রাসূলের (সঃ) অসিয়তনামা ও বৃহস্পতিবারের বিপর্যয়: পর্ব- পাঁচ
গভীর চিন্তার জন্য আরো কিছু সহীহ হাদিস:
আস-সিলসিলা আস-সহীহা, হাদীস ২৮৬৬ আরবি পাঠ: قال رسول الله ﷺ: "ما من شيءٍ يُقرِّبكم إلى الجنة إلا وقد أمرتكم به، وما من شيءٍ يُقرِّبكم إلى النار إلا وقد نهيتكم عنه."
বাংলা অনুবাদ: আল্লাহর রাসূল (সা:) বলেছেন: “তোমাদেরকে জানিয়ে দিচ্ছি—জান্নাতের নিকটবর্তী করে এমন কোনো কিছু নেই, যার আদেশ আমি তোমাদের দেইনি; আর জাহান্নামের নিকটবর্তী করে এমন কিছু নেই, যার থেকে আমি তোমাদের নিষেধ করিনি।”
এই হাদীসটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, রাসূল (সা.)-এর প্রতিটি আদেশ ও নিষেধ জান্নাতের পথ দেখানোর জন্য এবং জাহান্নাম থেকে রক্ষার জন্যই নির্ধারিত। তাই তাঁর আদেশ অমান্য করা মানেই নিজের জান্নাতের পথ বন্ধ করে দেওয়া।
এখানে প্রশ্ন হলো—নবী (সা.) কি তাঁর লিখে যেতে চাওয়া কথাটিকে ‘পথভ্রষ্টতা থেকে সুরক্ষা’ হিসেবে উল্লেখ করেননি? যখন তিনি বলেছিলেন: “আমার জন্য কাগজ-কলম আনো, আমি তোমাদের জন্য এমন একটি কথা লিখে দেব, যার পর তোমরা কখনো পথভ্রষ্ট হবে না।” তাহলে সেই কথাটি, যা মানুষকে পথভ্রষ্টতা থেকে রক্ষা করবে, কি জান্নাতের পথে নিয়ে যাবে না?
সুতরাং, নবী (সা.) মানুষকে এমন কিছুর আদেশ দিচ্ছিলেন, যা তাদের জান্নাতের কাছাকাছি নিয়ে যাবে— অন্যদিকে, উমর মানুষকে এমন কিছু করতে বলছিলেন, যা বরং জাহান্নামের পথে নিয়ে যেতে পারে।
অসিয়তনামা (উইল) আল্লাহর পক্ষ থেকে সুরক্ষিত:
প্রমাণ কী যে, নবী (সা.)-এঁর ওসিয়তে যিনি “আহমদ” নামে উল্লেখিত হয়েছেন, তিনিই মাহদি?
আহলুল বাইতের (আঃ) শিক্ষায় পরিষ্কার বলা হয়েছে—আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়োজিত প্রতিনিধি ছাড়া কেউই খিলাফতের দাবি করতে পারে না। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সুন্নি ‘অকার্যকর আলেমগণ’ —আল্লাহর পক্ষ থেকে খিলাফত নির্ধারণ, অসিয়তের গুরুত্ব এবং আল্লাহর সার্বভৌম কর্তৃত্ব সম্পর্কে সত্য গোপন করেছেন।
যুক্তির দিক থেকে ভাবলে, যখন আল্লাহতায়ালা নিজেই বলেন: “নিশ্চয়ই আমি পৃথিবীতে একজন খলিফা নিযুক্ত করতে যাচ্ছি” (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ৩০)— তখন এটা স্পষ্ট যে, খলিফা নির্বাচন প্রক্রিয়াটি আল্লাহর পক্ষ থেকেই নির্ধারিত হতে হবে, এবং এটি অবশ্যই একটি আল্লাহ-রক্ষিত অসিয়তের মাধ্যমে হওয়া উচিত। কারণ যদি ঐশী অসিয়ত সংরক্ষিত না থাকে, তাহলে মানুষ কীভাবে প্রকৃত খলিফাকে মিথ্যা দাবিদারদের থেকে আলাদা করবে? এই কারণেই নবী (সাঃ) তাঁর অসিয়তকে “পথভ্রষ্টতা থেকে সুরক্ষাকারী” বলে বর্ণনা করেছেন—এবং এ কথা সহীহ হাদীসগ্রন্থ দুটিতেই (বুখারী ও মুসলিম) বর্ণিত আছে।
সুতরাং, আল্লাহ যেহেতু পৃথিবীতে খলিফা নিয়োগ করেন, তাই এই প্রক্রিয়া একটি সুরক্ষিত ঐশী পরিকল্পনার অংশ, যাতে অসিয়তের মাধ্যমে সঠিক নেতৃত্ব নির্ধারণ করা হয়। নবী (সা.)-এঁর লিখে যেতে চাওয়া অসিয়ত ছিল সেই পরিকল্পনারই অংশ—যা মানুষকে বিভ্রান্তি ও পথভ্রষ্টতা থেকে রক্ষা করে এবং প্রকৃত নেতৃত্বকে চিনে নিতে সাহায্য করে।
📘 বাংলা অনুবাদ: **ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন:** "বৃহস্পতিবার! এবং কী ভয়াবহ ছিল সেই বৃহস্পতিবার!" তারপর তিনি এত কাঁদলেন যে, আমি তাঁর গালে অশ্রু দেখতে পেলাম, যেন মুক্তার মালা। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) বললেন: **"আমার কাছে কাঁধের হাড় ও দোয়াত (অথবা তক্তি বা লেখার বোর্ড ও দোয়াত) নিয়ে আসো, যাতে আমি তোমাদের জন্য এমন একটি দলিল লিখে দিই, যার পর তোমরা কখনো পথভ্রষ্ট হবে না।"** তারা বলল: **"আল্লাহর রাসূল (সা.) প্রলাপ বকছেন (يهجر)।"**
(বি.দ্র.: “يهجر” শব্দটির অর্থ এখানে অজ্ঞান নয়, বরং বিভ্রান্ত বা অসংলগ্ন কথা বলা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।)
📚 তথ্যসূত্র: সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৬৩৭-বি বই: وصية (উইল সংক্রান্ত) সূত্র: Sunnah.com - Sahih Muslim 1637b
📝সংক্ষিপ্ত মন্তব্য: এই হাদীসটি ঐতিহাসিকভাবে "রসূলের বৃহস্পতিবারের ঘটনা" (Calamity of Thursday বা رزية الخميس) নামে পরিচিত।
রাসূলের (সঃ) অসিয়তনামা ও বৃহস্পতিবারের বিপর্যয়: পর্ব- চার
আল-কোরআন থেকে আরো কিছু প্রমাণ: আসুন এবার দেখি, কুরআন এ বিষয়ে কী বলে। নবী কি সত্যিই নিজের মন থেকে কিছু বলেন? উমরের এই আচরণ কি প্রকৃতপক্ষে সঠিক ছিল? তিনি কি কুরআনের সেই নির্দেশ পালন করেছিলেন, যা ঈমানদারদের অনুসরণ করতে বলা হয়েছে?
১. সূরা আন-নাজম, আয়াত ১-৪ سورة النجم (٥٣:١-٤): وَالنَّجْمِ إِذَا هَوَىٰ مَا ضَلَّ صَاحِبُكُمْ وَمَا غَوَىٰ وَمَا يَنطِقُ عَنِ ٱلْهَوَىٰ إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَىٰ ১. “কসম তারার, যখন তা পতিত হয়, ২. তোমাদের সাথী (অর্থাৎ মুহাম্মদ) না বিভ্রান্ত হয়েছেন, আর না তিনি পথভ্রষ্ট, ৩. তিনি নিজের খেয়াল-খুশি অনুযায়ী কিছু বলেন না, ৪. এটি তো কেবল ওহী (আল্লাহর পক্ষ থেকে নাজিলকৃত বার্তা), যা তাঁর প্রতি প্রেরিত হয়েছে।”
এই আয়াতগুলো স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, রাসূল (সা.) যা কিছু বলেন, তা নিজ ইচ্ছায় নয়, বরং তা আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহীর মাধ্যমে বলা হয়। তাই তাঁর প্রতিটি কথা গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা উচিত, বিশেষ করে যখন তিনি কিছু লিখে রেখে যেতে চাইছিলেন উম্মাহর পথভ্রষ্টতা রোধে।
“আর রাসূল তোমাদের যা কিছু দেন, তা গ্রহণ করো। আর তিনি তোমাদের যা থেকে নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাকো। আর আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ শাস্তিদানে কঠোর।”
এই আয়াতটি পরিষ্কারভাবে নির্দেশ দেয় যে, রাসূল (সা.) যা আদেশ দেন তা মানা ও যা নিষেধ করেন তা এড়িয়ে চলা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য বাধ্যতামূলক।
তাই যদি রাসূল (সা.) উইল লেখার জন্য আদেশ দেন, তবে তা প্রত্যাখ্যান করা ইসলাম পরিপন্থী।
৩. সূরা আন-নিসা, আয়াত ৫৯
سورة النساء - الآية ٥٩ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُول وَأُولِي الْأَمْرِ مِنكُمْ “হে ঈমানদাগণ! আল্লাহর আনুগত্য করো, রাসূলের আনুগত্য করো, এবং তোমাদের মধ্যে যারা কর্তৃত্বে রয়েছে তাদেরও।”
এই আয়াত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে, একজন মুসলমানের ওপর আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করা ফরজ। রাসূল (সা.) যখন কোনো নির্দেশ দেন, তা উপেক্ষা করা বা অমান্য করা সরাসরি কুরআনের এই নির্দেশের বিরুদ্ধাচরণ।
ফলে, যখন রাসূল (সা.) তাঁর ইন্তেকালের আগে কিছু লিখে যেতে চাইলেন, তখন তাঁর সে নির্দেশ পালন করা ঈমানদারদের জন্য ফরজ ছিল।
এই আয়াতটি পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেয় যে, আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার একমাত্র উপায় হলো রাসূল (সা.)-এর অনুসরণ করা। তিনি যা করতে বলেন, তা পালন করাই হচ্ছে প্রকৃত আল্লাহ প্রেমের প্রমাণ।
“হে ঈমানদাররা! আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো, এবং যখন তোমরা তাঁর (রাসূলের) আদেশ শুনো, তখন তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিও না।”
এই আয়াতটি মুসলমানদেরকে স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিয়েছে যে, রাসূল (সা.)-এঁর আদেশ শোনার পর তা উপেক্ষা করা বা অবহেলা করা সম্পূর্ণভাবে রাসূলের (স:) অবমাননা ও অবাধ্যতা।
৬. সূরা আল-আনফাল, আয়াত ২৪ سورة الأنفال - الآية ٢٤
“হে ঈমানদাররা! আল্লাহ ও রাসূল যখন তোমাদের এমন কিছুর দিকে আহ্বান করেন যা তোমাদের জীবন দান করে, তখন তোমরা সাড়া দাও।”
এই আয়াতটি বলছে, রাসূল (সা.) যখন এমন কোনো বিষয়ে ডেকে থাকেন যা মানুষের আত্মিক, নৈতিক ও চিরস্থায়ী জীবনকে জীবন্ত করে তোলে—তখন তাতে সাড়া দেওয়া ঈমানদারদের জন্য অপরিহার্য।
নবী (সা.) যদি তাঁর শেষ বিদায় মুহূর্তে উম্মাহকে পথভ্রষ্টতা থেকে রক্ষা করার জন্য কোনো নির্দেশ দিতে চান, তাহলে সেটি ছিল ‘জীবনদায়ী’ আহ্বান—যাতে সাড়া না দেওয়া সরাসরি কুরআনের এই নির্দেশের বিরুদ্ধাচরণ।
এতদূর উল্লেখিত সমস্ত আয়াত প্রমাণ করে যে, সাহাবিদের একটি দল, বিশেষ করে উমর, তখন নিজেদের ওপর অন্যায় করেছিলেন যখন তাঁরা নবী (সা.)-এর আদেশ মানেননি। নবী (সা.) যখন লিখে যেতে চেয়েছিলেন এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ যা উম্মাহকে চিরতরে পথভ্রষ্টতা থেকে রক্ষা করবে, তখন সেটি প্রতিহত করা এক গুরুতর ভুল ছিল। বিশেষ করে, উমরের পক্ষ থেকে “নবী প্রলাপ বকছেন” বলা এবং “আল্লাহর কিতাবই আমাদের জন্য যথেষ্ট” মন্তব্য করা কুরআনের নির্দেশনার স্পষ্ট বিরোধী।
রাসূলের (সঃ) অসিয়তনামা ও বৃহস্পতিবারের বিপর্যয়: পর্ব- তিন
📜 হাদিসের আরবি পাঠ: সহিহ বুখারি হাদিস নম্বর ৫৬৬৯
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ مَعْمَرٍ، وَحَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ لَمَّا حُضِرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَفِي الْبَيْتِ رِجَالٌ فِيهِمْ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " هَلُمَّ أَكْتُبْ لَكُمْ كِتَابًا لاَ تَضِلُّوا بَعْدَهُ ". فَقَالَ عُمَرُ إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَدْ غَلَبَ عَلَيْهِ الْوَجَعُ وَعِنْدَكُمُ الْقُرْآنُ، حَسْبُنَا كِتَابُ اللَّهِ فَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْبَيْتِ فَاخْتَصَمُوا، مِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ قَرِّبُوا يَكْتُبْ لَكُمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم كِتَابًا لَنْ تَضِلُّوا بَعْدَهُ، وَمِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ مَا قَالَ عُمَرُ فَلَمَّا أَكْثَرُوا اللَّغْوَ وَالاِخْتِلاَفَ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قُومُوا ". قَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ فَكَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ يَقُولُ إِنَّ الرَّزِيَّةَ كُلَّ الرَّزِيَّةِ مَا حَالَ بَيْنَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَبَيْنَ أَنْ يَكْتُبَ لَهُمْ ذَلِكَ الْكِتَابَ مِنِ اخْتِلَافِهِمْ وَلَغَطِهِمْ. ---
🇧🇩 বাংলা অনুবাদ:
ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন: যখন রাসুলুল্লাহ (সা:)-এঁর মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলো, তখন তাঁর ঘরে কিছু লোক উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন উমর ইবন আল-খাত্তাব। নবী (সা.) বললেন, “এসো, আমি তোমাদের জন্য একটি লিখিত নির্দেশনা লিখে দিই, যাতে তোমরা আমার পরে কখনো পথভ্রষ্ট না হও।”
তখন উমর বললেন, “নবী (সা.)-এর অসুস্থতা তীব্র হয়েছে, আর আমাদের কাছে আল্লাহর কিতাব কুরআন রয়েছে; আমাদের জন্য আল্লাহর কিতাবই যথেষ্ট।”
তখন ঘরের লোকদের মধ্যে মতবিরোধ ও বিতর্ক শুরু হয়। কেউ কেউ বললেন, “নবী (সা.)-এর কাছে লেখার সামগ্রী নিয়ে যাও, তিনি তোমাদের জন্য একটি লিখিত নির্দেশনা লিখে দেবেন, যাতে তোমরা তাঁর পরে পথভ্রষ্ট না হও।” আবার কেউ কেউ উমরের (রাঃ) কথার সমর্থন করলেন।
যখন তারা নবী (সা.)-এর সামনে উচ্চস্বরে তর্ক-বিতর্ক করতে লাগলেন, তখন নবী (সা.) বললেন, “তোমরা এখান থেকে উঠে যাও।”
উবাইদুল্লাহ (রহঃ) বলেন, ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলতেন, “এটি ছিল এক বড় বিপর্যয়—একটি বড় দুর্ভাগ্য, যে তাদের মতবিরোধ ও উচ্চস্বরে তর্কের কারণে রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের জন্য সেই লিখিত নির্দেশনা দিতে পারেননি।” ---
এই হাদিসটি সহিহ বুখারির ৭৫তম অধ্যায় "আল-মারদা" (রোগীদের অধ্যায়) এর অন্তর্গত।
এই সমস্ত বর্ণনা প্রমাণ করে যে, নবী (সা.) তাঁর অসিয়াত বা উইল লিখতে চেয়েছিলেন। তিনি তাঁর উম্মাহর জন্য একটি লিখিত বক্তব্য রেখে যেতে চেয়েছিলেন, যাতে তারা তা মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরে রাখতে পারে এবং তাঁর ইন্তেকালের পর কখনও পথভ্রষ্ট না হয়। কিন্তু সেই সময়ে কিছু সাহাবি তাঁকে সেই উইল লিখতে বাধা দেন, এবং অজুহাত দেন যে তিনি (সা.) তখন ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছিলেন ও প্রলাপ বকছিলেন! অথচ কুরআনে কি বলা হয়নি—“তোমাদের সাথী (অর্থাৎ মুহাম্মদ) বিভ্রান্ত বা পথভ্রষ্ট নন এবং তিনি নিজের মন থেকে কিছু বলেন না, বরং তিনি যা বলেন তা ওহীর মাধ্যমে বলেন”?
তাহলে যখন উমর বললেন: “আমাদের জন্য আল্লাহর কিতাবই যথেষ্ট,”—তখন তিনি কি সত্যিই সঠিক কাজ করেছিলেন? নবী (সা.) যখন লিখন সামগ্রী আনার আদেশ দিলেন একটি অসিয়াতনামা লেখার জন্য, তখন উমর বললেন, “নবী প্রলাপ বকছেন।” অথচ নবীর আদেশ মানা ছিল সাহাবিদের জন্য ফরজ, এবং তাঁদের উচিত ছিল সঙ্গে সঙ্গে সেই আদেশ মানা।
ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন: যখন রাসুলুল্লাহ (সা:)–এর মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এসেছিল, তখন তাঁর ঘরে কয়েকজন সাহাবি উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন উমর ইবন খাত্তাব। রাসুল (সা.) তখন বললেন, “এসো, আমি তোমাদের জন্য এমন কিছু লিখে দিতে চাই, যার পর তোমরা আর কখনো পথভ্রষ্ট হবে না।”
তখন উমর বললেন, “নবী (সা.)-এর অবস্থা খুবই গুরুতর, আর আমাদের কাছে কুরআন আছে—আল্লাহর কিতাবই আমাদের জন্য যথেষ্ট।”
তখন ঘরে উপস্থিত লোকদের মধ্যে মতবিরোধ শুরু হয়। কেউ কেউ বললেন, “এসো, যাতে আল্লাহর রাসুল (সা.) তোমাদের জন্য কিছু লিখে দিতে পারেন, যার মাধ্যমে তোমরা আর বিভ্রান্ত হবে না।” আবার কেউ কেউ উমরের কথার পক্ষ নেন।
তাদের মধ্যে উচ্চস্বরে তর্ক-বিতর্ক চলতে থাকলে রাসুল (সা.) বললেন, “তোমরা এখান থেকে চলে যাও এবং আমাকে একা থাকতে দাও।”
ইবনে আব্বাস (রাঃ) তখন বলতেন, এটি ছিল এক বড় বিপর্যয়—একটি বড় দুর্ভাগ্য, যে তর্ক-বিতর্কের কারণে আল্লাহর রাসুল (সা.) আমাদের জন্য সেই লেখা রেখে যেতে পারেননি।
---
এই হাদিসটি সহিহ বুখারির ৯৬তম অধ্যায় "আল-ই'তিসাম বিল কিতাব ওয়া সুন্নাহ" (কুরআন ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করা) এর অন্তর্গত। --- (চলবে)
রাসূলের (সঃ) অসিওয়তনামা ও বৃহস্পতিবারের বিপর্যয়- পর্ব এক
এক বৃহস্পতিবারে, হযরত মুহাম্মদ (সা.) ইন্তিকালের মাত্র তিন দিন আগে, তিনি কলম ও কাগজ চেয়েছিলেন যেন তিনি তাঁর শেষ অসিয়তনামা লিখে যেতে পারেন এবং মুসলিম উম্মাহর জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে একজন উত্তরসূরি নিযুক্ত করতে পারেন।
তবে, সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম এর মতো প্রধান সুন্নি সূত্র অনুযায়ী, সাহাবাদের একটি দল — যার নেতৃত্বে ছিলেন উমর — নবীর এই অনুরোধের বিরোধিতা করেন। তারা তাঁকে বিভ্রান্ত বলেছিলেন এবং তাঁর ইচ্ছা লিখে রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
এই দুঃখজনক ঘটনাটি নবীর শেষ ইচ্ছা নিয়ে সাহাবাদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মতবিরোধকে প্রকাশ করে, এবং অনেকের মতে, ইসলামে বিভাজনের সূচনা এই মুহূর্ত থেকেই শুরু হয়।
**ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন:** "বৃহস্পতিবার! এবং কী ভয়াবহ ছিল সেই বৃহস্পতিবার!" তারপর তিনি এত কাঁদলেন যে, আমি তাঁর গালে অশ্রু দেখতে পেলাম, যেন মুক্তার মালা। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) বললেন: **"আমার কাছে কাঁধের হাড় ও দোয়াত (অথবা তক্তি বা লেখার বোর্ড ও দোয়াত) নিয়ে আসো, যাতে আমি তোমাদের জন্য এমন একটি দলিল লিখে দিই, যার পর তোমরা কখনো পথভ্রষ্ট হবে না।"** তারা বলল: **"আল্লাহর রাসূল (সা.) প্রলাপ বকছেন (يهجر)।"**
(বি.দ্র.: “يهجر” শব্দটির অর্থ এখানে অজ্ঞান নয়, বরং বিভ্রান্ত বা অসংলগ্ন কথা বলা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।)
📚 তথ্যসূত্র: সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৬৩৭-বি বই: وصية (উইল সংক্রান্ত) সূত্র: Sunnah.com - Sahih Muslim 1637b
⚠️ মন্তব্য:
এই হাদীসটি ইসলামী ইতিহাসে "বৃহস্পতিবারের বিপর্যয়" নামে পরিচিত।
এই ঘটনাটি মুসলিম উম্মাহর মধ্যে নেতৃত্ব ও উত্তরসূরি নিয়ে মতভেদের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হয়।
ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন: যখন রাসুলুল্লাহ (সা:)–এর মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এসেছিল, তখন তাঁর ঘরে কয়েকজন সাহাবি উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন উমর ইবন খাত্তাব। রাসুল (সা.) তখন বললেন, “এসো, আমি তোমাদের জন্য এমন কিছু লিখে দিতে চাই, যার পর তোমরা আর কখনো পথভ্রষ্ট হবে না।”
তখন উমর বললেন, “নবী (সা.)-এর অবস্থা খুবই গুরুতর, আর আমাদের কাছে কুরআন আছে—আল্লাহর কিতাবই আমাদের জন্য যথেষ্ট।”
তখন ঘরে উপস্থিত লোকদের মধ্যে মতবিরোধ শুরু হয়। কেউ কেউ বললেন, “এসো, যাতে আল্লাহর রাসুল (সা.) তোমাদের জন্য কিছু লিখে দিতে পারেন, যার মাধ্যমে তোমরা আর বিভ্রান্ত হবে না।” আবার কেউ কেউ উমরের কথার পক্ষ নেন।
তাদের মধ্যে উচ্চস্বরে তর্ক-বিতর্ক চলতে থাকলে রাসুল (সা.) বললেন, “তোমরা এখান থেকে চলে যাও এবং আমাকে একা থাকতে দাও।”
ইবনে আব্বাস (রাঃ) তখন বলতেন, এটি ছিল এক বড় বিপর্যয়—একটি বড় দুর্ভাগ্য, যে তর্ক-বিতর্কের কারণে আল্লাহর রাসুল (সা.) আমাদের জন্য সেই লেখা রেখে যেতে পারেননি।
---
এই হাদিসটি সহিহ বুখারির ৯৬তম অধ্যায় "আল-ই'তিসাম বিল কিতাব ওয়া সুন্নাহ" (কুরআন ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করা) এর অন্তর্গত। --- (চলবে)
নবী মুহাম্মাদের (স :)পবিত্র উইলের মাধ্যমে মনোনীত হওয়া: এভাবেই পবিত্র উইলের সঙ্গীরা হয়ে ওঠেন এই বরকতময় আহ্বানের (দাওয়ার) নেতৃত্ব ও সাথী। তাঁদের মধ্য থেকে আবদুল্লাহ হাশেম আবা আল-সাদিক (আ:) কার্যত এ ঐশী ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান হিসেবে আবির্ভূত হন, এবং তিনি হলেন মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর আহলে বাইতের আল-ক্বায়েম (অভ্যূত্থানকারী)।
ফলে, ঐ পবিত্র দলিলটি (অসিয়তনামা) এই ঐশী ধর্মের এক মজবুত ভিত্তিতে পরিণত হয়, যার উপর দাঁড়িয়ে "আহমদী রিলিজন অব পিস অ্যান্ড লাইট" অটলভাবে টিকে আছে।
এই ঐশী ধর্মই একমাত্র কণ্ঠস্বর, যা পৃথিবীতে আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানায় এবং মানব কর্তৃত্ব (যেখানে মানুষ নিজের ইচ্ছায় শাসক নির্বাচন করে)-এর বিরোধিতা করে, যা মানুষের ওপর ধ্বংস, দুর্নীতি ও নিপীড়ন ডেকে এনেছে।
এছাড়াও, "আহমদী রিলিজন অব পিস অ্যান্ড লাইট" হয়ে উঠেছে ঐশী জ্ঞানের এক অনন্য উৎস, যার তুলনা ইতিহাসে আগে কখনো দেখা যায়নি—এই জ্ঞান ইমাম আহমদ আল-হাসান আল-ইয়ামানি (আ:) ও তাঁর উত্তরসূরি আবা আল-সাদিক (আ:) থেকে উপচে পড়ে মানবজাতির মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। (চলবে)
প্রায় ২৩ বছর আগে, এক মহা ভবিষ্যদ্বাণীর বাস্তবায়নের লক্ষণ দিগন্তে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যখন ১৯৯৯ সালে ইরাকের বসরায় ইমাম আহমদ আল-হাসান (আ:) আত্মপ্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন যে, তিনি ইমাম মাহদীর পক্ষ থেকে সমগ্র মানবজাতির উদ্দেশ্যে প্রেরিত একজন বার্তাবাহক এবং সেই প্রতিশ্রুত ইয়ামানি, যার আগমন সম্পর্কে মহানবী মুহাম্মদ (সা:)-এর পবিত্র আহলে বাইতের বর্ণনায় পূর্বেই জানানো হয়েছে।
ইমাম আহমদ আল-হাসান (আ:) এই ধর্মের ভিত্তি স্থাপন শুরু করেন মানুষের সাথে তাদের প্রতিপালকের সম্পর্ক পুনর্জীবিত করে। তিনি এমন এক সত্য নিয়ে এসেছেন, যা তাঁর আগে কেউ উপস্থাপন করেনি। তিনি এমন একটি দিকনির্দেশনা (রোডম্যাপ) প্রকাশ করেন, যা আল্লাহ আদিকাল থেকেই আমাদের জন্য নির্ধারণ করে রেখেছেন—এটি এমন একটি উপায়, যার মাধ্যমে মানুষ আবার আল্লাহর দিকে ফিরে যেতে পারে। এই পথনির্দেশনার মূল হচ্ছে: আল্লাহর প্রতিনিধি বা প্রমাণ (হুজ্জাহ)-কে চেনার বিধান।
"তারপর তাঁর (ইমাম মাহদী আ:-এঁর) পরে থাকবে বারোজন মাহদী। অতঃপর যখন তাঁর মৃত্যু আসবে, তখন তিনি তা (অসিয়তনামা ) হস্তান্তর করবেন তাঁর পুত্রের কাছে, যিনি হবেন মাহদীদের মধ্যে প্রথম। তাঁর তিনটি নাম থাকবে — একটি আমার নামের মতো এবং আমার পিতার নামের মতো, আর তা হলো: আবদুল্লাহ (আল্লাহর বান্দা), আহমদ (প্রশংসিত), এবং তৃতীয় নাম হলো আল-মাহদী (সঠিক পথে পরিচালিত)।"
পবিত্র আত্মাগুলোর প্রত্যাবর্তন: এই ধর্মের অনুসারীরা বিশ্বাস করেন যে, আমরা এখন শেষ যুগে বসবাস করছি, এবং পৃথিবী কখনোই আল্লাহর পক্ষ থেকে নিযুক্ত কোনো এক নেতা-শূন্য থাকে না—প্রত্যেক যুগেই একজন আল্লাহর মনোনীত নেতা থাকেন, যিনি তাঁর আদেশ অনুসারে কাজ করেন।
এই পবিত্র ধর্মে বিশ্বাসীরা পুনর্জন্মে বিশ্বাস করেন, এবং তাঁরা মনে করেন, এই সময়ে নবীগণ, রাসূলগণ ও সৎ লোকেরা আবার ফিরে (রাজ'আ) আসবেন, যাতে তাঁরা ইমাম মাহদী (আ.)-এঁর এ মিশনকে সাহায্য ও বিজয়ী করতে পারেন।
ঐশী ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র (الدولة الإلهية العادلة/The Divine Just State): এই ঐশী ধর্মের মূল লক্ষ্য হলো একটি ন্যায়ভিত্তিক ঐশী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে শাসন করবেন শুধু আল্লাহ ও তাঁর প্রতিনিধি, এবং যেখান থেকে অপকর্ম, অত্যাচার ও জুলুমকে মুছে ফেলা হবে।
এই রাষ্ট্রই সেই রাষ্ট্র, যার প্রতিষ্ঠার জন্য নবী, রাসূল এবং আল্লাহর প্রতিনিধিরা যুগে যুগে কাজ করে গেছেন এবং পথ তৈরি করে গেছেন। তাঁদের সেই সমস্ত প্রচেষ্টা ও ত্যাগ-তিতিক্ষার ফলাফল হিসেবে এই যুগে ক্বায়েমের (অভ্যূত্থানকারী) (আ:)- এঁর হাত ধরে এই রাষ্ট্র বাস্তবায়িত হবে। সমাপ্ত
Kamal Majumder
Festival of the Will
2 weeks ago | [YT] | 0
View 0 replies
Kamal Majumder
রাসূলের (সঃ) অসিয়তনামা ও বৃহস্পতিবারের বিপর্যয়:
পর্ব- পাঁচ
গভীর চিন্তার জন্য আরো কিছু সহীহ হাদিস:
আস-সিলসিলা আস-সহীহা, হাদীস ২৮৬৬
আরবি পাঠ:
قال رسول الله ﷺ: "ما من شيءٍ يُقرِّبكم إلى الجنة إلا وقد أمرتكم به، وما من شيءٍ يُقرِّبكم إلى النار إلا وقد نهيتكم عنه."
বাংলা অনুবাদ:
আল্লাহর রাসূল (সা:) বলেছেন: “তোমাদেরকে জানিয়ে দিচ্ছি—জান্নাতের নিকটবর্তী করে এমন কোনো কিছু নেই, যার আদেশ আমি তোমাদের দেইনি; আর জাহান্নামের নিকটবর্তী করে এমন কিছু নেই, যার থেকে আমি তোমাদের নিষেধ করিনি।”
এই হাদীসটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, রাসূল (সা.)-এর প্রতিটি আদেশ ও নিষেধ জান্নাতের পথ দেখানোর জন্য এবং জাহান্নাম থেকে রক্ষার জন্যই নির্ধারিত। তাই তাঁর আদেশ অমান্য করা মানেই নিজের জান্নাতের পথ বন্ধ করে দেওয়া।
এখানে প্রশ্ন হলো—নবী (সা.) কি তাঁর লিখে যেতে চাওয়া কথাটিকে ‘পথভ্রষ্টতা থেকে সুরক্ষা’ হিসেবে উল্লেখ করেননি? যখন তিনি বলেছিলেন: “আমার জন্য কাগজ-কলম আনো, আমি তোমাদের জন্য এমন একটি কথা লিখে দেব, যার পর তোমরা কখনো পথভ্রষ্ট হবে না।” তাহলে সেই কথাটি, যা মানুষকে পথভ্রষ্টতা থেকে রক্ষা করবে, কি জান্নাতের পথে নিয়ে যাবে না?
সুতরাং, নবী (সা.) মানুষকে এমন কিছুর আদেশ দিচ্ছিলেন, যা তাদের জান্নাতের কাছাকাছি নিয়ে যাবে— অন্যদিকে, উমর মানুষকে এমন কিছু করতে বলছিলেন, যা বরং জাহান্নামের পথে নিয়ে যেতে পারে।
অসিয়তনামা (উইল) আল্লাহর পক্ষ থেকে সুরক্ষিত:
প্রমাণ কী যে, নবী (সা.)-এঁর ওসিয়তে যিনি “আহমদ” নামে উল্লেখিত হয়েছেন, তিনিই মাহদি?
আহলুল বাইতের (আঃ) শিক্ষায় পরিষ্কার বলা হয়েছে—আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়োজিত প্রতিনিধি ছাড়া কেউই খিলাফতের দাবি করতে পারে না। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সুন্নি ‘অকার্যকর আলেমগণ’ —আল্লাহর পক্ষ থেকে খিলাফত নির্ধারণ, অসিয়তের গুরুত্ব এবং আল্লাহর সার্বভৌম কর্তৃত্ব সম্পর্কে সত্য গোপন করেছেন।
যুক্তির দিক থেকে ভাবলে, যখন আল্লাহতায়ালা নিজেই বলেন: “নিশ্চয়ই আমি পৃথিবীতে একজন খলিফা নিযুক্ত করতে যাচ্ছি” (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ৩০)— তখন এটা স্পষ্ট যে, খলিফা নির্বাচন প্রক্রিয়াটি আল্লাহর পক্ষ থেকেই নির্ধারিত হতে হবে, এবং এটি অবশ্যই একটি আল্লাহ-রক্ষিত অসিয়তের মাধ্যমে হওয়া উচিত। কারণ যদি ঐশী অসিয়ত সংরক্ষিত না থাকে, তাহলে মানুষ কীভাবে প্রকৃত খলিফাকে মিথ্যা দাবিদারদের থেকে আলাদা করবে?
এই কারণেই নবী (সাঃ) তাঁর অসিয়তকে “পথভ্রষ্টতা থেকে সুরক্ষাকারী” বলে বর্ণনা করেছেন—এবং এ কথা সহীহ হাদীসগ্রন্থ দুটিতেই (বুখারী ও মুসলিম) বর্ণিত আছে।
সুতরাং, আল্লাহ যেহেতু পৃথিবীতে খলিফা নিয়োগ করেন, তাই এই প্রক্রিয়া একটি সুরক্ষিত ঐশী পরিকল্পনার অংশ, যাতে অসিয়তের মাধ্যমে সঠিক নেতৃত্ব নির্ধারণ করা হয়। নবী (সা.)-এঁর লিখে যেতে চাওয়া অসিয়ত ছিল সেই পরিকল্পনারই অংশ—যা মানুষকে বিভ্রান্তি ও পথভ্রষ্টতা থেকে রক্ষা করে এবং প্রকৃত নেতৃত্বকে চিনে নিতে সাহায্য করে।
সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৬৩৭
📖 মূল আরবি:
عَن سَعِيدِ بنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: يَوْمُ الْخَمِيسِ، وَمَا يَوْمُ الْخَمِيسِ، ثُمَّ جَعَلَ تَسِيلُ دُمُوعُهُ حَتَّى رَأَيْتُ عَلَى خَدَّيْهِ كَأَنَّهَا نِظَامُ اللُّؤْلُؤِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: ائْتُونِي بِكِتْفٍ أَكْتُبْ لَكُمْ كِتَابًا لَنْ تَضِلُّوا بَعْدَهُ أَبَدًا. فَقَالُوا: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَهْجُرُ.
📘 বাংলা অনুবাদ:
**ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন:**
"বৃহস্পতিবার! এবং কী ভয়াবহ ছিল সেই বৃহস্পতিবার!" তারপর তিনি এত কাঁদলেন যে, আমি তাঁর গালে অশ্রু দেখতে পেলাম, যেন মুক্তার মালা। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) বললেন:
**"আমার কাছে কাঁধের হাড় ও দোয়াত (অথবা তক্তি বা লেখার বোর্ড ও দোয়াত) নিয়ে আসো, যাতে আমি তোমাদের জন্য এমন একটি দলিল লিখে দিই, যার পর তোমরা কখনো পথভ্রষ্ট হবে না।"**
তারা বলল: **"আল্লাহর রাসূল (সা.) প্রলাপ বকছেন (يهجر)।"**
(বি.দ্র.: “يهجر” শব্দটির অর্থ এখানে অজ্ঞান নয়, বরং বিভ্রান্ত বা অসংলগ্ন কথা বলা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।)
📚 তথ্যসূত্র:
সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৬৩৭-বি
বই: وصية (উইল সংক্রান্ত)
সূত্র: Sunnah.com - Sahih Muslim 1637b
📝সংক্ষিপ্ত মন্তব্য:
এই হাদীসটি ঐতিহাসিকভাবে "রসূলের বৃহস্পতিবারের ঘটনা" (Calamity of Thursday বা رزية الخميس) নামে পরিচিত।
(চলবে)
#ইমাম মাহদি আ: #TheMahdiHasApeared #AbaasSadiq #AbdullahHashem #TheAhmadiReligionOfPeaceAndLight #AlQaim#আহমাদিনূরেরইসলামধর্ম#الدين السلام والنور الأحمد# TheDivineJustState
7 months ago | [YT] | 1
View 0 replies
Kamal Majumder
রাসূলের (সঃ) অসিয়তনামা ও বৃহস্পতিবারের বিপর্যয়: পর্ব- চার
আল-কোরআন থেকে আরো কিছু প্রমাণ:
আসুন এবার দেখি, কুরআন এ বিষয়ে কী বলে। নবী কি সত্যিই নিজের মন থেকে কিছু বলেন? উমরের এই আচরণ কি প্রকৃতপক্ষে সঠিক ছিল? তিনি কি কুরআনের সেই নির্দেশ পালন করেছিলেন, যা ঈমানদারদের অনুসরণ করতে বলা হয়েছে?
১. সূরা আন-নাজম, আয়াত ১-৪
سورة النجم (٥٣:١-٤):
وَالنَّجْمِ إِذَا هَوَىٰ مَا ضَلَّ صَاحِبُكُمْ وَمَا غَوَىٰ وَمَا يَنطِقُ عَنِ ٱلْهَوَىٰ إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَىٰ
১. “কসম তারার, যখন তা পতিত হয়, ২. তোমাদের সাথী (অর্থাৎ মুহাম্মদ) না বিভ্রান্ত হয়েছেন, আর না তিনি পথভ্রষ্ট, ৩. তিনি নিজের খেয়াল-খুশি অনুযায়ী কিছু বলেন না, ৪. এটি তো কেবল ওহী (আল্লাহর পক্ষ থেকে নাজিলকৃত বার্তা), যা তাঁর প্রতি প্রেরিত হয়েছে।”
এই আয়াতগুলো স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, রাসূল (সা.) যা কিছু বলেন, তা নিজ ইচ্ছায় নয়, বরং তা আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহীর মাধ্যমে বলা হয়। তাই তাঁর প্রতিটি কথা গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা উচিত, বিশেষ করে যখন তিনি কিছু লিখে রেখে যেতে চাইছিলেন উম্মাহর পথভ্রষ্টতা রোধে।
২. সূরা আল-হাশর, আয়াত ৭
وَمَآ ءَاتَىٰكُمُ ٱلرَّسُولُ فَخُذُوهُ ۖ وَمَا نَهَىٰكُمْ عَنْهُ فَٱنتَهُوا۟ ۚ وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ ۖ إِنَّ ٱللَّهَ شَدِيدُ ٱلْعِقَابِ
“আর রাসূল তোমাদের যা কিছু দেন, তা গ্রহণ করো। আর তিনি তোমাদের যা থেকে নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাকো। আর আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ শাস্তিদানে কঠোর।”
এই আয়াতটি পরিষ্কারভাবে নির্দেশ দেয় যে, রাসূল (সা.) যা আদেশ দেন তা মানা ও যা নিষেধ করেন তা এড়িয়ে চলা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য বাধ্যতামূলক।
তাই যদি রাসূল (সা.) উইল লেখার জন্য আদেশ দেন, তবে তা প্রত্যাখ্যান করা ইসলাম পরিপন্থী।
৩. সূরা আন-নিসা, আয়াত ৫৯
سورة النساء - الآية ٥٩
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُول وَأُولِي الْأَمْرِ مِنكُمْ
“হে ঈমানদাগণ! আল্লাহর আনুগত্য করো, রাসূলের আনুগত্য করো, এবং তোমাদের মধ্যে যারা কর্তৃত্বে রয়েছে তাদেরও।”
এই আয়াত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে, একজন মুসলমানের ওপর আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করা ফরজ। রাসূল (সা.) যখন কোনো নির্দেশ দেন, তা উপেক্ষা করা বা অমান্য করা সরাসরি কুরআনের এই নির্দেশের বিরুদ্ধাচরণ।
ফলে, যখন রাসূল (সা.) তাঁর ইন্তেকালের আগে কিছু লিখে যেতে চাইলেন, তখন তাঁর সে নির্দেশ পালন করা ঈমানদারদের জন্য ফরজ ছিল।
৪. সূরা আলে ইমরান, আয়াত ৩১
سورة آل عمران - الآية ٣١
> قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ ۗ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
“(হে নবী!) বলুন, ‘তোমরা যদি সত্যিই আল্লাহকে ভালোবাসো, তাহলে আমাকে অনুসরণ করো। তাহলে আল্লাহও তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গুনাহ মাফ করে দেবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।"
এই আয়াতটি পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেয় যে, আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার একমাত্র উপায় হলো রাসূল (সা.)-এর অনুসরণ করা। তিনি যা করতে বলেন, তা পালন করাই হচ্ছে প্রকৃত আল্লাহ প্রেমের প্রমাণ।
৫. সূরা আল-আনফাল, আয়াত ২০
سورة الأنفال - الآية ٢٠
> يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَا تَوَلَّوْا عَنْهُ وَأَنتُمْ تَسْمَعُونَ
“হে ঈমানদাররা! আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো, এবং যখন তোমরা তাঁর (রাসূলের) আদেশ শুনো, তখন তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিও না।”
এই আয়াতটি মুসলমানদেরকে স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিয়েছে যে, রাসূল (সা.)-এঁর আদেশ শোনার পর তা উপেক্ষা করা বা অবহেলা করা সম্পূর্ণভাবে রাসূলের (স:) অবমাননা ও অবাধ্যতা।
৬. সূরা আল-আনফাল, আয়াত ২৪
سورة الأنفال - الآية ٢٤
> يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَجِيبُوا لِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ إِذَا دَعَاكُم لِمَا يُحْيِيكُمْ
“হে ঈমানদাররা! আল্লাহ ও রাসূল যখন তোমাদের এমন কিছুর দিকে আহ্বান করেন যা তোমাদের জীবন দান করে, তখন তোমরা সাড়া দাও।”
এই আয়াতটি বলছে, রাসূল (সা.) যখন এমন কোনো বিষয়ে ডেকে থাকেন যা মানুষের আত্মিক, নৈতিক ও চিরস্থায়ী জীবনকে জীবন্ত করে তোলে—তখন তাতে সাড়া দেওয়া ঈমানদারদের জন্য অপরিহার্য।
নবী (সা.) যদি তাঁর শেষ বিদায় মুহূর্তে উম্মাহকে পথভ্রষ্টতা থেকে রক্ষা করার জন্য কোনো নির্দেশ দিতে চান, তাহলে সেটি ছিল ‘জীবনদায়ী’ আহ্বান—যাতে সাড়া না দেওয়া সরাসরি কুরআনের এই নির্দেশের বিরুদ্ধাচরণ।
এতদূর উল্লেখিত সমস্ত আয়াত প্রমাণ করে যে, সাহাবিদের একটি দল, বিশেষ করে উমর, তখন নিজেদের ওপর অন্যায় করেছিলেন যখন তাঁরা নবী (সা.)-এর আদেশ মানেননি। নবী (সা.) যখন লিখে যেতে চেয়েছিলেন এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ যা উম্মাহকে চিরতরে পথভ্রষ্টতা থেকে রক্ষা করবে, তখন সেটি প্রতিহত করা এক গুরুতর ভুল ছিল। বিশেষ করে, উমরের পক্ষ থেকে “নবী প্রলাপ বকছেন” বলা এবং “আল্লাহর কিতাবই আমাদের জন্য যথেষ্ট” মন্তব্য করা কুরআনের নির্দেশনার স্পষ্ট বিরোধী।
(চলবে)
#ইমাম মাহদি আ: #TheMahdiHasApeared #AbaasSadiq #AbdullahHashem #TheAhmadiReligionOfPeaceAndLight #AlQaim#আহমাদিনূরেরইসলামধর্ম#الدين السلام والنور الأحمد# TheDivineJustState
7 months ago | [YT] | 1
View 0 replies
Kamal Majumder
রাসূলের (সঃ) অসিয়তনামা ও বৃহস্পতিবারের বিপর্যয়: পর্ব- তিন
📜 হাদিসের আরবি পাঠ: সহিহ বুখারি হাদিস নম্বর ৫৬৬৯
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ مَعْمَرٍ، وَحَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ لَمَّا حُضِرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَفِي الْبَيْتِ رِجَالٌ فِيهِمْ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " هَلُمَّ أَكْتُبْ لَكُمْ كِتَابًا لاَ تَضِلُّوا بَعْدَهُ ". فَقَالَ عُمَرُ إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَدْ غَلَبَ عَلَيْهِ الْوَجَعُ وَعِنْدَكُمُ الْقُرْآنُ، حَسْبُنَا كِتَابُ اللَّهِ فَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْبَيْتِ فَاخْتَصَمُوا، مِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ قَرِّبُوا يَكْتُبْ لَكُمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم كِتَابًا لَنْ تَضِلُّوا بَعْدَهُ، وَمِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ مَا قَالَ عُمَرُ فَلَمَّا أَكْثَرُوا اللَّغْوَ وَالاِخْتِلاَفَ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قُومُوا ". قَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ فَكَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ يَقُولُ إِنَّ الرَّزِيَّةَ كُلَّ الرَّزِيَّةِ مَا حَالَ بَيْنَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَبَيْنَ أَنْ يَكْتُبَ لَهُمْ ذَلِكَ الْكِتَابَ مِنِ اخْتِلَافِهِمْ وَلَغَطِهِمْ.
---
🇧🇩 বাংলা অনুবাদ:
ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন: যখন রাসুলুল্লাহ (সা:)-এঁর মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলো, তখন তাঁর ঘরে কিছু লোক উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন উমর ইবন আল-খাত্তাব। নবী (সা.) বললেন, “এসো, আমি তোমাদের জন্য একটি লিখিত নির্দেশনা লিখে দিই, যাতে তোমরা আমার পরে কখনো পথভ্রষ্ট না হও।”
তখন উমর বললেন, “নবী (সা.)-এর অসুস্থতা তীব্র হয়েছে, আর আমাদের কাছে আল্লাহর কিতাব কুরআন রয়েছে; আমাদের জন্য আল্লাহর কিতাবই যথেষ্ট।”
তখন ঘরের লোকদের মধ্যে মতবিরোধ ও বিতর্ক শুরু হয়। কেউ কেউ বললেন, “নবী (সা.)-এর কাছে লেখার সামগ্রী নিয়ে যাও, তিনি তোমাদের জন্য একটি লিখিত নির্দেশনা লিখে দেবেন, যাতে তোমরা তাঁর পরে পথভ্রষ্ট না হও।” আবার কেউ কেউ উমরের (রাঃ) কথার সমর্থন করলেন।
যখন তারা নবী (সা.)-এর সামনে উচ্চস্বরে তর্ক-বিতর্ক করতে লাগলেন, তখন নবী (সা.) বললেন, “তোমরা এখান থেকে উঠে যাও।”
উবাইদুল্লাহ (রহঃ) বলেন, ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলতেন, “এটি ছিল এক বড় বিপর্যয়—একটি বড় দুর্ভাগ্য, যে তাদের মতবিরোধ ও উচ্চস্বরে তর্কের কারণে রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের জন্য সেই লিখিত নির্দেশনা দিতে পারেননি।”
---
এই হাদিসটি সহিহ বুখারির ৭৫তম অধ্যায় "আল-মারদা" (রোগীদের অধ্যায়) এর অন্তর্গত।
এই সমস্ত বর্ণনা প্রমাণ করে যে, নবী (সা.) তাঁর অসিয়াত বা উইল লিখতে চেয়েছিলেন। তিনি তাঁর উম্মাহর জন্য একটি লিখিত বক্তব্য রেখে যেতে চেয়েছিলেন, যাতে তারা তা মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরে রাখতে পারে এবং তাঁর ইন্তেকালের পর কখনও পথভ্রষ্ট না হয়। কিন্তু সেই সময়ে কিছু সাহাবি তাঁকে সেই উইল লিখতে বাধা দেন, এবং অজুহাত দেন যে তিনি (সা.) তখন ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছিলেন ও প্রলাপ বকছিলেন! অথচ কুরআনে কি বলা হয়নি—“তোমাদের সাথী (অর্থাৎ মুহাম্মদ) বিভ্রান্ত বা পথভ্রষ্ট নন এবং তিনি নিজের মন থেকে কিছু বলেন না, বরং তিনি যা বলেন তা ওহীর মাধ্যমে বলেন”?
তাহলে যখন উমর বললেন: “আমাদের জন্য আল্লাহর কিতাবই যথেষ্ট,”—তখন তিনি কি সত্যিই সঠিক কাজ করেছিলেন? নবী (সা.) যখন লিখন সামগ্রী আনার আদেশ দিলেন একটি অসিয়াতনামা লেখার জন্য, তখন উমর বললেন, “নবী প্রলাপ বকছেন।” অথচ নবীর আদেশ মানা ছিল সাহাবিদের জন্য ফরজ, এবং তাঁদের উচিত ছিল সঙ্গে সঙ্গে সেই আদেশ মানা।
(চলবে)
#ইমাম মাহদি আ: #TheMahdiHasApeared #AbaasSadiq #AbdullahHashem #TheAhmadiReligionOfPeaceAndLight #AlQaim#আহমাদিনূরেরইসলামধর্ম#الدين السلام والنور الأحمد# TheDivineJustState
7 months ago | [YT] | 1
View 0 replies
Kamal Majumder
রাসূলের (সঃ) অসিয়তনামা ও বৃহস্পতিবারের বিপর্যয়: পর্ব- দুই
সহীহ হাদিস থেকে প্রমাণ:
📜 হাদিসের আরবি পাঠ: সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৭৩৬৬
**حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا هِشَامٌ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: لَمَّا حُضِرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَفِي الْبَيْتِ رِجَالٌ فِيهِمْ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ، قَالَ: هَلُمَّ أَكْتُبْ لَكُمْ كِتَابًا لَنْ تَضِلُّوا بَعْدَهُ، فَقَالَ عُمَرُ: إِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَلَبَهُ الْوَجَعُ، وَعِندَكُمْ الْقُرْآنُ، فَحَسْبُنَا كِتَابُ اللَّهِ، فَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْبَيْتِ وَاخْتَصَمُوا، فَمِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ: قَرِّبُوا يَكْتُبْ لَكُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كِتَابًا لَنْ تَضِلُّوا بَعْدَهُ، وَمِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ: مَا قَالَ عُمَرُ، فَلَمَّا أَكْثَرُوا اللَّغَطَ وَالِاخْتِلَافَ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: قُومُوا عَنِّي، قَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ: فَكَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ يَقُولُ: إِنَّ الرَّزِيَّةَ كُلَّ الرَّزِيَّةِ مَا حَالَ بَيْنَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَبَيْنَ أَنْ يَكْتُبَ لَهُمْ ذَلِكَ الْكِتَابَ مِنَ اخْتِلَافِهِمْ وَلَغَطِهِمْ.**
---
🇧🇩 বাংলা অনুবাদ:
ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন: যখন রাসুলুল্লাহ (সা:)–এর মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এসেছিল, তখন তাঁর ঘরে কয়েকজন সাহাবি উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন উমর ইবন খাত্তাব। রাসুল (সা.) তখন বললেন, “এসো, আমি তোমাদের জন্য এমন কিছু লিখে দিতে চাই, যার পর তোমরা আর কখনো পথভ্রষ্ট হবে না।”
তখন উমর বললেন, “নবী (সা.)-এর অবস্থা খুবই গুরুতর, আর আমাদের কাছে কুরআন আছে—আল্লাহর কিতাবই আমাদের জন্য যথেষ্ট।”
তখন ঘরে উপস্থিত লোকদের মধ্যে মতবিরোধ শুরু হয়। কেউ কেউ বললেন, “এসো, যাতে আল্লাহর রাসুল (সা.) তোমাদের জন্য কিছু লিখে দিতে পারেন, যার মাধ্যমে তোমরা আর বিভ্রান্ত হবে না।” আবার কেউ কেউ উমরের কথার পক্ষ নেন।
তাদের মধ্যে উচ্চস্বরে তর্ক-বিতর্ক চলতে থাকলে রাসুল (সা.) বললেন, “তোমরা এখান থেকে চলে যাও এবং আমাকে একা থাকতে দাও।”
ইবনে আব্বাস (রাঃ) তখন বলতেন, এটি ছিল এক বড় বিপর্যয়—একটি বড় দুর্ভাগ্য, যে তর্ক-বিতর্কের কারণে আল্লাহর রাসুল (সা.) আমাদের জন্য সেই লেখা রেখে যেতে পারেননি।
---
এই হাদিসটি সহিহ বুখারির ৯৬তম অধ্যায় "আল-ই'তিসাম বিল কিতাব ওয়া সুন্নাহ" (কুরআন ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করা) এর অন্তর্গত।
---
(চলবে)
#ইমাম মাহদি আ: #TheMahdiHasApeared #AbaasSadiq #AbdullahHashem #TheAhmadiReligionOfPeaceAndLight #AlQaim#আহমাদিনূরেরইসলামধর্ম#الدين السلام والنور الأحمد# TheDivineJustState
7 months ago | [YT] | 1
View 0 replies
Kamal Majumder
রাসূলের (সঃ) অসিওয়তনামা ও বৃহস্পতিবারের বিপর্যয়- পর্ব এক
এক বৃহস্পতিবারে, হযরত মুহাম্মদ (সা.) ইন্তিকালের মাত্র তিন দিন আগে, তিনি কলম ও কাগজ চেয়েছিলেন যেন তিনি তাঁর শেষ অসিয়তনামা লিখে যেতে পারেন এবং মুসলিম উম্মাহর জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে একজন উত্তরসূরি নিযুক্ত করতে পারেন।
তবে, সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম এর মতো প্রধান সুন্নি সূত্র অনুযায়ী, সাহাবাদের একটি দল — যার নেতৃত্বে ছিলেন উমর — নবীর এই অনুরোধের বিরোধিতা করেন। তারা তাঁকে বিভ্রান্ত বলেছিলেন এবং তাঁর ইচ্ছা লিখে রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
এই দুঃখজনক ঘটনাটি নবীর শেষ ইচ্ছা নিয়ে সাহাবাদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মতবিরোধকে প্রকাশ করে, এবং অনেকের মতে, ইসলামে বিভাজনের সূচনা এই মুহূর্ত থেকেই শুরু হয়।
সহীহ হাদিস থেকে প্রমাণ:
📚এক
📜 মূল আরবি পাঠ (সহীহ মুসলিম ১৬৩৭-বি):
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ قَالَ: يَوْمُ الْخَمِيسِ وَمَا يَوْمُ الْخَمِيسِ. ثُمَّ جَعَلَ تَسِيلُ دُمُوعُهُ حَتَّى رَأَيْتُ عَلَى خَدَّيْهِ كَأَنَّهَا نِظَامُ اللُّؤْلُؤِ. قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: "ائْتُونِي بِالْكَتِفِ وَالدَّوَاةِ - أَوِ اللَّوْحِ وَالدَّوَاةِ - أَكْتُبْ لَكُمْ كِتَابًا لَنْ تَضِلُّوا بَعْدَهُ أَبَدًا". فَقَالُوا: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَهْجُرُ.
---
📖 বাংলা অনুবাদ:
**ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন:**
"বৃহস্পতিবার! এবং কী ভয়াবহ ছিল সেই বৃহস্পতিবার!" তারপর তিনি এত কাঁদলেন যে, আমি তাঁর গালে অশ্রু দেখতে পেলাম, যেন মুক্তার মালা। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) বললেন:
**"আমার কাছে কাঁধের হাড় ও দোয়াত (অথবা তক্তি বা লেখার বোর্ড ও দোয়াত) নিয়ে আসো, যাতে আমি তোমাদের জন্য এমন একটি দলিল লিখে দিই, যার পর তোমরা কখনো পথভ্রষ্ট হবে না।"**
তারা বলল: **"আল্লাহর রাসূল (সা.) প্রলাপ বকছেন (يهجر)।"**
(বি.দ্র.: “يهجر” শব্দটির অর্থ এখানে অজ্ঞান নয়, বরং বিভ্রান্ত বা অসংলগ্ন কথা বলা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।)
📚 তথ্যসূত্র:
সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৬৩৭-বি
বই: وصية (উইল সংক্রান্ত)
সূত্র: Sunnah.com - Sahih Muslim 1637b
⚠️ মন্তব্য:
এই হাদীসটি ইসলামী ইতিহাসে "বৃহস্পতিবারের বিপর্যয়" নামে পরিচিত।
এই ঘটনাটি মুসলিম উম্মাহর মধ্যে নেতৃত্ব ও উত্তরসূরি নিয়ে মতভেদের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হয়।
(চলবে)
#ইমাম মাহদি আ: #TheMahdiHasApeared #AbaasSadiq #AbdullahHashem #TheAhmadiReligionOfPeaceAndLight #AlQaim#আহমাদিনূরেরইসলামধর্ম#الدين السلام والنور الأحمد# TheDivineJustState
7 months ago | [YT] | 1
View 0 replies
Kamal Majumder
রাসূলের (সঃ) অসিয়তনামা ও বৃহস্পতিবারের বিপর্যয়: পর্ব- দুই
সহীহ হাদিস থেকে প্রমাণ:
📜 হাদিসের আরবি পাঠ: সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৭৩৬৬
**حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا هِشَامٌ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: لَمَّا حُضِرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَفِي الْبَيْتِ رِجَالٌ فِيهِمْ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ، قَالَ: هَلُمَّ أَكْتُبْ لَكُمْ كِتَابًا لَنْ تَضِلُّوا بَعْدَهُ، فَقَالَ عُمَرُ: إِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَلَبَهُ الْوَجَعُ، وَعِندَكُمْ الْقُرْآنُ، فَحَسْبُنَا كِتَابُ اللَّهِ، فَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْبَيْتِ وَاخْتَصَمُوا، فَمِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ: قَرِّبُوا يَكْتُبْ لَكُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كِتَابًا لَنْ تَضِلُّوا بَعْدَهُ، وَمِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ: مَا قَالَ عُمَرُ، فَلَمَّا أَكْثَرُوا اللَّغَطَ وَالِاخْتِلَافَ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: قُومُوا عَنِّي، قَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ: فَكَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ يَقُولُ: إِنَّ الرَّزِيَّةَ كُلَّ الرَّزِيَّةِ مَا حَالَ بَيْنَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَبَيْنَ أَنْ يَكْتُبَ لَهُمْ ذَلِكَ الْكِتَابَ مِنَ اخْتِلَافِهِمْ وَلَغَطِهِمْ.**
---
🇧🇩 বাংলা অনুবাদ:
ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন: যখন রাসুলুল্লাহ (সা:)–এর মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এসেছিল, তখন তাঁর ঘরে কয়েকজন সাহাবি উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন উমর ইবন খাত্তাব। রাসুল (সা.) তখন বললেন, “এসো, আমি তোমাদের জন্য এমন কিছু লিখে দিতে চাই, যার পর তোমরা আর কখনো পথভ্রষ্ট হবে না।”
তখন উমর বললেন, “নবী (সা.)-এর অবস্থা খুবই গুরুতর, আর আমাদের কাছে কুরআন আছে—আল্লাহর কিতাবই আমাদের জন্য যথেষ্ট।”
তখন ঘরে উপস্থিত লোকদের মধ্যে মতবিরোধ শুরু হয়। কেউ কেউ বললেন, “এসো, যাতে আল্লাহর রাসুল (সা.) তোমাদের জন্য কিছু লিখে দিতে পারেন, যার মাধ্যমে তোমরা আর বিভ্রান্ত হবে না।” আবার কেউ কেউ উমরের কথার পক্ষ নেন।
তাদের মধ্যে উচ্চস্বরে তর্ক-বিতর্ক চলতে থাকলে রাসুল (সা.) বললেন, “তোমরা এখান থেকে চলে যাও এবং আমাকে একা থাকতে দাও।”
ইবনে আব্বাস (রাঃ) তখন বলতেন, এটি ছিল এক বড় বিপর্যয়—একটি বড় দুর্ভাগ্য, যে তর্ক-বিতর্কের কারণে আল্লাহর রাসুল (সা.) আমাদের জন্য সেই লেখা রেখে যেতে পারেননি।
---
এই হাদিসটি সহিহ বুখারির ৯৬তম অধ্যায় "আল-ই'তিসাম বিল কিতাব ওয়া সুন্নাহ" (কুরআন ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করা) এর অন্তর্গত।
---
(চলবে)
#ইমাম মাহদি আ: #TheMahdiHasApeared #AbaasSadiq #AbdullahHashem #TheAhmadiReligionOfPeaceAndLight #AlQaim#আহমাদিনূরেরইসলামধর্ম#الدين السلام والنور الأحمد# TheDivineJustState
7 months ago | [YT] | 1
View 0 replies
Kamal Majumder
আমাদের পরিচয়
পর্ব- চার
নবী মুহাম্মাদের (স :)পবিত্র উইলের মাধ্যমে মনোনীত হওয়া:
এভাবেই পবিত্র উইলের সঙ্গীরা হয়ে ওঠেন এই বরকতময় আহ্বানের (দাওয়ার) নেতৃত্ব ও সাথী। তাঁদের মধ্য থেকে আবদুল্লাহ হাশেম আবা আল-সাদিক (আ:) কার্যত এ ঐশী ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান হিসেবে আবির্ভূত হন, এবং তিনি হলেন মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর আহলে বাইতের আল-ক্বায়েম (অভ্যূত্থানকারী)।
ফলে, ঐ পবিত্র দলিলটি (অসিয়তনামা) এই ঐশী ধর্মের এক মজবুত ভিত্তিতে পরিণত হয়, যার উপর দাঁড়িয়ে "আহমদী রিলিজন অব পিস অ্যান্ড লাইট" অটলভাবে টিকে আছে।
এই ঐশী ধর্মই একমাত্র কণ্ঠস্বর, যা পৃথিবীতে আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানায় এবং মানব কর্তৃত্ব (যেখানে মানুষ নিজের ইচ্ছায় শাসক নির্বাচন করে)-এর বিরোধিতা করে, যা মানুষের ওপর ধ্বংস, দুর্নীতি ও নিপীড়ন ডেকে এনেছে।
এছাড়াও, "আহমদী রিলিজন অব পিস অ্যান্ড লাইট" হয়ে উঠেছে ঐশী জ্ঞানের এক অনন্য উৎস, যার তুলনা ইতিহাসে আগে কখনো দেখা যায়নি—এই জ্ঞান ইমাম আহমদ আল-হাসান আল-ইয়ামানি (আ:) ও তাঁর উত্তরসূরি আবা আল-সাদিক (আ:) থেকে উপচে পড়ে মানবজাতির মাঝে ছড়িয়ে পড়ে।
(চলবে)
#ইমাম মাহদি আ: #TheMahdiHasApeared #AbaasSadiq #AbdullahHashem #TheAhmadiReligionOfPeaceAndLight #AlQaim#আহমাদিনূরেরইসলামধর্ম#الدين السلام والنور الأحمد# TheDivineJustState
7 months ago | [YT] | 1
View 0 replies
Kamal Majumder
আমাদের পরিচয়
পর্ব- তিন
ইয়ামানি, ইমাম আহমাদ আল-হাসান (আ:)-এঁর আত্মপ্রকাশ:
প্রায় ২৩ বছর আগে, এক মহা ভবিষ্যদ্বাণীর বাস্তবায়নের লক্ষণ দিগন্তে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যখন ১৯৯৯ সালে ইরাকের বসরায় ইমাম আহমদ আল-হাসান (আ:) আত্মপ্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন যে, তিনি ইমাম মাহদীর পক্ষ থেকে সমগ্র মানবজাতির উদ্দেশ্যে প্রেরিত একজন বার্তাবাহক এবং সেই প্রতিশ্রুত ইয়ামানি, যার আগমন সম্পর্কে মহানবী মুহাম্মদ (সা:)-এর পবিত্র আহলে বাইতের বর্ণনায় পূর্বেই জানানো হয়েছে।
ইমাম আহমদ আল-হাসান (আ:) এই ধর্মের ভিত্তি স্থাপন শুরু করেন মানুষের সাথে তাদের প্রতিপালকের সম্পর্ক পুনর্জীবিত করে। তিনি এমন এক সত্য নিয়ে এসেছেন, যা তাঁর আগে কেউ উপস্থাপন করেনি। তিনি এমন একটি দিকনির্দেশনা (রোডম্যাপ) প্রকাশ করেন, যা আল্লাহ আদিকাল থেকেই আমাদের জন্য নির্ধারণ করে রেখেছেন—এটি এমন একটি উপায়, যার মাধ্যমে মানুষ আবার আল্লাহর দিকে ফিরে যেতে পারে।
এই পথনির্দেশনার মূল হচ্ছে: আল্লাহর প্রতিনিধি বা প্রমাণ (হুজ্জাহ)-কে চেনার বিধান।
"তারপর তাঁর (ইমাম মাহদী আ:-এঁর) পরে থাকবে বারোজন মাহদী। অতঃপর যখন তাঁর মৃত্যু আসবে, তখন তিনি তা (অসিয়তনামা ) হস্তান্তর করবেন তাঁর পুত্রের কাছে, যিনি হবেন মাহদীদের মধ্যে প্রথম। তাঁর তিনটি নাম থাকবে — একটি আমার নামের মতো এবং আমার পিতার নামের মতো, আর তা হলো: আবদুল্লাহ (আল্লাহর বান্দা), আহমদ (প্রশংসিত), এবং তৃতীয় নাম হলো আল-মাহদী (সঠিক পথে পরিচালিত)।"
— গ্রন্থ: গায়বাত আত-তূসী অনুবাদক: সাইয়্যেদ আতহার হুসাইন এস. এইচ. রিজভী প্রকাশক: আনসারিয়ান পাবলিকেশনস প্রথম সংস্করণ: ২০১২ (১৪৩৩ হিজরি / ১৩৯১ شمسی) পৃষ্ঠা: ২০৬ হাদীস নং: ১১১ (ইংরেজি সংস্করণ অনুযায়ী)।
(চলবে)
#ইমাম মাহদি আ: #TheMahdiHasApeared #AbaasSadiq #AbdullahHashem #TheAhmadiReligionOfPeaceAndLight #AlQaim#আহমাদিনূরেরইসলামধর্ম#الدين السلام والنور الأحمد# TheDivineJustState
7 months ago | [YT] | 1
View 0 replies
Kamal Majumder
আমাদের পরিচয়
শেষ পর্ব
পবিত্র আত্মাগুলোর প্রত্যাবর্তন:
এই ধর্মের অনুসারীরা বিশ্বাস করেন যে, আমরা এখন শেষ যুগে বসবাস করছি, এবং পৃথিবী কখনোই আল্লাহর পক্ষ থেকে নিযুক্ত কোনো এক নেতা-শূন্য থাকে না—প্রত্যেক যুগেই একজন আল্লাহর মনোনীত নেতা থাকেন, যিনি তাঁর আদেশ অনুসারে কাজ করেন।
এই পবিত্র ধর্মে বিশ্বাসীরা পুনর্জন্মে বিশ্বাস করেন, এবং তাঁরা মনে করেন, এই সময়ে নবীগণ, রাসূলগণ ও সৎ লোকেরা আবার ফিরে (রাজ'আ) আসবেন, যাতে তাঁরা ইমাম মাহদী (আ.)-এঁর এ মিশনকে সাহায্য ও বিজয়ী করতে পারেন।
ঐশী ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র (الدولة الإلهية العادلة/The Divine Just State):
এই ঐশী ধর্মের মূল লক্ষ্য হলো একটি ন্যায়ভিত্তিক ঐশী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে শাসন করবেন শুধু আল্লাহ ও তাঁর প্রতিনিধি, এবং যেখান থেকে অপকর্ম, অত্যাচার ও জুলুমকে মুছে ফেলা হবে।
এই রাষ্ট্রই সেই রাষ্ট্র, যার প্রতিষ্ঠার জন্য নবী, রাসূল এবং আল্লাহর প্রতিনিধিরা যুগে যুগে কাজ করে গেছেন এবং পথ তৈরি করে গেছেন। তাঁদের সেই সমস্ত প্রচেষ্টা ও ত্যাগ-তিতিক্ষার ফলাফল হিসেবে এই যুগে ক্বায়েমের (অভ্যূত্থানকারী) (আ:)- এঁর হাত ধরে এই রাষ্ট্র বাস্তবায়িত হবে।
সমাপ্ত
#ইমাম মাহদি আ: #TheMahdiHasApeared #AbaasSadiq #AbdullahHashem #TheAhmadiReligionOfPeaceAndLight #AlQaim#আহমাদিনূরেরইসলামধর্ম#الدين السلام والنور الأحمد# TheDivineJustState
7 months ago | [YT] | 1
View 0 replies
Load more