লালগলা ঢোঁড়া: একইসাথে বিষধর ও বিষাক্ত এক রহস্যময় সাপ
অরণ্যের নিস্তব্ধতায় হঠাৎ দেখা মিলল এক অচেনা সাপের, গলার রং যেন রক্তিম লাল আর শরীরে এক ধরনের অদ্ভুত ছাপ—এমন দৃশ্য কাউকে না তাকিয়ে থাকতে দেবে? বাংলাদেশের বনভূমি ও জলাশয়ের আশেপাশে পাওয়া যায় এই বিস্ময়কর প্রাণীটির, নাম লালগলা ঢোঁড়া (Redneck Keelback)। কিন্তু আশ্চর্য তথ্য হলো—এ সাপটি শুধুই বিষধর নয়, একইসাথে বিষাক্তও! প্রকৃতির সাধারণ নিয়মে বিষধর সাপ মানে ভেনম (Venom) এবং বিষাক্ত প্রাণী মানে পয়জন (Poison)। কিন্তু এই সাপ দুটি বৈশিষ্ট্য একসাথে বহন করে, যা একে করে তুলেছে সাপ জগতের বিরল রহস্য।
বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন যে লালগলা ঢোঁড়ার মুখের ভেতরে একটি বিষগ্রন্থি থাকে, যার মাধ্যমে শিকারকে ইনজেক্ট করা যায় হেমোটক্সিক বা নিউরোটক্সিক বিষের সংমিশ্রণ। আবার এর ঘাড়ের চামড়ার নিচে এমন এক রাসায়নিক পদার্থ জমা থাকে যা সরাসরি স্পর্শ করলেও শরীরে অ্যালার্জি বা টিস্যু ক্ষতির কারণ হতে পারে। এই দ্বৈত বৈশিষ্ট্য পৃথিবীর খুব অল্প কয়েকটি সাপের মধ্যে দেখা যায়।
ঢোঁড়া পরিবারের অন্যান্য সাপ সাধারণত নিরীহ বা হালকা বিষধর। কিন্তু লালগলা ঢোঁড়া আলাদা। এর কোনো সুগঠিত সামনের বিষদাঁত নেই, বরং মুখের পেছনের অংশের দাঁতকে ফাং হিসেবে ব্যবহার করে ধীরে ধীরে বিষ প্রবেশ করায়। ফলে, কামড় খেলে প্রথমে ব্যথা কম মনে হলেও কয়েক ঘন্টার মধ্যেই তা ভয়াবহ রূপ নেয়। বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুযায়ী, এর বিষ মানবদেহের রক্তকণিকা নষ্ট করতে এবং স্নায়ুতন্ত্রে আঘাত হানতে সক্ষম। এ কারণেই চিকিৎসা না নিলে মারাত্মক জটিলতা বা মৃত্যুও ঘটতে পারে।
বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আর্দ্র বনাঞ্চল, ধানক্ষেত, ঝোপঝাড় ও জলাশয়ের আশেপাশে এ সাপের দেখা মেলে। স্থানীয়ভাবে অনেকেই একে নিরীহ ভেবে উপেক্ষা করে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। প্রকৃতপক্ষে, এটি পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি ব্যাঙ, পোকা এবং ছোট প্রাণী খেয়ে পোকামাকড়ের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখে। তবুও মানুষের জন্য ঝুঁকি এড়াতে এ সাপ থেকে যথেষ্ট দূরে থাকা উচিত।
বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এর ঘাড়ের বিষাক্ত পদার্থ আসলে একটি প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা। যখন শিকারি পাখি বা অন্য কোনো প্রাণী এ সাপকে গিলে ফেলতে চায়, তখন সেই রাসায়নিক বিষক্রিয়ার কারণে আক্রমণকারী প্রাণী অসুস্থ বা দুর্বল হয়ে পড়ে। অর্থাৎ, এই প্রজাতি একদিকে শিকারি, অন্যদিকে আত্মরক্ষায়ও অসাধারণ।
আজকের বাংলাদেশে এই বিরল বৈশিষ্ট্যের সাপ সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান ও সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। কারণ অজ্ঞানতাবশত কামড়ের পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেলে প্রাণহানির সম্ভাবনা থাকে। তাই যে কোনো সাপ কামড়ালে দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে এন্টিভেনম বা সমর্থনমূলক চিকিৎসা নিতে হবে। একইসাথে পরিবেশ সংরক্ষণেও আমাদের মনোযোগী হওয়া উচিত, যাতে এই ধরনের বিরল প্রজাতিগুলো বিলীন না হয়ে যায়।
“ঘড়িয়াল বাংলা” পেজটি লাইক ও ফলো করুন এবং নিচে কমেন্টস করে জানান, আপনি কি আগে কখনো লালগলা ঢোঁড়া সাপের নাম শুনেছেন বা দেখেছেন? আপনার মতামত ও অভিজ্ঞতা আলোচনাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
Chobi Production
প্রশ্নের উত্তর দিন
3 months ago | [YT] | 0
View 0 replies
Chobi Production
লালগলা ঢোঁড়া: একইসাথে বিষধর ও বিষাক্ত এক রহস্যময় সাপ
অরণ্যের নিস্তব্ধতায় হঠাৎ দেখা মিলল এক অচেনা সাপের, গলার রং যেন রক্তিম লাল আর শরীরে এক ধরনের অদ্ভুত ছাপ—এমন দৃশ্য কাউকে না তাকিয়ে থাকতে দেবে? বাংলাদেশের বনভূমি ও জলাশয়ের আশেপাশে পাওয়া যায় এই বিস্ময়কর প্রাণীটির, নাম লালগলা ঢোঁড়া (Redneck Keelback)। কিন্তু আশ্চর্য তথ্য হলো—এ সাপটি শুধুই বিষধর নয়, একইসাথে বিষাক্তও! প্রকৃতির সাধারণ নিয়মে বিষধর সাপ মানে ভেনম (Venom) এবং বিষাক্ত প্রাণী মানে পয়জন (Poison)। কিন্তু এই সাপ দুটি বৈশিষ্ট্য একসাথে বহন করে, যা একে করে তুলেছে সাপ জগতের বিরল রহস্য।
বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন যে লালগলা ঢোঁড়ার মুখের ভেতরে একটি বিষগ্রন্থি থাকে, যার মাধ্যমে শিকারকে ইনজেক্ট করা যায় হেমোটক্সিক বা নিউরোটক্সিক বিষের সংমিশ্রণ। আবার এর ঘাড়ের চামড়ার নিচে এমন এক রাসায়নিক পদার্থ জমা থাকে যা সরাসরি স্পর্শ করলেও শরীরে অ্যালার্জি বা টিস্যু ক্ষতির কারণ হতে পারে। এই দ্বৈত বৈশিষ্ট্য পৃথিবীর খুব অল্প কয়েকটি সাপের মধ্যে দেখা যায়।
ঢোঁড়া পরিবারের অন্যান্য সাপ সাধারণত নিরীহ বা হালকা বিষধর। কিন্তু লালগলা ঢোঁড়া আলাদা। এর কোনো সুগঠিত সামনের বিষদাঁত নেই, বরং মুখের পেছনের অংশের দাঁতকে ফাং হিসেবে ব্যবহার করে ধীরে ধীরে বিষ প্রবেশ করায়। ফলে, কামড় খেলে প্রথমে ব্যথা কম মনে হলেও কয়েক ঘন্টার মধ্যেই তা ভয়াবহ রূপ নেয়। বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুযায়ী, এর বিষ মানবদেহের রক্তকণিকা নষ্ট করতে এবং স্নায়ুতন্ত্রে আঘাত হানতে সক্ষম। এ কারণেই চিকিৎসা না নিলে মারাত্মক জটিলতা বা মৃত্যুও ঘটতে পারে।
বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আর্দ্র বনাঞ্চল, ধানক্ষেত, ঝোপঝাড় ও জলাশয়ের আশেপাশে এ সাপের দেখা মেলে। স্থানীয়ভাবে অনেকেই একে নিরীহ ভেবে উপেক্ষা করে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। প্রকৃতপক্ষে, এটি পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি ব্যাঙ, পোকা এবং ছোট প্রাণী খেয়ে পোকামাকড়ের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখে। তবুও মানুষের জন্য ঝুঁকি এড়াতে এ সাপ থেকে যথেষ্ট দূরে থাকা উচিত।
বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এর ঘাড়ের বিষাক্ত পদার্থ আসলে একটি প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা। যখন শিকারি পাখি বা অন্য কোনো প্রাণী এ সাপকে গিলে ফেলতে চায়, তখন সেই রাসায়নিক বিষক্রিয়ার কারণে আক্রমণকারী প্রাণী অসুস্থ বা দুর্বল হয়ে পড়ে। অর্থাৎ, এই প্রজাতি একদিকে শিকারি, অন্যদিকে আত্মরক্ষায়ও অসাধারণ।
আজকের বাংলাদেশে এই বিরল বৈশিষ্ট্যের সাপ সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান ও সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। কারণ অজ্ঞানতাবশত কামড়ের পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেলে প্রাণহানির সম্ভাবনা থাকে। তাই যে কোনো সাপ কামড়ালে দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে এন্টিভেনম বা সমর্থনমূলক চিকিৎসা নিতে হবে। একইসাথে পরিবেশ সংরক্ষণেও আমাদের মনোযোগী হওয়া উচিত, যাতে এই ধরনের বিরল প্রজাতিগুলো বিলীন না হয়ে যায়।
“ঘড়িয়াল বাংলা” পেজটি লাইক ও ফলো করুন এবং নিচে কমেন্টস করে জানান, আপনি কি আগে কখনো লালগলা ঢোঁড়া সাপের নাম শুনেছেন বা দেখেছেন? আপনার মতামত ও অভিজ্ঞতা আলোচনাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
#বাংলা #chobi #বাংলাদেশেরসাপ #WildlifeConservation #RedneckKeelback #SnakeFacts #VenomAndPoison
5 months ago | [YT] | 0
View 0 replies
Chobi Production
ফজলি আম
6 months ago | [YT] | 0
View 0 replies
Chobi Production
Amrupali amm
7 months ago | [YT] | 0
View 0 replies
Chobi Production
ব্যানানা ম্যাংগো থোকা
10 months ago | [YT] | 0
View 0 replies
Chobi Production
নওগাঁ সাপাহার এর বিখ্যাত আম্রপালি আমৃতি আজই যোগাযোগ করুন 01785568605
1 year ago | [YT] | 2
View 0 replies
Chobi Production
Banana mango 🥭
1 year ago | [YT] | 1
View 0 replies
Chobi Production
পাইকারি দামে আম নিতে আজি যোগাযোগ করুন আমার এই নাম্বারে।
01785-568605
1 year ago | [YT] | 0
View 0 replies
Chobi Production
ব্যানানা আম নিতে যোগাযোগ করুন ।
01785568605
1 year ago | [YT] | 0
View 0 replies
Chobi Production
Amropoli lagbe
01785568605
1 year ago | [YT] | 0
View 0 replies
Load more