Voice Of Junglemahal

A hub of folk culture, myth, movement, tribal dance festival etc. Here, you can feel the pulse of rural india. You may get here the rhythm of tribal music and dance from eastern India.A lot of short & documentry films are uploaded regularly. It is our short initiative to archive and showcase the golden treasury of adivasi/ tribal culture of Eastern India.


Voice Of Junglemahal

Wish you happiness and prosperity on Rohin Parab

11 months ago | [YT] | 1

Voice Of Junglemahal

টুসু
'আইসছে মকর দুদিন সবুর কর/ তরহা মুড়ি চিড়া জোগাড় কর' - এই টুসু গানে মত্ত ছোটনাগপুর মালভূমির এর তামাম কুড়মী জনপদ। শুরু হয়েছে সেই 'ছোটমকরে ' টুসু পাতানোর মাধ্যমে। চলবে পোষ সংক্রান্তির টুসু ভাসান পর্যন্ত। এক সংক্রান্তি থেকে আরেক সংক্রান্তির এই যে যাত্রাপথ তার মাঝখানে প্রতিবছর ভূমিষ্ট হয় হাজার হাজার টুসু গান। যে গানের বেশিরভাগেই দু:খ, দারিদ্র্য, প্রেম-পিরীতের রসে রঞ্জিত।সাম্রতিক কালে টুসু গান বঞ্চনা বিদ্রোহের হাতিয়ারও ভূমিপুত্রদের কাছে।
আজ বাঁউড়ি। জঙ্গলমহলের প্রতিটি গ্রামে আজ সকাল থেকে মহিলাদের ব্যস্ততা।ভোর থেকে শুরু হয়ে যায় ঢেঁকিতে গুঁড়ি তৈরীর কাজ।শালবনীর অনিমা মাহাত, মমতা মাহাত রা বলেন এখনকার দিনে অধিকাংশ গুঁড়ি মেশিনে তৈরী হলেও, পরব পার্বনে ঢেঁকিতে গুঁড়ি তৈরীর মজাটাই আলাদা। জঙ্গলমহলের সংস্কৃতিতে ঢেঁকি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে রয়েছে বলে লোকসংস্কৃতিবিদ দের অভিমত।তাদের বক্তব্য,আনন্দ, উদ্দীপনার দিকথেকে টুসু উৎসব কোন অংশই দূর্গাপূজার থেকে কম যায় না। লালগড়ের বিশিষ্ট কুড়মী সমাজকর্মী প্রাণবল্লভ মাহাত বলেন, যে সময় শারদীয়া দূর্গাপূজা হয়, সে সময় সারা ছোটনাগপুর মালভূমি এলাকা জুড়ে অভাবের মাস। ধান রোপনের পর অধিকাংশ আদিবাসী পরিবারে অর্থের সংকুলান হয়। সেভাবে তাই দূর্গাপূজার সময় জঙ্গলমহলা মেতে উঠতে পারে না। কিন্তু, পোষসংক্রান্তির এই টুসু মেলায় প্রতিটি বাড়িতে ধানে ভরে ওঠে। তাই পরিবারের প্রত্যেকের শরীরে ওঠে নতুন কাপড়।
টুসু আসলে কি? কে ছিলেন? এই প্রশ্ন নিয়ে আমরা পৌঁছে গিয়েছিলাম জঙ্গলমহলের বেশ কিছু বিদগ্ধ মানুষের কাছে।টুসু উৎসব সম্পর্কে প্রচলিত নানা কিংবদন্তী এই উৎসব কে আরো মহিমান্বিত করেছে। টুসু কে কাশীপুর এর রাজার কন্যা মনে করা হলেও এবং মকর সংক্রান্তির দিন মুসলমান নবাবের লালসার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নদীতে আত্মবিসর্জন এর কাহিনী প্রচলিত থাকলেও, জঙ্গলমহলের গবেষকরা কেউই এই কাহিনী মানতে চাননি।প্রাক্তন অধ্যাপক ড: অনাদিনাথ কড়ইয়ার বলেছেন, টুসু হল সম্পূর্ণভাবে কৃষিভিত্তিক উৎসব
। কার্তিক মাস থেকে যে ধানকাটা শুরু হয় শেষ হয় অগ্রহায়নের সংক্রান্তিতে। অগ্রহায়ন মাসের সংক্রান্তি যা জঙ্গলমহলে ছোটমকর নামে পরিচত।ওইদিন জমি থেকে ধানের শেষ আঁটিটিকে পূজো করে প্রতিটি কুড়মি পরিবারের কর্তা মাথায় করে নিয়ে এসে বাড়িতে স্থাপন করেন।এই অনুষ্ঠান টিকে বলে 'ডেনী মাঁই ' আনা। অনাদি বাবুর মতে এই 'ডেনী মাই' হল টুসু। এই সময় প্রতিটি বাড়ি যেহেতু ফসলে টুসটুস করে ওঠে অর্থাৎ ভরে ওঠে। ওইজন্য ইহা টুসু নামে পরিচিত।প্রসঙ্গত, উল্লেখ্য অগ্রহায়ন মাসের সংক্রান্তি থেকে পোষমাসের সংক্রান্তি পর্যন্ত প্রতিদিন টুসুকে পূজো করা হয় নৃত্যগীতের মাধ্যমে। হাজারিবাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক ড.বিনয় মাহাত টুসুকে শস্যের পুনর্জন্মের উৎসব বলে বর্ননা করেছেন।বর্ষার শুরুতে মাটিতে পোঁতা বীজ থেকে নতুন শস্যের জন্ম হয়। সারাবছর চাষবাসের পর পোষমাসের শেষে সেই শস্য পূর্ণতা লাভ করে মকর সংক্রান্তিতে। টুসু উৎসব তাই আদিম মানুষের মৃত শস্যের পুনর্জীবন কামনার একটি জীবনধর্মী, সৃষ্টিধর্মী অভিনব লোকউৎসব। অনেক গবেষকের মতে 'তুষ' শব্দ থেকে টুসু শব্দের উতপত্তি। বিনয় বাবু তাঁর 'লোকায়ত ঝাড়খন্ড' গ্রন্থে বলেছেন, এই তুষ মৃত ধানের প্রতীক। আর জলাশয়ে টুসু বিসর্জনের অর্থ হল মৃত শস্যকে কবর দেওয়া। তবু টুসু ভাসান শোকোতসব নয়।বরং মৃতের অবশ্যম্ভাবী পুনর্জন্মকে ত্বরান্বিত করার জন্য আনন্দোৎসব।
টূসুর সঙ্গে মূর্তি পূজার কোন সম্পর্ক নেই। তবু অঞ্চলভেদে বাঁকুড়া, মেদিনীপুর এর কিছু এলাকায় মুর্তি পূজো হচ্ছে। টুসু উৎসব এর প্রানকেন্দ্র পুরুলিয়াতে কোন ধরনের মূর্তি করা হয় না। টুসুর বাহন রূওপে 'চোড়ল' ব্যাবহার করা হয় নৃত্যগীতে। পুরুলিয়ার বিশিষ্ট গবেষক চারিয়ান মাহাত এর মতে, টুসু উতসবে সূর্য দেবতাকে পূজো করা হয়। কুড়মালী শব্দ 'টুই' এর অর্থ সর্বোচ্চ, আর 'সু' এর অর্থ সূর্য। এই সময় সূর্য এর উত্তরায়ণ শুরু হোয়ায় সূর্য সর্বোচ্চ স্থানে থাকে। সূর্য যেহেতু সকল শক্তির উতস, তাই সূর্য দেবতা কে পূজো করা হয় টুসুর মাধ্যমে।
'টুসু' সম্বন্ধে যাই মতবাদ প্রচলিত থাকুক, টুসু বৃহত্তর ছোটনাগপুর মালভূমি এলাকার জাতীয় উতসবে পরিণত হয়েছে। টুসু কুড়মী জনজাতির প্রধান উতসব হলেও, এই এলাকায় বসবাসকারী সমস্ত জাতিগোষ্ঠী এই অংশগ্রহন করে থাকেন।মকরসংক্রান্তি তে স্নানের পর ধনী গরীব প্রত্যেকের শরীরে উঠবে নতুন পোশাক।ওইদিন পুরুষরা চলে যায় নিকটবর্তী 'পরকুল' মেলায়। মহিলারা নিকটবর্তী নদী বা পুকুরে চলে যান টুসু বিসর্জনে।বাস্তবিকই টুসু হয়ে উঠেছে জংগলমহলের প্রানের উৎসব। ✍️ Mrinal Kanti Mahata

1 year ago | [YT] | 5

Voice Of Junglemahal

টুসু
'আইসছে মকর দুদিন সবুর কর/ তরহা মুড়ি চিড়া জোগাড় কর' - এই টুসু গানে মত্ত ছোটনাগপুর মালভূমির এর তামাম কুড়মী জনপদ। শুরু হয়েছে সেই 'ছোটমকরে ' টুসু পাতানোর মাধ্যমে। চলবে পোষ সংক্রান্তির টুসু ভাসান পর্যন্ত। এক সংক্রান্তি থেকে আরেক সংক্রান্তির এই যে যাত্রাপথ তার মাঝখানে প্রতিবছর ভূমিষ্ট হয় হাজার হাজার টুসু গান। যে গানের বেশিরভাগেই দু:খ, দারিদ্র্য, প্রেম-পিরীতের রসে রঞ্জিত।সাম্রতিক কালে টুসু গান বঞ্চনা বিদ্রোহের হাতিয়ারও ভূমিপুত্রদের কাছে।
আজ বাঁউড়ি। জঙ্গলমহলের প্রতিটি গ্রামে আজ সকাল থেকে মহিলাদের ব্যস্ততা।ভোর থেকে শুরু হয়ে যায় ঢেঁকিতে গুঁড়ি তৈরীর কাজ।শালবনীর অনিমা মাহাত, মমতা মাহাত রা বলেন এখনকার দিনে অধিকাংশ গুঁড়ি মেশিনে তৈরী হলেও, পরব পার্বনে ঢেঁকিতে গুঁড়ি তৈরীর মজাটাই আলাদা। জঙ্গলমহলের সংস্কৃতিতে ঢেঁকি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে রয়েছে বলে লোকসংস্কৃতিবিদ দের অভিমত।তাদের বক্তব্য,আনন্দ, উদ্দীপনার দিকথেকে টুসু উৎসব কোন অংশই দূর্গাপূজার থেকে কম যায় না। লালগড়ের বিশিষ্ট কুড়মী সমাজকর্মী প্রাণবল্লভ মাহাত বলেন, যে সময় শারদীয়া দূর্গাপূজা হয়, সে সময় সারা ছোটনাগপুর মালভূমি এলাকা জুড়ে অভাবের মাস। ধান রোপনের পর অধিকাংশ আদিবাসী পরিবারে অর্থের সংকুলান হয়। সেভাবে তাই দূর্গাপূজার সময় জঙ্গলমহলা মেতে উঠতে পারে না। কিন্তু, পোষসংক্রান্তির এই টুসু মেলায় প্রতিটি বাড়িতে ধানে ভরে ওঠে। তাই পরিবারের প্রত্যেকের শরীরে ওঠে নতুন কাপড়।
টুসু আসলে কি? কে ছিলেন? এই প্রশ্ন নিয়ে আমরা পৌঁছে গিয়েছিলাম জঙ্গলমহলের বেশ কিছু বিদগ্ধ মানুষের কাছে।টুসু উৎসব সম্পর্কে প্রচলিত নানা কিংবদন্তী এই উৎসব কে আরো মহিমান্বিত করেছে। টুসু কে কাশীপুর এর রাজার কন্যা মনে করা হলেও এবং মকর সংক্রান্তির দিন মুসলমান নবাবের লালসার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নদীতে আত্মবিসর্জন এর কাহিনী প্রচলিত থাকলেও, জঙ্গলমহলের গবেষকরা কেউই এই কাহিনী মানতে চাননি।প্রাক্তন অধ্যাপক ড: অনাদিনাথ কড়ইয়ার বলেছেন, টুসু হল সম্পূর্ণভাবে কৃষিভিত্তিক উৎসব
। কার্তিক মাস থেকে যে ধানকাটা শুরু হয় শেষ হয় অগ্রহায়নের সংক্রান্তিতে। অগ্রহায়ন মাসের সংক্রান্তি যা জঙ্গলমহলে ছোটমকর নামে পরিচত।ওইদিন জমি থেকে ধানের শেষ আঁটিটিকে পূজো করে প্রতিটি কুড়মি পরিবারের কর্তা মাথায় করে নিয়ে এসে বাড়িতে স্থাপন করেন।এই অনুষ্ঠান টিকে বলে 'ডেনী মাঁই ' আনা। অনাদি বাবুর মতে এই 'ডেনী মাই' হল টুসু। এই সময় প্রতিটি বাড়ি যেহেতু ফসলে টুসটুস করে ওঠে অর্থাৎ ভরে ওঠে। ওইজন্য ইহা টুসু নামে পরিচিত।প্রসঙ্গত, উল্লেখ্য অগ্রহায়ন মাসের সংক্রান্তি থেকে পোষমাসের সংক্রান্তি পর্যন্ত প্রতিদিন টুসুকে পূজো করা হয় নৃত্যগীতের মাধ্যমে। হাজারিবাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক ড.বিনয় মাহাত টুসুকে শস্যের পুনর্জন্মের উৎসব বলে বর্ননা করেছেন।বর্ষার শুরুতে মাটিতে পোঁতা বীজ থেকে নতুন শস্যের জন্ম হয়। সারাবছর চাষবাসের পর পোষমাসের শেষে সেই শস্য পূর্ণতা লাভ করে মকর সংক্রান্তিতে। টুসু উৎসব তাই আদিম মানুষের মৃত শস্যের পুনর্জীবন কামনার একটি জীবনধর্মী, সৃষ্টিধর্মী অভিনব লোকউৎসব। অনেক গবেষকের মতে 'তুষ' শব্দ থেকে টুসু শব্দের উতপত্তি। বিনয় বাবু তাঁর 'লোকায়ত ঝাড়খন্ড' গ্রন্থে বলেছেন, এই তুষ মৃত ধানের প্রতীক। আর জলাশয়ে টুসু বিসর্জনের অর্থ হল মৃত শস্যকে কবর দেওয়া। তবু টুসু ভাসান শোকোতসব নয়।বরং মৃতের অবশ্যম্ভাবী পুনর্জন্মকে ত্বরান্বিত করার জন্য আনন্দোৎসব।
টূসুর সঙ্গে মূর্তি পূজার কোন সম্পর্ক নেই। তবু অঞ্চলভেদে বাঁকুড়া, মেদিনীপুর এর কিছু এলাকায় মুর্তি পূজো হচ্ছে। টুসু উৎসব এর প্রানকেন্দ্র পুরুলিয়াতে কোন ধরনের মূর্তি করা হয় না। টুসুর বাহন রূওপে 'চোড়ল' ব্যাবহার করা হয় নৃত্যগীতে। পুরুলিয়ার বিশিষ্ট গবেষক চারিয়ান মাহাত এর মতে, টুসু উতসবে সূর্য দেবতাকে পূজো করা হয়। কুড়মালী শব্দ 'টুই' এর অর্থ সর্বোচ্চ, আর 'সু' এর অর্থ সূর্য। এই সময় সূর্য এর উত্তরায়ণ শুরু হোয়ায় সূর্য সর্বোচ্চ স্থানে থাকে। সূর্য যেহেতু সকল শক্তির উতস, তাই সূর্য দেবতা কে পূজো করা হয় টুসুর মাধ্যমে।
'টুসু' সম্বন্ধে যাই মতবাদ প্রচলিত থাকুক, টুসু বৃহত্তর ছোটনাগপুর মালভূমি এলাকার জাতীয় উতসবে পরিণত হয়েছে। টুসু কুড়মী জনজাতির প্রধান উতসব হলেও, এই এলাকায় বসবাসকারী সমস্ত জাতিগোষ্ঠী এই অংশগ্রহন করে থাকেন।মকরসংক্রান্তি তে স্নানের পর ধনী গরীব প্রত্যেকের শরীরে উঠবে নতুন পোশাক।ওইদিন পুরুষরা চলে যায় নিকটবর্তী 'পরকুল' মেলায়। মহিলারা নিকটবর্তী নদী বা পুকুরে চলে যান টুসু বিসর্জনে।বাস্তবিকই টুসু হয়ে উঠেছে জংগলমহলের প্রানের উৎসব। ✍️ Mrinal Kanti Mahata
www.khaboronline.com/fair/tusu-festival-is-being-c…

https://youtu.be/FSDWTM2Da5k?si=inwZL...

1 year ago | [YT] | 0

Voice Of Junglemahal

Life in Jangalmahal

2 years ago | [YT] | 5

Voice Of Junglemahal

Happy Bandna Parab.

2 years ago | [YT] | 14

Voice Of Junglemahal

দেখুন আমাদের তথ্যচিত্র
https://youtu.be/2Fjk95b8_bM?si=wlpAR...

2 years ago | [YT] | 0