একসময় গরুড়দেব ভাবতে লাগলেন— “আমি তো ভগবান বিষ্ণু ও শ্রীকৃষ্ণের বাহন, আমার মতো শক্তিশালী আর কে আছে?” এই ভাবনাতেই তাঁর মনে অহংকার জন্ম নিল। সবকিছু জানলেও ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কিছু বললেন না। একদিন তিনি গরুড়দেবকে বললেন, “গরুড়, আজ তুমি আমার বাহন হবে না। আমি একাই যাব।” এই কথা শুনে গরুড়দেব অবাক হয়ে গেলেন। কিছু দূর যেতেই তিনি দেখলেন— একটি ক্ষুদ্র পিঁপড়ে পথ আটকে দাঁড়িয়ে আছে। গরুড়দেব যতই চেষ্টা করেন, সেই পিঁপড়েটিকে সরাতে পারেন না। তখন তিনি বুঝলেন— যে শক্তি তিনি নিজের মনে করছিলেন, তা আসলে ভগবানের কৃপাই ছিল। চোখে জল নিয়ে গরুড়দেব প্রণাম করে বললেন, “প্রভু, অহংকারের জন্য আমাকে ক্ষমা করুন।” তখন শ্রীকৃষ্ণ প্রকাশ হয়ে বললেন, “গরুড়, শক্তি কারও নিজের নয়। যে নিজেকে কিছু মনে করে, সে দুর্বল হয়— আর যে নিজেকে আমার দাস ভাবে, সে অজেয়।” 💙 👉 শিক্ষা: অহংকার আসলে শক্তির পতন, আর নম্রতাই ভক্তির অলংকার। 🙏📿!! হরে কৃষ্ণ!!📿 🙏
রাজা জন্মেজয়ের সর্পসত্র যজ্ঞ আস্তিক মুনি কেন বন্ধ করেছিলেন, এই কাহিনীটি এখন বিস্তারিতভাবে তুলে ধরছি: আস্তিক মুনির জন্মই হয়েছিল এক বিশেষ উদ্দেশ্যে। তার বাবা ছিলেন ঋষি জরৎকারু এবং মা ছিলেন নাগরাজ বাসুকির বোন দেবী মনসা। যেহেতু তার শরীরে ঋষি এবং নাগ—উভয় বংশের রক্ত ছিল, সেহেতু তিনি উভয় কুলের আশীর্বাদপুষ্ট ছিলেন। আস্তিক মুনির জন্মের আগে থেকেই দেবতারা জানতেন যে, তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি নাগ বংশকে রক্ষা করতে পারবেন। পিতা পরীক্ষিতের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে জন্মেজয় পৃথিবীর সমস্ত সাপকে যজ্ঞের আগুনে পুড়িয়ে মারার শপথ করেছিলেন। এই যজ্ঞে যখন হাজার হাজার নিরীহ সাপ মারা যাচ্ছিল, তখন নাগ বংশ প্রায় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছিল। আস্তিক মুনি তখন যজ্ঞস্থলে উপস্থিত হন এবং দেখেন যে প্রতিহিংসার কারণে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। আস্তিক মুনি যজ্ঞশালায় প্রবেশ করে রাজা জন্মেজয় এবং যজ্ঞের পুরোহিতদের অসাধারণভাবে স্তুতি (প্রশংসা) করতে শুরু করেন। তার গভীর জ্ঞান এবং মিষ্টভাষায় মুগ্ধ হয়ে রাজা জনমেজয় তাকে একটি বর দিতে চান।
রাজা যখন তাকে বর দিতে চাইলেন, আস্তিক মুনি প্রার্থনা করেন— 'মহারাজ, আপনার এই সর্পসত্র যজ্ঞ এখনই সমাপ্ত হোক।' সেই মুহূর্তে তক্ষক নাগ ইন্দ্রের সিংহাসন আঁকড়ে ধরেও যজ্ঞের মন্ত্রবলে আগুনের দিকে ধেয়ে যাচ্ছিল। আস্তিক মুনি তখন 'তিষ্ঠ' বলে তাকে রক্ষা করেন।
কিন্তু রাজা প্রথমে রাজি হতে চাননি, কারণ তক্ষক নাগ তখনও বেঁচে ছিল। কিন্তু তিনি সত্যর পাশে বা প্রতিশ্রুতিতে বাধ্য ছিলেন। তাছাড়া আস্তিক মুনি বুঝিয়েছিলেন যে, প্রতিহিংসা দিয়ে কখনো শান্তি আসে না। অবশেষে রাজার সম্মতিতে যজ্ঞ বন্ধ হয় এবং এভাবেই আস্তিক মুনি নাগ বংশকে রক্ষা করেন।
আস্তিক মুনির এই উপকারের কৃতজ্ঞতাস্বরূপ নাগরা আশীর্বাদ করেছিলেন যে— যারা আস্তিক মুনির নাম এবং এই কাহিনী স্মরণ করবে, তারা কখনো সর্পদংশনের শিকার হবে না। এমনকি আজও অনেক বাড়িতে সাপের উপদ্রব কমাতে দরজায় বা দেওয়ালে নিচের শ্লোকটি লেখা হয়।
সরলার্থ: হে মহাবিষধর সর্প! তোমার মঙ্গল হোক, তুমি এখান থেকে চলে যাও। রাজা জন্মেজয়ের যজ্ঞ শেষে আস্তিক মুনি যে কথা দিয়েছিলেন, তা স্মরণ করো। আস্তিক মুনির এই আজ্ঞা শোনার পরেও যে সাপ ফিরে না যায় (বা অনিষ্ট করে), শিমূল গাছের ফল পেকে যেমন ফেটে যায়, তার মাথাও তেমনি শতধা বিভক্ত হয়ে যাবে।
সনাতন ধর্মে বিশ্বাস করা হয় যে, আস্তিক মুনির নাম স্মরণ করলে সাপের ভয় থাকে না। তাই নাগ পঞ্চমীর দিনে এই কাহিনীটি পাঠ করা খুব শুভ বলে মনে করা হয়। 🙏
কাহিনীটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন। এবং পেজটিকে ফলো করে পাশে থাকুন।
যেখানে বিদ্যার আরাধনা, সেখানেই জন্ম নেয় বিপ্লব। বিদ্যার আলোয় আলোকিত মন, দেশপ্রেমে দীপ্ত প্রাণ— মা সরস্বতীর চরণে শ্রদ্ধা,🙏 আর নেতাজির আদর্শে অনুপ্রেরণা।💐 সকলকে সরস্বতী পূজা ও নেতাজি জন্মজয়ন্তীর শুভেচ্ছা ও শুভকামনা 🙏🌸📚🇮🇳
"রাধা নামের" মহিমা নিয়ে কাহিনী ----------------------------- গোকুলে একটা খুব সুন্দর ময়ূর বাস করতো । সে প্রতিদিন শ্রীকৃষ্ণের ঘরের দ্বারে বসে গান গাইতো, গানটি ছিল.... “মেরা কোয়ি না সাহারা বিনা তেরে গোপাল, সাওয়ারিয়া মেরে, মনওয়া সাওয়ারিয়া মেরে।"
এই গানটির বাংলা অর্থ হচ্ছে :- তুমি ছাড়া আমার আর কোন সাথী নেই গোপাল, তুমি আমার একমাত্র প্রিয় সঙ্গী গোপাল, একমাত্র প্রিয় সঙ্গী।
গোপাল মানে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ প্রতিদিন তার সামনে দিয়ে গোষ্ঠে যায়, কিন্তু কখনো ময়ূরের দিকে ফিরেও তাকায় না। এভাবে একদিন- দুইদিন- এক বছর যায়... ময়ূর জল পর্যন্ত গ্রহণ করেনা ৷
একদিন এক ময়না পাখি এসে ময়ূরকে দেখে খুব দুঃখিত হয় । ময়না পাখি ময়ূরকে বর্ষণায় যাওয়ার পরামর্শ দেয়। আর বলে সেখানে রাধারাণী অত্যন্ত কৃপালু।
ময়ূর ময়না পাখির সাথে রাধারানীর বর্ষনায় যায় । ময়না পাখি বর্ষণায় পৌঁছেই "রাধে রাধে" বলতে থাকে । কিন্তু ময়ূর "গোপাল গোপাল" বলতে থাকে। আর "গোপাল" এই শব্দটি শ্রবণ মাত্রই রাধারাণী তাড়াতাড়ি করে ঘর থেকে বের হয়ে আসেন।
রাধারানী আদর করে ময়ূরকে বুকে জড়িয়ে ধরেন। ময়ূর বলে : “রাধারাণী যে করুণার সাগর তা প্রমাণিত হলো। অথচ শ্রীকৃষ্ণকে দেখো। আমি এক বছর ধরে তাকে ডেকেই চলেছি । এই এক বছরে শ্রীকৃষ্ণ আমাকে একটু জলও পান করালো না"।
তখন রাধারাণী বললেন : “ময়ূর তুমি এবার গোকুলে যাও। আর গোকুলে গিয়ে বলবে, “রাধে রাধে" ....
ময়ূর রাধারাণীর কথামতো গোকুলে ফিরে “রাধে রাধে" বলতে লাগলো। যেই "রাধারাণীর" নাম কৃষ্ণের কর্ণে প্রবেশ করলো সঙ্গে সঙ্গে কৃষ্ণ দৌঁড়ে এসে বললো : “হে ময়ূর , তুমি কোথা হতে এসেছো" ??
ময়ূর বললো : “আমি এখন বর্ষণা থেকে এসেছি। গত এক বছর ধরে আমি গোকুলে তোমায় কত ডেকেছি , তুমি একটি বারের জন্যও আমার ডাকে সাড়া দাও নি"....
কৃষ্ণ দূঃখের সাথে বললো : “ক্ষমা করো ময়ূর। আমি সারাদিন "রাধানাম" স্মরণ করি। তাই তোমার ডাক আমার কর্ণে প্রবেশ করেনি। কিন্তু আজ তুমি "রাধা রাধা" বললে। আজ আমি তোমার প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। আজ আমি তোমার পুচ্ছ আমার চূড়ায় ধারণ করলাম। যে আমাকে রাধা নাম শোনায়, তার কাছে আমি বিক্রি হয়ে যাই, তাকে আমি আমার মস্তকে ধারণ করে রাখি।"
১মিনিট লাগবে… “এই লেখাটা না পড়লে— মহাপ্রভুর বিরহ আসলে কী, তা কখনোই বোঝা যাবে না।এটা তথ্য নয়, এটা আগুন… নিচে পড়ুন—আর বুঝুন কেন মহাপ্রভু নিজেরই প্রেমে নিজেই জ্বলে গিয়েছিলেন।
যখন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু রাধারানীর বিরহে উন্মাদ হয়ে মূর্ছিত হয়ে পড়তেন—তখন কী হতো?
শাস্ত্রে বলা হয়েছে—এটি কোনো সাধারণ অচেতন হওয়া নয়। এটি ছিল রাধাভাবের মহাসমুদ্র, যেখানে স্বয়ং কৃষ্ণ রাধার প্রেমে ডুবে গিয়ে নিজের সত্তাকেই ভুলে যেতেন।
শ্রীকৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী চৈতন্য চরিতামৃত-এ লিখেছেন— মহাপ্রভু রাধারানীর ভাব ধারণ করে অনুভব করতেন সেই যন্ত্রণা, যে যন্ত্রণা রাধারানী কৃষ্ণ-বিরহে প্রতিক্ষণে সহ্য করেন।
⸻
🌸 রাধার বিরহ মানে কী? রাধার বিরহ মানে শুধু প্রিয়ের অনুপস্থিতি নয়— এ হল এমন এক আগুন, যেখানে দেহ পুড়ে যায়, মন গলে যায়, আর আত্মা কেবল একটিই নাম ডাকে— “কৃষ্ণ… কৃষ্ণ…”
আর সেই বিরহ যখন কৃষ্ণ নিজেই অনুভব করেন— তখন তিনি আর কৃষ্ণ থাকেন না, তিনি হয়ে ওঠেন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু।
⸻
💔 মহাপ্রভুর দেহে কী হতো? শাস্ত্র বলে— • কখনো দেহ হঠাৎ লম্বা হয়ে যেত • কখনো শরীর কঠিন হয়ে পড়ে থাকত নিথর • নিঃশ্বাস ক্ষীণ হয়ে যেত • চোখ দিয়ে অবিরাম অশ্রুধারা ঝরত • হৃদয় এত জোরে কাঁপত যে পাশে থাকা ভক্তরা ভয়ে কেঁপে উঠতেন
কখনো তিনি মাটিতে পড়ে থাকতেন, মুখ গড়িয়ে জল, আর ঠোঁট থেকে বেরোত শুধু একটাই শব্দ—
“হা রাধে… হা প্রাণনাথ…”
⸻
🌊 রাধার বিরহে উন্মাদ ভাব রাধারানী কৃষ্ণ-বিরহে যেভাবে যমুনার জলে ঝাঁপ দিতেন, ঠিক সেই ভাবেই মহাপ্রভু কখনো সমুদ্রে ঝাঁপ দিতেন।
ভক্তরা দৌড়ে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করতেন, আর দেখতেন— চোখ বন্ধ, দেহ নিথর, কিন্তু মুখে এক অদ্ভুত শান্তি, যেন তিনি অন্য কোনো লীলা জগতে প্রবেশ করেছেন।
⸻
🌼 কেন তিনি মূর্ছিত হতেন? কারণ—
এই বিরহ সহ্য করার ক্ষমতা মানুষের দেহে নেই। এই বিরহ দেবতাদেরও নেই।
এই বিরহ কেবল শ্রী রাধারানীর হৃদয়ের সম্পত্তি।
আর মহাপ্রভু সেই হৃদয়ের গভীরে প্রবেশ করেছিলেন।
⸻
🙏🏻 ভক্তদের অবস্থা ভক্তরা কাঁদতেন— “প্রভু, আমাদের ছেড়ে যাবেন না…”
কিন্তু মহাপ্রভু তখন আর বাহিরের জগতে ছিলেন না। তিনি তখন বৃন্দাবনে, রাধারানীর পাশে দাঁড়িয়ে, নিজেরই প্রেমে নিজেই জ্বলে যাচ্ছিলেন। কারণ সেই প্রেম ছিল এমন এক আগুন, যা বাহির থেকে জ্বলে না, হৃদয়ের গভীরতম স্তর থেকে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি ছিলেন কৃষ্ণ, কিন্তু সেই মুহূর্তে তিনি আর কৃষ্ণ ছিলেন না। তিনি ছিলেন রাধার হৃদয়ের ভিতরে বন্দী হয়ে পড়া এক প্রেমিক। যে প্রেম শুধু চাওয়া জানে, পাওয়া নয়।
নিজেরই প্রেমে তিনি কাঁদছিলেন, কারণ সেই প্রেমে কোনো অভিযোগ নেই, কিন্তু যন্ত্রণা অসীম। রাধারানী যেভাবে প্রতিটি নিঃশ্বাসে “কৃষ্ণ নেই”—এই বেদনা বহন করেন, মহাপ্রভু ঠিক সেই বেদনাকেই নিজের দেহে ধারণ করেছিলেন।
তাই তাঁর দেহ সহ্য করতে পারত না। হৃদয় কাঁপত, শ্বাস থেমে আসত, চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ত অবিরাম। এ কোনো দুর্বলতা ছিল না— এ ছিল প্রেমের চূড়ান্ত শক্তি।
তিনি জ্বলে যাচ্ছিলেন, কারণ সেই প্রেমে শান্তি নেই, কিন্তু ত্যাগ আছে। সান্ত্বনা নেই, কিন্তু আত্মসমর্পণ আছে।
নিজেরই প্রেমে তিনি মূর্ছিত হয়ে পড়তেন, কারণ এই প্রেম ধারণ করার ক্ষমতা মানুষের দেহে নেই। এই প্রেম ধারণ করার ক্ষমতা শুধু রাধারানীর হৃদয়ের আছে।
আর মহাপ্রভু সেই হৃদয়ের দরজা খুলে ঢুকে পড়েছিলেন।
সেই কারণেই— তিনি পড়ে থাকতেন নিথর, কিন্তু সেই নিথরতার ভিতরে ছিল এক জীবন্ত বৃন্দাবন। যেখানে রাধা কাঁদছেন, আর কৃষ্ণ সেই কান্নার আগুনে নিজেই পুড়ে যাচ্ছেন।
💖 এই লীলার শিক্ষা এই লীলা আমাদের শেখায়—
ভক্তি মানে কথা নয়, ভক্তি মানে সাজানো অনুভূতি নয়, ভক্তি মানে প্রাণ উজাড় করে দেওয়া।
যে প্রেমে চোখ দিয়ে জল নামে, বুক কেঁপে ওঠে, সেই প্রেমই সত্যিকারের প্রেম।
⸻
🌸 শেষ কথা যখন আমরা মহাপ্রভুর এই বিরহ ভাব পড়ি, তখন চোখের জল থামানো যায় না— কারণ এখানে ঈশ্বর কাঁদছেন… আর ঈশ্বরের চোখের জল সহ্য করার শক্তি কার আছে?
“এই লাইনটা পড়ে যদি চোখে জল না আসে… তাহলে কি আমরা সত্যিই প্রেম বুঝি?” 💔🌸 Radhe Radhe লিখে যান—হয়তো মহাপ্রভুর সেই বিরহ আজ আপনার চোখ দিয়েও ঝরে পড়বে… 🙏🏻🥹
আপনার ঘরে ছোট্ট গোপাল আছে কি? 🙏 তাহলে সত্যিই বলছি—চিন্তার আর কোনো কারণ নেই। কারণ যেখান হাসিমুখের গোপাল থাকেন, সেখানে দুঃখ, ভয় আর হতাশা বেশিক্ষণ থাকতে পারে না। 🙏🙏 বাড়িতে গোপাল থাকা মানে শুধু একটি মূর্তি রাখা নয়—এ যেন জীবনের সমস্ত অভিশাপ, ক্লান্তি আর অন্ধকার থেকে ধীরে ধীরে মুক্তি পাওয়ার এক অপার্থিব আশ্বাস। গোপালের মুখের হাসি 😊 প্রতিদিন আমাদের কঠিন থেকে কঠিন পরিস্থিতির মাঝেও আশার আলো দেখায়, ভেঙে পড়া মনটাকে আবার শক্ত করে তোলে। গোপাল হলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শিশু রূপ—তাই তাঁকে ঈশ্বর ভেবে দূরে রেখে নয়, একেবারে নিজের সন্তানের মতো করেই যত্ন করা হয়। 🌸 সকালে তাঁকে ডাকা, আদর করা, একটু মাখন বা মিষ্টি নিবেদন করা—এই ছোট ছোট সেবাতেই মনটা অদ্ভুতভাবে ভালো হয়ে যায়। গোপাল সেবা মানে শুধু ধর্ম পালন নয়, নিজের মনকেও প্রতিদিন একটু পবিত্র করে তোলা🙏 যে বাড়িতে গোপাল থাকেন, সেখানে তিনি কঠোর ঈশ্বর রূপে নন—তিনি সেই বাড়ির ছোট ছেলের মতোই বিরাজ করেন। 👶💫 কখনো দুষ্টুমি করে, কখনো মিষ্টি হাসিতে, কখনো আবার নিঃশব্দে আমাদের কষ্টগুলো নিজের করে নেন➰🤗 শ্রীকৃষ্ণ তাঁর শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় বলেছেন—যদি কাউকে সবসময় হাসিখুশি দেখা যায়, তবে বুঝতে হবে সেই মানুষের মনের মধ্যেই ভগবানের বাস রয়েছে। 😊📿 আর যেখানে ভগবানের বাস, সেখানে মনোবাসনা পূর্ণ হওয়ার পথ আপনাআপনিই খুলে যায়। এই সময়ে ঈশ্বর তাঁর ভক্তকে সব সমস্যার জাল থেকে মুক্ত করতে পারেন। এই কারণেই বলা হয়—নিজের জীবনের প্রতিটি কাজে, প্রতিটি সিদ্ধান্তে, প্রতিটি দুঃখ-সুখের মুহূর্তে ঈশ্বরকে স্মরণ করুন। 🙏 কারণ গীতায় শ্রীকৃষ্ণ স্পষ্ট করে বলেছেন—যে ব্যক্তি ঈশ্বরচিন্তায় জীবন কাটান, তিনি মৃত্যুর পর সরাসরি ঈশ্বরের কাছেই পৌঁছে যান। ✨ তাই যদি আপনার ঘরে ছোট্ট গোপাল থাকে, তাঁকে ভালোবাসুন, যত্ন করুন, নিজের মনের সব কথা বলুন। বিশ্বাস করুন... গোপালের হাসির মধ্যেই লুকিয়ে আছে জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি, সবচেয়ে গভীর শান্তি আর সবচেয়ে নিঃস্বার্থ আশীর্বাদ💞 হরেকৃষ্ণ!! হরেকৃষ্ণ!! কৃষ্ণকৃষ্ণ!! হরেহরে!! হরেরাম হরেরাম!! রামরাম!! হরেহরে!!🙏🙏
🍀সরস্বতী পূজার প্রনাম মন্ত্রঃ- “নমো সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যে কমললোচনে। বিশ্বরূপে বিশালাক্ষ্মী বিদ্যাংদেহি নমোহস্তুতে।। জয় জয় দেবী চরাচর সারে, কুচযুগশোভিত মুক্তাহারে। বীনারঞ্জিত পুস্তক হস্তে, ভগবতী ভারতী দেবী নমহস্তুতে।।”
এবার জানবো মায়ের সম্পর্কে কিছু জানা অজানা তথ্যঃ- বেদে দেবী সরস্বতীকে জ্যতির্ময়ী অধিষ্ঠাত্রী দেবী হিসাবে মানা হয়। আর্যরা ব্রহ্মাবর্তে যে উপনিবেশ স্থাপন করেছিলেন সেখানকার মূল নদীটির নামও ছিলো সরস্বতী। নদীরূপে দেবী সরস্বতী দেশকে উর্বরা করতেন, জলকে পবিত্র করতেন। এমনকি দেশে অর্থ-সম্পদ আসতো এই দেবীর কৃপাতেই। বেদে কিন্তু দেবী সরস্বতীকে বাগদেবী হিসাবে পাওয়া যায়নি। কিন্তু ব্রাহ্মণে এবং মহাভারতে উলেখ আছে যে এই সরস্বতী নদী তীরেই ঋষিদের বসস্থান ছিলো। প্রতিটাদিন এই নদীতীরে বেদধ্বনি করা হতো বলে এই স্থানকে বাগদেবীর বাসস্থান বলে অভিহিত করা হতো। পূর্বে তাই বাগদেবীকে বোঝাতে সরস্বতী নদীর অধিষ্ঠাত্রী দেবীকেও বোঝাত। মূলত মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে বসন্ত পঞ্চমী বা সরস্বতী পুজো হয়। বর্তমানে সমস্ত বিদ্যার দেবীরূপে দেবী সরস্বতীর পূজা-অর্চনা করা হয়। সকাল থেকেই উপোস থেকে সকলে বাগ্দেবীর উদ্দেশ্যে অঞ্জলি দেন। বিদ্যা, বুদ্ধি, জ্ঞানের প্রার্থনা করেন সরস্বতী মায়ের কাছে।🌿🌺
নির্ভরশীলদের প্রতি আসক্তি: ভরত মহারাজ কীভাবে একটি হরিণের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন
ভারত মহারাজ ছিলেন সমগ্র বিশ্বের রাজা। তাঁর ছিল অত্যন্ত সুন্দরী স্ত্রী, উত্তম সন্তান, খ্যাতি, সকল প্রকার বস্তুগত ঐশ্বর্য এবং অবিসংবাদিত শাসনব্যবস্থা। এই পৃথিবীতে একজন ব্যক্তি যা কিছু কামনা করতে পারে তার সবকিছুই তাঁর হাতে ছিল। তবুও, তিনি বনে ধ্যান করার জন্য এবং জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনের জন্য সবকিছু ত্যাগ করেছিলেন। প্রকৃতপক্ষে, তাঁর প্রতিদিনের উপাসনার মাধ্যমে, তিনি ভগবানের প্রতি বিশুদ্ধ প্রেমের একটি স্তরের খুব কাছে পৌঁছেছিলেন। যাইহোক, জীবনের শেষের দিকে, তিনি এই উচ্চ স্তর থেকে পড়ে যান, কেবল একটি ছোট হরিণের প্রতি আসক্ত হওয়ার কারণে।কীভাবে সম্ভব যে এমন একজন মহান ব্যক্তি তার আধ্যাত্মিক সাধনা এবং আত্ম-উপলব্ধির লক্ষ্য ত্যাগ করে কেবল একটি প্রাণীর সাথে খেলা করতে পারেন?
এই আশ্চর্যজনক গল্পটি এমন একটি ভয়ঙ্কর ফাঁদ প্রকাশ করে যা আধ্যাত্মিক জীবনের পরবর্তীকালে দেখা দেয় এবং আমাদের অন্য দেহে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারে, এমনকি যখন আমরা প্রায় মুক্ত হতে থাকি।
শুরু থেকেই, ভরত কীভাবে এই হরিণটির প্রতি এত আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন?
একদিন, ভোরে, ভরত মহারাজ ধ্যানের জন্য অজু করার পর গণ্ডকী নদীর তীরে বসে তাঁর মন্ত্র উচ্চারণ করেন। এই মুহূর্তে, একটি গর্ভবতী হরিণ সেখানে জল পান করতে আসে। তবে, সিংহের গর্জন শুনে, হরিণটি খুব বিরক্ত হয়ে পড়ে এবং নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টায় নদী পার হয়ে যায়।তার এতটাই উদ্বেগ ছিল যে তার গর্ভপাত ঘটে এবং হরিণটি নদীতে পড়ে যায়। বিষণ্ণ হয়ে মা দিক হারিয়ে ফেলেন, একটি গুহায় পড়ে যান এবং মারা যান। পরিস্থিতি দেখে ভরত মহারাজের সামনে হরিণটিকে বাঁচানোর, নাকি নদীতে ডুবিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত? তিনি কী করলেন?
“মহান রাজা ভরত নদীর তীরে বসে মাকে হারিয়ে ছোট হরিণটিকে নদীর তীরে ভাসতে দেখেন। এটি দেখে তিনি অত্যন্ত করুণা বোধ করেন। একজন আন্তরিক বন্ধুর মতো তিনি শিশু হরিণটিকে ঢেউ থেকে তুলে নেন এবং মাতৃহীন জেনে তাকে তার আশ্রমে নিয়ে আসেন। ধীরে ধীরে মহারাজ ভরত হরিণের প্রতি খুব স্নেহশীল হয়ে ওঠেন। তিনি এটিকে ঘাস দিয়ে লালন-পালন এবং লালন-পালন করতে শুরু করেন। তিনি সর্বদা বাঘ এবং অন্যান্য প্রাণীর আক্রমণ থেকে এটিকে রক্ষা করার জন্য সতর্ক থাকতেন। যখন এটি চুলকায়, তিনি এটিকে আদর করতেন এবং এইভাবে তিনি সর্বদা এটিকে আরামদায়ক অবস্থায় রাখার চেষ্টা করতেন। তিনি মাঝে মাঝে ভালোবাসায় এটিকে চুম্বন করতেন।"হরিণ পালনের প্রতি আসক্ত হয়ে, মহারাজ ভরত আধ্যাত্মিক জীবনের উন্নতির নিয়মকানুন ভুলে গিয়েছিলেন এবং ধীরে ধীরে তিনি পরমেশ্বর ভগবানের উপাসনা করতে ভুলে গিয়েছিলেন। কিছু দিন পর, তিনি তার আধ্যাত্মিক উন্নতি সম্পর্কে সবকিছু ভুলে গিয়েছিলেন।" (SB 5.8.7-8)
করুণা একজন ভক্তের জন্য, বিশেষ করে ভারত মহারাজের মতো উচ্চতর উন্নত ব্যক্তির জন্য একটি স্বাভাবিক গুণ। নীতিগতভাবে, হরিণকে বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দেওয়া কোনও দোষের ছিল না, ঠিক যেমন কোনও দয়ালু ব্যক্তি জরুরি পরিস্থিতিতে কাউকে সাহায্য করার জন্য তার পথ থেকে সরে যেতেন। তবে, হরিণের যত্ন নেওয়া তার কর্তব্য ছিল না, বিশেষ করে যখন এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে এটি তার আধ্যাত্মিক অনুশীলনকে বিপন্ন করছে।দেহের পরিবর্তে আত্মাকে দেখার মাধ্যমে প্রকৃত করুণা প্রয়োগ করা হয় এবং এমনভাবে কাজ করা হয় যা এই আত্মাকে কৃষ্ণের কাছাকাছি আসতে সাহায্য করে। দেহকে রক্ষা করা এর অংশ হতে পারে, কারণ দেহই হল ভগবানের সেবা করার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে, কিন্তু এটি নিজেই যথেষ্ট নয়। দেহকে রক্ষা করার পর, আমাদের কৃষ্ণভাবনামৃতায় নিযুক্ত করার উপায় খুঁজে বের করতে হবে।
প্রভুপাদ যখন নিউ ইয়র্কে তাঁর আন্দোলন শুরু করেছিলেন, তখন তিনি ব্যক্তিগতভাবে তাঁর প্রথম দর্শনার্থীদের রান্না করছিলেন এবং খাওয়াচ্ছিলেন। তাদের অনেকেই আসলে খুব ক্ষুধার্ত ছিলেন, কিন্তু এটি কেবল জাগতিক কল্যাণের বিষয় ছিল না। তিনি তাদের চেতনাকে শুদ্ধ করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের প্রসাদ খাওয়াচ্ছিলেন, যাতে তিনি তাদের ভক্তিমূলক সেবায় নিযুক্ত করতে পারেন। তবে, হরিণের ক্ষেত্রে, পশুদেহের কারণে সম্ভাবনা খুবই সীমিত। হয়তো ভরত কিছুটা হলেও এর উপকারের উপায় খুঁজে পেতে পারতেন, কিন্তু হরিণের বস্তুগত আরামের যত্ন নেওয়ার জন্য তাঁর আধ্যাত্মিক অনুশীলন বন্ধ করা ছিল একটি খারাপ পছন্দ।একজন সাধক যিনি আধ্যাত্মিক অনুশীলনে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছেন, তাকে অনেক নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হবে, যার মধ্যে রয়েছে ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে জপ ইত্যাদি। এই নিয়মগুলি আমাদের আধ্যাত্মিক শক্তির ভিত্তি। যখন আমরা এই আধ্যাত্মিক রুটিন অনুসরণ করা বন্ধ করে দিই, তখন আমরা আবার জড় শক্তির প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ি, তা আমরা যতদূর এগিয়েছি না কেন।
আরেকটি দিক হল, সত্যিকারের কল্যাণ মানে মানুষকে কৃষ্ণভাবনামৃতের স্তরে উন্নীত করা, এই বিবেচনায় আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত আমাদের নিজস্ব কৃষ্ণভাবনামৃত গড়ে তোলা। যদি আমরা নিজেরা কৃষ্ণভাবনামৃত না হই, তাহলে আমরা অন্য কাউকে সাহায্য করতে পারব না, ঠিক যেমন একজন আবদ্ধ ব্যক্তি অন্যদের মুক্ত করতে পারে না, অথবা যিনি সমুদ্রে সংগ্রাম করছেন তিনি কাউকে বের করে আনতে পারেন না। যদি আমরা আমাদের নিজস্ব আধ্যাত্মিক কার্যকলাপ ছেড়ে দিয়ে কেবল অন্যদের শারীরিক আরাম-আয়েশ নিয়ে উদ্বিগ্ন হই, তাহলে আমরা একটি বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে পড়ব।এখানে আমরা এমন একটি ফাঁদে আসি যেখানে আমরাও পড়ে যেতে পারি। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা যা আমরা শিখতে পারি:
“মহান রাজা মহারাজ ভরত ভাবতে শুরু করলেন: হায়, এই অসহায় তরুণ হরিণ, সময়ের জোরে, পরমেশ্বর ভগবানের প্রতিনিধি, এখন তার আত্মীয়স্বজন এবং বন্ধুবান্ধব হারিয়েছে এবং আমার আশ্রয় নিয়েছে। এটি আমাকে ছাড়া আর কাউকে চেনে না, কারণ আমি তার পিতা, মাতা, ভাই এবং আত্মীয় হয়েছি। এই হরিণটি এইভাবে চিন্তা করছে, এবং এটি আমার উপর পূর্ণ বিশ্বাস রাখে। এটি আমাকে ছাড়া আর কাউকে চেনে না; তাই আমার ঈর্ষা করা উচিত নয় এবং ভাবা উচিত নয় যে হরিণের জন্য আমার নিজের কল্যাণ ধ্বংস হয়ে যাবে। আমার অবশ্যই এটিকে লালন-পালন করা, রক্ষা করা, সন্তুষ্ট করা এবং স্নেহ করা উচিত। যখন এটি আমার কাছে আশ্রয় নিয়েছে, তখন আমি কীভাবে এটিকে অবহেলা করতে পারি? যদিও হরিণটি আমার আধ্যাত্মিক জীবনকে ব্যাহত করছে, আমি বুঝতে পারি যে আশ্রয় নেওয়া একজন অসহায় ব্যক্তিকে অবহেলা করা যাবে না। এটি একটি বড় দোষ হবে।" (SB 5.8.9)এই প্রক্রিয়ার শুরুতে, আমরা যে চ্যালেঞ্জগুলির সম্মুখীন হই তা সাধারণত কাম, খারাপ অভ্যাস, পাপ ইত্যাদির সাথে বেশি সম্পর্কিত। এই স্তরে, পারিবারিক জীবনে প্রবেশ করা, নিজের সন্তান এবং স্ত্রীর প্রতি আসক্ত হওয়া এবং তাদের বজায় রাখার জন্য কাজ করা একটি অগ্রগতি, কারণ এটি আমাদের স্বার্থপর চেতনা থেকে অন্যদের যত্ন নেওয়ার একটি প্ল্যাটফর্মে উন্নীত হতে সাহায্য করে। এই ক্ষেত্রে নিজের নির্ভরশীলদের প্রতি আসক্তি ইতিবাচক হয়ে ওঠে, কারণ এটি আমাদের স্বার্থপরতা হ্রাস করার এই প্রক্রিয়ায় একটি হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।
তবে, আধ্যাত্মিক জীবনের পরবর্তী পর্যায়ে, নির্ভরশীলদের প্রতি এই বস্তুগত আসক্তি একটি গুরুতর বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। অন্যদের আশ্রয় এবং রক্ষণাবেক্ষণকারী হওয়ার ধারণাটি একজন বদ্ধ আত্মার কাছে খুবই আকর্ষণীয়। এটি এমন একটি অবস্থান যা মূলত কৃষ্ণের, কিন্তু আমরা বদ্ধ জীবনে অনুকরণ করার চেষ্টা করি।আমরা বাস্তবে দেখতে পাচ্ছি যে প্রত্যেকেই প্রভাবের কোনও না কোনও ক্ষেত্র পেতে চায়, যার উপর অন্যরা নির্ভরশীল। মানুষ পরিবার গঠন করে, ব্যবসা পরিচালনা করে, কোনও ধরণের জননেতৃত্বের পদ ধারণ করে, কিছু জাগতিক কল্যাণ করে, ইত্যাদি করে তা অর্জনের চেষ্টা করে। যখন অন্য সবকিছু ব্যর্থ হয়, তখন কেউ একটি বিড়াল বা কুকুর পায় এবং পশুর যত্ন নিয়ে সন্তুষ্ট হয়।
এই প্রবণতাটি কৃষ্ণভাবনামৃতিতে প্রয়োগ করা যেতে পারে, যেখানে অন্যদের সেবা করার জন্য অবশ্যই অনেক সুযোগ রয়েছে। তবে, অন্যদের যত্ন নেওয়ার ধারণা, কৃষ্ণকে সন্তুষ্ট করার ধারণা, তাদের আধ্যাত্মিক উপলব্ধিতে এগিয়ে যেতে সাহায্য করার ধারণা এবং আমাদের অহংকারকে সন্তুষ্ট করার ধারণা দিয়ে অন্যদের বজায় রাখার মধ্যে একটি সূক্ষ্ম রেখা রয়েছে। বাহ্যিকভাবে এটি একই রকম মনে হলেও, পার্থক্যের একটি উপসাগর রয়েছে। প্রথমটিতে, কৃষ্ণ হলেন কেন্দ্র, অন্যদিকে দ্বিতীয়টিতে, আমরা কেন্দ্র হয়ে উঠি।এটি এমন একটি ফাঁদে পা দিতে পারে যেখানে আমরা আধ্যাত্মিক উন্নতির খুব উন্নত পর্যায়েও পড়ে যেতে পারি। যেহেতু অন্যদের সাহায্য করার জন্য নিজেদের উৎসর্গ করা এবং আমাদের অহংকার তৃপ্ত করার জন্য আমাদের আধ্যাত্মিক অনুশীলন থেকে বিচ্যুত হওয়ার মধ্যে সীমারেখা ক্ষীণ, তাই এটি বিভ্রান্ত করা সহজ। আমরা দেখতে পাচ্ছি যে প্রথমে ভরত মহারাজ ভেবেছিলেন যে হরিণকে পোষানো সঠিক কাজ, তিনি ভেবেছিলেন যে "আমার হিংসা করা উচিত নয় এবং ভাবা উচিত নয় যে হরিণের জন্য আমার নিজের কল্যাণ নষ্ট হবে। আমার অবশ্যই তাকে লালন-পালন করা, রক্ষা করা, সন্তুষ্ট করা এবং আদর করা উচিত। যখন সে আমার কাছে আশ্রয় নেয়, তখন আমি কীভাবে তাকে অবহেলা করতে পারি?"
একইভাবে, একজন বয়স্ক পুরুষ প্রথমে ভাবতে পারেন যে অসুবিধার সম্মুখীন একজন তরুণীকে সমর্থন করা তার কর্তব্য, তবে পরে স্বীকার করতে বাধ্য হন যে তিনি তার প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন।ক্ষমতা এবং প্রতিপত্তির দমনমূলক প্রয়োজন থেকে কেউ বিভিন্ন রাজনৈতিক লক্ষ্যে জড়িয়ে পড়তে পারে, ইত্যাদি। প্রথমে সঠিক বলে মনে হতে পারে এমন কিছু করে আমাদের আধ্যাত্মিক সাধনা থেকে বিচ্যুত হওয়ার অবশ্যই অনেক উপায় রয়েছে।
আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, পরিবার ও রাজ্য ত্যাগ করে এবং আধ্যাত্মিক উপলব্ধির একটি অত্যন্ত উন্নত স্তরে পৌঁছানোর পরেও, ভরত মহারাজ আবার আশ্রয় এবং রক্ষণাবেক্ষণের ধারণার প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন এবং এই মনোভাবে ডুবে গিয়ে তিনি তাঁর আধ্যাত্মিক সাধনার কথা ভুলে গিয়েছিলেন।
অন্যদের, বিশেষ করে যারা তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন, যেমন ছাত্র বা শিষ্য, তাদের অগ্রগতিতে সাহায্য করার জন্য কেউ সকল ধরণের অসুবিধা এবং অসুবিধা গ্রহণ করতে পারে। তবে, ভগবানের সন্তুষ্টির জন্য এটি সঠিক মানসিকতার সাথে করা উচিত। আমাদের সর্বদা আমাদের আধ্যাত্মিক গুরুর দাস হিসেবে দেখা উচিত, আমাদের নির্ভরশীলদের কৃষ্ণের সাথে সংযুক্ত করা উচিত।আমরা যখন এটি করি, তখন কৃষ্ণ কেন্দ্রে থাকেন। অন্যথায়, আমরা আমাদের নির্ভরশীলদের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়তে পারি, এই ভেবে যে আমরা আমাদের নিজস্ব শক্তি দিয়ে তাদের উন্নত করছি। এই ক্ষেত্রে, আমরা নিজেদেরকে কেন্দ্রে রাখি এবং ভরত মহারাজের মতো একই ভুলের মধ্যে পড়ি।
বস্তুগত আসক্তির লক্ষণ হল শরীরের প্রতি আসক্তি, যা শরীরের আরাম-আয়েশ সম্পর্কে উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রকাশিত হয়। মৌলিক বস্তুগত প্রয়োজনীয়তাগুলি প্রদান করা যাতে কেউ শান্তিতে থাকতে পারে এবং তার আধ্যাত্মিক অনুশীলন বজায় রাখতে পারে এবং বস্তুগত শরীর ও মনের প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার কারণে বস্তুগত আরাম-আয়েশ সম্পর্কে উদ্বিগ্ন হওয়ার মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে।আমাদের আন্দোলনের প্রাথমিক দিনগুলিতে, প্রভুপাদ যখন মন্দিরে মহিলাদের গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তখন তিনি অবশ্যই তাদের জন্য থাকার ব্যবস্থা, প্রসাদ ইত্যাদির ব্যবস্থা করেছিলেন, কিন্তু এই সমস্তই করুণার বশে, ব্যক্তিগত অসুবিধা সত্ত্বেও এই আত্মাদের কৃষ্ণভাবনামৃত অনুশীলনের সুযোগ দেওয়ার ধারণা দিয়ে। যাইহোক, একদল যুবতীর যত্ন নেওয়া একজন সাধারণ পুরুষ অনিবার্যভাবে তাদের প্রতি আকৃষ্ট হবেন এবং এই ধ্যানে, তাদের বস্তুগত আরাম-আয়েশ সম্পর্কে উদ্বিগ্ন হবেন, নিজেকে তাদের রক্ষণাবেক্ষণকারী এবং আশ্রয় হিসাবে দেখবেন। আমরা দেখতে পাচ্ছি যে এই দুটি স্তরের মধ্যে বিশাল পার্থক্য রয়েছে। এমনকি যদি কেউ মহিলাদের প্রতি আকৃষ্ট না হন, তবে ভরত মহারাজের মতো অন্যান্য ধরণের বস্তুগত কার্যকলাপের প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
Krishna Bhakta Seva Samiti
🪶গরুড়দেবের অহংকার ভাঙার গল্প 🌿
একসময় গরুড়দেব ভাবতে লাগলেন—
“আমি তো ভগবান বিষ্ণু ও শ্রীকৃষ্ণের বাহন,
আমার মতো শক্তিশালী আর কে আছে?”
এই ভাবনাতেই তাঁর মনে অহংকার জন্ম নিল।
সবকিছু জানলেও ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কিছু বললেন না।
একদিন তিনি গরুড়দেবকে বললেন,
“গরুড়, আজ তুমি আমার বাহন হবে না।
আমি একাই যাব।”
এই কথা শুনে গরুড়দেব অবাক হয়ে গেলেন।
কিছু দূর যেতেই তিনি দেখলেন—
একটি ক্ষুদ্র পিঁপড়ে পথ আটকে দাঁড়িয়ে আছে।
গরুড়দেব যতই চেষ্টা করেন,
সেই পিঁপড়েটিকে সরাতে পারেন না।
তখন তিনি বুঝলেন—
যে শক্তি তিনি নিজের মনে করছিলেন,
তা আসলে ভগবানের কৃপাই ছিল।
চোখে জল নিয়ে গরুড়দেব প্রণাম করে বললেন,
“প্রভু, অহংকারের জন্য আমাকে ক্ষমা করুন।”
তখন শ্রীকৃষ্ণ প্রকাশ হয়ে বললেন,
“গরুড়, শক্তি কারও নিজের নয়।
যে নিজেকে কিছু মনে করে, সে দুর্বল হয়—
আর যে নিজেকে আমার দাস ভাবে, সে অজেয়।” 💙
👉 শিক্ষা:
অহংকার আসলে শক্তির পতন,
আর নম্রতাই ভক্তির অলংকার।
🙏📿!! হরে কৃষ্ণ!!📿 🙏
#harekrishna #krishnabhakti #DivineLove #KrishnaPrem #sanatandharma #copid
3 hours ago | [YT] | 40
View 0 replies
Krishna Bhakta Seva Samiti
নিত্যই এই মন্ত্র জপ করুন
কমপক্ষে 11 বার অবশ্যই করবেন।
5 hours ago | [YT] | 59
View 1 reply
Krishna Bhakta Seva Samiti
রাজা জন্মেজয়ের সর্পসত্র যজ্ঞ আস্তিক মুনি কেন বন্ধ করেছিলেন, এই কাহিনীটি এখন বিস্তারিতভাবে তুলে ধরছি:
আস্তিক মুনির জন্মই হয়েছিল এক বিশেষ উদ্দেশ্যে। তার বাবা ছিলেন ঋষি জরৎকারু এবং মা ছিলেন নাগরাজ বাসুকির বোন দেবী মনসা। যেহেতু তার শরীরে ঋষি এবং নাগ—উভয় বংশের রক্ত ছিল, সেহেতু তিনি উভয় কুলের আশীর্বাদপুষ্ট ছিলেন। আস্তিক মুনির জন্মের আগে থেকেই দেবতারা জানতেন যে, তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি নাগ বংশকে রক্ষা করতে পারবেন।
পিতা পরীক্ষিতের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে জন্মেজয় পৃথিবীর সমস্ত সাপকে যজ্ঞের আগুনে পুড়িয়ে মারার শপথ করেছিলেন। এই যজ্ঞে যখন হাজার হাজার নিরীহ সাপ মারা যাচ্ছিল, তখন নাগ বংশ প্রায় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছিল। আস্তিক মুনি তখন যজ্ঞস্থলে উপস্থিত হন এবং দেখেন যে প্রতিহিংসার কারণে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
আস্তিক মুনি যজ্ঞশালায় প্রবেশ করে রাজা জন্মেজয় এবং যজ্ঞের পুরোহিতদের অসাধারণভাবে স্তুতি (প্রশংসা) করতে শুরু করেন। তার গভীর জ্ঞান এবং মিষ্টভাষায় মুগ্ধ হয়ে রাজা জনমেজয় তাকে একটি বর দিতে চান।
রাজা যখন তাকে বর দিতে চাইলেন, আস্তিক মুনি প্রার্থনা করেন— 'মহারাজ, আপনার এই সর্পসত্র যজ্ঞ এখনই সমাপ্ত হোক।' সেই মুহূর্তে তক্ষক নাগ ইন্দ্রের সিংহাসন আঁকড়ে ধরেও যজ্ঞের মন্ত্রবলে আগুনের দিকে ধেয়ে যাচ্ছিল। আস্তিক মুনি তখন 'তিষ্ঠ' বলে তাকে রক্ষা করেন।
কিন্তু রাজা প্রথমে রাজি হতে চাননি, কারণ তক্ষক নাগ তখনও বেঁচে ছিল। কিন্তু তিনি সত্যর পাশে বা প্রতিশ্রুতিতে বাধ্য ছিলেন। তাছাড়া আস্তিক মুনি বুঝিয়েছিলেন যে, প্রতিহিংসা দিয়ে কখনো শান্তি আসে না। অবশেষে রাজার সম্মতিতে যজ্ঞ বন্ধ হয় এবং এভাবেই আস্তিক মুনি নাগ বংশকে রক্ষা করেন।
আস্তিক মুনির এই উপকারের কৃতজ্ঞতাস্বরূপ নাগরা আশীর্বাদ করেছিলেন যে— যারা আস্তিক মুনির নাম এবং এই কাহিনী স্মরণ করবে, তারা কখনো সর্পদংশনের শিকার হবে না। এমনকি আজও অনেক বাড়িতে সাপের উপদ্রব কমাতে দরজায় বা দেওয়ালে নিচের শ্লোকটি লেখা হয়।
সর্পাপসর্প ভদ্রং তে গচ্ছ সর্প মহাবিষ।
জনমেজয়স্য যজ্ঞান্তে আস্তিকবচনং স্মর।।
আস্তিকস্য বচঃ শ্রুত্বা যঃ সর্পো ন নিবর্ততে।
শতধা ভিদ্যতে মূর্ধ্নি শিম্পবৃক্ষফলং যথা।।
সরলার্থ:
হে মহাবিষধর সর্প! তোমার মঙ্গল হোক, তুমি এখান থেকে চলে যাও। রাজা জন্মেজয়ের যজ্ঞ শেষে আস্তিক মুনি যে কথা দিয়েছিলেন, তা স্মরণ করো। আস্তিক মুনির এই আজ্ঞা শোনার পরেও যে সাপ ফিরে না যায় (বা অনিষ্ট করে), শিমূল গাছের ফল পেকে যেমন ফেটে যায়, তার মাথাও তেমনি শতধা বিভক্ত হয়ে যাবে।
সনাতন ধর্মে বিশ্বাস করা হয় যে, আস্তিক মুনির নাম স্মরণ করলে সাপের ভয় থাকে না। তাই নাগ পঞ্চমীর দিনে এই কাহিনীটি পাঠ করা খুব শুভ বলে মনে করা হয়। 🙏
কাহিনীটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন। এবং পেজটিকে ফলো করে পাশে থাকুন।
🙏 জয় শ্রীকৃষ্ণ 🙏
#পৌরাণিক_কাহিনী #রাজা_জনমেজয় #সর্পসত্র_যজ্ঞ #আস্তিক_মুনি
#copid
9 hours ago | [YT] | 41
View 0 replies
Krishna Bhakta Seva Samiti
Today's Darshan Sri Sri Radha Madhav Sri Dham Mayapur 23.1.26
22 hours ago | [YT] | 166
View 1 reply
Krishna Bhakta Seva Samiti
যেখানে বিদ্যার আরাধনা, সেখানেই জন্ম নেয় বিপ্লব।
বিদ্যার আলোয় আলোকিত মন, দেশপ্রেমে দীপ্ত প্রাণ—
মা সরস্বতীর চরণে শ্রদ্ধা,🙏
আর নেতাজির আদর্শে অনুপ্রেরণা।💐
সকলকে সরস্বতী পূজা ও নেতাজি জন্মজয়ন্তীর শুভেচ্ছা ও শুভকামনা 🙏🌸📚🇮🇳
1 day ago | [YT] | 582
View 0 replies
Krishna Bhakta Seva Samiti
"রাধা নামের" মহিমা নিয়ে কাহিনী -----------------------------
গোকুলে একটা খুব সুন্দর ময়ূর বাস করতো ।
সে প্রতিদিন শ্রীকৃষ্ণের ঘরের দ্বারে বসে গান গাইতো,
গানটি ছিল....
“মেরা কোয়ি না সাহারা বিনা তেরে গোপাল,
সাওয়ারিয়া মেরে, মনওয়া সাওয়ারিয়া মেরে।"
এই গানটির বাংলা অর্থ হচ্ছে :-
তুমি ছাড়া আমার আর কোন সাথী নেই গোপাল,
তুমি আমার একমাত্র প্রিয় সঙ্গী গোপাল,
একমাত্র প্রিয় সঙ্গী।
গোপাল মানে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ প্রতিদিন তার সামনে দিয়ে গোষ্ঠে যায়,
কিন্তু কখনো ময়ূরের দিকে ফিরেও তাকায় না।
এভাবে একদিন- দুইদিন- এক বছর যায়...
ময়ূর জল পর্যন্ত গ্রহণ করেনা ৷
একদিন এক ময়না পাখি এসে ময়ূরকে দেখে খুব দুঃখিত হয় । ময়না পাখি ময়ূরকে বর্ষণায় যাওয়ার পরামর্শ দেয়। আর বলে সেখানে রাধারাণী অত্যন্ত কৃপালু।
ময়ূর ময়না পাখির সাথে রাধারানীর বর্ষনায় যায় । ময়না পাখি বর্ষণায় পৌঁছেই "রাধে রাধে" বলতে থাকে ।
কিন্তু ময়ূর "গোপাল গোপাল" বলতে থাকে।
আর "গোপাল" এই শব্দটি শ্রবণ মাত্রই রাধারাণী তাড়াতাড়ি করে ঘর থেকে বের হয়ে আসেন।
রাধারানী আদর করে ময়ূরকে বুকে জড়িয়ে ধরেন। ময়ূর বলে : “রাধারাণী যে করুণার সাগর তা প্রমাণিত হলো। অথচ শ্রীকৃষ্ণকে দেখো। আমি এক বছর ধরে তাকে ডেকেই চলেছি । এই এক বছরে শ্রীকৃষ্ণ আমাকে একটু জলও পান করালো না"।
তখন রাধারাণী বললেন : “ময়ূর তুমি এবার গোকুলে যাও। আর গোকুলে গিয়ে বলবে, “রাধে রাধে" ....
ময়ূর রাধারাণীর কথামতো গোকুলে ফিরে “রাধে রাধে" বলতে লাগলো।
যেই "রাধারাণীর" নাম কৃষ্ণের কর্ণে প্রবেশ করলো সঙ্গে সঙ্গে কৃষ্ণ দৌঁড়ে এসে বললো : “হে ময়ূর , তুমি কোথা হতে এসেছো" ??
ময়ূর বললো : “আমি এখন বর্ষণা থেকে এসেছি।
গত এক বছর ধরে আমি গোকুলে তোমায় কত ডেকেছি , তুমি একটি বারের জন্যও আমার ডাকে সাড়া দাও নি"....
কৃষ্ণ দূঃখের সাথে বললো : “ক্ষমা করো ময়ূর।
আমি সারাদিন "রাধানাম" স্মরণ করি। তাই তোমার ডাক আমার কর্ণে প্রবেশ করেনি। কিন্তু আজ তুমি "রাধা রাধা" বললে। আজ আমি তোমার প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। আজ আমি তোমার পুচ্ছ আমার চূড়ায় ধারণ করলাম। যে আমাকে রাধা নাম শোনায়, তার কাছে আমি বিক্রি হয়ে যাই, তাকে আমি আমার মস্তকে ধারণ করে রাখি।"
হরে কৃষ্ণ 🙏
2 days ago | [YT] | 247
View 1 reply
Krishna Bhakta Seva Samiti
১মিনিট লাগবে… “এই লেখাটা না পড়লে— মহাপ্রভুর বিরহ আসলে কী, তা কখনোই বোঝা যাবে না।এটা তথ্য নয়, এটা আগুন…
নিচে পড়ুন—আর বুঝুন কেন মহাপ্রভু নিজেরই প্রেমে নিজেই জ্বলে গিয়েছিলেন।
যখন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু রাধারানীর বিরহে উন্মাদ হয়ে মূর্ছিত হয়ে পড়তেন—তখন কী হতো?
শাস্ত্রে বলা হয়েছে—এটি কোনো সাধারণ অচেতন হওয়া নয়।
এটি ছিল রাধাভাবের মহাসমুদ্র, যেখানে স্বয়ং কৃষ্ণ রাধার প্রেমে ডুবে গিয়ে নিজের সত্তাকেই ভুলে যেতেন।
শ্রীকৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী চৈতন্য চরিতামৃত-এ লিখেছেন—
মহাপ্রভু রাধারানীর ভাব ধারণ করে অনুভব করতেন সেই যন্ত্রণা,
যে যন্ত্রণা রাধারানী কৃষ্ণ-বিরহে প্রতিক্ষণে সহ্য করেন।
⸻
🌸 রাধার বিরহ মানে কী?
রাধার বিরহ মানে শুধু প্রিয়ের অনুপস্থিতি নয়—
এ হল এমন এক আগুন,
যেখানে দেহ পুড়ে যায়, মন গলে যায়,
আর আত্মা কেবল একটিই নাম ডাকে—
“কৃষ্ণ… কৃষ্ণ…”
আর সেই বিরহ যখন কৃষ্ণ নিজেই অনুভব করেন—
তখন তিনি আর কৃষ্ণ থাকেন না,
তিনি হয়ে ওঠেন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু।
⸻
💔 মহাপ্রভুর দেহে কী হতো?
শাস্ত্র বলে—
• কখনো দেহ হঠাৎ লম্বা হয়ে যেত
• কখনো শরীর কঠিন হয়ে পড়ে থাকত নিথর
• নিঃশ্বাস ক্ষীণ হয়ে যেত
• চোখ দিয়ে অবিরাম অশ্রুধারা ঝরত
• হৃদয় এত জোরে কাঁপত যে পাশে থাকা ভক্তরা ভয়ে কেঁপে উঠতেন
কখনো তিনি মাটিতে পড়ে থাকতেন,
মুখ গড়িয়ে জল,
আর ঠোঁট থেকে বেরোত শুধু একটাই শব্দ—
“হা রাধে… হা প্রাণনাথ…”
⸻
🌊 রাধার বিরহে উন্মাদ ভাব
রাধারানী কৃষ্ণ-বিরহে যেভাবে যমুনার জলে ঝাঁপ দিতেন,
ঠিক সেই ভাবেই মহাপ্রভু কখনো সমুদ্রে ঝাঁপ দিতেন।
ভক্তরা দৌড়ে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করতেন,
আর দেখতেন—
চোখ বন্ধ, দেহ নিথর,
কিন্তু মুখে এক অদ্ভুত শান্তি,
যেন তিনি অন্য কোনো লীলা জগতে প্রবেশ করেছেন।
⸻
🌼 কেন তিনি মূর্ছিত হতেন?
কারণ—
এই বিরহ সহ্য করার ক্ষমতা মানুষের দেহে নেই।
এই বিরহ দেবতাদেরও নেই।
এই বিরহ কেবল শ্রী রাধারানীর হৃদয়ের সম্পত্তি।
আর মহাপ্রভু সেই হৃদয়ের গভীরে প্রবেশ করেছিলেন।
⸻
🙏🏻 ভক্তদের অবস্থা
ভক্তরা কাঁদতেন—
“প্রভু, আমাদের ছেড়ে যাবেন না…”
কিন্তু মহাপ্রভু তখন আর বাহিরের জগতে ছিলেন না।
তিনি তখন বৃন্দাবনে,
রাধারানীর পাশে দাঁড়িয়ে,
নিজেরই প্রেমে নিজেই জ্বলে যাচ্ছিলেন।
কারণ সেই প্রেম ছিল এমন এক আগুন,
যা বাহির থেকে জ্বলে না,
হৃদয়ের গভীরতম স্তর থেকে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি ছিলেন কৃষ্ণ,
কিন্তু সেই মুহূর্তে তিনি আর কৃষ্ণ ছিলেন না।
তিনি ছিলেন রাধার হৃদয়ের ভিতরে বন্দী হয়ে পড়া এক প্রেমিক।
যে প্রেম শুধু চাওয়া জানে,
পাওয়া নয়।
নিজেরই প্রেমে তিনি কাঁদছিলেন,
কারণ সেই প্রেমে কোনো অভিযোগ নেই,
কিন্তু যন্ত্রণা অসীম।
রাধারানী যেভাবে প্রতিটি নিঃশ্বাসে
“কৃষ্ণ নেই”—এই বেদনা বহন করেন,
মহাপ্রভু ঠিক সেই বেদনাকেই নিজের দেহে ধারণ করেছিলেন।
তাই তাঁর দেহ সহ্য করতে পারত না।
হৃদয় কাঁপত, শ্বাস থেমে আসত,
চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ত অবিরাম।
এ কোনো দুর্বলতা ছিল না—
এ ছিল প্রেমের চূড়ান্ত শক্তি।
তিনি জ্বলে যাচ্ছিলেন,
কারণ সেই প্রেমে শান্তি নেই,
কিন্তু ত্যাগ আছে।
সান্ত্বনা নেই,
কিন্তু আত্মসমর্পণ আছে।
নিজেরই প্রেমে তিনি মূর্ছিত হয়ে পড়তেন,
কারণ এই প্রেম ধারণ করার ক্ষমতা
মানুষের দেহে নেই।
এই প্রেম ধারণ করার ক্ষমতা
শুধু রাধারানীর হৃদয়ের আছে।
আর মহাপ্রভু সেই হৃদয়ের দরজা খুলে ঢুকে পড়েছিলেন।
সেই কারণেই—
তিনি পড়ে থাকতেন নিথর,
কিন্তু সেই নিথরতার ভিতরে ছিল এক জীবন্ত বৃন্দাবন।
যেখানে রাধা কাঁদছেন,
আর কৃষ্ণ সেই কান্নার আগুনে নিজেই পুড়ে যাচ্ছেন।
💖 এই লীলার শিক্ষা
এই লীলা আমাদের শেখায়—
ভক্তি মানে কথা নয়,
ভক্তি মানে সাজানো অনুভূতি নয়,
ভক্তি মানে প্রাণ উজাড় করে দেওয়া।
যে প্রেমে চোখ দিয়ে জল নামে,
বুক কেঁপে ওঠে,
সেই প্রেমই সত্যিকারের প্রেম।
⸻
🌸 শেষ কথা
যখন আমরা মহাপ্রভুর এই বিরহ ভাব পড়ি,
তখন চোখের জল থামানো যায় না—
কারণ এখানে ঈশ্বর কাঁদছেন…
আর ঈশ্বরের চোখের জল সহ্য করার শক্তি কার আছে?
“এই লাইনটা পড়ে যদি চোখে জল না আসে… তাহলে কি আমরা সত্যিই প্রেম বুঝি?” 💔🌸
Radhe Radhe লিখে যান—হয়তো মহাপ্রভুর সেই বিরহ আজ আপনার চোখ দিয়েও ঝরে পড়বে… 🙏🏻🥹
2 days ago | [YT] | 524
View 7 replies
Krishna Bhakta Seva Samiti
আপনার ঘরে ছোট্ট গোপাল আছে কি? 🙏
তাহলে সত্যিই বলছি—চিন্তার আর কোনো কারণ নেই। কারণ যেখান হাসিমুখের গোপাল থাকেন, সেখানে দুঃখ, ভয় আর হতাশা বেশিক্ষণ থাকতে পারে না।
🙏🙏
বাড়িতে গোপাল থাকা মানে শুধু একটি মূর্তি রাখা নয়—এ যেন জীবনের সমস্ত অভিশাপ, ক্লান্তি আর অন্ধকার থেকে ধীরে ধীরে মুক্তি পাওয়ার এক অপার্থিব আশ্বাস।
গোপালের মুখের হাসি 😊 প্রতিদিন আমাদের কঠিন থেকে কঠিন পরিস্থিতির মাঝেও আশার আলো দেখায়, ভেঙে পড়া মনটাকে আবার শক্ত করে তোলে।
গোপাল হলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শিশু রূপ—তাই তাঁকে ঈশ্বর ভেবে দূরে রেখে নয়, একেবারে নিজের সন্তানের মতো করেই যত্ন করা হয়।
🌸 সকালে তাঁকে ডাকা, আদর করা, একটু মাখন বা মিষ্টি নিবেদন করা—এই ছোট ছোট সেবাতেই মনটা অদ্ভুতভাবে ভালো হয়ে যায়। গোপাল সেবা মানে শুধু ধর্ম পালন নয়, নিজের মনকেও প্রতিদিন একটু পবিত্র করে তোলা🙏
যে বাড়িতে গোপাল থাকেন, সেখানে তিনি কঠোর ঈশ্বর রূপে নন—তিনি সেই বাড়ির ছোট ছেলের মতোই বিরাজ করেন। 👶💫 কখনো দুষ্টুমি করে, কখনো মিষ্টি হাসিতে, কখনো আবার নিঃশব্দে আমাদের কষ্টগুলো নিজের করে নেন➰🤗
শ্রীকৃষ্ণ তাঁর শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় বলেছেন—যদি কাউকে সবসময় হাসিখুশি দেখা যায়, তবে বুঝতে হবে সেই মানুষের মনের মধ্যেই ভগবানের বাস রয়েছে। 😊📿 আর যেখানে ভগবানের বাস, সেখানে মনোবাসনা পূর্ণ হওয়ার পথ আপনাআপনিই খুলে যায়। এই সময়ে ঈশ্বর তাঁর ভক্তকে সব সমস্যার জাল থেকে মুক্ত করতে পারেন।
এই কারণেই বলা হয়—নিজের জীবনের প্রতিটি কাজে, প্রতিটি সিদ্ধান্তে, প্রতিটি দুঃখ-সুখের মুহূর্তে ঈশ্বরকে স্মরণ করুন। 🙏
কারণ গীতায় শ্রীকৃষ্ণ স্পষ্ট করে বলেছেন—যে ব্যক্তি ঈশ্বরচিন্তায় জীবন কাটান, তিনি মৃত্যুর পর সরাসরি ঈশ্বরের কাছেই পৌঁছে যান। ✨
তাই যদি আপনার ঘরে ছোট্ট গোপাল থাকে, তাঁকে ভালোবাসুন, যত্ন করুন, নিজের মনের সব কথা বলুন। বিশ্বাস করুন... গোপালের হাসির মধ্যেই লুকিয়ে আছে জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি, সবচেয়ে গভীর শান্তি আর সবচেয়ে নিঃস্বার্থ আশীর্বাদ💞
হরেকৃষ্ণ!! হরেকৃষ্ণ!! কৃষ্ণকৃষ্ণ!! হরেহরে!! হরেরাম হরেরাম!! রামরাম!! হরেহরে!!🙏🙏
#balgopal #laddugopal #krishna #devotional #sanatandharma #virałpost #lordkrishna #highlight #everyonefollowers #trendingpost #shere #flowers #FacebookPage #fypシ
2 days ago | [YT] | 106
View 0 replies
Krishna Bhakta Seva Samiti
আগামী ২৩ জানুয়ারী বিদ্যা বুদ্ধি জ্ঞ্যানের জননী
দেবী সরস্বতী পূজা। 📚 🚩 📖 🥰
আসুন জেনে নেই পূজার মন্ত্রঃ-
🌿সরস্বতী পূজার পুষ্পাঞ্জলি মন্ত্রঃ-
“ওঁ জয় জয় দেবী চরাচর সারে, কুচযুগশোভিত মুক্তাহারে।
বীনারঞ্জিত পুস্তক হস্তে, ভগবতী ভারতী দেবী নমহস্তুতে।।
নমঃ ভদ্রকাল্যৈ নমো নিত্যং সরস্বত্যৈ নমো নমঃ।
বেদ-বেদাঙ্গ-বেদান্ত-বিদ্যা-স্থানেভ্য এব চ।।
এস সচন্দন পুষ্পবিল্বপত্রাঞ্জলি সরস্বতৈ নমঃ।।”
-এই মন্ত্রে তিনবার অঞ্জলি দেবেন।🌿
🍀সরস্বতী পূজার প্রনাম মন্ত্রঃ-
“নমো সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যে কমললোচনে।
বিশ্বরূপে বিশালাক্ষ্মী বিদ্যাংদেহি নমোহস্তুতে।।
জয় জয় দেবী চরাচর সারে, কুচযুগশোভিত মুক্তাহারে।
বীনারঞ্জিত পুস্তক হস্তে, ভগবতী ভারতী দেবী নমহস্তুতে।।”
এবার জানবো মায়ের সম্পর্কে কিছু জানা অজানা তথ্যঃ-
বেদে দেবী সরস্বতীকে জ্যতির্ময়ী অধিষ্ঠাত্রী দেবী হিসাবে মানা হয়। আর্যরা ব্রহ্মাবর্তে যে উপনিবেশ স্থাপন করেছিলেন সেখানকার মূল নদীটির নামও ছিলো সরস্বতী। নদীরূপে দেবী সরস্বতী দেশকে উর্বরা করতেন, জলকে পবিত্র করতেন। এমনকি দেশে অর্থ-সম্পদ আসতো এই দেবীর কৃপাতেই। বেদে কিন্তু দেবী সরস্বতীকে বাগদেবী হিসাবে পাওয়া যায়নি।
কিন্তু ব্রাহ্মণে এবং মহাভারতে উলেখ আছে যে এই সরস্বতী নদী তীরেই ঋষিদের বসস্থান ছিলো। প্রতিটাদিন এই নদীতীরে বেদধ্বনি করা হতো বলে এই স্থানকে বাগদেবীর বাসস্থান বলে অভিহিত করা হতো। পূর্বে তাই বাগদেবীকে বোঝাতে সরস্বতী নদীর অধিষ্ঠাত্রী দেবীকেও বোঝাত।
মূলত মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে বসন্ত পঞ্চমী বা সরস্বতী পুজো হয়। বর্তমানে সমস্ত বিদ্যার দেবীরূপে দেবী সরস্বতীর পূজা-অর্চনা করা হয়। সকাল থেকেই উপোস থেকে সকলে বাগ্দেবীর উদ্দেশ্যে অঞ্জলি দেন। বিদ্যা, বুদ্ধি, জ্ঞানের প্রার্থনা করেন সরস্বতী মায়ের কাছে।🌿🌺
বিঃ দ্রঃ- কেউ অশ্লীল ভাবে মায়ের প্রতিমা তৈরি করবেন না #সরস্বতী_পূজা #everyone #highlights
Collected
2 days ago | [YT] | 1,271
View 7 replies
Krishna Bhakta Seva Samiti
নির্ভরশীলদের প্রতি আসক্তি: ভরত মহারাজ কীভাবে একটি হরিণের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন
ভারত মহারাজ ছিলেন সমগ্র বিশ্বের রাজা। তাঁর ছিল অত্যন্ত সুন্দরী স্ত্রী, উত্তম সন্তান, খ্যাতি, সকল প্রকার বস্তুগত ঐশ্বর্য এবং অবিসংবাদিত শাসনব্যবস্থা। এই পৃথিবীতে একজন ব্যক্তি যা কিছু কামনা করতে পারে তার সবকিছুই তাঁর হাতে ছিল। তবুও, তিনি বনে ধ্যান করার জন্য এবং জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনের জন্য সবকিছু ত্যাগ করেছিলেন। প্রকৃতপক্ষে, তাঁর প্রতিদিনের উপাসনার মাধ্যমে, তিনি ভগবানের প্রতি বিশুদ্ধ প্রেমের একটি স্তরের খুব কাছে পৌঁছেছিলেন। যাইহোক, জীবনের শেষের দিকে, তিনি এই উচ্চ স্তর থেকে পড়ে যান, কেবল একটি ছোট হরিণের প্রতি আসক্ত হওয়ার কারণে।কীভাবে সম্ভব যে এমন একজন মহান ব্যক্তি তার আধ্যাত্মিক সাধনা এবং আত্ম-উপলব্ধির লক্ষ্য ত্যাগ করে কেবল একটি প্রাণীর সাথে খেলা করতে পারেন?
এই আশ্চর্যজনক গল্পটি এমন একটি ভয়ঙ্কর ফাঁদ প্রকাশ করে যা আধ্যাত্মিক জীবনের পরবর্তীকালে দেখা দেয় এবং আমাদের অন্য দেহে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারে, এমনকি যখন আমরা প্রায় মুক্ত হতে থাকি।
শুরু থেকেই, ভরত কীভাবে এই হরিণটির প্রতি এত আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন?
একদিন, ভোরে, ভরত মহারাজ ধ্যানের জন্য অজু করার পর গণ্ডকী নদীর তীরে বসে তাঁর মন্ত্র উচ্চারণ করেন। এই মুহূর্তে, একটি গর্ভবতী হরিণ সেখানে জল পান করতে আসে। তবে, সিংহের গর্জন শুনে, হরিণটি খুব বিরক্ত হয়ে পড়ে এবং নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টায় নদী পার হয়ে যায়।তার এতটাই উদ্বেগ ছিল যে তার গর্ভপাত ঘটে এবং হরিণটি নদীতে পড়ে যায়। বিষণ্ণ হয়ে মা দিক হারিয়ে ফেলেন, একটি গুহায় পড়ে যান এবং মারা যান। পরিস্থিতি দেখে ভরত মহারাজের সামনে হরিণটিকে বাঁচানোর, নাকি নদীতে ডুবিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত? তিনি কী করলেন?
“মহান রাজা ভরত নদীর তীরে বসে মাকে হারিয়ে ছোট হরিণটিকে নদীর তীরে ভাসতে দেখেন। এটি দেখে তিনি অত্যন্ত করুণা বোধ করেন। একজন আন্তরিক বন্ধুর মতো তিনি শিশু হরিণটিকে ঢেউ থেকে তুলে নেন এবং মাতৃহীন জেনে তাকে তার আশ্রমে নিয়ে আসেন। ধীরে ধীরে মহারাজ ভরত হরিণের প্রতি খুব স্নেহশীল হয়ে ওঠেন। তিনি এটিকে ঘাস দিয়ে লালন-পালন এবং লালন-পালন করতে শুরু করেন। তিনি সর্বদা বাঘ এবং অন্যান্য প্রাণীর আক্রমণ থেকে এটিকে রক্ষা করার জন্য সতর্ক থাকতেন। যখন এটি চুলকায়, তিনি এটিকে আদর করতেন এবং এইভাবে তিনি সর্বদা এটিকে আরামদায়ক অবস্থায় রাখার চেষ্টা করতেন। তিনি মাঝে মাঝে ভালোবাসায় এটিকে চুম্বন করতেন।"হরিণ পালনের প্রতি আসক্ত হয়ে, মহারাজ ভরত আধ্যাত্মিক জীবনের উন্নতির নিয়মকানুন ভুলে গিয়েছিলেন এবং ধীরে ধীরে তিনি পরমেশ্বর ভগবানের উপাসনা করতে ভুলে গিয়েছিলেন। কিছু দিন পর, তিনি তার আধ্যাত্মিক উন্নতি সম্পর্কে সবকিছু ভুলে গিয়েছিলেন।" (SB 5.8.7-8)
করুণা একজন ভক্তের জন্য, বিশেষ করে ভারত মহারাজের মতো উচ্চতর উন্নত ব্যক্তির জন্য একটি স্বাভাবিক গুণ। নীতিগতভাবে, হরিণকে বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দেওয়া কোনও দোষের ছিল না, ঠিক যেমন কোনও দয়ালু ব্যক্তি জরুরি পরিস্থিতিতে কাউকে সাহায্য করার জন্য তার পথ থেকে সরে যেতেন। তবে, হরিণের যত্ন নেওয়া তার কর্তব্য ছিল না, বিশেষ করে যখন এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে এটি তার আধ্যাত্মিক অনুশীলনকে বিপন্ন করছে।দেহের পরিবর্তে আত্মাকে দেখার মাধ্যমে প্রকৃত করুণা প্রয়োগ করা হয় এবং এমনভাবে কাজ করা হয় যা এই আত্মাকে কৃষ্ণের কাছাকাছি আসতে সাহায্য করে। দেহকে রক্ষা করা এর অংশ হতে পারে, কারণ দেহই হল ভগবানের সেবা করার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে, কিন্তু এটি নিজেই যথেষ্ট নয়। দেহকে রক্ষা করার পর, আমাদের কৃষ্ণভাবনামৃতায় নিযুক্ত করার উপায় খুঁজে বের করতে হবে।
প্রভুপাদ যখন নিউ ইয়র্কে তাঁর আন্দোলন শুরু করেছিলেন, তখন তিনি ব্যক্তিগতভাবে তাঁর প্রথম দর্শনার্থীদের রান্না করছিলেন এবং খাওয়াচ্ছিলেন। তাদের অনেকেই আসলে খুব ক্ষুধার্ত ছিলেন, কিন্তু এটি কেবল জাগতিক কল্যাণের বিষয় ছিল না। তিনি তাদের চেতনাকে শুদ্ধ করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের প্রসাদ খাওয়াচ্ছিলেন, যাতে তিনি তাদের ভক্তিমূলক সেবায় নিযুক্ত করতে পারেন। তবে, হরিণের ক্ষেত্রে, পশুদেহের কারণে সম্ভাবনা খুবই সীমিত। হয়তো ভরত কিছুটা হলেও এর উপকারের উপায় খুঁজে পেতে পারতেন, কিন্তু হরিণের বস্তুগত আরামের যত্ন নেওয়ার জন্য তাঁর আধ্যাত্মিক অনুশীলন বন্ধ করা ছিল একটি খারাপ পছন্দ।একজন সাধক যিনি আধ্যাত্মিক অনুশীলনে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছেন, তাকে অনেক নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হবে, যার মধ্যে রয়েছে ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে জপ ইত্যাদি। এই নিয়মগুলি আমাদের আধ্যাত্মিক শক্তির ভিত্তি। যখন আমরা এই আধ্যাত্মিক রুটিন অনুসরণ করা বন্ধ করে দিই, তখন আমরা আবার জড় শক্তির প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ি, তা আমরা যতদূর এগিয়েছি না কেন।
আরেকটি দিক হল, সত্যিকারের কল্যাণ মানে মানুষকে কৃষ্ণভাবনামৃতের স্তরে উন্নীত করা, এই বিবেচনায় আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত আমাদের নিজস্ব কৃষ্ণভাবনামৃত গড়ে তোলা। যদি আমরা নিজেরা কৃষ্ণভাবনামৃত না হই, তাহলে আমরা অন্য কাউকে সাহায্য করতে পারব না, ঠিক যেমন একজন আবদ্ধ ব্যক্তি অন্যদের মুক্ত করতে পারে না, অথবা যিনি সমুদ্রে সংগ্রাম করছেন তিনি কাউকে বের করে আনতে পারেন না। যদি আমরা আমাদের নিজস্ব আধ্যাত্মিক কার্যকলাপ ছেড়ে দিয়ে কেবল অন্যদের শারীরিক আরাম-আয়েশ নিয়ে উদ্বিগ্ন হই, তাহলে আমরা একটি বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে পড়ব।এখানে আমরা এমন একটি ফাঁদে আসি যেখানে আমরাও পড়ে যেতে পারি। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা যা আমরা শিখতে পারি:
“মহান রাজা মহারাজ ভরত ভাবতে শুরু করলেন: হায়, এই অসহায় তরুণ হরিণ, সময়ের জোরে, পরমেশ্বর ভগবানের প্রতিনিধি, এখন তার আত্মীয়স্বজন এবং বন্ধুবান্ধব হারিয়েছে এবং আমার আশ্রয় নিয়েছে। এটি আমাকে ছাড়া আর কাউকে চেনে না, কারণ আমি তার পিতা, মাতা, ভাই এবং আত্মীয় হয়েছি। এই হরিণটি এইভাবে চিন্তা করছে, এবং এটি আমার উপর পূর্ণ বিশ্বাস রাখে। এটি আমাকে ছাড়া আর কাউকে চেনে না; তাই আমার ঈর্ষা করা উচিত নয় এবং ভাবা উচিত নয় যে হরিণের জন্য আমার নিজের কল্যাণ ধ্বংস হয়ে যাবে। আমার অবশ্যই এটিকে লালন-পালন করা, রক্ষা করা, সন্তুষ্ট করা এবং স্নেহ করা উচিত। যখন এটি আমার কাছে আশ্রয় নিয়েছে, তখন আমি কীভাবে এটিকে অবহেলা করতে পারি? যদিও হরিণটি আমার আধ্যাত্মিক জীবনকে ব্যাহত করছে, আমি বুঝতে পারি যে আশ্রয় নেওয়া একজন অসহায় ব্যক্তিকে অবহেলা করা যাবে না। এটি একটি বড় দোষ হবে।" (SB 5.8.9)এই প্রক্রিয়ার শুরুতে, আমরা যে চ্যালেঞ্জগুলির সম্মুখীন হই তা সাধারণত কাম, খারাপ অভ্যাস, পাপ ইত্যাদির সাথে বেশি সম্পর্কিত। এই স্তরে, পারিবারিক জীবনে প্রবেশ করা, নিজের সন্তান এবং স্ত্রীর প্রতি আসক্ত হওয়া এবং তাদের বজায় রাখার জন্য কাজ করা একটি অগ্রগতি, কারণ এটি আমাদের স্বার্থপর চেতনা থেকে অন্যদের যত্ন নেওয়ার একটি প্ল্যাটফর্মে উন্নীত হতে সাহায্য করে। এই ক্ষেত্রে নিজের নির্ভরশীলদের প্রতি আসক্তি ইতিবাচক হয়ে ওঠে, কারণ এটি আমাদের স্বার্থপরতা হ্রাস করার এই প্রক্রিয়ায় একটি হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।
তবে, আধ্যাত্মিক জীবনের পরবর্তী পর্যায়ে, নির্ভরশীলদের প্রতি এই বস্তুগত আসক্তি একটি গুরুতর বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। অন্যদের আশ্রয় এবং রক্ষণাবেক্ষণকারী হওয়ার ধারণাটি একজন বদ্ধ আত্মার কাছে খুবই আকর্ষণীয়। এটি এমন একটি অবস্থান যা মূলত কৃষ্ণের, কিন্তু আমরা বদ্ধ জীবনে অনুকরণ করার চেষ্টা করি।আমরা বাস্তবে দেখতে পাচ্ছি যে প্রত্যেকেই প্রভাবের কোনও না কোনও ক্ষেত্র পেতে চায়, যার উপর অন্যরা নির্ভরশীল। মানুষ পরিবার গঠন করে, ব্যবসা পরিচালনা করে, কোনও ধরণের জননেতৃত্বের পদ ধারণ করে, কিছু জাগতিক কল্যাণ করে, ইত্যাদি করে তা অর্জনের চেষ্টা করে। যখন অন্য সবকিছু ব্যর্থ হয়, তখন কেউ একটি বিড়াল বা কুকুর পায় এবং পশুর যত্ন নিয়ে সন্তুষ্ট হয়।
এই প্রবণতাটি কৃষ্ণভাবনামৃতিতে প্রয়োগ করা যেতে পারে, যেখানে অন্যদের সেবা করার জন্য অবশ্যই অনেক সুযোগ রয়েছে। তবে, অন্যদের যত্ন নেওয়ার ধারণা, কৃষ্ণকে সন্তুষ্ট করার ধারণা, তাদের আধ্যাত্মিক উপলব্ধিতে এগিয়ে যেতে সাহায্য করার ধারণা এবং আমাদের অহংকারকে সন্তুষ্ট করার ধারণা দিয়ে অন্যদের বজায় রাখার মধ্যে একটি সূক্ষ্ম রেখা রয়েছে। বাহ্যিকভাবে এটি একই রকম মনে হলেও, পার্থক্যের একটি উপসাগর রয়েছে। প্রথমটিতে, কৃষ্ণ হলেন কেন্দ্র, অন্যদিকে দ্বিতীয়টিতে, আমরা কেন্দ্র হয়ে উঠি।এটি এমন একটি ফাঁদে পা দিতে পারে যেখানে আমরা আধ্যাত্মিক উন্নতির খুব উন্নত পর্যায়েও পড়ে যেতে পারি। যেহেতু অন্যদের সাহায্য করার জন্য নিজেদের উৎসর্গ করা এবং আমাদের অহংকার তৃপ্ত করার জন্য আমাদের আধ্যাত্মিক অনুশীলন থেকে বিচ্যুত হওয়ার মধ্যে সীমারেখা ক্ষীণ, তাই এটি বিভ্রান্ত করা সহজ। আমরা দেখতে পাচ্ছি যে প্রথমে ভরত মহারাজ ভেবেছিলেন যে হরিণকে পোষানো সঠিক কাজ, তিনি ভেবেছিলেন যে "আমার হিংসা করা উচিত নয় এবং ভাবা উচিত নয় যে হরিণের জন্য আমার নিজের কল্যাণ নষ্ট হবে। আমার অবশ্যই তাকে লালন-পালন করা, রক্ষা করা, সন্তুষ্ট করা এবং আদর করা উচিত। যখন সে আমার কাছে আশ্রয় নেয়, তখন আমি কীভাবে তাকে অবহেলা করতে পারি?"
একইভাবে, একজন বয়স্ক পুরুষ প্রথমে ভাবতে পারেন যে অসুবিধার সম্মুখীন একজন তরুণীকে সমর্থন করা তার কর্তব্য, তবে পরে স্বীকার করতে বাধ্য হন যে তিনি তার প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন।ক্ষমতা এবং প্রতিপত্তির দমনমূলক প্রয়োজন থেকে কেউ বিভিন্ন রাজনৈতিক লক্ষ্যে জড়িয়ে পড়তে পারে, ইত্যাদি। প্রথমে সঠিক বলে মনে হতে পারে এমন কিছু করে আমাদের আধ্যাত্মিক সাধনা থেকে বিচ্যুত হওয়ার অবশ্যই অনেক উপায় রয়েছে।
আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, পরিবার ও রাজ্য ত্যাগ করে এবং আধ্যাত্মিক উপলব্ধির একটি অত্যন্ত উন্নত স্তরে পৌঁছানোর পরেও, ভরত মহারাজ আবার আশ্রয় এবং রক্ষণাবেক্ষণের ধারণার প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন এবং এই মনোভাবে ডুবে গিয়ে তিনি তাঁর আধ্যাত্মিক সাধনার কথা ভুলে গিয়েছিলেন।
অন্যদের, বিশেষ করে যারা তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন, যেমন ছাত্র বা শিষ্য, তাদের অগ্রগতিতে সাহায্য করার জন্য কেউ সকল ধরণের অসুবিধা এবং অসুবিধা গ্রহণ করতে পারে। তবে, ভগবানের সন্তুষ্টির জন্য এটি সঠিক মানসিকতার সাথে করা উচিত। আমাদের সর্বদা আমাদের আধ্যাত্মিক গুরুর দাস হিসেবে দেখা উচিত, আমাদের নির্ভরশীলদের কৃষ্ণের সাথে সংযুক্ত করা উচিত।আমরা যখন এটি করি, তখন কৃষ্ণ কেন্দ্রে থাকেন। অন্যথায়, আমরা আমাদের নির্ভরশীলদের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়তে পারি, এই ভেবে যে আমরা আমাদের নিজস্ব শক্তি দিয়ে তাদের উন্নত করছি। এই ক্ষেত্রে, আমরা নিজেদেরকে কেন্দ্রে রাখি এবং ভরত মহারাজের মতো একই ভুলের মধ্যে পড়ি।
বস্তুগত আসক্তির লক্ষণ হল শরীরের প্রতি আসক্তি, যা শরীরের আরাম-আয়েশ সম্পর্কে উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রকাশিত হয়। মৌলিক বস্তুগত প্রয়োজনীয়তাগুলি প্রদান করা যাতে কেউ শান্তিতে থাকতে পারে এবং তার আধ্যাত্মিক অনুশীলন বজায় রাখতে পারে এবং বস্তুগত শরীর ও মনের প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার কারণে বস্তুগত আরাম-আয়েশ সম্পর্কে উদ্বিগ্ন হওয়ার মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে।আমাদের আন্দোলনের প্রাথমিক দিনগুলিতে, প্রভুপাদ যখন মন্দিরে মহিলাদের গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তখন তিনি অবশ্যই তাদের জন্য থাকার ব্যবস্থা, প্রসাদ ইত্যাদির ব্যবস্থা করেছিলেন, কিন্তু এই সমস্তই করুণার বশে, ব্যক্তিগত অসুবিধা সত্ত্বেও এই আত্মাদের কৃষ্ণভাবনামৃত অনুশীলনের সুযোগ দেওয়ার ধারণা দিয়ে। যাইহোক, একদল যুবতীর যত্ন নেওয়া একজন সাধারণ পুরুষ অনিবার্যভাবে তাদের প্রতি আকৃষ্ট হবেন এবং এই ধ্যানে, তাদের বস্তুগত আরাম-আয়েশ সম্পর্কে উদ্বিগ্ন হবেন, নিজেকে তাদের রক্ষণাবেক্ষণকারী এবং আশ্রয় হিসাবে দেখবেন। আমরা দেখতে পাচ্ছি যে এই দুটি স্তরের মধ্যে বিশাল পার্থক্য রয়েছে। এমনকি যদি কেউ মহিলাদের প্রতি আকৃষ্ট না হন, তবে ভরত মহারাজের মতো অন্যান্য ধরণের বস্তুগত কার্যকলাপের প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
4 days ago | [YT] | 227
View 0 replies
Load more