দেশনায়ক, ভারত মাতার বীর সন্তান, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের মহানায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্ম দিবসে শতকোটি প্রণাম। #NetajiSubhashChandraBose#NetajiJayanti
কতই বা বয়স হবে? আঠেরো (১৮ বছর ৭ মাস ১১ দিন), মেরেকেটে উনিশ। রক্ষীকে পিছনে ফেলে দৃঢ় পায়ে এগিয়ে এসে দাঁড়ালেন ফাঁসির মঞ্চে। দুচোখে অপার সারল্য। আচমকা ফাঁসুড়েকে জিজ্ঞাসা করে বসলেন, 'আচ্ছা, ফাঁসির দড়িতে মোম কেন মাখানো হয়?' স্তম্ভিত সকলে। যেন শেষ মুহূর্তটাও প্রাণভরে উপভোগ করছেন। তিনি অগ্নিযুগের বীর সন্তান
ক্ষুদিরাম বসু।
কেন এমন নাম!
১৮৮৯ সাল - ৩রা ডিসেম্বর। সন্ধ্যা পাঁচটায় অস্তরবির রঙিন ছটা মিলিয়ে যাবার মুহূর্তেই মেদিনীপুরের মৌবনী (হাবিবপুর) গ্রামে ত্রৈলোক্য ও লক্ষ্মীপ্রিয়া দেবীর কোল আলোয় ভরে গেল। পরপর দুটি পুত্র সন্তান - তার মধ্যে একটি আঁতুড় ঘরে ও অপরটি নিতান্ত শিশু অবস্থায় মারা যাবার পর আজ আবার পুত্র সন্তান।
তিন কন্যার পর এই ছেলে তাঁদের চতুর্থ সন্তান। তৎকালীন সমাজে একটা সংস্কার ছিল, পরপর কয়েকটা পুত্রসন্তান মারা গেলে মা তার কোলের ছেলের সমস্ত লৌকিক অধিকার ত্যাগ করে বিক্রি করার ভান করেন। যে কেউ কিনে নেন কড়ি দিয়ে, নয়ত খুদ দিয়ে।
জন্মের পরপরই তাঁর চেয়ে বয়সে বারো বছরের বড় দিদি অপরূপা দেবী তিন মুঠো খুদ দিয়ে ভাইকে কিনে নেন। খুদ দিয়ে কেনা সেই শিশুটির নাম হয় ক্ষুদিরাম। ভাগ্যের পরিহাস এই যে ক্ষুদিরামকেও ধরে রাখা যায়নি। মাত্র পনের বছর বয়সে দেশের ডাকে সাড়া দিয়ে দেশের কাছে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
বেঁচে থাকার লড়াইয়ে
ছয় বছর বয়সেই ক্ষুদিরাম মাতৃহারা হন। মাতৃবিয়োগের মাস চারেক পর ১৮৯৬ সালের ১৪ ফেরুয়ারী পিতৃবিয়োগও ঘটে যায়। কিছুদিনের ব্যবধানে বাবা-মাকে হারিয়ে ছোট দিদির সাথে আশ্রয় নিলেন অবিনাশচন্দ্র বসুর শ্বশুর বাড়িতে।
সেখানে বেশীদিন নিজেকে মানিয়ে নিতে না পেরে হবিবপুরে নিজেদের বাড়ির কাছে কৃত্তিবাস বসুর বাড়িতে আশ্রয় নিলেন। কৃত্তিবাস বসুর স্ত্রী ছিলেন ক্ষুদিরামের ধর্মমাতা। সেখানে সপ্তাহ খানেক থাকার পর তমলুকে দিদি অপরূপাদেবীর কাছে চলে আসেন।
পরবর্তীতে মেজদিদি হঠাৎ মারা যান। ছোট দিদির বিয়ে হয়ে যায়। এই বিবাহ ও বাবার আগের ঋণ শোধ করার জন্য ক্ষুদিরামকে বসতবাড়ি পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়। নিরাশ্রয় ক্ষুদিরাম এরপর থেকে দিদির বাড়িতেই মানুষ হতে লাগল।
শৈশবের দুরন্তপনা
ছিপছিপে রোগা, টুকটুকে ফরসা-একমাথা ঝাঁকড়া চুলের অধিকারী ক্ষুদিরামের কিন্তু পড়াশোনার চাইতে দুরন্তপনাতেই নাম ছিল বেশী। সাথী ভাগ্নে ললিত। ক্ষুদিরাম ভর্তি হল তমলুক হাইস্কুলের চতুর্থ শ্রেণীতে।
ভাগ্নে ললিতকে সঙ্গী করে পাখির বাসায় ঢিল ছোঁড়া, সাঁতার কাটা, গাছ থেকে লাফানো, রণপায়ে চড়ে বরযাত্রী যাওয়া, জ্যান্ত সাপের লেজ ধরে ঘোরানতেই ক্ষুদিরামের আগ্রহ ছিল বেশী।
বন্ধুদের সাথে বাজী ধরে গভীর রাত্রে একা একা শ্মশান থেকে গাছের পাতা ছিঁড়ে আনেন। ভয় ক্ষুদিরামকে স্পর্শ করেনি। এই নির্ভীকতার পরিচয় তিনি জীবনের শেষ মুহূর্তটি অবধি দিয়েছেন।
দীক্ষিত হলেন বিপ্লবের মন্ত্রে
১৯০৪ সাল। ভগ্নীপতি অমৃতলাল রায় বদলী হয়ে গেলেন মেদিনীপুর। ক্ষুদিরামও দিদি-জামাইবাবুর সঙ্গে মেদিনীপুরে এসে কলেজিয়েট স্কুলে সপ্তম শ্রেণীতে ভর্তি হলেন। এই বছর এখানে এসেই ক্ষুদিরাম দীক্ষিত হলেন বিপ্লবী মন্ত্রে।
ক্ষুদিরাম নিয়মিত সংবাদপত্রে রাজনৈতিক নেতা ও স্বদেশপ্রেমীদের বক্তব্য পড়তেন। স্বামী বিবেকানন্দ, নিবেদিতার প্রবন্ধ, বক্তৃতা নিয়মিত পড়তেন। তাঁর মধ্যে সাহস ও নির্ভীকতা ইতিমধ্যেই ছিল তাতে স্বদেশপ্রেমের বীজ অচিরেই অঙ্কুরোদগম হল।
সত্যেন্দ্রনাথ বসুর নেতৃত্বে স্বদেশী আন্দোলনকে ঘিরে মেদিনীপুরে তৈরি হয় বিরাট স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী। এসবের মধ্যে ক্ষুদিরাম ছিলেন সবার অগ্রণী। অষ্টম শ্রেণীতে উঠে স্কুলে যাওয়া একেবারে ছেড়েই দিলেন। গুপ্ত সমিতির প্রচার কার্যে সর্বাগ্রে ক্ষুদিরাম উপস্থিত।
বিপ্লবের অলিন্দে
স্কুল ছাড়ার পর শোনা যায় ক্ষুদিরাম সন্ন্যাসী হবার জন্য গৃহত্যাগ করেছেন। কিন্তু তা আর হয়ে ওঠেনি। সেই নিরুদ্দেশ কালে ক্ষুদিরাম চাষিদের কাছে থাকতেন। পরবর্তীতে গুপ্ত সমিতির আনুকূল্যে আলিগঞ্জের একটি বাড়িতে কিছুকাল কাটিয়েছেন।
১৯০৫ সালের ০৫ অক্টোবর (মতান্তরে ০৭ আগস্ট) মেদিনীপুর শহরের বেলী হলে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় ঠিক হয় বিদেশী পণ্য বর্জন করার। ক্ষুদিরাম মেতে উঠলেন। পিকেটিং, চাঁদা তোলা, সভার আয়োজন, প্রচার - এসব নিয়েই ক্ষুদিরামের সময় কাটতে লাগল। দ্রুত সত্যেন্দ্রনাথ, হেমচন্দ্র দাসের (কানুনগো) অনুরাগভাজন হয়ে উঠলেন।
সময়টা ১৯০৫ সালের শেষাশেষি, বিপ্লবী হেমচন্দ্র তাঁর সাইকেলে চেপে যাচ্ছেন। সেই সময় ক্ষুদিরাম তাঁকে থামিয়ে রিভালবার চাইলেন। হেমচন্দ্র বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, "রিভালবার নিয়ে কী করবে?” চটপট উত্তর এলো, "একটা সাহেব মারব”। যে ছেলেটি এই কথাগুলো বলল তার বয়স তখন মাত্র ষোলো।
'সোনার বাংলা'
১৯০৬ সালের প্রথম দিকে মেদিনীপুরের পুরোনো জেল প্রাঙ্গণে কৃষি শিল্প প্রদর্শনী'র আসর বসেছে। গুপ্তসমিতির পক্ষ থেকে কিশোর ক্ষুদিরাম তখন 'সোনার বাংলা' নামের একটি প্রচারপত্র বিলি করতে লাগলেন।
ঘটনাটা মেলার দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ ইন্সপেক্টর, একজন সাব-ইন্সপেক্টর ও দশজন সশস্ত্র কনস্টেবলের চোখে পড়ল। হেড কনস্টেবল ক্ষুদিরামকে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করলে ক্ষুদিরাম তার নাকে মুখে সপাটে ঘুষি চালাল।
এই সময় ঘটনটা চোখে পড়ল সত্যেন্দ্রনাথের। তিনি হেড-কনস্টেবলকে বললেন, ক্ষুদিরাম ডেপুটিবাবুর ছেলে, তাঁকে গ্রেপ্তার করা ঠিক হবে না। সত্যেন্দ্রনাথের কথানুযায়ী হেড-কনস্টেবল ক্ষুদিরামকে ছেড়ে দিলেন। ক্ষুদিরাম তৎক্ষণাৎ ভিড়ের মাঝে উধাও।
খানিক পরে কনস্টেবলের ভুল ভাঙল; কিন্তু তখন ক্ষুদিরাম তার নাগালের বাইরে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ওয়েস্টন কিন্তু ছেড়ে দেবার পাত্র ছিলেন না। তিনি ক্ষুদিরামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করলেন। ক্ষুদিরাম কিছুকাল গা ঢাকা দিয়ে নিজেই ধরা দিলেন।
সবাই প্রমাদ গুনল, বালক ক্ষুদিরাম হয়ত সুচতুর জেরার চাপ সামলাতে না পেরে সব ফাঁস করে দেবে। ক্ষুদিরাম অন্য ধাতুতে গড়া। মামলা চলা কালীন তাঁর মুখ থেকে একটি কথাও বেরোয় নি।
তার বিরুদ্ধে রাজদ্রোহের মামলা রুজু করা হল। এটাই বাংলার বিপ্লববাদীদের বিরুদ্ধে ইংরেজকৃত প্রথম রাজদ্রোহের মামলা। নিতান্ত বালক বিবেচনা করে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ৫০০ টাকা জামিন মঞ্জুর করলেন। পরে ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে মুক্তি পেলেন।
মুক্তির মন্দির সোপানতলে
১৯০৭ সালের ২৬ আগস্ট। কলকাতার চিফ প্রেসিডেন্সী ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ড এর এজলাসে চলছিল 'বন্দেমাতরম' পত্রিকার বিরুদ্ধে আনা ইংরেজ সরকারের মামলা। আদালত অবমাননার দায়ে বিপিনচন্দ্রের ছয় মাস কারাদণ্ড হয়।
বিপিনচন্দ্রের প্রতি সেদিন হাজার হাজার জনতার উষ্ণ অভিনন্দন দেখে পুলিশ নাখ দাঁত বের করে তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। এই অত্যাচার দেখে একটি পনেরো বছরের কিশোর সুশীল সেন উত্তেজিত হয়ে এক সার্জেন্টকে ঘুষিতে ধরাশায়ী করল। পরদিন ২৭ আগস্ট, এজলাসে কিংসফোর্ড এর হুকুমে পনের ঘা বেতের আঘাতে যন্ত্রণায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ল ঐ কিশোর।
কিংসফোর্ড বাংলা বিপ্লবীদের চোখে হয়ে উঠলেন অত্যাচারের প্রতিমূর্তি। এই ঘটনার পর কিংসফোর্ডকে মজঃফরপুরে বদলী করা হয়। এই সাধারণ বদলিতে বিপ্লবীরা সন্তুষ্ট হলেন না। বিপ্লব সমিতির বিচারে কিংসফোর্ডের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হল। এই কাজ সম্পন্ন করবার জন্য সত্যেনের মন্ত্রশিষ্য ও বারীনের মেদিনীপুর শাখার কর্মী ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্ল চাকী নির্বাচিত হলেন।
১৯০৭ সালের শেষ ভাগে হাটগেছিয়া সরকারি ডাক লুট হল। লুট করলেন ক্ষুদিরাম। গুপ্ত সমিতির কাজের জন্য অর্থসংগ্রহ করতে এই ব্যবস্থা।
সেইদিনই সকলের অগোচরে গভীর রাত্রে ধান জমির কাদা জল ভেঙ্গে আটমাইল পথ হেঁটে গোপিগঞ্জের স্টিমার ধরেন। তারপর কোলাঘাট হয়ে মেদিনীপুর চলে আসেন।
স্বশস্ত্র বিপ্লবের ঝংকার
৩০শে এপ্রিল ১৯০৮। রাত ৮ টা। চতুর্দিক অন্ধকার। এরই মাঝে এগিয়ে চলা একটা ফিটন গাড়ি এসে দাঁড়াল একটি ডাকবাংলোর গেটে। সঙ্গে সঙ্গে অন্ধকারের স্তব্ধতা খান খান হয়ে গেল একটি প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ও আর্তনাদে।
এবারও প্রাণে বেঁচে যান কিংসফোর্ড। মিস কেনেডি এবং মিসেস কেনেডি প্রাণ হারান। মধ্যরাতের মধ্যে সারা শহর ঘটনাটা জেনে গিয়েছিল, এবং খুব সকাল থেকেই সমস্ত রেলস্টেশনে সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল যাতে প্রত্যেক যাত্রীর ওপর নজর রাখা যায়।
ক্ষুদিরাম সকাল পর্যন্ত ২৫ মাইল হেঁটে ওয়াইনি স্টেশনে পৌঁছান। ৮ টা নাগাদ, সেখানকার একটি চায়ের দোকানে জল চাইতেই ফতে সিং ও শিউ প্রসাদ সিং নামে দু'জন কনস্টেবল তার ক্লান্ত ও ময়লা চেহারা দেখে সন্দেহ করে। কয়েকটি প্রশ্নের পর তাদের সন্দেহ আরও বাড়ে এবং তারা তাকে আটক করে।
তার কাছে ৩৭ রাউন্ড গোলাগুলি, ৩০ টাকা নগদ, একটা রেলপথের মানচিত্র এবং একপাতা রেলের সময়সারণি ছিল। ক্ষুদিরাম চিরকালের জন্যে ধরা পড়ে গেলেন! ওয়াইনি রেল স্টেশনটা বর্তমানে নাম বদল করে হয়েছে ক্ষুদিরাম বসু পুসা স্টেশন।
আবার আসিব ফিরে
১১ আগস্ট, ১৯০৮। ভোর থেকে মুজাফফরপুরে জেলের সামনে লোকে লোকারণ্য। খবর রটে গেছে, কাকভোরেই ফাঁসি হবে এই তরুণ বিপ্লবীর।
জেলের ভিতরে প্রায় ১৫ ফিট উঁচুতে ফাঁসির মঞ্চ। তার দু'দিকে একটি করে খুঁটি আর একটি করে মোটা লোহার রড যা আড়াআড়িভাবে যুক্ত। তারই মাঝখানে বাঁধা মোটা একগাছি দড়ি ঝুলে আছে। দড়ির শেষ প্রান্তে একটি ফাঁস। অর্থাৎ বধ্যভূমি তৈরি।
অগ্নিযুগের বীর সন্তান ক্ষুদিরাম বসু আত্মাহুতি দিয়ে বাঙালির বিপ্লবী আন্দোলনের বীণায় যে সুর বেঁধে দিয়ে গিয়েছিলেন তা আজও ফেরে বাংলার চারণের কণ্ঠ - 'একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি।'
শেষ দিকের কথোপকথন
বিচারকের হুকুম নিয়ে ফাঁসির দণ্ডে দণ্ডিত বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর সাথে উকিল সতীশবাবুর প্রশ্ন উত্তর পর্বের কিছু অংশ তুলে দেওয়া হল।
প্রশ্ন - কাহাকেও তোমার দেখিতে ইচ্ছা হয় না?
ক্ষুদিরামের উত্তর - হ্যাঁ, হয় বইকি; মরণের আগে জন্মভূমি মেদিনীপুরকে দেখিতে সাধ হয়, দিদির ছেলেমেয়েগুলিকে দেখিতে মন চায়।
প্রশ্ন - তোমার মনে কোন দুঃখ আছে কি?
ক্ষুদিরামের উত্তর - না, কিছু না।
প্রশ্ন- কোন আত্মীয় স্বজনকে এখানে আসিতে বলিতে চাও?
ক্ষুদিরামের উত্তর - না, তবে তাহারা ইচ্ছা করিলে আসিতে পারেন।
প্রশ্ন- তোমার মনে কোন ভয় হয় কি?
ক্ষুদিরামের উত্তর - (সহাস্যে) কেন ভয় করিব?
(একটু থেমে দৃঢ়ম্বরে) আমি কি গীতা পড়ি নাই?
প্রশ্ন- তুমি কি জান রংপুর হইতে আমরা কয়েকজন উকিল তোমাকে বাঁচাইতে আসিয়াছি? তুমি তো নিজেই আপন কৃতকার্য স্বীকার করিয়াছ?
ক্ষুদিরামের উত্তর - কেন স্বীকার করিব না?
অন্তিম সময়ে তরুণ বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু ম্যাটসিনি ও গ্যারিবল্ডির কাহিনী পড়তে চেয়েছিলেন। ফাঁসির আগের দিন বিপ্লবী ক্ষুদিরাম উকিল কালিদাস বাবুকে বলেছিলেন,
“রাজপুত নারীরা যেমন নির্ভয়ে আগুনে ঝাঁপ দিয়া জহর ব্রত উদযাপন করিত, আমিও তেমনি নির্ভয়ে প্রাণ দিব। আগামীকাল ফাঁসির আগে আমি চতুর্ভুজার প্রসাদ খাইয়া বধ্যভূমিতে যাইতে চাই।”
বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু সম্পর্কিত এই প্রতিবেদনটি কেমন লেগেছে?
প্রতিবেদনটি সম্পর্কে আপনার মতামত আমাদের অবশ্যই জানান।
Palash Debnath পলাশ দেবনাথ
দেশনায়ক, ভারত মাতার বীর সন্তান, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের মহানায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্ম দিবসে শতকোটি প্রণাম।
#NetajiSubhashChandraBose #NetajiJayanti
1 month ago | [YT] | 0
View 0 replies
Palash Debnath পলাশ দেবনাথ
Happy new year 2026
3 months ago | [YT] | 1
View 0 replies
Palash Debnath পলাশ দেবনাথ
বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু
কতই বা বয়স হবে? আঠেরো (১৮ বছর ৭ মাস ১১ দিন), মেরেকেটে উনিশ। রক্ষীকে পিছনে ফেলে দৃঢ় পায়ে এগিয়ে এসে দাঁড়ালেন ফাঁসির মঞ্চে। দুচোখে অপার সারল্য। আচমকা ফাঁসুড়েকে জিজ্ঞাসা করে বসলেন, 'আচ্ছা, ফাঁসির দড়িতে মোম কেন মাখানো হয়?' স্তম্ভিত সকলে। যেন শেষ মুহূর্তটাও প্রাণভরে উপভোগ করছেন। তিনি অগ্নিযুগের বীর সন্তান
ক্ষুদিরাম বসু।
কেন এমন নাম!
১৮৮৯ সাল - ৩রা ডিসেম্বর। সন্ধ্যা পাঁচটায় অস্তরবির রঙিন ছটা মিলিয়ে যাবার মুহূর্তেই মেদিনীপুরের মৌবনী (হাবিবপুর) গ্রামে ত্রৈলোক্য ও লক্ষ্মীপ্রিয়া দেবীর কোল আলোয় ভরে গেল। পরপর দুটি পুত্র সন্তান - তার মধ্যে একটি আঁতুড় ঘরে ও অপরটি নিতান্ত শিশু অবস্থায় মারা যাবার পর আজ আবার পুত্র সন্তান।
তিন কন্যার পর এই ছেলে তাঁদের চতুর্থ সন্তান। তৎকালীন সমাজে একটা সংস্কার ছিল, পরপর কয়েকটা পুত্রসন্তান মারা গেলে মা তার কোলের ছেলের সমস্ত লৌকিক অধিকার ত্যাগ করে বিক্রি করার ভান করেন। যে কেউ কিনে নেন কড়ি দিয়ে, নয়ত খুদ দিয়ে।
জন্মের পরপরই তাঁর চেয়ে বয়সে বারো বছরের বড় দিদি অপরূপা দেবী তিন মুঠো খুদ দিয়ে ভাইকে কিনে নেন। খুদ দিয়ে কেনা সেই শিশুটির নাম হয় ক্ষুদিরাম। ভাগ্যের পরিহাস এই যে ক্ষুদিরামকেও ধরে রাখা যায়নি। মাত্র পনের বছর বয়সে দেশের ডাকে সাড়া দিয়ে দেশের কাছে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
বেঁচে থাকার লড়াইয়ে
ছয় বছর বয়সেই ক্ষুদিরাম মাতৃহারা হন। মাতৃবিয়োগের মাস চারেক পর ১৮৯৬ সালের ১৪ ফেরুয়ারী পিতৃবিয়োগও ঘটে যায়। কিছুদিনের ব্যবধানে বাবা-মাকে হারিয়ে ছোট দিদির সাথে আশ্রয় নিলেন অবিনাশচন্দ্র বসুর শ্বশুর বাড়িতে।
সেখানে বেশীদিন নিজেকে মানিয়ে নিতে না পেরে হবিবপুরে নিজেদের বাড়ির কাছে কৃত্তিবাস বসুর বাড়িতে আশ্রয় নিলেন। কৃত্তিবাস বসুর স্ত্রী ছিলেন ক্ষুদিরামের ধর্মমাতা। সেখানে সপ্তাহ খানেক থাকার পর তমলুকে দিদি অপরূপাদেবীর কাছে চলে আসেন।
পরবর্তীতে মেজদিদি হঠাৎ মারা যান। ছোট দিদির বিয়ে হয়ে যায়। এই বিবাহ ও বাবার আগের ঋণ শোধ করার জন্য ক্ষুদিরামকে বসতবাড়ি পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়। নিরাশ্রয় ক্ষুদিরাম এরপর থেকে দিদির বাড়িতেই মানুষ হতে লাগল।
শৈশবের দুরন্তপনা
ছিপছিপে রোগা, টুকটুকে ফরসা-একমাথা ঝাঁকড়া চুলের অধিকারী ক্ষুদিরামের কিন্তু পড়াশোনার চাইতে দুরন্তপনাতেই নাম ছিল বেশী। সাথী ভাগ্নে ললিত। ক্ষুদিরাম ভর্তি হল তমলুক হাইস্কুলের চতুর্থ শ্রেণীতে।
ভাগ্নে ললিতকে সঙ্গী করে পাখির বাসায় ঢিল ছোঁড়া, সাঁতার কাটা, গাছ থেকে লাফানো, রণপায়ে চড়ে বরযাত্রী যাওয়া, জ্যান্ত সাপের লেজ ধরে ঘোরানতেই ক্ষুদিরামের আগ্রহ ছিল বেশী।
বন্ধুদের সাথে বাজী ধরে গভীর রাত্রে একা একা শ্মশান থেকে গাছের পাতা ছিঁড়ে আনেন। ভয় ক্ষুদিরামকে স্পর্শ করেনি। এই নির্ভীকতার পরিচয় তিনি জীবনের শেষ মুহূর্তটি অবধি দিয়েছেন।
দীক্ষিত হলেন বিপ্লবের মন্ত্রে
১৯০৪ সাল। ভগ্নীপতি অমৃতলাল রায় বদলী হয়ে গেলেন মেদিনীপুর। ক্ষুদিরামও দিদি-জামাইবাবুর সঙ্গে মেদিনীপুরে এসে কলেজিয়েট স্কুলে সপ্তম শ্রেণীতে ভর্তি হলেন। এই বছর এখানে এসেই ক্ষুদিরাম দীক্ষিত হলেন বিপ্লবী মন্ত্রে।
ক্ষুদিরাম নিয়মিত সংবাদপত্রে রাজনৈতিক নেতা ও স্বদেশপ্রেমীদের বক্তব্য পড়তেন। স্বামী বিবেকানন্দ, নিবেদিতার প্রবন্ধ, বক্তৃতা নিয়মিত পড়তেন। তাঁর মধ্যে সাহস ও নির্ভীকতা ইতিমধ্যেই ছিল তাতে স্বদেশপ্রেমের বীজ অচিরেই অঙ্কুরোদগম হল।
সত্যেন্দ্রনাথ বসুর নেতৃত্বে স্বদেশী আন্দোলনকে ঘিরে মেদিনীপুরে তৈরি হয় বিরাট স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী। এসবের মধ্যে ক্ষুদিরাম ছিলেন সবার অগ্রণী। অষ্টম শ্রেণীতে উঠে স্কুলে যাওয়া একেবারে ছেড়েই দিলেন। গুপ্ত সমিতির প্রচার কার্যে সর্বাগ্রে ক্ষুদিরাম উপস্থিত।
বিপ্লবের অলিন্দে
স্কুল ছাড়ার পর শোনা যায় ক্ষুদিরাম সন্ন্যাসী হবার জন্য গৃহত্যাগ করেছেন। কিন্তু তা আর হয়ে ওঠেনি। সেই নিরুদ্দেশ কালে ক্ষুদিরাম চাষিদের কাছে থাকতেন। পরবর্তীতে গুপ্ত সমিতির আনুকূল্যে আলিগঞ্জের একটি বাড়িতে কিছুকাল কাটিয়েছেন।
১৯০৫ সালের ০৫ অক্টোবর (মতান্তরে ০৭ আগস্ট) মেদিনীপুর শহরের বেলী হলে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় ঠিক হয় বিদেশী পণ্য বর্জন করার। ক্ষুদিরাম মেতে উঠলেন। পিকেটিং, চাঁদা তোলা, সভার আয়োজন, প্রচার - এসব নিয়েই ক্ষুদিরামের সময় কাটতে লাগল। দ্রুত সত্যেন্দ্রনাথ, হেমচন্দ্র দাসের (কানুনগো) অনুরাগভাজন হয়ে উঠলেন।
সময়টা ১৯০৫ সালের শেষাশেষি, বিপ্লবী হেমচন্দ্র তাঁর সাইকেলে চেপে যাচ্ছেন। সেই সময় ক্ষুদিরাম তাঁকে থামিয়ে রিভালবার চাইলেন। হেমচন্দ্র বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, "রিভালবার নিয়ে কী করবে?” চটপট উত্তর এলো, "একটা সাহেব মারব”। যে ছেলেটি এই কথাগুলো বলল তার বয়স তখন মাত্র ষোলো।
'সোনার বাংলা'
১৯০৬ সালের প্রথম দিকে মেদিনীপুরের পুরোনো জেল প্রাঙ্গণে কৃষি শিল্প প্রদর্শনী'র আসর বসেছে। গুপ্তসমিতির পক্ষ থেকে কিশোর ক্ষুদিরাম তখন 'সোনার বাংলা' নামের একটি প্রচারপত্র বিলি করতে লাগলেন।
ঘটনাটা মেলার দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ ইন্সপেক্টর, একজন সাব-ইন্সপেক্টর ও দশজন সশস্ত্র কনস্টেবলের চোখে পড়ল। হেড কনস্টেবল ক্ষুদিরামকে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করলে ক্ষুদিরাম তার নাকে মুখে সপাটে ঘুষি চালাল।
এই সময় ঘটনটা চোখে পড়ল সত্যেন্দ্রনাথের। তিনি হেড-কনস্টেবলকে বললেন, ক্ষুদিরাম ডেপুটিবাবুর ছেলে, তাঁকে গ্রেপ্তার করা ঠিক হবে না। সত্যেন্দ্রনাথের কথানুযায়ী হেড-কনস্টেবল ক্ষুদিরামকে ছেড়ে দিলেন। ক্ষুদিরাম তৎক্ষণাৎ ভিড়ের মাঝে উধাও।
খানিক পরে কনস্টেবলের ভুল ভাঙল; কিন্তু তখন ক্ষুদিরাম তার নাগালের বাইরে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ওয়েস্টন কিন্তু ছেড়ে দেবার পাত্র ছিলেন না। তিনি ক্ষুদিরামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করলেন। ক্ষুদিরাম কিছুকাল গা ঢাকা দিয়ে নিজেই ধরা দিলেন।
সবাই প্রমাদ গুনল, বালক ক্ষুদিরাম হয়ত সুচতুর জেরার চাপ সামলাতে না পেরে সব ফাঁস করে দেবে। ক্ষুদিরাম অন্য ধাতুতে গড়া। মামলা চলা কালীন তাঁর মুখ থেকে একটি কথাও বেরোয় নি।
তার বিরুদ্ধে রাজদ্রোহের মামলা রুজু করা হল। এটাই বাংলার বিপ্লববাদীদের বিরুদ্ধে ইংরেজকৃত প্রথম রাজদ্রোহের মামলা। নিতান্ত বালক বিবেচনা করে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ৫০০ টাকা জামিন মঞ্জুর করলেন। পরে ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে মুক্তি পেলেন।
মুক্তির মন্দির সোপানতলে
১৯০৭ সালের ২৬ আগস্ট। কলকাতার চিফ প্রেসিডেন্সী ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ড এর এজলাসে চলছিল 'বন্দেমাতরম' পত্রিকার বিরুদ্ধে আনা ইংরেজ সরকারের মামলা। আদালত অবমাননার দায়ে বিপিনচন্দ্রের ছয় মাস কারাদণ্ড হয়।
বিপিনচন্দ্রের প্রতি সেদিন হাজার হাজার জনতার উষ্ণ অভিনন্দন দেখে পুলিশ নাখ দাঁত বের করে তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। এই অত্যাচার দেখে একটি পনেরো বছরের কিশোর সুশীল সেন উত্তেজিত হয়ে এক সার্জেন্টকে ঘুষিতে ধরাশায়ী করল। পরদিন ২৭ আগস্ট, এজলাসে কিংসফোর্ড এর হুকুমে পনের ঘা বেতের আঘাতে যন্ত্রণায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ল ঐ কিশোর।
কিংসফোর্ড বাংলা বিপ্লবীদের চোখে হয়ে উঠলেন অত্যাচারের প্রতিমূর্তি। এই ঘটনার পর কিংসফোর্ডকে মজঃফরপুরে বদলী করা হয়। এই সাধারণ বদলিতে বিপ্লবীরা সন্তুষ্ট হলেন না। বিপ্লব সমিতির বিচারে কিংসফোর্ডের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হল। এই কাজ সম্পন্ন করবার জন্য সত্যেনের মন্ত্রশিষ্য ও বারীনের মেদিনীপুর শাখার কর্মী ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্ল চাকী নির্বাচিত হলেন।
১৯০৭ সালের শেষ ভাগে হাটগেছিয়া সরকারি ডাক লুট হল। লুট করলেন ক্ষুদিরাম। গুপ্ত সমিতির কাজের জন্য অর্থসংগ্রহ করতে এই ব্যবস্থা।
সেইদিনই সকলের অগোচরে গভীর রাত্রে ধান জমির কাদা জল ভেঙ্গে আটমাইল পথ হেঁটে গোপিগঞ্জের স্টিমার ধরেন। তারপর কোলাঘাট হয়ে মেদিনীপুর চলে আসেন।
স্বশস্ত্র বিপ্লবের ঝংকার
৩০শে এপ্রিল ১৯০৮। রাত ৮ টা। চতুর্দিক অন্ধকার। এরই মাঝে এগিয়ে চলা একটা ফিটন গাড়ি এসে দাঁড়াল একটি ডাকবাংলোর গেটে। সঙ্গে সঙ্গে অন্ধকারের স্তব্ধতা খান খান হয়ে গেল একটি প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ও আর্তনাদে।
এবারও প্রাণে বেঁচে যান কিংসফোর্ড। মিস কেনেডি এবং মিসেস কেনেডি প্রাণ হারান। মধ্যরাতের মধ্যে সারা শহর ঘটনাটা জেনে গিয়েছিল, এবং খুব সকাল থেকেই সমস্ত রেলস্টেশনে সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল যাতে প্রত্যেক যাত্রীর ওপর নজর রাখা যায়।
ক্ষুদিরাম সকাল পর্যন্ত ২৫ মাইল হেঁটে ওয়াইনি স্টেশনে পৌঁছান। ৮ টা নাগাদ, সেখানকার একটি চায়ের দোকানে জল চাইতেই ফতে সিং ও শিউ প্রসাদ সিং নামে দু'জন কনস্টেবল তার ক্লান্ত ও ময়লা চেহারা দেখে সন্দেহ করে। কয়েকটি প্রশ্নের পর তাদের সন্দেহ আরও বাড়ে এবং তারা তাকে আটক করে।
তার কাছে ৩৭ রাউন্ড গোলাগুলি, ৩০ টাকা নগদ, একটা রেলপথের মানচিত্র এবং একপাতা রেলের সময়সারণি ছিল। ক্ষুদিরাম চিরকালের জন্যে ধরা পড়ে গেলেন! ওয়াইনি রেল স্টেশনটা বর্তমানে নাম বদল করে হয়েছে ক্ষুদিরাম বসু পুসা স্টেশন।
আবার আসিব ফিরে
১১ আগস্ট, ১৯০৮। ভোর থেকে মুজাফফরপুরে জেলের সামনে লোকে লোকারণ্য। খবর রটে গেছে, কাকভোরেই ফাঁসি হবে এই তরুণ বিপ্লবীর।
জেলের ভিতরে প্রায় ১৫ ফিট উঁচুতে ফাঁসির মঞ্চ। তার দু'দিকে একটি করে খুঁটি আর একটি করে মোটা লোহার রড যা আড়াআড়িভাবে যুক্ত। তারই মাঝখানে বাঁধা মোটা একগাছি দড়ি ঝুলে আছে। দড়ির শেষ প্রান্তে একটি ফাঁস। অর্থাৎ বধ্যভূমি তৈরি।
রক্ষীকে পিছনে ফেলে দৃঢ় পায়ে এগিয়ে এসে দাঁড়ালেন ফাঁসির মঞ্চে। ব্রিটিশের দুর্দমনীয় প্রতাপের সামনেও দু'চোখে অপার সারল্য। আচমকা ফাঁসুড়েকে জিজ্ঞাসা করে বসলেন, 'আচ্ছা, ফাঁসির দড়িতে মোম কেন মাখানো হয়?' স্তম্ভিত সকলে। যেন শেষ মুহূর্তটাও প্রাণভরে উপভোগ করছেন।
অগ্নিযুগের বীর সন্তান ক্ষুদিরাম বসু আত্মাহুতি দিয়ে বাঙালির বিপ্লবী আন্দোলনের বীণায় যে সুর বেঁধে দিয়ে গিয়েছিলেন তা আজও ফেরে বাংলার চারণের কণ্ঠ - 'একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি।'
শেষ দিকের কথোপকথন
বিচারকের হুকুম নিয়ে ফাঁসির দণ্ডে দণ্ডিত বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর সাথে উকিল সতীশবাবুর প্রশ্ন উত্তর পর্বের কিছু অংশ তুলে দেওয়া হল।
প্রশ্ন - কাহাকেও তোমার দেখিতে ইচ্ছা হয় না?
ক্ষুদিরামের উত্তর - হ্যাঁ, হয় বইকি; মরণের আগে জন্মভূমি মেদিনীপুরকে দেখিতে সাধ হয়, দিদির ছেলেমেয়েগুলিকে দেখিতে মন চায়।
প্রশ্ন - তোমার মনে কোন দুঃখ আছে কি?
ক্ষুদিরামের উত্তর - না, কিছু না।
প্রশ্ন- কোন আত্মীয় স্বজনকে এখানে আসিতে বলিতে চাও?
ক্ষুদিরামের উত্তর - না, তবে তাহারা ইচ্ছা করিলে আসিতে পারেন।
প্রশ্ন- তোমার মনে কোন ভয় হয় কি?
ক্ষুদিরামের উত্তর - (সহাস্যে) কেন ভয় করিব?
(একটু থেমে দৃঢ়ম্বরে) আমি কি গীতা পড়ি নাই?
প্রশ্ন- তুমি কি জান রংপুর হইতে আমরা কয়েকজন উকিল তোমাকে বাঁচাইতে আসিয়াছি? তুমি তো নিজেই আপন কৃতকার্য স্বীকার করিয়াছ?
ক্ষুদিরামের উত্তর - কেন স্বীকার করিব না?
অন্তিম সময়ে তরুণ বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু ম্যাটসিনি ও গ্যারিবল্ডির কাহিনী পড়তে চেয়েছিলেন। ফাঁসির আগের দিন বিপ্লবী ক্ষুদিরাম উকিল কালিদাস বাবুকে বলেছিলেন,
“রাজপুত নারীরা যেমন নির্ভয়ে আগুনে ঝাঁপ দিয়া জহর ব্রত উদযাপন করিত, আমিও তেমনি নির্ভয়ে প্রাণ দিব। আগামীকাল ফাঁসির আগে আমি চতুর্ভুজার প্রসাদ খাইয়া বধ্যভূমিতে যাইতে চাই।”
বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু সম্পর্কিত এই প্রতিবেদনটি কেমন লেগেছে?
প্রতিবেদনটি সম্পর্কে আপনার মতামত আমাদের অবশ্যই জানান।
4 months ago | [YT] | 2
View 0 replies
Palash Debnath পলাশ দেবনাথ
Joy shri gita
4 months ago | [YT] | 1
View 0 replies
Palash Debnath পলাশ দেবনাথ
Happy Diwali
5 months ago | [YT] | 1
View 0 replies
Palash Debnath পলাশ দেবনাথ
https://youtu.be/ynxh6Hvm58k?si=sx8Lb...
5 months ago | [YT] | 2
View 0 replies
Palash Debnath পলাশ দেবনাথ
বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী কিশোর কুমারের প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি।
5 months ago | [YT] | 2
View 0 replies
Palash Debnath পলাশ দেবনাথ
সকলকে শুভ নবমীর আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও শুভকামনা।
6 months ago | [YT] | 2
View 0 replies
Palash Debnath পলাশ দেবনাথ
সবাইকে শুভ অষ্টমীর আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা
6 months ago | [YT] | 3
View 0 replies
Palash Debnath পলাশ দেবনাথ
সকলকে জানাই মহাসপ্তমী'র আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা..
6 months ago | [YT] | 2
View 0 replies
Load more