলি দিয়া কম্পিত-হস্তে রোমাঞ্চিতকলেবরে ঘণ্টা ও পঞ্চপ্রদীপ দ্বারা আরতি করিলেন। মহারাজের আদেশে সাধু-ভক্তগণ দুই সারি হইয়া হাঁটু গাড়িয়া বসিলেন। এবং করজোড়ে "সর্বমঙ্গলমঙ্গল্যে” ইত্যাদি স্তব পাঠ করিয়া মার পাদপদ্মে পুষ্পাঞ্জলি দিয়া প্রণাম করিলেন। মা তখন চিত্রার্পিতার ন্যায় দাঁড়াইয়া মুখের ঘোমটা খানিকটা উপরে উঠিয়াছে, মহারাজ তাঁহার সম্মুখে করজোড়ে পূর্বাস্য হইয়া হাঁটু গাড়িয়া বসিয়া-চক্ষে ধারা। সেইদিন মহারাজ বালকের মত হইয়া গিয়াছিলেন। তিনটার সময় দেখা গেল, বহুলোক উপরে উঠিবার চেষ্টা করিতেছে আর তিনি দুই হাতে তাহাদিগকে আটকাইতে গিয়া গলদঘর্ম হইতেছেন ও বলিতেছেন, না না, যেতে দেওয়া হবে না-মার কষ্ট হবে। লোকগুলি তাঁহার কথা না শুনিয়া ঠেলাঠেলি করিতেছিল, মহারাজের পরিচয় দিয়া বুঝাইয়া বলাতে নিবৃত্ত হইল।'
১৯১১ খ্রীষ্টাব্দে দাক্ষিণাত্যের তীর্থদর্শনের পর শ্রীমা যেদিন প্রথম মঠে পদার্পণ করেছিলেন সেদিনও মহারাজ আনন্দে আত্মহারা হয়েছিলেন। তাঁর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ও নির্দেশে সেদিন শ্রীমাকে মঠে অভ্যর্থনার বিরাট সমারোহ। এ সম্পর্কে স্বামী গম্ভীরানন্দ লিখছেন: 'মঠের প্রবেশদ্বারে মঙ্গলঘট ও কদলী-বৃক্ষ স্থাপিত হইল এবং পথের উভয় পার্শ্বে শতাধিক ভক্ত শ্রেণীবদ্ধ হইয়া করজোড়ে দাঁড়াইলেন। মাতাঠাকুরাণীর গাড়ি দৃষ্টিগোচর হইবামাত্র কয়েকটি বোমা ছোঁড়া হইল এবং প্রবেশদ্বার হইতে শ্রীমা যেমন স্ত্রীভক্তগণসহ মন্থরগতিতে অগ্রসর হইতে লাগিলেন, অমনি ভক্তগণের মুখে উচ্চারিত হইতে থাকিল "সর্বমঙ্গলমঙ্গল্যে” ইত্যাদি প্রণামমন্ত্র। শ্রীমৎ স্বামী ব্রহ্মানন্দজী আদেশ করিলেন যে, ঐ অবস্থায় কেহ মায়ের পাদস্পর্শপূর্বক প্রণাম করিতে পারিবে না। ... শ্রীমাকে মঠ-বাড়িতে লইয়া গিয়া উপরের একখানি ঘরে বসানো হইল। তখন নীচে কালীকীর্তন চলিতেছে; আর ব্রহ্মানন্দজী বিভোর হইয়া শুনিতেছেন। সহসা দেখা গেল, তাঁহার শরীর অসাড়, হুঁকার নল হাত হইতে খসিয়া পড়িয়াছে বহুক্ষণ। বহুক্ষণ এইভাবে অতীত হইলে শ্রীমাকে সংবাদ দেওয়া হইল; তিনি ব্রহ্মানন্দজীর কানে একটি মন্ত্র শুনাইতে বলিলেন। উহাতে আশ্চর্য ফল ফলিল; মহারাজ ব্যুৎথিত হইয়া গায়কগণকে উৎসাহ দিয়া বলিতে লাগিলেন, "হ্যাঁ, চলুক, চলুক"-যেন সবেমাত্র তিনি অন্যমনস্ক হইয়াছিলেন!'
*শতরূপে সারদা*🙏🌹🙏🌹🙏
1 week ago | [YT] | 470
View 7 replies
amrita surlahori
এখন যা আবহাওয়া সর্দি কাশি হলে সারতেই চাইছে না। সর্দি জ্বর একটু কমলেও এখন আমার নতুন করে শুরু হয়েছে প্রচন্ড কাশি, আর তার সাথে মৃদু মৃদু শ্বাসকষ্ট। যার ফলে আজ আর ভিডিও করতে পারলাম না। ঠাকুর মায়ের কাছে প্রার্থনা করি যেন তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে আপনাদের সঙ্গে আবার ঠাকুর মায়ের কথা আলোচনা করতে পারি। সবাই ভালো থাকবেন। সাবধানে থাকবেন এই সময়টা। জয় মা। 🙏♥️
https://youtu.be/Ex-uANaeRyc?si=wOJ4X...
1 week ago | [YT] | 795
View 32 replies
Load more